Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সূর্য ডুবার সময় আমি মসজিদে ঢুকলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (মসজিদে) বসা ছিলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! তুমি কি জান, এটা (সূর্য) কোথায় যায়? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা গিয়ে সিজদার অনুমতি প্রার্থনা করে। তাকে সিজদার অনুমতি দেয়া হয়। এমন এক দিন আসবে যখন তাকে বলা হবে, তুমি যেখানে এসেছ সেখান হতে উদিত হও। অতএব তা অস্ত যাওয়ার স্থান হতে উদিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি পড়েনঃ “এটাই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল"- (সূরা ইয়াসীন ৩৮)। বর্ণনাকারী বলেন, এটা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরআত। সহীহঃ বুখারী, এটি (২১৮৬) নং হাদীসের পুনরাবৃত্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن ابي ذر، قال دخلت المسجد حين غابت الشمس والنبي صلى الله عليه وسلم جالس فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اتدري يا ابا ذر اين تذهب هذه " . قال قلت الله ورسوله اعلم . قال " فانها تذهب فتستاذن في السجود فيوذن لها وكانها قد قيل لها اطلعي من حيث جيت فتطلع من مغربها " . قال ثم قرا : (وذلك مستقر لها ) قال وذلك قراءة عبد الله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে কোন মতবাদের দিকে ডেকেছে, তাকে কিয়ামতের দিন থামানো হবে, সে মাত্র এক ব্যক্তিকে সেদিকে ডেকে থাকলেও। তাকে তার আহবানের পরিণতি ভোগ না করিয়ে রেহাই দেয়া হবে না। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের এই আয়াত পাঠ করেনঃ “এই লোকদের একটু থামাও, এদের নিকট কিছু প্রশ্ন করার আছে। তোমাদের কি হল, তোমরা এখন পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে আস না কেন?" (সূরাঃ আস-সাফফাত- ২৪-২৫) যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/৫০) যিলালুল জুন্নাহ (১১২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا معتمر بن سليمان، حدثنا ليث بن ابي سليم، عن بشر، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من داع دعا الى شيء الا كان موقوفا يوم القيامة لازما له لا يفارقه وان دعا رجل رجلا " . ثم قرا قول الله : ( وقفوهم انهم مسيولون * ما لكم لا تناصرون ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب
। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “আমরা তাকে (ইউনুস) এক লাখ বা ততোধিক লোকের নিকটে পাঠালাম" (সূরাঃ আস-সাফফাত- ১৪৭) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেনঃ (এক লাখ) বিশ হাজার। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا الوليد بن مسلم، عن زهير بن محمد، عن رجل، عن ابي العالية، عن ابى بن كعب، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قول الله تعالى : ( وارسلناه الى ماية الف او يزيدون ) قال " عشرون الفا " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “আমরা তার (নূহের) বংশধরদের বাঁচিয়ে রাখলাম বংশপরম্পরায়" (সূরাঃ আস-সাফফাত- ৭৭)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ এরা হল হাম, সাম ও ইয়াফিস। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ তা’ অথবা ‘সা’ অক্ষর সহযোগে ইয়াফিত-ও বলা হয় এবং ইয়াফিস-ও বলা হয়, ইয়াফুসও বলা হয়। এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র সাঈদ ইবনু বাশীরের সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا محمد بن خالد بن عثمة، حدثنا سعيد بن بشير، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة بن جندب، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله : ( وجعلنا ذريته هم الباقين ) قال " حام وسام ويافث " . كذا . قال ابو عيسى يقال يافت ويافث بالتاء والثاء ويقال يفث . قال وهذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث سعيد بن بشير
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আরবদের আদি পিতা সাম, হাবশীদের (আবিসিনীয়াদের) আদি পিতা হাম এবং রূমীয়দের (বাইজানটাইনদের) আদি পিতা ইয়াফিস। যঈফ, যঈফা
حدثنا بشر بن معاذ العقدي، حدثنا يزيد بن زريع، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " سام ابو العرب وحام ابو الحبش ويافث ابو الروم
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূ তালিব রোগাক্রান্ত হলে কুরাইশরা তার নিকটে আসে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আসেন। আবূ তালিবের নিকট এক ব্যক্তির বসার মত স্থান ছিল। আবূ জাহল তাকে মানা করতে উঠে। রাবী বলেনঃ এসব লোক আবূ তালিবের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে। আবূ তালিব বলেন, হে ভাতিজা! তুমি তোমার জাতির নিকটে কি চাও? তিনি বললেনঃ আমি তাদের কাছে একটি বাক্য মেনে নেয়ার ইচ্ছা করছি। তারা এটা মেনে নিলে আরবরা তাদের মতানুবর্তী হবে এবং অনারবরা তাদেরকে জিযিয়া দিবে। আবূ তালিব বললেন, একটি বাক্য? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, একটি বাক্য। তিনি আবার বললেনঃ হে চাচা! আপনারা বলুন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। তারা বলল, শুধু মাত্র একজন মা’বুদ? “এধরনের কথা তো আমরা নিকট অতীতের জাতিসমূহের নিকটে শুনিনি? এটা একটা অলীক উক্তিমাত্র" (সূরাঃ সা’দ- ৭)। রাবী বলেনঃ তাদের প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “সা’দ। উপদেশে পূর্ণ কুরআনের শপথ! বরং এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী লোকেরাই চরম অহংকার ও হঠকারিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমরা এমন কত জাতিকেই না ধ্বংস করেছি। তখন তারা চিৎকার করে উঠেছে। কিন্তু তখন আর মুক্তি পাওয়ার উপায় ছিল না। ........ এমন কথা তো আমরা নিকট অতীতের জাতিসমূহের নিকটে শুনিনি! এটা একটা অলীক কথামাত্র" (সূরাঃ সা’দ- ১-৭)। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সুফইয়ান আ'মাশের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، وعبد بن حميد، - المعنى واحد قالا حدثنا ابو احمد، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن يحيى، قال عبد هو ابن عباد عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال مرض ابو طالب فجاءته قريش وجاءه النبي صلى الله عليه وسلم وعند ابي طالب مجلس رجل فقام ابو جهل كى يمنعه وشكوه الى ابي طالب فقال يا ابن اخي ما تريد من قومك قال " اني اريد منهم كلمة واحدة تدين لهم بها العرب وتودي اليهم العجم الجزية " . قال كلمة واحدة قال " كلمة واحدة " . قال " يا عم قولوا لا اله الا الله " . فقالوا: الها واحدا؟ ( ما سمعنا بهذا في الملة الاخرة ان هذا الا اختلاق ) قال فنزل فيهم القران : (ص* والقران ذي الذكر * بل الذين كفروا في عزة وشقاق ) الى قوله : (ما سمعنا بهذا في الملة الاخرة ان هذا الا اختلاق ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وروى يحيى بن سعيد، عن سفيان، عن الاعمش، نحو هذا الحديث وقال يحيى بن عمارة حدثنا بندار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان، نحوه عن الاعمش،
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজ রাতে আমার মহান ও বারাকাতময় প্ৰভু সবচেয়ে সুন্দর চেহারায় আমার নিকট এসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মতে তিনি বলেছেনঃ ঘুমের মধ্যে স্বপ্নযোগে। তারপর তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি কি জান, এ সময় উচ্চতর জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি বললাম, না। তিনি তার হাত আমার দুই কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন। এমনকি আমি আমার দুই স্তনের বা বুকের মাঝে এর শীতলতা অনুভব করলাম। আসমান-যামীনে যা কিছু আছে আমি তা অবগত হলাম। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি কি জান, এ সময় উচ্চতর জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ, কাফফারাত নিয়ে বিবাদ করছে। কাফফারাত অর্থ “নামাযের পর মসজিদে বসে থাকা, নামাযের জামা'আতে উপস্থিতির জন্য হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টকর সময়েও সুষ্ঠভাবে উযূ করা"। যে লোক এসব কাজ করবে সে কল্যাণের মধ্যে বেঁচে থাকবে, কল্যাণের সাথে মরবে এবং তার জন্ম দিনের মত গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা আরো বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন এই দুআ পড়বেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফি’লাল খাইরাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি ওয়া হুব্বাল মাসাকীনি ওয়া ইযা আরাদতা বি-ইবাদিকা ফিতনাতান ফাকবিযনী ইলাইকা গাইরা মাফতুনিনা” (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ভাল কাজ করার, খারাপ কাজ ত্যাগ করার এবং গারীব-নিঃস্বদের ভালবাসার মনোস্কামনা চাই। তুমি যখন তোমার বান্দাদের কঠিন পরীক্ষায় নিক্ষেপ করার ইচ্ছা কর, তখন আমাকে এ ফিতনায় জড়িয়ে পড়ার আগেই তোমার নিকট উঠিয়ে নাও)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ দারাজাত ও মর্যাদার স্তর বলতে বুঝায়ঃ সালামের প্রচার প্রসার ঘটানো, মানুষকে খাওয়ানো এবং রাতের অন্ধকারে মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তখন (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করা। সহীহঃ আয যিলা-ল (৩৮৮), তা’লীকুর রাগীব (১/৯৮, ১২৬/১)। আবূ ঈসা বলেন, বর্ণনাকারীগণ আবূ কিলাবাহ ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর মধ্যখানে আরও একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। কাতাদাহ এ হাদীস আবূ কিলাবাহ হতে, তিনি খালিদ ইবনুল লাজলাজ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে, এই সনদে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا سلمة بن شبيب، وعبد بن حميد، قالا حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتاني الليلة ربي تبارك وتعالى في احسن صورة قال احسبه قال في المنام فقال يا محمد هل تدري فيم يختصم الملا الاعلى قال قلت لا . قال فوضع يده بين كتفى حتى وجدت بردها بين ثديى او قال في نحري فعلمت ما في السموات وما في الارض قال يا محمد هل تدري فيم يختصم الملا الاعلى قلت نعم . قال في الكفارات . والكفارات المكث في المساجد بعد الصلوات والمشى على الاقدام الى الجماعات واسباغ الوضوء في المكاره ومن فعل ذلك عاش بخير ومات بخير وكان من خطييته كيوم ولدته امه وقال يا محمد اذا صليت فقل اللهم اني اسالك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين واذا اردت بعبادك فتنة فاقبضني اليك غير مفتون قال والدرجات افشاء السلام واطعام الطعام والصلاة بالليل والناس نيام
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার প্রতিপালক প্রভু সর্বোত্তম চেহারায় আমার নিকট আসলেন। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ। আমি বললাম, হে আমার রব! আমি উপস্থিত, আমি হাযির। তিনি প্রশ্ন করেনঃ উর্ধ্ব জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? আমি উত্তর দিলাম, প্ৰভু! আমি জানি না। তিনি তার হাত আমার দুই কাধের মধ্যখানে রাখলেন। এমনকি আমি এর শীতলতা আমার ভয় স্তনের মধ্যখানে (বুকে) অনুভব করলাম। পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে তা আমি জেনে নিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম, হে আমার রব! আমি আপনার সামনে উপস্থিত আছি। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, ঊর্ধ্বলোকের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি জবাব দিলাম, মর্যাদা বৃদ্ধি, কাফফারাত লাভ, পদব্রজে জামাআতে যোগদান, কষ্টকর অবস্থায়ও উত্তমরূপে উযূ করা এবং এক ওয়াক্তের নামায আদায় করার পর পরের ওয়াক্তের নামাযের অপেক্ষায় থাকা ইত্যাদি বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে (একে অপরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছে)। যে লোক এগুলোর হিফাযাত করবে সে কল্যাণের মধ্যে বেঁচে থাকবে, কল্যাণময় মৃত্যুবরণ করবে এবং তার জননী তাকে প্রসব করার সময়ের মত গুনাহ মুক্ত হয়ে যাবে। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব। মুআয ইবনু জাবাল ও ‘আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ –এর বরাতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীস মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেক দীর্ঘাকারে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ফলে আমার গভীর ঘুম এসে গেল। ঘুমের ভিতর আমি আমার প্রতিপালককে সুন্দরতম চেহারায় দেখতে পেলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, উর্ধ্বজগতের অধিবাসীরা কি বিষয়ে বিবাদ করছে... শেষ পর্যন্ত।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني ابي، عن قتادة، عن ابي قلابة، عن خالد بن اللجلاج، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اتاني ربي في احسن صورة فقال يا محمد قلت لبيك ربي وسعديك قال فيم يختصم الملا الاعلى قلت ربي لا ادري فوضع يده بين كتفى فوجدت بردها بين ثديى فعلمت ما بين المشرق والمغرب قال يا محمد . فقلت لبيك رب وسعديك قال فيم يختصم الملا الاعلى قلت في الدرجات والكفارات وفي نقل الاقدام الى الجماعات واسباغ الوضوء في المكروهات وانتظار الصلاة بعد الصلاة ومن يحافظ عليهن عاش بخير ومات بخير وكان من ذنوبه كيوم ولدته امه " . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . قال وفي الباب عن معاذ بن جبل وعبد الرحمن بن عايش عن النبي صلى الله عليه وسلم
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন প্রত্যুষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের নামায আদায় করতে আসতে বাধাপ্রাপ্ত হন। এমনকি আমরা সূর্য উদিত হয়ে যাওয়ার আশংকা করলাম। তিনি তাড়াতাড়ি বের হয়ে এলে সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর উচ্চস্বরে আমাদেরকে ডেকে বললেনঃ তোমরা যেভাবে সারিবদ্ধ অবস্থায় আছ সেভাবেই থাক। তারপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসলেন অতঃপর বললেনঃ সকালে তোমাদের নিকট আসতে আমাকে কিসে বাধাগ্রস্ত করেছে তা এখনই তোমাদেরকে বলছি। আমি রাত্রে উঠে উযূ করলাম এবং সামর্থ্যমত নামায পড়লাম। নামাযের মধ্যে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। অতঃপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম, এমন সময় আমি আমার বারাকাতময় প্রভুকে খুব সুন্দর অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ। আমি বললামঃ প্ৰভু! আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের অধিবাসীগণ (শীর্ষস্থানীয় ফেরেশতাগণ) কি ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললামঃ প্ৰভু! আমি জানি না। আল্লাহ তা'আলা এ কথা তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তাকে দেখলাম যে, তিনি তার হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন। আমি আমার বক্ষস্থলে তার হাতের আঙ্গুলের শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে প্রতিটি জিনিস আমার নিকট আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উঠল এবং আমি তা জানতে পারলাম। আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললামঃ প্ৰভু! আমি আপনার নিকট হাযির। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের বাসিন্দাগণ কি ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললামঃ কাফফারাত প্রসঙ্গে (তারা বিতর্ক করছে)। তিনি বলেন, সেগুলো কি? আমি বললামঃ হেঁটে সালাতের জামা'আতসমূহে হাযির হওয়া, নামাযের পর মসজিদে বসে থাকা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও উত্তমরূপে উযূ করা। তিনি বললেন, তারপর কি ব্যাপারে (তারা বিতর্ক করেছে)? আমি বললামঃ খাদ্যপ্রার্থীকে আহার্যদান, নম্রতার সাথে কথা বলা এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে সেই সময় সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তুমি কিছু চাও, বলঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভাল ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনের, মন্দ কাজসমূহ বর্জনের, দরিদ্রজনদের ভালবাসার তাওফীক চাই, তুমি আমায় ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি যখন কোন গোত্রকে বিপদে ফেলার ইচ্ছা কর তখন তুমি আমাকে বিপদমুক্ত রেখে তোমার কাছে তুলে নিও। আমি প্রার্থনা করি তোমার ভালবাসা, যে তোমায় ভালবাসে তার ভালবাসা এবং এমন কাজের ভালবাসা যা তোমার ভালবাসার নিকটবর্তী করে দেয়।