Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮২ হাদিসসমূহ
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ্ এবং আব্বাস (রাযিঃ) উভয়েই আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট আগমন করলেন, তখন তারা উভয়ে ফেদাকের ভূমি ও খাইবারের প্রাপ্য অংশ দাবী করলেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) উভয়কে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি... এরপর যুহরী (রহঃ) হতে উকায়ল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি তাছাড়া এতে বর্ণনা করলেন যে, এরপর আলী (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর যোগ্যতা ও মর্যাদা বর্ণনা করলেন এবং তার সর্বকাজে উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার অগ্রগামীরা বাই’আত গ্রহণ করলেন। তারপর জনগণ আলী (রাযিঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন, আপনি ভালই করেছেন। যখন আলী (রাযিঃ) কল্যাণকর ব্যবস্থার নিকটবর্তী হলেন, তখন লোকজনও তার সংস্পর্শে আসতে লাগলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، و محمد بن رافع وعبد بن حميد قال ابن رافع حدثنا وقال الاخران، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، انصلى الله عليه وسلم وهما حينيذ يطلبان ارضه من فدك وسهمه من خيبر . فقال لهما ابو بكر اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم . وساق الحديث بمثل معنى حديث عقيل عن الزهري غير انه قال ثم قام علي فعظم من حق ابي بكر وذكر فضيلته وسابقته ثم مضى الى ابي بكر فبايعه فاقبل الناس الى علي فقالوا اصبت واحسنت . فكان الناس قريبا الى علي حين قارب الامر المعروف
ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব ও হাসান ইবনু ‘আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিত্যক্ত সম্পত্তির যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অংশ দাবী করেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে উত্তরাধিকার রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট তার সে প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন- যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার, ফিদাক এবং মাদীনার (সদাকাহ্) দান থেকে রেখে গিয়েছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) তাকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কাজ ছেড়ে দেব না যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। কেননা আমি ভয় করি যে, যদি তার কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো। তবে হ্যাঁ, মাদীনার (সদাকার) দানের মাল উমর (রাযিঃ) তার সময়ে আলী এবং আব্বাসকে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আলী (রাযিঃ) একাকীই সে সম্পদ অধিকার করে নেন। আর খাইবার এবং ফিদাকের সম্পদ উমার (রাযিঃ) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দু'টাে সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের আমীরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এ উভয় সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রুপই আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابن نمير، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي ح، وحدثنا زهير بن حرب، والحسن بن علي الحلواني قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن ابراهيم - حدثنا ابي، عن صالح، عن ابن شهاب، اخبرني عروة بن الزبير، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم سالت ابا بكر بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يقسم لها ميراثها مما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه . فقال لها ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة " . قال وعاشت بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة اشهر وكانت فاطمة تسال ابا بكر نصيبها مما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من خيبر وفدك وصدقته بالمدينة فابى ابو بكر عليها ذلك وقال لست تاركا شييا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعمل به الا عملت به اني اخشى ان تركت شييا من امره ان ازيغ فاما صدقته بالمدينة فدفعها عمر الى علي وعباس فغلبه عليها علي واما خيبر وفدك فامسكهما عمر وقال هما صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم كانتا لحقوقه التي تعروه ونوايبه وامرهما الى من ولي الامر قال فهما على ذلك الى اليوم
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরিত্যক্ত সম্পদের এক দিনারও বন্টিত হবে না। আমি যা রেখে যাই তা থেকে আমার স্ত্রীগণের ব্যয় নির্বাহ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের বেতন ভাতার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে সদাকাহ বা দান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يقتسم ورثتي دينارا ما تركت بعد نفقة نسايي وميونة عاملي فهو صدقة
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ যিনাদ (রহঃ) হতে এ সানাদে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن يحيى بن ابي عمر المكي، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، بهذا الاسناد . نحوه
ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ বা দান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابن ابي خلف، حدثنا زكرياء بن عدي، اخبرنا ابن المبارك، عن يونس، عن الزهري، عن الاعرج، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে অশ্বারোহী সৈনিকের জন্য দু'ভাগ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক ভাগ হিসেবে বণ্টন করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، وابو كامل فضيل بن حسين كلاهما عن سليم، قال يحيى اخبرنا سليم بن اخضر، عن عبيد الله بن عمر، حدثنا نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قسم في النفل للفرس سهمين وللرجل سهما
ইবনু নুমায়র (রহঃ) এ একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি (গনীমাতের সম্পদে) এ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثناه ابن نمير، حدثنا ابي، حدثنا عبيد الله، بهذا الاسناد مثله ولم يذكر في النفل
হান্নাদ ইবনু সারিয়্যি ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন, দেখলেন যে, তারা সংখ্যায় এক হাজার ছিল। আর তার সাহাবী ছিলেন তিনশ’ তের জন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, এরপর দু'হাত উঁচু করে আওয়াজ করে আপন প্রভুর কাছে দুআ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা দাও। হে আল্লাহ! যদি মুসলিমদের এ ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদাত করার মত আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু'হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে প্রভুর কাছে উচ্চস্বরে দু'আ করে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তার কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) তার কাছে এসে চাদরটি তার কাঁধে পুনরায় তুলে দিলেন। তারপর তার পিছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার এতটুকু দু'আই যথেষ্ট আপনার প্রভুর কাছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন- إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ "স্মরণ করে, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব যারা একের পর এক আসবে।" (সূরা আনফাল ৮ঃ ৯) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করলেন। আবূ যুমায়ল বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন যে, সেদিন একজন মুসলিম সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তার উপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার উপর দিকে অশ্বারোহীর এরূপ ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি বলতেছিলেন, হে হায়যুম, (ফেরেশতার ঘোড়ার নাম) সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি তার সামনের এক মুশরিক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। আরো দেখেন যে, তার নাক-ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্ৰাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে (বেত্রের বিষাক্ততায়)। এরপর আনসারী ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এ সাহায্য তৃতীয় আকাশ থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তর জন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তর জনকে বন্দী করলেন। আবূ যুমায়ল বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে আটক করা হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে আবূ বাকর (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ) এর সাথে কথা বললেন, “এ সকল যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আপনারা কী মত দিচ্ছেন"। আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! তারা তো আমাদের চাচাতো ভাই এবং স্বগোত্রীয়। আমি উচিত মনে করি যে, তাদের নিকট থেকে আপনি মুক্তিপণ (فدية) গ্রহণ করুন। এতে কাফিরদের উপর আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আশা করা যায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দিবেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব! এ ব্যাপারে আপনি কী বলছেন? উমর (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আবূ বাকর যা উচিত মনে করেন আমি তা উচিত মনে করি না। আমি উচিত মনে করি যে, আপনি তাদেরকে আমাদের হস্তগত করুন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। আর আকিল-কে আলী-এর হস্তগত করুন। তিনি তার শিরোচ্ছেদ করবেন। আর আমার বংশের অমুককে আমার কাছে অৰ্পণ করুন, আমি তার শিরোচ্ছেদ করবো। কেননা তারা হল কাফিরদের মর্যাদাশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অতএব আবূ বাকর (রাযিঃ) যা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাই পছন্দ করলেন এবং আমি যা বললাম, তা তিনি পছন্দ করলেন না। পরের দিন যখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তখন দেখি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) উভয়েই বসে কাঁদছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে বলুন, আপনি এবং আপনার সাখী কেন কাঁদছেন? আমার কান্না আসলে আমিও কাঁদবো। আর যদি আমার কান্না না আসে তবে আপনাদের কাঁদার কারণে আমিও কান্নার ভান করবো (প্রচেষ্টা চালাব)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তোমার সাথীদের উপর সমাগত বিপদের কথা স্মরণ করে আমি কাঁদছি। আমার নিকট তাদের শাস্তি পেশ করা হল- এ বৃক্ষ থেকেও নিকটে। বৃক্ষটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী। (একটি বৃক্ষের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ বৃক্ষের চাইতেও কাছে তোমাদের উপর সমাগত আযাব আমাকে দেখানো হয়েছিল।) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا “দেশে ব্যাপকভাবে শক্রকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় ..... যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও উত্তম বলে তোমরা ভোগ কর"— (সূরা আল-আনফাল ৮ঃ ৬৭-৬৯)। এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য মালে গনীমাত হালাল করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্যকে নায্দ’-এর দিকে পাঠান। অতঃপর বানু হানীফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে তারা ধরে নিয়ে এলো। তার নাম ছিল সুমামাহ ইবনু উসাল। তিনি ইয়ামামাবাসীদের সরদার ছিলেন। তারা মসজিদের একটি খুঁটির সাথে তাকে বেঁধে রাখলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন এবং বললেন, হে সুমামাহ্! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে উত্তর দিল আমার কাছে তো ভালই মনে হচ্ছে। আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে খুনী ব্যক্তিকেই হত্যা করলেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে, আপনি যা চাইবেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যথাবস্থায় রেখে দিলেন। তারপর পরের দিনও তিনি বললেন, হে সুমামাহ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? তিনি বললেন, আমার নিকট তাই মনে হচ্ছে যা আপনার কাছে বলে দিয়েছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি হত্য করেন, তবে আপনি একজন খুনী ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি সম্পদ চান তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে আপনি যা চাবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরের দিন পর্যন্ত তাকে ঐভাবে রাখলেন। তিনি বললেনঃ হে সুমামাহ! তোমার নিকট কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমার নিকট তাই যা আমি আপনাকে ইতোপূর্বে বলেছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনি অনুগ্রহ করবেন একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে হত্যার উপযুক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে বলুন তাই দেয়া হবে যা আপনি চাইবেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সুমামাকে ছেড়ে দাও। তারপর তিনি মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুর গাছের নিকট গেলেন। সেখানে তিনি গোসল করলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তার বান্দা ও তার রসূল। হে মুহাম্মদ! আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আমার নিকট আপনার চেহারার চেয়ে খারাপ চেহারা আর ছিল না। আর এখন সকল মানুষের চেহারা থেকে আপনার চেহারাই আমার নিকট অধিক প্রিয়। আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম থেকে অধিক খারাপ ধর্ম আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার ধর্মই আমার নিকট সকল ধর্ম থেকে অধিক প্রিয়। আল্লাহ কসম! আপনার জনপদ থেকে অধিক নিকৃষ্ট জনপদ আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার জনপদই আমার নিকট সকল জনপদের চেয়ে অধিক প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকেরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। অথচ আমি তখন উমরাহ করার ইচ্ছা করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং উমরাহ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর যখন তিনি মাক্কায় ফিরে এলেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি কি ধর্মান্তরিত হয়েছ? তখন তিনি বললেন, না। বরং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের কাছে পৌছবে না, যতক্ষণ না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে সম্মতি দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল অশ্বারোহী সৈনিক প্রেরণ করলেন নাজদ প্রদেশের দিকে। তারা এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এলো, যার নাম ছিল সুমামাহ ইবনু উসাল আল-হানাকী। তিনি ছিলেন ইয়ামামাবাসীদের নেতা। এরপর তিনি লায়স (রহঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, সে বলেছে, যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে খুনের উপযুক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابو بكر الحنفي، حدثني عبد الحميد بن جعفر، حدثني سعيد بن ابي سعيد المقبري، انه سمع ابا هريرة، يقول بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم خيلا له نحو ارض نجد فجاءت برجل يقال له ثمامة بن اثال الحنفي سيد اهل اليمامة . وساق الحديث بمثل حديث الليث الا انه قال ان تقتلني تقتل ذا دم
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলেন। তারপর তিনি বললেন তোমরা ইয়াহুদীদের দিকে যাও। সুতরাং আমরা তার সঙ্গে বের হলাম। পরিশেষে তাদের কাছে এলাম। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে (ধর্মের দিকে) আহ্বান করে বললেন, হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবূল কাসেম! নিশ্চয়ই আপনি (আল্লাহর নির্দেশ) প্রচার করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি এ কথাই শুনতে চেয়েছি। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবূল কাসিম! নিশ্চয়ই আপনি প্রচার করেছেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাই চেয়েছিলাম। এরপর তৃতীয়বার তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা জেনে রেখো! নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহ ও তার রসূলের। আর আমার ইচ্ছা যে, তোমাদেরকে আমি এ ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করবো। অতএব তোমাদের মধ্য হতে যদি কারো কিছু মালামাল থাকে তাহলে সে যেন তা বিক্রি করে দেয়। নতুবা জেনে রেখো যে, সমগ্র ভূ-মণ্ডল আল্লাহ ও তার রসূলের। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن سعيد بن ابي سعيد، عن ابيه، عن ابي، هريرة انه قال بينا نحن في المسجد اذ خرج الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انطلقوا الى يهود " . فخرجنا معه حتى جيناهم فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فناداهم فقال " يا معشر يهود اسلموا تسلموا " . فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم . فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ذلك اريد اسلموا تسلموا " . فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم . فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ذلك اريد " . فقال لهم الثالثة فقال " اعلموا انما الارض لله ورسوله واني اريد ان اجليكم من هذه الارض فمن وجد منكم بماله شييا فليبعه والا فاعلموا ان الارض لله ورسوله
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, বানু নাযীর এবং বানু কুরাইযাহ্ গোত্র দুটির ইয়াহুদীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু নাযীরকে দেশান্তর করেন। এবং বনু কুরাইযাকে সেখানে থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করলেন। পরিশেষে বানু কুরাইযাও যুদ্ধ করল। ফলে তিনি তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করলেন এবং তাদের নারী, শিশু ও সম্পদসমূহ মুসলিমদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। কিন্তু তাদের কিছু সংখ্যক লোক যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিল তাদেরকে তিনি নিরাপত্তা প্রদান করেন। তখন তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার সকল ইয়াহুদীকে দেশান্তর করেন। বানু কায়নুকা গোত্রের ইয়াহুদী (আবদুল্লাহ ইবনু সালামের ইয়াহুদী গোত্র), বানু হারিসাহর ইয়াহুদী এবং মাদীনায় বসবাসরত সকল ইয়াহুদীকেই দেশ থেকে বহিষ্কার করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني محمد بن رافع، واسحاق بن منصور، قال ابن رافع حدثنا وقال، اسحاق اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، انالله عليه وسلم فاجلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بني النضير واقر قريظة ومن عليهم حتى حاربت قريظة بعد ذلك فقتل رجالهم وقسم نساءهم واولادهم واموالهم بين المسلمين الا ان بعضهم لحقوا برسول الله صلى الله عليه وسلم فامنهم واسلموا واجلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يهود المدينة كلهم بني قينقاع - وهم قوم عبد الله بن سلام - ويهود بني حارثة وكل يهودي كان بالمدينة
আবূ তাহির (রহঃ) ..... মূসা (রহঃ) হতে এ সানাদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। আর ইবনু জুরাইজ (রহঃ) এর হাদীসটি অনেক সূত্রে বর্ণিত এবং সেটিই পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابو الطاهر، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرني حفص بن ميسرة، عن موسى، بهذا الاسناد هذا الحديث وحديث ابن جريج اكثر واتم
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্ৰীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেবো। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৪) যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا الضحاك بن مخلد، عن ابن جريج، ح وحدثني محمد بن رافع، - واللفظ له - حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، اخبرني ابو الزبير، انه سمع جابر بن عبد الله، يقول اخبرني عمر بن الخطاب، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لاخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب حتى لا ادع الا مسلما
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا روح بن عبادة، اخبرنا سفيان الثوري، ح وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن اعين، حدثنا معقل، - وهو ابن عبيد الله - كلاهما عن ابي الزبير، بهذا الاسناد مثله
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, বানু কুরাইযার অবরুদ্ধ লোকেরা সা'দ ইবনু মুআয (রাযিঃ) এর নির্দেশ মেনে নিতে সম্মত হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠালেন। সুতরাং তিনি একটি গাধার উপর আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি মসজিদের কাছাকাছি আসলেন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদেরকে বললেনঃ তোমরা তোমাদের নেতার অথবা বললেন, উত্তম ব্যক্তির দিকে উঠে যাও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সমস্ত অবরুদ্ধ দুর্গবাসীরা তোমার নির্দেশ মান্য করতে সম্মত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাদের মধ্যেকার যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী কখনো বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী ইবনু মুসান্না (রহঃ) কোন কোন