Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৭ হাদিসসমূহ
وَقَالَ أَبُو الزِّنَادِ إِنَّ السُّنَنَ وَوُجُوهَ الْحَقِّ لَتَأْتِي كَثِيرًا عَلَى خِلاَفِ الرَّأْيِ فَمَا يَجِدُ الْمُسْلِمُونَ بُدًّا مِنْ اتِّبَاعِهَا مِنْ ذَلِكَ أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصِّيَامَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ আবুয-যিনাদ (রহ.) বলেন, শরী‘আতের হুকুম-আহকাম অনেক সময় কিয়াসের বিপরীতও হয়ে থাকে। মুসলিমের জন্য এর অনুসরণ ব্যতীত কোন উপায় নেই। এর একটি উদাহরণ হল যে, ঋতুমতী মহিলা সওমের কাযা করবে কিন্তু সালাতের কাযা করবে না। ১৯৫১. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ কথা কি ঠিক নয় যে, ঋতু শুরু হলে মেয়েরা সালাত আদায় করে না এবং সওমও পালন করে না। এ হল তাদের দ্বীনেরই ত্রুটি। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابن ابي مريم، حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثني زيد، عن عياض، عن ابي سعيد رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " اليس اذا حاضت لم تصل، ولم تصم فذلك نقصان دينها
وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ صَامَ عَنْهُ ثَلاَثُونَ رَجُلاً يَوْمًا وَاحِدًا جَازَ হাসান (রহ.) বলেন, তার পক্ষ হতে ত্রিশজন লোক একদিন সওম পালন করতে হবে। ১৯৫২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে। (মুসলিম ১৩/২৭, হাঃ ১১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮২৫) تَابَعَهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرٍو وَرَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ أَبِي جَعْفَرٍ ইবনু ওয়াহাব (রহ.) ‘আমর (রহ.) হতে উক্ত হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব (রহ.)...ইবনু আবূ জা‘ফর (রহ.) হতেও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن خالد، حدثنا محمد بن موسى بن اعين، حدثنا ابي، عن عمرو بن الحارث، عن عبيد الله بن ابي جعفر، ان محمد بن جعفر، حدثه عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من مات وعليه صيام صام عنه وليه ". تابعه ابن وهب عن عمرو. ورواه يحيى بن ايوب عن ابن ابي جعفر
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা এক মাসের সওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে এ সওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেনঃ হাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য। সুলায়মান (রহ.) বলেন, হাকাম (রহ.) এবং সালামাহ (রহ.) বলেছেন, মুসলিম (রহ.) এ হাদীস বর্ণনা করার সময় আমরা সকলেই একসাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে মুজাহিদ (রহ.)-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে আমরা শুনেছি। আবূ খালিদ আহমার (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার বোন মারা গেছে। ইয়াহইয়া (রহ.) ও আবূ মু‘আবিয়া....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছেন। ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় মানতের সওম রয়েছে। আবূ হারীয (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় পনের দিনের সওম রয়ে গেছে। (মুসলিম ১৩/২৭, হাঃ ১১৪৮, আহমাদ ৩২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৩-১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، حدثنا معاوية بن عمرو، حدثنا زايدة، عن الاعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ان امي ماتت، وعليها صوم شهر، افاقضيه عنها قال " نعم قال فدين الله احق ان يقضى ". قال سليمان فقال الحكم وسلمة، ونحن جميعا جلوس حين حدث مسلم بهذا الحديث قالا سمعنا مجاهدا يذكر هذا عن ابن عباس. ويذكر عن ابي خالد، حدثنا الاعمش، عن الحكم، ومسلم البطين، وسلمة بن كهيل، عن سعيد بن جبير، وعطاء، ومجاهد، عن ابن عباس، قالت امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ان اختي ماتت. وقال يحيى وابو معاوية حدثنا الاعمش عن مسلم عن سعيد عن ابن عباس قالت امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ان امي ماتت. وقال عبيد الله عن زيد بن ابي انيسة عن الحكم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قالت امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ان امي ماتت وعليها صوم نذر. وقال ابو حريز حدثنا عكرمة عن ابن عباس قالت امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ماتت امي وعليها صوم خمسة عشر يوما
وَأَفْطَرَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ حِينَ غَابَ قُرْصُ الشَّمْسِ সূর্যের গোলাকার বৃত্ত অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথেই আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) ইফতার করতেন। ১৯৫৪. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক হতে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক হতে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে। (মুসলিম ১৩/১০, হাঃ ১১০০, আহমাদ ২৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا هشام بن عروة، قال سمعت ابي يقول، سمعت عاصم بن عمر بن الخطاب، عن ابيه رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا اقبل الليل من ها هنا، وادبر النهار من ها هنا، وغربت الشمس، فقد افطر الصايم
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন সওমের অবস্থায়। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেনঃ হে অমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, দিন তো এখনো রয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। অতঃপর সে নামল এবং তাঁদের জন্য ছাতু গুলে আনল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, অতঃপর বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক হতে ঘনিয়ে আসছে, তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে। (১৯৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق الواسطي، حدثنا خالد، عن الشيباني، عن عبد الله بن ابي اوفى رضى الله عنه قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر، وهو صايم، فلما غربت الشمس قال لبعض القوم " يا فلان قم، فاجدح لنا ". فقال يا رسول الله، لو امسيت. قال " انزل، فاجدح لنا ". قال يا رسول الله فلو امسيت. قال " انزل، فاجدح لنا ". قال ان عليك نهارا. قال " انزل، فاجدح لنا ". فنزل فجدح لهم، فشرب النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال " اذا رايتم الليل قد اقبل من ها هنا، فقد افطر الصايم
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد، حدثنا الشيباني، قال سمعت عبد الله بن ابي اوفى رضى الله عنه قال سرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو صايم، فلما غربت الشمس قال " انزل، فاجدح لنا ". قال يا رسول الله، لو امسيت. قال " انزل، فاجدح لنا ". قال يا رسول الله، ان عليك نهارا. قال " انزل، فاجدح لنا ". فنزل، فجدح، ثم قال " اذا رايتم الليل اقبل من ها هنا فقد افطر الصايم ". واشار باصبعه قبل المشرق
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে [1], ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (মুসলিম ১৩/৯, হাঃ ১০৯৮, আহমাদ ২২৮২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر
ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সওম পালন করেন। এরপর এক ব্যক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেনঃ নেমে আমার জন্য ছাতু গুলে আন। [তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন] যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে। (১৯৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابو بكر، عن سليمان، عن ابن ابي اوفى رضى الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فصام حتى امسى، قال لرجل " انزل، فاجدح لي ". قال لو انتظرت حتى تمسي. قال " انزل، فاجدح لي، اذا رايت الليل قد اقبل من ها هنا فقد افطر الصايم
আসমা বিনত আবূ বাকর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একদা মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা যায়। বর্ণনাকারী হিশামকে জিজ্ঞেস করা হল, তাদের কি কাযা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল? হিশাম (রহ.) বললেন, কাযা ব্যতীত উপায় কী? (অপর বর্ণনাকারী) মা‘মার (রহ.) বলেন, আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তাঁরা কাযা করেছিলেন কি না তা আমি জানি না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২০,ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن ابي شيبة، حدثنا ابو اسامة، عن هشام بن عروة، عن فاطمة، عن اسماء بنت ابي بكر رضى الله عنهما قالت افطرنا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم يوم غيم، ثم طلعت الشمس. قيل لهشام فامروا بالقضاء قال بد من قضاء. وقال معمر سمعت هشاما لا ادري اقضوا ام لا
وَقَالَ عُمَرُ لِنَشْوَانٍ فِي رَمَضَانَ وَيْلَكَ وَصِبْيَانُنَا صِيَامٌ فَضَرَبَهُ রমাযানে দিনের বেলায় এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমাদের বাচ্চারা পর্যন্ত সওম পালন করছে। তোমার সর্বনাশ হোক! অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাকে মারলেন। ১৯৬০. রুবায়্যি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আশূরার সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি‘) (রাযি.) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত। (মুসলিম ১৩/২১, হাঃ ১১৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا خالد بن ذكوان، عن الربيع بنت معوذ، قالت ارسل النبي صلى الله عليه وسلم غداة عاشوراء الى قرى الانصار " من اصبح مفطرا فليتم بقية يومه، ومن اصبح صايما فليصم ". قالت فكنا نصومه بعد، ونصوم صبياننا، ونجعل لهم اللعبة من العهن، فاذا بكى احدهم على الطعام اعطيناه ذاك، حتى يكون عند الافطار
وَمَنْ قَالَ لَيْسَ فِي اللَّيْلِ صِيَامٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى (ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ) وَنَهَى النَّبِيُّ عَنْهُ رَحْمَةً لَهُمْ وَإِبْقَاءً عَلَيْهِمْ وَمَا يُكْرَهُ مِنْ التَّعَمُّقِ আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর’’- (আল-বাকারাহ : ১৮৭)। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে সওম পালন করা যাবে না বলে যিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের উপর দয়াপরবশ হয়েও তাদের স্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে সওমে বিসাল হতে নিষেধ করেছেন এবং কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা নিন্দনীয়। ১৯৬১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সওমে বিসাল পালন করবে না। লোকেরা বলল, আপনি যে সওমে বিসাল করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয় (অথবা বললেন) আমি পানাহার অবস্থায় রাত অতিবাহিত করি। (৭২৪১, মুসলিম ১৩/১১, হাঃ ১১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثني يحيى، عن شعبة، قال حدثني قتادة، عن انس رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا تواصلوا ". قالوا انك تواصل. قال " لست كاحد منكم، اني اطعم واسقى، او اني ابيت اطعم واسقى
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বেসাল হতে নিষেধ করলেন। লোকেরা বললো, আপনি যে সওমে বেসাল পালন করেন! তিনি বললেন: আমি তোমাদের মত নই, আমাকে পানাহার করানো হয়। (১৯২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوصال. قالوا انك تواصل. قال " اني لست مثلكم، اني اطعم واسقى
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা সওমে বিসাল পালন করবে না। তোমাদের কেউ সওমে বিসাল করতে চাইলে সে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে সওমে বিসাল পালন করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমি রাত্রি যাপন করি এরূপ অবস্থায় যে, আমার জন্য একজন খাদ্য পরিবেশনকারী থাকেন যিনি আমাকে আহার করান এবং একজন পানীয় পরিবেশনকারী আমাকে পান করান। (১৯৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، حدثني ابن الهاد، عن عبد الله بن خباب، عن ابي سعيد رضى الله عنه انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول " لا تواصلوا، فايكم اذا اراد ان يواصل فليواصل حتى السحر ". قالوا فانك تواصل يا رسول الله. قال " اني لست كهييتكم، اني ابيت لي مطعم يطعمني وساق يسقين
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উপর দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে সওমে বেসাল হতে নিষেধ করলে তারা বলল, আপনি যে সওমে বেসাল করে থাকেন! তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, রাবী ‘উসমান (রহ.) رَحْمَةً لَهُمْ ‘তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে’ কথাটি উল্লেখ করেননি। (মুসলিম ১৩/১১, হাঃ ১১০৫, আহমাদ ২৪৯৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، ومحمد، قالا اخبرنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها قالت نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوصال، رحمة لهم فقالوا انك تواصل. قال " اني لست كهييتكم، اني يطعمني ربي ويسقين ". قال ابو عبد الله لم يذكر عثمان رحمة لهم
رَوَاهُ أَنَسٌ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বর্ণনা করেছেন। ১৯৬৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতিহীন সওম (সওমে বিসাল) পালন করতে নিষেধ করলে মুসলিমদের এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে বিরতিহীন (সওমে বিসাল) সওম পালন করেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে আছ? আমি এমনভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। এরপর যখন লোকেরা সওমে বিসাল করা হতে বিরত থাকল না তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে দিনের পর দিন (লাগাতার) সওমে বিসাল করতে থাকলেন। এরপর লোকেরা যখন চাঁদ দেখতে পেল তখন তিনি বললেন : যদি চাঁদ উঠতে আরো দেরী হত তবে আমি তোমাদেরকে নিয়ে আরো বেশী দিন সওমে বিসাল করতাম। এ কথা তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান স্বরূপ বলেছিলেন, যখন তারা বিরত থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। (১৯৬৬, ৬৮৫১, ৭২৪২, ৭২৯৯, মুসলিম ১৩/১১, হাঃ ১১০৩, আহমাদ ১৩৫৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة رضى الله عنه قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوصال في الصوم فقال له رجل من المسلمين انك تواصل يا رسول الله قال " وايكم مثلي اني ابيت يطعمني ربي ويسقين ". فلما ابوا ان ينتهوا عن الوصال واصل بهم يوما ثم يوما، ثم راوا الهلال، فقال " لو تاخر لزدتكم ". كالتنكيل لهم، حين ابوا ان ينتهوا
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সওমে বেসাল পালন করা হতে বিরত থাক (বাক্যটি তিনি) দু’বার বললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি তো সওমে বেসাল করেন। তিনি বললেনঃ আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করিয়ে থাকেন। তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল করার দায়িত্ব গ্রহণ করো। (১৯৬৫, মুসলিম ১৩/১১, হাঃ ১১০৩, আহমাদ ৮২৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن همام، انه سمع ابا هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اياكم والوصال ". مرتين قيل انك تواصل. قال " اني ابيت يطعمني ربي ويسقين، فاكلفوا من العمل ما تطيقون
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা সওমে বিসাল করবে না। তোমাদের কেউ যদি সওমে বিসাল করতে চায়, তবে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সওমে বিসাল পালন করেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মত নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার জন্য একজন আহারদাতা রয়েছেন যিনি আমাকে আহার করান, একজন পানীয় দানকারী আছেন যিনি আমাকে পান করান। (১৯৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن حمزة، حدثني ابن ابي حازم، عن يزيد، عن عبد الله بن خباب، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا تواصلوا، فايكم اراد ان يواصل فليواصل حتى السحر ". قالوا فانك تواصل، يا رسول الله. قال " لست كهييتكم، اني ابيت لي مطعم يطعمني وساق يسقين
আবূ জুহায়ফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (রাঃ) ও আবুদ দারদা (রাঃ)-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। (একদা) সালমান (রাঃ) আবূদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে উম্মুদ দারদা (রাযি.)-কে মলিন কাপড় পরিহিত দেখতে পান। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উম্মুদ দারদা (রাযি.) বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার পার্থিব কোন কিছুরই প্রতি মোহ নেই। কিছুক্ষণ পরে আবূদ দারদা (রাঃ) এলেন। অতঃপর তিনি সালমান (রাঃ)-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করান এবং বলেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি সাওম পালন করছি। সালমান (রাঃ) বললেন, আপনি না খেলে আমি খাবো না। এরপর আবূদ দারদা (রাঃ) সালমান (রাঃ)-এর সঙ্গে খেলেন। রাত হলে আবূদ দারদা (রাঃ) (সালাত আদায়ে) দাঁড়াতে গেলেন। সালমান (রাঃ) বললেন, এখন ঘুমিয়ে পড়েন। আবূদ দারদা (রাঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবূদ দারদা (রাঃ) আবার সালাতে দাঁড়াতে উদ্যত হলেন, সালমান (রাঃ) বললেন, ঘুমিয়ে পড়েন। যখন রাতের শেষ ভাগ হলো, সালমান (রাঃ) আবূদ দারদা (রাঃ)-কে বললেন, এখন উঠুন। এরপর তাঁরা দু’জনে সালাত আদায় করলেন। পরে সালমান (রাঃ) তাঁকে বললেন, আপনার প্রতিপালকের হাক্ব আপনার উপর আছে। আপনার নিজেরও হাক্ব আপনার উপর রয়েছে। আবার আপনার পরিবারেরও হাক্ব রয়েছে। প্রত্যেক হাক্বদারকে তার হাক্ব প্রদান করুন। এরপর আবূদ দারদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাজির হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সালমান ঠিকই বলেছে। (৬১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا جعفر بن عون، حدثنا ابو العميس، عن عون بن ابي جحيفة، عن ابيه، قال اخى النبي صلى الله عليه وسلم بين سلمان، وابي الدرداء، فزار سلمان ابا الدرداء، فراى ام الدرداء متبذلة. فقال لها ما شانك قالت اخوك ابو الدرداء ليس له حاجة في الدنيا. فجاء ابو الدرداء، فصنع له طعاما. فقال كل. قال فاني صايم. قال ما انا باكل حتى تاكل. قال فاكل. فلما كان الليل ذهب ابو الدرداء يقوم. قال نم. فنام، ثم ذهب يقوم. فقال نم. فلما كان من اخر الليل قال سلمان قم الان. فصليا، فقال له سلمان ان لربك عليك حقا، ولنفسك عليك حقا، ولاهلك عليك حقا، فاعط كل ذي حق حقه. فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " صدق سلمان
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে (এত অধিক) সওম পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রমাযান ব্যতীত কোন পুরা মাসের সওম পালন করতে দেখিনি এবং শা‘বান মাসের চেয়ে কোন মাসে অধিক (নফল) সওম পালন করতে দেখিনি। (১৯৭০, ৬৪৬৫, মুসলিম ১৩/৩৩, হাঃ ১১৫৬, আহমাদ ২৫১৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابي النضر، عن ابي سلمة، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم حتى نقول لا يفطر، ويفطر حتى نقول لا يصوم. فما رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم استكمل صيام شهر الا رمضان، وما رايته اكثر صياما منه في شعبان
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাসের চাইতে বেশি (নফল) সওম কোন মাসে পালন করতেন না। তিনি (প্রায়) পুরা শা‘বান মাসই সওম রাখতেন এবং তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু (নফল) আমল কর, কারণ তোমরা (আমল করতে করতে) পরিশ্রান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা (সাওয়াব দান) বন্ধ করেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সালাত ছিল তাই- যা যথাযথ নিয়মে সর্বদা আদায় করা হত, যদিও তা পরিমাণে কম হত এবং তিনি যখন কোন (নফল) সালাত আদায় করতেন পরবর্তীতে তা অব্যাহত রাখতেন। (১৯৬৯, মুসলিম ১৩/৩৩, হাঃ ১১৫৬, আহমাদ ২৪৫৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا معاذ بن فضالة، حدثنا هشام، عن يحيى، عن ابي سلمة، ان عايشة رضى الله عنها حدثته قالت، لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم يصوم شهرا اكثر من شعبان، فانه كان يصوم شعبان كله، وكان يقول " خذوا من العمل ما تطيقون، فان الله لا يمل حتى تملوا، واحب الصلاة الى النبي صلى الله عليه وسلم ما دووم عليه، وان قلت " وكان اذا صلى صلاة داوم عليها