হাদিসসমূহ
#4588
সহীহ মুসলিম - Jihad and Expeditions
হান্নাদ ইবনু সারিয়্যি ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন, দেখলেন যে, তারা সংখ্যায় এক হাজার ছিল। আর তার সাহাবী ছিলেন তিনশ’ তের জন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, এরপর দু'হাত উঁচু করে আওয়াজ করে আপন প্রভুর কাছে দুআ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা দাও। হে আল্লাহ! যদি মুসলিমদের এ ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদাত করার মত আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু'হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে প্রভুর কাছে উচ্চস্বরে দু'আ করে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তার কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) তার কাছে এসে চাদরটি তার কাঁধে পুনরায় তুলে দিলেন। তারপর তার পিছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার এতটুকু দু'আই যথেষ্ট আপনার প্রভুর কাছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন- إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ "স্মরণ করে, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব যারা একের পর এক আসবে।" (সূরা আনফাল ৮ঃ ৯) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করলেন। আবূ যুমায়ল বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন যে, সেদিন একজন মুসলিম সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তার উপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার উপর দিকে অশ্বারোহীর এরূপ ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি বলতেছিলেন, হে হায়যুম, (ফেরেশতার ঘোড়ার নাম) সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি তার সামনের এক মুশরিক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। আরো দেখেন যে, তার নাক-ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্ৰাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে (বেত্রের বিষাক্ততায়)। এরপর আনসারী ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এ সাহায্য তৃতীয় আকাশ থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তর জন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তর জনকে বন্দী করলেন। আবূ যুমায়ল বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে আটক করা হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে আবূ বাকর (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ) এর সাথে কথা বললেন, “এ সকল যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আপনারা কী মত দিচ্ছেন"। আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! তারা তো আমাদের চাচাতো ভাই এবং স্বগোত্রীয়। আমি উচিত মনে করি যে, তাদের নিকট থেকে আপনি মুক্তিপণ (فدية) গ্রহণ করুন। এতে কাফিরদের উপর আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আশা করা যায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দিবেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব! এ ব্যাপারে আপনি কী বলছেন? উমর (রাযিঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আবূ বাকর যা উচিত মনে করেন আমি তা উচিত মনে করি না। আমি উচিত মনে করি যে, আপনি তাদেরকে আমাদের হস্তগত করুন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। আর আকিল-কে আলী-এর হস্তগত করুন। তিনি তার শিরোচ্ছেদ করবেন। আর আমার বংশের অমুককে আমার কাছে অৰ্পণ করুন, আমি তার শিরোচ্ছেদ করবো। কেননা তারা হল কাফিরদের মর্যাদাশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অতএব আবূ বাকর (রাযিঃ) যা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাই পছন্দ করলেন এবং আমি যা বললাম, তা তিনি পছন্দ করলেন না। পরের দিন যখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তখন দেখি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) উভয়েই বসে কাঁদছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে বলুন, আপনি এবং আপনার সাখী কেন কাঁদছেন? আমার কান্না আসলে আমিও কাঁদবো। আর যদি আমার কান্না না আসে তবে আপনাদের কাঁদার কারণে আমিও কান্নার ভান করবো (প্রচেষ্টা চালাব)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তোমার সাথীদের উপর সমাগত বিপদের কথা স্মরণ করে আমি কাঁদছি। আমার নিকট তাদের শাস্তি পেশ করা হল- এ বৃক্ষ থেকেও নিকটে। বৃক্ষটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী। (একটি বৃক্ষের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ বৃক্ষের চাইতেও কাছে তোমাদের উপর সমাগত আযাব আমাকে দেখানো হয়েছিল।) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا “দেশে ব্যাপকভাবে শক্রকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় ..... যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও উত্তম বলে তোমরা ভোগ কর"— (সূরা আল-আনফাল ৮ঃ ৬৭-৬৯)। এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য মালে গনীমাত হালাল করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
Metadata
- Edition
- সহীহ মুসলিম
- Book
- Jihad and Expeditions
- Hadith Index
- #4588
- Book Index
- 69
Grades
- -