Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দু'আটাই হল ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ) "তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারবশতঃ আমার ইবাদাত হতে বিমুখ হয়, নিশ্চিত তারা অচিরেই লাঞ্চিত হয় জাহান্নামে যাবে”— (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৮২৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن منصور، والاعمش، عن ذر، عن يسيع الحضرمي، عن النعمان بن بشير، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " الدعاء هو العبادة " . ثم قرا : ( وقال ربكم ادعوني استجب لكم ان الذين يستكبرون عن عبادتي سيدخلون جهنم داخرين ) قال ابو عيسى . هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, তিন লোক কা'বা ঘরের নিকট বিবাদ করে। তাদের দু'জন ছিল কুরাইশ বংশীয় এবং একজন সাকীফ বংশীয় অথবা দু’জন সাকীফ বংশীয় এবং একজন কুরাইশ বংশীয়। তাদের অন্তরে বুদ্ধি ছিল খুব অল্পই কিন্তু তাদের পেট ছিল মেদবহুল। তাদের একজন বলল, তোমাদের কি মনে হয়, আমরা যা বলি তা আল্লাহ তা'আলা শুনেন? দ্বিতীয় লোক বলল, আমরা জোরে বললে শুনেন, আস্তে বললে শোনে না, তৃতীয়জন বলল, আমরা জোরে কিছু বললে যদি তিনি তা শুনেন তাহলে আস্তে বা গোপনে বললেও তা শুনেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ তা'আলা জানেন না”— (সূরা হা-মীম আস্-সিজদাঃ ২২)। সহীহঃ বুখারী (৪৮১৬, ৪৮১৭, ৭৫২১), মুসলিম (৮/১২০-১২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن منصور، عن مجاهد، عن ابي معمر، عن ابن مسعود، قال اختصم عند البيت ثلاثة نفر قرشيان وثقفي او ثقفيان وقرشي قليلا فقه قلوبهم كثيرا شحم بطونهم فقال احدهم اترون ان الله يسمع ما نقول فقال الاخر يسمع اذا جهرنا ولا يسمع اذا اخفينا . وقال الاخر ان كان يسمع اذا جهرنا فانه يسمع اذا اخفينا . فانزل الله : ( وما كنتم تستترون ان يشهد عليكم سمعكم ولا ابصاركم ولا جلودكم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি কা'বার পর্দার আড়ালে লুকিয়েছিলাম। তখন তিনজন লোক সেখানে আসে। তাদের পেট ছিল মেদবহুল এবং অন্তর ছিল কম বুদ্ধিসম্পন্ন। তাদের একজন ছিল কুরাইশ বংশীয় এবং অপর দু'জন ছিল তার জামাতা, সাকীফ বংশীয় কিংবা একজন ছিল সাকীফ বংশীয় এবং অপর দু'জন ছিল তার জামাতা, কুরাইশ বংশীয় তারা এমন কথাবার্তা বলতে লাগলো যা আমি বুঝিনি। তারপর তাদের একজন বলল, তোমরা কি মনে কর, আমাদের এসব আলাপ আল্লাহ তা'আলা শুনেন? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা প্রকাশ্যে (জোরে) কিছু বললে তিনি তা শুনেন এবং উচ্চস্বরে না বললে শুনেন না। তৃতীয়জন বলল, তিনি যদি কোন কথা শুনেন তা হলে সব কথাই শুনেন। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ (অনুবাদ) “তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে কর যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ তা'আলা জানেন না। তোমাদের রবের ব্যাপারে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ"- (সূরা হা-মীম আস-সিজদা ২২-২৩)। সহীহঃ মুসলিম (৮/১২১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن عبد الرحمن بن يزيد، قال قال عبد الله كنت مستترا باستار الكعبة فجاء ثلاثة نفر كثير شحم بطونهم قليل فقه قلوبهم قرشي وختناه ثقفيان او ثقفي وختناه قرشيان فتكلموا بكلام لم افهمه فقال احدهم اترون ان الله يسمع كلامنا هذا فقال الاخر انا اذا رفعنا اصواتنا سمعه واذا لم نرفع اصواتنا لم يسمعه فقال الاخر ان سمع منه شييا سمعه كله فقال عبد الله فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فانزل الله : ( وما كنتم تستترون ان يشهد عليكم سمعكم ولا ابصاركم ولا جلودكم ) الى قوله : (اصبحتم من الخاسرين ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن وهب بن ربيعة، عن عبد الله، نحوه
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, তারপর তাতেই অবিচল থাকে" (সূরাঃ হা-মীম আস-সিজদা– ৩০)। তিনি বলেনঃ অনেক লোক এ কথা বলার পর কাফির হয়ে যায়। অতএব যে ব্যক্তি উল্লেখিত কথার উপর মারা যায় সে-ই অবিচলদের অন্তর্ভুক্ত। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি আবূ যুরআকে বলতে শুনেছি যে, আফফান (রহঃ) আমর ইবনু আলীর সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও উমর (রাঃ) হতে “ইসতাকামূ” (অবিচল থাকে)-এর তাৎপর্য বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو حفص، عمرو بن علي الفلاس حدثنا ابو قتيبة، سلم بن قتيبة حدثنا سهيل بن ابي حزم القطعي، حدثنا ثابت البناني، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قرا : (ان الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا ) قال " قد قال الناس ثم كفر اكثرهم فمن مات عليها فهو ممن استقام " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه . سمعت ابا زرعة يقول روى عفان عن عمرو بن علي حديثا ويروى في هذه الاية عن النبي صلى الله عليه وسلم وابي بكر وعمر رضى الله عنهما معنى استقاموا
। তাউস (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল (অনুবাদ) “বলুন, আমি এর (দাওয়াতের) বিনিময়ে তোমাদের নিকট হতে স্বজনদের সৌহার্দ্য ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না"- (সূরা শুরা ২৩)। এ প্রসঙ্গে সাঈদ ইবনু যুবাইর (রহঃ) বলেন, কুরবা (আত্মীয়) অর্থ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের লোক। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তুমি কি জান না কুরাইশ বংশের যত শাখা-প্রশাখা আছে, তাদের সকলের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল? তাই তিনি বলেছেন, তবে আমার ও তোমাদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে তার কারণে আমার সাথে ভাল ব্যবহার কর। সহীহঃ বুখারী (৪৮১৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আরো কয়েকটি সনদসূত্রে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا بندار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن عبد الملك بن ميسرة، قال سمعت طاوسا، قال سيل ابن عباس عن هذه الاية : (قل لا اسالكم عليه اجرا الا المودة في القربى ) فقال سعيد بن جبير قربى ال محمد صلى الله عليه وسلم . فقال ابن عباس اعلمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن بطن من قريش الا كان له فيهم قرابة فقال الا ان تصلوا ما بيني وبينكم من القرابة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن ابن عباس
। মুররা গোত্রের কোন এক লোক হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ একদা আমি কূফায় পৌঁছে বিলাল ইবনু আবূ বুরদা প্রসঙ্গে অবহিত হলাম। আমি বললাম, তার এ শোকাভূত অবস্থাতে অবশ্যই কোন শিক্ষণীয় বিষয় আছে। তারপর আমি তার নিকটে আসলাম এবং তিনি ছিলেন তার নিজ তৈরী ঘরে বন্দি। তার সমস্ত মালসামান মারপিট ও নির্যাতনের ফলে পরিবর্তিত (উলেট-পালোট) হয়ে আছে। তার পরনের পোশাক ছিল ছিন্নভিন্ন। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ', হে বিলাল! আমি তোমাকে দেখেছি যে, তুমি আমাদের সামনে দিয়ে ধুলোবালি না থাকা সত্ত্বেও নাক চেপে চলে যেতে। আর আজ তোমার এ অসহায় অবস্থা! সে বলল, আপনি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, মুররা ইবনু আব্বাদ গোত্রের। এবার তিনি বললেন, আমি কি আপনার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করব না, যার দ্বারা আশা করা যায় আল্লাহ তা'আলা আপনাকে উপকৃত করবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ শুনাও সে হাদীস। তিনি বললেন, আবূ বুরদা তার পিতা আবূ মূসা (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীস আমার নিকটে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন বান্দার উপর ছোট-বড় যে কোন মুসিবতই আসে তা তার পাপের জন্যই আসে। আর আল্লাহ তা'আলা অনেক পাপই মাফ করে দেন। তিনি বললেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেনঃ “আর যেসব বিপদ-আপদ তোমাদের উপর আপতিত হয়, তা তো তোমাদের স্বহস্তার্জিত কর্মেরই কারণে এবং অনেক পাপ তো তিনি ক্ষমা করে দেন।" (সূরাঃ আশ-শূরা-৩০) সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عمرو بن عاصم، حدثنا عبيد الله بن الوازع، حدثني شيخ، من بني مرة قال قدمت الكوفة فاخبرت عن بلال بن ابي بردة، فقلت ان فيه لمعتبرا فاتيته وهو محبوس في داره التي قد كان بنى قال واذا كل شيء منه قد تغير من العذاب والضرب واذا هو في قشاش فقلت الحمد لله يا بلال لقد رايتك وانت تمر بنا تمسك بانفك من غير غبار وانت في حالك هذا اليوم فقال ممن انت فقلت من بني مرة بن عباد . فقال الا احدثك حديثا عسى الله ان ينفعك به قلت هات . قال حدثني ابي ابو بردة عن ابيه ابي موسى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يصيب عبدا نكبة فما فوقها او دونها الا بذنب وما يعفو الله عنه اكثر " . قال وقرا : (وما اصابكم من مصيبة فبما كسبت ايديكم ويعفو عن كثير ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। আবূ উমামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায় হিদায়াতের রাস্তা পেয়ে আবার পথভোলা হয়ে থাকলে তা শুধু তাদের বিবাদ ও বাক-বিতণ্ডায় জড়িত হওয়ার কারণেই হয়েছে। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “এরা শুধু বাকবিতণ্ডার উদ্দেশেই আপনাকে এ কথা বলে। বস্তুত এরা তো এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়"- (সূরা যুখরুফ ৫৮)। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (৪৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধু হাজ্জাজ ইবনু দীনারের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। তিনি সিকাহ বর্ণনাকারী ও মধ্যম ধরনের হাদীস বিশারদ। আবূ গালিবের নাম হাযাওয়ার।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا محمد بن بشر، ويعلى بن عبيد، عن حجاج بن دينار، عن ابي غالب، عن ابي امامة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما ضل قوم بعد هدى كانوا عليه الا اوتوا الجدل " . ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الاية : (ما ضربوه لك الا جدلا بل هم قوم خصمون ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح انما نعرفه من حديث حجاج بن دينار . وحجاج ثقة مقارب الحديث وابو غالب اسمه حزور
। মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বলল, কোন এক বক্তা বলছে যে, যামীন হতে একটি ধোয়া বের হবে। তা কাফিরদের কান বধির করে দিবে এবং মু'মিনদের সর্দিতে আক্রান্ত করবে। মাসরূকু (রাহঃ) বলেন, এতে 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) রাগান্বিত হন। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসলেন, তারপর বললেন, তোমাদের কাউকে তার জ্ঞাত (বিষয়) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সে যেন তার উত্তর দেয় বা সেই প্রসঙ্গে অবহিত করে। আর তাকে তার না জানা বিষয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সে যেন বলে, আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। কেননা এটাও লোকের জ্ঞানের কথা যে, তাকে এমন কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো যা সে জানে না, সে বলবে যে, আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে বলেছেনঃ “আপনি বলুন, আমি তোমাদের নিকট এর জন্য (হিদায়াতের বিনিময়ে) কোন পরিশ্রমিক চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই”- (সূরা দুখান ৮৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখতে পেলেন যে, কুরাইশরা তার অবাধ্যতা ও বিরোধিতায় চরম পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ ইউসুফ (আঃ)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত এদেরকেও সাত বছর দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করে আমাকে সাহায্য করুন। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি নেমে এলো এবং সব কিছু নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি তারা চামড়া, হাড় ও মৃত জীব ভক্ষণ করতে লাগল। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এ সময় মাটি হতে ধোয়ার মত এক পদার্থ বের হতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেন, আপনার জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু’আ করুন। 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এটাই আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর “যেদিন স্পষ্টই ধোয়াচ্ছন্ন হবে এবং তা মানবজাতিকে গ্রাস করে ফেলবে, এটা হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” তাৎপর্য- (সূরা দুখান ১০-১১)। মানসূর (রাহঃ) বলেন, এটাই নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্যঃ “হে আমাদের রব! আমাদের উপর হতে শাস্তি দূরীভূত কর নিশ্চয় আমরা মুমিন”- (সূরা দুখান ১২)। আখিরাতের শাস্তি দূরীভূত করা হবে কি? আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, ধরপাকড়, কঠিন বিপদ ও ধোঁয়া সবই অতিবাহিত হয়েছে। আ'মাশ ও মানসূরের মধ্যে একজন বলেন, চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং অপরজন বলেন, রোম বিজয়ের ঘটনা (অতিবাহিত হয়েছে)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা (রাহঃ) বলেন, লিযাম বলতে সেই হত্যা বুঝানো হয়েছে যা বদরের দিন সংঘটিত হয়েছে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الملك بن ابراهيم الجدي، حدثنا شعبة، عن الاعمش، ومنصور، سمعا ابا الضحى، يحدث عن مسروق، قال جاء رجل الى عبد الله فقال ان قاصا يقص يقول انه يخرج من الارض الدخان فياخذ بمسامع الكفار وياخذ المومن كهيية الزكام قال فغضب وكان متكيا فجلس ثم قال اذا سيل احدكم عما يعلم فليقل به قال منصور فليخبر به واذا سيل عما لا يعلم فليقل الله اعلم فان من علم الرجل اذا سيل عما لا يعلم ان يقول الله اعلم فان الله تعالى قال لنبيه : (قل ما اسالكم عليه من اجر وما انا من المتكلفين ) " . ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما راى قريشا استعصوا عليه قال " اللهم اعني عليهم بسبع كسبع يوسف " . فاخذتهم سنة فاحصت كل شيء حتى اكلوا الجلود والميتة وقال احدهما العظام قال وجعل يخرج من الارض كهيية الدخان قال فاتاه ابو سفيان قال ان قومك قد هلكوا فادع الله لهم . قال فهذا لقوله : ( يوم تاتي السماء بدخان مبين * يغشى الناس هذا عذاب اليم ) . قال منصور هذا لقوله ( ربنا اكشف عنا العذاب انا مومنون ) فهل يكشف عذاب الاخرة قال مضى البطشة واللزام الدخان وقال احدهما القمر وقال الاخر الروم . قال ابو عيسى واللزام يعني يوم بدر . قال وهذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুমিনের জন্যই উদ্ধ জগতে দু’টি দরজা আছে। একটি দরজা দিয়ে তার আমল উপরে উঠে যায় এবং অপরটি দিয়ে তার রিযিক নেমে আসে। তারপর সে যখন মারা যায় তখন দরজা দু’টি তার জন্য কাঁদে। এই পর্যায়ে আল্লাহ বলেনঃ “আসমান-যমিনে কেউ তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হয়নি" (সূরা আদ-দুখান-২৯)। যঈফ, যঈফা (৪৪৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদেই এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি। মূসা ইবনু উবাইদা ও ইয়াযীদ ইবনু আবান আর-রাকাশী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
حدثنا الحسين بن حريث، حدثنا وكيع، عن موسى بن عبيدة، عن يزيد بن ابان، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من مومن الا وله بابان باب يصعد منه عمله وباب ينزل منه رزقه فاذا مات بكيا عليه فذلك قوله عز وجل ( فما بكت عليهم السماء والارض وما كانوا منظرين ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه . وموسى بن عبيدة ويزيد بن ابان الرقاشي يضعفان في الحديث
। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর ভাতিজা বলেনঃ লোকেরা যখন উসমান (রাঃ)-কে (খুনের) ইচ্ছা করল তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার নিকটে আসলেন। উসমান (রাঃ) বললেন, আপনি কেন এসেছেন? তিনি বললেন, আপনার সাহায্যের জন্য। তিনি বলেন, আপনি ঘেরাওকারীদের নিকটে গিয়ে তাদেরকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন এবং আপনার ভেতরে থাকার চাইতে বাইরে থাকা আমার জন্য বেশি উপকারী। রাবী বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) লোকদের নিকটে এসে বললেন, হে জনমণ্ডলী জাহিলিয়া যুগে আমার অমুক নাম (হুসাইন) ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। আর আমার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার কিভাবে কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তার মধ্যে আমার সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ আর বানু ইসরাঈলের একজন এর মতই কিতাব প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এর প্রতি ঈমান এনেছে। অথচ তোমরা অহংকার প্রকাশ কর। আল্লাহ তা'আলা যালিমদেরকে হিদায়াত করেন না" (সূরাঃ আল-আহুকাফ- ১০)। তিনি আরো বলেন, আমার সম্পর্কে এ আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছেঃ “আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট এবং সেই ব্যক্তি যার নিকটে কিতাবের জ্ঞান আছে" (সূরাঃ আর-রা’দ- ৪৩)। আল্লাহ্ তা'আলার একটি তরবারি আছে যা তোমাদের হতে গোপন আছে। আর এ শহরেই ফিরিশতারা তোমাদের প্রতিবেশী যেখানে তোমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। অতএব এ লোকটিকে হত্যা সংঘটনে তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! তোমরা তাকে মেরে ফেললে তোমাদের প্রতিবেশী ফিরিশতারা এখান হতে দূরে চলে যাবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার যে তরবারি তোমাদের হতে লুকায়িত আছে তা তোমাদের উপর আঘাত হানবে, তারপর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোষবদ্ধ হবে না। রাবী বলেনঃ তার এ কথা শুনে ঘেরাওকারীদের একজন বলল, এই ইয়াহুদীকেও (আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) মেরে ফেল এবং উসমানকেও মেরে ফেল। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুআইব ইবনু সফওয়ান-আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে তিনি, ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম হতে তিনি নিজ দাদা আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) সূত্রেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا علي بن سعيد الكندي، حدثنا ابو محياة، عن عبد الملك بن عمير، عن ابن اخي عبد الله بن سلام، لما اريد عثمان جاء عبد الله بن سلام فقال له عثمان ما جاء بك قال جيت في نصرك قال اخرج الى الناس فاطردهم عني فانك خارج خير لي منك داخل . فخرج عبد الله الى الناس فقال ايها الناس انه كان اسمي في الجاهلية فلان فسماني رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الله ونزل في ايات من كتاب الله نزلت في : ( وشهد شاهد من بني اسراييل على مثله فامن واستكبرتم ان الله لا يهدي القوم الظالمين ) ونزلت في : (قل كفى بالله شهيدا بيني وبينكم ومن عنده علم الكتاب ) ان لله سيفا مغمودا عنكم وان الملايكة قد جاورتكم في بلدكم هذا الذي نزل فيه نبيكم فالله الله في هذا الرجل ان تقتلوه فوالله ان قتلتموه لتطردن جيرانكم الملايكة ولتسلن سيف الله المغمود عنكم فلا يغمد الى يوم القيامة قال فقالوا اقتلوا اليهودي واقتلوا عثمان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد رواه شعيب بن صفوان عن عبد الملك بن عمير عن ابن محمد بن عبد الله بن سلام عن جده عبد الله بن سلام
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখতেন তখন (অস্থির হয়ে) একবার সামনে যেতেন আবার পেছনে যেতেন। তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলে তার অস্থিরতা দূর হত। তিনি (আয়িশাহ) বলেন, আমি তাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ আমি জানি না, এটা সেই আযাব কি না যে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তারপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন বলতে লাগল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করবে”— (সূরা আহ্ক্বাফ ২৪)। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৫৭) বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا عبد الرحمن بن الاسود ابو عمرو البصري، حدثنا محمد بن ربيعة، عن ابن جريج، عن عطاء، عن عايشة، رضى الله عنها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا راى مخيلة اقبل وادبر فاذا مطرت سري عنه . قالت فقلت له . فقال " وما ادري لعله كما قال الله تعالى : (فلما راوه عارضا مستقبل اوديتهم قالوا هذا عارض ممطرنا ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আলকামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, জিনের রাতে আপনাদের কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী ছিলেন? তিনি বললেন, আমাদের কেউ তাঁর সঙ্গে ছিল না। তবে তিনি মক্কাতে থাকার সময় এক রাতে আমাদের হতে হারিয়ে গেলেন। আমরা বলাবলি করলাম, তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা অপহরণ করা হয়েছে, এরকম কিছু করা হয়েছে। আমরা খুবই অশান্তিতে রাত কাটালাম। তারপর খুব ভোরে হঠাৎ দেখলাম তিনি হেরা পর্বতের দিক হতে আসছেন। রাবী বলেনঃ তার নিকটে সকলে বিগত রাতের অস্থিরতার কথা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার নিকট জিনদের এক প্রতিনিধি এসেছিল। আমি তাদের কাছে গিয়ে কুরআন পাঠ করেছি। তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রমাণ ও আগুনের চিহ্ন দেখান। শা'বী (রাহঃ) বলেনঃ জিনেরা তার নিকটে তাদের খাবার চাইল। তারা ছিল কোন এক উপদ্বীপের অধিবাসী। তিনি তাদের বলেনঃ যে সব হাড়ে আল্লাহ্ তা'আলার নাম নেয়া হয়েছে সেগুলো তোমাদের হাতে আসার সাথে সাথে গোশত পূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন পূর্বে তা গোশতে পূর্ণ ছিল। আর সব রকমের বিষ্ঠা ও গোবর তোমাদের পশুর খাদ্য। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদেরকে) বললেনঃ তোমরা এগুলো ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য। যে হাড়ে “আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে" এবং “তোমাদের পশুর খাদ্য” এই শব্দ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। যঈফাহ (১০৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن ابراهيم، عن داود، عن الشعبي، عن علقمة، قال قلت لابن مسعود رضى الله عنه هل صحب النبي صلى الله عليه وسلم ليلة الجن منكم احد قال ما صحبه منا احد ولكن قد افتقدناه ذات ليلة وهو بمكة فقلنا اغتيل او استطير ما فعل به فبتنا بشر ليلة بات بها قوم حتى اذا اصبحنا او كان في وجه الصبح اذا نحن به يجيء من قبل حراء قال فذكروا له الذي كانوا فيه فقال " اتاني داعي الجن فاتيتهم فقرات عليهم " . فانطلق فارانا اثارهم واثار نيرانهم . قال الشعبي وسالوه الزاد وكانوا من جن الجزيرة فقال " كل عظم لم يذكر اسم الله عليه يقع في ايديكم اوفر ما كان لحما وكل بعرة او روثة علف لدوابكم " . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فلا تستنجوا بهما فانهما زاد اخوانكم من الجن " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “তোমার দোষের জন্য এবং ঈমানদার নারী-পুরুষদের জন্য তুমি ক্ষমা চাও”— (সূরা মুহাম্মাদ ১৯)। উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করি। সহীহঃ বুখারী (৬৩০৭), তাতে আছে সত্তর বারেরও বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ .... আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট দৈনিক এক শতবার ক্ষমা প্রার্থনা করি”। একাধিক সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছেঃ “নিশ্চয় আমি দৈনিক এক শতবার আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা চাই! এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু আমর-আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، رضى الله عنه : (واستغفر لذنبك وللمومنين والمومنات ) فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اني لاستغفر الله في اليوم سبعين مرة " . قال هذا حديث حسن صحيح . - ويروى عن ابي هريرة ايضا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اني لاستغفر الله في اليوم ماية مرة " . وقد روي من غير وجه عن النبي صلى الله عليه وسلم " اني لاستغفر الله في اليوم ماية مرة " . ورواه محمد بن عمرو عن ابي سلمة عن ابي هريرة
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “যদি তোমরা বিমুখ হও, তাহলে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন। তারপর তারা তোমাদের মত হবে না”— (সূরা মুহাম্মাদ ৩৮)। উপস্থিত সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, কোন লোকদেরকে আমাদের স্থলবর্তী করা হবে? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (রাযিঃ)-এর কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ এ লোক ও তার জাতি, এ লোক ও তার জাতি। সহীহঃ সহীহাহ ২য় সংস্করণ (১০১৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এর সনদসূত্র প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু জাফারও এ হাদীস 'আলা ইবনু আবদুর রহমান হতে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا شيخ، من اهل المدينة عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما هذه الاية : (وان تتولوا يستبدل قوما غيركم ثم لا يكونوا امثالكم ) قالوا ومن يستبدل بنا قال فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم على منكب سلمان ثم قال " هذا وقومه هذا وقومه " . قال هذا حديث غريب في اسناده مقال . وقد روى عبد الله بن جعفر ايضا هذا الحديث عن العلاء بن عبد الرحمن
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কয়েকজন সাহাবী প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তা'আলা যে বলেছেন, যদি আমরা বিমুখ হই তবে আমাদের বাদে অন্যদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে, তারপর তারা আমাদের ন্যায় হবে না, সেসব ব্যক্তি কারা হবে? বর্ণনাকারী বলেন, সালমান ফারসী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটেই ছিলেন। সালমান (রাযিঃ)-এর উরুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু আঘাত করে বলেন, ইনি ও তার সাথীরা। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! ঈমান যদি সুরাইয়াহ নক্ষত্রের সাথেও ঝুলন্ত থাকত, তবুও পারস্যের কিছু ব্যক্তি তা নিয়ে আসত। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী ও মুসলিমে হাদীসের শেষ অংশ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জাফার ইবনু নাজীহ্ হলেন আলী ইবনুল মাদীনীর পিতা। ‘আলী ইবনু হুজর (রাহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু জাফরের সূত্রে অনেক কিছু বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী (রাহঃ)-ইসমাঈল ইবনু জাফার ইবনু নাজীহ সূত্রে 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার হতে। বিশর ইবনু মুআয আবদুল্লাহ ইবনু জাফার হতে, তিনি আল-আলা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে তাতে মানুতান শব্দের পরিবর্তে' মু'আল্লাকান শব্দ আছে।
حدثنا علي بن حجر، انبانا اسماعيل بن جعفر، حدثنا عبد الله بن جعفر بن نجيح، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، انه قال قال ناس من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله من هولاء الذين ذكر الله ان تولينا استبدلوا بنا ثم لم يكونوا امثالنا قال وكان سلمان بجنب رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم فخذ سلمان قال " هذا واصحابه والذي نفسي بيده لو كان الايمان منوطا بالثريا لتناوله رجال من فارس " . قال ابو عيسى وعبد الله بن جعفر بن نجيح هو والد علي بن المديني وقد روى علي بن حجر عن عبد الله بن جعفر الكثير . وحدثنا علي بهذا الحديث عن اسماعيل بن جعفر عن عبد الله بن جعفر . وحدثنا بشر بن معاذ، حدثنا عبد الله بن جعفر، عن العلاء، نحوه الا انه قال معلق بالثريا
। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু বললে তিনি নির্বাক থাকেন। আমি আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি এবারও নীরব রইলেন। আমি আমার কথা পুনর্ব্যক্ত করলে এবারও তিনি নীরব থাকেন। অতএব আমি আমার জন্তুযান হাকিয়ে এক পাশে চলে গেলাম এবং মনে মনে বললাম, হে খাত্তাবের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক। তুমি তিন তিনবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করে বিরক্ত করলে, অথচ একবারও তিনি কথা বলেননি। এখন তোমার প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, মুহুর্তকাল অতিবাহিত না হতেই আমি শুনতে পেলাম, কে যেন চিৎকার করে আমাকে ডাকছে। অতএব আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ হে ইবনুল খাত্তাব। আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার পরিবর্তে সারা জগতের সকল কিছু আমাকে দেয়া হলেও আমি তা পছন্দ করব না। সেই সূরাটি হল (অনুবাদ): “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়"- (সূরা ফাত্হ ১)। সহীহঃ বুখারী (৪৮৩৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। কোন কোন বর্ণনাকারী হাদীসটি মালিক হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن خالد بن عثمة، حدثنا مالك بن انس، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، قال سمعت عمر بن الخطاب، رضى الله عنه يقول كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره فكلمت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسكت ثم كلمته فسكت ثم كلمته فسكت فحركت راحلتي فتنحيت وقلت ثكلتك امك يا ابن الخطاب نزرت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات كل ذلك لا يكلمك ما اخلقك ان ينزل فيك قران قال فما نشبت ان سمعت صارخا يصرخ بي قال فجيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " يا ابن الخطاب لقد انزل على هذه الليلة سورة ما احب ان لي بها ما طلعت عليه الشمس : (انا فتحنا لك فتحا مبينا ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب ورواه بعضهم عن مالك مرسلا
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়া হতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যেন আল্লাহ তা'আলা তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুলসমূহ মাফ করেন”— (সূরা আল-ফাত্হ ২), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার নিকটে দুনিয়ার সব কিছু হতে বেশি প্রিয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সামনে আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুবারাকবাদ! এটি আপনার জন্য অভিনন্দন। আপনার সাথে কেমন আচরণ করা হবে, তাতো আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হবে? তখন তার উপর এ আয়াত অবতীণ হয়ঃ “তা এজন্য যে, তিনি ঈমানদার পুরুষ ও মহিলাদের জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে এবং তিনি তাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। এটাই আল্লাহ তা'আলার সমীপে মহা সাফল্য।" (সূরা আল-ফাত্হ ২) সনদ সহীহ, বুখারী (৪৭১২) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুবারকবাদ..... এই অংশটুকু মুরসাল, মুসলিম (৫/১৭৬) আনাস হতে ঐ অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত, তা শাজ। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ এ অনুচ্ছেদে মুজাম্মি ইবনু জারিয়াহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن قتادة، عن انس، رضى الله عنه قال انزلت على النبي صلى الله عليه وسلم : (ليغفر لك الله ما تقدم من ذنبك وما تاخر ) مرجعه من الحديبية فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لقد انزلت على اية احب الى مما على الارض ثم قراها النبي صلى الله عليه وسلم عليهم فقالوا هنييا مرييا يا نبي الله قد بين الله لك ماذا يفعل بك فماذا يفعل بنا فنزلت عليه : ( ليدخل المومنين والمومنات جنات تجري من تحتها الانهار ) حتى بلغ : (فوزا عظيما ) قال هذا حديث حسن صحيح وفيه عن مجمع بن جارية
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদা আশিজন কাফির ফজরের সময় তান'ঈম পাহাড় হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণকে হত্যা করার উদ্দেশে নেমে আসে। তারা সকলেই গ্রেপ্তার হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ছেড়ে দিলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তিনি সেই সত্তা যিনি (মক্কা উপত্যকায় তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর) তাদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত তাদের হতে নিবারিত করেছেন। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা'আলা তা দেখেন”- (সূরা ফাত্হ ২৪)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২৪০৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثني سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن انس، ان ثمانين، هبطوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه من جبل التنعيم عند صلاة الصبح وهم يريدون ان يقتلوه فاخذوا اخذا فاعتقهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فانزل الله : ( هو الذي كف ايديهم عنكم وايديكم عنهم ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বানী (অনুবাদ) “তিনি তাদেরকে তাকওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করলেন"- (সূরা ফাত্হ ২৬) প্রসঙ্গে বলেনঃ এ বাক্যের অর্থ হল, কালিমা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ"। সহীহ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাসান ইবনু কাযা'আর সনদে এ হাদীস মারফুরূপে জেনেছি। এ হাদীস প্রসঙ্গে আমি আবূ যুর'আকে প্রশ্ন করলে তিনি উপর্যুক্ত সূত্র ব্যতীত এটিকে মারফুরূপে রিওয়ায়াত হওয়া প্রসঙ্গে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
حدثنا الحسن بن قزعة البصري، حدثنا سفيان بن حبيب، عن شعبة، عن ثوير، عن ابيه، عن الطفيل بن ابى بن كعب، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم : ( والزمهم كلمة التقوى ) قال لا اله الا الله . قال هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث الحسن بن قزعة قال وسالت ابا زرعة عن هذا الحديث فلم يعرفه مرفوعا الا من هذا الوجه
। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-আকরা ইবনু হাবিস রাসূলুল্লাহ -এর কাছে এলে আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে তার গোত্রের কর্মকর্তা নিয়োগ করুন। উমার (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কর্মচারীর পদে নিয়োগ করবেন না। তারা পরস্পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং তাদের কণ্ঠস্বর চরমে পৌছে। আবূ বাকর (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-কে বললেন, আমার বিরোধিতা করাই আপনার একমাত্র লক্ষ্য। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমার লক্ষ্য আপনার বিরোধিতা করা নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “হে ঈমানদারগণ! নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমরা নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করো না"- (সূরা হুজুরাত ২)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর হতে উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বললে তার কথা শুনা যেত না, এমনকি তা বুঝার জন্য আবার ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রয়োজন হত। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৪৫, ৪৮৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনুয যুবাইর তার নানা আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী ইবনু আবী মুলাইকাহর সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا مومل بن اسماعيل، حدثنا نافع بن عمر بن جميل الجمحي، حدثني ابن ابي مليكة، حدثني عبد الله بن الزبير، ان الاقرع بن حابس، قدم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر يا رسول الله استعمله على قومه . فقال عمر لا تستعمله يا رسول الله . فتكلما عند النبي صلى الله عليه وسلم حتى ارتفعت اصواتهما فقال ابو بكر لعمر ما اردت الا خلافي . فقال عمر ما اردت خلافك قال فنزلت هذه الاية : ( يا ايها الذين امنوا لا ترفعوا اصواتكم فوق صوت النبي ) فكان عمر بن الخطاب بعد ذلك اذا تكلم عند النبي صلى الله عليه وسلم لم يسمع كلامه حتى يستفهمه . قال وما ذكر ابن الزبير جده يعني ابا بكر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد روى بعضهم عن ابن ابي مليكة مرسل ولم يذكر فيه عن عبد الله بن الزبير