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্বপ্লটি অবশ্যই সত্য। অতএব তা পড়, তারপর তা শিখে নাও। সহীহঃ মুখতাসার আল উলুব্বি (১১৯/৮০), আয যিলা-ল (৩৮৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এ হাদীস হাসান সহীহ। তিনি আরো বললেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবির হতে ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম বর্ণিত হাদীসের তুলনায় উক্ত হাদীস অনেক বেশী সহীহ। খালিদ ইবনুল লাজলাজ-আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ আল-হাযরামী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি...। এ হাদীসটি সংরক্ষিত নয়। ওয়ালীদ তার হাদীসে একই রকম উল্লেখ করেছেন-আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি। বিশর ইবনু বাকর এ হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবির এই সনদে আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এটি অনেক বেশী সহীহ। আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু শুনেননি।
। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা নিজেদের প্রভুর সামনে পরস্পর বাক-বিতণ্ডায় জড়িত হবে”— (সূরা যুমারঃ ৩১), তখন যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল পার্থিব জীবনে আমাদের মধ্যে যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে তার মীমাংসা হওয়ার পর কি তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, তাহলে বিষয়টি তো খুবই কঠিন। হাসানঃ সহীহাহ (৩৪০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن محمد بن عمرو بن علقمة، عن يحيى بن عبد الرحمن بن حاطب، عن عبد الله بن الزبير، عن ابيه، قال لما نزلت : (ثم انكم يوم القيامة عند ربكم تختصمون ) قال الزبير يا رسول الله اتكرر علينا الخصومة بعد الذي كان بيننا في الدنيا قال " نعم " . فقال ان الامر اذا لشديد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত পাঠ করতে শুনেছিঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, আল্লাহ্ তা'আলার রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন" (সূরাঃ আয-যুমার- ৫৩)। তিনি (এ ব্যাপারে) কারো ভয় করেন না। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা হাওশাবের সূত্রে শুধুমাত্র সাবিত হতেই এ হাদীসটি জানতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, শাহর ইবনু হাওশাব উম্মু সালমা আনসারিয়া হতে হাদীস বর্ণনা করেন। উম্মু সালামা আন-সারিয়ার নাম আসমা বিনতু ইয়ামীদ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا حبان بن هلال، وسليمان بن حرب، وحجاج بن منهال، قالوا حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن شهر بن حوشب، عن اسماء بنت يزيد، قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا : (يا عبادي الذين اسرفوا على انفسهم لا تقنطوا من رحمة الله ان الله يغفر الذنوب جميعا ) ولا يبالي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث ثابت عن شهر بن حوشب . قال وشهر بن حوشب يروي عن ام سلمة الانصارية وام سلمة الانصارية هي اسماء بنت يزيد
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ। আল্লাহ তা'আলা আসমানসমূহ এক আঙ্গুলে, পাহাড়গুলো এক আঙ্গুলে, যামীনসমূহ এক আঙ্গুলে এবং অপরাপর সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে ধারণ করে বলবেনঃ আমিই রাজাধিরাজ। বর্ণনাকারী বলেন, তার এ কথায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন, এমনিক তার সামনের মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ল। তিনি বলেনঃ “এই লোকেরা আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত কদর করল না। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তার মুঠোর মধ্যে আবদ্ধ থাকবে এবং আকাশমণ্ডলী তার ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে”— (সূরা যুমার ৬৭)। সহীহঃ আয যিলা-ল (৫৪১, ৫৪৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا سفيان، حدثني منصور، وسليمان الاعمش، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله، قال جاء يهودي الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد ان الله يمسك السموات على اصبع والارضين على اصبع والجبال على اصبع والخلايق على اصبع ثم يقول انا الملك . قال فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه قال : (وما قدروا الله حق قدره ) . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়াহুদীর কথায়) আশ্চর্য হয়ে এবং এর সমর্থন করে হেঁসে দিলেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا فضيل بن عياض، عن منصور، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله، قال فضحك النبي صلى الله عليه وسلم تعجبا وتصديقا . قال هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী! কিছু শুনাও। সে বলল, হে আবূল কাসিম যখন আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ এক আঙ্গুলে, যমিনসমূহ এক আঙ্গুলে, পানি এক আঙ্গুলে, পাহাড়গুলো এক আঙ্গুলে এবং আর সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন এ প্রসঙ্গে আপনি কি বলেন? রাবী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সালত তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কনিষ্ঠা হতে বৃদ্ধ আঙ্গুলী পর্যন্ত ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “এই লোকেরা আল্লাহর প্রতি যতটুকু মর্যাদা দেয়া উচিত, তারা তাকে তা দেয়নি।” (সূরাঃ আয-যুমার-৬৭) যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এটা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা জেনেছি। আবূ কুদাইনার নাম ইয়াহইয়া ইবনুল মুহাল্লাব। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল এ হাদীস হাসান ইবনু শুজার সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুস সালতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا محمد بن الصلت، حدثنا ابو كدينة، عن عطاء بن السايب، عن ابي الضحى، عن ابن عباس، قال مر يهودي بالنبي صلى الله عليه وسلم فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " يا يهودي حدثنا " . فقال كيف تقول يا ابا القاسم اذا وضع الله السموات على ذه والارضين على ذه والماء على ذه والجبال على ذه وساير الخلق على ذه . واشار ابو جعفر محمد بن الصلت بخنصره اولا ثم تابع حتى بلغ الابهام فانزل الله : (وما قدروا الله حق قدره ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح لا نعرفه من حديث ابن عباس الا من هذا الوجه . وابو كدينة اسمه يحيى بن المهلب قال رايت محمد بن اسماعيل روى هذا الحديث عن الحسن بن شجاع عن محمد بن الصلت
। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি কি জান জাহান্নাম কত প্রশস্ত? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! তুমি জান না। আয়িশাহ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিম্নের আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলেন (অনুবাদ) “কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার কব্জার ভিতর থাকবে এবং আকাশমণ্ডলী তার ডান হাতে গুটানো থাকবে”— (সূরা যুমার ৬৭)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন লোকেরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ জাহান্নামের উপরকার পুলসিরাতের উপর। সনদ সহীহ এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব।
حدثنا سويد بن نصر، حدثنا عبد الله بن المبارك، عن عنبسة بن سعيد، عن حبيب بن ابي عمرة، عن مجاهد، قال قال ابن عباس اتدري ما سعة جهنم قلت لا . قال اجل والله ما تدري . حدثتني عايشة انها سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قوله : (والارض جميعا قبضته يوم القيامة والسموات مطويات بيمينه ) قالت قلت فاين الناس يوميذ يا رسول الله قال " على جسر جهنم " . وفي الحديث قصة . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! “কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে তার ডান হাতে ভাজ করা অবস্থায়"- (সূরা যুমার ৬৭), সেদিন মু’মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! পুলসিরাতের উপর। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن مسروق، عن عايشة، انها قالت يا رسول الله : (والارض جميعا قبضته يوم القيامة والسموات مطويات بيمينه ) فاين المومنون يوميذ قال " على الصراط يا عايشة " . هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শিঙ্গা ফুৎকারকারী মুখে শিঙ্গা নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে কান খাড়া করে অপেক্ষায় আছেন, শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার আদেশ পাওয়া মাত্র তিনি ফুঁ দিবেন। এ অবস্থায় আমি কিভাবে নিশ্চিন্তে আরামে বসে থাকতে পারি? মুসলিমরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিভাবে দুআ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বলঃ “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল, তাওয়াককালনা আলাল্লাহি রাব্বিনা” আল্লাহ-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই আমাদের অতি উত্তম অভিভাবক, আমরা আমাদের রব আল্লাহ তা'আলার উপর নির্ভর করি। সুফইয়ান তার বর্ণনায় কখনো "তাওয়াককালনা 'আলাল্লাহ"-এর পরিবর্তে “আলাল্লাহি তাওয়াককালনা” বর্ণনা করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১০৭৮, ১০৭৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আ'মাশ হাদীসটি আতিয়্যার সূত্রে আবূ সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مطرف، عن عطية العوفي، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كيف انعم وقد التقم صاحب القرن القرن وحنى جبهته واصغى سمعه ينتظر ان يومر ان ينفخ فينفخ " . قال المسلمون فكيف نقول يا رسول الله قال " قولوا حسبنا الله ونعم الوكيل توكلنا على الله ربنا " . وربما قال سفيان على الله توكلنا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد رواه الاعمش ايضا عن عطية عن ابي سعيد
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সূর কি? তিনি বললেনঃ একটি শিং, তাতে ফুঁ দেয়া হবে। সহীহঃ সহীহাহ (১০৮০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু সুলাইমান আত-তাইনী কর্তৃক হাদীসটি সম্পর্কে জেনেছি।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، اخبرنا سليمان التيمي، عن اسلم العجلي، عن بشر بن شغاف، عن عبد الله بن عمرو، رضي الله عنهما قال قال اعرابي يا رسول الله ما الصور قال " قرن ينفخ فيه " . قال هذا حديث حسن انما نعرفه من حديث سليمان التيمي
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী মদীনার বাজারে উচ্চস্বরে বললঃ না! সেই সৃষ্টিকর্তার শপথ, যিনি মূসাকে মানবজাতির উপর মর্যাদা দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এক আনসার লোক এ কথা শুনার সাথে সাথে হাত তুলে ইয়াহুদীর মুখে থাপ্পর মেরে দেয়। সে বলল, তুমি এই কথা বলছ, অথচ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বর্তমান আছেন? (উভয়ে মহানবীর নিকট উপস্থিত হলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। তখন আসমান-জামীনের সকলে মূৰ্ছিত হয়ে পড়বে, আল্লাহ তা’আলা যাকে জ্যান্ত রাখতে চান সে ছাড়া। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। সহসা তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে”— (সূরা যুমার ৬৮)। আমিই সবার আগে মাথা তুলে দেখতে পাব যে, মূসা (আঃ) আরশের পায়াসমূহের একটি ধরে আছেন। আমি জানি না, তিনি কি আমার আগে মাথা তুলেছেন, না তিনি ঐ সব লোকের দলে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা (জ্ঞানশূন্য হওয়া হতে) মুক্ত রেখেছেন। যে লোক বলে যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ)-এর চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ সে মিথ্যা বলে। হাসান সহীহঃ তাখরীজুত তাহাবিয়াহ (১৬২), বুখারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، حدثنا عبدة بن سليمان، حدثنا محمد بن عمرو، حدثنا ابو سلمة، عن ابي هريرة، قال قال يهودي بسوق المدينة لا والذي اصطفى موسى على البشر . قال فرفع رجل من الانصار يده فصك بها وجهه قال تقول هذا وفينا نبي الله صلى الله عليه وسلم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ( ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الارض الا من شاء الله ثم نفخ فيه اخرى فاذا هم قيام ينظرون ) فاكون اول من رفع راسه فاذا موسى اخذ بقايمة من قوايم العرش فلا ادري ارفع راسه قبلي او كان ممن استثنى الله ومن قال انا خير من يونس بن متى فقد كذب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একজন ঘোষক (জান্নাতের মধ্যে) ঘোষণা দিবে, এখন হতে তোমরা জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না। তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমরা অফুরন্ত ভোগবিলাসের ভিতর থাকবে, অভাব-অনটন কখনো তোমাদের স্পর্শ করবে না। এটাই আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর তাৎপর্যঃ “তোমরা পার্থিব জীবনে যেসব কাজ করেছ তার বিনিময়ে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী হলে”— (সূরা যুখরুফ ৭২)। সহীহঃ মুসলিম (৮/১৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনুল মুবারাক প্রমুখ সুফইয়ান সাওরীর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুরূপে নয়।
حدثنا محمود بن غيلان، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا الثوري، اخبرني ابو اسحاق، ان الاغر ابا مسلم، حدثه عن ابي سعيد، وابي، هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ينادي مناد ان لكم ان تحيوا فلا تموتوا ابدا وان لكم ان تصحوا فلا تسقموا ابدا وان لكم ان تشبوا فلا تهرموا ابدا وان لكم ان تنعموا فلا تباسوا ابدا " . فذلك قوله تعالى : (و تلك الجنة التي اورثتموها بما كنتم تعملون ) . قال ابو عيسى وروى ابن المبارك وغيره هذا الحديث عن الثوري ولم يرفعوه
وقد روي هذا الحديث، عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم بطوله وقال " اني نعست فاستثقلت نوما فرايت ربي في احسن صورة فقال فيم يختصم الملا الاعلى " . حدثنا محمد بن بشار حدثنا معاذ بن هاني ابو هاني اليشكري حدثنا جهضم بن عبد الله عن يحيى بن ابي كثير عن زيد بن سلام عن ابي سلام عن عبد الرحمن بن عايش الحضرمي انه حدثه عن مالك بن يخامر السكسكي عن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال احتبس عنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة عن صلاة الصبح حتى كدنا نتراءى عين الشمس فخرج سريعا فثوب بالصلاة فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وتجوز في صلاته فلما سلم دعا بصوته قال لنا " على مصافكم كما انتم " . ثم انفتل الينا ثم قال " اما اني ساحدثكم ما حبسني عنكم الغداة اني قمت من الليل فتوضات وصليت ما قدر لي فنعست في صلاتي حتى استثقلت فاذا انا بربي تبارك وتعالى في احسن صورة فقال يا محمد . قلت لبيك رب . قال فيم يختصم الملا الاعلى قلت لا ادري . قالها ثلاثا قال فرايته وضع كفه بين كتفى حتى وجدت برد انامله بين ثديى فتجلى لي كل شيء وعرفت فقال يا محمد . قلت لبيك رب قال فيم يختصم الملا الاعلى قلت في الكفارات قال ما هن قلت مشى الاقدام الى الجماعات والجلوس في المساجد بعد الصلوات واسباغ الوضوء في المكروهات . قال فيم قلت اطعام الطعام ولين الكلام والصلاة بالليل والناس نيام . قال سل . قلت اللهم اني اسالك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين وان تغفر لي وترحمني واذا اردت فتنة قوم فتوفني غير مفتون اسالك حبك وحب من يحبك وحب عمل يقرب الى حبك " . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انها حق فادرسوها ثم تعلموها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . سالت محمد بن اسماعيل عن هذا الحديث فقال هذا حديث حسن صحيح . وقال هذا اصح من حديث الوليد بن مسلم عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر . قال حدثنا خالد بن اللجلاج حدثني عبد الرحمن بن عايش الحضرمي قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث وهذا غير محفوظ . هكذا ذكر الوليد في حديثه عن عبد الرحمن بن عايش قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم . وروى بشر بن بكر عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر هذا الحديث بهذا الاسناد عن عبد الرحمن بن عايش عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا اصح . وعبد الرحمن بن عايش لم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم