Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ বিদীর্ণ হয়। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، عن ابي معمر، عن ابن مسعود، قال انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لنا النبي صلى الله عليه وسلم " اشهدوا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ বিদীর্ণ হল। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক। সহীহঃ মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن الاعمش، عن مجاهد، عن ابن عمر، قال انفلق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اشهدوا " . قال هذا حديث حسن صحيح
। জুবাইর ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ বিদীর্ণ হল এবং দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলে, এক অংশ এই পাহাড়ের উপর এবং অপর অংশ ঐ পাহাড়ের উপর পড়ে গেল। তারা (মাক্কাবাসী কাফিররা) বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যাদু করেছেন। কেউ কেউ বলল, তিনি আমাদের যাদু করে থাকলে সব মানুষকে যাদু করতে পারবেন না। হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, কোন কোন বর্ণনাকারী এ হাদীস হুসাইন হতে, তিনি জুবাইর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর ইবনু মুতাইম হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা জুবাইর ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) হতে, এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا محمد بن كثير، حدثنا سليمان بن كثير، عن حصين، عن محمد بن جبير بن مطعم، عن ابيه، قال انشق القمر على عهد النبي صلى الله عليه وسلم حتى صار فرقتين على هذا الجبل وعلى هذا الجبل فقالوا سحرنا محمد فقال بعضهم لين كان سحرنا ما يستطيع ان يسحر الناس كلهم . قال ابو عيسى وقد روى بعضهم هذا الحديث عن حصين عن جبير بن محمد بن جبير بن مطعم عن ابيه عن جده جبير بن مطعم نحوه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন কুরাইশ মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে। তারা ভাগ্য প্রসঙ্গে বাদানুবাদ করছিল। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) "যেদিন তাদেরকে উপুর করে জাহান্নামের দিকে টেনে নিযে যাওয়া হবে (আর বলা হবে), জাহান্নামের যন্ত্রণার স্বাদ গ্রহণ কর। প্রতিটি জিনিস আমরা নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছি"- (সূরা কামার ৪৮-৪৯)। সহীহ, ইবনু মাজাহ (হাঃ ৮৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، وابو بكر بندار قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، عن زياد بن اسماعيل، عن محمد بن عباد بن جعفر المخزومي، عن ابي هريرة، قال جاء مشركو قريش يخاصمون النبي صلى الله عليه وسلم في القدر فنزلت : ( يوم يسحبون في النار على وجوههم ذوقوا مس سقر * انا كل شيء خلقناه بقدر ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের উদ্দেশে বের হলেন। তিনি তাদের সম্মুখে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সূরা আর-রহমান পাঠ করলেন কিন্তু তারা নিশ্চুপ রইলেন। তিনি বলেনঃ এ সূরাটি আমি জিনদের সঙ্গে সাক্ষাতের রাতে তাদের সম্মুখে পাঠ করেছি। তোমাদের তুলনায় তারা ভাল উত্তর দিয়েছে। যখনই আমি তিলাওয়াত করছি, “তোমরা জিন ও মানুষ নিজেদের প্রভুর কোন নিয়ামাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে" তখনই তারা বলেছে, “হে আমাদের রব! আমরা আপনার কোন নি’আমাতই অস্বীকার করছি না, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা"। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ২১৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ-এর সূত্রে জেনেছি। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, যে যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ সিরিয়া চলে গেছেন তিনি সে লোক নন যার মাধ্যমে ইরাকবাসী হাদীস রিওয়ায়াত করেন। মনে হয় তিনি স্বতন্ত্র লোক, লোকজন তার নামে বিভ্রাট করেছে, তার হতে লোকেরা মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, সিরিয়াবাসী যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ হতে মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করেন এবং ইরাকবাসী তার মাধ্যমে সহীহ হাদীসের পর্যায়ের হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
حدثنا عبد الرحمن بن واقد ابو مسلم السعدي، حدثنا الوليد بن مسلم، عن زهير بن محمد، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، رضى الله عنه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على اصحابه فقرا عليهم سورة الرحمن من اولها الى اخرها فسكتوا فقال " لقد قراتها على الجن ليلة الجن فكانوا احسن مردودا منكم كنت كلما اتيت على قوله : ( فباى الاء ربكما تكذبان ) قالوا لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث الوليد بن مسلم عن زهير بن محمد . قال احمد بن حنبل كان زهير بن محمد الذي وقع بالشام ليس هو الذي يروى عنه بالعراق كانه رجل اخر قلبوا اسمه يعني لما يروون عنه من المناكير . وسمعت محمد بن اسماعيل البخاري يقول اهل الشام يروون عن زهير بن محمد مناكير واهل العراق يروون عنه احاديث مقاربة
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহঃ বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার নেক বান্দাদের জন্য আমি এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চোখ কখনও প্রত্যক্ষ করেনি, কোন কান কখনও (তার বর্ণনা) শ্রবণ করেনি এবং মানুষের মন তার ধারণাও করতে পারে না। এ আয়াতটি তোমরা ইচ্ছা করলে পাঠ করতে পার (অনুবাদ) “তাদের জন্য নয়নমুগ্ধকর কি জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তা সবারই অজানা"- (সূরা সিজদা ১৭)। আর জান্নাতে এরূপ একটি গাছ আছে যার ছায়াতলে কোন আরোহী এক শত বছর চলতে থাকবে কিন্তু তা পার হতে পারবে না। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “আর সম্প্রসারিত ছায়া”— (সূরা ওয়াকি'আহ ৩০)। জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও তার মাঝখানে সব কিছুর চাইতে উত্তম। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “জাহান্নাম হতে যাকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয়” (সূরা ইমরান ১৮৫)। হাসান সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১৯৭৮), বুখারী "ইকরাউ” (তোমরা পাঠ কর) শব্দ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، حدثنا عبدة بن سليمان، وعبد الرحيم بن سليمان، عن محمد بن عمرو، حدثنا ابو سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يقول الله اعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رات ولا اذن سمعت ولا خطر على قلب بشر واقرءوا ان شيتم : ( فلا تعلم نفس ما اخفي لهم من قرة اعين جزاء بما كانوا يعملون ) وفي الجنة شجرة يسير الراكب في ظلها ماية عام لا يقطعها واقرءوا ان شيتم : ( وظل ممدود ) وموضع سوط في الجنة خير من الدنيا وما فيها واقرءوا ان شيتم : ( فمن زحزح عن النار وادخل الجنة فقد فاز وما الحياة الدنيا الا متاع الغرور ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে কোন আরোহী যার ছায়াতলে শত বছর ধরে চলতে থাকলেও তা অতিক্রম করতে পারবে না। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারঃ “সম্প্রসারিত ছায়া ও প্রবাহিত পানি”— (সূরা ওয়াকি’আহ ৩০-৩১) সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৮১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস উদ্ধৃত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة لشجرة يسير الراكب في ظلها ماية عام لا يقطعها وان شيتم فاقرءوا : ( وظل ممدود * وماء مسكوب ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن ابي سعيد
। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী “উচু উঁচু বিছানা” (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ- ৩৪) প্রসঙ্গে বলেনঃ এই বিছানার উচ্চতা আসমান-যমীনের মাঝের উচ্চতার সমান এবং এতদুভয়ের মাঝের দূরত্ব পাঁচ শত বছর চলার রাস্তার সমান। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (৪/২৬২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু রিশদীনের রিওয়ায়াত হিসাবে-এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا ابو كريب، حدثنا رشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد الخدري، رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : ( وفرش مرفوعة ) قال " ارتفاعها كما بين السماء والارض ومسيرة ما بينهما خمسماية عام " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث رشدين . وقال بعض اهل العلم وارتفاعها كما بين السماء والارض . قال ارتفاع الفرش المرفوعة في الدرجات والدرجات ما بين كل درجتين كما بين السماء والارض
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এ বাণীঃ “আর তোমরা মিথ্যা বলাকে তোমাদের উপজীব্য করে নিয়েছ" (সূরাঃ আল-ওয়াকিয়াহ- ৮২) প্রসঙ্গে বলেনঃ তোমাদের কৃতজ্ঞতা হল এই যে, তোমরা বলে থাকঃ অমুক অমুক তারকার উসীলায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইসরাঈলের সূত্রেই এ হাদীসটি মারফুরূপে জেনেছি। সুফিয়ান এ হাদীস আবদুল আলী হতে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফু হিসেবে নয়।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا الحسين بن محمد، حدثنا اسراييل، عن عبد الاعلى، عن ابي عبد الرحمن، عن علي، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " : (اتجعلون رزقكم انكم تكذبون ) قال شكركم تقولون مطرنا بنوء كذا وكذا وبنجم كذا وكذا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح لا نعرفه مرفوعا الا من حديث اسراييل . ورواه سفيان الثوري عن عبد الاعلى، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي، نحوه ولم يرفعه . حدثنا بذلك، محمد بن بشار حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان،
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী, “আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি" (সূরাঃ আল-ওয়াকিয়াহ-৩৫) প্রসঙ্গে বলেনঃ যে সব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানি পড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন তারা (জান্নাতে) বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু মূসা ইবনু উবাইদার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি। মূসা ইবনু উবাইদা ও ইয়াযীদ ইবনু আবান আর-রাকাশী উভয়ে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে সমালোচিত।
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث الخزاعي المروزي، حدثنا وكيع، عن موسى بن عبيدة، عن يزيد بن ابان، عن انس، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (انا انشاناهن انشاء ) قال " ان من المنشات اللايي كن في الدنيا عجايز عمشا رمصا " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث موسى بن عبيدة وموسى بن عبيدة ويزيد بن ابان الرقاشي يضعفان في الحديث
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি জবাবে বলেনঃ সূরা হুদ, ওয়াকি'আহ, ওয়াল মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসাআলুন ও ওয়াইযাশ-শামসু কুববিরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৯৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্ত সূত্রে অবগত হয়েছি। এ হাদীস আলী ইবনু সালিহ (রহঃ) আবূ ইসহাকু হতে, তিনি আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীসের অংশবিশেষ আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ মাঈসারাহ হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণিত আছে। আর আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ আবূ ইসহাকু হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে শাইবানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ সনদে ইবনু "আব্বাস-এর উল্লেখ নেই।
حدثنا ابو كريب، حدثنا معاوية بن هشام، عن شيبان، عن ابي اسحاق، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قال ابو بكر رضى الله عنه يا رسول الله قد شبت . قال " شيبتني هود والواقعة والمرسلات و عم يتساءلون واذا الشمس كورت " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه من حديث ابن عباس الا من هذا الوجه . وروى علي بن صالح هذا الحديث عن ابي اسحاق عن ابي جحيفة نحو هذا . وروي عن ابي اسحاق عن ابي ميسرة شيء من هذا مرسلا . وروى ابو بكر بن عياش، عن ابي اسحاق، عن عكرمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث شيبان عن ابي اسحاق ولم يذكر فيه عن ابن عباس حدثنا بذلك هاشم بن الوليد الهروي حدثنا ابو بكر بن عياش
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ এক সাথে বসা ছিলেন। হঠাৎ তাদের উপর মেঘরাশি প্রকাশিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রশ্ন করেনঃ তোমরা জান এটা কি? তারা বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা হল যমিনের পানিবাহী উট। আল্লাহ তা'আলা একে এমন জাতির দিকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যারা তার কৃতজ্ঞতাও আদায় করে না এবং তার কাছে মুনাজাতও করে না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের উপরে কি আছে তা জান? তারা বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন।তিনি বলেনঃ এটা হল সুউচ্চ আকাশ, সুরক্ষিত ছাদ এবং আটকানো তরঙ্গ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের এবং এর মাঝে কতটুকু ব্যবধান তা তোমাদের জানা আছে কি? তারা বললেন, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের ও এর মাঝে পাঁচ শত বছরের পথের ব্যবধান। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এর উপরে কি আছে তা তোমরা জান কি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এর উপরে দুইটি আকাশ আছে যার মাঝে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব, এমনকি তিনি সাতটি আকাশ গণনা করেন এবং বলেনঃ প্রতি দুটি আকাশের মাঝে পার্থক্য আকাশ ও যমিনের ব্যবধানের সমপরিমাণ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এর উপরে কি আছে তা কি তোমরা জান? তারা বললেন আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এগুলোর উপরে আছে (আল্লাহর) আরশ। আরশ ও আকাশের মাঝের পার্থক্য দুই আকাশের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা কি জান তোমাদের নিচে কি আছে? তারা বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ উহা হল যমিন, তারপর আবার বললেন, তোমরা কি জান এর নিচে কি আছে? তারা বলল আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এর নিচে আরো এক ধাপ যমিন আছে এবং এতদুভয়ের মধ্যে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব। তারপর সাত স্তর যমিন গুণে বলেনঃ প্রতি দুই স্তরের মাঝে পাঁচ শত বছরের দূরত্ব বর্তমান। তিনি আবার বললেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা যদি একটি রশি নিম্নতম যমিনের দিকে ছেড়ে দাও তাহলে তা আল্লাহ তা'আলা পর্যন্ত গিয়ে পৌছবে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গুপ্ত। তিনিই সর্ববিষয়ে সর্বশেষ পরিজ্ঞাত" (সূরাঃ আল-হাদীদ- ৩) যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ, (৫৭৮) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আইউব, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেন, আল-হাসান আল-বাসরী (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সরাসরি কিছু শুনেননি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম উক্ত হাদীসের (আল্লাহ পর্যন্ত পৌছে) ব্যাখ্যায় বলেনঃ উক্ত রশি আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান, তার নিদর্শনাবলী ও তার সার্বভৌম ক্ষমতা সর্বত্র বিস্তৃত। তিনি তার আরশে উপবিষ্ট, যেমন তিনি তার পাক কালামে বলেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، وغير، واحد، - المعنى واحد قالوا حدثنا يونس بن محمد، حدثنا شيبان بن عبد الرحمن، عن قتادة، حدثنا الحسن، عن ابي هريرة، قال بينما نبي الله صلى الله عليه وسلم جالس واصحابه اذ اتى عليهم سحاب فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم " هل تدرون ما هذا " . فقالوا الله ورسوله اعلم . قال " هذا العنان هذه روايا الارض يسوقه الله تبارك وتعالى الى قوم لا يشكرونه ولا يدعونه " . ثم قال " هل تدرون ما فوقكم " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " فانها الرقيع سقف محفوظ وموج مكفوف " . ثم قال " هل تدرون كم بينكم وبينها " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " بينكم وبينها مسيرة خمسماية سنة " . ثم قال " هل تدرون ما فوق ذلك " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " فان فوق ذلك سماءين وما بينهما مسيرة خمسماية عام " . حتى عد سبع سموات ما بين كل سماءين كما بين السماء والارض . ثم قال " هل تدرون ما فوق ذلك " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " فان فوق ذلك العرش وبينه وبين السماء بعد ما بين السماءين " . ثم قال " هل تدرون ما الذي تحتكم " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " فانها الارض " . ثم قال " هل تدرون ما الذي تحت ذلك " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " فان تحتها الارض الاخرى بينهما مسيرة خمسماية سنة " . حتى عد سبع ارضين بين كل ارضين مسيرة خمسماية سنة ثم قال " والذي نفس محمد بيده لو انكم دليتم رجلا بحبل الى الارض السفلى لهبط على الله " . ثم قرا ( هو الاول والاخر والظاهر والباطن وهو بكل شيء عليم ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه . قال ويروى عن ايوب ويونس بن عبيد وعلي بن زيد قالوا لم يسمع الحسن من ابي هريرة . وفسر بعض اهل العلم هذا الحديث فقالوا انما هبط على علم الله وقدرته وسلطانه . علم الله وقدرته وسلطانه في كل مكان وهو على العرش كما وصف في كتابه
। সালামাহ ইবনু সাখর আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ, যাকে এত যৌনশক্তি দেয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। রমাযান মাস এলে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যিহার করি, যাতে রমাযান মাসটা অতিক্রম হয়ে যায় এবং রাতে সহবাসের আশংকা হতে বেঁচে থাকতে পারি। একই ধারাবাহিকতায় আমার দিনগুলো (সঙ্গমহীন) অতিক্রম হবে এবং তাকে আমি ত্যাগও করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন সে রাতের বেলা আমার সেবা করছিল, হঠাৎ তার কোন জিনিস আমার সম্মুখে উম্মুক্ত হয়ে গেলে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ি (সঙ্গম করি)। সকালে উপনিত হয়ে আমি আমার গোত্রের লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার বিষয়টি জানাই। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে চলো এবং আমার বিষয়টি তাকে জানাই। তারা বলল, না আল্লাহর কসম! আমরা তা করতে অপারগ। আমাদের মনে হচ্ছে যে, আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হবে কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করবেন আমাদের জন্য যা লজ্জার বিষয় হয়ে থাকবে। বরং তুমি একাই যাও এবং যা তোমার’ উপর্যুক্ত মনে হয় তাই কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং তাকে আমার বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ। আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি আবার বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। আমি উপস্থিত। অতএব আল্লাহর বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তিনি বললেনঃ একটি দাসী মুক্ত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার ঘাড়ের উপরাংশে আমার হাত দিয়ে আঘাত করে বললাম, না সেই সত্তার কসম, আপনাকে যিনি সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে ছাড়া আমি আর কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে বিপদ আমার উপর এসেছে তা তো এ রোযার কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাও। আমি বললাম, সেই সত্তার কসম, আপনাকে সত্যসহ যিনি পাঠিয়েছেন। আজ রাতে আমরাই অভুক্ত ছিলাম, আমাদের কাছে রাতের খাবার ছিল না। তিনি বললেনঃ যে লোক যুরাইক গোত্রের যাকাত আদায় করে, তার কাছে তুমি যাও এবং তাকে বল, তাহলে তোমাকে সে কিছু দিবে। তার এক ওয়াসাক এর মাধ্যমে তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে এবং বাকি যা থাকে তা তুমি ও তোমার পরিজনের জন্য খরচ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমি আমার গোত্রের কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং তাদেরকে বললাম, তোমাদের কাছে আমি পেয়েছি সংকীর্ণতা ও কুপরামর্শ, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেয়েছি প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য। তিনি তোমাদের যাকাত আমাকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব তা আমার কাছে তোমরা অর্পণ কর। অতএব তারা আমার কাছে তা অর্পণ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২০৬২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ বলেন, আমার মতে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার সালামাহ্ ইবনু সাখর-এর কোন বর্ণনা শুনেননি। তিনি আরো বলেন, তার নাম সালামাহ ইবনু সাখর, তবে সালমান ইবনু সাখর নামেও পরিচিত। এ অনুচ্ছেদে সালাবাহ (রাযিঃ)-এর কন্যা ও আওস ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর সহধর্মিণী খাওলাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রাসূলের সাথে চুপি চুপি কথা বলার ইচ্ছা করলে তার পূর্বে সদাকা দেবে" (সূরাঃ আল-মুজাদালাহ-১২), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এক দীনার নিদ্ধারণের ব্যাপারে তোমার কি মত? আমি বললাম, লোকদের সামর্থে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে অর্ধ দীনার? আমি বললাম, তাও তাদের সামর্থে কুলাবে না। তিনি বললেনঃ তাহলে কত নিৰ্দ্ধারণ করা যায়? আমি বললাম, এক বালির দানা পরিমাণ (সোনা)। তিনি বললেনঃ তুমি খুব কম নিৰ্দ্ধারণকারী। রাবী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার পূর্বে সদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর” (সূরাঃ আল-মুজাদালাহ- ১৩)? আলী (রাঃ) বলেন, আমার কারণে আল্লাহ তা'আলা এই উন্মাতের জন্য বিধানটি হালকা (বাতিল) করেন। সনদ দুর্বল
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا يحيى بن ادم، حدثنا عبيد الله الاشجعي، عن الثوري، عن عثمان بن المغيرة الثقفي، عن سالم بن ابي الجعد، عن علي بن علقمة الانماري، عن علي بن ابي طالب، قال لما نزلت : (يا ايها الذين امنوا اذا ناجيتم الرسول فقدموا بين يدى نجواكم صدقة ) . قال لي النبي صلى الله عليه وسلم " ما ترى دينارا " . قلت لا يطيقونه . قال " فنصف دينار " . قلت لا يطيقونه . قال " فكم " . قلت شعيرة . قال " انك لزهيد " . قال فنزلت : (ااشفقتم ان تقدموا بين يدى نجواكم صدقات ) الاية . قال فبي خفف الله عن هذه الامة . قال هذا حديث حسن غريب انما نعرفه من هذا الوجه . ومعنى قوله شعيرة يعني وزن شعيرة من ذهب وابو الجعد اسمه رافع
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণের কাছে এসে বলল, “আস-সামু আলাইকুম” (তোমাদের মরণ হোক)। লোকেরা তার উত্তর দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কী বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ? তারা বলেন, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল ভালো জানেন। হে আল্লাহর নবী! সে সালাম দিয়েছে। তিনি বললেনঃ না, অথচ সে এই এই কথা বলেছে। আমার কাছে তাকে তোমরা ফিরিয়ে নিয়ে আস। অতঃপর তারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছ আস-সামু আলাইকুম? সে বলল, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় বললেনঃ তোমাদেরকে আহলে কিতাবের কেউ সালাম করলে তোমরা বলবে, “আলাইকা মা কুলতা” (যা তুমি বলেছ তোমার উপর তা-ই বর্ষিত হোক)। তারপর এ আয়াত তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ), “যখন এরা তোমার কাছে আসে তখন তোমাকে এরূপ কথা দ্বারা অভিবাদন করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অভিবাদন করেননি"- (সূরা মুজাদালাহ্ ৮)। সহীহঃ ইরওয়া (হাঃ ৫/১১৭), মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس، عن شيبان، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك، ان يهوديا، اتى على النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه فقال السام عليكم فرد عليه القوم فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم " هل تدرون ما قال هذا " . قالوا الله ورسوله اعلم�� سلم يا نبي الله . قال " لا ولكنه قال كذا وكذا ردوه على " . فردوه قال " قلت السام عليكم " . قال نعم . قال نبي الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك " اذا سلم عليكم احد من اهل الكتاب فقولوا عليك " . قال " عليك ما قلت " . قال : (واذا جاءوك حيوك بما لم يحيك به الله ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু নাযীরের আল-বুওয়াইরা নামক খেজুর বাগানটি অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেন এবং কেটে ফেলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং যেগুলো তাদের কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার আদেশানুসারেই এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন"- (সূরা হাশ্বর ৫)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮৪৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن نافع، عن ابن عمر، رضى الله عنهما قال حرق رسول الله صلى الله عليه وسلم نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فانزل الله : (ما قطعتم من لينة او تركتموها قايمة على اصولها فباذن الله وليخزي الفاسقين ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তার কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল-লীনাহ অর্থঃ খেজুর গাছ। “এবং এ কারণে যে, তিনি পাপাচারী ও অন্যায়কারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন" আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থাৎ মুসলিমরা তাদেরকে তাদের দুর্গগুলো হতে বহিষ্কার করে দেয়। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আরো বলেন, যখন তাদেরকে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার আদেশ দেয়া হয় সে সময় তাদের মনে ধারণা (সন্দেহ) হয়। মুসলিমরা বলেন, আমরা কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলেছি এবং কিছু বৃক্ষ বহাল রেখেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা প্রশ্ন করবো যে, যে গাছগুলো আমরা কেটেছি তার কারণে আমাদেরকে সাওয়াব প্রদান করা হবে কি এবং যে বৃক্ষগুলো বহাল রেখেছি তার জন্য আমাদের কোন গুনাহ হবে কি? তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “যে খেজুর গাছগুলো তোমরা কেটেছ এবং তাদের কাণ্ডের উপর যেগুলো স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমেই”- (সূরা হাশূর ৫)। হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাবীব ইবনু আবী আমরাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তার মধ্যে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান-হারূন ইবনু মু'আবিয়াহ হতে, তিনি হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাবীব ইবনু আবী আমরাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আমার কাছে শুনেছেন।
حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا حفص بن غياث، حدثنا حبيب بن ابي عمرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قول الله عز وجل : (ما قطعتم من لينة او تركتموها قايمة على اصولها ) . قال اللينة النخلةيخزي الفاسقين ) قال استنزلوهم من حصونهم قال وامروا بقطع النخل فحك في صدورهم . فقال المسلمون قد قطعنا بعضا وتركنا بعضا فلنسالن رسول الله صلى الله عليه وسلم هل لنا فيما قطعنا من اجر وهل علينا فيما تركنا من وزر فانزل الله تعالى : (ما قطعتم من لينة او تركتموها قايمة على اصولها ) . الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وروى بعضهم، هذا الحديث عن حفص بن غياث، عن حبيب بن ابي عمرة، عن سعيد بن جبير، مرسلا ولم يذكر فيه عن ابن عباس، . حدثني بذلك عبد الله بن عبد الرحمن، حدثنا هارون بن معاوية، عن حفص بن غياث، عن حبيب بن ابي عمرة، عن سعيد بن جبير، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . قال ابو عيسى سمع مني محمد بن اسماعيل هذا الحديث
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক রাতে আনসার লোকের এখানে একজন মেহমান আসে। তার কাছে তার ও তার সন্তানদের খাবার ছাড়া অতিরিক্ত খাবার ছিল না। তার সহধর্মিণীকে তিনি বলেন, বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আলো নিভিয়ে ফেল এবং তোমার কাছে যে খাবার রয়েছে তা মেহমানের সম্মুখে পরিবেশন কর। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “আর নিজেদের উপর অন্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবপীড়িত হয়েও” –(সূরা হাশর ৯)। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৩২৭২), বুখারী ও মুসলিম আরও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن فضيل بن غزوان، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، ان رجلا، من الانصار بات به ضيف فلم يكن عنده الا قوته وقوت صبيانه فقال لامراته نومي الصبية واطفيي السراج وقربي للضيف ما عندك فنزلت هذه الاية : ( ويوثرون على انفسهم ولو كان بهم خصاصة ) هذا حديث حسن صحيح
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূ তলিব-এর পুত্র ‘আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্দাদ ইবনুল আসওয়াদকে (চিঠি উদ্ধারের জন্য) পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে রাওযা খাখ’ নামক জায়গায় পৌছে যাও, সেখানে (মাক্কার লক্ষ্যে) গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা সরাসরি আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই রাওযা খাখ’ নামক জায়গায় গিয়ে পৌছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। আলী (রাযিঃ) বলেন, সে তার চুলের খোপা হতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মাক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনু আবী বালতা'আর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাদের প্রতি কোন রকম উপকার করতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদরের মুজাহিদদের প্রতি উকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি”। আলী (রাযিঃ) বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা আমার শক্র ও তোমাদের শক্রকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি....”। আমর (রহঃ) বলেন, আমি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি'কে দেখেছি। তিনি আলী (রাযিঃ)-এর সচিব ছিলেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৮১), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উমার ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতেও একাধিক বর্ণনাকারী একই অর্থে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তাতে এ কথা রয়েছেঃ “তোমাকে পত্র বের করে দিতে হবে, তা না হলে তোমার বস্ত্র ত্যাগ করতে হবে"। এ হাদীসটি 'আবদুর রাহমান আস-সুলামীর সূত্রে ‘আলী (রাযিঃ) হতে একই রকম বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এ কথাগুলো উল্লেখ করেছেনঃ “তোমাকে অবশ্যই পত্রটি বের করে দিতে হবে, নতুবা তোমাকে আমরা উলঙ্গ করব।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ) “হে নবী! মু'মিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই’আত করে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে কোন শারীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না....."— (সূরা মুমতাহিনাহ ১২)। মামার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাউস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، قالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن الا بالاية التي قال الله : (اذا جاءك المومنات يبايعنك ) الاية . قال معمر فاخبرني ابن طاوس، عن ابيه، قال ما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امراة الا امراة يملكها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
حدثنا عبد بن حميد، والحسن بن علي الحلواني، حدثنا يزيد بن هارون، حدثنا محمد بن اسحاق، عن محمد بن عمرو بن عطاء، عن سليمان بن يسار، عن سلمة بن صخر الانصاري، قال كنت رجلا قد اوتيت من جماع النساء ما لم يوت غيري فلما دخل رمضان تظاهرت من امراتي حتى ينسلخ رمضان فرقا من ان اصيب منها في ليلتي فاتتابع في ذلك الى ان يدركني النهار وانا لا اقدر ان انزع فبينما هي تخدمني ذات ليلة اذ تكشف لي منها شيء فوثبت عليها فلما اصبحت غدوت على قومي فاخبرتهم خبري فقلت انطلقوا معي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره بامري . فقالوا لا والله لا نفعل نتخوف ان ينزل فينا قران او يقول فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقالة يبقى علينا عارها ولكن اذهب انت فاصنع ما بدا لك . قال فخرجت فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته خبري . فقال " انت بذاك " . قلت انا بذاك . قال " انت بذاك " . قلت انا بذاك . قال " انت بذاك " . قلت انا بذاك وها انا ذا فامض في حكم الله فاني صابر لذلك . قال " اعتق رقبة " . قال فضربت صفحة عنقي بيدي فقلت لا والذي بعثك بالحق ما اصبحت املك غيرها . قال " صم شهرين " . قلت يا رسول الله وهل اصابني ما اصابني الا في الصيام . قال " فاطعم ستين مسكينا " . قلت والذي بعثك بالحق لقد بتنا ليلتنا هذه وحشى ما لنا عشاء . قال " اذهب الى صاحب صدقة بني زريق فقل له فليدفعها اليك فاطعم عنك منها وسقا ستين مسكينا ثم استعن بسايره عليك وعلى عيالك " . قال فرجعت الى قومي فقلت وجدت عندكم الضيق وسوء الراى ووجدت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم السعة والبركة امر لي بصدقتكم فادفعوها الى فدفعوها الى . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . قال محمد سليمان بن يسار لم يسمع عندي من سلمة بن صخر . قال ويقال سلمة بن صخر وسلمان بن صخر . وفي الباب عن خولة بنت ثعلبة وهي امراة اوس بن الصامت
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن الحسن بن محمد، هو ابن الحنفية عن عبيد الله بن ابي رافع، قال سمعت علي بن ابي طالب، يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم انا والزبير والمقداد بن الاسود فقال " انطلقوا حتى تاتوا روضة خاخ فان بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها فايتوني به " . فخرجنا تتعادى بنا خيلنا حتى اتينا الروضة فاذا نحن بالظعينة فقلنا اخرجي الكتاب . فقالت ما معي من كتاب . فقلنا لتخرجن الكتاب او لتلقين الثياب . قال فاخرجته من عقاصها . قال فاتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو من حاطب بن ابي بلتعة الى ناس من المشركين بمكة يخبرهم ببعض امر النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما هذا يا حاطب " . قال لا تعجل على يا رسول الله اني كنت امرا ملصقا في قريش ولم اكن من انفسها وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها اهليهم واموالهم بمكة فاحببت اذ فاتني ذلك من نسب فيهم ان اتخذ فيهم يدا يحمون بها قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الاسلام . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " صدق " . فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه دعني يا رسول الله اضرب عنق هذا المنافق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " انه قد شهد بدرا فما يدريك لعل الله اطلع على اهل بدر فقال اعملوا ما شيتم فقد غفرت لكم " . قال وفيه انزلت هذه السورة : (يا ايها الذين امنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم اولياء ) السورة . قال عمرو وقد رايت ابن ابي رافع وكان كاتبا لعلي بن ابي طالب . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفيه عن عمر وجابر بن عبد الله . وروى غير واحد عن سفيان بن عيينة هذا الحديث نحو هذا وذكروا هذا الحرف فقالوا لتخرجن الكتاب او لتلقين الثياب . وقد روي ايضا عن ابي عبد الرحمن السلمي عن علي نحو هذا الحديث . وذكر بعضهم فيه فقال لتخرجن الكتاب او لنجردنك