Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “যারা আপনাকে উচ্চস্বরে ঘরের বাইরে হতে ডাকে, তাদের বেশির ভাগই নির্বোধ"- (সূরা ফাত্হ ৪)। বর্ণনাকারী বলেন, জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রসঙ্গে প্রশংসা হল সৌন্দর্য এবং আমার প্রসঙ্গে নিন্দা হল অপমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ মর্যাদা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলার। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، حدثنا الفضل بن موسى، عن الحسين بن واقد، عن ابي اسحاق، عن البراء بن عازب، في قوله : ( ان الذين ينادونك من وراء الحجرات اكثرهم لا يعقلون ) قال فقام رجل فقال يا رسول الله ان حمدي زين وان ذمي شين فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ذاك الله تعالى " . قال هذا حديث حسن غريب
। আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের কারো কারো দু'তিনটি নাম থাকতো। কোন কোন নামে সম্বোধন করা তাদের কাছে মন্দ লাগত। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে সম্বোধন করো না....."— (সূরা ফাত্হ ১১)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস। আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাযিঃ) হলেন সাবিত ইবনুয যাহহাক আল-আনসারী (রাযিঃ)-এর সহোদর ভাই। আল-হারাভীর সঙ্গী আবূ যাইদের নাম সাঈদ ইবনুর রাবী' বাসরার অধিবাসী নির্ভরযোগ্য রাবী। আবূ সালামাহ ইয়াহইয়া ইবনু খালফ-বিশর ইবনুল মুফাযযাল হতে, তিনি দাউদ ইবনু আবু হিন্দ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাযিঃ) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد الله بن اسحاق الجوهري البصري، حدثنا ابو زيد، عن شعبة، عن داود بن ابي هند، قال سمعت الشعبي، يحدث عن ابي جبيرة بن الضحاك، قال كان الرجل منا يكون له الاسمين والثلاثة فيدعى ببعضها فعسى ان يكره قال فنزلت هذه الاية ( ولا تنابزوا بالالقاب ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ابو جبيرة هو اخو ثابت بن الضحاك بن خليفة انصاري وابو زيد سعيد بن الربيع صاحب الهروي بصري ثقة . حدثنا ابو سلمة، يحيى بن خلف حدثنا بشر بن المفضل، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن ابي جبيرة بن الضحاك، نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ নাযরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহর রাসূল তোমাদের মাঝে আছেন। তিনি অনেক বিষয়ে তোমাদের কথা শুনলে তোমরাই ব্যথিত হতে, কিন্তু তোমাদের কাছে আল্লাহ তা'আলা ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন......”— (সূরা ফাত্হ ৭)। তারপর তিনি বলেন, ইনিই তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার কাছে ওয়াহী পাঠানো হয় এবং তিনি হচ্ছে তোমাদের সবচেয়ে উত্তম নেতা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বিষয়ে তাদের কথা শুনলে তারাই সমস্যায় পড়ে যেতেন। অতএব যদি আজকাল তোমাদের কথা শুনা হয় তাহলে কি পরিস্থিতি হবে! হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের কাছে মুসতামির ইবনু রাইয়্যানের অবস্থা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عثمان بن عمر، عن المستمر بن الريان، عن ابي نضرة، قال قرا ابو سعيد الخدري : ( واعلموا ان فيكم، رسول الله لو يطيعكم في كثير من الامر لعنتم ) قال هذا نبيكم صلى الله عليه وسلم يوحى اليه وخيار ايمتكم لو اطاعهم في كثير من الامر لعنتوا فكيف بكم اليوم قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . قال علي بن المديني سالت يحيى بن سعيد القطان عن المستمر بن الريان فقال ثقة
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ হে জনমণ্ডলী! তোমাদের হতে আল্লাহ তা'আলা জাহিলিয়াত যুগের দম্ভ ও অহংকার এবং পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা বাতিল করেছেন। এখন মানুষ দুই অংশে বিভক্তঃ এক দল মানুষ নেককার, পরহেজগার, আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রিয় ও সম্মানিত এবং অন্য দল পাপিষ্ঠ, দুর্ভাগা, আল্লাহ তা'আলার নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নিচু ও ঘৃণিত। সকল মানুষই আদমের সন্তান। আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে তৈরী করেছি, তারপর বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি, তোমরা যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। যে লোক তোমাদের মাঝে বেশি পরহেজগার সেই আল্লাহ তা'আলার নিকট বেশী মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, সব খবর রাখেন"- (সূরা ফাত্হ ১৩)। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ২৭০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে, এ সনদেই জেনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু জা'ফার হাদীস শাস্ত্রে অত্যন্ত দুর্বল। তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন প্রমুখ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু জাফার হলেন ‘আলী ইবনুল মাদীনীর বাবা। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস উল্লেখিত রয়েছে।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا عبد الله بن جعفر، حدثنا عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس يوم فتح مكة فقال " يا ايها الناس ان الله قد اذهب عنكم عبية الجاهلية وتعاظمها بابايها فالناس رجلان رجل بر تقي كريم على الله وفاجر شقي هين على الله والناس بنو ادم وخلق الله ادم من تراب " . قال الله : ( يا ايها الناس انا خلقناكم من ذكر وانثى وجعلناكم شعوبا وقبايل لتعارفوا ان اكرمكم عند الله اتقاكم ان الله عليم خبير ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه من حديث عبد الله بن دينار عن ابن عمر الا من هذا الوجه . وعبد الله بن جعفر يضعف ضعفه يحيى بن معين وغيره وعبد الله بن جعفر هو والد علي بن المديني . قال وفي الباب عن ابي هريرة وعبد الله بن عباس
। সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধন-সম্পদ হল আভিজাত্যের প্রতীক এবং পরহেজগারী হল সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। সহীহঃ ইরওয়াহ (হাঃ ১৮৭০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সামুরাহ (রাযিঃ)-এর উদ্ধৃত হিসেবে হাসান, সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র সাল্লাম ইবনু আবী মুত্ত্ব'-এর সনদে জেনেছি।
حدثنا الفضل بن سهل الاعرج البغدادي، وغير، واحد، قالوا حدثنا يونس بن محمد، عن سلام بن ابي مطيع، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة بن جندب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الحسب المال والكرم التقوى " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث سمرة . لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث سلام بن ابي مطيع وهو ثقة
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “অবিরত জাহান্নাম বলতে থাকবে, আরো আছে কি?” (সূরা কাফ ৩০)। অবশেষে জাহান্নামের উপর মহামহিম আল্লাহ তা'আলা তাঁর পা রাখবেন। তখন সে বলবে, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে, আপনার ইজ্জতের কসম। তারপর তার এক ভাগ অপর ভাগের সঙ্গে কুঞ্চিত হয়ে যাবে। সহীহঃ জিলালুল জান্নাত (হাঃ ৫৩১, ৫৩৪), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ এবং উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব। এ অধ্যায়ে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس بن محمد، حدثنا شيبان، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تزال جهنم تقول هل من مزيد حتى يضع فيها رب العزة قدمه فتقول قط قط وعزتك ويزوى بعضها الى بعض " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . وفيه عن ابي هريرة
। আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাবী'আহ গোত্রের এক লোক বলেন, আমি মাদীনায় পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তার নিকট আমি আদ জাতির দূত প্রসঙ্গে বললাম, আমি আদ জাতির দূতের মত হওয়া হতে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেন; আদ জাতির দূতের কি হয়েছিল? আমি বললাম, আপনি ওয়াকিফহাল ব্যক্তিরই সাক্ষাৎ পেয়েছেন। আদ জাতি দুর্ভিক্ষে পতিত হলে তারা কায়ল নামক এক লোককে প্রেরণ করে এবং সে (মাক্কার কাছাকাছি) বাকর ইবনু মু'আবিয়াহর বাড়ীতে উপস্থিত হয়। বাকর তাকে মদ পান করায় এবং তার সম্মুখে দুটি গায়িকা বাদী গান পরিবেশন করে। তারপর সে মাহরা (গোত্রের) অঞ্চলের পর্বতমালায় যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সে এ বলে প্রার্থনা করেঃ হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি কোন অসুখ হতে নিরাময় পাওয়ার জন্য আসিনি এবং কোন বন্দীকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করার জন্যও আসিনি। অতএব আপনার এ বান্দাকে আপনি যত পারেন বৃষ্টিতে সিক্ত করুন এবং এর সঙ্গে বাকর ইবনু মু'আবিয়াহকেও সিক্ত করুন। বাকর তাকে যে মদ পান করায়, সে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছিল। অতএব তার জন্য মেঘমালা উত্থিত হল এবং তাকে বলা হল, তুমি এগুলোর মাঝে যে কোন একটি মেঘখণ্ড বেছে নাও। সে মেঘমালার মাঝ হতে একখণ্ড কালো মেঘ বেছে নিল। তাকে বলা হল, কবুল কর, এটা জ্বলে পুড়ে ছাইয়ের ন্যায় করে ফেলবে, যা আদ জাতির কাউকে পরিত্রাণ দিবে না। উল্লেখ্য যে, একটি আংটির বৃত্তের পরিমাণ বাতাসের ঝাপটা তাদের উপর পাঠানো হয়েছিল মাত্র। তারপর এ আয়াতটি তিনি পাঠ করেনঃ (অনুবাদ): “তাদের উপর যখন আমি বিধ্বংসী বায়ু পাঠিয়ে ছিলাম তা তখন যা কিছুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল সমস্ত কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল"- (সূরা যারিয়াত ৪১-৪২)। হাসানঃ যঈফ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১২২৮)-এর অংশ। আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী এ হাদীসটি আবূল মুনযির সাল্লাম (রহঃ)-এর সূত্রে তিনি আসিম ইবনু আবী নাজুদ হতে, তিনি আবূ ওয়ায়িল হতে, তিনি হারিস ইবনু হাসসান হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই আল-হারিসকে ইবনু ইয়াযীদও বলা হয়।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن سلام، عن عاصم بن ابي النجود، عن ابي وايل، عن رجل، من ربيعة قال قدمت المدينة فدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت عنده وافد عاد فقلت اعوذ بالله ان اكون مثل وافد عاد . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وما وافد عاد " . قال فقلت على الخبير سقطت ان عادا لما اقحطت بعثت قيلا فنزل على بكر بن معاوية فسقاه الخمر وغنته الجرادتان ثم خرج يريد جبال مهرة فقال اللهم اني لم اتك لمريض فاداويه ولا لاسير فافاديه فاسق عبدك ما كنت مسقيه واسق معه بكر بن معاوية . يشكر له الخمر الذي سقاه فرفع له سحابات فقيل له اختر احداهن فاختار السوداء منهن فقيل له خذها رمادا رمددا لا تذر من عاد احدا وذكر انه لم يرسل عليهم من الريح الا قدر هذه الحلقة يعني حلقة الخاتم . ثم قرا : (اذ ارسلنا عليهم الريح العقيم * ما تذر من شيء اتت عليه الا جعلته كالرميم ) الاية . قال ابو عيسى وقد روى غير واحد هذا الحديث عن سلام ابي المنذر عن عاصم بن ابي النجود عن ابي وايل عن الحارث بن حسان ويقال له الحارث بن يزيد
। আল-হারিস ইবনু ইয়াযীদ আল-বাকরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাদীনায় পৌছে আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম যে, তা লোকে পরিপূর্ণ। আর কালো পতাকাগুলো আওয়াজ সৃষ্টি করে উড়ছে এবং বিলাল (রাযিঃ) তার গলায় তরবারি ঝুলিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে উপস্থিত। আমি প্রশ্ন করলাম, এতো লোকজন জড়ো হওয়ার কারণ কি? তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আস (রাযিঃ)-কে জিহাদের লক্ষ্যে কোথাও পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তারপর বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহর হাদীসের ন্যায় দীর্ঘ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, আল-হারিস ইবনু ইয়াযীদ আল-বাকরীকে আল-হারিস ইবনু ইবনু হাসসানও বলা হয়।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا زيد بن حباب، حدثنا سلام بن سليمان النحوي ابو المنذر، حدثنا عاصم بن ابي النجود، عن ابي وايل، عن الحارث بن يزيد البكري، قال قدمت المدينة فدخلت المسجد فاذا هو غاص بالناس واذا رايات سود تخفق واذا بلال متقلد السيف بين يدى رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت ما شان الناس قالوا يريد ان يبعث عمرو بن العاص وجها فذكر الحديث بطوله نحوا من حديث سفيان بن عيينة بمعناه . قال ويقال له الحارث بن حسان ايضا
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নক্ষত্রের অস্তগমন” (সূরাঃ আত-তুর- ৪০) অর্থ ফজরের ফরয নামাযের আগেকার দুই রাকাআত এবং “নামাযের পর” (সূরাঃ কাফ- ৪০) অর্থ মাগরিবের ফরযের পর দুই রাকাআত সুন্নাত নামায। যঈফ, যঈফা (২১৭৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে রিশদীন ইবনু কুরাইব (রহঃ) সূত্রে এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট মুহাম্মাদ ও রিশদীন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম যে, তাদের মধ্যে কে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বলেনঃ তারা দু’জনই সমান, তবে আমার নিকট মুহাম্মাদ শ্রেষ্ঠ। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানের নিকট আমি একথাটি জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ তারা উভয়ে সমান, তবে আমার মতে রিশদীন উল্লেখযোগ্য। রিশদীন ইবনু আব্বাসের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
حدثنا ابو هشام الرفاعي، حدثنا محمد بن فضيل، عن رشدين بن كريب، عن ابيه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ادبار النجوم الركعتان قبل الفجر وادبار السجود الركعتان بعد المغرب " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه من حديث محمد بن فضيل عن رشدين بن كريب . قال ابو عيسى وسالت محمد بن اسماعيل عن محمد ورشدين ابنى كريب ايهما اوثق قال ما اقربهما ومحمد عندي ارجح . قال وسالت عبد الله بن عبد الرحمن عن هذا فقال ما اقربهما عندي ورشدين بن كريب ارجحهما عندي . قال والقول عندي ما قال ابو محمد ورشدين ارجح من محمد واقدم وقد ادرك رشدين ابن عباس وراه
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মি'রাজের রাতে) যখন সিদরাতুল মুন্তাহায় পৌছালেন। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা হল একটি কেন্দ্র যেই পর্যন্ত পৃথিবীর যা কিছু উপরে চলে যায় এবং যেখান হতে নিচের দিকে কোন কিছু অবতরণ হয়ে আসে। এখানে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন তিনটি জিনিস উপহার দেন যা তিনি ইতোপূর্বে কোন নবীকেই দেননি। পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার উপর ফরয করা হয়, সূরা আল বকারার শেষের কয়েকটি আয়াত তাকে দেয়া হয় এবং তাঁর উম্মাতের কাবীরাহ গুনাহসমূহ (তাওবার মাধ্যমে) ক্ষমা করা হয়, যদি তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন কিছু অংশীদার না করে থাকে। তারপর এ আয়াতটি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) পাঠ করেনঃ (অনুবাদ) “যখন কুলগাছটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার তা দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল"- (সূরা নাজম ১৬)। তিনি বলেন, ৬ষ্ঠ আকাশে সিদরাতুল মুন্তাহা অবস্থিত। সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, এটি সোনার পাখিসমূহ দ্বারা আচ্ছাদিত, এই বলে তিনি তাঁর হাতের ইশারায় তাদের উড়ন্ত অবস্থা বুঝালেন। মালিক ইবনু মিগওয়াল ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত পৌছালে সৃষ্টির জ্ঞান শেষ হয়ে যায়, এর ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কে সৃষ্টির কোন জ্ঞান নেই। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ১/১০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مالك بن مغول، عن طلحة بن مصرف، عن مرة، عن عبد الله، قال لما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم سدرة المنتهى قال " انتهى اليها ما يعرج من الارض وما ينزل من فوق . قال فاعطاه الله عندها ثلاثا لم يعطهن نبيا كان قبله فرضت عليه الصلاة خمسا واعطي خواتم سورة البقرة وغفر لامته المقحمات ما لم يشركوا بالله شييا " . قال ابن مسعود : ( اذ يغشى السدرة ما يغشى ) قال السدرة في السماء السادسة . قال سفيان فراش من ذهب واشار سفيان بيده فارعدها وقال غير مالك بن مغول اليها ينتهي علم الخلق لا علم لهم بما فوق ذلك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আশ-শায়বানী (রহঃ) বলেন, আমি যির ইবনু হুবাইশ (রাযিঃ)-এর নিকট আল্লাহ তা'আলার বাণী “তারপর তাদের মাঝে দুই ধনুক অথবা তারও কম পার্থক্য থাকল”— (সূরা নাজম ৯) প্রসঙ্গে জানতে চাইলাম। তিনি বলেন, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছেন এবং তার ছয়শ ডানা ছিল। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ গারীব হাদীস।
اخبرنا احمد بن منيع، حدثنا عباد بن العوام، حدثنا الشيباني، قال سالت زر بن حبيش عن قوله : (فكان قاب قوسين او ادنى ) فقال اخبرني ابن مسعود، ان النبي صلى الله عليه وسلم راى جبريل وله ستماية جناح . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح
। আশ-শাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরাফাতের মায়দানে কা'ব (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে একটি কথা (আল্লাহ তা'আলার দেখা প্রসঙ্গে) জিজ্ঞেস করেন। এতে তিনি এত উচ্চ স্বরে তাকবীর ধ্বনি দিলেন যে, পাহাড় পর্যন্ত উচ্চ গম্ভীর আওয়াজ করে উঠল (প্রতিশব্দ ভেসে এলো)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমরা হাশিম গোত্রীয়। কাব (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার দীদার (দর্শন) ও কালাম (সরাসরি সংলাপ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মূসা আলাইহিস সালামের মাঝে বাটোয়ারা করেছেন। সুতরাং মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার সাথে দু’বার কথা বলেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার তার দেখা পেয়েছেন। মাসরূক (রহঃ) বলেনঃ এ কথা শুনে আমি আইশা (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আল্লাহ তা'আলাকে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তুমি এমন একটি বিষয়ে কথা বললে যার ফলে আমার শরীরের লোম পর্যন্ত খাড়া হয়ে গেছে। আমি বললাম, একটু অপেক্ষা করুন। তারপর আমি এ আয়াত তিলাওয়াত করলামঃ “তিনি তো স্বীয় রবের মহান নিদর্শনসমূহ দৰ্শন করেছেন। (সূরাঃ আন-নাজম- ১৮)। তিনি বললেনঃ তোমার বুদ্ধি তোমাকে কোথায় নিয়ে গেছে। তিনি হলেন জিবরীল (যাকে তিনি দেখেছেন)। যে ব্যক্তি তোমাকে বলেছে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রবকে দেখেছেন বা এমন কোন বিষয় তিনি লুকায়িত করেছেন যার (প্রচারের) হুকুম তাকে দেয়া হয়েছে অথবা সেই পাঁচটি বিষয়ে তার জ্ঞান আছে, যে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “কিয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহ তা'আলার নিকট আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন.... ” (সূরাঃ লুকমান- ৩৪), তাহলে সে একটি সাংঘাতিক অসত্য রটনা করেছে। বরং তিনি জিবরীল (আঃ)-কে তার আসল চেহারায় দু’বার দেখেছেনঃ একবার সিদরাতুল মুন্তাহার সামনে, আর একবার জিয়াদ নামক জায়গায় (মক্কার একটি জায়গা)। তার ছয় শত ডানা আকাশের দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল। সনদ দুর্বল, হাদীসটি কা'ব ইবনু আব্বাসের ঘটনা ব্যতীত নাসাঈ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, দাউদ ইবনু আবূ হিন্দ (রহঃ) শাবী হতে তিনি মাসরুক হতে তিনি আইশা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। দাউদের রিওয়ায়াত মুজালিদের রিওয়ায়াতের তুলনায় সংক্ষিপ্ততর।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مجالد، عن الشعبي، قال لقي ابن عباس كعبا بعرفة فساله عن شيء، فكبر حتى جاوبته الجبال فقال ابن عباس انا بنو هاشم . فقال كعب ان الله قسم رويته وكلامه بين محمد وموسى فكلم موسى مرتين وراه محمد مرتين . قال مسروق فدخلت على عايشة فقلت هل راى محمد ربه فقالت لقد تكلمت بشيء قف له شعري قلت رويدا ثم قرات : (لقد راى من ايات ربه الكبرى ) قالت اين يذهب بك انما هو جبريل من اخبرك ان محمدا راى ربه او كتم شييا مما امر به او يعلم الخمس التي قال الله تعالى : ( ان الله عنده علم الساعة وينزل الغيث ) فقد اعظم الفرية ولكنه راى جبريل لم يره في صورته الا مرتين مرة عند سدرة المنتهى ومرة في جياد له ستماية جناح قد سد الافق . قال ابو عيسى وقد روى داود بن ابي هند عن الشعبي عن مسروق عن عايشة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا الحديث وحديث داود اقصر من حديث مجالد
ইকরিমা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রবকে দেখেছেন। আমি বললাম, আল্লাহ কি বলেননি যে, “চোখের দৃষ্টি তাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, কিন্তু তিনি পরিবেষ্টন করেন সকল দৃষ্টি" (সূরাঃ আল-আনআম- ১০৩)? তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! তা তো সেই অবস্থায় যখন তিনি তার সত্তাগত নূরে আলোকিত হবেন। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দু’বার দেখেছেন। যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ (১৯০/৪৩৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن عمرو بن نبهان بن صفوان البصري الثقفي، حدثنا يحيى بن كثير العنبري ابو غسان، حدثنا سلم بن جعفر، عن الحكم بن ابان، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال راى محمد ربه . قلت اليس الله يقول : ( لا تدركه الابصار وهو يدرك الابصار ) قال ويحك ذاك اذا تجلى بنوره الذي هو نوره وقد راى محمد ربه مرتين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তিনি নিশ্চয়ই তাকে নিকটবর্তী কুল গাছের কাছে প্রত্যক্ষ করেছেন"- (সূরা নাজম ১৩-১৪)। "আল্লাহ তা'আলা তখন তার বান্দার জন্য যা ওয়াহী করার তা ওয়াহী করলেন"- (সূরা নাজম ১০) এবং “ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুক পরিমাণ বা তারও কম পার্থক্য রইল"- (সূরা নাজমঃ ৯)। আয়াতসমূহ প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। হাসান সহীহঃ আযযিলাল (হাঃ ১৯১, ৪৩৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান হাদীস।
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد الاموي، حدثنا ابي، حدثنا محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابن عباس، في قول الله ( ولقد راه نزلة * اخرى عند سدرة المنتهى ) ( فاوحى الى عبده ما اوحى ) (فكان قاب قوسين او ادنى ) . قال ابن عباس قد راه النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “তিনি যা দেখেছেন, তার মন তা অস্বীকার করতে পারেনি"- (সূরা নাজম ১১) তিনি এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলাকে তার অন্তরের চোখ দ্বারা প্রত্যক্ষ করেছেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান হাদীস।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، وابن ابي رزمة، وابو نعيم عن اسراييل، عن سماك، عن عكرمة، عن ابن عباس ( ما كذب الفواد ما راى ) قال راه بقلبه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূ যার (রাযিঃ)-কে বললাম, যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা পেতাম তাহলে একটি বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতাম। তিনি বললেন, তুমি তাকে কি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে? আমি বললাম, আমি প্রশ্ন করতাম যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রবকে দেখেছেন কি? আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, আমি তাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেন যে, তিনি (আল্লাহ তা'আলা) হলেন নূর, তাকে আমি কিভাবে দেখতে পারি! সহীহঃ প্রাগুক্ত (১৯২-৪৪১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান হাদীস।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، ويزيد بن هارون، عن يزيد بن ابراهيم التستري، عن قتادة، عن عبد الله بن شقيق، قال قلت لابي ذر لو ادركت النبي صلى الله عليه وسلم فسالته . فقال عما كنت تساله قلت كنت اساله هل راى محمد ربه فقال قد سالته فقال " نور انى اراه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “তিনি যা প্রত্যক্ষ করেছেন, তার মন তা অস্বীকার করেনি"- (সূরা নাজমঃ ১১); এ আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে রেশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। তিনি আকাশ ও মাটির মধ্যে অবস্থিত জায়গা পূর্ণ করে রেখেছিলেন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৫৮) সংক্ষেপিত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، وابن ابي رزمة، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن عبد الرحمن بن يزيد، عن عبد الله (ما كذب الفواد ما راى ) قال راى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل في حلة من رفرف قد ملا ما بين السماء والارض . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তারা ছোটখাট অন্যায় করলেও গুরুতর পাপ ও খারাপ কাজ হতে বিরত থাকে"- (সূরা নাজম ৩২) এ আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি আপনি মাফই করেন তাহলে সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিন, আর আপনার এমন কোন বান্দা কি আছে যে অন্যায় করেনি। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৩৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র যাকারিয়া ইবনু ইসহাকের সনদে অবহিত হয়েছি।
حدثنا احمد بن عثمان ابو عثمان البصري، حدثنا ابو عاصم، عن زكريا بن اسحاق، عن عمرو بن دينار، عن عطاء، عن ابن عباس : (الذين يجتنبون كباير الاثم والفواحش الا اللمم ) قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان تغفر اللهم تغفر جما واى عبد لك لا الما " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث زكريا بن اسحاق
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিনায় অবস্থানরত ছিলাম। সে সময় হঠাৎ চাঁদ বিদীর্ণ হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। এর একটি অংশ পাহাড়ের পিছন দিকে এবং অন্য অংশ পাহাড়ের সম্মুখে পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমরা প্রত্যক্ষ কর এবং সাক্ষী থাকঃ “কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে"- (সূরা কামার ১)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا علي بن مسهر، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن ابي معمر، عن ابن مسعود، رضي الله عنه قال بينما نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنى فانشق القمر فلقتين فلقة من وراء الجبل وفلقة دونه فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم " اشهدوا " . يعني : (اقتربت الساعة وانشق القمر ) قال هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন মাক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি নিদর্শন পেশ করার দাবি করল, সে সময় মক্কাতে চাঁদটি দুইবার বিদীর্ণ হয়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। তারা কোন মু'জিযা (নিদর্শন) প্রত্যক্ষ করলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত যাদু”— (সূরা কুমার ১-২) যা এ মুহুর্তে শেষ হয়ে যাবে। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৩৬৩৭, ৪৮৬৭, ৪৮৬৮), মুসলিম (হাঃ ৮/১৩৩); তবে এতে “নাযালাত” (অতঃপর নাযিল হল) শব্দের উল্লেখ নেই। বুখারীর বর্ণনায় “মাররাতাইন” (দুইবার)-এর স্থলে “ফিরকাতাইন" (দুই টুকরা) শব্দের উল্লেখ আছে। "মাররাতাইন” (দুইবার) শব্দ মুসলিমের বর্ণনায় আছে। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن قتادة، عن انس، قال سال اهل مكة النبي صلى الله عليه وسلم اية فانشق القمر بمكة مرتين فنزلت : (اقتربت الساعة وانشق القمر ) الى قوله : (سحر مستمر ) يقول ذاهب . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح