Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৫২ হাদিসসমূহ
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, আমি মনে করি না যে, এমন কোন ব্যক্তি আছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসেন অথচ আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-এর মর্যাদা খাটো করে দেখেন। সনদ সহীহ মাকতু'। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثنا عبد الله بن داود، عن حماد بن زيد، عن ايوب، عن محمد بن سيرين، قال ما اظن رجلا ينتقص ابا بكر وعمر يحب النبي صلى الله عليه وسلم . قال هذا حديث حسن غريب
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমার ইবনুল খাত্তাবই নবী হত। হাসানঃ সহীহাহু (৩২৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মিশরাহ ইবনু আ-হান বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটি অবগত হয়েছি।
حدثنا سلمة بن شبيب، قال حدثنا المقري، عن حيوة بن شريح، عن بكر بن عمرو، عن مشرح بن هاعان، عن عقبة بن عامر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو كان بعدي نبي لكان عمر بن الخطاب " . قال هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث مشرح بن هاعان
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হয়েছে, তা হতে আমি পান করলাম এবং বাকি অংশটুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কি ব্যাখ্যা করেন? তিনি বললেনঃ “জ্ঞান"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ২২৮৪ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، عن حمزة بن عبد الله بن عمر، عن ابن عمر، رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رايت كاني اتيت بقدح من لبن فشربت منه فاعطيت فضلي عمر بن الخطاب " . قالوا فما اولته يا رسول الله قال " العلم " .هذا حديث حسن صحيح غريب
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তাতে একখানা সোনার বালাখানা প্রত্যক্ষ করলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, এ বালাখানা কার? ফেরেশতারা বললেন, কুরাইশের এক যুবকের। আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি প্রশ্ন করলামঃ কে সেই যুবক? ফেরেশতারা বললেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৫, ১৪২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا علي بن حجر، قال حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن حميد، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " دخلت الجنة فاذا انا بقصر من ذهب فقلت لمن هذا القصر قالوا لشاب من قريش فظننت اني انا هو فقلت ومن هو فقالوا عمر بن الخطاب " . هذا حديث حسن صحيح
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, এক দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জান্নাতে কি কারণে আমার আগে আগে থাকছঃ যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সে সময়ই আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। গত রাতেও আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। আমি স্বর্ণনির্মিত একটি বর্গাকার সুউচ্চ প্রাসাদের নিকট এসে বললামঃ এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতারা বললেন, এটা আরবের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমি একজন আরব। সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, কুরাইশ বংশের এক লোকের। আমি বললামঃ আমি কুরাইশ বংশীয়, অতএব এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমিই মুহাম্মাদ, সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, উমার ইবনুল খাত্তাবের। তারপর বিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো আমি আযান দিলেই দুই রাকাআত নামায আদায় করি এবং কখনো আমার উযূ ছুটে গেলেই আমি উযূ করি এবং মনে করি আল্লাহ তা'আলার নামে দুই রাকাআত নামায আদায় করা আমার কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দু'টি কারণেই (তোমার এ মর্যাদা)। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (১/৯৯)। এ অনুচ্ছেদে জাবির, মুআয ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে আমি সোনার তৈরী একখানা প্রাসাদ দেখে বললাম, এ প্রাসাদটি কার? বলা হল, উমার ইবনুল খাত্তাবের। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ “গত রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি", এর অর্থ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি”। কোন কোন হাদীসে এ রকমই বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নবীদের স্বপ্নও ওয়াহী।
حدثنا الحسين بن حريث ابو عمار المروزي، قال حدثنا علي بن الحسين بن واقد، قال حدثني ابي، قال حدثني عبد الله بن بريدة، قال حدثني ابي بريدة، قال اصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعا بلالا فقال " يا بلال بم سبقتني الى الجنة ما دخلت الجنة قط الا سمعت خشخشتك امامي دخلت البارحة الجنة فسمعت خشخشتك امامي فاتيت على قصر مربع مشرف من ذهب فقلت لمن هذا القصر فقالوا لرجل من العرب فقلت انا عربي لمن هذا القصر قالوا لرجل من قريش قلت انا قرشي لمن هذا القصر قالوا لرجل من امة محمد قلت انا محمد لمن هذا القصر قالوا لعمر بن الخطاب " . فقال بلال يا رسول الله ما اذنت قط الا صليت ركعتين وما اصابني حدث قط الا توضات عندها ورايت ان لله على ركعتين . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بهما " . قال ابو عيسى وفي الباب عن جابر ومعاذ وانس وابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " رايت في الجنة قصرا من ذهب فقلت لمن هذا فقيل لعمر بن الخطاب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . ومعنى هذا الحديث اني دخلت البارحة الجنة يعني رايت في المنام كاني دخلت الجنة هكذا روي في بعض الحديث . ويروى عن ابن عباس انه قال رويا الانبياء وحى
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। তিনি ফিরে এলে এক কৃষ্ণবর্ণা মেয়ে এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানৎ করেছিলাম যে, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা হিফাযাতে (সুস্থাবস্থায়) ফিরিয়ে আনলে আপনার সম্মুখে আমি দফ বাজাব এবং গান করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি সত্যিই যদি মানৎ করে থাক তবে দফ বাজাও, তা না হলে বাজিও না। সে দফ (এক মুখ খোলা ঢোল) বাজাতে লাগল। এই অবস্থায় সেখানে আবূ বাকর (রাযিঃ) এলেন এবং সে দফ বাজাতে থাকে, তারপর ‘আলী (রাযিঃ) এলেন এবং সে ওটা বাজাতে থাকে। তারপর উসমান (রাযিঃ) এলেন, সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর উমর (রাযিঃ) এসে প্রবেশ করলে সে দফটি তার নিতম্বের নীচে রেখে তার উপর অবস্থান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমার! তোমাকে দেখলে শাইতানও ভয় পায়। আমি উপবিষ্ট ছিলাম আর ঐ মেয়েটি দফ বাজাচ্ছিল। পরে আবূ বাকর এসে প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর ‘আলী প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। এরপর উসমান এসে প্রবেশ করলে তখনও সে তা বাজাতে থাকে। অবশেষে তুমি এসে যখন প্রবেশ করলে, হে উমার! সে সময় সে দফটি ফেলে দিল। সহীহঃ নাকুদুল কিত্তানী (৪৭-৪৮), সহীহাহ (২২৬১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং বুরাইদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। এ অনুচ্ছেদে 'উমার, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস ও আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا الحسين بن حريث، قال حدثنا علي بن الحسين بن واقد، حدثني ابي، قال حدثني عبد الله بن بريدة، قال سمعت ابي بريدة، يقول خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض مغازيه فلما انصرف جاءت جارية سوداء فقالت يا رسول الله اني كنت نذرت ان ردك الله سالما ان اضرب بين يديك بالدف واتغنى . فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان كنت نذرت فاضربي والا فلا " . فجعلت تضرب فدخل ابو بكر وهي تضرب ثم دخل علي وهي تضرب ثم دخل عثمان وهي تضرب ثم دخل عمر فالقت الدف تحت استها ثم قعدت عليه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الشيطان ليخاف منك يا عمر اني كنت جالسا وهي تضرب فدخل ابو بكر وهي تضرب ثم دخل علي وهي تضرب ثم دخل عثمان وهي تضرب فلما دخلت انت يا عمر القت الدف " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث بريدة وفي الباب عن عمر وسعد بن ابي وقاص وعايشة
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। সে সময় আমরা একটা সোরগোল ও শিশুদের হৈচৈ শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে দেখলেন, এক হাবশী নারী নেচেকুদে খেলা দেখাচ্ছে আর শিশুরা তার চারদিকে ভীড় জমিয়েছে। তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এসো এবং প্রত্যক্ষ কর। অতএব আমি গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাধের উপর আমার চিবুক রেখে তার খেলা প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম। আমার চিবুক ছিল তার মাথা ও কাধের মধ্যবর্তী জায়গায়। (কিছুক্ষণ পর) আমাকে তিনি বললেনঃ তুমি কি তৃপ্ত হওনি, তোমার কি তৃপ্তি পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, আমি না, না বলতে থাকলাম। আমার লক্ষ্য ছিল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটুকু খাতির করেন তা পর্যবেক্ষণ করা। ইত্যবসরে উমর (রাযিঃ) আবির্ভূত হন এবং মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত লোক তার কাছ হতে সটকে পড়ে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখলাম জিন ও মানববেশধারী শাইতানগুলো 'উমারকে দেখেই সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারপর আমি ফিরে এলাম। সহীহঃ মিশকাত (৬০৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا الحسن بن صباح البزار، قال حدثنا زيد بن حباب، عن خارجة بن عبد الله ابن سليمان بن زيد بن ثابت، قال اخبرنا يزيد بن رومان، عن عروة، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسا فسمعنا لغطا وصوت صبيان فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا حبشية تزفن والصبيان حولها فقال " يا عايشة تعالى فانظري " . فجيت فوضعت لحيى على منكب رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعلت انظر اليها ما بين المنكب الى راسه فقال لي " اما شبعت اما شبعت " . قالت فجعلت اقول لا لانظر منزلتي عنده اذ طلع عمر قال فارفض الناس عنها قالت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني لانظر الى شياطين الانس والجن قد فروا من عمر " . قالت فرجعت . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্যই প্রথমে (কবর) বিদীর্ণ করা হবে, তারপর আবূ বাকরের, তারপর উমারের জন্য। তারপর আমি আল-বাকী’র কবরবাসীদের নিকট আসব এবং তাদেরকে আমার সাথে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারপর আমি মক্কাবাসীদের জন্য প্রতীক্ষা করব। পরিশেষে হারামাইন শরীফাইন (মক্কা ও মদীনা)-এর মধ্যবর্তী স্থানে আমাকে উঠানো হবে। যঈফ, যঈফা (২৯৪৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। (আমার মতে) আসিম ইবনু উমার হাফেজে হাদীস' নন।
حدثنا سلمة بن شبيب، قال حدثنا عبد الله بن نافع الصايغ، قال حدثنا عاصم بن عمر العمري، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا اول من تنشق عنه الارض ثم ابو بكر ثم عمر ثم اتي اهل البقيع فيحشرون معي ثم انتظر اهل مكة حتى احشر بين الحرمين " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وعاصم بن عمر العمري ليس بالحافظ عند اهل الحديث
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবেক উম্মাতদের মাঝে মুহাদ্দাস’ (তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সূক্ষ্মদশী লোক) আবির্ভাব হতেন। আমার উম্মাতের মাঝে কেউ মুহাদ্দাস হলে তা উমার ইবনুল খাত্তাবই। হাসান সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। ইবনু উয়াইনার অপর এক শাগরিদ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনার সনদে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেন, মুহাদ্দাসুন অর্থ মুফাহহামূন (আল্লাহ যাদেরকে ইসলামের পূর্ণ জ্ঞান দান করেন)।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن ابن عجلان، عن سعد بن ابراهيم، عن ابي سلمة، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قد كان يكون في الامم محدثون فان يك في امتي احد فعمر بن الخطاب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح .و اخبرني بعض اصحاب سفيان بن عيينة قال قال سفيان بن عيينة محدثون يعني مفهمون
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে আবূ বাকর (রাঃ) আবির্ভূত হন। তিনি আবার বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে উমর (রাঃ) আবির্ভূত হন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৫) এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
حدثنا محمد بن حميد، قال حدثنا عبد الله بن عبد القدوس، قال حدثنا الاعمش، عن عمرو بن مرة، عن عبد الله بن سلمة، عن عبيدة السلماني، عن عبد الله بن مسعود، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " يطلع عليكم رجل من اهل الجنة " . فاطلع ابو بكر ثم قال " يطلع عليكم رجل من اهل الجنة " . فاطلع عمر . وفي الباب عن ابي موسى وجابر . هذا حديث غريب من حديث ابن مسعود
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন এক লোক তার মেষ (বকরী) পাল চরাচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ এসে একটি বকরী ধরে ফেলে। তার মালিক এসে নেকড়ের কাছ থেকে বকরীটি ছিনিয়ে নিল। নেকড়ে বলল, হিংস্র জন্তুর দিনে (যেদিন মানুষ মারা যাবে এবং হিংস্র জন্তুরা বাকি থাকবে) তুমি কি করবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের কোন রাখাল থাকবে না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি নিজে এবং আবূ বাকর ও উমার এতে (নেকড়ের মন্তব্যে) বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, সেই মজলিসে ঐ দিন তারা দু’জন হাযির ছিলেন না। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ৩৬৭৭ নং হাদীসের পূর্ণাঙ্গরূপ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি সা'দ ইবনু ইবরাহীম (রাহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا ابو داود الطيالسي، عن شعبة، عن سعد بن ابراهيم، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " بينما رجل يرعى غنما له اذ جاء ذيب فاخذ شاة فجاء صاحبها فانتزعها منه فقال الذيب كيف تصنع بها يوم السبع يوم لا راعي لها غيري " . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فامنت بذلك انا وابو بكر وعمر " . قال ابو سلمة وما هما في القوم يوميذ . حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثنا شعبة، عن سعد بن ابراهيم، نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা পর্বতে ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন আবূ বাকর, উমার, উসমান, ‘আলী, ত্বালহা ও আয-যুবাইর (রাযিঃ)। (তাদের পদতলের) পাথরটি নড়াচড়া করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্থির হয়ে থাক। কেননা তোমার উপর একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক অথবা একজন শহীদ রয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২/৫৬২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাঈদ ইবনু যাইদ, ইবনু আব্বাস, সাহল ইবনু সাদ, আনাস ইবনু মালিক ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان على حراء هو وابو بكر وعمر وعلي وعثمان وطلحة والزبير رضى الله عنهم فتحركت الصخرة فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اهدا انما عليك نبي او صديق او شهيد " .وفي الباب عن عثمان وسعيد بن زيد وابن عباس وسهل بن سعد وانس بن مالك وبريدة هذا حديث صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-সহ উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। তাদেরকে নিয়ে পাহাড় কেঁপে উঠে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পদাঘাত করে) বললেনঃ হে উহুদ শান্ত হও। তোমার উপরে একজন নবী, একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) ও দু'জন শহীদ রয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (৮৭৫), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا يحيى بن سعيد، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن انس حدثهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صعد احدا وابو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اثبت احد فانما عليك نبي وصديق وشهيدان " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর একজন করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে। জান্নাতে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবেন উসমান (রাঃ)। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১০৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এর সনদসূত্র তেমন সুদৃঢ় নয় এবং এটি মুনকাতে হাদীস।
حدثنا ابو هشام الرفاعي، قال حدثنا يحيى بن اليمان، عن شيخ، من بني زهرة عن الحارث بن عبد الرحمن بن ابي ذباب، عن طلحة بن عبيد الله، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لكل نبي رفيق ورفيقي - يعني في الجنة عثمان " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب و ليس اسناده بالقوي وهو منقطع
। আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন উসমান (রাযিঃ) বিদ্রোহীদের মাধ্যমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, সে সময় তিনি তার ঘরের উপরিতলে (ছাদে) উঠলেন, তারপর বললেন, আজ আল্লাহর কসম করে আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি তোমরা কি অবহিত আছ যে, হেরা পর্বত কম্পিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ হে হেরা! শান্ত হয়ে যাও, কেননা তোমার উপর রয়েছেন একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক কিংবা একজন শহীদ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নামে কসম করে তোমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসরা বাহিনীর (তাবুকের যুদ্ধের) জন্য বলেছিলেনঃ কে একটা পছন্দনীয় বা কবুল হওয়ার যোগ্য (অধিক পরিমাণের) খরচ দিতে তৈরী আছে? সে সময় লোকেরা চরম আর্থিক সংকট ও কঠিন পরিস্থিতির মুকাবিলা করছিল। অতএব সেই বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যয় আমিই বহন করেছি। লোকেরা বলল, হ্যাঁ। আবার আরও মনে করিয়ে দিতে চাই, তোমরা কি জ্ঞাত আছ যে, রুমা কূপের পানি কেউই ক্রয় করা ব্যতীত পান করতে পারত না? সেই কূপ আমি ক্রয় করে ধনী, দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। লোকেরা বলল, ইয়া আল্লাহ! হ্যাঁ (আমরা জানি)। তিনি তার আরো কিছু (জনহিতকর) সমাজকল্যাণমূলক কথা মনে করিয়ে দেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، قال اخبرنا عبد الله بن جعفر الرقي، قال حدثنا عبيد الله بن عمرو، عن زيد، هو ابن ابي انيسة عن ابي اسحاق، عن ابي عبد الرحمن السلمي، قال لما حصر عثمان اشرف عليهم فوق داره ثم قال اذكركم بالله هل تعلمون ان حراء حين انتفض قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اثبت حراء فليس عليك الا نبي او صديق او شهيد " . قالوا نعم . قال اذكركم بالله هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في جيش العسرة " من ينفق نفقة متقبلة " . والناس مجهدون معسرون فجهزت ذلك الجيش قالوا نعم . ثم قال اذكركم بالله هل تعلمون ان بير رومة لم يكن يشرب منها احد الا بثمن فابتعتها فجعلتها للغني والفقير وابن السبيل قالوا اللهم نعم واشياء عددها . هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه من حديث ابي عبد الرحمن السلمي عن عثمان
। আবদুর রহমান ইবনু খাববাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসাধারণকে জাইণ্ডল উসরাত অর্থাৎ তাবুকের সামরিক অভিযানে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য উৎসাহিত করছিলেন, তখন আমি সেখানে হাযির ছিলাম। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি সুসজ্জিত এক শত উট (গদি-পালানসহ) আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার যুদ্ধের (আর্থিক খরচ বহনের উদ্দেশ্যে) লোকদেরকে উৎসাহিত করলেন। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। গদি-পালানসহ আমি দুই শত উট আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। তিনি আবারও লোকদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করেন। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি গদি-পালানসহ তিন শত উট আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। রাবী আবদুর রহমান (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর হতে এ কথা বলতে বলতে নামতে দেখছি- আজকের পর হতে উসমান যাই করুক তার জন্য তাকে কৈফিয়াত দিতে হবে না। আজকের পর হতে উসমান যাই করুক তার জন্য তাকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। যঈফ, মিশকাত (৬০৬৩) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র আস-সাকান ইবনুল মুগীরাহর সূত্রেই হাদীসটি জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে আবদুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا ابو داود، قال حدثنا السكن بن المغيرة، ويكنى ابا محمد، مولى لال عثمان قال حدثنا الوليد بن ابي هشام، عن فرقد ابي طلحة، عن عبد الرحمن بن خباب، قال شهدت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يحث على جيش العسرة فقام عثمان بن عفان فقال يا رسول الله على ماية بعير باحلاسها واقتابها في سبيل الله . ثم حض على الجيش فقام عثمان بن عفان فقال يا رسول الله على مايتا بعير باحلاسها واقتابها في سبيل الله . ثم حض على الجيش فقام عثمان بن عفان فقال يا رسول الله لله على ثلاثماية بعير باحلاسها واقتابها في سبيل الله . فانا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل عن المنبر وهو يقول " ما على عثمان ما عمل بعد هذه ما على عثمان ما عمل بعد هذه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه لا نعرفه الا من حديث السكن بن المغيرة . وفي الباب عن عبد الرحمن بن سمرة
। 'আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) এক হাজার দীনারসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলেন। বর্ণনাকারী আল-হাসান ইবনু ওয়াকি' (রহঃ) বলেন, আমার কিতাবের (পাণ্ডুলিপির) অন্য জায়গায় আছে, তিনি তার জামার হাতার মধ্যে করে সেগুলো নিয়ে আসেন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মুদ্রগুলো তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে ঢেলে দেন। আবদুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি সেগুলো তার কোলে ওলট-পালট করতে করতে বলতে শুনলামঃ আজকের পর হতে উসমান যে কার্যকলাপই করুক তা তার কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। তিনি কথাটি দু'বার বললেন। হাসানঃ মিশকাত (৬০৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن اسماعيل، قال حدثنا الحسن بن واقع الرملي، قال حدثنا ضمرة بن ربيعة، عن عبد الله بن شوذب، عن عبد الله بن القاسم، عن كثير، مولى عبد الرحمن بن سمرة عن عبد الرحمن ابن سمرة، قال جاء عثمان الى النبي صلى الله عليه وسلم بالف دينار - قال الحسن بن واقع وكان في موضع اخر من كتابي في كمه حين جهز جيش العسرة فنثرها في حجره . قال عبد الرحمن فرايت النبي صلى الله عليه وسلم يقلبها في حجره ويقول " ما ضر عثمان ما عمل بعد اليوم " . مرتين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকদেরকে) স্বতস্ফূর্তভাবে আনুগত্যের শপথ (বাইআতুর রিদওয়ান) করার হুকুম দেন তখন উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মক্কার বাসিন্দাদের নিকট গিয়েছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ লোকেরা আনুগত্যের শপথ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উসমান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রয়োজনীয় কাজে গেছে। তারপর তিনি নিজের এক হাত অপর হাতের উপর রাখেন (উসমানের বাইআতস্বরূপ)। রাবী বলেনঃ উসমান (রাঃ)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতখানা লোকদের নিজেদের জন্য তাদের হাতের চাইতে বেশি ভাল ছিল। যঈফ, মিশকাত (৬০৬৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا ابو زرعة، قال حدثنا الحسن بن بشر، قال حدثنا الحكم بن عبد الملك، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال لما امر رسول الله صلى الله عليه وسلم ببيعة الرضوان كان عثمان بن عفان رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اهل مكة قال فبايع الناس قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان عثمان في حاجة الله وحاجة رسوله " . فضرب باحدى يديه على الاخرى فكانت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم لعثمان خيرا من ايديهم لانفسهم . هذا حديث حسن صحيح غريب
। সুমামাহ্ ইবনু হাযন আল-কুশাইরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন উসমান (রাযিঃ) (তার) ঘরের ছাদে উঠেন (বিদ্রোহীদের শান্ত করার জন্য) সে সময় আমি সেই গৃহে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের যে দুই সহকর্মী তোমাদেরকে আমার বিপক্ষে উপস্থিত করেছে আমার সম্মুখে তাদেরকে উপস্থিত কর। বর্ণনাকারী বলেন, তাদেরকে আনা হল, যেন দুটি উট অথবা দুটি গাধা (অর্থাৎ মোটাতাজা)। বর্ণনাকারী বলেন, উপর হতে উসমান (রাযিঃ) তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং দ্বীন ইসলামের কসম দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরাত করে) মাদীনায় এলেন এবং রূমার কূপ ছাড়া এখানে অন্য কোথায়ও মিষ্টি পানির বন্দোবস্ত ছিল না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক রূমার কূপটি ক্রয় করে মুসলিম সর্বস্তরের জন্য ওয়াকফ করে দিবে সে জান্নাতে তার তুলনায় বেশি উত্তম প্রতিদান পাবে। তারপর আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে তা ক্রয় করি (এবং উৎসর্গ করে দেই)। অথচ আজ আমাকে সেই কূপের পানি পান করতে তোমরা বাধা দিচ্ছ, এমনকি আজ আমি সাগরের (লোনা) পানি পান করছি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, সত্য। তিনি পুনরায় বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা এবং দ্বীন ইসলামের কসম দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, মসজিদে নববী মুসল্লীদের জন্য একেবারে ক্ষুদ্র ছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক অমুক গোত্রের জমিখণ্ড ক্রয় করে মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে, তার প্রতিদানে সে জান্নাতের মাঝে এর তুলনায় উত্তম প্রতিদান পাবে। আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে তা ক্রয় করে মসজিদের সাথে সংযুক্ত করেছি আর আজকে তোমরা আমাকে সেখানে দুই রাকাআত নামায আদায় করতে বাধা দিচ্ছ। তারা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ (তা সত্য)। তিনি বললেন, তোমরা কি জান যে, আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে জাইশে উসরাত (তাবুকের যুদ্ধের সৈন্যদের) যুদ্ধ সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করেছি? লোকেরা বলল, হে আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ, সত্য। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও দ্বীন ইসলামের শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার সাবীর পর্বতের উপর ছিলেন এবং তার সাথে ছিলেন আবূ বাকর, উমার ও আমি? পর্বত (আনন্দে) কম্পিত হয়, ফলে তা হতে পাথরও খসে নীচে পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়কে পদাঘাত করে বললেনঃ হে সাবীর! শান্ত ও স্থির হয়ে যাও। কেননা তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) ও দু'জন শহীদ অবস্থানরত রয়েছেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, সত্য। বর্ণনাকারী বলেন, উসমান (রাযিঃ) তাকবীর ধ্বনি দিয়ে বললেন, কাবার প্রভুর কসম! তোমরা আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছ। আমি নিশ্চিত শহীদ। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেন। হাসানঃ ইরওয়াহ (১৫৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উসমান (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবূল আশ'আস আস-সান'আনী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, [উসমান (রাযিঃ) শহীদ হলে] সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বক্তা (ঐ বিষয়ে) বক্তব্য রাখেন। তাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবীও ছিলেন। তাদের মাঝে হতে সর্বশেষে মুররাহ ইবনু কাব (রাযিঃ) বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক একটি হাদীস না শুনে থাকলে আমি বক্তৃতা দিতে দাড়াতাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝগড়া-বিবাদের কথা উল্লেখ করেন এবং শীঘ্রই তা সংঘটিত হবে বলে ইঙ্গিত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় এক ব্যক্তি কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল আবূত করে সেখান দিয়ে অতিক্রম করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে ইঙ্গিত করে) বললেনঃ এ লোকটি ঐ সময় সৎপথে দণ্ডায়মান থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উঠে তার নিকটে গিয়ে দেখি, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)। তারপর আমি তাকে সহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে প্রশ্ন করলাম, ইনিই কি সেই (সৎপথপ্রাপ্ত) লোক? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালাহ্ ও কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا عبد الوهاب الثقفي، قال حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، عن ابي الاشعث الصنعاني، ان خطباء، قامت بالشام وفيهم رجال من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام اخرهم رجل يقال له مرة بن كعب فقال لولا حديث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قمت . وذكر الفتن فقربها فمر رجل مقنع في ثوب فقال هذا يوميذ على الهدى فقمت اليه فاذا هو عثمان بن عفان . قال فاقبلت عليه بوجهه فقلت هذا قال نعم .هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابن عمر وعبد الله بن حوالة وكعب بن عجرة
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، وعباس بن محمد الدوري، وغير، واحد المعنى، واحد، قالوا حدثنا سعيد بن عامر قال عبد الله اخبرنا سعيد بن عامر عن يحيى بن ابي الحجاج المنقري عن ابي مسعود الجريري عن ثمامة بن حزن القشيري قال شهدت الدار حين اشرف عليهم عثمان فقال ايتوني بصاحبيكم اللذين الباكم على . قال فجيء بهما فكانهما جملان او كانهما حماران . قال فاشرف عليهم عثمان فقال انشدكم بالله والاسلام هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم المدينة وليس بها ماء يستعذب غير بير رومة فقال رسول الله " من يشتري بير رومة فيجعل دلوه مع دلاء المسلمين بخير له منها في الجنة " . فاشتريتها من صلب مالي فانتم اليوم تمنعوني ان اشرب منها حتى اشرب من ماء البحر . قالوا اللهم نعم . قال انشدكم بالله والاسلام هل تعلمون ان المسجد ضاق باهله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من يشتري بقعة ال فلان فيزيدها في المسجد بخير له منها في الجنة " . فاشتريتها من صلب مالي فانتم اليوم تمنعوني ان اصلي فيها ركعتين . قالوا اللهم نعم . قال انشدكم بالله والاسلام هل تعلمون اني جهزت جيش العسرة من مالي قالوا اللهم نعم . ثم قال انشدكم بالله والاسلام هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان على ثبير مكة ومعه ابو بكر وعمر وانا فتحرك الجبل حتى تساقطت حجارته بالحضيض قال فركضه برجله وقال " اسكن ثبير فانما عليك نبي وصديق وشهيدان " . قالوا اللهم نعم . قال الله اكبر شهدوا لي ورب الكعبة اني شهيد ثلاثا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روي من غير وجه عن عثمان