Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তাহলে এই অংশ গোপন করতেনঃ “স্মরণ কর, যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা (ইসলাম গ্রহণ করার) অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার উপর (দাসত্বমুক্ত করে) অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছেন, তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখ এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আপনি আপনার মনের মধ্যে যে কথা লুকিয়েছেন, তা আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। আপনি লোকভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর সংগত। পরে যাইদ যখন তার (যাইনাবের) সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে (যাইনাবকে) আপনার নিকট বিয়ে দিলাম, যেন মুমিনদের পালিত ছেলেরা নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহ সূত্র ছিন্ন করলে সেই সব নারীদের বিবাহ করায় মু'মিন লোকদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ কার্যকারী হয়েই থাকে" (সূরাঃ আল-আহযাব-৩৭)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে (যাইনাবকে) বিয়ে করলেন তখন লোকেরা বলতে লাগল, তিনি নিজের ছেলের বিবিকে বিয়ে করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষ লোকদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী" (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৪০)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পালিত পুত্র বানিয়েছিলেন। তিনি (যাইদ) তখন বালক ছিলেন। তিনি তার কাছে থাকলেন এবং ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলেন। তাকে যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলে ডাকা হত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “পালিত ছেলেদেরকে তোমরা তাদের পিতার সাথে সম্পর্ক সূত্রে ডাকো, এটা আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে বেশি ন্যায়সংগত। আর তোমরা যদি তাদের পিতার পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং সাখী" (সূরাঃ আল-আহযাব- ৫) অর্থাৎ অমুক অমুকের বন্ধু এবং অমুক অমুকের ভাই। এটাই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বেশি ন্যায়সংগত কথা অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে বেশি ন্যায়ানুগ কথা। সনদ অত্যন্ত দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। অন্য এক সূত্রে এ হাদীস আইশা (রাঃ) হতে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন। আইশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন, তবে এই আয়াত গোপন করতেনঃ যখন তুমি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলে, যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এবং তুমি অনুগ্রহ করেছিলে..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এ সূত্রে হাদীসটি বিস্তারিত আকারে বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াযযাহ হতে।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا داود بن الزبرقان، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن عايشة، رضى الله عنها قالت لو كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كاتما شييا من الوحى لكتم هذه الاية : ( اذ تقول للذي انعم الله عليه ) يعني بالاسلام : ( وانعمت عليه ) بالعتق فاعتقته : ( امسك عليك زوجك واتق الله وتخفي في نفسك ما الله مبديه وتخشى الناس والله احق ان تخشاه ) الى قوله : (وكان امر الله مفعولا ) وان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما تزوجها قالوا تزوج حليلة ابنه فانزل الله تعالى : ( ما كان محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبيين ) وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم تبناه وهو صغير فلبث حتى صار رجلا يقال له زيد بن محمد فانزل الله : ( ادعوهم لابايهم هو اقسط عند الله فان لم تعلموا اباءهم فاخوانكم في الدين ومواليكم ) فلان مولى فلان وفلان اخو فلان (هو اقسط عند الله ) يعني اعدل عند الله . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . قد روي عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن مسروق، عن عايشة، قالت لو كان النبي صلى الله عليه وسلم كاتما شييا من الوحى لكتم هذه الاية : ( اذ تقول للذي انعم الله عليه وانعمت عليه ) الاية هذا الحرف لم يرو بطوله . حدثنا بذلك عبد الله بن وضاح الكوفي حدثنا عبد الله بن ادريس عن داود بن ابي هند
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপনকারী হতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি এ আয়াত গোপন করতেন (অনুবাদ): “যখন তুমি সে লোককে বলেছিলে যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা এবং তুমি দয়া করেছিলে....."— (সূরা আহযাব ৩৭) শেষ পর্যন্ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن ابان، حدثنا ابن ابي عدي، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن مسروق، عن عايشة، رضى الله عنها قالت لو كان النبي صلى الله عليه وسلم كاتما شييا من الوحى لكتم هذه الاية : ( اذ تقول للذي انعم الله عليه وانعمت عليه ) الاية . قال هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা যাইদ ইবনু হারিসাহ না ডেকে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ ডাকতাম। অবশেষে নাযিল হলঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার পরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহ তা'আলার নিকট বেশি ন্যায়সঙ্গত”– (সূরা আহযাব ৫)। সহীহঃ বুখারী (৪৭৮২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن، عن موسى بن عقبة، عن سالم، عن ابن عمر، قال ما كنا ندعو زيد بن حارثة الا زيد بن محمد حتى نزل القران : ( ادعوهم لابايهم هو اقسط عند الله ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আমির আশ-শাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আল্লাহর বাণীঃ “মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন" (সূরাঃ আল-আহযাব- ৪০) প্রসঙ্গে বলেনঃ এ আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছেঃ তোমাদের মাঝে তার কোন ছেলে সন্তান জীবিত থাকবে না। যঈফ, সনদ বিচ্ছিন্ন
حدثنا الحسن بن قزعة، - بصري - حدثنا مسلمة بن علقمة، عن داود بن ابي هند، عن عامر الشعبي، في قول الله عز وجل : ( ما كان محمد ابا احد من رجالكم ) قال ما كان ليعيش له فيكم ولد ذكر
। উম্মু উমারাহ আল-আনসারিয়্যাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেনঃ আমি (কুরআনে) প্রতিটি প্রসঙ্গ পুরুষদের জন্যই উল্লেখিত দেখতে পাচ্ছি। অথচ মহিলাদের প্রসঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা দেখছি না। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “নিশ্চয় যেসব পুরুষ ও স্ত্রীলোক মুসলিম, মু'মিন, আল্লাহ তা'আলার অনুগত, সত্য পথের পথিক, ধৈর্যশীল, আল্লাহ তা’আলাকে ভয়কারী, এবং বেশি পরিমাণে আল্লাহ তা'আলাকে মনে করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার রেখেছেন"- (সূরা আহযাব ৩৫)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উল্লেখিত সনদেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا محمد بن كثير، حدثنا سليمان بن كثير، عن حسين، عن عكرمة، عن ام عمارة الانصارية، انها اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت ما ارى كل شيء الا للرجال وما ارى النساء يذكرن بشيء فنزلت هذه الاية : (ان المسلمين والمسلمات والمومنين والمومنات ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وانما يعرف هذا الحديث من هذا الوجه
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (অনুবাদ) “তুমি (নবী) নিজের মনে সে কথা লুকিয়ে রেখেছিলে, যা আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করবেন”— (সূরা আহযাব ৩৭), এ আয়াত তখন অবতীর্ণ হয় যাইদ (রাযিঃ) যখন যাইনাব বিনতু জাহশ (রাযিঃ) প্রসঙ্গে অভিযোগ করতে এলেন। তিনি যাইনাবকে ত্বালাক দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমার স্ত্রীকে স্বীয় বিবাহধীনে রাখ এবং আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর”— (সূরা আহ্যাব ৩৭)। সহীহঃ বুখারী (৭৪২০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، عن انس، قال نزلت هذه الاية : (وتخفي في نفسك ما الله مبديه وتخشى الناس ) في شان زينب بنت جحش جاء زيد يشكو فهم بطلاقها فاستامر النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امسك عليك زوجك واتق الله " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশ সম্পর্কে যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ (অনুবাদ) “তারপর যাইদ যখন তার (যাইনাবের) সাথে বিয়ের সম্পর্ক শেষ করল তখন আমরা তাকে (যাইনাবকে) তোমার কাছে বিয়ে দিলাম,” তখন যাইনাব বিনতু জাহশ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রীদের সামনে গর্ব ভরে বলতেন, তোমাদেরকে তোমাদের পরিবারের লোকেরা বিয়ে দিয়েছেন, আর আমাকে বিয়ে দিয়েছেন সাত আসমানের উপর হতে আল্লাহ তা'আলা। সহীহঃ মুখাতাসার আল-উলুয়ি (৮৪/৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا محمد بن الفضل، حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، عن انس، قال نزلت هذه الاية في زينب بنت جحش : (فلما قضى زيد منها وطرا زوجناكها ) قال فكانت تفتخر على ازواج النبي صلى الله عليه وسلم تقول زوجكن اهلكن وزوجني الله من فوق سبع سموات . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ তালিব-কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করার পয়গাম পাঠান। আমি তাকে নিজের অক্ষমতা জানালাম। তিনি আমার আপত্তি গ্রহণ করলেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে নবী! আমরা তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার সেই স্ত্রীদের, যাদের মোহরানা তুমি আদায় করেছ এবং সেই মহিলাদেরকেও (বৈধ করেছি), যারা আল্লাহ্ তা'আলার দেয়া দাসীদের মধ্য হতে তোমার মালিকানাভুক্ত হয়েছে, তোমার সেই চাচাতো, ফুফাতো ও মামাতো বোনদেরকেও (বৈধ করেছি), যারা তোমার সাথে হিযরাত করে এসেছে, সেই মু'মিন মহিলাকেও, যে নিজেকে নবীর জন্য হেবা করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে চায়। এই সুবিধাদান বিশেষভাবে তোমার জন্য, অন্যান্য ঈমানদার লোকদের জন্য নয়" (সূরাঃ আল-আহযাব- ৫০)। রাবী (উম্মু হানী) বলেনঃ এ কারণেই আমি তার জন্য বৈধ ছিলাম না। কেননা আমি তার সাথে হিযরাত করিনি, আমি ছিলাম তুলাকাভুক্ত। সনদ অত্যন্ত দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রেই সুদ্দীর হাদীস হিসেবে জেনেছি।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن السدي، عن ابي صالح، عن ام هاني بنت ابي طالب، قالت خطبني رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعتذرت اليه فعذرني ثم انزل الله تعالى : (انا احللنا لك ازواجك اللاتي اتيت اجورهن وما ملكت يمينك مما افاء الله عليك وبنات عمك وبنات عماتك وبنات خالك وبنات خالاتك اللاتي هاجرن معك وامراة مومنة ان وهبت نفسها للنبي ) الاية قالت فلم اكن احل له لاني لم اهاجر كنت من الطلقاء . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث السدي
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিযরাতকারিনী মু’মিন স্ত্রীলোকদের ছাড়া অন্য স্ত্রীলোকদেরকে বিয়ে করতে মানা করা হয়েছে। অতএব আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “এরপর তোমার জন্য কোন নারী হালাল নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করারও অনুমতি নেই, যদিও তাদের রূপ সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপার স্বতন্ত্র" (সূরাঃ আল-আহযাব- ৫২)। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মু'মিন দাসীদের বৈধ করেছেন। "এবং সেই মু’মিন নারীকেও (বৈধ করা হয়েছে) যে নিজেকে নবীর জন্য হেবা করে” (সূরা আল-আহযাব- ৫০)। মুসলিম স্ত্রীলোক ব্যাতিত অন্যান্য ধর্মের স্ত্রীলোকদের বিয়ে করা তার জন্য অবৈধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "কেউ ঈমান অস্বীকার করলে তার সকল কর্মফল নিস্ফল হবে এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে" (সূরাঃ আল-মায়িদাহ – ৫)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেনঃ “হে নবী! আমরা তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার সেই স্ত্রীদের যাদের মোহরানা তুমি পরিশোধ করেছ, সেই মহিলাদেরকেও যারা আল্লাহ তা'আলার দেয়া দাসীদের মধ্য হতে তোমার মালিকানাভুক্ত হয.... এই বিশেষ সুবিধা শুধু তোমাকেই দেয়া হয়েছে, মুমিনদেরকে নয়" (সূরাঃ আল আহযাব- ৫০)। এ ছাড়া অন্য সব ধরনের মহিলাদের অবৈধ করা হয়েছে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু আব্দুল হামীদ ইবনু বাহরামির রিওয়ায়াত হিসেবেই এ হাদীস জেনেছি। আমি আহমাদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ) বলেন, শাহর ইবনু হাওশাবের সূত্রে আবদুল হামীদ ইবনু বাহরামের বর্ণিত হাদীসে আপত্তির কিছু নেই।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح، عن عبد الحميد بن بهرام، عن شهر بن حوشب، قال قال ابن عباس رضى الله عنهما نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اصناف النساء الا ما كان من المومنات المهاجرات قال : ( لا يحل لك النساء من بعد ولا ان تبدل بهن من ازواج ولو اعجبك حسنهن الا ما ملكت يمينك ) فاحل الله فتياتكم المومنات وامراة مومنة ان وهبت نفسها للنبي وحرم كل ذات دين غير الاسلام ثم قال : (ومن يكفر بالايمان فقد حبط عمله وهو في الاخرة من الخاسرين ) وقال : ( يا ايها النبي انا احللنا لك ازواجك اللاتي اتيت اجورهن وما ملكت يمينك مما افاء الله عليك ) الى قوله : ( خالصة لك من دون المومنين ) وحرم ما سوى ذلك من اصناف النساء . قال ابو عيسى هذا حديث حسن انما نعرفه من حديث عبد الحميد بن بهرام . قال سمعت احمد بن الحسن يقول قال احمد بن حنبل لا باس بحديث عبد الحميد بن بهرام عن شهر بن حوشب
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পূর্বেই এ সব স্ত্রীলোক তার জন্য হালাল করা হয়। সনদ সহিহ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو، عن عطاء، قال قالت عايشة ما مات رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى احل له النساء . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তার সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীর ঘরের দরজায় এসে দেখেন যে, তার ঘরে কিছু সংখ্যক লোক কথাবার্তায় ব্যস্ত। তিনি ফিরে গেলেন এবং নিজের কিছু কাজ করলেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি আবার ফিরে এলেন। তখনো তার ঘরে লোকেরা আলাপে লিপ্ত ছিল। তিনি এবারও ফিরে গেলেন এবং নিজের কিছু কাজ করলেন। তিনি আবার তার ঘরের দিকে রাওয়ানা হলেন। এ সময়ের মধ্যে তারা সেখান হতে চলে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ঘরের মধ্যে ঢুকে আমার ও তার মধ্যে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ ঘটনা আবূ ত্বালহা (রাযিঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি যা বলছ তা যদি ঠিক হয়, তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কোন আয়াত অবতীর্ণ হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এই প্রেক্ষিতেই পর্দা সম্পর্কিত আয়াত (সূরা আহযাব ৫৩-৫৫) অবতীর্ণ হয়। সহীহঃ বুখারী (৫১৬৬, ৫৪৬৬, ৬২৩৮) অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا اشهل بن حاتم، قال ابن عون حدثناه عن عمرو بن سعيد، عن انس بن مالك، قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فاتى باب امراة عرس بها فاذا عندها قوم فانطلق فقضى حاجته فاحتبس ثم رجع وعندها قوم فانطلق فقضى حاجته فرجع وقد خرجوا قال فدخل وارخى بيني وبينه سترا قال فذكرته لابي طلحة قال فقال لين كان كما تقول لينزلن في هذا شيء . فنزلت اية الحجاب . هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করলেন এবং নিজের ঘরে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মা উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) হাইস (খেজুর, ঘি ও ছাতু সহযোগে এক প্রকার মিষ্টান্ন) বানালেন। তিনি একটি ছোট পাত্রে তা রেখে বললেন, হে আনাস! এটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাও। তাকে বল, এটা আমার মা আপনার জন্য পাঠিয়েছেন, আর তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমাদের দিক হতে আপনার জন্য একটি নগণ্য উপহার। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এই হাইস’ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আমার মা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, এটা আমাদের দিক হতে আপনার জন্য খুব সামান্য উপহার। তিনি বললেনঃ এটা রাখ। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে অমুক, অমুক ও অমুক লোককে এবং পথিমধ্যে যাদের সঙ্গে তোমার কথা হবে তাদেরকেও দা'ওয়াত দিয়ে নিয়ে আস। তিনি কয়েক লোকের নামও বলে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি যাদের নাম উল্লেখ করে বলে দিয়েছেন এবং পথিমধ্যে আমার সঙ্গে যাদের দেখা হয়েছে আমি তাদের সবাইকে দাওয়াত করে নিয়ে এলাম। অধঃস্তন বর্ণনাকারী (জা'দ আবূ উসমান) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, তাদের মোট সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, প্রায় তিন শত। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আনাস! ছোট পাত্রটি নিয়ে এসো। আনাস (রাযিঃ) বলেন, দাওয়াতকৃত ব্যক্তিরা এলে তাদের ভীড়ে চত্বর ও হুজরাহ ভরে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশ দশজন করে গোলাকারে বসে যাও এবং প্রতিটি লোক যেন নিজের নিকটের দিকে থেকে খায়। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা পরিতৃপ্তি সহকারে খেল। একদল খেয়ে চলে গেলে অপর দল খেতে বসত। এভাবে সবাই আহার করল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে বললেনঃ হে আনাস! পাত্রটি তুলে নিয়ে যাও। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি তা উঠিয়ে নিলাম, কিন্তু বলতে পারব না, যখন আমি হাইসের পাত্র রেখে ছিলাম তখন কি তাতে অনেক হাইস ছিল না যখন তুলে নিলাম তখন বেশী ছিল! আনাস (রাযিঃ) বলেন, দাওয়াতকৃতদের গল্পে রত কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে বসে আলাপে রত রইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিদায় হওয়ার অপেক্ষায় বসে রইলেন। তার স্ত্রী দেয়ালের দিকে মুখ করে বসে রইলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বিরক্তিকর বোঝা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে তার স্ত্রীদের সালাম করলেন, তারপর আবার ফিরে এলেন। তারা যখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসছেন, তখন তারা অনুভব করল যে, তারা তার জন্য বিরক্তির বিষয় হয়ে পড়েছে। অতএব তারা সকলে উঠে দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পর্দা ছেড়ে দিয়ে হুজরায় প্রবেশ করলেন। আমি হুজরার মধ্যে (পর্দার এ পাশে) বসে থাকলাম। কিছু সময় পর তিনি বের হয়ে আমার নিকট এলেন। তখন নিম্নের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে বের হয়ে গিয়ে লোকদের সামনে তা পড়লেনঃ (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বিনা অনুমতিতে নবীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করো না এবং আহারের জন্য এসে অপেক্ষায় বসে থেকো না। যদি তোমাদের আহারের জন্য দাওয়াত দেয়া হয় তবে অবশ্যই আসবে, কিন্তু খাওয়া-দাওয়া শেষ করার সাথে সাথে সরে পড়বে এবং কথাবার্তায় মাশগুল হবে না। তোমাদের এ ধরনের আচরণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুঃখ দেয় কিন্তু সে লজ্জায় কিছুই বলে না। আর আল্লাহ তা'আলা সত্য কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন না। নবীর স্ত্রীদের নিকট তোমাদের কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে পর্দার আড়াল হতেই তাদের নিকট তা চাও। তোমাদের এবং তাদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এটাই ভাল কাজ। আল্লাহ তা'আলার রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তার ইন্তিকালের পর তার স্ত্রীদের বিয়ে করা তোমাদের জন্য কখনো জায়িয নয়। এটা আল্লাহ তা'আলার নিকট অতি বড় গুনাহ।” (সূরা আহযাব ৫৩) জা'দ (রহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বলেছেন, আমিই সকলের আগে এ আয়াত প্রসঙ্গে অবগত হই এবং সেদিন হতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ পর্দা করেন। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জা'দ হলেন উসমানের পুত্র। তাকে দীনারের ছেলেও বলা হয়। তার উপনাম আবূ উসমান আল-বসরী। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি সিকাহ বর্ণনাকারী। ইউনুস ইবনু উবাইদ, শুবাহ ও হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রাহঃ) তার সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক স্ত্রীর সাথে বাসর যাপন করলেন। তিনি লোকদেরকে বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়ার জন্য আমাকে পাঠান। আমি লোকদের খাবারের দা'ওয়াত দিলাম। লোকেরা আহার করে বেরিয়ে চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন। তিনি দুই ব্যক্তিকে বসা দেখে আবার ফিরে এলেন। তারপর লোক দুটি উঠে চলে গেল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বিনা অনুমতিতে নবীর ঘরে ঢুকো না এবং আহারের অপেক্ষায়ও বসে থেকো না। তবে তোমাদের খাওয়ার দা'ওয়াত করা হলে তোমরা অবশ্যই আসবে, কিন্তু আহার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরে পড়বে এবং কথাবার্তায় মাশগুল হবে না”— (সূরা আহযাব ৫৩)। সহীহঃ বুখারী (৪৭৯১, ৬২৩৯, ৬২৭১) অনুরূপ। এ হাদীসে দীর্ঘ ঘটনা রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, বাইয়ানের রিওয়ায়াত হিসেবে এটা হাসান গারীব হাদীস। সাবিত (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عمر بن اسماعيل بن مجالد، حدثني ابي، عن بيان، عن انس بن مالك، رضى الله عنه قال بنى رسول الله صلى الله عليه وسلم بامراة من نسايه فارسلني فدعوت قوما الى الطعام فلما اكلوا وخرجوا قام رسول الله صلى الله عليه وسلم منطلقا قبل بيت عايشة فراى رجلين جالسين فانصرف راجعا فقام الرجلان فخرجا فانزل الله عز وجل : ( يا ايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبي الا ان يوذن لكم الى طعام غير ناظرين اناه ) وفي الحديث قصة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من حديث بيان . وروى ثابت عن انس هذا الحديث بطوله
। আবূ মাসউদ আল-আনসারী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। আমরা এ সময় সা'দ ইবনু উবাদাহর মাজলিসে হাযির ছিলাম। বাশীর ইবনু সা'দ (রাযিঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর দরূদ পড়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিচুপ রইলেন। এমনকি আমাদের মনে হল, আমরা যদি তাকে জিজ্ঞেস না করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা বল- “আল্লাহুমা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা 'আলা ইবরাহীম, ওয়া বারিক 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা 'আলা ইবরাহীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।” আর সালাম তো সেভাবেই যেভাবে তোমাদেরকে শেখানো হয়েছে। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাউদ (৯০১), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবূ হুমাইদ, কাব ইবনু উজরাহ, তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ, আবূ সাঈদ, যাইদ ইবনু খারিজাহ বা জারিয়াহ এবং বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا اسحاق بن موسى الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك بن انس، عن نعيم بن عبد الله المجمر، ان محمد بن عبد الله بن زيد الانصاري، وعبد الله بن زيد الذي، كان اري النداء بالصلاة اخبره عن ابي مسعود الانصاري، انه قال اتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن في مجلس سعد بن عبادة فقال له بشير بن سعد امرنا الله ان نصلي عليك فكيف نصلي عليك قال فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى تمنينا انه لم يساله ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قولوا اللهم صل على محمد وعلى ال محمد كما صليت على ال ابراهيم وبارك على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ال ابراهيم في العالمين انك حميد مجيد والسلام كما قد علمتم " . قال وفي الباب عن علي وابي حميد وكعب بن عجرة وطلحة بن عبيد الله وابي سعيد وزيد بن خارجة ويقال ابن جارية وبريدة . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ মূসা (আঃ) খুবই লজ্জাশীল লোক ছিলেন। তিনি নিজের শরীর ভালভাবেই ঢেকে রাখতেন। লজ্জার কারণে তার গায়ের কোন অংশই প্রকাশ পেত না। বনী ইসরাঈলের মন্দ প্রকৃতির কয়েক লোক তাকে বিভিন্নভাবে দুঃখ দিত। এরা বলত, তার এভাবে দেহ ঢেকে রাখার কারণ তার গায়ের কোন সমস্যা আছে অথবা তার গায়ে ধবল রোগ আছে অথবা তার অণ্ডকোষ খুব বড় অথবা অন্য কোন সমস্যা আছে। আল্লাহ তা'আলা তাদের এসব অপবাদ হতে তাকে মুক্ত করার ইচ্ছা করলেন। মূসা (আঃ) এক দিন একাকী নিজের পোশাক খুলে তা একটি পাথরের উপর রেখে গোসল করতে নামলেন। গোসল শেষে তিনি কাপড় নেয়ার জন্য উঠে এলে পাথরটি তার কাপড়সহ দৌড়াতে থাকে। মূসা (আঃ) নিজের লাঠি তুলে নিয়ে পাথরের পিছে পিছে ছোটেন এবং বলতে থাকেনঃ হে পাথর! আমার কাপড় (ফিরিয়ে দাও), হে পাথর! আমার কাপড় (ফিরিয়ে দাও)। এই বলে পাথরের পিছু ধাওয়া করতে করতে তিনি বনী ইসরাঈলের একটি দলের নিকট পৌছে গেলেন। তারা তাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখতে পেল। তারা তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুষ্ঠ সুন্দর দেখল। আল্লাহ তাকে তাদের অপবাদ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাথর থেমে গেল এবং তিনি তার বস্ত্র নিয়ে পরিধান করলেন। তিনি নিজের লাঠি দিয়ে পাথরটিকে আঘাত করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! পাথরের উপর তার লাঠির আঘাতের তিন, চার অথবা পাঁচটি দাগ পড়ে গেল। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা ফরমানঃ “হে ঈমানদারগণ যেসব ব্যক্তি মূসাকে দুঃখ দিয়েছিল তোমরা তাদের মত হয়ো না। আল্লাহ তা'আলা তাদের বানানো কথাবার্তা হতে তার নির্দোষিতা প্রমাণ করেছেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট সম্মানের পাত্র ছিলেন"- (সূরা আহযাব ৬৯)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن عوف، عن الحسن، ومحمد، وخلاس، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم " ان موسى عليه السلام كان رجلا حييا ستيرا ما يرى من جلده شيء استحياء منه فاذاه من اذاه من بني اسراييل فقالوا ما يستتر هذا الستر الا من عيب بجلده اما برص واما ادرة واما افة وان الله عز وجل اراد ان يبريه مما قالوا وان موسى عليه السلام خلا يوما وحده فوضع ثيابه على حجر ثم اغتسل فلما فرغ اقبل الى ثيابه لياخذها وان الحجر عدا بثوبه فاخذ موسى عصاه فطلب الحجر فجعل يقول ثوبي حجر ثوبي حجر حتى انتهى الى ملا من بني اسراييل فراوه عريانا احسن الناس خلقا وابراه مما كانوا يقولون قال وقام الحجر فاخذ ثوبه ولبسه وطفق بالحجر ضربا بعصاه فوالله ان بالحجر لندبا من اثر عصاه ثلاثا او اربعا او خمسا فذلك قوله تعالى : ( يا ايها الذين امنوا لا تكونوا كالذين اذوا موسى فبراه الله مما قالوا وكان عند الله وجيها ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم
। ফারওয়াহ ইবনু মুসাইক আল-মুরাদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোত্রের যেসব ব্যক্তি অগ্রসর হয়েছে (ইসলাম গ্রহণ করেছে) তাদেরকে নিয়ে আমি কি আমার গোত্রের পিছে পড়া ব্যক্তিদের (ইসলাম প্রত্যাখ্যানকারীদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দিলেন এবং আমাকেই আমীর নিযুক্ত করলেন। আমি তার নিকট হতে বিদায় নিয়ে আসার পর তিনি আমার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেনঃ গুতাইকী কোথায়? তাকে জানানো হল যে, আমি চলে গেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমার পিছে পিছে এক লোক পাঠিয়ে আমাকে আবার ফিরিয়ে আনলেন। আমি যখন ফিরে আসি তখন তিনি তার সাহাবা পরিবেষ্টিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার গোত্রের লোকদের প্রথমে ইসলামের দা'ওয়াত দিবে। তাদের মধ্যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তা তুমি অনুমোদন করবে। আর যে লোক ইসলাম গ্রহণ করবে না, আমার পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অন্ত্র ধারণ করার বিষয়ে ধৈর্যহারা হবে না। রাবী বলেন, তারপর সাবা প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হওয়ার ছিল তা নাযিল হল। এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সাবা কি? কোন এলাকার নাম না কোন স্ত্রীলোকের নাম? তিনি বললেনঃ কোন এলাকারও নাম নয় বা কোন স্ত্রীলোকেরও নাম নয়, বরং একজন পুরুষ ব্যক্তির নাম। তার ঔরসে আরবের দশজন লোক জন্মগ্রহণ করে। তাদের ছয়জন ইয়ামানে (দক্ষিণ দিকে) এবং চারজন সিরিয়ায় (বা দিকে) বসতি স্থাপন করে। বা দিকের ব্যক্তিদের নাম হলঃ লাখম, জুযাম, গাসসান ও আমিলা (গোত্র)। আর ডান দিকে গড়ে উঠা বংশের নাম হলঃ আযদ, আশ'আরী, হিমইয়ার, কিনদাহ্, মাযহিজ ও আনমার। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আনমার কওমের ব্যক্তি কারা? তিনি বললেনঃ খাস'আম ও বাজীলাহ বংশের লোকেরা এদের দলে। হাসান সহীহ। হাদীসটি ইবনু আব্বাসের বরাতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا ابو كريب، وعبد بن حميد، وغير، واحد، قالوا اخبرنا ابو اسامة، عن الحسن بن الحكم النخعي، حدثنا ابو سبرة النخعي، عن فروة بن مسيك المرادي، قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله الا اقاتل من ادبر من قومي بمن اقبل منهم فاذن لي في قتالهم وامرني فلما خرجت من عنده سال عني ما فعل الغطيفي فاخبر اني قد سرت قال فارسل في اثري فردني فاتيته وهو في نفر من اصحابه فقال " ادع القوم فمن اسلم منهم فاقبل منه ومن لم يسلم فلا تعجل حتى احدث اليك " . قال وانزل في سبا ما انزل فقال رجل يا رسول الله وما سبا ارض او امراة قال " ليس بارض ولا امراة ولكنه رجل ولد عشرة من العرب فتيامن منهم ستة وتشاءم منهم اربعة فاما الذين تشاءموا فلخم وجذام وغسان وعاملة واما الذين تيامنوا فالازد والاشعريون وحمير ومذحج وانمار وكندة " . فقال رجل يا رسول الله وما انمار قال " الذين منهم خثعم وبجيلة " . وروي هذا عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন আসমানে কোন নির্দেশ ঘোষণা করেন, তখন ফেরেশতারা এই আদেশের উপর আনুগত্য প্রদর্শনার্থে ভয় ও বিনম্রতার সাথে নিজেদের পাখায় শব্দ করেন। মনে হয় যেন পাখাগুলো শিকলের মতো মসৃণ পাথরের উপর আঘাত করছে। তাদের মন হতে ভয়ের ভাব কেটে গেলে তারা একে অপরকে প্রশ্ন করেনঃ “তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন? তারা বলেন, তিনি সঠিক বলেছেন। তিনি তো অতীব মহান ও শ্রেষ্ঠ”— (সূরা সাবা ২৩)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাইতানেরা তখন একে অপরের কাছে সমবেত হয় (উর্ধ্ব জগতের কথা শুনার জন্য)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৯৪), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن عكرمة، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا قضى الله في السماء امرا ضربت الملايكة باجنحتها خضعانا لقوله كانها سلسلة على صفوان فاذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم قالوا الحق وهو العلي الكبير قال والشياطين بعضهم فوق بعض " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক দল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। এমন সময একটি উল্কা পতিত হল এবং আলোকিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ উল্কাপাত হতে দেখলে তোমরা জাহিলী যুগে কি বলতে? তারা বলল, আমরা বলতাম, কোন মহান লোকের মৃত্যু হবে অথবা কোন মহান লোকের জন্ম হবে (এটা তারই আলামাত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন লোকের মৃত্যু অথবা জন্মগ্রহণের আলামাত হিসেবে এটা পতিত হয় না, বরং মহা বারাকাতময় ও মহিমান্বিত নামের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যখন কোন আদেশ জারী করেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেন। তারপর তাদের নিকটতম আসমানের অধিবাসীরা তাসবীহ পড়তে থাকে। এভাবে তাসবীহ ও মহিমা ঘোষণার ধারা এই নিম্নবর্তী আসমানে এসে পৌছে যায়। তারপর ষষ্ঠ আসমানের অধিবাসীরা সপ্তম আসমানের অধিবাসীদের প্রশ্ন করেন, তোমাদের প্রতিপালক কি বলেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারা তাদেরকে ব্যাপারটি জানান। এভাবে প্রত্যেক আসমানের অধিবাসীরা তাদের উপরের আসমানের অধিবাসীদের একইভাবে প্রশ্ন করেন। এভাবে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে এ খবর পৌছে যায়। শাইতানেরা এ তথ্য শুনবার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। তখন এদের উপর উল্কা ছুড়ে মারা হয়। এরা কিছু তথ্য এদের সহগামীদের নিকট পাচার করে। এরা যা সংগ্রহ করে তা তো সত্য, কিন্তু তারা এতে কিছু পরিবর্তন ও কিছু বৃদ্ধি ঘটায়। সহীহঃ মুসলিম (৭/৩৬-৩৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরী (রহঃ) এ হাদীস আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে ইবনু আব্বাস হতে তিনি একদল আনসার সাহাবীর সনদে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম.... হাদীসের শেষ অবধি। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনু হুরাইস-ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আওযাঈ হতে।
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا عبد الاعلى، حدثنا معمر، عن الزهري، عن علي بن حسين، عن ابن عباس، قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس في نفر من اصحابه اذ رمي بنجم فاستنار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما كنتم تقولون لمثل هذا في الجاهلية اذا رايتموه " . قالوا كنا نقول يموت عظيم او يولد عظيم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فانه لا يرمى به لموت احد ولا لحياته ولكن ربنا عز وجل اذا قضى امرا سبح له حملة العرش ثم سبح اهل السماء الذين يلونهم ثم الذين يلونهم حتى يبلغ التسبيح الى هذه السماء ثم سال اهل السماء السادسة اهل السماء السابعة ماذا قال ربكم قال فيخبرونهم ثم يستخبر اهل كل سماء حتى يبلغ الخبر اهل السماء الدنيا وتختطف الشياطين السمع فيرمون فيقذفونها الى اوليايهم فما جاءوا به على وجهه فهو حق ولكنهم يحرفون ويزيدون " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي هذا الحديث، عن الزهري، عن علي بن الحسين، عن ابن عباس، عن رجال، من الانصار رضى الله عنهم قالوا كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم . وروى الاوزاعي عن الزهري عن عبيد الله عن ابن عباس عن رجال من الانصار قالوا كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم . فذكر نحوه بمعناه حدثنا بذلك الحسين بن حريث حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا الاوزاعي
। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ (অনুবাদ) “তারপর আমাদের বান্দাদের ভিতর হতে বাছাই করা ব্যক্তিদেরকে আমরা এ কিতাবের উত্তরাধিকারী বানিয়েছি। তাদের কেউ নিজেদের উপরই যুলমকারী হয়েছে, কেউ মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছে এবং কেউ আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমে নেক কাজসমূহে অগ্রগামী হয়েছে"- (সূরা ফাত্বির ৩২)। এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ আয়াতে বর্ণিত তিন শ্রেণীর ব্যক্তিরা একই মর্যাদা সম্পন্ন (মু'মিন) এবং এরা সকলেই জান্নাতবাসী। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব হাসান। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উক্ত সনদেই জেনেছি।
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى ومحمد بن بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن الوليد بن عيزار، انه سمع رجلا، من ثقيف يحدث عن رجل، من كنانة عن ابي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال في هذه الاية : (ثم اورثنا الكتاب الذين اصطفينا من عبادنا فمنهم ظالم لنفسه ومنهم مقتصد ومنهم سابق بالخيرات ) قال " هولاء كلهم بمنزلة واحدة وكلهم في الجنة " . قال هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বানু সালিমাহ বংশের বসতি মাদীনার এক পাশে ছিল। তারা সেখান হতে তাদের বসতি তুলে মসজিদে নাবাবীর নিকট চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কারণে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “আমরা নিশ্চয়ই মৃতকে জীবিত করি এবং তারা যা আগে পাঠায় আর যা পিছনে রেখে যায় আমরা তা লিখে রাখি"- (সূরা ইয়াসীন ১২)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের পদচিহ্ন লেখা হবে। অতএব তোমরা বসতি স্থানান্তর করো না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৭৮৫) আবূ ঈসা বলেন, সাওরী (রহঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ সুফইয়ানের নাম তরীফ আস-সাদী।
حدثنا محمد بن وزير الواسطي، حدثنا اسحاق بن يوسف الازرق، عن سفيان الثوري، عن ابي سفيان، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد الخدري، قال كانت بنو سلمة في ناحية المدينة فارادوا النقلة الى قرب المسجد فنزلت هذه الاية : (انا نحن نحيي الموتى ونكتب ما قدموا واثارهم ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان اثاركم تكتب فلا ينتقلوا" . قال هذا حديث حسن غريب من حديث الثوري وابو سفيان هو طريف السعدي
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن الجعد بن عثمان، عن انس بن مالك، رضى الله عنه قال تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل باهله - قال - فصنعت امي ام سليم حيسا فجعلته في تور فقالت يا انس اذهب بهذا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقل له بعثت اليك بها امي وهي تقريك السلام وتقول ان هذا لك منا قليل يا رسول الله . قال فذهبت به الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت ان امي تقريك السلام وتقول ان هذا منا لك قليل . فقال " ضعه " . ثم قال " اذهب فادع لي فلانا وفلانا وفلانا ومن لقيت " . فسمى رجالا قال فدعوت من سمى ومن لقيت قال قلت لانس عددكم كم كانوا قال زهاء ثلاثماية . قال وقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا انس هات التور " . قال فدخلوا حتى امتلات الصفة والحجرة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليتحلق عشرة عشرة ولياكل كل انسان مما يليه " . قال فاكلوا حتى شبعوا قال فخرجت طايفة ودخلت طايفة حتى اكلوا كلهم . قال فقال لي " يا انس ارفع " . قال فرفعت فما ادري حين وضعت كان اكثر ام حين رفعت قال وجلس منهم طوايف يتحدثون في بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس وزوجته مولية وجهها الى الحايط فثقلوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلم على نسايه ثم رجع فلما راوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد رجع ظنوا انهم قد ثقلوا عليه قال فابتدروا الباب فخرجوا كلهم وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ارخى الستر ودخل وانا جالس في الحجرة فلم يلبث الا يسيرا حتى خرج على وانزلت هذه الايات فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فقراهن على الناس : ( يا ايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبي الا ان يوذن لكم الى طعام غير ناظرين اناه ) الى اخر الاية . قال الجعد قال انس انا احدث الناس عهدا بهذه الايات وحجبن نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والجعد هو ابن عثمان ويقال هو ابن دينار ويكنى ابا عثمان بصري وهو ثقة عند اهل الحديث روى عنه يونس بن عبيد وشعبة وحماد بن زيد