সময় তিনি বলেছেনঃ তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار - والفاظهم متقاربة - قال ابو بكر حدثنا غندر، عن شعبة، وقال الاخران، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، - عن سعد بن ابراهيم، قال سمعت ابا امامة بن سهل بن حنيف، قال سمعت ابا سعيد، الخدري قال نزل اهل قريظة على حكم سعد بن معاذ فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم الى سعد فاتاه على حمار فلما دنا قريبا من المسجد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للانصار " قوموا الى سيدكم - او خيركم " . ثم قال " ان هولاء نزلوا على حكمك " . قال تقتل مقاتلتهم وتسبي ذريتهم . قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم " قضيت بحكم الله - وربما قال - قضيت بحكم الملك " . ولم يذكر ابن المثنى وربما قال " قضيت بحكم الملك
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) এর থেকে এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এ কথাটুকু তার হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করেছ।” আর একবার বলেছেন, "তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن شعبة، بهذا الاسناد وقال في حديثه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لقد حكمت فيهم بحكم الله " . وقال مرة " لقد حكمت بحكم الملك
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা হামদানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন সা'দ (রাযিঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হন। কুরায়শের ইবনুল আরিকা নামক এক ব্যক্তি তার শিরায় তীর নিক্ষেপ করেছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাযিঃ) এর জন্যে মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করে দিলেন, যেন নিকট থেকে তাকে দেখাশোনা করা যায়। যখন তিনি (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে সবেমাত্র গোসলের কাজ সমাপ্ত করেছেন এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) স্বীয় মাথা থেকে ধূলিবালি ঝাড়তে ঝাড়তে আগমন করলেন। এরপর বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! আমরা তো অস্ত্র রাখিনি। তাদের দিকে গমন করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন দিকে? তখন তিনি বানু কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে দূর্গ থেকে অবতরণ করলো। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিচারের ভার (তাদের নেতা) সা'দ (রাযিঃ) এর উপর অর্পণ করলেন। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি নির্দেশ দিচ্ছি যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক এবং তাদের সম্পদগুলো ভাগ করা হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، ومحمد بن العلاء الهمداني، كلاهما عن ابن نمير، قال ابن العلاء حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عايشة، قالت اصيب سعد يوم الخندق رماه رجل من قريش يقال له ابن العرقة . رماه في الاكحل فضرب عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم خيمة في المسجد يعوده من قريب فلما رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم من الخندق وضع السلاح فاغتسل فاتاه جبريل وهو ينفض راسه من الغبار فقال وضعت السلاح والله ما وضعناه اخرج اليهم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فاين " . فاشار الى بني قريظة فقاتلهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فنزلوا على حكم رسول الله صلى الله عليه وسلم فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم الحكم فيهم الى سعد قال فاني احكم فيهم ان تقتل المقاتلة وان تسبى الذرية والنساء وتقسم اموالهم
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমাকে খবর দেয়া হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو كريب، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، قال قال ابي فاخبرت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لقد حكمت فيهم بحكم الله عز وجل
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, সা'দ (রাযিঃ) বলেছেন, তার আঘাত শুকিয়ে গেল এবং তিনি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ। আপনি জানেন, আমার নিকট আপনার রসূলকে যে সম্প্রদায় অস্বীকার করেছে, তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আপনার পথে যুদ্ধ করার চাইতে অধিক পছন্দনীয় বিষয় আর নেই। হে আল্লাহ! যদি কুরায়শদের সাথে যুদ্ধ করা এখনও বাকী থাকে তবে আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, যেন আমি আপনার পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। হে আল্লাহ! আমি মনে করি যে, আমাদের এবং তাদের মধ্যে আপনি যুদ্ধ সমাপ্ত করেছেন। যদি তাই হয়, তবে আপনি আমার এ ক্ষতস্থান উন্মুক্ত করে দিন এবং এতেই আমাকে শাহাদাত নসীব করুন। অতঃপর তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বানু গিফারের একটি তাবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহের কারণে তারা ঘাবড়িয়ে গেল। তখন তারা বলল, হে তাবুবাসী! তোমাদের দিক থেকে এ কী আসছে? আশ্চর্যের ব্যাপার যে, সা'দ (রাযিঃ) এর ক্ষতস্থান থেকে তখন রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এতেই তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو كريب، حدثنا ابن نمير، عن هشام، اخبرني ابي، عن عايشة، ان سعدا، قال وتحجر كلمه للبرء فقال اللهم انك تعلم ان ليس احد احب الى ان اجاهد فيك من قوم كذبوا رسولك صلى الله عليه وسلم واخرجوه اللهم فان كان بقي من حرب قريش شىء فابقني اجاهدهم فيك اللهم فاني اظن انك قد وضعت الحرب بيننا وبينهم فان كنت وضعت الحرب بيننا وبينهم فافجرها واجعل موتي فيها . فانفجرت من لبته فلم يرعهم - وفي المسجد معه خيمة من بني غفار - الا والدم يسيل اليهم فقالوا يا اهل الخيمة ما هذا الذي ياتينا من قبلكم فاذا سعد جرحه يغذ دما فمات منها
حدثنا هناد بن السري، حدثنا ابن المبارك، عن عكرمة بن عمار، حدثني سماك، الحنفي قال سمعت ابن عباس، يقول حدثني عمر بن الخطاب، قال لما كان يوم بدر ح وحدثنا زهير بن حرب - واللفظ له - حدثنا عمر بن يونس الحنفي حدثنا عكرمة بن عمار حدثني ابو زميل - هو سماك الحنفي - حدثني عبد الله بن عباس قال حدثني عمر بن الخطاب قال لما كان يوم بدر نظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى المشركين وهم الف واصحابه ثلاثماية وتسعة عشر رجلا فاستقبل نبي الله صلى الله عليه وسلم القبلة ثم مد يديه فجعل يهتف بربه " اللهم انجز لي ما وعدتني اللهم ات ما وعدتني اللهم ان تهلك هذه العصابة من اهل الاسلام لا تعبد في الارض " . فمازال يهتف بربه مادا يديه مستقبل القبلة حتى سقط رداوه عن منكبيه فاتاه ابو بكر فاخذ رداءه فالقاه على منكبيه ثم التزمه من ورايه . وقال يا نبي الله كذاك مناشدتك ربك فانه سينجز لك ما وعدك فانزل الله عز وجل { اذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم اني ممدكم بالف من الملايكة مردفين} فامده الله بالملايكة . قال ابو زميل فحدثني ابن عباس قال بينما رجل من المسلمين يوميذ يشتد في اثر رجل من المشركين امامه اذ سمع ضربة بالسوط فوقه وصوت الفارس يقول اقدم حيزوم . فنظر الى المشرك امامه فخر مستلقيا فنظر اليه فاذا هو قد خطم انفه وشق وجهه كضربة السوط فاخضر ذلك اجمع . فجاء الانصاري فحدث بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " صدقت ذلك من مدد السماء الثالثة " . فقتلوا يوميذ سبعين واسروا سبعين . قال ابو زميل قال ابن عباس فلما اسروا الاسارى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابي بكر وعمر " ما ترون في هولاء الاسارى " . فقال ابو بكر يا نبي الله هم بنو العم والعشيرة ارى ان تاخذ منهم فدية فتكون لنا قوة على الكفار فعسى الله ان يهديهم للاسلام . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما ترى يا ابن الخطاب " . قلت لا والله يا رسول الله ما ارى الذي راى ابو بكر ولكني ارى ان تمكنا فنضرب اعناقهم فتمكن عليا من عقيل فيضرب عنقه وتمكني من فلان - نسيبا لعمر - فاضرب عنقه فان هولاء ايمة الكفر وصناديدها فهوي رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قال ابو بكر ولم يهو ما قلت فلما كان من الغد جيت فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر قاعدين يبكيان قلت يا رسول الله اخبرني من اى شىء تبكي انت وصاحبك فان وجدت بكاء بكيت وان لم اجد بكاء تباكيت لبكايكما . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابكي للذي عرض على اصحابك من اخذهم الفداء لقد عرض على عذابهم ادنى من هذه الشجرة " . شجرة قريبة من نبي الله صلى الله عليه وسلم . وانزل الله عز وجل { ما كان لنبي ان يكون له اسرى حتى يثخن في الارض} الى قوله { فكلوا مما غنمتم حلالا طيبا} فاحل الله الغنيمة لهم
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن سعيد بن ابي سعيد، انه سمع ابا هريرة، يقول بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم خيلا قبل نجد فجاءت برجل من بني حنيفة يقال له ثمامة بن اثال سيد اهل اليمامة . فربطوه بسارية من سواري المسجد فخرج اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " ماذا عندك يا ثمامة " . فقال عندي يا محمد خير ان تقتل تقتل ذا دم وان تنعم تنعم على شاكر وان كنت تريد المال فسل تعط منه ما شيت . فتركه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى كان بعد الغد فقال " ما عندك يا ثمامة " . قال ما قلت لك ان تنعم تنعم على شاكر وان تقتل تقتل ذا دم وان كنت تريد المال فسل تعط منه ما شيت . فتركه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى كان من الغد فقال " ماذا عندك يا ثمامة " . فقال عندي ما قلت لك ان تنعم تنعم على شاكر وان تقتل تقتل ذا دم وان كنت تريد المال فسل تعط منه ما شيت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اطلقوا ثمامة " . فانطلق الى نخل قريب من المسجد فاغتسل ثم دخل المسجد فقال اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله . يا محمد والله ما كان على الارض وجه ابغض الى من وجهك فقد اصبح وجهك احب الوجوه كلها الى والله ما كان من دين ابغض الى من دينك فاصبح دينك احب الدين كله الى والله ما كان من بلد ابغض الى من بلدك فاصبح بلدك احب البلاد كلها الى وان خيلك اخذتني وانا اريد العمرة فماذا ترى فبشره رسول الله صلى الله عليه وسلم وامره ان يعتمر فلما قدم مكة قال له قايل اصبوت فقال لا ولكني اسلمت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا والله لا ياتيكم من اليمامة حبة حنطة حتى ياذن فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم