Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮২ হাদিসসমূহ
আলী ইবনু হাসান ইবনু সুলাইমান কুকী ..... হিশাম (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এটুকু ব্যতিক্রম বলেছেন যে, "সে রাত থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে লাগলো। এভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। অবশেষে তিনি মারা যান। তিনি (হিশাম) তার হাদীসে আরো কিছু বাড়তি বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে একজন কবি বলেনঃ "হে সাদ ইবনু মুআয! তোমার ব্যাপারে বানু কুরাইযাহ্ এবং বানু নায়ীর কী করেছে? তোমার জীবনের শপথ! নিশ্চয় সা’দ ইবনু মুআয যে প্রভাতে তোমরা তার জন্য কষ্টানুভব করছিলে, সে আজ নিশ্চুপ। (হে আওস সম্প্রদায়) তোমরা তোমাদের হাড়িগুলো খালি রেখে দিয়েছ, তাতে আজ কোন কিছু নেই, অর্থাৎ- তোমাদের অধঃপতন হয়েছে। অথচ তোমাদের বিপক্ষের (খাজরাজ) সম্প্রদায়ের ডেগগুলো গরম, তা টগবগ করছে অর্থাৎ- তারা আজ প্রভাবশালী ধনী। আর একজন সন্ত্রান্ত আবূ হুবাব বলেছিলেন, তোমরা বানু কাইনুকা গোত্রকে অবস্থান করতে দাও, তাদেরকে যেতে দিও না। আর তারা তাদের শহরে ছিল ধনাঢ্য যেমন গেড়ে থাকে মায়তান অর্থাৎ বঞ্চিত নিস্তব্ধ পাথর।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا علي بن الحسين بن سليمان الكوفي، حدثنا عبدة، عن هشام، بهذا الاسناد نحوه غير انه قال فانفجر من ليلته فمازال يسيل حتى مات وزاد في الحديث قال فذاك حين يقول الشاعر الا يا سعد سعد بني معاذ فما فعلت قريظة والنضير لعمرك ان سعد بني معاذ غداة تحملوا لهو الصبور تركتم قدركم لا شىء فيها وقدر القوم حامية تفور وقد قال الكريم ابو حباب اقيموا قينقاع ولا تسيروا وقد كانوا ببلدتهم ثقالا كما ثقلت بميطان الصخور
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা যুবাঈ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাবের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন- তখন তিনি আমাদের মাঝে ঘোষণা দিলেন যে, কেউ যেন যুহরের সালাত আদায় না করে, যতক্ষণ না বানী কুরাইযার মহল্লায় গিয়ে পৌছবে। তখন কিছু সংখ্যক লোক যুহরের সালাতের সময় চলে যাওয়ার ভয় করলেন এবং তারা বানু কুরাইযাহ গোত্রে পৌছার পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। আর অন্যান্যরা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে স্থানে সালাত আদায় করতে বলেছেন, সে স্থান ব্যতীত আমরা সালাত আদায় করব না, যদিও সময় চলে যায়। রাবী বলেন, এ ঘটনা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'দলের কারো প্রতি রাগান্বিত হননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني عبد الله بن محمد بن اسماء الضبعي، حدثنا جويرية بن اسماء، عن نافع، عن عبد الله، قال نادى فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم انصرف عن الاحزاب " ان لا يصلين احد الظهر الا في بني قريظة " . فتخوف ناس فوت الوقت فصلوا دون بني قريظة . وقال اخرون لا نصلي الا حيث امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وان فاتنا الوقت قال فما عنف واحدا من الفريقين
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মাক্কাহ্ থেকে মদীনায় প্রবেশ করেন তখন কোন কিছুই তাদের হাতে ছিল না। (তারা ছিলেন তখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব) আর আনসারগণ ছিলেন জমা-জমির স্বত্বাধিকারী। তখন আনসারগণ মুহাজিরদেরকে তাদের খেজুর বাগানের অর্ধেক এ শর্তে ভাগ করে দেন যে, প্রতি বছর বাগানে মুহাজিরগণ পরিশ্রম ও পরিচর্যা করে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদেরকে দেবেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর মাতা উম্মু সুলায়ম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহার মাতা ছিলেন। আর আবদুল্লাহ ছিলেন আনাসের বৈপিত্রেয় ভাই। আনাসের মাতা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার একটি খেজুর গাছ দান করেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা দিলেন তার আযাদকৃত দাসী উম্মু আইমানকে যিনি উসামাহ ইবনু যায়দের মাতা ছিলেন। ইবনু শিহাব (রাযিঃ) বলেন, আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) খবর দিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবারের যুদ্ধ শেষে মাদীনায় প্রত্যাবর্তন করলেন তখন মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের দানকৃত ফলের বাগানসমূহ ফিরিয়ে দেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আমার মাতাকে তার দানকৃত বাগান ফেরত দেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে তার পরিবর্তে নিজের বাগানের এক অংশ প্রদান করেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, উম্মু আইমান-যিনি উসামাহ ইবনু যায়দের মাতা ছিলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুক্তালিবের দাসী ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতার ইন্তিকালের পর আমিনাহর গর্ভ হতে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূমিষ্ট হন তখন উম্মু আইমান তাকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করেন। এরপর তিনি তাকে আযাদ করে দেন। পরবর্তীতে যায়দ ইবনু হারিসাহর সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পাঁচ মাস পর ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابو الطاهر، وحرملة، قالا اخبرنا ابن وهب، اخبرني يونس، عن ابن، شهاب عن انس بن مالك، قال لما قدم المهاجرون من مكة المدينة قدموا وليس بايديهم شىء وكان الانصار اهل الارض والعقار فقاسمهم الانصار على ان اعطوهم انصاف ثمار اموالهم كل عام ويكفونهم العمل والميونة وكانت ام انس بن مالك وهى تدعى ام سليم - وكانت ام عبد الله بن ابي طلحة كان اخا لانس لامه - وكانت اعطت ام انس رسول الله صلى الله عليه وسلم عذاقا لها فاعطاها رسول الله صلى الله عليه وسلم ام ايمن مولاته ام اسامة بن زيد . قال ابن شهاب فاخبرني انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما فرغ من قتال اهل خيبر وانصرف الى المدينة رد المهاجرون الى الانصار منايحهم التي كانوا منحوهم من ثمارهم - قال - فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم الى امي عذاقها واعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم ام ايمن مكانهن من حايطه . قال ابن شهاب وكان من شان ام ايمن ام اسامة بن زيد انها كانت وصيفة لعبد الله بن عبد المطلب وكانت من الحبشة فلما ولدت امنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ما توفي ابوه فكانت ام ايمن تحضنه حتى كبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعتقها ثم انكحها زيد بن حارثة ثم توفيت بعد ما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمسة اشهر
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, হামিদ ইবনু উমার আল বাকরার ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা কাইসী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, (যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করেন) তখন এক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ নিজ ভূমির কিছু খেজুর দান করেছেন। যখন বানু কুরাইযাহ এবং বানু নাযীর গোত্রদ্বয়ের উপর (মুসলিমগণ) বিজয়ী হলেন, তখন সে ব্যক্তি যা দিয়েছিল তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমার পরিবারের লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যা দিয়েছিলেন তা অথবা তার অংশ বিশেষ তার নিকট হতে চেয়ে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে তা দিয়ে দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় আমি তার কাছে এসে যখন তা চাইলাম, তখন তিনি তা আমাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় উম্মু আইমান (রাযিঃ) সেখানে এলেন এবং আমার গলায় কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ও বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে তা দেবো না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু আইমান আপনি তাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এই এই সম্পদ দিচ্ছি। তখন তিনি বললেন, কক্ষনো না। সেই আল্লাহর শপথ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আপনাকে এই এই সম্পদ প্রদান করছি (আপনি তাকে ছেড়ে দিন)। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে ঐ সম্পদের দশগুণ কিংবা দশগুণের কাছাকাছি প্রদান করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وحامد بن عمر البكراوي، ومحمد بن عبد الاعلى، القيسي كلهم عن المعتمر، - واللفظ لابن ابي شيبة - حدثنا معتمر بن سليمان التيمي، عن ابيه، عن انس، ان رجلا، - وقال حامد وابن عبد الاعلى ان الرجل، - كان يجعل للنبي صلى الله عليه وسلم النخلات من ارضه . حتى فتحت عليه قريظة والنضير فجعل بعد ذلك يرد عليه ما كان اعطاه . قال انس وان اهلي امروني ان اتي النبي صلى الله عليه وسلم فاساله ما كان اهله اعطوه او بعضه وكان نبي الله صلى الله عليه وسلم قد اعطاه ام ايمن فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاعطانيهن فجاءت ام ايمن فجعلت الثوب في عنقي وقالت والله لا نعطيكاهن وقد اعطانيهن . فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم " يا ام ايمن اتركيه ولك كذا وكذا " . وتقول كلا والذي لا اله الا هو . فجعل يقول كذا حتى اعطاها عشرة امثاله او قريبا من عشرة امثاله
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাইবার যুদ্ধের সময় চর্বি ভর্তি একটি চামড়ার থলে পেলাম। আমি তা তুলে নিলাম এবং বললাম, এর থেকে আমি কাউকে কিছু দেব না। তিনি বলেন, আমি হঠাৎ পিছন ফিরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম, (আমার কথা শুনে) তিনি মৃদু হাসছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان، - يعني ابن المغيرة - حدثنا حميد، بن هلال عن عبد الله بن مغفل، قال اصبت جرابا من شحم يوم خيبر - قال - فالتزمته فقلت لا اعطي اليوم احدا من هذا شييا - قال - فالتفت فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم متبسما
মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) হতে একই সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনিجِرَابٌ مِنْ شَحْمٍ (চর্বির থলে) কথাটি বলেন এবংطعام (খাদ্যের) কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن بشار العبدي، حدثنا بهز بن اسد، حدثنا شعبة، حدثني حميد، بن هلال قال سمعت عبد الله بن مغفل، يقول رمي الينا جراب فيه طعام وشحم يوم خيبرفوثبت لاخذه قال فالتفت فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستحييت منه
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হান্যালী, ইবনু আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) তাকে সামনা-সামনি খবর দিয়েছেন, আমি তথায় (শাম দেশে) যাত্রা করলাম। যখন আমার মধ্যে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে (হুদাইবিয়ার) সন্ধির সময়কাল কার্যকর ছিল (যষ্ঠ হিজরীতে)। যখন আমি শাম দেশে উপস্থিত হলাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেরিত একটি পত্র হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) বাদশাহর নিকট পৌছল। দিহইয়াতুল কালবী (রাযিঃ) (দূত) এ পত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সে পত্র বসরার এক নেতাকে প্রদান করেন। এরপর বসরার সে নেতা, হিরাকল বাদশাহর নিকট পত্রটি হস্তান্তর করেন। তখন হিরাকল বাদশাহ বললেন, এখানে ঐ লোকটির (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) সম্প্রদায়ের কোন লোক আছে কি, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন কুরায়শের এক দল লোকের সঙ্গে আমাকেও ডাকা হল। এরপর আমরা হিরাকল বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করলাম। আমাদেরকে তার সম্মুখেই বসান হল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যিনি নবী দাবী করছেন তার সাথে আত্মীয়তার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী? তখন আবূ সুফইয়ান বললেন, আমি। তখন তারা আমাকে বাদশাহর সামনেই বসালেন এবং আমার সঙ্গীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। এরপর তিনি তার দোভাষীকে ডাকালেন এবং তাকে বললেন, "আপনি তাদেরকে আমার পক্ষ হতে বলে দিন যে, আমি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) ঐ লোকটি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব নবী বলে যিনি দাবী করছেন। যদি তিনি (আবূ সুফইয়ান) আমার নিকট মিথ্যা কথা বলেন, তবে আপনারাও তাকে মিথ্যাবাদী বলে ঘোষণা দেবেন। তখন আবূ সুফইয়ান বললেন, আল্লাহর শপথ! যদি আমার এ ভয় না হত যে, মিথ্যা বললে তা আমার বরাতে বর্ণিত হতে থাকবে তবে নিশ্চয়ই (তার সম্পর্কে) মিথ্যা কথা বলতাম। অতঃপর বাদশাহ তার দোভাষীকে বললেন, আপনি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) জিজ্ঞেস করুন, আপনাদের মাঝে ঐ লোকটির বংশ পরিচয় কেমন? আমি প্রতি উত্তরে বললাম, তিনি আমাদের মাঝে সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তার পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কি কেউ কখনও বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি কখনও তাকে এ কথা বলার পূর্বে, যা তিনি বলেছেন, মিথ্যা বলার অভিযোগ করেছেন? আমি বললাম, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, সমাজের কোন শ্রেণীর লোক তার অনুসরণ করে? সন্ত্রান্ত প্রভাবশালীরা, না দুর্বলেরা? আমি বললাম, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা নয়; বরং দুর্বল শ্রেণীর লোকেরা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তার অনুগামীর সংখ্যা কি বৃদ্ধি পাচ্ছে, না কমছে? আমি বললাম, কমছে না, বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যেসব লোক তার ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে তারা কি পরবর্তীতে তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে সে ধর্ম থেকে ফিরে আসছে? আমি বললাম, না। এরপর তিনি বললেন, আপনারা কি কখনও তার সাথে কোন যুদ্ধ করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের এবং তার মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের এবং তার মাঝে যুদ্ধের অবস্থা পালাবদল হচ্ছে। কখনও তিনি বিজয়ী হন এবং কখনও বা আমরা বিজয়ী হই। সম্রাট হিরাকল আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি কখনও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেছেন? আমি বললাম, না। কিন্তু আমরা বর্তমানে তার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ আছি। আমরা জানি না যে, পরিশেষে তিনি তাতে কী করেন। আবূ সুফইয়ান বললেন, আল্লাহর শপথ। প্রশ্ন উত্তরে আমার পক্ষ হতে এ কথাটি ছাড়া অন্য কোন অতিরিক্ত কথা সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর সম্রাট হিরাকল বললেন, (আপনাদের দেশে) তীর নবুওয়াত দাবীর পূর্বে কি কোন ব্যক্তি কখনও এরূপ দাবী করেছে? আমি বললাম, না। এরপর সম্রাট হিরাকল তার দোভাষীকে বললেন, আপনি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) বলে দিন যে, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) বংশ পরিচয় সম্পর্কে। আপনি তখন উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এমনিভাবে রসূলগণ স্বীয় সম্প্রদায়ের উত্তম বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন। এরপরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন? আপনি এর উত্তরে বলেছিলেন, না। আমি এ কথা বলেছিলাম এ কারণে যে, যদি তার পিতৃপুরুষদের মধ্য হতে কেউ বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি মনে করতাম যে, হয়ত বা তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চান। তারপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তার অনুসারীগণ কি সমাজের দুর্বল শ্রেণীর লোক, না সম্রান্ত শ্রেণীর লোক? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, দুর্বল শ্রেণীর লোক তার অনুসারী হয়ে থাকে। এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যে তিনি (নুবুওয়াতের) যে কথা বলছেন এর পূর্বে কি আপনারা তাকে কখনও মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন যে, না। এতে আমি বুঝতে পারলাম, যে ব্যক্তি জাগতিক ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলেন না, তিনি কি কারণে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করতে যাবেন? এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, কোন ব্যক্তি কি তার ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর ধর্ম পরিত্যাগ করেছে? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, না। ঈমানের প্রকৃত অবস্থা এটাই। যখন অন্তরের অন্তঃস্থলে একবার তা প্রবেশ করে তখন সেখানেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। এরপর আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার অনুগামীদের সংখ্যা কি দিন দিন বাড়ছে, না কমছে? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন, তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাই হল ঈমানের প্রকৃত অবস্থা। তা বৃদ্ধি পেতে পেতে অবশেষে পূর্ণত্ব লাভ করে। এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কি তার সঙ্গে কোন যুদ্ধ করেছেন? উত্তরে আপনি বলেছিলেন, হ্যাঁ, আপনারা তার সাথে যুদ্ধ করেছেন। তবে আপনাদের মাঝে এবং তার মাঝে যুদ্ধের অবস্থা হল পালাবদলের মত। কখনও তিনি বিজয়ী হন, আবার কখনও আপনারা বিজয়ী হন। এভাবে রসূলগণকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। পরিণামে তারাই বিজয়ী হয়ে থাকেন। এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি কি কখনও কোন সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করেছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন, তিনি কোন চুক্তিভঙ্গ করেননি! এভাবে রসূলগণ কখনও কোন চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তার এ কথা (নুবুওয়াতের কথা) বলার পূর্বে কি কোন ব্যক্তি অনুরূপ কথা বলেছেন? আপনি বলেছিলেন যে, না। আমি তা এ কারণে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, যদি তার পূর্বে কেউ এরূপ দাবী করে থাকতো, তবে আমি মনে করতাম যে, সে ব্যক্তি তার পূর্বে যে কথা বলা হয়েছিল তার অনুকরণ করেছে। রাবী বলেন, এরপর হিরাকল জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আমাদেরকে সালাত আদায় করতে, যাকাত দিতে, নিকট আত্মীয় ও হকদার ব্যক্তিদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে এবং অবৈধ ও অসৌজন্যমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। বাদশাহ্ হিরাকল বললেন, তিনি আপনাদেরকে কী কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন? আমি বললাম আপনি তার সম্পর্কে যা বললেন তার অবস্থা যদি ঠিক তাই হয় তবে তিনি অবশ্যই নবী। আমি জানতাম যে, একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। কিন্তু আমি ধারণা করিনি যে, তিনি আপনাদের থেকে হবেন। যদি আমি জানতাম যে, আমি তার নিকট নির্বিঘ্নে পৌছতে পারবো তবে নিশ্চয়ই আমি তার মুবারক পদদ্বয় ধুয়ে দিতাম। (জেনে রেখো) নিশ্চয়ই তার রাজত্ব আমার দু'পায়ের নীচ পর্যন্ত পৌছবে। এরপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চিঠিটি তলব করলেন এবং তা পাঠ করলেন। এতে ছিল- “বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম। এটা মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে রোমের মহান ব্যক্তি হিরাকল-এর প্রতি। শান্তি ধারা সে ব্যক্তির উপর, যিনি সঠিক পথ অনুসরণ করেন। অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ইসলামের আহবান জানাচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপত্তা লাভ করুন। আপনি মুসলিম হোন, আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দান করবেন। আর যদি আপনি (ইসলাম থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে নিশ্চয়ই প্রজাদের অপরাধ আপনার উপর আরোপিত হবে। "হে আহলে কিতাব! তোমরা এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদাত না করি, কোন কিছুকেই তার শরীক না করি ... তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম" পর্যন্ত। এরপর তিনি পত্র পাঠ শেষ করলে তার নিকটে শোরগোল এবং অযথা কথাবার্তা হতে লাগল। এদিকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা বেরিয়ে এলাম। আবূ সুফইয়ান বলেন, আমরা যখন বেরিয়ে এলাম তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, আবূ কাবশার* পুত্রের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। রোমীয়দের বাদশাহও তাকে ভয় করছে। তিনি আরও বলেন, সেদিন থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে আমার দৃঢ় প্রত্যয় হল যে, নিশ্চয়ই তিনি বিজয়ী হবেন। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে এ একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, "যখন আল্লাহ তা'আলা রোম সম্রাট (কায়সার) দ্বারা পারস্যের সেনাদলকে পরাজিত করলেন, তখন তিনি এ বিজয়ের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশে 'হিমস' থেকে 'ঈলিয়া' (বাইতুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান আর তিনি তার হাদীসে “এ পত্র মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে" এবংاريسين শব্দের পরিবর্তেيريسين শব্দ বলেছেন। আর তিনিدِعَايَةِ الإِسْلاَمِ শব্দের পরিবর্তেدَاعِيَةِ الإِسْلاَمِ শব্দ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه حسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن ابراهيم بن سعد - حدثنا ابي، عن صالح، عن ابن شهاب، بهذا الاسناد وزاد في الحديث وكان قيصر لما كشف الله عنه جنود فارس مشى من حمص الى ايلياء شكرا لما ابلاه الله . وقال في الحديث " من محمد عبد الله ورسوله " . وقال " اثم اليريسيين " . وقال " بداعية الاسلام
ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ মু'নী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা (পারস্যের সম্রাট), কায়সার (রোমের সম্রাট) ও নাজাশী এবং অন্যান্য প্রভাবশালী শাসকগণের নিকট পত্র লিখেন, যাতে তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। ইনি সে নাজাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني يوسف بن حماد المعني، حدثنا عبد الاعلى، عن سعيد، عن قتادة، عن انس، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كتب الى كسرى والى قيصر والى النجاشي والى كل جبار يدعوهم الى الله تعالى وليس بالنجاشي الذي صلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ রাযী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ কথা বলেননি যে, "তিনি সে নাজাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه محمد بن عبد الله الرزي، حدثنا عبد الوهاب بن عطاء، عن سعيد، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك، عن النبي صلى الله عليه وسلم . بمثله ولم يقل وليس بالنجاشي الذي صلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم
নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ কথা উল্লেখ করেননি যে, "তিনি সে নাজাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنيه نصر بن علي الجهضمي، اخبرني ابي، حدثني خالد بن قيس، عن قتادة، عن انس، ولم يذكر وليس بالنجاشي الذي صلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... 'আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুনায়নের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তার থেকে আলাদা হইনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়াহ ইবনু নুফাসাহ হুযামী তাকে হাদইয়্যাহ্ স্বরূপ দিয়েছিলেন। (তাকে দুলদুল নামে ডাকা হতো।) যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হলো তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক পর্যায়ে) পেছনের দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পায়ের গোড়ালি দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি তার খাচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ) তার খচ্চরের রেকাব' (হাউদাজের বন্ধনের পট্টি) ধরে রেখেছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে “আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে আহবান করো। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন- আর তিনি ছিলেন উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ব্যক্তি- তখন আমি উচ্চস্বরে আওয়াজ দিয়ে বললাম, হে আসহাবে সামুরাহ! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তিনি বলেন,আল্লাহর কসম! তা শুনামাত্র তারা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে এবং তারা বলতে লাগলো, আমরা আপনার নিকট হাযির, আমরা আপনার নিকট হাযির। রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহ্বান করলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহ্বান সমাপ্ত করা হলো বানী হারিস ইবনু খাযরাজের মাধ্যমে। (তারা আহ্বান করলেন, হে বানী হারিস ইবনুল খাযরাজ।) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় আপন ঘাড় উচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা দেখেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই হলো যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত। রাবী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলো তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুড়ে মারলেন। এরপর বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরোগুলো নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর শপথ। তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابو الطاهر، احمد بن عمرو بن سرح اخبرنا ابن وهب، اخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال حدثني كثير بن عباس بن عبد المطلب، قال قال عباس شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين فلزمت انا وابو سفيان بن الحارث بن عبد المطلب رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم نفارقه ورسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلة له بيضاء اهداها له فروة بن نفاثة الجذامي فلما التقى المسلمون والكفار ولى المسلمون مدبرين فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يركض بغلته قبل الكفار قال عباس و انا اخذ بلجام بغلة رسول الله صلى الله عليه وسلم اكفها ارادة ان لا تسرع وابو سفيان اخذ بركاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اى عباس ناد اصحاب السمرة " . فقال عباس وكان رجلا صيتا فقلت باعلى صوتي اين اصحاب السمرة قال فوالله لكان عطفتهم حين سمعوا صوتي عطفة البقر على اولادها . فقالوا يا لبيك يا لبيك - قال - فاقتتلوا والكفار والدعوة في الانصار يقولون يا معشر الانصار يا معشر الانصار قال ثم قصرت الدعوة على بني الحارث بن الخزرج فقالوا يا بني الحارث بن الخزرج يا بني الحارث بن الخزرج . فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على بغلته كالمتطاول عليها الى قتالهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا حين حمي الوطيس " . قال ثم اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم حصيات فرمى بهن وجوه الكفار ثم قال " انهزموا ورب محمد " . قال فذهبت انظر فاذا القتال على هييته فيما ارى - قال - فوالله ما هو الا ان رماهم بحصياته فما زلت ارى حدهم كليلا وامرهم مدبرا
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি 'ফারওয়াহ ইবনু নু'আমাহ জুযামী’ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা পরাজিত হয়েছে, কাবার রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে কাবার রবের কসম!" তিনি তার হাদীসে এ কথাটিও বাড়তি বর্ণনা করেছেন যে, "অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে পরাজিত করলেন"। রাবী বলেন, আমি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাদের পিছন থেকে দেখলাম যে, তিনি স্বীয় খচ্চরের উপর থেকে নিজ পায়ের গোড়ালি দিয়ে একে প্রহার করছিলেন। (দ্রুত গতিতে চলার জন্য।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬২, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه اسحاق بن ابراهيم، ومحمد بن رافع، وعبد بن حميد، جميعا عن عبد، الرزاق اخبرنا معمر، عن الزهري، بهذا الاسناد . نحوه غير انه قال فروة بن نعامة الجذامي . وقال " انهزموا ورب الكعبة انهزموا ورب الكعبة " . وزاد في الحديث حتى هزمهم الله قال وكاني انظر الى النبي صلى الله عليه وسلم يركض خلفهم على بغلته
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুনায়নের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। ..... এরপর তিনি উল্লিখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস এবং মা’মার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস বর্ণনার দিক দিয়ে অধিক বিস্তারিত এবং পরিপূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، قال اخبرني كثير، بن العباس عن ابيه، قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم يوم حنين . وساق الحديث . غير ان حديث يونس وحديث معمر اكثر منه واتم
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারা (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবূ উমারাহ্! আপনারা কি হুনায়নের যুদ্ধে পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তার কয়েকজন হালকা পাতলা, চালাক-চতুর তরুণ সাথী, অস্ত্ৰ-শস্ত্র ও বেশী হাতিয়ার বিহীন তারা সরে পড়েন। তারা এমন একদল তীরন্দাযের মুকাবিলা করছিলেন, যাদের তীরের লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হবার নয়। তারা ছিল হাওয়াযিন ও নাযর গোত্রের লোক। তারা এমনভাবে তীর ছুড়ছিল যে, লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হওয়ার ছিল না। তখন তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এগিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় তার সাদা রঙ্গের খচ্চরের উপর ছিলেন। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) একে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নামলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাবী বলেন, যেন তিনি বলেছিলেনঃ “আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব"। তারপর তিনি স্বীয় সেনাদলকে শ্রেণীবদ্ধ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، اخبرنا ابو خيثمة، عن ابي اسحاق، قال قال رجل للبراء يا ابا عمارة افررتم يوم حنين قال لا والله ما ولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكنه خرج شبان اصحابه واخفاوهم حسرا ليس عليهم سلاح او كثير سلاح فلقوا قوما رماة لا يكاد يسقط لهم سهم جمع هوازن وبني نصر فرشقوهم رشقا ما يكادون يخطيون فاقبلوا هناك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلته البيضاء وابو سفيان بن الحارث بن عبد المطلب يقود به فنزل فاستنصر وقال " انا النبي لا كذب انا ابن عبد المطلب " . ثم صفهم
আহমাদ ইবনু জানাব মিসসীসী (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারা (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। কিন্তু কিছু সংখ্যক চালাকচতুর হালকাপাতলা লোক হাওয়াযিন গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দাজ সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি তীর ছুড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত। তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এগিয়ে এলো। আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস (রাযিঃ) তার খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দুআ করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব। "ইয়া আল্লাহ। আপনার সাহায্য অবতীর্ণ করুন"। বারা (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত, তখন আমরা তার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যাকে যুদ্ধে তার সামনে রাখা হয়, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا احمد بن جناب المصيصي، حدثنا عيسى بن يونس، عن زكرياء، عن ابي، اسحاق قال جاء رجل الى البراء فقال اكنتم وليتم يوم حنين يا ابا عمارة فقال اشهد على نبي الله صلى الله عليه وسلم ما ولى ولكنه انطلق اخفاء من الناس وحسر الى هذا الحى من هوازن وهم قوم رماة فرموهم برشق من نبل كانها رجل من جراد فانكشفوا فاقبل القوم الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو سفيان بن الحارث يقود به بغلته فنزل ودعا واستنصر وهو يقول " انا النبي لا كذب انا ابن عبد المطلب اللهم نزل نصرك " . قال البراء كنا والله اذا احمر الباس نتقي به وان الشجاع منا للذي يحاذي به . يعني النبي صلى الله عليه وسلم
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছি, বানী কায়সের এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনারা কি হুনায়নের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পলায়ন করেছিলেন? তখন বারা (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্য পলায়ন করেননি। (তবে ব্যাপার এই ছিল যে,) হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা দক্ষ তীরন্দাজ ছিল। আমরা যখন তাদের উপর আক্রমণ করলাম তখন তারা পলায়ন করল। এমন সময় আমরা গনীমাতের মালের দিকে ঝুঁকে পড়লাম। তখন তারা ফিরে এসে আমাদের উপর অতর্কিতে তীর ছুড়তে শুরু করল। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর দেখতে পেলাম। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস (রাযিঃ) খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ "আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد، بن جعفر حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، قال سمعت البراء، وساله، رجل من قيس افررتم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين فقال البراء ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يفر وكانت هوازن يوميذ رماة وانا لما حملنا عليهم انكشفوا فاكببنا على الغنايم فاستقبلونا بالسهام ولقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلته البيضاء وان ابا سفيان بن الحارث اخذ بلجامها وهو يقول " انا النبي لا كذب انا ابن عبد المطلب
যুহাইর ইবনু হারব মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে এক ব্যক্তি বলল, হে আবূ উমারাহ! ..... তারপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন। এ হাদীস ছিল তাদের বর্ণিত হাদীস থেকে সংক্ষিপ্ত। আর তাদের হাদীস ছিল পূর্ণ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني زهير بن حرب، ومحمد بن المثنى، وابو بكر بن خلاد قالوا حدثنا يحيى، بن سعيد عن سفيان، قال حدثني ابو اسحاق، عن البراء، قال قال له رجل يا ابا عمارة . فذكر الحديث وهو اقل من حديثهم وهولاء اتم حديثا
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুনায়নের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করেছি। যখন আমরা শক্রদের সম্মুখীন হলাম, তখন এ পর্যায়ে আমি অগ্রসর হয়ে একটি টিলার উপর উঠলাম। তখন শত্রুদের এক ব্যক্তি আমার মুকাবিলায় অগ্রসর হলো। আমি একটি তীর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে আমার থেকে আত্মগোপন করল। আমি তখন বুঝতে পারিনি তার ব্যাপারটি কী হয়েছে। তারপর যখন শক্রদলের প্রতি লক্ষ্য করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, তারা অপর এক টিলায় আরোহণ করেছে। তারপর তারা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথিরা সামনা-সামনি হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ পিছনে সরে পড়ল। আমি পরাজিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন আমার পরিধানে ছিল দু'টি চাদর। তন্মধ্যে একটি চাদর ছিল বাধা অবস্থায় এবং অপরটি ছিল খোলা। এক পর্যায়ে আমার লুঙ্গিটি খুলে গেল। তখন আমি সে দুটি একত্র করলাম এবং পরাজিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে গমন করলাম। আর তিনি তখন তার সাদা রং-এর খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনুল আকওয়া সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে। এরপর শত্রুরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ঘিরে ফেললো। তখন তিনি স্বীয় খচ্চর থেকে অবতরণ করলেন। তারপর এক মুষ্টি মাটি যমীন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমণ্ডলে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, তাদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। এরপর তাদের সকল মানুষের দু'চোখ-ই সে এক মুষ্টি মাটির ধূলায় ভরে গেল। তারা পশ্চাৎ দিকে পলায়ন করলো। আল্লাহ তা'আলা এ দ্বারাই তাদেরকে পরাস্ত করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমাতের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا عمر بن يونس الحنفي، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثني اياس بن سلمة، حدثني ابي قال، غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حنينا فلما واجهنا العدو تقدمت فاعلو ثنية فاستقبلني رجل من العدو فارميه بسهم فتوارى عني فما دريت ما صنع ونظرت الى القوم فاذا هم قد طلعوا من ثنية اخرى فالتقوا هم وصحابة النبي صلى الله عليه وسلم فولى صحابة النبي صلى الله عليه وسلم وارجع منهزما وعلى بردتان متزرا باحداهما مرتديا بالاخرى فاستطلق ازاري فجمعتهما جميعا ومررت على رسول الله صلى الله عليه وسلم منهزما وهو على بغلته الشهباء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لقد راى ابن الاكوع فزعا " . فلما غشوا رسول الله صلى الله عليه وسلم نزل عن البغلة ثم قبض قبضة من تراب من الارض ثم استقبل به وجوههم فقال " شاهت الوجوه " . فما خلق الله منهم انسانا الا ملا عينيه ترابا بتلك القبضة فولوا مدبرين فهزمهم الله عز وجل وقسم رسول الله صلى الله عليه وسلم غنايمهم بين المسلمين
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়িফবাসীকে অবরোধ করলেন এবং এতে তিনি তাদের কাছ থেকে কিছু পেলেন না। এরপর তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ্ আমরা ফিরে যাবো। তখন তার সাহাবীগণ বললেন, আমরা কি প্রত্যাবর্তন করবো অথচ আমরা তায়িফ জয় করলাম না। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আগামীকাল সকালে তোমরা যুদ্ধ কর। সুতরাং তারা পরবর্তী দিন সকালে যুদ্ধ করল এবং অনেকেই আহত হলো। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা আগামীকাল প্রত্যাবর্তন করবো। রাবী বলেন, এতে তারা খুশি হলেন। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وزهير بن حرب، وابن، نمير جميعا عن سفيان، قال زهير حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو، عن ابي العباس الشاعر الاعمى، عن عبد الله، بن عمرو قال حاصر رسول الله صلى الله عليه وسلم اهل الطايف فلم ينل منهم شييا فقال " انا قافلون ان شاء الله " . قال اصحابه نرجع ولم نفتتحه فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " اغدوا على القتال " . فغدوا عليه فاصابهم جراح فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا قافلون غدا " . قال فاعجبهم ذلك فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم
حدثنا اسحاق بن ابراهيم الحنظلي، وابن ابي عمر، ومحمد بن رافع، وعبد بن، حميد - واللفظ لابن رافع - قال ابن رافع وابن ابي عمر حدثنا وقال الاخران، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، ان ابا سفيان، اخبره من، فيه الى فيه قال انطلقت في المدة التي كانت بيني وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فبينا انا بالشام اذ جيء بكتاب من رسول الله صلى الله عليه وسلم الى هرقل يعني عظيم الروم - قال - وكان دحية الكلبي جاء به فدفعه الى عظيم بصرى فدفعه عظيم بصرى الى هرقل فقال هرقل هل ها هنا احد من قوم هذا الرجل الذي يزعم انه نبي قالوا نعم - قال - فدعيت في نفر من قريش فدخلنا على هرقل فاجلسنا بين يديه فقال ايكم اقرب نسبا من هذا الرجل الذي يزعم انه نبي فقال ابو سفيان فقلت انا . فاجلسوني بين يديه واجلسوا اصحابي خلفي ثم دعا بترجمانه فقال له قل لهم اني سايل هذا عن الرجل الذي يزعم انه نبي فان كذبني فكذبوه . قال فقال ابو سفيان وايم الله لولا مخافة ان يوثر على الكذب لكذبت . ثم قال لترجمانه سله كيف حسبه فيكم قال قلت هو فينا ذو حسب قال فهل كان من�� ابايه ملك قلت لا . قال فهل كنتم تتهمونه بالكذب قبل ان يقول ما قال قلت لا . قال ومن يتبعه اشراف الناس ام ضعفاوهم قال قلت بل ضعفاوهم . قال ايزيدون ام ينقصون قال قلت لا بل يزيدون . قال هل يرتد احد منهم عن دينه بعد ان يدخل فيه سخطة له قال قلت لا . قال فهل قاتلتموه قلت نعم . قال فكيف كان قتالكم اياه قال قلت تكون الحرب بيننا وبينه سجالا يصيب منا ونصيب منه . قال فهل يغدر قلت لا . ونحن منه في مدة لا ندري ما هو صانع فيها . قال فوالله ما امكنني من كلمة ادخل فيها شييا غير هذه . قال فهل قال هذا القول احد قبله قال قلت لا . قال لترجمانه قل له اني سالتك عن حسبه فزعمت انه فيكم ذو حسب وكذلك الرسل تبعث في احساب قومها . وسالتك هل كان في ابايه ملك فزعمت ان لا . فقلت لو كان من ابايه ملك قلت رجل يطلب ملك ابايه . وسالتك عن اتباعه اضعفاوهم ام اشرافهم فقلت بل ضعفاوهم وهم اتباع الرسل . وسالتك هل كنتم تتهمونه بالكذب قبل ان يقول ما قال فزعمت ان لا . فقد عرفت انه لم يكن ليدع الكذب على الناس ثم يذهب فيكذب على الله . وسالتك هل يرتد احد منهم عن دينه بعد ان يدخله سخطة له فزعمت ان لا . وكذلك الايمان اذا خالط بشاشة القلوب . وسالتك هل يزيدون او ينقصون فزعمت انهم يزيدون وكذلك الايمان حتى يتم . وسالتك هل قاتلتموه فزعمت انكم قد قاتلتموه فتكون الحرب بينكم وبينه سجالا ينال منكم وتنالون منه . وكذلك الرسل تبتلى ثم تكون لهم العاقبة وسالتك هل يغدر فزعمت انه لا يغدر . وكذلك الرسل لا تغدر . وسالتك هل قال هذا القول احد قبله فزعمت ان لا . فقلت لو قال هذا القول احد قبله قلت رجل ايتم بقول قيل قبله . قال ثم قال بم يامر كم قلت يامرنا بالصلاة والزكاة والصلة والعفاف قال ان يكن ما تقول فيه حقا فانه نبي وقد كنت اعلم انه خارج ولم اكن اظنه منكم ولو اني اعلم اني اخلص اليه لاحببت لقاءه ولو كنت عنده لغسلت عن قدميه وليبلغن ملكه ما تحت قدمى . قال ثم دعا بكتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقراه فاذا فيه " بسم الله الرحمن الرحيم من محمد رسول الله الى هرقل عظيم الروم سلام على من اتبع الهدى اما بعد فاني ادعوك بدعاية الاسلام اسلم تسلم واسلم يوتك الله اجرك مرتين وان توليت فان عليك اثم الاريسيين و { يا اهل الكتاب تعالوا الى كلمة سواء بيننا وبينكم ان لا نعبد الا الله ولا نشرك به شييا ولا يتخذ بعضنا بعضا اربابا من دون الله فان تولوا فقولوا اشهدوا بانا مسلمون} فلما فرغ من قراءة الكتاب ارتفعت الاصوات عنده وكثر اللغط وامر بنا فاخرجنا . قال فقلت لاصحابي حين خرجنا لقد امر امر ابن ابي كبشة انه ليخافه ملك بني الاصفر - قال - فما زلت موقنا بامر رسول الله صلى الله عليه وسلم انه سيظهر حتى ادخل الله على الاسلام