Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ-নাসীহাত করতে দাড়িয়ে বললেনঃ হে লোকেরা! কিয়ামতের দিন তোমরা নগ্ন ও খাতনাহীন অবস্থায় আল্লাহ তা'আলার নিকট সমবেত হবে। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তিনি পড়লেনঃ "যেভাবে প্রথম আমরা সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা একটা ওয়াদাহ্, যা পূরণ করার দায়িত্ব আমার। আর এ কাজ আমি অবশ্যই করবো”— (সূরা আম্বিয়া ১০৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আঃ)। আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাদেরকে ধরে বাঁ দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি তখন বলবঃ হে আমার সৃষ্টিকর্তা! এরা আমার অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা আপনার বিদায়ের পর কি ধরনের বিদ'আতের উদ্ভব ঘটিয়েছিল। আমি সে সময় একজন সৎকর্মশীল বান্দার ঈসা (আঃ)] মত বলবঃ (কুরআনের ভাষায়) “আমি যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ছিলাম ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরিচালক ছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনি তো সকল বিষয়ের সাক্ষী। আপনি যদি তাদেরকে আযাব দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি ক্ষমা করে দেন তাহলে আপনি তো পরাক্রান্তশালী ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)। তখন বলা হবে, আপনি যখন তাদেরকে রেখে এসেছেন তখন হতে এরা অনবরত মন্দ পথেই চলেছে। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। এটি (২৪২৩) নং হাদীসের পুনরুক্তি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি মুগীরাহ ইবনু নু'মান হতে এই সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান সাওরীও এ হাদীসটি মুগীরাহ ইবনু নু'মানের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ সুফইয়ান সাওরী এই হাদীসের মর্মার্থ দ্বারা মুরতাদদেরকে বুঝিয়েছেন যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، ووهب بن جرير، وابو داود قالوا حدثنا شعبة، عن المغيرة بن النعمان، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال قام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالموعظة فقال " يا ايها الناس انكم محشورون الى الله عراة غرلا " . ثم قرا : ( كما بدانا اول خلق نعيده وعدا علينا ) الى اخر الاية قال " اول من يكسى يوم القيامة ابراهيم وانه سيوتى برجال من امتي فيوخذ بهم ذات الشمال فاقول رب اصحابي . فيقال انك لا تدري ما احدثوا بعدك . فاقول كما قال العبد الصالح ( وكنت عليهم شهيدا ما دمت فيهم فلما توفيتني كنت انت الرقيب عليهم وانت على كل شيء شهيد * ان تعذبهم فانهم عبادك وان تغفر لهم فانك انت العزيز الحكيم ) فيقال هولاء لم يزالوا مرتدين على اعقابهم منذ فارقتهم " . حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن المغيرة بن النعمان، نحوه . قال هذا حديث حسن صحيح . ورواه سفيان الثوري عن المغيرة بن النعمان نحوه . قال ابو عيسى كانه تاوله على اهل الردة
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, “হে লোকেরা! তোমাদের প্রভুর গযব হতে নিজকে রক্ষা কর। কিয়ামতের কম্পন বড়ই ভয়াবহ ব্যপার। যেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নিজের দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং লোকদেরকে তোমরা মাতালের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বরং আল্লাহ্ তা'আলার শাস্তিই এতদূর কঠোর হবে" (সূরাঃ আল-হাজ্জ১-২)। রাবী বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটা কোন দিন? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই সবচাইতে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যখন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে বলবেনঃ জাহান্নামের বাহিনী প্রস্তুত কর। আদম (আঃ) বলবেনঃ হে প্ৰভু! জাহান্নামের বাহিনীর সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ (হাজারকে) নয় শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের এবং একজন জান্নাতের বাহিনী। একথা শুনে মুসলিমরা কান্নায় ভেংগে পড়েন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সমতল পথে চলো, আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য খোজ কর, সোজা পথ ধর। প্রত্যেক নাবূয়াতের পূর্বেই রয়েছে জাহিলিয়াত। তিনি আরো বললেনঃ জাহিলিয়াত হতেই বেশি সংখ্যক নেয়া হবে। যদি এতে সংখ্যা পূর্ণ হয় তো ভালো, অন্যথায় মুনাফিকদের দিয়ে সংখ্যা পূর্ণ করা হবে। অপরাপর উম্মাতের ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেমন পশুর বাহুর দাগ অথবা উটের পার্শ্বদেশের তিলক (অর্থাৎ তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে)। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি দেন। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী। তারা এবারও তাকবীর ধ্বনি দেন। রাবী বলেন, তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছেন কি-না তা আমার মনে নেই সনদ দুর্বল, তা’লীকুর রাগীব
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن جدعان، عن الحسن، عن عمران بن حصين، ان النبي صلى الله عليه وسلم لما نزلت : ( يا ايها الناس اتقوا ربكم ان زلزلة الساعة شيء عظيم ) الى قوله : (ولكن عذاب الله شديد ) قال انزلت عليه هذه وهو في سفر فقال " اتدرون اى يوم ذلك " . فقالوا الله ورسوله اعلم . قال " ذلك يوم يقول الله لادم ابعث بعث النار فقال يا رب وما بعث النار قال تسعماية وتسعة وتسعون الى النار وواحد الى الجنة " . قال فانشا المسلمون يبكون فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قاربوا وسددوا فانها لم تكن نبوة قط الا كان بين يديها جاهلية قال فيوخذ العدد من الجاهلية فان تمت والا كملت من المنافقين وما مثلكم والامم الا كمثل الرقمة في ذراع الدابة او كالشامة في جنب البعير ثم قال اني لارجو ان تكونوا ربع اهل الجنة " . فكبروا ثم قال " اني لارجو ان تكونوا ثلث اهل الجنة " . فكبروا ثم قال " اني لارجو ان تكونوا نصف اهل الجنة " . فكبروا قال ولا ادري قال الثلثين ام لا . قال هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। চলার পথে তিনি ও তার সাহাবীগণ আগে-পিছে হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরা হজ্জের প্রথম) এ দু'টি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ “হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার... বস্তুত আল্লাহ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"- (সূরা হাজ্জ ১-২)। তার সাহাবীগণ এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তুযানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগণ তার নিকট পৌছলে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশী ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে ডেকে বলবেনঃ হে আদম! দোযখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! দোযখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জন দোযখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে। সাহাবীগণ একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এই অবস্থা দেখে বললেনঃ কাজ করতে থাক এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা দুটি জীবের সাক্ষাৎ পাবে। তাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। এ দুটি জীব হল ইয়া'যুজ ও মাযুজ এবং আদম সন্তান ও ইবলীসের সন্তানদের মধ্যে যারা মরে গেছে তারা। বর্ণনাকারী বলেন, এতে লোকদের চিন্তা ও বিষন্নতা কিছুটা দূর হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! (অন্যান্য জাতির তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহঃ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
(حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا هشام بن ابي عبد الله، عن قتادة، عن الحسن، عن عمران بن حصين، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فتفاوت بين اصحابه في السير فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم صوته بهاتين الايتين ايها الناس اتقوا ربكم ان زلزلة الساعة شيء عظيم ) الى قوله : ( ان عذاب الله شديد ) فلما سمع ذلك اصحابه حثوا المطي وعرفوا انه عند قول يقوله فقال " هل تدرون اى يوم ذلك " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " ذاك يوم ينادي الله فيه ادم فيناديه ربه فيقول يا ادم ابعث بعث النار . فيقول يا رب وما بعث النار فيقول من كل الف تسعماية وتسعة وتسعون الى النار وواحد في الجنة " . فييس القوم حتى ما ابدوا بضاحكة فلما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي باصحابه قال " اعملوا وابشروا فوالذي نفس محمد بيده انكم لمع خليقتين ما كانتا مع شيء الا كثرتاه ياجوج وماجوج ومن مات من بني ادم وبني ابليس " . قال فسري عن القوم بعض الذي يجدون . فقال " اعملوا وابشروا فوالذي نفس محمد بيده ما انتم في الناس الا كالشامة في جنب البعير او كالرقمة في ذراع الدابة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (বাইতুল্লাহর) বাইতুল আতীক নাম এজন্য হয়েছে যে, কোন স্বেচ্ছাচারীই এর উপর কর্তৃত্ব প্রসার করতে সমর্থ হয়নি। যঈফ, যঈফা (৩২২২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। অন্য এক সূত্রে যুহরী হতে এ হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কুতাইবা হতে তিনি লাইস হতে তিনি আকীল হতে তিনি যুহরী (রাহঃ) হতে এই সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا محمد بن اسماعيل، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الله بن صالح، قال حدثني الليث، عن عبد الرحمن بن خالد، عن ابن شهاب، عن محمد بن عروة بن الزبير، عن عبد الله بن الزبير، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما سمي البيت العتيق لانه لم يظهر عليه جبار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي هذا الحديث عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মক্কাবাসীরা মক্কা হতে নির্বাসিত করে, তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, এই লোকেরা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। এদের নিঃসন্দেহে অনিষ্ট হবে। এ কথার পটভূমিকায় আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হল। কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। এরা সেই লোক, যাদেরকে অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘর-বাড়ী হতে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। তাদের দোষ ছিল এই যে, তারা বলতঃ আল্লাহ তা'আলা আমাদের রব" (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০)। আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ আমি বুঝে গেলাম, শীঘ্রই লড়াই বেধে যাবে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ-সুফিয়ান হতে তিনি আমাশ হতে তিনি মুসলিম আল-বাতীন হতে তিনি সাঈদ ইবনু যুবাইর-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। তাতে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবূ আহমাদ আয-যুবাইর সুফইয়ানের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তাতে ইবনু আব্বাসের উল্লেখ আছে। একাধিক রাবী-সুফিয়ান হতে তিনি আমাশ হতে তিনি মুসলিম আল-বাতীন হতে তিনি সাঈদ ইবনু যুবাইর (রাহঃ) সূত্রে উক্ত হাদীস মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابي واسحاق بن يوسف الازرق، عن سفيان الثوري، عن الاعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال لما اخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال ابو بكر اخرجوا نبيهم ليهلكن فانزل الله : (اذن للذين يقاتلون بانهم ظلموا وان الله على نصرهم لقدير ) الاية . فقال ابو بكر لقد علمت انه سيكون قتال . قال هذا حديث حسن . وقد رواه عبد الرحمن بن مهدي وغيره عن سفيان عن الاعمش عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير مرسلا ليس فيه عن ابن عباس
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা হতে বের করা হলে এক ব্যক্তি বলেন, তারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ “যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে যুদ্ধ করা হয়, কেননা তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে; আর আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম; যারা বহিষ্কৃত হয়েছে অন্যায়ভাবে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে" (সূরা আল-হাজ্জ- ৩৯-৪০) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণকে।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن مسلم البطين، عن سعيد بن جبير، قال لما اخرج النبي صلى الله عليه وسلم من مكة قال رجل اخرجوا نبيهم فنزلت : ( اذن للذين يقاتلون بانهم ظلموا وان الله على نصرهم لقدير * الذين اخرجوا من ديارهم بغير حق ) النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه
। আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হত সে সময় তার মুখমণ্ডলের নিকট হতে মৌমাছির আওয়াজের মত গুনগুন আওয়াজ শোনা যেত। একদিন তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হল। আমি কিছুক্ষণ প্রতীক্ষা করলাম। তার উপর হতে ওয়াহীর বিশেষ অবস্থা সরে গেলে তিনি কিবলামুখী হয়ে তার দুই হাত তুলে দু’আ করলেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদেরকে বেশি দান কর, আমাদেরকে কম দিও না, আমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দাও, আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না, আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না, আমাদেরকে অগ্রগামী কর, আমাদের উপর অন্য কাউকে অগ্রগামী করো না, আমাদেরকে সুপ্রসন্ন কর এবং আমাদের উপর সুপ্রসন্ন থাক।” তারপর তিনি বললেনঃ আমার উপর এমন দশটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যার মানদণ্ডে কেউ কৃতকার্য হলে সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি “কাঁদ আফলাহাল মু'মিনূন" হতে শুরু করে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৪) মুহাম্মাদ ইবনু আবান-আবদুর রাযযাক হতে তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম হতে তিনি ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি যুহরী (রাহঃ) হতে এই সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ পূর্ববতী সূত্রের তুলনায় এই সনদসূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। আমি ইসহাক ইবনু মানসূরকে বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবনু হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম-আবদুর রাযযাক হতে তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম হতে তিনি ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি যুহরী (রাহঃ) সূত্রে এই হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। যিনি প্রথমে আবদুর রাযযাকের নিকট এ হাদীস শুনেছেন তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম-এর পরে ইউনুস ইবনু ইয়াযীদের উল্লেখ করেছেন এবং কিছু রাবী ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের উল্লেখ করেননি। সুতরাং যারা ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের উল্লেখ করেছেন তাদের রিওয়ায়াতই অনেক বেশি সহীহ। আর আবদুর রাযযাক কখনও তার উল্লেখ করেছেন এবং কখনও করেননি। হাদীসটি মুরসাল। পূর্বের অনুরূপ দুর্বল
حدثنا يحيى بن موسى، وعبد بن حميد، وغير، واحد المعنى، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، عن يونس بن سليم، عن الزهري، عن عروة بن الزبير، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، قال سمعت عمر بن الخطاب، رضى الله عنه يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا نزل عليه الوحى سمع عند وجهه كدوي النحل فانزل عليه يوما فمكثنا ساعة فسري عنه فاستقبل القبلة ورفع يديه وقال " اللهم زدنا ولا تنقصنا واكرمنا ولا تهنا واعطنا ولا تحرمنا واثرنا ولا توثر علينا وارضنا وارض عنا " . ثم قال صلى الله عليه وسلم " انزل على عشر ايات من اقامهن دخل الجنة " . ثم قرا : ( قد افلح المومنون ) حتى ختم عشر ايات . حدثنا محمد بن ابان، حدثنا عبد الرزاق، عن يونس بن سليم، عن يونس بن يزيد، عن الزهري، بهذا الاسناد نحوه بمعناه . قال ابو عيسى هذا اصح من الحديث الاول سمعت اسحاق بن منصور، يقول روى احمد بن حنبل، وعلي بن المديني، واسحاق بن ابراهيم، عن عبد الرزاق، عن يونس بن سليم، عن يونس بن يزيد، عن الزهري، هذا الحديث . قال ابو عيسى ومن سمع من عبد الرزاق، قديما فانهم انما يذكرون فيه عن يونس بن يزيد وبعضهم لا يذكر فيه عن يونس بن يزيد ومن ذكر فيه يونس بن يزيد فهو اصح وكان عبد الرزاق ربما ذكر في هذا الحديث يونس بن يزيد وربما لم يذكره واذا لم يذكر فيه يونس فهو مرسل
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, নাযর-এর মেয়ে রুবাই (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হলেন। উক্ত মহিলার পুত্র হরিসাহ ইবনু সুরাকাহ বদরের যুদ্ধে অদৃশ্য তীরের আঘাতে শহীদ হন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেন, আমাকে হারিসাহর অবস্থা প্রসঙ্গে বলুন। সে যদি কল্যাণের অধিকারী হয়ে থাকে তবে আমি পুণ্যের আশাবাদী থাকব এবং ধৈর্য ধারণ করব। আর সে যদি কল্যাণ লাভ না করে থাকে তবে আমি তার জন্য দু’আ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হারিসাহর মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীর উদ্যান রয়েছে। তোমার ছেলে সুউচ্চ উদ্যান জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ করেছে। ফিরদাউস হল জান্নাতের উচ্চ ভূমি, জান্নাতের কেন্দ্রভূমি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্যান। সহীহঃ সহীহাহ (১৮১১, ২০০৩), মুখতাসারুল উলুবি (৭৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن سعيد، عن قتادة، عن انس بن مالك، رضى الله عنه ان الربيع بنت النضر، اتت النبي صلى الله عليه وسلم وكان ابنها حارثة بن سراقة اصيب يوم بدر اصابه سهم غرب فاتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اخبرني عن حارثة لين كان اصاب خيرا احتسبت وصبرت وان لم يصب الخير اجتهدت في الدعاء . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا ام حارثة انها جنان في جنة وان ابنك اصاب الفردوس الاعلى والفردوس ربوة الجنة واوسطها وافضلها " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث انس
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলামঃ “তারা যা কিছুই দান করে তাতে তাদের অন্তর প্রকম্পিত থাকে”— (সূরা মু'মিনূন ৬০)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এরা কি মদখোর ও চোর? তিনি বললেনঃ হে সিদ্দীকের মেয়ে! না এরা তা নয়, বরং যারা নামায আদায় করে, রোযা রাখে, দান-খাইরাত করে এবং মনে মনে এই ভয় পোষণ করে যে, তাদের পক্ষ হতে এগুলো কবুল করা হল কি না? এরাই “কল্যাণের কাজ দ্রুত শেষ করে এবং তাতে অগ্রগামী হয়"- (সূরা মু'মিনূন ৬১)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪১৯৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবদুর রহমান ইবনু সাঈদ-আবূ হাযিম হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও একই রকম বর্ণিত আছে।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، حدثنا مالك بن مغول، عن عبد الرحمن بن سعيد بن وهب الهمداني، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الاية : ( والذين يوتون ما اتوا وقلوبهم وجلة ) قالت عايشة اهم الذين يشربون الخمر ويسرقون قال " لا يا بنت الصديق ولكنهم الذين يصومون ويصلون ويتصدقون وهم يخافون ان لا يقبل منهم اوليك الذين يسارعون في الخيرات وهم لها سابقون " . قال وقد روي هذا الحديث عن عبد الرحمن بن سعيد عن ابي حازم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “তারা জাহান্নামে থাকবে বীভৎস চেহারায়” (সূরাঃ আল-মুমিনুনঃ ১০৪) আয়াত প্রসঙ্গে বলেনঃ আগুন তাদেরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ঝলসিয়ে দিবে। ফলে তাদের উপরের ঠোট কুঞ্চিত হয়ে মাথার মাঝখানে পৌছে যাবে। আর নীচের ঠোঁট এত চিলা হয়ে যাবে যে, তা নাভী পর্যন্ত পৌছে যাবে। যঈফ, ২৭১৩ নং হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن سعيد بن يزيد ابي شجاع، عن ابي السمح، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : (وهم فيها كالحون ) قال " تشويه النار فتقلص شفته العليا حتى تبلغ وسط راسه وتسترخي شفته السفلى حتى تضرب سرته " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, মারসাদ ইবনু আবী মারসাদ নামক এক লোক যুদ্ধবন্দীদেরকে মক্কা হতে মদীনায় নিয়ে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আনাক্ নামে মক্কার এক দুশ্চরিত্রা নারী এই মারসাদের প্রেমিকা ছিল। সে (আবূ মারসাদ) মাক্কার এক বন্দীকে কথা দিয়েছিল যে, সে তাকে মাদীনায় নিয়ে যাবে। মারসাদ বলেন, আমি এ উদ্দেশে রাওনা হয়ে এক পূর্ণিমা রাতে মক্কার এক প্রাচীরের ছায়ায় পৌছলাম। আনাকও এলো। সে প্রাচীর গোত্রে আমার কালো ছায়া দেখতে পেল। সে আমার নিকট পৌছে আমাকে চিনে ফেলল। সে প্রশ্ন করল, মারসাদ নাকি? আমি বললাম, মারসাদ। সে আমাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং বলে, এসো এ রাতটা আমার সাথে কাটাও। আমি বললাম, হে আনাক আল্লাহ তা'আলা যিনা হারাম করে দিয়েছেন। সে (নিজেদের তাবুতে ফিরে গিয়ে) বলল, হে তাবুর অধিবাসীরা এই ব্যক্তি তোমাদের বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে। এ কথা শোনামাত্র আটজন আমার পিছু নিল। আমি চলতে চলতে খানদামা পাহাড়ে গিয়ে একটি গুহা পেয়ে তাতে ঢুকে পড়লাম। লোকগুলিও আমার পিছে পিছে আসল। তারা (গুহাটিকে খালি মনে করে) আমার মাথার উপর থেকে পেশাব করে দিল। তাদের পেশাব আমার মাথায় এসে পড়ল। আল্লাহ তা'আলা এই লোকগুলোকে আমাকে দেখার ব্যাপারে অন্ধ করে দিলেন (তারা আমাকে দেখতে পেল না)। তারা ফিরে গেল, আমিও যাকে আনতে গিয়েছিলাম তার নিকট ফিরে এলাম। আমি তাকে তুলে নিলাম। তার দেহের ওজন খুব বেশি ছিল। আমি তাকে নিয়ে ইযখির নামক স্থানে পৌছে তার জিঞ্জীর খুলে দিলাম। আমি তাকে পিঠে তুলে নিলাম। তাকে বহন করা আমার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি মাদীনায় পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আনাককে কি আমি বিয়ে করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং আমার কথার কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “যিনাকারী পুরুষ যিনাকারিণী নারী অথবা মুশরিক নারীকেই বিবাহ করবে। আর যিনাকারিণী নারীকে শুধু যিনাকারী অথবা মুশরিক পুরুষরাই বিবাহ করবে আর মু'মিনদের জন্য তা হারাম করা হয়েছে”— (সূরা আন-নূর ৩)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মারসাদ ব্যভিচারী পুরুষ শুধু ব্যভিচারী নারীকে অথবা মুশরিক নারীকেই বিবাহ করবে। আর ব্যভিচারিণীকে শুধু ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোকই বিবাহ করবে। অতএব তুমি তাকে বিয়ে করো না। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধু উল্লেখিত সনদেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، عن عبيد الله بن الاخنس، اخبرني عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، قال كان رجل يقال له مرثد بن ابي مرثد وكان رجلا يحمل الاسرى من مكة حتى ياتي بهم المدينة قال وكانت امراة بغي بمكة يقال لها عناق وكانت صديقة له وانه كان وعد رجلا من اسارى مكة يحمله قال فجيت حتى انتهيت الى ظل حايط من حوايط مكة في ليلة مقمرة . قال فجاءت عناق فابصرت سواد ظلي بجنب الحايط فلما انتهت الى عرفته فقالت مرثد فقلت مرثد . فقالت مرحبا واهلا هلم فبت عندنا الليلة . قال قلت يا عناق حرم الله الزنا . قالت يا اهل الخيام هذا الرجل يحمل اسراكم . قال فتبعني ثمانية وسلكت الخندمة فانتهيت الى كهف او غار فدخلت فجاءوا حتى قاموا على راسي فبالوا فطل بولهم على راسي واعماهم الله عني . قال ثم رجعوا ورجعت الى صاحبي فحملته وكان رجلا ثقيلا حتى انتهيت الى الاذخر ففككت عنه كبله فجعلت احمله ويعينني حتى قدمت المدينة فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله انكح عناقا مرتين فامسك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يرد على شييا حتى نزلت : (الزاني لا ينكح الا زانية او مشركة والزانية لا ينكحها الا زان او مشرك وحرم ذلك على المومنين ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا مرثد الزاني لا ينكح الا زانية او مشركة والزانية لا ينكحها الا زان او مشرك فلا تنكحها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুস’আব ইবনুয যুবাইরের শাসনামলে আমাকে লি’আনকারী দম্পত্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলঃ তাদেরকে পৃথক করে দিতে হবে কি না? আমি এর কি উত্তর দিব তা বুঝতে পাচ্ছিলাম না। আমি আমার ঘর হতে উঠে 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর ঘরের দিকে রওনা হলাম। আমি তার নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইবনু জুবাইর! ভিতরে এসো। নিশ্চয়ই তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে এসেছ। তিনি বলেন, আমি ভিতরে ঢুকলাম। তিনি তার হাওদার চাটাই বিছিয়ে উহার উপর শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান! লি আনকারী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিতে হবে কি? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! হ্যাঁ। অমুকের ছেলে অমুকই এ সম্পর্কে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করেছিল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি মত, যদি আমাদের কোন লোক তার স্ত্রীকে অশ্লীল কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত দেখে তখন সে কি করবে? সে যদি মুখে তা বলে, তবে সে একটা মারত্মক বিষয়ে (যিনার অপবাদে) মুখ খুলল। আর সে যদি চুপ থাকে তাহলেও সে একটা চরম গৰ্হিত বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখল। বর্ণনাকারী বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন এবং তাকে কিছুই বলল না। লোকটি আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইতোপূর্বে যে বিষয়ে আপনার নিকট জিজ্ঞেস করছিলাম, এখন আমি নিজেই সে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরের আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ (অনুবাদ) “আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতীত আর কোন প্রমাণ নেই, তাদের প্রত্যেকের কথা হবে যে, সে চারবার আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে বলবে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহ তা'আলার আযাব পতিত হোক"(সূরা আন-নূর ৬-৭)। তিনি আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি লোকটিকে ডেকে এ আয়াতগুলো পড়ে শুনান, তাকে ওয়াজ-নাসীহাত করে বুঝান এবং তাকে আরো অবহিত করেন যে, আখিরাতের শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অনেক হালকা ও সহজ। সে বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি তার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ আনিনি। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডাকেন, তাকে ওয়াজ-নসীহাত করে শুনান এবং বুঝান যে, আখিরাতের কষ্টের তুলনায় দুনিয়ার কষ্ট খুবই হালকা। স্ত্রীলোকটি বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দীন সহ পাঠিয়েছেন। সে সত্য কথা বলেনি। তারপর তিনি পুরুষ লোকটিকে ডাকলেন। সে আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিল যে, সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার উপর আল্লাহ তা'আলার অভিশাপ পতিত হোক। তিনি স্ত্রীলোকটিকেও এভাবে শপথ করান। সে আল্লাহ তা'আলার নামে প্রতিজ্ঞা করে চারবার বলল, সে (স্বামী) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ তা'আলার গযব পতিত হোক। তারপর তিনি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিলেন। সহীহঃ মুসলিম (২০৬, ২০৭) এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হিলাল ইবনু উমাইয়্যাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শারীক ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর যিনার অভিযোগ দায়ের করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রমাণ হাযির কর, অন্যথায় তোমার পিঠে চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোন পুরুষ লোককে গৰ্হিত কাজে লিপ্ত দেখে, তখন সে কি সাক্ষী খুঁজে বেড়াবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকেনঃ প্রমাণ দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে শাস্তির চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাযিঃ) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন! অবশ্যই আমি সত্যবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার বিষয়ে ওয়াহী অবতীর্ণ হবে যা আমার পিঠকে কষ্ট হতে রেহাই দিবে। তারপর অবতীর্ণ হলঃ “যারা নিজেদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে (যিনার) অভিযোগ আনে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগে) অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহ তা'আলার অভিসম্পাত হোক। আর স্ত্রীলোকটির কষ্ট রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, এ লোক (তার উত্থাপিত অভিযোগে) মিথ্যাবাদী। সে পঞ্চম বারে বলবে, সে (অভিযোগকারী স্বামী) সত্যবাদী হলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ তা'আলার গযব পতিত হোক"- (সূরা আন-নূর ৬-৯)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর হয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয়কে ডেকে পাঠান। তারা উভয়ে হাযির হলে হিলাল (রাযিঃ) দাড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অবগত আছেন যে, তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তোমাদের মধ্যে কে তওবা করতে প্রস্তুতঃ তারপর মেয়েলোকটি দাড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বারে বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ তা'আলার গযব নিপতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এ কথা (শাস্তিকে) অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে থেমে গেল এবং পিছনে সরে আসল। আমরা ধারণা করলাম যে, সে তার কথা হতে ফিরে আসবে। অতঃপর মেয়েলোকটি বলল, আমি চিরকালের জন্য আমার গোত্রে কালিমা লেপন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এই স্ত্রীলোকটির উপর নজর রেখ। সে যদি কাজল বর্ণের চোখ, প্রশস্ত নিতম্ব ও পায়ের গোশত গোছাযুক্ত সন্তান প্রসব করে তবে সে সন্তান শারীক ইবনু সাহমারই। পরবর্তীতে মহিলাটি ঐ রূপ সন্তানই প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি আগেই আল্লাহ তা'আলার হুকুম (লি'আনের বিধান) না এসে যেত, তাহলে আমাদের এবং তার মধ্যে একটা বিরাট কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দেয়া হত)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ, (২০৬৭) বুখারী (৪৭৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, হিশাম ইবনু হাসসানের বর্ণনা হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আব্বাদ ইবনু মানসূর-ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আইয়ূব এ হাদীস ইকরিমার সনদে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনু আব্বাসের উল্লেখ করেননি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন আমার বিষয়ে চর্চা হচ্ছিল যে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন। তিনি তাশাহহুদ পড়ে আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও গুণগান করার পর বলেনঃ তারপর তোমরা আমাকে ঐ সব ব্যক্তির বিষয়ে বুদ্ধি দাও, যারা আমার সহধর্মিণীর ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবারের (স্ত্রীর) মধ্যে কখনো কোন দোষ দেখিনি। এসব ব্যক্তি যার ব্যাপারে বদনাম রটিয়ে বেড়াচ্ছে। আল্লাহর কসম! আমি এ ধরনের কোন দুষ্কর্ম তার মধ্যে কখনো দেখিনি। সে (সাফওয়ান) আমার অনুপস্থিতিতে কখনো আমার ঘরে ঢুকেনি। আমি যখন উপস্থিত থাকতাম তখনই সে আমার ঘরে ঢুকত। আমি যখন সফরের কারণে ঘরে অনুপস্থিত থাকতাম, তখন সেও আমার সঙ্গেই থাকত। সা'দ ইবনু মুআয (রাযিঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এদের ঘাড় উড়িয়ে দেই। তখন খাযরাজ বংশের এক লোক উঠে দাঁড়ালো। হাসসান ইবনু সাবিতের মা এই বংশের সন্তান। লোকটি বলল, তুমি মিথ্যাবাদী। আল্লাহর কসম! এরা যদি আওস গোত্রের লোক হত, তাহলে তুমি তাদের ঘাড় উড়িয়ে দেয়া কখনো পছন্দ করতে না। তর্ক-বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌছে গেল যে, আওস ও খাযরাজ বংশদ্বয়ের মধ্যে মসজিদের ভিতরেই মারামারি লেগে যাওয়ার উপক্রম হল। অথচ এ (অপবাদ) বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ঐ দিন সন্ধ্যা রাতে আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম। আমার সাথে মিসতাহর মা ও ছিল। সে হোচট খেয়ে পড়ে গিয়ে বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি তাকে বললাম, হে! তুমি মা হয়ে তোমার ছেলের অমঙ্গল কামনা করছ? সে চুপ হয়ে গেল। সে আবার হোচট খেল এবং বলল, মিসতাহ শেষ হোক। আমি তাকে তিরস্কার করে বললাম, হে! তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল ডাকছ। সে চুপ হয়ে গেল। সে তৃতীয়বার হোচট খেল এবং বলল, মিসতাহর সর্বনাশ হোক। আমি তাকে কঠোরভাবে বললাম, তুমি কেমন মা, নিজের ছেলের অমঙ্গল চাচ্ছ! সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তোমার জন্যই তাকে গালমন্দ করছি। আমি প্রশ্ন করলাম, আমার কারণে কিভাবে? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে আমার নিকট সমস্ত ব্যাপার বর্ণনা করল। আমি (তা শুনে) বললাম, এই সব কথা রটেছে নাকি? সে বলল, হ্যাঁ। ["আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম। আল্লাহর কসম! আমার এমন অবস্থা হল যে, যেজন্য এসেছিলাম সে প্রয়োজনের কথা ভুলেই গেলাম। আমার গায়ে জ্বর এসে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, আমাকে আমার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিন। তিনি আমার সাথে একটি বালককে দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। আমি ঘরে ঢুকে উম্মু রুমানকে (মাকে) ঘরের নীচের অংশে দেখতে পেলাম। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) ঘরের উপরি তলে কুরআন পড়ছিলেন। মা প্রশ্ন করলেন, কন্যা! তুমি কেন এসেছ? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি মাকে বিষয়টি সম্পূর্ণ খুলে বললাম। কিন্তু আমি যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছি সে তুলনায় তিনি ততটা ভারাক্রান্ত নন। তিনি বললেন, কন্যা! ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নাও। আল্লাহর কসম! কোন পুরুষের সুন্দরী স্ত্রী থাকলে, সে তার প্রিয়পাত্রী হলে এবং তার সতীন থাকলে তারা তার সাথে হিংসা করবে না, তার বিষয়ে কিছু রটাবে না এরূপ কমই হয়ে থাকে। মোটকথা আমি যতটা দুঃখ পেলাম মা ততটা পেলেন না। আমি মাকে প্রশ্ন করলাম, আব্বাও কি ব্যাপারটি জানেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি ভারাক্রান্ত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। আবূ বকর (রাযিঃ) আমার কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি ঘরের উপরি তলে কুরআন পাঠ করছিলেন। তিনি নেমে এসে মাকে বললেন, ওর কি হয়েছে? মা বললেন, ওর বিষয়ে যেসব মিথ্যা বলা হচ্ছে, এ সংবাদ সে শুনে ফেলেছে। এ কথা জেনে বাবার দু'চোখে পানি এলো। তিনি বললেন, কন্যা! তোমাকে আল্লাহ তা'আলার নামে কসম করে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি ঘরে ফিরে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এসে আমার কাজের মেয়েকে আমার বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি, তবে এতটুকু যে, সে ঘুমিয়ে পড়ত, আর বকরী এসে তার পেষা আটা খেয়ে যেত। তার কিছু সাহাবী মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সত্য কথা বল। তারা তাকে অনেক দাবালেন এবং ধমকালেন। সে বলল, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমি তার ব্যাপারে তা-ই জানি স্বর্ণকার খাটি রঙ্গিন সোনা প্রসঙ্গে যা জানে। যে ব্যক্তিকে এই অপবাদের সাথে জড়ানো হয়েছিল তার কানেও এ খবর পৌছল। সে বলল, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমি কখনো কোন নারীর সতর খুলিনি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। তিনি বলেন, আমার পিতা-মাতা খুব ভোরে আমার নিকট এলেন। আমার ঘরে এলেন। আমার পিতা-মাতা ডান দিক-বা দিক হতে আমাকে ঘিরে বসেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালিমা শাহাদাত পাঠ করলেন, আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত সম্মান ও গুণগান করলেন, তারপর বলেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি যদি কোন মন্দ কাজ করে থাক অথবা নিজের উপর যুলুম করে থাক, তবে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাও। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এ সময় আনসার বংশের একটি স্ত্রীলোক আসে। সে দরজার নিকট বসে ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাটির সামনে এ কথা বলতে লজ্জাবোধ করছেন না? মোটকথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। আমি আমার পিতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তার কথার উত্তর দিন। তিনি বললেন, আমি তাকে কি উত্তর দিব? আমি আমার মায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, আপনি তাকে এর উত্তর দিন। তিনিও বলেন, আমি তাকে কি বলব? তাদের কেউই যখন উত্তর দেননি, তখন আমি কলেমা শাহাদাত তিলাওয়াত করলাম, আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত সুনাম ও প্রশংসা করলাম, তারপর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি আপনাদের বলি, আমি কখনো তা করিনি এবং আল্লাহ তা'আলা সাক্ষী আছেন, আমি সত্যবাদিনী, তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবে না। কেননা আপনারা তা আলোচনা করেছেন এবং তাতে আপনাদের মন রঞ্জিত হয়েছে। আর আমি যদি বলি, আমি করেছি এবং আল্লাহ তা'আলা জানেন আমি তা করিনি, তখন আপনারা বলবেন, সে নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের এবং আমার জন্য কোন উদাহরণ খুঁজে পাচ্ছি না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ইয়াকুব (আঃ)-এর নাম স্মরণ করতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারলাম না। শুধু "ইউসুফের বাবা” স্মরণে আসছিল। তিনি যখন বলেছিলেনঃ “পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা আমার সাহায্য স্থল”- (সূরা ইউসুফ ১৮)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, ঠিক সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হতে লাগল। আমরা চুপ থাকলাম। তার উপর হতে ওয়াহীর অবস্থা দূর হলে আমি তার মুখমণ্ডলে আনন্দের ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি তার মুখমণ্ডলের ঘাম মুছছেন আর বলছেনঃ হে আয়িশাহ! তোমার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহ তা'আলা তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন উত্তেজিত অবস্থায় ছিলাম। আমার পিতা-মাতা আমাকে বললেনঃ উঠে তার নিকট যাও। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তার নিকট উঠে যাব না, তার সুনামও করব না এবং আপনাদের প্রশংসাও করব না। বরং আমি সেই আল্লাহ তা'আলার সুনাম করব যিনি আমার নির্দোষিতার ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। আপনারা এ অপবাদ শুনেছেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যানও করেননি বা প্রতিহতও করেননি। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, জাহাশ-কন্যা যাইনাবের দীনদারীর জন্য আল্লাহ তা'আলা তাকে হিফাযাত করেছেন। সে ভাল ব্যতীত কখনো অন্য কিছু বলেনি। কিন্তু তার বোন হামনা ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা এ অপবাদ রটায় তাদের মধ্যে ছিলঃ মিসতাহ, হাসসান ইবনু সাবিত ও মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই। সে অপবাদ রটাত এবং তা ছড়িয়ে বেড়াত। সে ও হামনা ছিল এই আপত্তিকর অপবাদ ছড়ানোর বড় হোতা। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) কসম করেন যে, তিনি আর কখনো মিসতাহর কোনভাবে উপকার করবেন না (ভরণ-পোষণ বহন করবেন না)। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমাদের মধ্যে যারা (আবূ বাকরকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে) ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, তারা আত্মীয়, গারীব ও আল্লাহ তা'আলার পথের মুহাজিরদের (মিসতাহকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে) কিছুই দিবে না.....তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মাফ করুনঃ আল্লাহ তা'আলা বড়ই ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়"- (সূরা আন-নূর ২২)। আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই আপনার ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি আগের মতো মিসতাহর ভরণ-পোষণের ভার বহন করেন। সহীহঃ বুখারী (৪৭৫৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ হিশাম ইবনু উরওয়াহর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব। ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ, মা'মার প্রমুখ-যুহরী হতে, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে, তিনি "আলকামাহ্ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লাইসী ও উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ হতে, তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে উপর্যুক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। হিশাম ইবনু উরওয়াহর রিওয়ায়াতের তুলনায় এই রিওয়ায়াতটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘতর।
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার নির্দোষিতা বর্ণনা করে আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে তা বর্ণনা করেন, তারপর কুরআন তিলাওয়াত করেন। মিম্বার হতে অবতরণ করে তিনি দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে বেত্ৰাঘাত করার নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তাদেরকে (অপবাদ রটনাকারীদেরকে) হাদের আওতায় শাস্তি দেয়া হয়। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (২৫৬৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সনদে এই হাদীস জেনেছি।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن محمد بن اسحاق، عن عبد الله بن ابي بكر، عن عمرة، عن عايشة، قالت لما نزل عذري قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر فذكر ذلك وتلا القران فلما نزل امر برجلين وامراة فضربوا حدهم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث محمد بن اسحاق
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কি? তিনি বললেনঃ তুমি কাউকে আল্লাহ তা'আলার শারীক বা সমকক্ষ বানালে, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তানরা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদেরকে হত্যা করা। তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনায় লিপ্ত হওয়া। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৩৩৭), সহীহ আবূ দাউদ (২০০০), বুখারী (৪৭৬১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। বুনদার-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি মানসূর হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবূ ওয়ায়িল হতে, তিনি আমর ইবনু শুরাহবীল হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও উপরের হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ সনদে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن واصل، عن ابي وايل، عن عمرو بن شرحبيل، عن عبد الله، قال قلت يا رسول الله اى الذنب اعظم قال " ان تجعل لله ندا وهو خلقك " . قال قلت ثم ماذا قال " ان تقتل ولدك خشية ان يطعم معك " . قال قلت ثم ماذا قال " ان تزني بحليلة جارك " . قال هذا حديث حسن غريب . حدثنا محمد بن بشار، بندار حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن منصور، والاعمش، عن ابي وايل، عن عمرو بن شرحبيل، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কোনটি? তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে তোমার শারীক বানানো, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন; (২) তোমার সন্তানরা তোমার সাথে আহার করবে অথবা তোমার খাবারে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদেরকে হত্যা করা; (৩) তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনা করা। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কোন মা’বুদকে ডাকে না, আল্লাহ তা'আলা যাকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারেও জড়িত হয় না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনন্ত কাল লাঞ্ছিত অবস্থায় থাকবে”— (সূরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম,প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, মানসূর ও আ'মাশ-এর সনদে বর্ণিত সুফইয়ানের হাদীসটি ওয়াসিলের সনদে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ। কেননা তিনি (ওয়াসিল) তার সনদে আরো একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহু হতে, তিনি ওয়াসিল হতে, তিনি আবূ ওয়ায়িল হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এ সূত্রে উপরের হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আমর ইবনু শুরাহবীলের উল্লেখ নেই।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا سعيد بن الربيع ابو زيد، حدثنا شعبة، عن واصل الاحدب، عن ابي وايل، عن عبد الله، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم اى الذنب اعظم قال " ان تجعل لله ندا وهو خلقك وان تقتل ولدك من اجل ان ياكل معك او من طعامك وان تزني بحليلة جارك " . قال وتلا هذه الاية : (والذين لا يدعون مع الله الها اخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذلك يلق اثاما * يضاعف له العذاب يوم القيامة ويخلد فيه مهانا ) . قال ابو عيسى حديث سفيان عن منصور والاعمش اصح من حديث شعبة عن واصل لانه زاد في اسناده رجلا . حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا محمد بن جعفر، عن شعبة، عن واصل، عن ابي وايل، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال وهكذا روى شعبة عن واصل عن ابي وايل عن عبد الله ولم يذكر فيه عمرو بن شرحبيل
। আয়িশাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, “তোমার নিকটাত্মীয়-স্বজনদের সতর্ক কর”— (সূরা শু'আরা ২১৪)। এ আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়্যাহ্, হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাহ, হে “আবদুল মুত্তালিবের গোত্রের লোকেরা! তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার পাকড়াও হতে রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আমার সম্পদ হতে যত ইচ্ছা তোমরা চেয়ে নিতে পার। সহীহঃ মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ওয়াকী প্রমুখ-হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রামান আত-তুফাবীর রিওয়ায়াতের একই রকম বর্ণনা করেছেন। কোন কোন বর্ণনাকারী এ হাদীসটি হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে এ হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এ অনুচ্ছেদে আলী ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو الاشعث، احمد بن المقدام العجلي حدثنا محمد بن عبد الرحمن الطفاوي، حدثنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت لما نزلت هذه الاية : (وانذر عشيرتك الاقربين ) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا صفية بنت عبد المطلب يا فاطمة بنت محمد يا بني عبد المطلب اني لا املك لكم من الله شييا سلوني من مالي ما شيتم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وهكذا روى وكيع وغير واحد هذا الحديث عن هشام بن عروة عن ابيه عن عايشة نحو حديث محمد بن عبد الرحمن الطفاوي . روى بعضهم عن هشام بن عروة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا ولم يذكر فيه عن عايشة . وفي الباب عن علي وابن عباس
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “ওয়া আনযির আশীরাতাকাল আকরাবীন”— (সূরা শু'আরা ২১৪) আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ গোত্রের সাধারণ-বিশেষ সকলকে ডেকে একত্র করে বলেনঃ হে কুরাইশ গোত্রের লোকেরা! তোমরা নিজেদেরকে আগুন হতে রক্ষা কর। আল্লাহ তা'আলার দরবারে তোমাদের উপকার বা অপকার করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। হে আবদে মানাফ বংশের লোকেরা! তোমরা নিজেদেরকে ‘আগুন হতে রক্ষা কর। আল্লাহ তা'আলার দরবারে তোমাদের কোন উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই। হে কুসাই বংশের ব্যক্তিরা! তোমরা নিজেদেরকে আগুন হতে রক্ষা কর। আল্লাহ তা'আলার দরবারে তোমাদের কোন উপকার বা অপকার করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। হে “আবদুল মুত্তালিব বংশের ব্যক্তিরা! তোমরা নিজেদেরকে আগুন হতে রক্ষা কর। আল্লাহ তা'আলার দরবারে তোমাদের কোন উপকার অথবা ক্ষতি করার ক্ষমতা আমার নেই। হে মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাহ! নিজেকে আগুন হতে রক্ষা কর। কেননা তোমার কোন উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা আমার নেই। অবশ্য তোমার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। আমি এই সম্পর্কের অধিকার সজীব রাখার চেষ্টা করব। সহীহঃ মুসলিম (১/১৩৩), বুখারী (৪৭৭১) সংক্ষেপিত। আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদ সূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এটি শুধুমাত্র মূসা ইবনু তালহার সূত্রেই জানা যায়। আলী ইবনু হুজর-শু'আইব ইবনু সাফওয়ান হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا زكريا بن عدي، حدثنا عبيد الله بن عمرو الرقي، عن عبد الملك بن عمير، عن موسى بن طلحة، عن ابي هريرة، قال لما نزلت : ( وانذر عشيرتك الاقربين ) جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا فخص وعم فقال " يا معشر قريش انقذوا انفسكم من النار فاني لا املك لكم من الله ضرا ولا نفعا يا معشر بني عبد مناف انقذوا انفسكم من النار فاني لا املك لكم من الله ضرا ولا نفعا يا معشر بني قصى انقذوا انفسكم من النار فاني لا املك لكم ضرا ولا نفعا يا معشر بني عبد المطلب انقذوا انفسكم من النار فاني لا املك لكم ضرا ولا نفعا يا فاطمة بنت محمد انقذي نفسك من النار فاني لا املك لك ضرا ولا نفعا ان لك رحما سابلها ببلالها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه يعرف من حديث موسى بن طلحة . حدثنا علي بن حجر، حدثنا شعيب بن صفوان، عن عبد الملك بن عمير، عن موسى بن طلحة، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بمعناه
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) বলেনঃ “ওয়া আনযির আশীরাতাকাল আক্করাবীন”— (সূরা শু'আরা ২১৪) আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের দুই আঙ্গুল তার দুই কানের মধ্যে স্থাপন করে উচ্চ কণ্ঠে বলেন, হে “আবদে মানাফ বংশের লোকেরা! ইয়া সবাহা (হে প্রভাতকালে বিপদ)। হাসান সহীহঃ বুখারী (৪৮০১)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ মূসার হাদীস হিসেবে উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। কিছু বর্ণনাকারী আওফ হতে, তিনি কসিামাহ্ ইবনু যুহাইর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে এ হাদীস মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং এ সনদে আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এ সূত্রটিই অনেক বেশি সহীহ। আমি (তিরমিয়ী) হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট উল্লেখ করলাম কিন্তু তিনি এটিকে আবূ মূসার হাদীসরূপে চিনতে পারেননি।
حدثنا عبد الله بن ابي زياد، حدثنا ابو زيد، عن عوف، عن قسامة بن زهير، حدثنا الاشعري، قال لما نزل : (وانذر عشيرتك الاقربين ) وضع رسول الله صلى الله عليه وسلم اصبعيه في اذنيه فرفع من صوته فقال " يا بني عبد مناف يا صباحاه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه من حديث ابي موسى . وقد رواه بعضهم عن عوف عن قسامة بن زهير عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا ولم يذكروا فيه عن ابي موسى وهو اصح ذاكرت به محمد بن اسماعيل فلم يعرفه من حديث ابي موسى
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن عبد الملك بن ابي سليمان، عن سعيد بن جبير، قال سيلت عن المتلاعنين، في امارة مصعب بن الزبير ايفرق بينهما فما دريت ما اقول فقمت من مكاني الى منزل عبد الله بن عمر فاستاذنت عليه فقيل لي انه قايل فسمع كلامي فقال لي ابن جبير ادخل ما جاء بك الا حاجة قال فدخلت فاذا هو مفترش بردعة رحل له فقلت يا ابا عبد الرحمن المتلاعنان ايفرق بينهما فقال سبحان الله نعم ان اول من سال عن ذلك فلان بن فلان اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ارايت لو ان احدنا راى امراته على فاحشة كيف يصنع ان تكلم تكلم بامر عظيم وان سكت سكت على امر عظيم قال فسكت النبي صلى الله عليه وسلم فلم يجبه فلما كان بعد ذلك اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان الذي سالتك عنه قد ابتليت به فانزل الله هذه الايات في سورة النور : (والذين يرمون ازواجهم ولم يكن لهم شهداء الا انفسهم ) حتى ختم الايات قال فدعا الرجل فتلاهن عليه ووعظه وذكره واخبره ان عذاب الدنيا اهون من عذاب الاخرة فقال لا والذي بعثك بالحق ما كذبت عليها . ثم ثنى بالمراة ووعظها وذكرها واخبرها ان عذاب الدنيا اهون من عذاب الاخرة فقالت لا والذي بعثك بالحق ما صدق . فبدا بالرجل فشهد اربع شهادات بالله انه لمن الصادقين والخامسة ان لعنة الله عليه ان كان من الكاذبين ثم ثنى بالمراة فشهدت اربع شهادات بالله انه لمن الكاذبين والخامسة ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين ثم فرق بينهما . وفي الباب عن سهل بن سعد قال وهذا حديث حسن صحيح
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن ابي عدي، حدثنا هشام بن حسان، حدثني عكرمة، عن ابن عباس، ان هلال بن امية، قذف امراته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن السحماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البينة والا حد في ظهرك " . قال فقال هلال يا رسول الله اذا راى احدنا رجلا على امراته ايلتمس البينة فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " البينة والا حد في ظهرك " . قال فقال هلال والذي بعثك بالحق اني لصادق ولينزلن في امري ما يبري ظهري من الحد فنزل : (والذين يرمون ازواجهم ولم يكن لهم شهداء الا انفسهم ) فقرا حتى بلغ : ( والخامسة ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين ) قال فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم فارسل اليهما فجاءا فقام هلال بن امية فشهد والنبي صلى الله عليه وسلم يقول " ان الله يعلم ان احدكما كاذب فهل منكما تايب " . ثم قامت فشهدت فلما كانت عند الخامسة : ( ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين ) قالوا لها انها موجبة فقال ابن عباس فتلكات ونكست حتى ظننا ان سترجع فقالت لا افضح قومي ساير اليوم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ابصروها فان جاءت به اكحل العينين سابغ الاليتين خدلج الساقين فهو لشريك بن السحماء " . فجاءت به كذلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لولا ما مضى من كتاب الله عز وجل لكان لنا ولها شان " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث هشام بن حسان وهكذا روى عباد بن منصور هذا الحديث عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم . ورواه ايوب عن عكرمة مرسلا ولم يذكر فيه عن ابن عباس
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو اسامة، عن هشام بن عروة، اخبرني ابي، عن عايشة، قالت لما ذكر من شاني الذي ذكر وما علمت به قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطيبا فتشهد وحمد الله واثنى عليه بما هو اهله ثم قال " اما بعد اشيروا على في اناس ابنوا اهلي والله ما علمت على اهلي من سوء قط وابنوا بمن والله ما علمت عليه من سوء قط ولا دخل بيتي قط الا وانا حاضر ولا غبت في سفر الا غاب معي فقام سعد بن معاذ رضي الله عنه فقال ايذن لي يا رسول الله ان اضرب اعناقهم . وقام رجل من الخزرج وكانت ام حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل فقال كذبت اما والله ان لو كانوا من الاوس ما احببت ان تضرب اعناقهم حتى كاد ان يكون بين الاوس والخزرج شر في المسجد وما علمت به فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي ام مسطح فعثرت فقالت تعس مسطح فقلت لها اى ام تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثانية فقالت تعس مسطح فقلت لها اى ام تسبين ابنك فسكتت ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح فانتهرتها فقلت لها اى ام تسبين ابنك فقالت والله ما اسبه الا فيك . فقلت في اى شيء قالت فبقرت الى الحديث قلت وقد كان هذا قالت نعم . والله لقد رجعت الى بيتي وكان الذي خرجت له لم اخرج لا اجد منه قليلا ولا كثيرا ووعكت فقلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلني الى بيت ابي فارسل معي الغلام فدخلت الدار فوجدت ام رومان في السفل وابو بكر فوق البيت يقرا فقالت امي ما جاء بك يا بنية قالت فاخبرتها وذكرت لها الحديث فاذا هو لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت يا بنية خففي عليك الشان فانه والله لقلما كانت امراة حسناء عند رجل يحبها لها ضراير الا حسدنها وقيل فيها فاذا هي لم يبلغ منها ما بلغ مني قالت قلت وقد علم به ابي قالت نعم . قلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم . واستعبرت وبكيت فسمع ابو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرا فنزل فقال لامي ما شانها قالت بلغها الذي ذكر من شانها . ففاضت عيناه فقال اقسمت عليك يا بنية الا رجعت الى بيتك . فرجعت ولقد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بيتي فسال عني خادمتي فقالت لا والله ما علمت عليها عيبا الا انها كانت ترقد حتى تدخل الشاة فتاكل خميرتها او عجينتها وانتهرها بعض اصحابه فقال اصدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اسقطوا لها به فقالت سبحان الله والله ما علمت عليها الا ما يعلم الصايغ على تبر الذهب الاحمر فبلغ الامر ذلك الرجل الذي قيل له فقال سبحان الله والله ما كشفت كنف انثى قط قالت عايشة فقتل شهيدا في سبيل الله قالت واصبح ابواى عندي فلم يزالا عندي حتى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد صلى العصر ثم دخل وقد اكتنفني ابواى عن يميني وعن شمالي فتشهد النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله واثنى عليه بما هو اهله ثم قال " اما بعد يا عايشة ان كنت قارفت سوءا او ظلمت فتوبي الى الله فان الله يقبل التوبة عن عباده " . قالت وقد جاءت امراة من الانصار وهي جالسة بالباب فقلت الا تستحي من هذه المراة ان تذكر شييا . فوعظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فالتفت الى ابي فقلت اجبه . قال فماذا اقول فالتفت الى امي فقلت اجيبيه . قالت اقول ماذا قالت فلما لم يجيبا تشهدت فحمدت الله واثنيت عليه بما هو اهله ثم قلت اما والله لين قلت لكم اني لم افعل والله يشهد اني لصادقة ما ذاك بنافعي عندكم لي لقد تكلمتم واشربت قلوبكم ولين قلت اني قد فعلت والله يعلم اني لم افعل لتقولن انها قد باءت به على نفسها واني والله ما اجد لي ولكم مثلا قالت والتمست اسم يعقوب فلم اقدر عليه الا ابا يوسف حين قال : (فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون ) قالت وانزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم من ساعته فسكتنا فرفع عنه واني لاتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه ويقول " البشرى يا عايشة فقد انزل الله براءتك " . قالت وكنت اشد ما كنت غضبا فقال لي ابواى قومي اليه . فقلت لا والله لا اقوم اليه ولا احمده ولا احمدكما ولكن احمد الله الذي انزل براءتي لقد سمعتموه فما انكرتموه ولا غيرتموه وكانت عايشة تقول اما زينب بنت جحش فعصمها الله بدينها فلم تقل الا خيرا واما اختها حمنة فهلكت فيمن هلك وكان الذي يتكلم فيه مسطح وحسان بن ثابت والمنافق عبد الله بن ابى ابن سلول وهو الذي كان يسوسه ويجمعه وهو الذي تولى كبره منهم هو وحمنة قالت فحلف ابو بكر ان لا ينفع مسطحا بنافعة ابدا فانزل الله تعالى هذه الاية : (ولا ياتل اولو الفضل منكم والسعة ) الى اخر الاية يعني ابا بكر : (ان يوتوا اولي القربى والمساكين والمهاجرين في سبيل الله ) يعني مسطحا الى قوله : (الا تحبون ان يغفر الله لكم والله غفور رحيم ) قال ابو بكر بلى والله يا ربنا انا لنحب ان تغفر لنا وعاد له بما كان يصنع . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث هشام بن عروة . وقد رواه يونس بن يزيد ومعمر وغير واحد عن الزهري عن عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص الليثي وعبيد الله بن عبد الله عن عايشة هذا الحديث اطول من حديث هشام بن عروة واتم