Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৫২ হাদিসসমূহ
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উসমান! আল্লাহ তা'আলা হয়ত তোমাকে একটি জামা পরিধান করাবেন (খিলাফত দান করবেন)। তোমার হতে লোকেরা তা খুলে নিতে চাইলে তুমি তাদের দাবিতে তা ত্যাগ করবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১২)। এ হাদীসে দীর্ঘ ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا حجين بن المثنى، قال حدثنا الليث بن سعد، عن معاوية بن صالح، عن ربيعة بن يزيد، عن عبد الله بن عامر، عن النعمان بن بشير، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " يا عثمان انه لعل الله يقمصك قميصا فان ارادوك على خلعه فلا تخلعه لهم " . وفي الحديث قصة طويلة . هذا حديث حسن غريب
। উসমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাওহিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এক মিসরবাসী বাইতুল্লাহর হাজ্জ আদায় করে। সে একদল লোককে বসা দেখে বলে, এরা কারা? লোকেরা বলল, এরা কুরাইশ বংশীয়। সে পুনরায় বলে, এই বয়স্ক (শায়খ) লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইবনু উমর (রাযিঃ)। সে সময় সে তার নিকটে এসে বলল, আপনাকে আমি কয়েকটি বিষয় প্রশ্ন করব। অতএব আপনি আমাকে (তা) বলুন। আমি এ বাইতুল্লাহর মর্যাদার শপথ দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি অবহিত আছেন যে, উসমান (রাযিঃ) উহুদ যুদ্ধের দিন (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) পলায়ন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে আবার বলল, আপনি কি জানেন, তিনি (হুদাইবিয়ায় অনুষ্ঠিত) বাই’আতুর রিযওয়ানে অনুপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে পুনরায়ও বলল, আপনি কি অবহিত আছেন যে, তিনি বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে উপস্থিত হননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আল্লাহু আকবার। তারপর ইবনু উমার (রাযিঃ) তাকে বললেন, এবার এসো। যেসব বিষয়ে তুমি প্রশ্ন করেছ তা তোমাকে আমি সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেই। উহুদের দিন তার পলায়নের ঘটনা প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তার ঐ ব্যাপারটা ইতোমধ্যেই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে মাফ করেছেন। তারপর বদরের যুদ্ধে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে (রুকাইয়াহ্) তার সহধর্মিণী ছিলেন (এবং সে সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যে লোক বদরের যুদ্ধে যোগদান করেছে তার সমপরিমাণ সাওয়াব ও গানীমাত তুমি পাবে। আর তিনি রুকাইয়ার দেখাশুনা করার জন্য তাকে মাদীনাতে থাকারই নির্দেশ দিলেন। আর বাই’আতে রিদওয়ানে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, মাক্কাবাসীদের কাছে উসমান (রাযিঃ)-এর চাইতে বেশি মর্যাদাবান কোন মুসলিম লোক (হুদাইবিয়ায়) উপস্থিত থাকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার পরিবর্তে) তাকেই প্রেরণ করতেন। তা না থাকাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান (রাযিঃ)-কেই (মাক্কায়) প্রেরণ করলেন। আর উসমান (রাযিঃ)-এর মক্কার অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর বাই’আতুর রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, (বাই’আতঅনুষ্ঠানকালে)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাতের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটা উসমানের হাত। তারপর তিনি ঐ হাতটি তার অন্য হাতের উপর স্থাপন করে বললেনঃ এটি উসমানের (বাই’আত) তারপর ইবনু উমার (রাযিঃ) লোকটিকে বললেন, এবার তুমি এ ব্যাখ্যা সঙ্গে নিয়ে যাও। সহীহঃ বুখারী (৯৬৯৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا صالح بن عبد الله، قال حدثنا ابو عوانة، عن عثمان بن عبد الله بن موهب، ان رجلا، من اهل مصر حج البيت فراى قوما جلوسا فقال من هولاء قالوا قريش . قال فمن هذا الشيخ قالوا ابن عمر . فاتاه فقال اني سايلك عن شيء فحدثني انشدك الله بحرمة هذا البيت اتعلم ان عثمان فر يوم احد قال نعم . قال اتعلم انه تغيب عن بيعة الرضوان فلم يشهدها قال نعم . قال اتعلم انه تغيب يوم بدر فلم يشهد قال نعم . قال الله اكبر . فقال له ابن عمر تعال ابين لك ما سالت عنه اما فراره يوم احد فاشهد ان الله قد عفا عنه وغفر له واما تغيبه يوم بدر فانه كانت عنده - او تحته - ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " لك اجر رجل شهد بدرا وسهمه " . وامره ان يخلف عليها وكانت عليلة واما تغيبه عن بيعة الرضوان فلو كان احد اعز ببطن مكة من عثمان لبعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم مكان عثمان بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عثمان الى مكة وكانت بيعة الرضوان بعد ما ذهب عثمان الى مكة قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده اليمنى " هذه يد عثمان " . وضرب بها على يده فقال " هذه لعثمان "رضى الله عنه . قال له اذهب بهذا الان معك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই আমরা আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-কে গণ্যমান্য লোক বলতাম। সহীহঃ মিশকাত (৬০৭৬), বুখারী (৩৬৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস উবাইদুল্লাহ ইবনু উমারের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব গণ্য হয়েছে। উক্ত হাদীস ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত আছে।
حدثنا احمد بن ابراهيم الدورقي، قال حدثنا العلاء بن عبد الجبار، قال حدثنا الحارث بن عمير، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، قال كنا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم حى ابو بكر وعمر وعثمان . هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه يستغرب من حديث عبيد الله بن عمر . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن ابن عمر
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝগড়ার কথা উল্লেখ করে বলেনঃ সে অর্থাৎ উসমান ইবনু আফফান সেই ঝগড়ায় অন্যায়ভাবে নিহত হবে। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا ابراهيم بن سعيد الجوهري، قال حدثنا شاذان الاسود بن عامر، عن سنان بن هارون البرجمي، عن كليب بن وايل، عن ابن عمر، قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنة فقال " يقتل فيها هذا مظلوما " . لعثمان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث ابن عمر
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক লোকের মরদেহ তার জানাযার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আনা হয়। কিন্তু তিনি তার জানাযার নামায আদায় করলেন না। তাকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এই লোকের পূর্বে আপনাকে আর কারো জানাযা আদায় করা হতে বিরত থাকতে দেখিনি। তিনি বললেনঃ এ লোকটি উসমানের প্রতি হিংসা পোষণ করত, তাই আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি নারাজ হয়েছেন। মাওযু, যঈফা (১৯৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এই মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ হলেন মায়মূন ইবনু মিহরানের শিষ্য এবং তিনি হাদীস শাস্ত্রে অত্যাধিক দুর্বল। আর মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ, যিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর শিষ্য, বসরার অধিবাসী, নির্ভরযোগ্য রাবী এবং তার উপনাম আবূল হারিস। আর মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ আল-আলহানী হলেন আবূ উমামা (রাঃ)-এর শিষ্য, তিনিও নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি সিরিয়ার বাসিন্দা এবং তার আরেক নাম আবূ সুফিয়ান।
حدثنا الفضل بن ابي طالب البغدادي، وغير، واحد، قالوا حدثنا عثمان بن زفر، قال حدثنا محمد بن زياد، عن محمد بن عجلان، عن ابي الزبير، عن جابر، قال اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بجنازة رجل يصلي عليه فلم يصل عليه فقيل يا رسول الله ما رايناك تركت الصلاة على احد قبل هذا قال " انه كان يبغض عثمان فابغضه الله " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه . ومحمد بن زياد صاحب ميمون بن مهران ضعيف في الحديث جدا ومحمد بن زياد صاحب ابي هريرة هو بصري ثقة ويكنى ابا الحارث ومحمد بن زياد الالهاني صاحب ابي امامة ثقة يكنى ابا سفيان شامي
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। তিনি এক আনসারীর বাগিচায় ঢুকে তার প্রকৃতিক প্রয়োজন সারেন, তারপর আমাকে বললেনঃ হে আবূ মূসা দরজায় যাও, যাতে বিনা অনুমতিতে কেউ আমার নিকট প্রবেশ করতে না পারে। এক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি আবূ বাকর। সে সময় আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আবূ বাকর অনুমতিপ্রার্থী। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুখবর দাও। অতএব তিনি প্রবেশ করলেন এবং আমি তাকে জান্নাতের সুখবর জানালাম। তারপর এক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বলেন, উমার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে উমার আপনার অনুমতি চায়। তিনি বললেনঃ তাকে দরজা খুলে দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অতএব আমি দরজা খুলে দিলে তিনি প্রবেশ করেন এবং তাকেও আমি জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, উসমান। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে উসমান অনুমতিপ্রার্থী। তিনি বললেনঃ তাকে দরজা খুলে দাও এবং তার উপর কঠিন বিপদ আসবে এ কথা বলে তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ জানাও। সহীহঃ সহীহ আদাবুল মুফরাদ, বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আবূ উসমান আন-নাহদী হতে একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، قال حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن ابي عثمان النهدي، عن ابي موسى الاشعري، قال انطلقت مع النبي صلى الله عليه وسلم فدخل حايطا للانصار فقضى حاجته فقال لي " يا ابا موسى املك على الباب فلا يدخلن على احد الا باذن " . فجاء رجل يضرب الباب فقلت من هذا فقال ابو بكر . فقلت يا رسول الله هذا ابو بكر يستاذن . قال " ايذن له وبشره بالجنة " . فدخل وبشرته بالجنة وجاء رجل اخر فضرب الباب فقلت من هذا فقال عمر . فقلت يا رسول الله هذا عمر يستاذن . قال " افتح له وبشره بالجنة " . ففتحت الباب ودخل وبشرته بالجنة فجاء رجل اخر فضرب الباب فقلت من هذا قال عثمان . فقلت يا رسول الله هذا عثمان يستاذن . قال " افتح له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن ابي عثمان النهدي . وفي الباب عن جابر وابن عمر
। আবূ সাহলাহ্ (রহঃ) বলেন, উসমান (রাযিঃ) নিজগৃহে অবরুদ্ধ থাকাকালে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি ওয়াদা (উপদেশ) দিয়েছেন। সুতরাং আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করব। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদের সনদে অবগত হয়েছি।
حدثنا سفيان بن وكيع، قال حدثنا ابي ويحيى بن سعيد، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، قال حدثني ابو سهلة، قال قال لي عثمان يوم الدار ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد عهد الى عهدا فانا صابر عليه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من حديث اسماعيل بن ابي خالد
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবী তলিব (রাযিঃ)-কে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি সেনাদলের একটি খণ্ডাংশের (সারিয়্যা) পরিদর্শনে যান এবং এক যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে মিলিত হন। কিন্তু তার সাথীরা তার এ কাজ পছন্দ করলেন না। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারজন সাহাবী শপথ করে বললেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা পাব, তাকে তখন আলীর কার্যকলাপ প্রসঙ্গে জানাব। মুসলিমদের নিয়ম ছিল যে, তারা কোন সফর বা অভিযান শেষে ফিরে এসে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে সালাম করতেন, তারপর নিজ নিজ গৃহে ফিরে যেতেন। সুতরাং উক্ত সেনাদল ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম জানায় এবং চার সাহাবীর একজন দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লক্ষ্য করুন, আলী ইবনু আবী তলিব এই এই করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পূর্বোক্ত ব্যক্তির মতো বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হতেও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এবার তৃতীয়জন দাঁড়িয়ে পূর্বোক্তজনের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হতেও মুখ ফিরিয়ে নেন। অবশেষে চতুৰ্থজন দাড়িয়ে পূর্বোক্তদের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব নিয়ে তাদের দিকে মনোনিবেশ করে বললেনঃ কি বলতে চাও? তোমরা ‘আলী প্রসঙ্গে কি বলতে চাও? ‘আলী প্রসঙ্গে তোমরা কি বলতে চাও? (বংশ, বৈবাহিক সম্পর্ক, অগ্রগণ্যতা, ভালবাসা ইত্যাদি প্রসঙ্গে) আলী আমার হতে এবং আমি আলী (রাযিঃ) হতে। আমার পরে সে-ই হবে সমস্ত মুমিনের সঙ্গী ও পৃষ্ঠপোষক। সহীহঃ সহীহাহ (২২২৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র জাফর ইবনু সুলাইমানের সনদে অবগত হয়েছি।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن يزيد الرشك، عن مطرف بن عبد الله، عن عمران بن حصين، قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم جيشا واستعمل عليهم علي بن ابي طالب فمضى في السرية فاصاب جارية فانكروا عليه وتعاقد اربعة من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا اذا لقينا رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبرناه بما صنع علي وكان المسلمون اذا رجعوا من السفر بدءوا برسول الله صلى الله عليه وسلم فسلموا عليه ثم انصرفوا الى رحالهم فلما قدمت السرية سلموا على النبي صلى الله عليه وسلم فقام احد الاربعة فقال يا رسول الله الم تر الى علي بن ابي طالب صنع كذا وكذا . فاعرض عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قام الثاني فقال مثل مقالته فاعرض عنه ثم قام اليه الثالث فقال مثل مقالته فاعرض عنه ثم قام الرابع فقال مثل ما قالوا فاقبل اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم والغضب يعرف في وجهه فقال " ما تريدون من علي ما تريدون من علي ما تريدون من علي ان عليا مني وانا منه وهو ولي كل مومن من بعدي " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث جعفر بن سليمان
। আবূ সারীহাহ অথবা যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যার সাথী বা পৃষ্ঠপোষক, আলীও তার সাথী বা পৃষ্ঠপোষক। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৫০), রাওযুন নায়ীর (১৭১), মিশকাত (৬০৮২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শুবাহ আবূ আবদুল্লাহ মাইমূন হতে, তিনি যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ সারীহাহ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হুযইফাহ ইবনু আসীদ আল-গিফারী (রাযিঃ)।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثنا شعبة، عن سلمة بن كهيل، قال سمعت ابا الطفيل، يحدث عن ابي سريحة، او زيد بن ارقم شك شعبة - عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كنت مولاه فعلي مولاه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد روى شعبة هذا الحديث عن ميمون ابي عبد الله عن زيد بن ارقم عن النبي صلى الله عليه وسلم . وابو سريحة هو حذيفة بن اسيد صاحب النبي صلى الله عليه وسلم
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকরের দারুল হিজরাতে (মাদীনায়) নিয়ে এসেছেন এবং নিজের মাল দিয়ে বিলালকে গোলাম হতে আযাদ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা উমারকে দয়া করুন। অপ্রিয় হলেও তিনি হাক (সত্য) কথা বলেন। তার সত্য ভাষণই তাকে সঙ্গহীন করেছেন। আল্লাহ তা'আলা উসমানের প্রতি দয়া করুন। সে এত অধিক লাজুক যে, ফিরিশতারা পর্যন্ত তাকে দেখে লজ্জাবোধ (সম্মান) করেন। আল্লাহ তা'আলা আলীকে দয়া করুন। হে আল্লাহ! সে যেখানেই থাকুক, সত্যকে তার চিরসার্থী করুন। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (২০৯৪), মিশকাত (৬১২৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। মুখতার ইবনু নাফি’ বাসরার শাইখ, অনেক অপরিচিত বিষয় তিনি বর্ণনা করেন, আবূ হাইয়্যান আত-তাইনীর নাম ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ কূফার অধিবাসী নির্ভরযোগ্য রাবী।
حدثنا ابو الخطاب، زياد بن يحيى البصري قال حدثنا ابو عتاب، سهل بن حماد قال حدثنا المختار بن نافع، قال حدثنا ابو حيان التيمي، عن ابيه، عن علي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رحم الله ابا بكر زوجني ابنته وحملني الى دار الهجرة واعتق بلالا من ماله رحم الله عمر يقول الحق وان كان مرا تركه الحق وماله صديق رحم الله عثمان تستحييه الملايكة رحم الله عليا اللهم ادر الحق معه حيث دار " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه . والمختار بن نافع شيخ بصري كثير الغرايب وابو حيان التيمي اسمه يحيى بن سعيد بن حيان التيمي كوفي وهو ثقة
। রিবঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) কূফার মুক্তাঙ্গনে (আর-রাহবায়) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়ার দিন মুশরিকদের ক'জন লোক আমাদের নিকটে আসে। তাদের মধ্যে সুহাইল ইবনু আমরসহ আরো ক'জন গণ্যমান্য মুশরিক ছিল। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সন্তান-সন্তুতি, ভাই ও ক্রীতদাসসহ কিছু সংখ্যক লোক আপনার নিকট এসে পরেছে। ধর্ম সম্পর্কে তারা মূৰ্খ এবং তারা আমাদের ভূসম্পত্তি ও ক্ষেত-খামার হতে পালিয়ে এসেছে। অতএব আপনি তাদেরকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিন। যদিও তাদের ধর্মের বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই, তাই আমরা তাদেরকে বুঝাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে কুরাইশের লোকেরা! তোমরা এরকম কর্মকাণ্ড হতে বিরত হও। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বিরুদ্ধে এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তোমাদের ঘাড়ে দীনের তরবারী দিয়ে আঘাত করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরগুলোকে ঈমানের ব্যাপারে পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তখন মুসলিমরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে সেই ব্যক্তি? আবূ বাকর (রাঃ)-ও বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কে সেই ব্যক্তি? উমার (রাঃ)-ও বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে সেই লোক? তিনি বললেনঃ সে একজন জুতা সেলাইকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে তার জুতাটা সেলাই করতে দিয়েছিলেন। রাবী বলেনঃ আলী (রাঃ) আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করল। সনদ দুর্বল, তবে হাদীসের শেষাংশ সহীহ মুতাওয়াতির, দেখুন হাদীস নং (২৬৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু আলী (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। তিরমিয়ী জারুদ হতে ওয়াকীর সূত্রে বলেনঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামের মধ্যে কোন মিথ্যা কথা বলেননি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আব্দুল্লাহ ইবনু আবীল আসওয়াদ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ মানসূর ইবনুল মু'তামির কূফাবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্থ রাবী।
حدثنا سفيان بن وكيع، قال حدثنا ابي، عن شريك، عن منصور، عن ربعي بن حراش، قال حدثنا علي بن ابي طالب، بالرحبة قال لما كان يوم الحديبية خرج الينا ناس من المشركين فيهم سهيل بن عمرو واناس من روساء المشركين فقالوا يا رسول الله خرج اليك ناس من ابناينا واخواننا وارقاينا وليس لهم فقه في الدين وانما خرجوا فرارا من اموالنا وضياعنا فارددهم الينا . " فان لم يكن لهم فقه في الدين سنفقههم " . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا معشر قريش لتنتهن او ليبعثن الله عليكم من يضرب رقابكم بالسيف على الدين قد امتحن الله قلبه على الايمان " . قالوا من هو يا رسول الله فقال له ابو بكر من هو يا رسول الله وقال عمر من هو يا رسول الله قال " هو خاصف النعل " . وكان اعطى عليا نعله يخصفها ثم التفت الينا علي فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث ربعي عن علي . وسمعت الجارود يقول سمعت وكيعا يقول لم يكذب ربعي بن حراش في الاسلام كذبة . واخبرني محمد بن اسماعيل عن عبد الله بن ابي الاسود قال سمعت عبد الرحمن بن مهدي يقول منصور بن المعتمر اثبت اهل الكوفة
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমা হতে, আর আমিও তোমা হতে। অর্থাৎ আমরা পরস্পরে অভিন্ন পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সহীহঃ সহীহাহ (৩/১৭৮), সহীহ আল-জামি' (১৪৮৫)। এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابي، عن اسراييل، وحدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء بن عازب، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لعلي بن ابي طالب " انت مني وانا منك " . وفي الحديث قصة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চার ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিও তাদের ভালোবাসেন। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে তাদের নামগুলো বলুন। তিনি বললেনঃ আলীও তাদের একজন। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (অবশিষ্ট তিনজন হলেন) আবূ যার, মিকদাদ ও সালমান (রাঃ)। তাদেরকে ভালোবাসতে তিনি আমাকে আদেশ করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিও তাদেরকে ভালোবাসেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু শারীকের রিওয়ায়াত হিসেবেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا اسماعيل بن موسى الفزاري ابن بنت السدي، قال حدثنا شريك، عن ابي ربيعة، عن ابن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله امرني بحب اربعة واخبرني انه يحبهم " . قيل يا رسول الله سمهم لنا . قال " علي منهم يقول ذلك ثلاثا وابو ذر والمقداد وسلمان امرني بحبهم واخبرني انه يحبهم " .هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث شريك
। হুবশী ইবনু জুনাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আলী আমার হতে এবং আমি আলী হতে। আমার কোন কাজ থাকলে আমি নিজেই সম্পন্ন করি অথবা আমার পক্ষ হতে তা আলীই সম্পন্ন করে। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (১১৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا اسماعيل بن موسى، قال حدثنا شريك، عن ابي اسحاق، عن حبشي بن جنادة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " علي مني وانا من علي ولا يودي عني الا انا او علي " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের মধ্যে ভায়ের সম্পর্ক সৃষ্টি করলেন। তারপর আলী (রাঃ) কান্না ভেজা চোখে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার সাহাবীদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন, অথচ আমাকে কারো সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ দুনিয়া ও পরকালে তুমি আমারই ভাই। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে যাইদ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا يوسف بن موسى القطان البغدادي، قال حدثنا علي بن قادم، قال حدثنا علي بن صالح بن حى، عن حكيم بن جبير، عن جميع بن عمير التيمي، عن ابن عمر، قال اخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين اصحابه فجاء علي تدمع عيناه فقال يا رسول الله اخيت بين اصحابك ولم تواخ بيني وبين احد . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " انت اخي في الدنيا والاخرة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وفي الباب عن زيد بن ابي اوفى
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাখির ভুনা গোশত হাযির ছিল। তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তোমার সৃষ্টির মধ্যে তোমার নিকট সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার সাথে এই পাখির গোশত খাওয়ার জন্য হাযির করে দাও। ইত্যবসরে আলী (রাঃ) এসে হাযির হন এবং তার সাথে খাবার খান। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে আস-সুদীর রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস অন্যভাবেও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। আস-সুদীর নাম ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন এবং হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ)-কে দেখেছেন। শুবা, সুফিয়ান সাওরী, যাইদাহ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আলকাত্তান প্রমুখ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
حدثنا سفيان بن وكيع، قال حدثنا عبيد الله بن موسى، عن عيسى بن عمر، عن السدي، عن انس بن مالك، قال كان عند النبي صلى الله عليه وسلم طير فقال " اللهم ايتني باحب خلقك اليك ياكل معي هذا الطير " . فجاء علي فاكل معه . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه من حديث السدي الا من هذا الوجه وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن انس . وعيسى بن عمر هو كوفي والسدي اسمه اسماعيل بن عبد الرحمن قد ادرك انس بن مالك وراى الحسين بن علي وثقه شعبة وسفيان الثوري وزايدة ووثقه يحيى بن سعيد القطان
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু হিন্দ আল-জামালী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু চেয়েছি তখনই তিনি আমাকে দিয়েছেন এবং যখন নিশ্চুপ থেকেছি তখনও আমাকেই প্রথম দিয়েছেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং আলোচ্য সূত্রে গারীব।
حدثنا خلاد بن اسلم البغدادي، قال حدثنا النضر بن شميل، قال اخبرنا عوف، عن عبد الله بن عمرو بن هند الجملي، قال قال علي كنت اذا سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطاني واذا سكت ابتداني .هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি (জ্ঞানের ভাণ্ডার) পাঠশালা এবং আলী তার দরজা। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব মুনকার। কিছু রাবী এ হাদীস শারীক হতে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এর সনদে আস-সুনাবিহী হতে’ উল্লেখ করেননি। অনন্তর আমরা উক্ত হাদীস শারীক হতে কোন নির্ভরযোগ্য রাবীর সূত্রে জানতে পারিনি। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا اسماعيل بن موسى، قال حدثنا محمد بن عمر بن الرومي، قال حدثنا شريك، عن سلمة بن كهيل، عن سويد بن غفلة، عن الصنابحي، عن علي، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا دار الحكمة وعلي بابها " . هذا حديث غريب منكر . وروى بعضهم هذا الحديث عن شريك ولم يذكروا فيه عن الصنابحي ولا نعرف هذا الحديث عن احد من الثقات غير شريك . وفي الباب عن ابن عباس
। আমির ইবনু সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে তার পিতার সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ ইবনু আবী সুফইয়ান (রাযিঃ) সা'দ (রাযিঃ)-কে আমীর নিযুক্ত করে বললেন, আবূ তুরাবকে গালি দিতে তোমায় বাধা দিল কিসে? সা'দ (রাযিঃ) বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তিনটি কথা মনে রাখব, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে সময় পর্যন্ত আমি তাকে গালমন্দ করব না। ঐগুলোর একটি কথাও আমার নিকটে লাল রংয়ের উট লাভের তুলনায় বেশি প্রিয়। (এক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি আলী (রাযিঃ)-এর লক্ষ্যে একটি কথা বলতে শুনেছি, যে সময় তিনি তাকে মাদীনায় তার জায়গায় নিয়োগ করে কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। সে সময় আলী (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে কি রেখে যাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারূন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরবর্তীতে কোন নবী নেই। (দুই) আমি খাইবারের (যুদ্ধাভিযানের) দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এমন এক লোকের হাতে আমি (যুদ্ধের) পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলও তাকে মুহাব্বাত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রত্যেকে তা লাভের আশায় অপেক্ষা করতে থাকলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা আলীকে আমার নিকটে ডেকে আন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার কাছে এসে হাযির হন, তখন তার চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই চোখে স্বীয় মুখ নিঃসৃত লালা লাগিয়ে দেন এবং তার হাতে পতাকা অৰ্পণ করেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিজয়ী করলেন। (তিন) এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) আমরা আহবান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে....."— (সূরা আ-লি ইমরান ৬১)। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকেন (এবং তাদেরকে নিয়ে খোলা ময়দানে গিয়ে) বললেনঃ হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার পরিবার-পরিজন। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৭/১২০)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا حاتم بن اسماعيل، عن بكير بن مسمار، عن عامر بن سعد بن ابي وقاص، عن ابيه، قال امر معاوية بن ابي سفيان سعدا فقال ما يمنعك ان تسب ابا تراب قال اما ما ذكرت ثلاثا قالهن رسول الله صلى الله عليه وسلم فلن اسبه لان تكون لي واحدة منهن احب الى من حمر النعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لعلي وخلفه في بعض مغازيه فقال له علي يا رسول الله تخلفني مع النساء والصبيان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما ترضى ان تكون مني بمنزلة هارون من موسى الا انه لا نبوة بعدي " . وسمعته يقول يوم خيبر " لاعطين الراية رجلا يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله " . قال فتطاولنا لها فقال " ادع لي عليا " . فاتاه وبه رمد فبصق في عينه فدفع الراية اليه ففتح الله عليه . وانزلت هذه الاية : ( فقل تعالوا ندع ابناءنا وابناءكم ) الاية دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا وفاطمة وحسنا وحسينا فقال " اللهم هولاء اهلي " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه