Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৩ হাদিসসমূহ
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ يُقَاصُّهُ وَقَرَأَ ( وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ ) ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, তার প্রাপ্য যতটুকু, ততটুকু গ্রহণ করতে পারে এবং তিনি (কুরআনুল কারীমের এ আয়াত) পাঠ করেনঃ ‘‘যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে।’’ (নাহল (১৬) : ১২৬) ২৪৬০. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উতবাহ ইবনু রবী‘আর কন্যা হিন্দা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার স্বামী) আবূ সুফিয়ান বখিল ব্যক্তি। তার সম্পদ হতে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তখন তিনি বললেন, যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে দাও তাহলে তোমার কোন গুনাহ হবে না। (২২১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثني عروة، ان عايشة رضى الله عنها قالت جاءت هند بنت عتبة بن ربيعة، فقالت يا رسول الله ان ابا سفيان رجل مسيك، فهل على حرج ان اطعم من الذي له عيالنا فقال " لا حرج عليك ان تطعميهم بالمعروف
‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন গোত্রের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি আমাদেরকে বললেন, যদি তোমরা কোন গোত্রের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ হতে মেহমানের হক আদায় করে নিবে। (৬১৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، قال حدثني يزيد، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، قال قلنا للنبي صلى الله عليه وسلم انك تبعثنا فننزل بقوم لا يقرونا فما ترى فيه فقال لنا " ان نزلتم بقوم، فامر لكم بما ينبغي للضيف فاقبلوا، فان لم يفعلوا فخذوا منهم حق الضيف
وَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বনু সাঈদার ছায়াযুক্ত উঠানে বসেছিলেন। ২৪৬২. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিলেন, তখন আনসারগণ বনূ সাঈদা গোত্রের ছায়া ছাউনীতে গিয়ে সমবেত হলেন। আমি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললাম, আমাদের সঙ্গে চলুন। এরপর আমরা তাদের নিকট সাকীফাহ বনূ সাঈদাতে গিয়ে পৌঁছলাম। (৩৪৪৫, ৩৯২৮, ৪০২১, ৬৮২৯, ৬৮৩০, ৭৩২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال حدثني مالك،. واخبرني يونس، عن ابن شهاب، اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، ان ابن عباس، اخبره عن عمر رضى الله عنهم قال حين توفى الله نبيه صلى الله عليه وسلم ان الانصار اجتمعوا في سقيفة بني ساعدة، فقلت لابي بكر انطلق بنا. فجيناهم في سقيفة بني ساعدة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব। (৫৬২৮, ৫৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابن شهاب، عن الاعرج، عن ابي هريرة، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يمنع جار جاره ان يغرز خشبه في جداره ". ثم يقول ابو هريرة ما لي اراكم عنها معرضين والله لارمين بها بين اكتافكم
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে এ মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান! শরাব এখন হতে হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, সে দিন মাদ্বীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না’’- (আল-মা-য়িদাহ ৯৩)। (৪৬১৭, ৪৬২০, ৫৫৮০, ৫৫৮২, ৫৫৮৩, ৫৫৮৪, ৫৬০০, ৫৬২২, ৭২৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم ابو يحيى، اخبرنا عفان، حدثنا حماد بن زيد، حدثنا ثابت، عن انس رضى الله عنه كنت ساقي القوم في منزل ابي طلحة، وكان خمرهم يوميذ الفضيخ، فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم مناديا ينادي " الا ان الخمر قد حرمت ". قال فقال لي ابو طلحة اخرج فاهرقها، فخرجت فهرقتها، فجرت في سكك المدينة فقال بعض القوم قد قتل قوم وهى في بطونهم. فانزل الله {ليس على الذين امنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا} الاية
وَقَالَتْ عَائِشَةُ فَابْتَنَى أَبُو بَكْرٍ مَسْجِدًا بِفِنَاءِ دَارِهِ يُصَلِّي فِيهِ وَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَيَتَقَصَّفُ عَلَيْهِ نِسَاءُ الْمُشْرِكِينَ وَأَبْنَاؤُهُمْ يَعْجَبُونَ مِنْهُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ بِمَكَّةَ ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর বাড়ীর আঙিণায় মসজিদ বানালেন। সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এতে মুশরিকদের স্ত্রীরা ও তাদের সন্তানেরা তাঁর কাছে ভীড় জমাতে লাগল। তারা আবূ বকরের অবস্থা দেখে বিস্মিত হত। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ছিলেন। ২৪৬৫. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলল, এ ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, রাস্তার হক্ব কী? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করা। (৬২২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا معاذ بن فضالة، حدثنا ابو عمر، حفص بن ميسرة عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اياكم والجلوس على الطرقات ". فقالوا ما لنا بد، انما هي مجالسنا نتحدث فيها. قال " فاذا ابيتم الا المجالس فاعطوا الطريق حقها " قالوا وما حق الطريق قال " غض البصر، وكف الاذى، ورد السلام، وامر بالمعروف، ونهى عن المنكر
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদিন এক ব্যক্তি রাস্তায় চলার পথে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হল। তারপর একটি কূয়া দেখতে পেয়ে তাতে সে নেমে পড়ল এবং পানি পান করল। উপরে উঠে এসে সে দেখতে পেল একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে আর পিপাসার দরুন ভিজে মাটি চেটে খাচ্ছে। লোকটি (মনে মনে) বলল, এ কুকুরটির তেমনি পিপাসা পেয়েছে, যেমনি আমার পিপাসা পেয়েছিল। তারপর সে কূয়ার মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা পানি ভর্তি করে এনে কুকুরটিকে পান করাল। আল্লাহ তার এ কাজ কবূল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। সাহাবীগণ বলল, হে আল্লাহর রাসূল! পশুদের ব্যাপারেও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রাণী মাত্রের সেবার মধ্যেই পুণ্য রয়েছে। (১৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " بينا رجل بطريق، اشتد عليه العطش فوجد بيرا فنزل فيها فشرب، ثم خرج، فاذا كلب يلهث ياكل الثرى من العطش، فقال الرجل لقد بلغ هذا الكلب من العطش مثل الذي كان بلغ مني، فنزل البير، فملا خفه ماء، فسقى الكلب، فشكر الله له، فغفر له ". قالوا يا رسول الله وان لنا في البهايم لاجرا فقال " في كل ذات كبد رطبة اجر
بَاب إِمَاطَةِ الأَذَى ৪৬/২৪. রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা। وَقَالَ هَمَّامٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُمِيطُ الأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ হাম্মাম (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা সাদাকা স্বরূপ। ২৪৬৭. উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনার এক টিলার উপর উঠে বললেন, আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ যে তোমাদের ঘরগুলোতে বৃষ্টি বর্ষণের মতো ফিতনা বর্ষিত হচ্ছে। (১৮৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن عروة، عن اسامة بن زيد رضى الله عنهما قال اشرف النبي صلى الله عليه وسلم على اطم من اطام المدينة ثم قال " هل ترون ما ارى اني ارى مواقع الفتن خلال بيوتكم كمواقع القطر
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীদের মধ্যে ঐ দু’সহধর্মিণী সম্পর্কে উমার (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করতে সব সময় আগ্রহী ছিলাম, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘যদি তোমরা দু’জনে তাওবা কর (তাহলে সেটাই হবে কল্যাণকর)। কেননা, তোমাদের অন্তর বাঁকা হয়ে গেছে’’- (তাহরীমঃ ৪)। একবার আমি তাঁর [উমার (রাঃ)-এর] সঙ্গে হাজ্জে রওয়ানা করলাম। তিনি রাস্তা হতে সরে গেলেন। আমিও একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে গতি পরিবর্তন করলাম। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এলেন। আমি পানির পাত্র হতে তাঁর দু’হাতে পানি ঢাললাম, তিনি অযু করলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীদের মধ্যে দু’সহধর্মিণী কারা ছিলেন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘যদি তোমরা দু’জন তওবা কর (তবে সেটাই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর) কেননা, তোমাদের অন্তর বাঁকা হয়ে গেছে’’- (তাহরীমঃ ৪)। তিনি বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! এটা তোমার জন্য তাজ্জবের বিষয় যে, তুমি তা জান না। তারা দু’জন হলেন, ‘আয়িশাহ ও হাফসা (রাযি.) অতঃপর উমার (রাঃ) পুরো ঘটনা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মাদ্বীনার অদূরে বনূ উমাইয়া ইবনু যায়দের মহল্লায় বসবাস করতাম। আমরা দু’জন পালাক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাযির হতাম। একদিন তিনি যেতেন, আরেকদিন আমি যেতাম, আমি যে দিন যেতাম সে দিনের খবর (ওয়াহী) ইত্যাদি বিষয় তাঁকে অবহিত করতাম। আর তিনি যে দিন যেতেন, তিনিও অনুরূপ করতেন। আর আমরা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। কিন্তু আমরা যখন মাদ্বীনায় আনসারদের কাছে আসলাম তখন তাদেরকে এমন পেলাম, যাদের নারীরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করে থাকে। ধীরে ধীরে আমাদের মহিলারাও আনসারী মহিলাদের রীতিনীতি গ্রহণ করতে লাগল। একদিন আমি আমার স্ত্রীকে ধমক দিলাম। সে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর করল। আর এই প্রতিউত্তর আমার পছন্দ হল না। তখন সে আমাকে বলল, আমার প্রতিউত্তরে তুমি অসন্তুষ্ট হও কেন? আল্লাহর কসম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীরাওতো তাঁর কথার প্রতিউত্তর করে থাকেন এবং তাঁর কোন কোন সহধর্মিণী রাত পর্যন্ত পুরো দিন তাঁর কাছ হতে আলাদা থাকেন। এ কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম। বললাম, যিনি এরূপ করেছেন তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারপর আমি জামা-কাপড় পরে (আমার মেয়ে) হাফসাহ (রাযি.)-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে হাফসা! তোমাদের কেউ কেউ নাকি রাত পর্যন্ত পুরো দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অসন্তুষ্ট রাখে। সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে তো সে বরবাদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তোমার কি ভয় হয় না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলে আল্লাহও অসন্তুষ্ট হবেন। এর ফলে তুমি বরবাদ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করো না এবং তাঁর কোন কথার প্রতিউত্তর দিও না এবং তাঁর হতে পৃথক থেক না। তোমার কোন কিছুর দরকার হয়ে থাকলে আমাকে বলবে। আর তোমার প্রতিবেশী তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অধিক প্রিয় এ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। তিনি উদ্দেশ্য করেছেন ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে। সে সময় আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে, গাস্সানের লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ঘোড়াগুলিকে প্রস্তুত করছে। একদিন আমার সাথী তার পালার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গেলেন এবং ঈশার সময় এসে আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করলেন এবং বললেন, তিনি [‘উমার (রাঃ)] কি ঘুমিয়েছেন? তখন আমি ঘাবড়িয়ে তাঁর কাছে বেরিয়ে এলাম। তিনি বললেন, সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললাম, সেটা কী? গাস্সানের লোকেরা কি এসে গেছে? তিনি বললেন, না, বরং তার চেয়েও বড় ঘটনা ও বিরাট ব্যাপার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাহলে তো হাফসার সর্বনাশ হয়েছে এবং সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার তো ধারণা ছিল যে, এমন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। আমি কাপড় পরে বেরিয়ে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোঠায় প্রবেশ করে একাকী বসে থাকলেন। তখন আমি হাফসাহ (রাযি.)-এর কাছে গিয়ে দেখি সে কাঁদছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কাঁদছ কেন? আমি কি তোমাকে আগেই সতর্ক করে দেইনি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বলল, আমি জানি না। তিনি তাঁর ঐ কোঠায় আছেন। আমি বের হয়ে মিম্বরের কাছে আসলাম, দেখি যে লোকজন মিম্বরের চারপাশ জুড়ে বসে আছেন এবং কেউ কেউ কাঁদছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আমার ঔৎসুক্য প্রবল হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোঠায় ছিলেন, আমি সে কোঠার কাছে আসলাম। আমি তাঁর এক কালো গোলামকে বললাম, উমারের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর। সে প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে আলাপ করে বেরিয়ে এসে বলল, আমি আপনার কথা তাঁর কাছে উল্লেখ করেছি, কিন্তু তিনি নীরব রইলেন। আমি ফিরে এলাম এবং মিম্বরের পাশে বসা লোকদের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আমার আবার উদ্বেগ প্রবল হল। তাই আমি আবার এসে গোলামকে বললাম। (‘উমারের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর) এবারও সে আগের মতোই বলল। তারপর যখন আমি ফিরে আসছিলাম, গোলাম আমাকে ডেকে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। এখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করে দেখি, তিনি খেজুরের পাতায় তৈরী ছোবড়া ভর্তি একটা চামড়ার বালিশে হেলান দিয়ে খালি চাটাই এর উপর কাত হয়ে শুয়ে আছেন। তাঁর শরীর ও চাটাই এর মাঝখানে কোন ফরাশ ছিল না। ফলে তাঁর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে। আমি তাঁকে সালাম করলাম এবং দাঁড়িয়ে আবার আরয করলাম, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তখন তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং বললেন, না। তারপর আমি (থমথমে ভাব কাটিয়ে) অনুকূল ভাব সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়ে থেকেই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখুন, আমরা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা নারীদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। তারপর যখন আমরা এমন একটি সম্প্রদায়ের নিকট এলাম, যাদের উপর তাদের নারীরা কর্তৃত্ব করছে। তিনি এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। তারপর আমি বললাম, আপনি হয়তো লক্ষ্য করছেন যে, আমি হাফসার ঘরে গিয়েছি এবং তাকে বলেছি, তোমাকে এ কথা যেন ধোঁকায় না ফেলে যে, তোমার প্রতিবেশিনী (সতীন) তোমার চেয়ে অধিক আকর্ষণীয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অধিক প্রিয়। এ কথা দ্বারা তিনি ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে বুঝিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার মুচকি হাসলেন। তাঁকে একা দেখে আমি বসে পড়লাম। তারপর আমি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভিতর এদিক সেদিক দৃষ্টি করলাম। কিন্তু তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে তিনটি কাঁচা চামড়া ব্যতীত দৃষ্টিপাত করার মতো আর কিছুই দেখতে পেলাম না, তখন আমি আরয করলাম, আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করুন, তিনি যেন আপনার উম্মাতকে পার্থিব স্বচ্ছলতা দান করেন। কেননা, পারস্য ও রোমের অধিবাসীদেরকে স্বচ্ছলতা দান করা হয়েছে এবং তাদেরকে পার্থিব (অনেক প্রাচুর্য) দেয়া হয়েছে, অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেলান দিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, হে ইবনু খাত্তাব! তোমার কি এতে সন্দেহ রয়েছে যে, তারা তো এমন এক জাতি, যাদেরকে তাদের ভালো কাজের প্রতিদান দুনিয়ার জীবনেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ক্ষমার দু‘আ করুন। হাফসাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর কাছে এ কথা প্রকাশ করলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণীদের হতে আলাদা হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর কসম! আমি এক মাস তাদের কাছে যাব না। তাঁদের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ভীষণ রাগের কারণে তা হয়েছিল। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যখন ঊনত্রিশ দিন কেটে গেল, তিনি সর্বপ্রথম ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর কাছে এলেন। ‘আয়িশাহ (রাযি.) তাঁকে বললেন, আপনি কসম করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে আমাদের কাছে আসবেন না। আর এ পর্যন্ত আমরা ঊনত্রিশ রাত অতিবাহিত করেছি, যা আমি ঠিক ঠিক গণনা করে রেখেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। আর মূলত এ মাসটি ঊনত্রিশ দিনেরই ছিল। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, যখন ইখতিয়ারের আয়াত নাযিল হল, তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে একটি কথা বলতে চাই, তবে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে এর জওয়াবে তুমি তাড়াহুড়ো করবে না। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা জানতেন যে, আমার পিতা-মাতা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আলাদা হওয়ার পরামর্শ আমাকে কখনো দিবেন না। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ ‘‘হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিণীদের বলুন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন এবং তার চাকচিক্য কামনা কর, তবে আস; আমি তোমাদেরকে কিছু সম্বল প্রদান করি আর তোমাদেরকে সদ্ভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে (এবং) তাঁর রাসূলকে চাও এবং কামনা কর পরলোক, তবে তোমার অন্তর্গত সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন’’- (আহযাবঃ ২৮-২৯)। আমি বললাম, এ ব্যাপারে আমি আমার পিতা-মাতার কাছে কী পরামর্শ নিব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি এবং পরকালীন (সাফল্য) পেতে চাই। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্য সহধর্মিণীদেরকেও ইখতিয়ার দিলেন এবং প্রত্যেকে সে একই জবাব দিলেন, যা ‘আয়িশাহ (রাযি.) দিয়েছিলেন। (৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে যাবেন না বলে কসম করেন। এ সময় তাঁর পা মচ্কে গিয়েছিল। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চিলেকোঠায় অবস্থান করেন। একদিন ‘উমার (রাঃ) এসে বললেন, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না, তবে আমি একমাস তাদের কাছে যাবো না বলে কসম করেছি। তিনি ঊনত্রিশ দিন সেখানে অবস্থান করেন এরপর তিনি অবতরণ করেন এবং নিজের সহধর্মিণীদের কাছে আসেন। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابن سلام، حدثنا الفزاري، عن حميد الطويل، عن انس رضى الله عنه قال الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من نسايه شهرا، وكانت انفكت قدمه فجلس في علية له، فجاء عمر، فقال اطلقت نساءك قال " لا، ولكني اليت منهن شهرا ". فمكث تسعا وعشرين، ثم نزل، فدخل على نسايه
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমি উটটাকে মসজিদের উঠানের পাশে বেঁধে রেখে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, এটা আপনার উট। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং উটের পাশে ঘুরাফিরা করতে লাগলেন। তারপর বললেন, উট ও তার মূল্য দু’টোই তোমার। (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم، حدثنا ابو عقيل، حدثنا ابو المتوكل الناجي، قال اتيت جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد، فدخلت اليه، وعقلت الجمل في ناحية البلاط فقلت هذا جملك. فخرج فجعل يطيف بالجمل قال " الثمن والجمل لك
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি। (রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন লোকেদের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে এরপর তিনি দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। (২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، عن شعبة، عن منصور، عن ابي وايل، عن حذيفة رضى الله عنه قال لقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم، او قال لقد اتى النبي صلى الله عليه وسلم سباطة قوم فبال قايما
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় কাঁটাদার গাছের একটি ডাল রাস্তায় পেল, তখন সেটাকে রাস্তা হতে অপসারণ করল, আল্লাহ তার এ কাজকে কবূল করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। (৬৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله، اخبرنا مالك، عن سمى، عن ابي صالح، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " بينما رجل يمشي بطريق، وجد غصن شوك فاخذه، فشكر الله له، فغفر له
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মালিকেরা রাস্তার ব্যাপারে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেয়ার ফয়সালা দেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا جرير بن حازم، عن الزبير بن خريت، عن عكرمة، سمعت ابا هريرة رضى الله عنه قال قضى النبي صلى الله عليه وسلم اذا تشاجروا في الطريق بسبعة اذرع
وَقَالَ عُبَادَةُ بَايَعْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ نَنْتَهِبَ ‘উবাদাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে বায়‘আত করেছি যে, আমরা লুটপাট করব না। ২৪৭৪. ‘আদী ইবনু সাবিত (রহ.)-এর নানা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুটতরাজ করতে এবং জীবকে বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন। (৫৫১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم بن ابي اياس، حدثنا شعبة، حدثنا عدي بن ثابت، سمعت عبد الله بن يزيد الانصاري وهو جده ابو امه قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن النهبى والمثلة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যভিচারী মু’মিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মু’মিন অবস্থায় মদ পান করে না। কোন চোর মু’মিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মু’মিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে। সা‘ঈদ ও আবূ সালামাহ (রাঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত, তবে তাতে লুটতরাজের উল্লেখ নেই। ফিরাবরী (রহ.) বলেন, আমি আবূ জা‘ফর (রহ.)-এর লেখা পান্ডুলিপিতে পেয়েছি যে, আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, এর অর্থ হল, তার হতে ঈমানের নূর ছিনিয়ে নেয়া হয়। (৫৫৭৮, ৬৭৭২, ৬৮১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، حدثنا عقيل، عن ابن شهاب، عن ابي بكر بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يزني الزاني حين يزني وهو مومن، ولا يشرب الخمر حين يشرب وهو مومن، ولا يسرق حين يسرق وهو مومن، ولا ينتهب نهبة يرفع الناس اليه فيها ابصارهم حين ينتهبها وهو مومن ". وعن سعيد وابي سلمة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله الا النهبة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইবনু মারইয়াম [ঈসা (আ.)] তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক হয়ে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিয্য়া কর তুলে দিবেন। তখন ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, তা গ্রহণ করার মতো কেউ থাকবে না। (২২২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، سمع ابا هريرة رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تقوم الساعة حتى ينزل فيكم ابن مريم حكما مقسطا، فيكسر الصليب، ويقتل الخنزير، ويضع الجزية، ويفيض المال حتى لا يقبله احد
وَأُتِيَ شُرَيْحٌ فِي طُنْبُورٍ كُسِرَ فَلَمْ يَقْضِ فِيهِ بِشَيْءٍ শুরাইহ (রহ.)-এর কাছে তান্বুরা ভেঙ্গে ফেলার জন্য মামলা দায়ের করা হলে তিনি এর জন্য কোন জরিমানার ফায়সালা দেননি। ২৪৭৭. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এ আগুন কেন জ্বালানো হচ্ছে? সাহাবীগণ বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশত রান্না করার জন্য। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পাত্রটি ভেঙ্গে দাও এবং গোশত ফেলে দাও। তাঁরা বললেন, আমরা গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রটা ধুয়ে নিব কি? তিনি বললেন, ধুয়ে নাও। আবূ ‘আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহ.) বলেন, ইবনু আবূ উয়াইস বললেন, (الإِنْسِيَّةِ) শব্দটি আলিফ ও নুনে যবর হবে। (৪১৯৬, ৫৪৯৭, ৬১৪৮, ৬৩৩১, ৬৮৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو عاصم الضحاك بن مخلد، عن يزيد بن ابي عبيد، عن سلمة بن الاكوع رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم راى نيرانا توقد يوم خيبر. قال " على ما توقد هذه النيران ". قالوا على الحمر الانسية. قال " اكسروها، واهرقوها ". قالوا الا نهريقها ونغسلها قال " اغسلوا ". قال ابو عبد الله كان ابن ابي اويس يقول الحمر الانسية بنصب الالف والنون
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (বিজয়ীর বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা‘বা শরীফের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেনঃ ‘‘সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)’’- (বনী ইসরাঈল/ইসরাঃ ৮১)। (৪২৮৭, ৪৭২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا ابن ابي نجيح، عن مجاهد، عن ابي معمر، عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة، وحول الكعبة ثلاثماية وستون نصبا فجعل يطعنها بعود في يده وجعل يقول {جاء الحق وزهق الباطل} الاية
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার (কামরার) তাকের সম্মুখে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে ছিল প্রাণীর ছবি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ছিঁড়ে ফেললেন। এরপর ‘আয়িশাহ (রাযি.) তা দিয়ে দু’খানা গদি তৈরী করেন। এই গদি দু’খানা ঘরেই ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর বসতেন। (৫৯৫৪, ৫৯৫৫, ৬১০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن المنذر، حدثنا انس بن عياض، عن عبيد الله، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه القاسم، عن عايشة رضى الله عنها انها كانت اتخذت على سهوة لها سترا فيه تماثيل، فهتكه النبي صلى الله عليه وسلم، فاتخذت منه نمرقتين، فكانتا في البيت يجلس عليهما
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن ابي ثور، عن عبد الله بن عباس رضى الله عنهما قال لم ازل حريصا على ان اسال عمر رضى الله عنه عن المراتين من ازواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتين قال الله لهما {ان تتوبا الى الله فقد صغت قلوبكما} فحججت معه فعدل وعدلت معه بالاداوة، فتبرز حتى جاء، فسكبت على يديه من الاداوة، فتوضا فقلت يا امير المومنين من المراتان من ازواج النبي صلى الله عليه وسلم اللتان قال لهما {ان تتوبا الى الله} فقال واعجبي لك يا ابن عباس عايشة وحفصة، ثم استقبل عمر الحديث يسوقه، فقال اني كنت وجار لي من الانصار في بني امية بن زيد، وهى من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على النبي صلى الله عليه وسلم فينزل يوما وانزل يوما، فاذا نزلت جيته من خبر ذلك اليوم من الامر وغيره، واذا نزل فعل مثله، وكنا معشر قريش نغلب النساء، فلما قدمنا على الانصار اذا هم قوم تغلبهم نساوهم، فطفق نساونا ياخذن من ادب نساء الانصار، فصحت على امراتي، فراجعتني، فانكرت ان تراجعني، فقالت ولم تنكر ان اراجعك فوالله ان ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ليراجعنه، وان احداهن لتهجره اليوم حتى الليل. فافزعني، فقلت خابت من فعل منهن بعظيم. ثم جمعت على ثيابي، فدخلت على حفصة فقلت اى حفصة، اتغاضب احداكن رسول الله صلى الله عليه وسلم اليوم حتى الليل فقالت نعم. فقلت خابت وخسرت، افتامن ان يغضب الله لغضب رسوله صلى الله عليه وسلم فتهلكين لا تستكثري على رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تراجعيه في شىء ولا تهجريه، واساليني ما بدا لك، ولا يغرنك ان كانت جارتك هي اوضا منك واحب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يريد عايشة وكنا تحدثنا ان غسان تنعل النعال لغزونا، فنزل صاحبي يوم نوبته فرجع عشاء، فضرب بابي ضربا شديدا، وقال انايم هو ففزعت فخرجت اليه. وقال حدث امر عظيم. قلت ما هو اجاءت غسان قال لا، بل اعظم منه واطول، طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه. قال قد خابت حفصة وخسرت، كنت اظن ان هذا يوشك ان يكون، فجمعت على ثيابي، فصليت صلاة الفجر مع النبي صلى الله عليه وسلم فدخل مشربة له فاعتزل فيها، فدخلت على حفصة، فاذا هي تبكي. قلت ما يبكيك اولم اكن حذرتك اطلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا ادري هو ذا في المشربة. فخرجت، فجيت المنبر، فاذا حوله رهط يبكي بعضهم، فجلست معهم قليلا ثم غلبني ما اجد، فجيت المشربة التي هو فيها فقلت لغلام له اسود استاذن لعمر. فدخل، فكلم النبي صلى الله عليه وسلم ثم خرج، فقال ذكرتك له، فصمت، فانصرفت حتى جلست مع الرهط الذين عند المنبر، ثم غلبني ما اجد فجيت، فذكر مثله، فجلست مع الرهط الذين عند المنبر، ثم غلبني ما اجد فجيت الغلام. فقلت استاذن لعمر. فذكر مثله، فلما وليت منصرفا، فاذا الغلام يدعوني قال اذن لك رسول الله صلى الله عليه وسلم. فدخلت عليه، فاذا هو مضطجع على رمال حصير ليس بينه وبينه فراش، قد اثر الرمال بجنبه، متكي على وسادة من ادم حشوها ليف، فسلمت عليه، ثم قلت وانا قايم طلقت نساءك فرفع بصره الى، فقال " لا ". ثم قلت وانا قايم استانس يا رسول الله، لو رايتني، وكنا معشر قريش نغلب النساء، فلما قدمنا على قوم تغلبهم نساوهم، فذكره، فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قلت لو رايتني، ودخلت على حفصة، فقلت لا يغرنك ان كانت جارتك هي اوضا منك واحب الى النبي صلى الله عليه وسلم يريد عايشة فتبسم اخرى، فجلست حين رايته تبسم، ثم رفعت بصري في بيته، فوالله ما رايت فيه شييا يرد البصر غير اهبة ثلاثة. فقلت ادع الله فليوسع على امتك، فان فارس والروم وسع عليهم واعطوا الدنيا، وهم لا يعبدون الله، وكان متكيا. فقال " اوفي شك انت يا ابن الخطاب اوليك قوم عجلت لهم طيباتهم في الحياة الدنيا ". فقلت يا رسول الله استغفر لي. فاعتزل النبي صلى الله عليه وسلم من اجل ذلك الحديث حين افشته حفصة الى عايشة، وكان قد قال " ما انا بداخل عليهن شهرا ". من شدة موجدته عليهن حين عاتبه الله. فلما مضت تسع وعشرون دخل على عايشة فبدا بها، فقالت له عايشة انك اقسمت ان لا تدخل علينا شهرا، وانا اصبحنا لتسع وعشرين ليلة، اعدها عدا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الشهر تسع وعشرون ". وكان ذلك الشهر تسع وعشرون. قالت عايشة فانزلت اية التخيير فبدا بي اول امراة، فقال " اني ذاكر لك امرا، ولا عليك ان لا تعجلي حتى تستامري ابويك ". قالت قد اعلم ان ابوى لم يكونا يامراني بفراقك. ثم قال " ان الله قال {يا ايها النبي قل لازواجك} الى قوله { عظيما} ". قلت افي هذا استامر ابوى فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة. ثم خير نساءه، فقلن مثل ما قالت عايشة