Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮২ হাদিসসমূহ
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا زهير بن حرب، ومحمد بن المثنى، قالا حدثنا يحيى، - وهو القطان - عن عبيد الله، بهذا الاسناد
আবূ রাবী, আবূ কামিল (রহঃ) ..... ইবনু ‘আওন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নফল সম্পর্কে জানতে চেয়ে নাফি’ (রহঃ) এর কাছে লিখলাম। তিনি উত্তরে আমাকে লিখলেন যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) একটি সেনাদলে ছিলেন। ইবনু রাফি ও হারূন ইবনু সাঈদ আইলী (রহঃ) তারা সকলেই নাফি’ (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১২, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابو الربيع، وابو كامل قالا حدثنا حماد، عن ايوب، ح وحدثنا ابن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن ابن عون، قال كتبت الى نافع اساله عن النفل، فكتب الى ان4661 - وحدثنا ابن رافع، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، اخبرني موسى، ح وحدثنا هارون بن سعيد الايلي، حدثنا ابن وهب، اخبرني اسامة بن زيد، كلهم عن نافع، بهذا الاسناد نحو حديثهم
সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... সালিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অংশ পঞ্চমাংশ ছাড়াও বাড়তি দান করলেন। অতএব আমাদের ভাগে একটি শারিফ মিলল। শারিফ’ মানে বড় ধরনের বয়স্ক উট (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৩, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا سريج بن يونس، وعمرو الناقد، - واللفظ لسريج - قالا حدثنا عبد، الله بن رجاء عن يونس، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، قال نفلنا رسول الله صلى الله عليه وسلم نفلا سوى نصيبنا من الخمس فاصابني شارف والشارف المسن الكبير
হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলের মাঝে যুদ্ধলব্ধ মালামাল বন্টনের ব্যাপারে ইবনু উমার থেকে আমার নিকট ইবনু রাজা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মতো একটি হাদীস এসেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৪, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا هناد بن السري، حدثنا ابن المبارك، ح وحدثني حرملة بن يحيى، اخبرنا ابن وهب، كلاهما عن يونس، عن ابن شهاب، قال بلغني عن ابن عمر، قال نفل رسول الله صلى الله عليه وسلم سرية بنحو حديث ابن رجاء
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলে যেসব সৈনিককে প্রেরণ করতেন, তাদের কোন কোন সময় সাধারণ সৈনিকদের অংশের চেয়েও কিছু অতিরিক্ত বিশেষভাবে প্রদান করতেন। আর সকল অর্জিত গনীমাতের মালের উপরই এক পঞ্চমাংশ বের করা ওয়াজিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا عبد الملك بن شعيب بن الليث، حدثني ابي، عن جدي، قال حدثني عقيل، بن خالد عن ابن شهاب، عن سالم، عن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد كان ينفل بعض من يبعث من السرايا لانفسهم خاصة سوى قسم عامة الجيش والخمس في ذلك واجب كله
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ মুহাম্মাদ আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবূ কাতাদার সহচর। তিনি বলেন, আবূ কাতাদাহ্ বলেন ..... এরপর এতদসংক্রান্ত বিস্তৃত একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، اخبرنا هشيم، عن يحيى بن سعيد، عن عمر بن، كثير بن افلح عن ابي محمد الانصاري، وكان، جليسا لابي قتادة قال قال ابو قتادة . واقتص الحديث
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস আবূ মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত যে, আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন ..... অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن يحيى بن سعيد، عن عمر بن كثير، عن ابي محمد، مولى ابي قتادة ان ابا قتادة، قال . وساق الحديث
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধের সময় আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা যখন শক্রদের মুখোমুখি হলাম তখন মুসলিমদের মধ্যে ছুটাছুটি আরম্ভ হলো। এ সময় আমি একজন মুশরিককে দেখতে পেলাম যে, সে একজন মুসলিমের উপর চড়াও করছে। তখন আমি একটু ঘুরে এসে তার পিছন দিক দিয়ে তার কাঁধের উপর আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে অগ্রসর হয়ে আমাকে এমনভাবে চেপে ধরল যে, আমি এতে মৃত্যুর গন্ধ পেলাম। এরপর সে মৃত্যুমুখে চলে পড়ল এবং আমাকে ছেড়ে দিলো। এরপর আমি 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সঙ্গে একত্রিত হলাম। তিনি বললেন, লোকদের কী হয়েছে? আমি বললাম, এ আল্লাহর ব্যাপার (ইচ্ছা)। তারপর (পলায়নপর) লোকেরা ফিরে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (যুদ্ধ ক্ষেত্রে) বসেছিলেন। তিনি বললেন, যে মুসলিম সৈন্য অপর কোন শক্র সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং এতে তার প্রমাণ আছে, তাহলে তার সম্পদ তারই (হত্যাকারী মুজাহিদেরই প্রাপ্য)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমার জন্যে কেউ সাক্ষ্য দেবে? তারপর আমি বসে পড়লাম। তিনি আবারও সেরূপ কথা বললেন, আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম কেউ আমার জন্যে সাক্ষ্য দেবে? এবং আমি বসে পড়লাম। তিনি তৃতীয়বারও ঐরূপ বললেন। তা শুনে আমি (আবার) দণ্ডায়মান হলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কী হয়েছে, হে আবূ কাতাদাহ! আমি তার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (আবূ কাতাদাহ) সত্য বলেছেন। ঐ নিহত ব্যক্তির (পরিত্যক্ত) সম্পদ আমার কাছে রক্ষিত আছে। আপনি তার হক আমাকে দেয়ার ব্যাপারে তাকে রাজি করিয়ে দেন। তখন আবূ বাকর সিদীক (রাযিঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! তা হতে পারে না। আল্লাহর সিংহসমূহের মধ্য হতে কোন এক সিংহ (যোদ্ধা) যিনি আল্লাহ ও তার রসূলের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন, আর তার প্রাপ্য সম্পদ যিনি তোমাকে প্রদান করবেন এমন হতে পারে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (আবূ বাকর) ঠিকই বলেছেন। সুতরাং তিনি তাকে (আবূ কাতাদাকেই) তা প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তা আমাকেই দিলেন। আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তা থেকে লৌহ বর্মটি বিক্রি করলাম এবং তা দিয়ে বানী সালামার মহল্লায় একটি ফলের বাগান খরিদ করলাম। এ ছিল আমার ইসলামী জীবনের প্রথম অর্জিত সম্পদ। লায়স (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সিংহসমূহের মধ্য থেকে কোন এক সিংহকে বাদ দিয়ে তা কুরায়শের কোন শৃগালকে (কাপুরুষকে) প্রদান করেন না লায়স (রহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে এটিই আমার প্রথম সম্পদ যা আমি সংগ্রহ করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو الطاهر، وحرملة، - واللفظ له - اخبرنا عبد الله بن وهب، قال سمعت مالك بن انس، يقول حدثني يحيى بن سعيد، عن عمر بن كثير بن افلح، عن ابي محمد، مولى ابي قتادة عن ابي قتادة، قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حنين فلما التقينا كانت للمسلمين جولة . قال فرايت رجلا من المشركين قد علا رجلا من المسلمين فاستدرت اليه حتى اتيته من ورايه فضربته على حبل عاتقه واقبل على فضمني ضمة وجدت منها ريح الموت ثم ادركه الموت فارسلني فلحقت عمر بن الخطاب فقال ما للناس فقلت امر الله . ثم ان الناس رجعوا وجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم . فقال " من قتل قتيلا له عليه بينة فله سلبه " . قال فقمت فقلت من يشهد لي ثم جلست ثم قال مثل ذلك فقال فقمت فقلت من يشهد لي ثم جلست ثم قال ذلك الثالثة فقمت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما لك يا ابا قتادة " . فقصصت عليه القصة فقال رجل من القوم صدق يا رسول الله سلب ذلك القتيل عندي فارضه من حقه . وقال ابو بكر الصديق لاها الله اذا لا يعمد الى اسد من اسد الله يقاتل عن الله وعن رسوله فيعطيك سلبه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " صدق فاعطه اياه " . فاعطاني قال فبعت الدرع فابتعت به مخرفا في بني سلمة فانه لاول مال تاثلته في الاسلام . وفي حديث الليث فقال ابو بكر كلا لا يعطيه اضيبع من قريش ويدع اسدا من اسد الله . وفي حديث الليث لاول مال تاثلته
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বদরের দিন যুদ্ধ সারিতে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় আমি ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখি যে, আমি দু'জন আনসারী বালকের মাঝখানে আছি। আমি আশা করেছিলাম, যদি আমি দু'জন শক্তিশালী যুবকের মাঝে থাকতে পেতাম। এমন সময় তাদের একজন আমাকে ইঙ্গিতে বলল, হে আমার চাচা! আপনি কি আবূ জাহলকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। আর তাকে তোমার প্রয়োজন কী হে ভ্রাতুষ্পুত্র! সে বলল, আমি সংবাদ জেনেছি যে, সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালাগালি করে। সেই আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার জীবন, যদি আমি তাকে দেখতে পাই তবে অবশ্যই তাকে ছেড়ে দিব না, যতক্ষণ না আমাদের দু'জনের থেকে যার মৃত্যু পূর্বে হওয়া অবধারিত তার মৃত্যু হয়। বর্ণনাকারী বলেন, কিশোরের এ কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। তারপর অপর কিশোর আমার দিকে ইঙ্গিত করে অনুরূপ কথা বলল। পরে বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, হঠাৎ আমি দেখলাম, আবূ জাহল লোকদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমি তখন বালক দু'জনকে বললাম তোমরা কি দেখছ না এ ব্যক্তিকে যার ব্যাপারে তোমরা জানতে চাচ্ছ। উভয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করল এবং হত্যা করে ফেলল। অতঃপর উভয়েই ফিরে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ঘটনার সংব দিলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে কে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল, আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের তলোয়ার কি পরিষ্কার করে ফেলেছ? তারা বলল, না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের তলোয়ার পরীক্ষা করে দেখলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহকে খুলে নেয়া সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন। আর সে দু' বালক হলো, মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহ এবং মুআয ইবনু আফরা (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، اخبرنا يوسف بن الماجشون، عن صالح بن ابراهيم، بن عبد الرحمن بن عوف عن ابيه، عن عبد الرحمن بن عوف، انه قال بينا انا واقف، في الصف يوم بدر نظرت عن يميني، وشمالي، فاذا انا بين، غلامين من الانصار حديثة اسنانهما تمنيت لو كنت بين اضلع منهما فغمزني احدهما . فقال يا عم هل تعرف ابا جهل قال قلت نعم وما حاجتك اليه يا ابن اخي قال اخبرت انه يسب رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لين رايته لا يفارق سوادي سواده حتى يموت الاعجل منا . قال فتعجبت لذلك فغمزني الاخر فقال مثلها - قال - فلم انشب ان نظرت الى ابي جهل يزول في الناس فقلت الا تريان هذا صاحبكما الذي تسالان عنه قال فابتدراه فضرباه بسيفيهما حتى قتلاه ثم انصرفا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبراه . فقال " ايكما قتله " . فقال كل واحد منهما انا قتلت . فقال " هل مسحتما سيفيكما " . قالا لا . فنظر في السيفين فقال " كلاكما قتله " . وقضى بسلبه لمعاذ بن عمرو بن الجموح والرجلان معاذ بن عمرو بن الجموح ومعاذ ابن عفراء
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুমাইর গোত্রের এক ব্যক্তি শক্র পক্ষের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল এবং তার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিতে চাইল। কিন্তু তাদের সেনাপতি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং ঐ ঘটনার সংবাদ দিলেন। তখন তিনি খালিদ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি (নিহত ব্যক্তির) সম্পদ তাকে প্রদান করলে না? খালিদ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার প্রচুর সম্পদ পেয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও। তারপর খালিদ (রাযিঃ) ‘আওফ (রাযিঃ) এর কাছ দিয়ে গেলেন এবং ‘আওফ (রাযিঃ) তার চাদর ধরে টান দিয়ে বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছাবো, তাই কি হয়নি? অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শোনতে পেলেন। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন। এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। তোমরা কি আমার নেতাদের পরিত্যাগ করবে? নিশ্চয় তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোন ব্যক্তি উট কিংবা ছাগল চরাতে মনস্থ করলো এবং মাঠে নিয়ে চরাল। তারপর পিপাসার সময় পানি পান করানোর জন্য জলাশয়ে নিয়ে গেল। পরিষ্কার পানি পান করতে শুরু করল এবং ঘোলাটে পানি পরিত্যাগ করল। অতঃপর এমনিভাবে পরিষ্কারটা তোমাদের জন্য এবং অপরিষ্কারটা তোমাদের নেতাদের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৮, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابو الطاهر، احمد بن عمرو بن سرح اخبرنا عبد الله بن وهب، اخبرني معاوية بن صالح، عن عبد الرحمن بن جبير، عن ابيه، عن عوف بن مالك، قال قتل رجل من حمير رجلا من العدو فاراد سلبه فمنعه خالد بن الوليد وكان واليا عليهم فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم عوف بن مالك فاخبره فقال لخالد " ما منعك ان تعطيه سلبه " . قال استكثرته يا رسول الله . قال " ادفعه اليه " . فمر خالد بعوف فجر بردايه ثم قال هل انجزت لك ما ذكرت لك من رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمعه رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستغضب فقال " لا تعطه يا خالد لا تعطه يا خالد هل انتم تاركون لي امرايي انما مثلكم ومثلهم كمثل رجل استرعي ابلا او غنما فرعاها ثم تحين سقيها فاوردها حوضا فشرعت فيه فشربت صفوه وتركت كدره فصفوه لكم وكدره عليهم
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ‘আওফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে যারা মূতার যুদ্ধে গিয়েছিল, তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। ইয়ামানের একজন সাহায্যকারীও আমার সাথি হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি হাদীসে বলেছেন যে, ‘আওফ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, হে খালিদ! তুমি কি জাননা যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রু থেকে ছিনিয়ে নেয়া লব্ধ সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদ ব্যক্তির প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু এ সম্পদ আমার কাছে অধিক মনে হলো। (তাই আমি নিষেধ করেছিলাম।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৯, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا صفوان بن عمرو، عن عبد، الرحمن بن جبير بن نفير عن ابيه، عن عوف بن مالك الاشجعي، قال خرجت مع من خرج مع زيد بن حارثة في غزوة موتة ورافقني مددي من اليمن . وساق الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم . بنحوه غير انه قال في الحديث قال عوف فقلت يا خالد اما علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى بالسلب للقاتل قال بلى ولكني استكثرته
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ছিলাম। একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকালের খাওয়ায় শামিল ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি লাল রঙের উটে চড়ে এসে উটটিকে বসাল এবং তার কোমর থেকে একটি চামড়ার রশি বের করে এর দ্বারা সেটিকে বাঁধলো। এরপর সে এসে লোকদের সাথে সকালের নাস্তা খেতে লাগল এবং এদিক-সেদিক তাকাতে লাগলো (সে ছিল গুপ্তচর)। আমাদের মধ্যে দুর্বলতাও ছিল। সওয়ারীও কম ছিল। আমাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে চলছিল। এমন সময় সে ব্যক্তি দ্রুত গতিতে নিজের উটের কাছে এসে এর রশি খুললো। এরপর উটটিকে বসিয়ে এর উপর সওয়ার হয়ে হাকালো এবং উট তাকে নিয়ে ছুটল। তখন এক ব্যক্তি একটি ধূসর বর্ণের উটনীর উপর আরোহণ করে তার পশ্চাদ্ধাবন করল। সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বের হয়ে দৌড় দিলাম। অতঃপর আরও অগ্রসর হয়ে আমি উটনীর লাগাম ধরে ফেললাম। এবং আমি তাকে বসালাম। যখন উটটি তার হাটু মাটিতে রাখল, তখন আমি তলোয়ার বের করে লোকটির মাথায় আঘাত করলাম। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর আমি উটটি টেনে নিয়ে এলাম। এর উপর ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনসহ আমাকে এগিয়ে নিলেন। তিনি বললেন, কে এ লোকটিকে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, ইবনু আকওয়া। তিনি বললেন, (নিহত ব্যক্তির) থেকে খুলে আনা সমুদয় সম্পদ আকওয়া'র পুত্র সালামার জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس الحنفي، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثني اياس بن سلمة، حدثني ابي سلمة بن الاكوع، قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم هوازن فبينا نحن نتضحى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ جاء رجل على جمل احمر فاناخه ثم انتزع طلقا من حقبه فقيد به الجمل ثم تقدم يتغدى مع القوم وجعل ينظر وفينا ضعفة ورقة في الظهر وبعضنا مشاة اذ خرج يشتد فاتى جمله فاطلق قيده ثم اناخه وقعد عليه فاثاره فاشتد به الجمل فاتبعه رجل على ناقة ورقاء . قال سلمة وخرجت اشتد فكنت عند ورك الناقة . ثم تقدمت حتى كنت عند ورك الجمل ثم تقدمت حتى اخذت بخطام الجمل فانخته فلما وضع ركبته في الارض اخترطت سيفي فضربت راس الرجل فندر ثم جيت بالجمل اقوده عليه رحله وسلاحه فاستقبلني رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس معه فقال " من قتل الرجل " . قالوا ابن الاكوع . قال " له سلبه اجمع
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমরা ফাযারাহ গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আবূ বাকর (রাযিঃ) ছিলেন আমাদের আমীর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। যখন আমাদের এবং পানির স্থানের মাঝে একঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদেরকে (রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে পানির নিকট পৌছলেন। আর যাদেরকে তার বিরুদ্ধে পেলেন হত্যা এবং বন্দী করলেন। আমি লোকদের একটি দলকে দেখতে পাচ্ছি যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশংকা করছিলাম যে, তারা হয়তোবা আমার আগেই পাহাড়ে পৌছে যাবে। অতএব আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা তখন তীর দেখতে পেয়ে থেমে গেল। তখন আমি তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানী ফাযারার একজন মহিলাও ছিল এবং (রাবী বলেন) তার সঙ্গে তার এক কন্যা ছিল। সে ছিল আরবের সবচেয়ে সুন্দরী। আমি সকলকেই হাকিয়ে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কাছে নিয়ে এলাম। আবূ বকর (রাযিঃ) মহিলার কন্যাটি আমাকে নফল হিসেবে প্রদান করলেন। এরপর আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্তু উঠাইনি। পরে বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, হে সালামাহ্ তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা'আলার কসম, তাকে আমার অত্যধিক পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উঠাইনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেন, হে সালামাহ! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। “আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন।” তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল আল্লাহর কসম! সে আপনার জন্যই। আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কন্যাটিকে মাক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করে আনলেন, যারা মাক্কায় ইতোপূর্বে বন্দী ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثني اياس بن سلمة، حدثني ابي قال، غزونا فزارة وعلينا ابو بكر امره رسول الله صلى الله عليه وسلم علينا فلما كان بيننا وبين الماء ساعة امرنا ابو بكر فعرسنا ثم شن الغارة فورد الماء فقتل من قتل عليه وسبى وانظر الى عنق من الناس فيهم الذراري فخشيت ان يسبقوني الى الجبل فرميت بسهم بينهم وبين الجبل فلما راوا السهم وقفوا فجيت بهم اسوقهم وفيهم امراة من بني فزارة عليها قشع من ادم - قال القشع النطع - معها ابنة لها من احسن العرب فسقتهم حتى اتيت بهم ابا بكر فنفلني ابو بكر ابنتها فقدمنا المدينة وما كشفت لها ثوبا فلقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم في السوق فقال " يا سلمة هب لي المراة " . فقلت يا رسول الله والله لقد اعجبتني وما كشفت لها ثوبا ثم لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم من الغد في السوق فقال لي " يا سلمة هب لي المراة لله ابوك " . فقلت هي لك يا رسول الله فوالله ما كشفت لها ثوبا فبعث بها رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اهل مكة ففدى بها ناسا من المسلمين كانوا اسروا بمكة
আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) যেসব হাদীস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে কোন জনপদে এসে অবস্থান করবে, সেখান থেকে (প্রাপ্ত ফাই-এর) এক অংশ পাবে। আর যে কোন জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহ ও তার রসূলের অবাধ্যতা করবে, (অর্থাৎ- যুদ্ধ করবে) তবে তার (সম্পদের) এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তার রসূলের জন্য। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদ তোমাদের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا احمد بن حنبل، ومحمد بن رافع، قالا حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن همام بن منبه، قال هذا ما حدثنا ابو هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر احاديث منها وقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ايما قرية اتيتموها واقمتم فيها فسهمكم فيها وايما قرية عصت الله ورسوله فان خمسها لله ولرسوله ثم هي لكم
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক (রহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী নাযীর গোত্রের সম্পদ এমন সম্পদ যা আল্লাহ তা'আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিনাযুদ্ধে প্রদান করেন। সেখানে মুসলিমরা ঘোড়া এবং উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করেনি। অতএব এ সম্পদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে স্বীয় পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণে খরচ করতেন এবং অবিশষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ক্রয় খাতে রেখে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد، ومحمد بن عباد، وابو بكر بن ابي شيبة واسحاق بن ابراهيم - واللفظ لابن ابي شيبة - قال اسحاق اخبرنا وقال الاخرون، حدثنا سفيان، عن عمرو، عن الزهري، عن مالك بن اوس، عن عمر، قال كانت اموال بني النضير مما افاء الله على رسوله مما لم يوجف عليه المسلمون بخيل ولا ركاب فكانت للنبي صلى الله عليه وسلم خاصة فكان ينفق على اهله نفقة سنة وما بقي يجعله في الكراع والسلاح عدة في سبيل الله
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে উল্লিখিত হাদীস একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال اخبرنا سفيان بن عيينة، عن معمر، عن الزهري، بهذا الاسناد
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা যুবা’ঈ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। মালিক ইবনু আওস (রাযিঃ) তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। বেলা উঠে গেলে আমি তার নিকট এলাম। তখন আমি তাকে তার ঘরে খাটের উপর বসা অবস্থায় দেখলাম। তাতে বিছানা ছিল চাটাইয়ের। তিনি চামড়ার একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মাল! (অর্থাৎ- হে মালিক) তোমার সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের লোকজন আমার কাছে দ্রুত এলো, আমি তাদেরকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের মধ্যে বন্টন করে দাও। অতএব আমি বললাম, আপনি যদি এর নির্দেশ আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে দিতেন, তাহলে ভাল হত। তখন তিনি বললেন, হে মাল (অর্থাৎ- হে মালিক) তুমি তা গ্রহণ করো। এমন সময় ইয়ারফা (রহঃ) তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান উসমান, ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ, যুবায়র এবং সা’দ। তখন উমার বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও। তখন সকলেই প্রবেশ করলেন। এরপর পুনরায় ইয়ারফা’ এসে বলল, আব্বাস এবং আলী (রাযিঃ) আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকেও আসতে দাও। এরপর আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমার মধ্যে এবং এ মিথ্যাবাদী, পাপী, প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকের মধ্যে মীমাংসা করে দিন।* তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, হে আমীরুল মু'মিনীন তাদের মধ্যে বিষয়টি নিম্পত্তি করে দিন এবং তাদেরকে এ থেকে স্বস্তি দিন। অতএব মালিক ইবনু আওস (রাযিঃ) বললেন, আমার ধারণা হলো যে, তারা দু’জন অর্থাৎ- আলী এবং আব্বাস (রাযিঃ) তাদেরকে পূর্বাহ্নে পাঠিয়ে ছিলেন এ ব্যাপারটির জন্যেই, যেন তারা উমারকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে ফায়সালা করে দেন। উমার বললেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। তখন তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এবার তিনি আলী এবং আব্বাস (রাযিঃ)-এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কেই সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি জানেন না যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবী সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সদাকাহ। তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। আমরা তা জানি। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা জনপদ বা নগরবাসীর নিকট থেকে মালে ফাই** হিসেবে স্বীয় রসূলকে যা প্রদান করেছেন- তা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের জন্য নির্দিষ্ট। আমার জানা নেই যে, তিনি এ পঠিত আয়াতের পূর্বেও কোন আয়াত পাঠ করেছিলেন কি-না? অতঃপর উমর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমাদেরকে বানী নামীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্য জমা করে রেখে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দেন। এরপর উমর (রাযিঃ) বললেন, আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি সেসব কথা অবগত আছেন। তখন তারা বলেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এরপর তিনি আব্বাস এবং আলী (রাযিঃ) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতোপূর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে শপথ প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন? তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর উমর (রাযিঃ) বললেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল হলো তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন যে, আমিই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর আপনি এসেছেন, আপনার স্ত্রীর (ফাতিমার) পিতা থেকে মীরাস গ্রহণ করতে। এরপর আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের নবীগণের সম্পত্তিতে কোন উত্তরাধিকারিত্ব নেই। আমরা যা রেখে যাই- তা হয় সদাকাহ। আপনারা উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং থিয়ানাতকারী মনে করবেন। অতঃপর প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি আবূ বাকর সিদীক (রাযিঃ) সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্যপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী যা আল্লাহ জানেন। অতঃপর আবূ বকর (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ও আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর। সুতরাং আপনারা উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানাতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্য পথ-প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও ওলী ও অভিভাবক। অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনারা উভয়েই এক এবং আপনাদের দাবীও এক। সুতরাং আপনারা বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন। আমি বলি- যদি আপনারা চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব- এ শর্তে যে, আপনারা এ সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। অতএব আপনারা এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা গ্রহণ, করেছেন। এরপর উমর (রাযিঃ) বললেন, আমার কথা কি যথার্থ? তখন উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। উমার (রাযিঃ) বললেন, তারপরও আপনারা দু'জন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এটা ছাড়া আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কিয়ামত পর্যন্ত। আর যদি আপনারা সে মালের দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তবে তা আপনারা আমার কাছে ফেরত দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের কতিপয় পরিবারের লোক আমার কাছে উপস্থিত হলো ...... তারপর মালিক (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাছাড়া তার হাদীসে রয়েছে যে, “তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খরচ দিতেন। অনেক সময় মা'মার (রহঃ) বলেছেন যে, তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খোরাকী রেখে দিতেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، ومحمد بن رافع، وعبد بن حميد، - قال ابن رافع حدثنا وقال الاخران، اخبرنا عبد الرزاق، - اخبرنا معمر، عن الزهري، عن مالك بن اوس، بن الحدثان قال ارسل الى عمر بن الخطاب فقال انه قد حضر اهل ابيات من قومك . بنحو حديث مالك . غير ان فيه، فكان ينفق على اهله منه سنة وربما قال معمر يحبس قوت اهله منه سنة ثم يجعل ما بقي منه مجعل مال الله عز وجل
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকাল হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ উসমান (রাযিঃ) কে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট পাঠাতে মনস্থ করলেন, যেন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে তাদের মীরাস তলব করেন। তখন আয়িশাহ (রাযিঃ) তাদের বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলে যাননি যে, আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ্ সর্বসাধারণের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، انها قالت ان ازواج النبي صلى الله عليه وسلم حين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم اردن ان يبعثن عثمان بن عفان الى ابي بكر فيسالنه ميراثهن من النبي صلى الله عليه وسلم قالت عايشة لهن اليس قد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا نورث ما تركنا فهو صدقة
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমাহ বিনতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর এর নিকট লোক পাঠালেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পদে তার মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা'আলা তাকে মদীনাহ্ ও ফিদাক এর ফাই এবং খাইবারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেন- আমরা আমাদের (নবীগণের) পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হয় সদাকাহ (বাইতুল মাল)। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে সদাকাহর যে অবস্থা চালু ছিল, তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গিয়েছেন। অতএব, আবূ বাকর (রাযিঃ) ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) এতে রাগান্বিত হয়ে তাকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলেননি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন, তখন তার স্বামী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবূ বকর (রাযিঃ) কে দেননি। আলী (রাযিঃ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলী (রাযিঃ) এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল। এরপর যখন তার ইন্তিকাল হলো তখন তিনি লোকের চেহারায় অপছন্দনীয় ভাব দেখতে পেলেন। অতএব তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) এর সঙ্গে ফায়সালা করে তার বাই’আতের প্রার্থনা করলেন। কেননা তিনি ঐ মাসগুলোতে তার বাই’আত গ্রহণ করেননি। তারপর ‘আলী (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনবেন না। কেননা, তিনি উমার (রাযিঃ) এর আগমনকে অপছন্দ করছিলেন। উমার (রাযিঃ) আবূ বাকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাদের কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমি আশংকা করিনি যে, তারা আমার সাথে কিছু করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব। পরিশেষে আবূ বাকর (রাযিঃ) তাদের কাছে গেলেন। এরপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাশাহহুদ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবূ বাকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে নি'আমাত প্রদান করেছেন, তাতে আমাদের কোন হিংসা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপেক্ষা করে খিলাফাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবূ বাকরের সঙ্গে তিনি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিশেষে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর দু'চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো। এরপর যখন আবূ বাকর (রাযিঃ) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের প্রতি উত্তম আচরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয় আমার নিজ আত্মীয়ের প্রতি ভাল আচরণের চেয়েও। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এ সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করব না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করব না। এরপর ‘আলী (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ) কে বললেন যে, আমি বাই’আতের জন্য আপনাকে আজ বিকাল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবূ বাকর (রাযিঃ) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি ‘আলী (রাযিঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার বাই’আত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তার ওযর বর্ণনা করেন, যা তার কাছে বর্ণনা করা হয়েছিল। এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তা আবূ বাকর (রাযিঃ) এর প্রতি হিংসা পোষণ করে নয়। আর না আছে আমাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কোন সম্মান ও নি’আমাতের অস্বীকৃতি। বরং আমরা মনে করতাম যে, খিলাফতের মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের উপেক্ষা করে এ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুন্ন হয়েছি। এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তারা বললেন যে, আপনি তা ঠিক বলেছেন। তখন তিনি কল্যাণের প্রতি ফিরে এলেন অর্থাৎ- তখন মনোমালিন্যের অবসান হলো এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর বাই’আত গ্রহণ করা হলো, তখন থেকে মুসলিমগণ আলী (রাযিঃ) এর সংস্পর্শে আসতে লাগলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৮, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني عبد الله بن محمد بن اسماء الضبعي، حدثنا جويرية، عن مالك، عن الزهري، ان مالك بن اوس، حدثه قال ارسل الى عمر بن الخطاب فجيته حين تعالى النهار - قال - فوجدته في بيته جالسا على سرير مفضيا الى رماله متكيا على وسادة من ادم . فقال لي يا مال انه قد دف اهل ابيات من قومك وقد امرت فيهم برضخ فخذه فاقسمه بينهم - قال - قلت لو امرت بهذا غيري قال خذه يا مال . قال فجاء يرفا فقال هل لك يا امير المومنين في عثمان وعبد الرحمن بن عوف والزبير وسعد فقال عمر نعم . فاذن لهم فدخلوا ثم جاء . فقال هل لك في عباس وعلي قال نعم . فاذن لهما فقال عباس يا امير المومنين اقض بيني وبين هذا الكاذب الاثم الغادر الخاين . فقال القوم اجل يا امير المومنين فاقض بينهم وارحهم . فقال مالك بن اوس يخيل الى انهم قد كانوا قدموهم لذلك - فقال عمر اتيدا انشدكم بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض اتعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة " . قالوا نعم . ثم اقبل على العباس وعلي فقال انشدكما بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض اتعلمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركناه صدقة " . قالا نعم . فقال عمر ان الله جل وعز كان خص رسوله صلى الله عليه وسلم بخاصة لم يخصص بها احدا غيره قال { ما افاء الله على رسوله من اهل القرى فلله وللرسول} ما ادري هل قرا الاية التي قبلها ام لا . قال فقسم رسول الله صلى الله عليه وسلم بينكم اموال بني النضير فوالله ما استاثر عليكم ولا اخذها دونكم حتى بقي هذا المال فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ياخذ منه نفقة سنة ثم يجعل ما بقي اسوة المال . ثم قال انشدكم بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض اتعلمون ذلك قالوا نعم . ثم نشد عباسا وعليا بمثل ما نشد به القوم اتعلمان ذلك قالا نعم . قال فلما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ابو بكر انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم فجيتما تطلب ميراثك من ابن اخيك ويطلب هذا ميراث امراته من ابيها فقال ابو بكر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما نورث ما تركنا صدقة " . فرايتماه كاذبا اثما غادرا خاينا والله يعلم انه لصادق بار راشد تابع للحق ثم توفي ابو بكر وانا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم وولي ابي بكر فرايتماني كاذبا اثما غادرا خاينا والله يعلم اني لصادق بار راشد تابع للحق فوليتها ثم جيتني انت وهذا وانتما جميع وامركما واحد فقلتما ادفعها الينا فقلت ان شيتم دفعتها اليكما على ان عليكما عهد الله ان تعملا فيها بالذي كان يعمل رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخذتماها بذلك قال اكذلك قالا نعم . قال ثم جيتماني لاقضي بينكما ولا والله لا اقضي بينكما بغير ذلك حتى تقوم الساعة فان عجزتما عنها فرداها الى
حدثني محمد بن رافع، اخبرنا حجين، حدثنا ليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة، انها اخبرته ان فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلت الى ابي بكر الصديق تساله ميراثها من رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه بالمدينة وفدك وما بقي من خمس خيبر فقال ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة انما ياكل ال محمد - صلى الله عليه وسلم - في هذا المال " . واني والله لا اغير شييا من صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حالها التي كانت عليها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاعملن فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم فابى ابو بكر ان يدفع الى فاطمة شييا فوجدت فاطمة على ابي بكر في ذلك - قال - فهجرته فلم تكلمه حتى توفيت وعاشت بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة اشهر فلما توفيت دفنها زوجها علي بن ابي طالب ليلا ولم يوذن بها ابا بكر وصلى عليها علي وكان لعلي من الناس وجهة حياة فاطمة فلما توفيت استنكر علي وجوه الناس فالتمس مصالحة ابي بكر ومبايعته ولم يكن بايع تلك الاشهر فارسل الى ابي بكر ان ايتنا ولا ياتنا معك احد - كراهية محضر عمر بن الخطاب - فقال عمر لابي بكر والله لا تدخل عليهم وحدك . فقال ابو بكر وما عساهم ان يفعلوا بي اني والله لاتينهم . فدخل عليهم ابو بكر . فتشهد علي بن ابي طالب ثم قال انا قد عرفنا يا ابا بكر فضيلتك وما اعطاك الله ولم ننفس عليك خيرا ساقه الله اليك ولكنك استبددت علينا بالامر وكنا نحن نرى لنا حقا لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم . فلم يزل يكلم ابا بكر حتى فاضت عينا ابي بكر فلما تكلم ابو بكر قال والذي نفسي بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الى ان اصل من قرابتي واما الذي شجر بيني وبينكم من هذه الاموال فاني لم ال فيه عن الحق ولم اترك امرا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنعه فيها الا صنعته . فقال علي لابي بكر موعدك العشية للبيعة . فلما صلى ابو بكر صلاة الظهر رقي على المنبر فتشهد وذكر شان علي وتخلفه عن البيعة وعذره بالذي اعتذر اليه ثم استغفر وتشهد علي بن ابي طالب فعظم حق ابي بكر وانه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على ابي بكر ولا انكارا للذي فضله الله به ولكنا كنا نرى لنا في الامر نصيبا فاستبد علينا به فوجدنا في انفسنا فسر بذلك المسلمون وقالوا اصبت . فكان المسلمون الى علي قريبا حين راجع الامر المعروف