Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৫২ হাদিসসমূহ
। ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা' (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আঃ)-কে বেছে নিয়েছেন এবং ইসমাঈল-এর বংশে কিনানাহ গোত্রকে বংশ বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশ বংশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ বংশ থেকে হাশিম উপগোত্রকে বেছে নিয়েছেন এবং বানী হাশিম হতে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আঃ)-কে বেছে নিয়েছেন" অংশটুকু ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। সহীহাহ (৩০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا خلاد بن اسلم البغدادي، حدثنا محمد بن مصعب، حدثنا الاوزاعي، عن ابي عمار، عن واثلة بن الاسقع، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله اصطفى من ولد ابراهيم اسماعيل واصطفى من ولد اسماعيل بني كنانة واصطفى من بني كنانة قريشا واصطفى من قريش بني هاشم واصطفاني من بني هاشم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ওয়াসিলাহ্ ইবনুল আসক্বা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর হতে কিনানাহ গোত্রকে বাছাই করেছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশকে বাছাই করেছেন, আবার কুরাইশদের মধ্য হতে হাশিমকে বাছাই করেছেন এবং বনু হাশিম হতে আমাকে বাছাই করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (৩০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا سليمان بن عبد الرحمن الدمشقي، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا الاوزاعي، حدثني شداد ابو عمار، حدثني واثلة بن الاسقع، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله اصطفى كنانة من ولد اسماعيل واصطفى قريشا من كنانة واصطفى هاشما من قريش واصطفاني من بني هاشم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরাইশগণ এক সাথে বসে একে অপরে তাদের বংশমর্যাদা প্রসঙ্গে আলোচনা করে এবং মাটিতে আবর্জনার স্তুপের উপরকার খেজুর গাছের সাথে আপনাকে তুলনা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা সকল জীব সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সব চাইতে ভাল গোত্রে সৃষ্টি করেছেন এবং দুই দলকে তিনি বেছে নেন (ইসহাক ও ইসমাঈল বংশ), তারপর গোত্র ও বংশগুলোকে তিনি বাছাই করেন এবং আমাকে সবচাইতে ভাল বংশে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি ঘরসমূহ বাছাই করেছেন এবং আমাকে সেই ঘরগুলোর মধ্যে সবচাইতে ভাল ঘরে সৃষ্টি করেছেন। অতএব আমি ব্যক্তিসত্তায় তাদের সবচাইতে উত্তম বংশ-খান্দানেও সবার চাইতে উত্তম। যঈফ, নাকদুল কাত্তানী (৩১-৩২), যঈফা (৩০৭৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস হলেন ইবনু নাওফাল।
حدثنا يوسف بن موسى القطان البغدادي، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن يزيد بن ابي زياد، عن عبد الله بن الحارث، عن العباس بن عبد المطلب، قال قلت يا رسول الله ان قريشا جلسوا فتذاكروا احسابهم بينهم فجعلوا مثلك كمثل نخلة في كبوة من الارض . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان الله خلق الخلق فجعلني من خيرهم من خير فرقهم وخير الفريقين ثم تخير القبايل فجعلني من خير قبيلة ثم تخير البيوت فجعلني من خير بيوتهم فانا خيرهم نفسا وخيرهم بيتا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وعبد الله بن الحارث هو ابن نوفل
। আল-মুত্তালিব ইবনু আবূ ওয়াদাআ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আল-আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলেন। মনে হয় তিনি কিছু (কুরাইশদের মন্তব্য) শুনে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে দাড়িয়ে বললেনঃ আমি কে? সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্যে সবচাইতে ভাল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারপর তিনি তার সৃষ্টিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার উত্তম দল হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে কিছু গোত্রে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার ভাল গোত্র হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে কিছু পরিবারে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার সবচাইতে ভাল পরিবারে ও ভাল ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন। যঈফ, যঈফা (৩০৭৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو احمد، حدثنا سفيان، عن يزيد بن ابي زياد، عن عبد الله بن الحارث، عن المطلب بن ابي وداعة، قال جاء العباس الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانه سمع شييا فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر فقال " من انا " . قالوا انت رسول الله عليك السلام . قال " انا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ان الله خلق الخلق فجعلني في خيرهم ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خيرهم فرقة ثم جعلهم قبايل فجعلني في خيرهم قبيلة ثم جعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا وخيرهم نفسا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وروي عن سفيان الثوري عن يزيد بن ابي زياد نحو حديث اسماعيل بن ابي خالد عن يزيد بن ابي زياد عن عبد الله بن الحارث عن العباس بن عبد المطلب
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুওয়াত কখন অবধারিত হয়েছে? তিনি বললেনঃ যখন আদম (আঃ) তার শরীর ও রুহের মধ্যে ছিল। সহীহঃ সহীহাহ (১৮৫৬), মিশকাত (৫৭৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। উপর্যুক্ত সনদেই আমরা শুধুমাত্র হাদীসটি অবগত হয়েছি। মাঈসারাহ আল-ফাজর হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو همام الوليد بن شجاع بن الوليد البغدادي، حدثنا الوليد بن مسلم، عن الاوزاعي، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قالوا يا رسول الله متى وجبت لك النبوة قال " وادم بين الروح والجسد " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث ابي هريرة لا نعرفه الا من هذا الوجه . وفي الباب عن ميسرة الفجر
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন লোকদেরকে উঠানো হবে (কবর হতে কিয়ামতের মাঠে) সেদিন আমিই সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশকারী হব। যখন সকল মানুষ আল্লাহ তা’আলার আদালতে একত্র হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য উত্থাপন করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশাগ্রস্ত হবে তখন আমিই তাদের সুখবর প্রদানকারী হব। সে দিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। আমার প্রতিপালকের নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচাইতে সম্মানিত, এতে গর্বের কিছু নেই। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حدثنا الحسين بن يزيد الكوفي، حدثنا عبد السلام بن حرب، عن ليث، عن الربيع بن انس، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا اول الناس خروجا اذا بعثوا وانا خطيبهم اذا وفدوا وانا مبشرهم اذا ايسوا لواء الحمد يوميذ بيدي وانا اكرم ولد ادم على ربي ولا فخر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যার জন্য যমিন ফাঁক করা হবে (সবার আগে আমিই কবর হতে উঠবো)। তারপর আমাকে জান্নাতের (একজোড়া) পোশাক পরানো হবে। তারপর আমি আরশের ডান পাশে গিয়ে দাঁড়াব। আমি ছাড়া সৃষ্টিকুলের কেউই সেই জায়গায় দাঁড়াতে পারবে না। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حدثنا الحسين بن يزيد، حدثنا عبد السلام بن حرب، عن يزيد ابي خالد، عن المنهال بن عمرو، عن عبد الله بن الحارث، عن ابي هريرة، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا اول من تنشق عنه الارض فاكسى الحلة من حلل الجنة ثم اقوم عن يمين العرش ليس احد من الخلايق يقوم ذلك المقام غيري " . قال هذا حديث حسن غريب صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য তোমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে ওয়াসীলাহ কামনা কর। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াসীলাহ কি? তিনি বললেনঃ জান্নাতের সবচাইতে উচু স্তর। শুধুমাত্র এক লোকই তা অর্জন করবে। আশা করি আমিই হব সেই ব্যক্তি। সহীহঃ মিশকাত (৫৭৬৭), মুসলিম (২/৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এর সনদ খুব একটা মাজবুত নয়। কা'ব সুপরিচিত ব্যক্তি নন। লাইস ইবনু আবী সুলাইম ছাড়া আর কেউ তার হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
حدثنا بندار، حدثنا ابو عاصم، حدثنا سفيان الثوري، عن ليث، وهو ابن ابي سليم حدثني كعب، حدثني ابو هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " سلوا الله لي الوسيلة " . قالوا يا رسول الله وما الوسيلة قال " اعلى درجة في الجنة لا ينالها الا رجل واحد ارجو ان اكون انا هو " . قال هذا حديث غريب اسناده ليس بالقوي . وكعب ليس هو بمعروف ولا نعلم احدا روى عنه غير ليث بن ابي سليم
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (পূর্ববর্তী) নবীগণের মাঝে আমার উপমা সেই লোকের মত যে একটি সুরম্য, সম্পূর্ণ ও সুশোভিত প্রাসাদ নির্মাণ করল, কিন্তু একটি ইটের জায়গা অসম্পূর্ণ রেখে দিল। জনগণ প্রাসাদটি প্রদক্ষিণ করত এবং তাতে অবাক হয়ে বলত, যদি তার নির্মাণকারী ঐ ইটের জায়গাটি পূর্ণ করত। অতএব আমি নবীগণের মাঝে সেই ইটের জায়গার সমতুল্য। সহীহঃ তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (১৪১), বুখারী ও মুসলিম জাবিরও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। একই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমিই হব নবীগণের ইমাম (নেতা), তাদের মুখপাত্র এবং তাদের সুপারিশকারী, এতে কোন গর্ব নেই। হাসানঃ মিশকাত (৫৭৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، حدثنا زهير بن محمد، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن الطفيل بن ابى بن كعب، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " مثلي في النبيين كمثل رجل بنى دارا فاحسنها واكملها واجملها وترك منها موضع لبنة فجعل الناس يطوفون بالبناء ويعجبون منه ويقولون لو تم موضع تلك اللبنة وانا في النبيين موضع تلك اللبنة " . وبهذا الاسناد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا كان يوم القيامة كنت امام النبيين وخطيبهم وصاحب شفاعتهم غير فخر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা মুআযযিনের আযান যখন শুনবে সে সময় তোমরা তার মতো বলবে, তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে। কেননা যে লোক আমার প্রতি একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি এর বিনিময়ে দশবার দয়া বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকটে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা ওয়াসীলাহ হল জান্নাতের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ জায়গা যা আল্লাহ তা'আলার বান্দাদের মাঝে শুধুমাত্র একজনই অর্জন করবে। আশা করি আমিই হব সেই বান্দা। আমার জন্য যে লোক উসীলা প্রার্থনা করল তার জন্য (আমার) সুপারিশ অবধারিত হল। সহীহঃ ইরওয়া (২৪২), তা’লীক 'আলা বিদাইয়াতিস সূল (২০/৫২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মুহাম্মাদ বুখারী (রাহঃ) বলেন, এই ‘আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর হলেন কুরাশী ও মিসররিয মাদীনাবাসী এবং আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর ইবনু নুফাইর হলেন সিরিয়ার অধিবাসী।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا عبد الله بن يزيد المقري، حدثنا حيوة، اخبرنا كعب بن علقمة، سمع عبد الرحمن بن جبير، انه سمع عبد الله بن عمرو، انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول " اذا سمعتم الموذن فقولوا مثل ما يقول الموذن ثم صلوا على فانه من صلى على صلاة صلى الله عليه بها عشرا ثم سلوا لي الوسيلة فانها منزلة في الجنة لا تنبغي الا لعبد من عباد الله وارجو ان اكون انا هو ومن سال لي الوسيلة حلت عليه الشفاعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال محمد عبد الرحمن بن جبير هذا قرشي مصري مدني وعبد الرحمن بن جبير بن نفير شامي
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের ইমাম (নেতা) হব, এতে অহংকার নেই। হামদের (আল্লাহ তা'আলার প্রসংসার) পতাকা আমার হাতেই থাকবে, এতেও গর্ব নেই। সে দিন আল্লাহ তা'আলার নবী আদম (আঃ) এবং নবীগণের সকলেই আমার পতাকার নীচে থাকবেন। সর্বপ্রথম আমার জন্যই মাটিকে বিদীর্ণ করা হবে, এতে কোন অহংকার নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৪৩০৮)-এর কিছু অংশ মুসলিমেও আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সানাদে বর্ণিত আছে যে, আবূ নাজরাহ ইবনু আব্বাস হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن جدعان، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا سيد ولد ادم يوم القيامة ولا فخر وبيدي لواء الحمد ولا فخر وما من نبي يوميذ ادم فمن سواه الا تحت لوايي وانا اول من تنشق عنه الارض ولا فخر " . قال ابو عيسى وفي الحديث قصة وهذا حديث حسن . وقد روي بهذا الاسناد عن ابي نضرة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী তার প্রতীক্ষায় বসে ছিলেন। রাবী বলেন, তিনি বের হয়ে তাদের নিকট এসে তাদের কথাবার্তা শুনলেন। তাদের কেউ বললেন, বিস্ময়ের বিষয়! আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিকুলের মধ্য হতে (একজনকে) নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। তিনি ইবরাহীম (আঃ)-কে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। আরেকজন বললেন, এর চেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলঃ মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে তার সরাসরি কথাবার্তা। আরেকজন বললেন, ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কালিমা ("কুন" (হও) দ্বারা সৃষ্ট) এবং তার দেয়া রূহ। আরেকজন বললেন, আদম আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকটে বের হয়ে তাদেরকে সালাম করে বললেনঃ আমি তোমাদের কথাবার্তা ও তোমাদের বিস্ময়ের ব্যাপারটা শুনেছি। নিশ্চয় ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সত্যিই তিনি তাই। মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার সাথে বাক্যালাপকারী, সত্যিই তিনি তাই। ঈসা আলাইহিস সালাম তার রূহ ও কালিমা, সত্যিই তিনি তাই। আর আদম আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন, সত্যিই তিনিও তাই। কিন্তু আমি আল্লাহ্ তা'আলার হাবীব (প্রিয় বন্ধু), তাতে কোন গর্ব নেই। কিয়ামত দিবসে আমিই হব প্রশংসার পতাকা বহনকারী তাতে কোন গর্ব নেই। কিয়ামতের দিন আমিই সর্বপ্রথম শাফাআতকারী এবং সর্ব প্রথমে আমার শাফাআতই কুবুল হবে, তাতেও কোন গর্ব নেই। সর্ব প্রথমে আমিই জান্নাতের (দরজার) কড়া নাড়ব। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য তার দরজা খুলে দিবেন, আমাকেই সর্বপ্রথম জান্নাতে পাঠাবেন এবং আমার সাথে থাকবে গারীব মুমিনগণও, এতেও গর্বের কিছু নেই। আমি আগে ও পরের সকল লোকের মধ্যে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত, এতেও গর্বের কিছু নেই। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব
حدثنا علي بن نصر بن علي، حدثنا عبيد الله بن عبد المجيد، حدثنا زمعة بن صالح، عن سلمة بن وهرام، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال جلس ناس من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرونه قال فخرج حتى اذا دنا منهم سمعهم يتذاكرون فسمع حديثهم فقال بعضهم عجبا ان الله عز وجل اتخذ من خلقه خليلا اتخذ ابراهيم خليلا . وقال اخر ماذا باعجب من كلام موسى كلمه تكليما وقال اخر فعيسى كلمة الله وروحه . وقال اخر ادم اصطفاه الله فخرج عليهم فسلم وقال " قد سمعت كلامكم وعجبكم ان ابراهيم خليل الله وهو كذلك وموسى نجي الله وهو كذلك وعيسى روح الله وكلمته وهو كذلك وادم اصطفاه الله وهو كذلك الا وانا حبيب الله ولا فخر وانا حامل لواء الحمد يوم القيامة ولا فخر وانا اول شافع واول مشفع يوم القيامة ولا فخر وانا اول من يحرك حلق الجنة فيفتح الله لي فيدخلنيها ومعي فقراء المومنين ولا فخر وانا اكرم الاولين والاخرين ولا فخر " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب
। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ ইবনি আবদিল্লাহ ইবনি সালাম তার পিতা হতে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন (তার দাদা) বলেছেন তাওরাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঈসা আলাইহিস সালাম-এর গুনাবলী লিখা আছে এবং তাকে (ঈসা আলাইহিস সালাম-কে) তার সাথে দাফন করা হবে। আবূ মাওদুদ বলেন (আইশা (রাঃ) ঘরে কবরের জন্য জায়গা অবশিষ্ট আছে। যঈফ, মিশকাত (৫৭৭২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাবী আবূ মাওদূদ উসমান ইবনু আয-যাহহাক এরূপ বলেছেন। অবশ্য তিনি আযযাহহাক ইবনু উসমান আল-মাদীনী হিসেবেই পরিচিত।
حدثنا زيد بن اخزم الطايي البصري، حدثنا ابو قتيبة، سلم بن قتيبة حدثني ابو مودود المدني، حدثنا عثمان بن الضحاك، عن محمد بن يوسف بن عبد الله بن سلام، عن ابيه، عن جده، قال مكتوب في التوراة صفة محمد وعيسى ابن مريم يدفن معه . قال فقال ابو مودود وقد بقي في البيت موضع قبر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . هكذا قال عثمان بن الضحاك والمعروف الضحاك بن عثمان المدني
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিন হিজরত করে মাদীনায় প্রবেশ করেন সেদিন সেখানকার প্রতিটি জিনিস জ্যোতির্ময় হয়ে যায়। তারপর যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেদিন আবার সেখানকার প্রত্যেকটি বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তার দাফনকার্য আমরা সমাপ্ত করে হাত থেকে ধূলা না ঝাড়তেই আমাদের মনে পরিবর্তন এসে গেল (ঈমানের জোর কমে গেল)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৬৩১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব।
حدثنا بشر بن هلال الصواف البصري، حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن ثابت، عن انس بن مالك، قال لما كان اليوم الذي دخل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة اضاء منها كل شيء فلما كان اليوم الذي مات فيه اظلم منها كل شيء وما نفضنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الايدي وانا لفي دفنه حتى انكرنا قلوبنا . قال ابو عيسى هذا حديث غريب صحيح
। কাইস ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) জন্মগ্রহণ করি। তিনি বলেন, ইয়াসার ইবনু লাইস গোত্রীয় কুবাস ইবনু আশইয়ামকে উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) প্রশ্ন করেন, আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চাইতে অনেক বড়, তবে আমি তার আগে জন্মগ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীর বছর জন্ম গ্রহণ করেছেন। আমার মা আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলেন যেখানে গিয়ে আমি পাখিগুলোর (হাতিগুলোর) মলের রং সবুজে বদল হয়ে যেতে দেখেছি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا محمد بن بشار العبدي، حدثنا وهب بن جرير، حدثنا ابي قال، سمعت محمد بن اسحاق، يحدث عن المطلب بن عبد الله بن قيس بن مخرمة، عن ابيه، عن جده، قال ولدت انا ورسول الله، صلى الله عليه وسلم عام الفيل . وسال عثمان بن عفان قباث بن اشيم اخا بني يعمر بن ليث اانت اكبر ام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اكبر مني وانا اقدم منه في الميلاد ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل ورفعت بي امي على الموضع قال ورايت خذق الفيل اخضر محيلا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث محمد بن اسحاق
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) বলেনঃ কিছু প্রবীণ কুরাইশসহ আবূ তালিব (ব্যবসার উদ্দেশে) সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে রওয়ানা হন। তারা (বুহাইরাহ) পাদ্রীর নিকট পৌছে তাদের নিজেদের সওয়ারী থেকে মালপত্র নামাতে থাকে, তখন উক্ত পাদ্রী (গীর্জা থেকে বেরিয়ে) তাদের নিকটে এলেন। অথচ এ কাফিলা এর আগে অনেকবার এখান দিয়ে চলাচল করেছে কিন্তু তিনি কখনও তাদের নিকট (গীর্জা) বেরিয়ে আসেননি বা তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। রাবী বলেন, লোকেরা তাদের বাহন থেকে সামানপত্র নামাতে ব্যস্ত থাকাবস্থায় উক্ত পাদ্ৰী তাদের ভেতরে ঢোকেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাত ধরে বলেন, ইনি “সাইয়্যিদুল আলামীন” (বিশ্ববাসীর নেতা), ইনি রাসূল রাব্বিল আলামীন (বিশ্ববাসীর প্রতিপালকের রাসূল) এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে রহমাতুল্লিল আলামীন করে (বিশ্ববাসীর জন্য করুণা স্বরূপ) পাঠাবেন। তখন কুরাইশদের বৃদ্ধ লোকেরা তাকে প্রশ্ন করে, কে আপনাকে জানিয়েছে? তিনি বলেন, যখন তোমরা এ উপত্যকা হতে নামছিলে, (তখন আমি লক্ষ্য করেছি যে,) প্রতিটি গাছ ও পাথর সিজদায় লুটিয়ে পড়ছে। এই দুটি নবী ব্যতীত অন্য কোন সৃষ্টিকে সিজদা করে না। এতদভিন্ন তার ঘারের নীচে আপেল সদৃশ গোলাকার মোহরে নবুওয়াতের সাহায্যে আমি তাকে চিনেছি। খাদ্যদ্রব্যসহ যখন তাদের নিকটে এলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পাল চরাতে গিয়েছিলেন। পাদ্রী বলেন, তোমরা তাকে ডেকে আনার ব্যবস্থা কর। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন, তখন একখণ্ড মেঘ তার উপর ছায়া বিস্তার করেছিল এবং কাফিলার লোকেরা যারা তার পূর্বেই এসেছিল তাদেরকে তিনি গাছের ছায়ায় বসা অবস্থায় পেলেন। তিনি বসলে গাছের ছায়া তার দিকে ঝুকে পড়ে। পাদ্রি বলেন, তোমরা গাছের ছায়ার দিকে লক্ষ্য কর, ছায়াটি তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। রাবী বলেন, ইত্যবসরে পাদ্রী তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদেরকে শপথ দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা তাকে নিয়ে রোম সাম্রাজ্যে যেও না। কেননা রূমীয়রা যদি তাকে দেখে তাহলে তাকে চিহ্নগুলোর দ্বারা সনাক্ত করে ফেলবে এবং তাকে মেরে ফেলবে। এমতাবস্থায় পাদ্রী লক্ষ্য করেন যে, রূমের সাতজন লোক তাদের দিকে আসছে। পাদ্রী তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে প্রশ্ন করেন, তোমরা কেন এসেছ? তারা বলে, এ মাসে আখিরী যামানার নবীর আগমন ঘটবে। তাই চলাচলের প্রতিটি রাস্তায় লোক পাঠানো হয়েছে, তাই আমাদেরকে আপনাদের পথে পাঠানো হয়েছে। পাদ্রী রোমীয় নাগরিকদের প্রশ্ন করেন, তোমাদের পেছনে তোমাদের চেয়েও ভাল কোন ব্যক্তি আছে কি (কোন পাদ্রী তোমাদেরকে এই নবীর সংবাদ দিয়েছ কি)? তারা বলল, আপনার এ রাস্তায়ই আমাদেরকে ঐ নবীর আসার খরব দেয়া হয়েছে। পাদ্রী বলেন, তোমাদের কি মত, আল্লাহ তা'আলা যদি কোন কাজ কারার ইচ্ছা করেন তবে কোন মানুষের পক্ষে তা প্রতিহত করা কি সম্ভব? তারা বলল, না (অর্থাৎ শেষ যামানার নবীর আগমন ঘটবেই, কোন মানুষ তা ঠেকাতে পারবে না)। রাবী বলেন, তারপর তারা তার নিকট আনুগত্যের শপথ করে এবং তার সাহচর্য অবলম্বন করে। তারপর পাদ্রী (কুরাইশ কাফিলাকে) আল্লাহর নামে শপথ করে প্রশ্ন করেন, তোমাদের মধ্যে কে তার অভিভাবক? লোকেরা বলল, আবূ তালিব। পাদ্রী আবূ তালিবকে অবিরতভাবে আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে তাকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আবূ তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (মক্কায়) ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) বিলাল (রাযিঃ)-কে তার সাথে দেন। আর পাদ্রী তাকে পাথেয় হিসেবে কিছু রুটি ও যাইতুনের তৈল দেন। সহীহ ফিকহুস সীরাহ, দিফা আনিল হাদীসিন নাবাবী (৬২-৭২), মিশকাত (৫৯১৮), তবে বিলালের উল্লেখটুকু মুনকার বলে কথিত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর চল্লিশ বছর বয়সে ওয়াহী অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তিনি মাক্কায় তের বছর ও মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেন এবং যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সে সময় তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৩১৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن هشام بن حسان، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال انزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن اربعين فاقام بمكة ثلاث عشرة وبالمدينة عشرا وتوفي وهو ابن ثلاث وستين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল পয়ষট্টি বছর। শাজ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আমাদের নিকট এরূপই বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-ও তার হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن هشام، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قبض النبي صلى الله عليه وسلم وهو ابن خمس وستين وهكذا حدثنا هو يعني ابن بشار وروى عنه محمد بن اسماعيل مثل ذلك
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লম্বাও ছিলেন না এবং অতি বেটেও ছিলেন না। তিনি অতিরিক্ত সাদাও ছিলেন না, আবার বেশী তামাটে বর্ণও ছিলেন না। তার মাথার চুল একেবারে ঘন কুকড়ানো ছিল না এবং একেবারে খাড়াও ছিল না। আল্লাহ তা'আলা চল্লিশ বছর বয়সে তাকে নবুওয়াত দান করেন। তারপর তিনি মাক্কায় দশ বছর ও মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেন। আল্লাহ তা'আলা ষাট বছরের মাথায় তাকে মৃত্যু দান করেন। সে সময় তার মাথা ও দাঁড়ির বিশটি চুলও সাদা হয়নি। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১) ১৭৫৪ নং হাদীসে এর প্রথমাংশ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، عن مالك بن انس، وحدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك بن انس، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، انه سمع انس بن مالك، يقول لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالطويل الباين ولا بالقصير المتردد ولا بالابيض الامهق ولا بالادم وليس بالجعد القطط ولا بالسبط بعثه الله على راس اربعين سنة فاقام بمكة عشر سنين وبالمدينة عشر سنين وتوفاه الله على راس ستين سنة وليس في راسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই মাক্কায় একখানা পাথর আছে যা আমার নবুয়াত অর্জনের রাতগুলোতে আমাকে সালাম করত। আমি এখনও অবশ্যই পাথরখানাকে চিহ্নিত করতে পারি। সহীহঃ মুসলিম (৭/৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن بشار، ومحمود بن غيلان، قالا انبانا ابو داود الطيالسي، حدثنا سليمان بن معاذ الضبي، عن سماك بن حرب، عن جابر بن سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان بمكة حجرا كان يسلم على ليالي بعثت اني لاعرفه الان " . قال هذا حديث حسن غريب
حدثنا الفضل بن سهل ابو العباس الاعرج البغدادي، حدثنا عبد الرحمن بن غزوان ابو نوح، اخبرنا يونس بن ابي اسحاق، عن ابي بكر بن ابي موسى، عن ابيه، قال خرج ابو طالب الى الشام وخرج معه النبي صلى الله عليه وسلم في اشياخ من قريش فلما اشرفوا على الراهب هبطوا فحلوا رحالهم فخرج اليهم الراهب وكانوا قبل ذلك يمرون به فلا يخرج اليهم ولا يلتفت . قال فهم يحلون رحالهم فجعل يتخللهم الراهب حتى جاء فاخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هذا سيد العالمين هذا رسول رب العالمين يبعثه الله رحمة للعالمين . فقال له اشياخ من قريش ما علمك فقال انكم حين اشرفتم من العقبة لم يبق شجر ولا حجر الا خر ساجدا ولا يسجدان الا لنبي واني اعرفه بخاتم النبوة اسفل من غضروف كتفه مثل التفاحة . ثم رجع فصنع لهم طعاما فلما اتاهم به وكان هو في رعية الابل قال ارسلوا اليه فاقبل وعليه غمامة تظله فلما دنا من القوم وجدهم قد سبقوه الى فىء الشجرة فلما جلس مال فىء الشجرة عليه فقال انظروا الى فىء الشجرة مال عليه . قال فبينما هو قايم عليهم وهو يناشدهم ان لا يذهبوا به الى الروم فان الروم اذا راوه عرفوه بالصفة فيقتلونه فالتفت فاذا بسبعة قد اقبلوا من الروم فاستقبلهم فقال ما جاء بكم قالوا جينا ان هذا النبي خارج في هذا الشهر فلم يبق طريق الا بعث اليه باناس وانا قد اخبرنا خبره بعثنا الى طريقك هذا فقال هل خلفكم احد هو خير منكم قالوا انما اخبرنا خبره بطريقك هذا . قال افرايتم امرا اراد الله ان يقضيه هل يستطيع احد من الناس رده قالوا لا . قال فبايعوه واقاموا معه قال انشدكم الله ايكم وليه قالوا ابو طالب فلم يزل يناشده حتى رده ابو طالب وبعث معه ابو بكر بلالا وزوده الراهب من الكعك والزيت . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه