Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একটি জানোয়ার বের হয়ে আসবে এবং তার সাথে সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর আংটি ও মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি থাকবে। সে (লাঠি দিয়ে) মুমিনদের চেহারা সাফ ও দীপ্তিমান করবে এবং আংটি দিয়ে কাফিরদের নাকে মোহর মেরে দিবে। পরিশেষে তারা একই ভোজসভায় একত্রে মিলিত হবে এবং সেই জানোয়ারটি ডেকে বলবে, এই যে মু’মিন, এই যে কাফির। অতঃপর সে বলবে হে মুমিন, আর সে বলবে হে কাফির। যঈফ, যঈফা (১১০৮)। আবূ ঈসা বলেন এই হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটি অন্য সূত্রে আবূ হুরাইরা হতেও বর্ণিত আছে, এ অনুচ্ছেদে আবূ ওমামা এবং হুযাইফা ইবনু উসাইদ হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن اوس بن خالد، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تخرج الدابة معها خاتم سليمان وعصا موسى فتجلو وجه المومن وتختم انف الكافر بالخاتم حتى ان اهل الخوان ليجتمعون فيقول هاها يا مومن ويقال هاها يا كافر ويقول هذا يا كافر وهذا يا مومن " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روي هذا الحديث عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير هذا الوجه في دابة الارض . وفيه عن ابي امامة وحذيفة بن اسيد
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচাকে বললেনঃ আপনি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলুন, আমি কিয়ামতের দিন এই কালেমার সাহায্যে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। আবূ ত্বালিব বললেন, আমি এরূপ করলে কুরাইশরা আমাকে তিরস্কার করবে এই বলে যে, সে মৃত্যুর ভয়ে এই কালেমা পাঠ করেছে (এবং পূর্বপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে)। এভাবে দোষারোপ করার আশংকা না থাকলে আমি তা স্বীকার করে তোমার আঁখি শীতল করতাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ): “তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবে না, তবে আল্লাহ তা'আলা যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করেন”— (সূরা কাসাস ৫৬)। সহীহঃ মুসলিম (১/৪১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইয়াযীদ ইবনু কাঈসানের সনদেই শুধু আমরা এ হাদীসটি জেনেছি।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن يزيد بن كيسان، حدثني ابو حازم الاشجعي، هو كوفي اسمه سلمان مولى عزة الاشجعية عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمه " قل لا اله الا الله اشهد لك بها يوم القيامة " . فقال لولا ان تعيرني بها قريش انما يحمله عليه الجزع لاقررت بها عينك فانزل الله عز وجل : (انك لا تهدي من احببت ولكن الله يهدي من يشاء ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث يزيد بن كيسان
। সা'দ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার প্রসঙ্গে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারপর তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। সা'দ (রাযিঃ)-এর মা বলল, আল্লাহ তা'আলা কি (পিতা-মাতার) সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর কসম যতক্ষণ পর্যন্ত আমি না মরব অথবা তুমি কুফরীতে প্রত্যাবর্তন না করবে (ইসলাম ত্যাগ না করবে) ততক্ষণ পর্যন্ত আমি পানাহার করব না। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তাকে আহার করাতে চাইলে কাঠ দিয়ে তার মুখ ফাক করে তাকে আহার করাতো। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “আমি মানুষকে তাদের বাবা-মার সাথে ভাল ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছি। কিন্তু তারা যদি আমার সাথে এমন কিছু শারীক করার জন্য তোমার উপর চাপ সৃষ্টি করে, যে প্রসঙ্গে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করো না। আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। পার্থিব জীবনে তোমরা যা করছিলে, তখন আমি তোমাদের তা জানিয়ে দিব”— (সূরা আল-আনকাবূত ৮)। সহীহঃ মুসলিম (৭/১২৫, ১২৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، ومحمد بن المثنى، قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن سماك بن حرب، قال سمعت مصعب بن سعد، يحدث عن ابيه، سعد قال انزلت في اربع ايات . فذكر قصة فقالت ام سعد اليس قد امر الله بالبر والله لا اطعم طعاما ولا اشرب شرابا حتى اموت او تكفر قال فكانوا اذا ارادوا ان يطعموها شجروا فاها فنزلت هذه الاية : (ووصينا الانسان بوالديه حسنا ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ “তোমরাই তো নিজেদের মাজলিসসমূহে প্রকাশ্যে গৰ্হিত কাজ কর"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই লোকেরা (কাওমে লুত) দুনিয়াবাসীদের উপর কাকর ছুড়ে মারতো এবং তাদের সাথে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত। সনদ অত্যন্ত দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধুমাত্র হাতিম ইবনু আবূ সাগীরার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি এবং তিনি সিমাকের বরাতে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আহমাদ ইবনু আবদাহ সুলাইম ইবনু আখযার হাতিম ইবনু আবূ সাগীরা এই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو اسامة، وعبد الله بن بكر السهمي، عن حاتم بن ابي صغيرة، عن سماك بن حرب، عن ابي صالح، عن ام هاني، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى : (اتاتون في ناديكم المنكر ) قال " كانوا يخذفون اهل الارض ويسخرون منهم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن انما نعرفه من حديث حاتم بن ابي صغيرة عن سماك . حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا سليم بن اخضر، عن حاتم بن ابي صغيرة، بهذا الاسناد نحوه
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “আলিফ, লাম, মীম, গুলিবাতির রূম" শীর্ষক আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট আবূ বাকর (রাঃ)-এর বাজি প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আবূ বাকর! তুমি সাবধানতা গ্রহণ করলে না কেন? কেননা ... শব্দটি তো তিন হতে নয় পর্যন্ত সংখ্যা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। যঈফ, যঈফা (৩৩৫৪) আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে অর্থাৎ যুহরীর সনদে এ হাদীস হাসান ও গারীব। তিনি উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে তা বর্ণনা করেছেন।
حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا محمد بن خالد بن عثمة، حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الجمحي، حدثنا ابن شهاب الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لابي بكر في مناحبة : ( الم* غلبت الروم ) " الا احتطت يا ابا بكر فان البضع ما بين الثلاث الى التسع " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من حديث الزهري عن عبيد الله عن ابن عباس
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়, ঠিক এই সময়ে রূমের এশিয়া মাইনরে খৃষ্টান বাহিনী পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে। এ বিষয়টি মুসলিমদেরকে খুবই আনন্দিত করে। এ প্রেক্ষিতে আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “আলিফ, লাম, মীম। রোমকগণ নিকটবর্তী ভূখণ্ডে পরাজিত হয়েছে। তাদের এই পরাজয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তারা আবার বিজয়ী হবে। আগের ও পরের ফাঈসালা আল্লাহ তা'আলারই। সেদিন আল্লাহ তা'আলার সাহায্যে মু’মিনগণ আনন্দিত হবে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। তিনি মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু”— (সূরা আর-রূম ১-৫)। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় এ হাদীসটি সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। নাসর ইবনু আলী (গলাবাতির রূম) পাঠ করেছেন।
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثنا المعتمر بن سليمان، عن ابيه، عن سليمان الاعمش، عن عطية، عن ابي سعيد، قال لما كان يوم بدر ظهرت الروم على فارس فاعجب ذلك المومنين فنزلت : ( الم *غلبت الروم ) الى قوله : (يفرح المومنون بنصر الله ) قال ففرح المومنون بظهور الروم على فارس . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه كذا قرا نصر بن علي : (غلبت الروم)
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ (অনুবাদ) আলিফ, লাম, মীম। রোমকগণ নিকটবর্তী ভূখণ্ডে পরাজিত হয়েছে, এ আয়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে দুই রকমের কিরআত আছে, “গুলিবাত” (পরাজিত হল) এবং “গালাবাত” (বিজয়ী হল)। তিনি আরো বলেন, মুশরিকরা চাইত যে, পারস্য শক্তি রোমান শক্তির উপরে জয়ী হোক। কেননা (মক্কার) মুশরিকরা এবং পারস্যের অধিবাসীরা উভয়ে ছিল পৌত্তলিক। আর মুসলিমরা আকাঙ্ক্ষা করত যে, রোমান শক্তি পারস্য শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী হোক। কেননা তারা ছিল আহলে কিতাব। তারা ব্যাপারটি আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর সামনে উল্লেখ করলে তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানান। তিনি বললেনঃ অচিরেই রোমান শক্তি পারস্য শক্তির উপরে বিজয়ী হবে। আবূ বাকর (রাযিঃ) এ কথা তাদের নিকট উল্লেখ করলে তারা বলল, আপনি আমাদের ও আপনার মাঝে এর একটি সময়সীমা নির্দিষ্ট করুন। এ সময়সীমার মধ্যে আমরা যদি বিজয়ী হই তবে (এত এত মাল আমাদেরকে) দিতে হবে। আর যদি আপনারা বিজয়ী হন তবে আমরা আপনাদেরকে এই এই (পরিমাণ মাল) দিব। তিনি পাঁচ বছরের সময়সীমা নির্দিষ্ট করেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোন বিজয় সূচিত হল না। লোকেরা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ (হে আবূ বাকর!), তুমি কেন আর কিছু বেশি সময়সীমা ধার্য করলে না? বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি দশ বছরের কাছাকাছি সময়ের কথা বলেছেন। সাঈদ (রাহঃ) বলেন, বিযউ’ শব্দের অর্থ দশের চেয়ে কম। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তীকালে রোমান শক্তি বিজয়ী হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটাই আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম!... ইয়াফরাহুল মুমিনুনা বিনাসরিল্লাহ" এর তাৎপর্য। সুফইয়ান বলেন, আমি শুনেছি, রোমান শক্তি ঠিক বদরের যুদ্ধের দিন পারস্য শক্তির উপরে বিজয়ী হয়। সহীহঃ যঈফাহ (২২৫৪) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। আমরা শুধু সুফইয়ানের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। তিনি হাবীব ইবনু আবী আমর’র সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا الحسين بن حريث، حدثنا معاوية بن عمرو، عن ابي اسحاق الفزاري، عن سفيان الثوري، عن حبيب بن ابي عمرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قول الله تعالى : ( الم * غلبت الروم * في ادنى الارض ) قال غلبت وغلبت كان المشركون يحبون ان يظهر اهل فارس على الروم لانهم واياهم اهل اوثان وكان المسلمون يحبون ان يظهر الروم على فارس لانهم اهل كتاب فذكروه لابي بكر فذكره ابو بكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اما انهم سيغلبون " . فذكره ابو بكر لهم فقالوا اجعل بيننا وبينك اجلا فان ظهرنا كان لنا كذا وكذا وان ظهرتم كان لكم كذا وكذا فجعل اجل خمس سنين فلم يظهروا فذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال " الا جعلته الى دون - قال اراه العشر " . قال سعيد والبضع ما دون العشر قال ثم ظهرت الروم بعد . قال فذلك قوله تعالى : ( الم * غلبت الروم ) الى قوله : (يفرح المومنون * بنصر الله ينصر من يشاء ) قال سفيان سمعت انهم ظهروا عليهم يوم بدر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب انما نعرفه من حديث سفيان الثوري عن حبيب بن ابي عمرة
। নিয়ার ইবনু মুকরাম আল-আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হলঃ (অনুবাদ) “আলিফ, লাম, মীম; রোমকরা নিকটবর্তী ভূখণ্ডে পরাজিত হয়েছে; তাদের এই পরাজয়ের পর অচিরেই কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিজয়ী হবে", তখন পারস্য শক্তি রোমকদের উপর প্রভুত্ব করছিল। মুসলিমরা আকাঙ্ক্ষা করত যে, রোমক শক্তি পারস্য শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী হোক। কেননা মুসলিমরা ছিল আহলে কিতাব এবং রোমান খৃষ্টানরাও ছিল আহলে কিতাব। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “সেদিন আল্লাহর দেয়া বিজয়ে মুমিনগণ আনন্দিত হবে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। তিনি মহা পরাক্রমশালী পরম দয়াময়।” কুরাইশরা চাইতো যে, পারস্যশক্তি বিজয়ী হোক। কেননা এ দুই গোত্রের কেউই আহলে কিতাব ছিল না, তারা আখিরাতের প্রতিও বিশ্বাসী ছিল না। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ করলে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) মক্কার অলিতে গলিতে ঘুরে ঘুরে উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করেনঃ আলিফ, লা-ম, মী-ম। রোমান শক্তি নিকটবর্তী অঞ্চলে পরাজিত হয়েছে। তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিজয়ী হবে।” কুরাইশদের একদল লোক আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বলল, আমাদের ও তোমাদের মাঝে একটি চুক্তি হোক। তোমার সাথী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, রোমানরা কয়েক বছরের মধ্যেই পারস্য শক্তির উপরে বিজয়ী হবে। আমরা এ বিষয়ে তোমাদের সাথে বাজি রেখে মাল বন্ধক রাখি না কেন? আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, ঠিক আছে। বর্ণনাকারী বলেন, বাজি হারাম ঘোষিত হওয়ার পূর্বে এই চুক্তি হয়েছিল। আবূ বাকর (রাযিঃ) এবং (রাযিঃ)-কে বলল, আপনি বিযুউ-কে কত নির্ধারণ করতে চান? এ তো তিন হতে নয় বছর পর্যন্ত বুঝা যায়। আপনি আমাদের এবং আপনার মধ্যে একটি মধ্যবর্তী সময় নির্দিষ্ট করুন। আমরা উভয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। বর্ণনাকারী বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে ছয় বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে। বর্ণনাকারী বলেন, ছয় বছর পার হয়ে গেলেও কিন্তু রোমানরা পারসিকদের উপর বিজয়ী হয়নি। অতএব মুশরিকরা আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর অর্থ নিয়ে নিল। কিন্তু সপ্তম বছরে রোমানরা পারসিকদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। মুসলিমরা আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর ছয় বছর বরাদ্ধ করাটাকে দোষারোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা “কয়েক বছরের মধ্যেই” বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় (ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হলে) অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। হাসানঃ যঈফাহ (৩৩৫৪) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, নিয়ার ইবনু মুকরামের হাদীস হিসেবে গারীব। আবদুর রহমান ইবনু আবূয যিনাদের সনদেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا اسماعيل بن ابي اويس، حدثني ابن ابي الزناد، عن ابي الزناد، عن عروة بن الزبير، عن نيار بن مكرم الاسلمي، قال لما نزلت : ( الم * غلبت الروم * في ادنى الارض وهم من بعد غلبهم سيغلبون * في بضع سنين ) فكانت فارس يوم نزلت هذه الاية قاهرين للروم وكان المسلمون يحبون ظهور الروم عليهم لانهم واياهم اهل كتاب وفي ذلك قول الله تعالى : (يوميذ يفرح المومنون * بنصر الله ينصر من يشاء وهو العزيز الرحيم ) فكانت قريش تحب ظهور فارس لانهم واياهم ليسوا باهل كتاب ولا ايمان ببعث فلما انزل الله تعالى هذه الاية خرج ابو بكر الصديق رضى الله عنه يصيح في نواحي مكة : ( الم * غلبت الروم * في ادنى الارض وهم من بعد غلبهم سيغلبون * في بضع سنين ) قال ناس من قريش لابي بكر فذلك بيننا وبينكم زعم صاحبكم ان الروم ستغلب فارسا في بضع سنين افلا نراهنك على ذلك قال بلى . وذلك قبل تحريم الرهان فارتهن ابو بكر والمشركون وتواضعوا الرهان وقالوا لابي بكر كم تجعل البضع ثلاث سنين الى تسع سنين فسم بيننا وبينك وسطا تنتهي اليه . قال فسموا بينهم ست سنين قال فمضت الست سنين قبل ان يظهروا فاخذ المشركون رهن ابي بكر فلما دخلت السنة السابعة ظهرت الروم على فارس فعاب المسلمون على ابي بكر تسمية ست سنين لان الله تعالى قال : (في بضع سنين ) قال واسلم عند ذلك ناس كثير . قال هذا حديث صحيح حسن غريب من حديث نيار بن مكرم لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن ابي الزناد
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গায়িকা নারীদের ক্রয়-বিক্রয় করো না, তাদেরকে গান-বাজনা শিক্ষা দিও না, তাদের (ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা) ব্যবসায়ের মধ্যে কোন মঙ্গল নেই এবং এদের মূল্যও হারাম। এ প্রসঙ্গেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “এমনও কিছু লোক আছে, যারা বাতিল অশ্লীল কাহিনীসমূহ ক্রয় করে আনে, যেন লোকদের অজ্ঞতাবশত আল্লাহ্ তা'আলার পথ হতে আলাদা করতে পারে এবং এ পথকে ঠাট্টা-বিদ্ধপ করতে পারে। এ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে অপমানকর আযাব"- (সূরা লুকমান ৬)। হাসানঃ (১২৮২) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এটি শুধুমাত্র আবূ উমামাহ (রাযিঃ) সূত্রে কাসিম হতে বর্ণিত হয়েছে। কাসিম নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ‘আলী ইবনু ইয়াযীদ হাদীস শাস্ত্রে যঈফ। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি আল-কাসিম নির্ভরযোগ্য এবং ‘আলী ইবনু ইয়াযীদ দুর্বল।
حدثنا قتيبة، حدثنا بكر بن مضر، عن عبيد الله بن زحر، عن علي بن يزيد، عن القاسم بن عبد الرحمن، وهو عبد الرحمن مولى عبد الرحمن عن ابي امامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تبيعوا القينات ولا تشتروهن ولا تعلموهن ولا خير في تجارة فيهن وثمنهن حرام " . في مثل ذلك انزلت عليه هذه الاية : (ومن الناس من يشتري لهو الحديث ليضل عن سبيل الله ) الى اخر الاية . قال ابو عيسى هذا حديث غريب انما يروى من حديث القاسم عن ابي امامة . والقاسم ثقة وعلي بن يزيد يضعف في الحديث قال سمعت محمد بن اسماعيل يقول القاسم ثقة وعلي بن يزيد يضعف
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, “তাদের দেহপাশ বিছানা হতে আলগা হয়ে যায়..."— (সূরা সিজদা্ ১৬) আয়াতটি আতামার (ইশার) নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ফায়ীলাত প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (১/১৬০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد الله بن ابي زياد، حدثنا عبد العزيز بن عبد الله الاويسي، عن سليمان بن بلال، عن يحيى بن سعيد، عن انس بن مالك، ان هذه الاية : ( تتجافى، جنوبهم عن المضاجع، ) نزلت في انتظار هذه الصلاة التي تدعى العتمة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান (এর বর্ণনা) কখনো শুনেনি এবং মানুষের অন্তর তা কল্পনাও করতে পারবে না। এর সত্যতা আল্লাহ তা'আলার কিতাবেই বিদ্যমানঃ “তাদের ভাল কাজের ফল স্বরূপ তাদের চক্ষু শীতলকারী কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তা কেউই জানে না”— (সূরা সিজদা ১৭)। সহীহঃ রাওয়ূন নায়ীর (১১০৬), বুখারী (৪৭৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال " قال الله تعالى اعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رات ولا اذن سمعت ولا خطر على قلب بشر وتصديق ذلك في كتاب الله عز وجل : ( فلا تعلم نفس ما اخفي لهم من قرة اعين جزاء بما كانوا يعملون ) " . قال هذا حديث حسن صحيح
। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মূসা (আঃ) নিজ সৃষ্টিকর্তার নিকট আরজ করলেনঃ হে প্রভু! সর্বাপেক্ষা নিম্ন শ্রেণীর জান্নাতী কে? তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ জান্নাতবাসীরা জান্নাতে চলে যাওয়ার পর এক লোক উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, প্রবেশ কর। সে বলবে, আমি কি করে জান্নাতে প্রবেশ করব, লোকেরা তো নিজ নিজ স্থানে পৌছে তা দখল করে নিয়েছে! তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার বাদশাদের মধ্যে একজন বাদশার যত বড় রাজত্ব হতে পারে, তোমাকে যদি ততটুকু দেয়া হয় তবে তুমি কি খুশি হবে? সে বলবে, হে প্ৰভু! হ্যাঁ আমি তাতে খুশি হব। তাকে বলা হবে, তোমাকে এ পরিমাণ এবং এর অতিরিক্ত তিন গুণ স্থান দেয়া হল। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি এতে খুশি আছি। তাকে বলা হবে, তোমাকে এই পরিমাণ দেয়া হল এবং তার দশ গুণ দেয়া হল। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি সন্তুষ্ট হলাম। তাকে বলা হবে, এ ব্যতীতও তোমার আত্মা যা কামনা করবে এবং তোমার চোখ যা পেয়ে শীতল হবে তাও তোমাকে দেয়া হবে। সহীহঃ মুসলিম (৬/৪৫-৪৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু বর্ণনাকারী শা'বী হতে, তিনি মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে, এই সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুরূপে নয়। তবে মারফুরূপে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مطرف بن طريف، وعبد الملك، وهو ابن ابجر سمعا الشعبي، يقول سمعت المغيرة بن شعبة، على المنبر يرفعه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان موسى عليه السلام سال ربه فقال اى رب اى اهل الجنة ادنى منزلة قال رجل ياتي بعد ما يدخل اهل الجنة الجنة فيقال له ادخل الجنة . فيقول كيف ادخل وقد نزلوا منازلهم واخذوا اخذاتهم . قال فيقال له اترضى ان يكون لك ما كان لملك من ملوك الدنيا فيقول نعم اى رب قد رضيت . فيقال له فان لك هذا ومثله ومثله ومثله فيقول رضيت اى رب . فيقال له فان لك هذا وعشرة امثاله فيقول رضيت اى رب . فيقال له فان لك مع هذا ما اشتهت نفسك ولذت عينك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وروى بعضهم هذا الحديث عن الشعبي عن المغيرة ولم يرفعه والمرفوع اصح
। কাবুস ইবনু আবূ যাবইয়ান (রহঃ) বলেন যে, তার পিতা তাকে বলেছেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলামঃ আপনি কি বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী “আল্লাহ তা'আলা কোন ব্যক্তির বক্ষে দুটি হৃদয় তৈরী করেননি" (সূরাঃ আল-আহ্যাব-৪), এর অর্থ কি? তিনি বললেন, একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলেন। নামাযে তার কিছু (ওয়াসওয়াসা জাতীয়) ক্রটি হয়। যেসব মুনাফিক তার সাথে নামায আদায় করে তারা একে অপরকে বলল, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না যে, তার দুটি হৃদয় আছে? একটি হৃদয় তোমাদের সাথে, অন্যটি হৃদয় তাদের সাথে থাকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “কোন ব্যক্তির বক্ষে আল্লাহ তা'আলা দুটি হৃদয় তৈরী করেননি”। সনদ দুর্বল আবদ ইবনু হুমাইদ-আহমাদ ইবনু ইউনুস হতে তিনি যুহাইর (রহঃ) সূত্রে উপরের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ সনদটিও দুর্বল
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا صاعد الحراني، حدثنا زهير، اخبرنا قابوس بن ابي ظبيان، ان اباه، حدثه قال قلنا لابن عباس ارايت قول الله عز وجل : (ما جعل الله لرجل من قلبين في جوفه ) ما عنى بذلك قال قام نبي الله صلى الله عليه وسلم يوما يصلي فخطر خطرة فقال المنافقون الذين يصلون معه الا ترى ان له قلبين قلبا معكم وقلبا معهم . فانزل الله : (ما جعل الله لرجل من قلبين في جوفه ) . حدثنا عبد بن حميد، حدثني احمد بن يونس، حدثنا زهير، نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযর- যার নামানুসারে আমার নাম রাখা হয়েছে- বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাপারটি তার নিকট অসহনীয় লাগছিল। তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন আমি তাতে অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই দেখবেন আমি কি করি। এ কথা বলার সাথে সাথে তার ভয় হল যে, তিনি বিপরীতের কিছু বলেন কি না। পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হন। উহুদে যেতে পথিমধ্যে সা’দ ইবনু মুআয (রাযিঃ)-এর সাথে তার দেখা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, হে আবূ আমর! কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আহা! জান্নাতের ঘ্রাণের দিকে। আমি উহুদের দিকে তা অনুভব করছি। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তার শরীরে আশিরও বেশি জখম ছিল। এর মধ্যে কিছু ছিল তরবারির আঘাত, কিছু বর্শার আঘাত এবং কিছু তীরের আঘাত। আমার ফুফু রুবাই বিনতু নাযর (রাযিঃ) বলেন, জখমের কারণে আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। শুধু তার আঙ্গুলের গোছা দেখেই তাকে চিনতে পেরেছি। তার সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ (অনুবাদ) “ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি"- (সূরা আহযাব ২৩)। সহীহঃ মুসলিম (৬/৪৫-৪৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن محمد، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، عن انس، قال قال عمي انس بن النضر سميت به لم يشهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فكبر عليه فقال اول مشهد شهده رسول الله صلى الله عليه وسلم غبت عنه اما والله لين اراني الله مشهدا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليرين الله ما اصنع . قال فهاب ان يقول غيرها فشهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم احد من العام القابل فاستقبله سعد بن معاذ فقال يا ابا عمرو اين قال واها لريح الجنة اجدها دون احد فقاتل حتى قتل فوجد في جسده بضع وثمانون من بين ضربة وطعنة ورمية فقالت عمتي الربيع بنت النضر فما عرفت اخي الا ببنانه . ونزلت هذه الاية : (رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার চাচা বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি (চাচা) বলেন, এটাই ছিল প্রথম যুদ্ধ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেন। অথচ এই প্রথম যুদ্ধেই আমি অংশগ্রহণ করতে পারলাম না। আল্লাহ তা'আলা যদি ভবিষ্যতে মুশরিকদের বিরুদ্ধে আমাকে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, তবে তিনি দেখবেন আমি কি করি। তারপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজয়ের সম্মুখীন হলে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! মুশরিকরা যে বিপদ নিয়ে এসেছে আমি তা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর মুসলিমরা যা করেছে সে প্রসঙ্গে তোমার নিকট ওজরখাহি করছি।" তারপর তিনি সামনে আগালেন। তার সঙ্গে সা'দ (রাযিঃ)-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, হে ভাই! তুমি কি করছ, আমি তোমার সাথে আছি। (সা'দ বলেন) কিন্তু সে যা করল আমি তা করতে ব্যর্থ হলাম। তার দেহে আশির বেশি জখম পাওয়া গেল। এর কতগুলো ছিল তরবারির আঘাত, কতগুলো বর্শার আঘাত এবং কতগুলো তীরের আঘাত। আমরা বলাবলি করতাম যে, তার ও তার বন্ধুদের বিষয়ে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ (অনুবাদ) তাদের ভিতর কেউ কেউ ইচ্ছা পূর্ণ করেছে এবং কেউ সময় আসার অপেক্ষায় রয়েছে"- (সূরা আহযাব ২৩)। সহীহঃ বুখারী (২৮০৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর চাচার নাম আনাস ইবনু নাযর।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا حميد الطويل، عن انس بن مالك، ان عمه، غاب عن قتال، بدر فقال غبت عن اول، قتال قاتله رسول الله صلى الله عليه وسلم المشركين لين الله اشهدني قتالا للمشركين ليرين الله كيف اصنع فلما كان يوم احد انكشف المسلمون فقال اللهم اني ابرا اليك مما جاء به هولاء . يعني المشركين واعتذر اليك مما يصنع هولاء . يعني اصحابه ثم تقدم فلقيه سعد فقال يا اخي ما فعلت انا معك فلم استطع ان اصنع ما صنع . فوجد فيه بضع وثمانون من ضربة بسيف وطعنة برمح ورمية بسهم فكنا نقول فيه وفي اصحابه نزلت : (فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر ) . قال يزيد يعني هذه الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . واسم عمه انس بن النضر
। মূসা ইবনু ত্বালহা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুআবিয়াহ (রাযিঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে একটি সুসংবাদ শুনাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যারা নিজেদের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে, ত্বালহা (রাযিঃ) তাদের দলে। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১২৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রে মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস জেনেছি এবং এটি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا عبد القدوس بن محمد العطار البصري، حدثنا عمرو بن عاصم، عن اسحاق بن يحيى بن طلحة، عن موسى بن طلحة، قال دخلت على معاوية فقال الا ابشرك قلت بلى . قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " طلحة ممن قضى نحبه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه من حديث معاوية الا من هذا الوجه وانما روي عن موسى بن طلحة عن ابيه
। তালহা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এক মূৰ্খ বেদুঈনকে বলল, তুমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন কর, “যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে" দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে? সাহাবীগণ সরাসরি তার নিকট এ কথা প্রশ্ন করতে সাহস পাননি। তারা তাকে সম্মান ও সমীহ করতেন। বিদুঈন তার নিকট ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। তারপর আমি মসজিদের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। আমার পরনে ছিল সবুজ কাপড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়, যে মানৎ পূর্ণকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন করেছে? বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে এ লোক (ত্বালহা) তাদের একজন। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১/৩৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ইউনুস ইবনু বুকাইরের সনদে এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا ابو كريب، حدثنا يونس بن بكير، عن طلحة بن يحيى، عن موسى، وعيسى، ابنى طلحة عن ابيهما، طلحة ان اصحاب، رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا لاعرابي جاهل سله عمن قضى نحبه من هو وكانوا لا يجتريون على مسالته يوقرونه ويهابونه فساله الاعرابي فاعرض عنه ثم ساله فاعرض عنه ثم ساله فاعرض عنه ثم اني اطلعت من باب المسجد وعلى ثياب خضر فلما راني رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اين السايل عمن قضى نحبه " . قال الاعرابي انا يا رسول الله . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا ممن قضى نحبه " . قال هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث يونس بن بكير
আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার সহধর্মিণীগণকে (তার স্ত্রীত্বে থাকার বা পার্থিব ভোগবিলাস গ্রহণ করার) এখতিয়ার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলে তিনি প্রথমে আমাকেই প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, হে ‘আয়িশাহ! তোমাকে একটি কথা বলতে চাচ্ছি। তুমি ধীরস্থিরভাবে উত্তর দিবে, তাড়াহুড়া করবে না এবং প্রয়োজনে তোমার বাবা-মার সাথেও শলা-পরামর্শ করবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি ভাল করেই জানতেন যে, আমার পিতামাতা কখনো আমাকে তার হতে পৃথক হওয়ার অনুমতি দিবেন না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর তিনি বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা কর তবে এসো, আমি তোমাদের কিছু ভোগসামগ্ৰী দিয়ে ভদ্রভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করতে চাও, তবে তোমাদের ভিতর যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা মহান পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন"- (সূরা আহযাব ২৮-২৯)। আমি বললাম, আমি কি বিষয়ে আমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ করব! আমি তো আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাতের জীবনই কামনা করি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যে উত্তর দিয়েছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর স্ত্রীগণও একই রকম উত্তর দেন। সহীহঃ বুখারী (৪৭৮৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরী (রহঃ) উরওয়াহ (রাহঃ) হতে এবং তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেও এ হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عثمان بن عمر، عن يونس بن يزيد، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن عايشة، رضى الله عنها قالت لما امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بتخيير ازواجه بدا بي فقال " يا عايشة اني ذاكر لك امرا فلا عليك ان لا تستعجلي حتى تستامري ابويك " . قالت وقد علم ان ابواى لم يكونا ليامراني بفراقه قالت ثم قال " ان الله تعالى يقول: ( يا ايها النبي قل لازواجك ان كنتن تردن الحياة الدنيا وزينتها فتعالين ) حتى بلغ : ( للمحسنات منكن اجرا عظيما ) فقلت في اى هذا استامر ابوى فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة وفعل ازواج النبي صلى الله عليه وسلم مثل ما فعلت . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي هذا ايضا عن الزهري عن عروة عن عايشة رضى الله عنها
। উমার ইবনু আবী সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যিনিরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আশ্রয়ে লালিত পালিত হন। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর ঘরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা তো চান আহলে বাইত হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাবঃ ৩৩), তখন তিনি ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকলেন এবং তাদেরকে একটি কম্বলের ভিতর ঢেকে নিলেন। আলী (রাযিঃ) তার পিছনে ছিলেন। তিনি তাকেও কম্বলের ভিতর নিয়ে নিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত' (পরিবারের সদস্য)। তুমি তাদের ভিতর হতে অপরিচ্ছন্নতা দূর করে দাও এবং সম্পূর্ণরূপে পরিচ্ছন্ন করে দাও।” উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর নবী! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেনঃ তুমি স্ব-স্থানে থাক এবং তুমি কল্যাণের মধ্যেই আছ। সহীহঃ রাওয়ূন নায়ীর (৯৭৬, ১১৯০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আমর ইবনু আবূ সালামাহ হতে আতার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
حدثنا قتيبة، حدثنا محمد بن سليمان بن الاصبهاني، عن يحيى بن عبيد، عن عطاء بن ابي رباح، عن عمر بن ابي سلمة، ربيب النبي صلى الله عليه وسلم قال لما نزلت هذه الاية على النبي صلى الله عليه وسلم : ( انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا ) في بيت ام سلمة فدعا فاطمة وحسنا وحسينا فجللهم بكساء وعلي خلف ظهره فجللهم بكساء ثم قال " اللهم هولاء اهل بيتي فاذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا " . قالت ام سلمة وانا معهم يا نبي الله قال " انت على مكانك وانت على خير " . قال هذا حديث غريب من هذا الوجه من حديث عطاء عن عمر بن ابي سلمة
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছয় মাস পর্যন্ত এই চর্চা ছিল যে, তিনি ফজরের নামাযের জন্য ফাতিমা (রাঃ)-এর ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেনঃ “হে আহলে বাইত! তোমরা নামায কায়িম কর। আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করেন, তোমাদের নবীর ঘরের লোকদের মধ্য হতে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আবূল হামরাআ, মাকিল ইবনু ইয়াসার ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا حماد بن سلمة، اخبرنا علي بن زيد، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمر بباب فاطمة ستة اشهر اذا خرج الى صلاة الفجر يقول " الصلاة يا اهل البيت : ( انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا ) " . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه انما نعرفه من حديث حماد بن سلمة . قال وفي الباب عن ابي الحمراء ومعقل بن يسار وام سلمة