Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২২ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৫৬. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আহওয়াস (রাঃ) সিরিয়াতে ইন্তিকাল করিলেন। তখন তাহার স্ত্রী, যাহাকে তিনি পূর্বে তালাক দিয়াছিলেন, তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন। মু'আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান এই বিষয়ে প্রশ্ন করিয়া যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলেন। যায়দ (রাঃ) (উত্তরে) তাহার নিকট লিখিলেন, স্ত্রী যদি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করে তবে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। তাহার স্বামীও তাহা হইতে পৃথক হইয়াছে। সে স্বামীর মীরাস পাইবে না, তাহার স্বামীও তাহার মীরাস পাইবে না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، وزيد بن اسلم، عن سليمان بن يسار، ان الاحوص، هلك بالشام حين دخلت امراته في الدم من الحيضة الثالثة وقد كان طلقها فكتب معاوية بن ابي سفيان الى زيد بن ثابت يساله عن ذلك فكتب اليه زيد انها اذا دخلت في الدم من الحيضة الثالثة فقد بريت منه وبري منها ولا ترثه ولا يرثها
রেওয়ায়ত ৫৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদ, সালিম ইবন আবদুল্লাহ, আবু বকর ইবন আবদির রহমান, সুলায়মান ইবন ইয়াসার ও ইবন শিহাব (রহঃ) তাহারা সকলে বলিতেন-তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোক তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। তাহাদের মধ্যে মীরাস চলিবে না, আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর দিকে রুজু করা চলিবে না।
وحدثني عن مالك، انه بلغه عن القاسم بن محمد، وسالم بن عبد الله، وابي، بكر بن عبد الرحمن وسليمان بن يسار وابن شهاب انهم كانوا يقولون اذا دخلت المطلقة في الدم من الحيضة الثالثة فقد بانت من زوجها ولا ميراث بينهما ولا رجعة له عليها
রেওয়ায়ত ৫৮. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং স্বামী তাহা হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাইবে না এবং স্বামীও স্ত্রীর মীরাস পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অনুরূপ।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول اذا طلق الرجل امراته فدخلت في الدم من الحيضة الثالثة فقد بريت منه وبري منها . قال مالك وهو الامر عندنا
রেওয়ায়ত ৫৯. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ও সালিম ইবন আবদিল্লাহ্ তাহারা উভয়ে বলিতেন, কোন স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং (অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ করার জন্য) হালাল হইয়া যাইবে।
وحدثني عن مالك، عن الفضيل بن ابي عبد الله، مولى المهري ان القاسم بن محمد، وسالم بن عبد الله، كانا يقولان اذا طلقت المراة فدخلت في الدم من الحيضة الثالثة فقد بانت منه وحلت
রেওয়ায়ত ৬০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব ইবন শিহাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) ইহারা সকলে বলিতেন, খুলা তালাক গ্রহণকারিণীর ইদ্দত হইতেছে তিন কুরূ।
وحدثني عن مالك، انه بلغه عن سعيد بن المسيب، وابن، شهاب وسليمان بن يسار انهم كانوا يقولون عدة المختلعة ثلاثة قروء
রেওয়ায়ত ৬১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইতেছে ‘আকরা’ যদিও উহা অধিক ব্যবধানে হয়।
وحدثني عن مالك، انه سمع ابن شهاب، يقول عدة المطلقة الاقراء وان تباعدت
রেওয়ায়ত ৬২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জনৈক আনসারী ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন যে, সে আনসারীর স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিল। তখন স্ত্রীকে বলিলেন, তোমার ঋতুস্রাব উপস্থিত হইলে আমাকে সংবাদ দিও, অতঃপর স্ত্রীর ঋতুস্রাব হইলে তাহাকে খবর দিল। তিনি বলিলেনঃ যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন কর, তখন সংবাদ দিও। সে পবিত্র হওয়ার পর খবর দিল, তারপর স্বামী তাহাকে তালাক দিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা অতি উত্তম।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن رجل، من الانصار ان امراته، سالته الطلاق فقال لها اذا حضت فاذنيني . فلما حاضت اذنته فقال اذا طهرت فاذنيني فلما
রেওয়ায়ত ৬৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আ'স (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন হাকাম (রহঃ)-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা (বায়েন তালাক) দিলেন। আবদুর রহমান ইবন হাকাম কন্যাকে (স্বামীর গৃহ হইতে নিজ গৃহে) সরাইয়া নিলেন। উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ আল্লাহকে ভয় করুন এবং (ইদ্দত পালনরতা) স্ত্রীকে তাহার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বললেনঃ আবদুর রহমান আমার উপর জয়ী হইয়াছেন। কাসিমের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বলিলেনঃ আপনার নিকট ফাতেমা বিনত কায়েসের ব্যাপার পৌছে নাই কি? আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ ফাতেমার ঘটনা[1], উল্লেখ না করিলে আপনার কোন ক্ষতি নাই (অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই)। মারওয়ান বলিলেন ; যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে (আবু আমর ও তাহার স্ত্রী আমরা) যথেষ্ট অসুবিধা রহিয়াছে (যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করিয়া অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে)। তাই ইহা আপনার সস্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট।
حدثنا يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن القاسم بن محمد، وسليمان بن يسار، انه سمعهما يذكران، ان يحيى بن سعيد بن العاص، طلق ابنة عبد الرحمن بن الحكم البتة فانتقلها عبد الرحمن بن الحكم فارسلت عايشة ام المومنين الى مروان بن الحكم وهو يوميذ امير المدينة فقالت اتق الله واردد المراة الى بيتها . فقال مروان في حديث سليمان ان عبد الرحمن غلبني وقال مروان في حديث القاسم اوما بلغك شان فاطمة بنت قيس فقالت عايشة لا يضرك ان لا تذكر حديث فاطمة . فقال مروان ان كان بك الشر فحسبك ما بين هذين من الشر
রেওয়াতে ৬৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফাইল (রাঃ)-এর কন্যা আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান ইবন আফফান (রহঃ)-এর বিবাহ দিলেন। তিনি স্ত্রীকে তালাকে আল-বাত্তা প্রদান করিলে সে (স্বামীর গৃহ হইতে) সরিয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উহার প্রতি সমর্থন জানাইলেন না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان بنت سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل، كانت تحت عبد الله بن عمرو بن عثمان بن عفان فطلقها البتة فانتقلت فانكر ذلك عليها عبد الله بن عمر
রেওয়ায়ত ৬৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা (রাঃ)-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পিছন দিয়া মসজিদে গমন করিতেন। ইহা এইজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজু না করা পর্যন্ত অনুমতি লইয়া তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করিতেন না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، طلق امراة له في مسكن حفصة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وكان طريقه الى المسجد فكان يسلك الطريق الاخرى من ادبار البيوت كراهية ان يستاذن عليها حتى راجعها
রেওয়ায়ত ৬৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হইল এইরূপ স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যাহাকে স্বামী তালাক দিয়াছে ভাড়াটে গৃহে। এখন ভাড়ার দায়িত্ব কাহার উপর বর্তাইবে? সাঈদ বললেনঃ ভাড়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত থাকিবে। প্রশ্নকারী বলিলঃ স্বামী যদি ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না রাখে? তিনি বলিলেন, তবে উহা প্রদানের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তাইবে। প্রশ্নকারী বলিল, যদি স্ত্রীরও সামর্থ্য না থাকে? সাঈদ বললেন- তখন শহরের শাসনকর্তার উপর দায়িত্ব বর্তাইবে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان سعيد بن المسيب، سيل عن المراة، يطلقها زوجها وهي في بيت بكراء على من الكراء فقال سعيد بن المسيب على زوجها . قال فان لم يكن عند زوجها قال فعليها . قال فان لم يكن عندها قال فعلى الامير
রেওয়ায়ত ৬৭. ফাতেমা বিনত কায়েস হইতে বর্ণিত, আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) তাহাকে তালাকে আল-বাত্তা দিলেন। তাহার স্বামী তখন সিরিয়াতে ছিলেন। অতঃপর তাহার উকীলকে গমসহ তাহার নিকট পাঠাইলেন। তিনি উহাকে অতি অল্প মনে করিলেন। তাহার উকীল বলিলেন, আমাদের নিকট তোমার প্রাপ্য আর কিছু নাই। তিনি (ফাতেমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং এই ঘটনা উল্লেখ করিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার জন্য তোমার খোরপোশ প্রদান জরুরী নহে, এবং ফাতেমাকে উম্মে শরীফের গৃহে ইদ্দত পালন করিতে তিনি নির্দেশ দিলেন। তারপর বলিলেনঃ (উম্মে শরীফ এমন একজন মহিলা) যাহার গৃহে আমার সাহবিগণ সর্বদা যাতায়াত করিয়া থাকেন। তুমি আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর, কারণ তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তোমার বস্ত্র তাহার নিকট উন্মুক্ত হইলেও (ইহাতে তোমার কোন অসুবিধা হইবে না)। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তুমি অন্যের জন্য হালাল হইয়া গেলে আমাকে খবর দিও। ফাতেমা বলিলেনঃ আমি হালাল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমার বিষয় উল্লেখ করিলাম এবং বলিলাম, মুয়াবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান (রহঃ) ও আবু জাহম ইবন হিশাম (রাঃ)। তাহারা উভয়ে আমার নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আবু জাহম তাহার গর্দান হইতে লাঠি নামায় না। আর মুয়াবিয়া দরিদ্র ব্যক্তি। তাহার ধন-সম্পদ নাই। তুমি উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে বিবাহ কর। ফাতেমা বলিলেন, আমি উসামাকে অপছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বলিলেনঃ তুমি উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে বিবাহ কর। তারপর আমি তাহাকে বিবাহ করি এবং আল্লাহ ইহাতে অনেক মঙ্গল দান করিয়াছেন, যাহার কারণে আমার প্রতি ঈর্ষা করা হইত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن يزيد، مولى الاسود بن سفيان عن ابي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، عن فاطمة بنت قيس، ان ابا عمرو بن حفص، طلقها البتة وهو غايب بالشام فارسل اليها وكيله بشعير فسخطته فقال والله ما لك علينا من شىء . فجاءت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فقال " ليس لك عليه نفقة " . وامرها ان تعتد في بيت ام شريك ثم قال " تلك امراة يغشاها اصحابي اعتدي عند عبد الله ابن ام مكتوم فانه رجل اعمى تضعين ثيابك عنده فاذا حللت فاذنيني " . قالت فلما حللت ذكرت له ان معاوية بن ابي سفيان وابا جهم بن هشام خطباني . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما ابو جهم فلا يضع عصاه عن عاتقه واما معاوية فصعلوك لا مال له انكحي اسامة بن زيد " . قالت فكرهته ثم قال " انكحي اسامة بن زيد " . فنكحته فجعل الله في ذلك خيرا واغتبطت به
রেওয়ায়ত ৬৮. ইবন শিহাব (রহঃ) বলিতেনঃ যে স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে নিজ গৃহ হইতে (ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে) হালাল না হওয়া পর্যন্ত বাহির হইবে না। তাহার জন্য খোরপোশও নাই, কিন্তু যদি গর্ভবতী হয় তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত স্বামী তাহার খোরপোশ দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।
وحدثني عن مالك، انه سمع ابن شهاب، يقول المبتوتة لا تخرج من بيتها حتى تحل وليست لها نفقة الا ان تكون حاملا فينفق عليها حتى تضع حملها . قال مالك وهذا الامر عندنا
রেওয়ায়ত ৭০. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হইয়াছে তারপর হায়য (মাসিক ঋতু) আসিয়াছে এক হায়য বা দুই হায়য, অতঃপর তাহার ঋতুস্রাব বন্ধ হইয়া গিয়াছে, সেই স্ত্রী নয় মাস যাবত অপেক্ষা করিবে (ইতিমধ্যে) গৰ্ভ প্রকাশ পাইলে, তবে সন্তান প্রসব দ্বারারা ইদ্দত পালন করিবে, নতুরা নয় মাসের পর তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে, তারপর সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলতেন, পুরুষের জন্য হইল তালাকের অধিকার আর স্ত্রীদের জন্য হইল ইদ্দত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، وعن يزيد بن عبد الله بن قسيط الليثي، عن سعيد بن المسيب، انه قال قال عمر بن الخطاب ايما امراة طلقت فحاضت حيضة او حيضتين ثم رفعتها حيضتها فانها تنتظر تسعة اشهر فان بان بها حمل فذلك والا اعتدت بعد التسعة الاشهر ثلاثة اشهر ثم حلت
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول الطلاق للرجال والعدة للنساء
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول الطلاق للرجال والعدة للنساء
রেওয়ায়ত ৭১. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসতাহাজা (রোগের কারণে যাহার অনিয়মিত স্রাব হয়) ঐ নারীর ইদ্দত হইতেছে এক বৎসর। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমাদের মাস'আলা হইল, এই তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর যেই স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া যায়, সে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে। এই নয় মাসের মধ্যে ঋতুস্রাব না হইলে তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে। আর তিন মাস পূর্ণ করার পূর্বে যদি ঋতুস্রাব হয় তবে পুনরায় হায়য-এর ইদ্দত পালন শুরু করবে। কিন্তু যদি হায়য আসার পূর্বে নয় মাস পূর্ণ হইয়া যায় তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করবে। আর তৃতীয় মাসে উপনীত হইয়াছে এমন অবস্থায় যদি ঋতুস্রাব হয় তবে সে ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিয়াছে। অন্য পক্ষে যদি তাহার ঋতুস্রাব না হয় তবে তিনমাস ইদ্দত পূর্ণ করিবে। তারপর অন্য স্বামীর রুজু করার অধিকার থাকিবে, কিন্তু যদি সে বায়েন তালাক দিয়া থাকে তবে আর রুজু করিতে পারিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সুন্নাত (নিয়ম হইল) এই যে, যদি কোন লোক তাহার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার (রুজু করা) ইখতিয়ারও তাহার থাকে, এমতাবস্থায় স্ত্রী কিছু ইদ্দত পালন করিয়াছে। অতঃপর স্বামী তাহার প্রতি রুজু করিয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে পুনরায় তালাক দিয়াছে। তবে সেই স্ত্রী ইদ্দতের যাহা অতীত হইয়াছে উহার উপর ভিত্তি করিবে না বরং সে তাহাকে (দ্বিতীয়বার) তালাক দেওয়ার দিন হইতে নূতনভাবে ইদ্দত পালন করিবে, তাহার স্বামী এইরূপ করিয়া নিজের ক্ষতি করিয়াছে এবং তাহার আবশ্যক না থাকিলে স্ত্রীর দিকে রুজু করিয়া সে ভুল করিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহার স্বামী (তখনও) কাফের। তারপর স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করিল, তবে আমাদের নিকট ফয়সালা হইতেছে এইঃ ইদ্দতে থাকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাহার স্বামী তাহার হকদার হইবে, আর যদি ইদ্দত শেষ হইয়া যায় তবে তাহার জন্য স্ত্রীকে পাওয়ার কোন পথ নাই। আর যদি ইদ্দত সমাপ্তির পর তাহাকে বিবাহ করে তবে পূর্বে প্রদত্ত তালাক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। এই ঘটনায় স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করাইয়াছে ইসলাম গ্রহণ, তালাক নহে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، انه قال عدة المستحاضة سنة . قال مالك الامر عندنا في المطلقة التي ترفعها حيضتها حين يطلقها زوجها انها تنتظر تسعة اشهر فان لم تحض فيهن اعتدت ثلاثة اشهر فان حاضت قبل ان تستكمل الاشهر الثلاثة استقبلت الحيض فان مرت بها تسعة اشهر قبل ان تحيض اعتدت ثلاثة اشهر فان حاضت الثانية قبل ان تستكمل الاشهر الثلاثة استقبلت الحيض فان مرت بها تسعة اشهر قبل ان تحيض اعتدت ثلاثة اشهر فان حاضت الثالثة كانت قد استكملت عدة الحيض فان لم تحض استقبلت ثلاثة اشهر ثم حلت ولزوجها عليها في ذلك الرجعة قبل ان تحل الا ان يكون قد بت طلاقها . قال مالك السنة عندنا ان الرجل اذا طلق امراته وله عليها رجعة فاعتدت بعض عدتها ثم ارتجعها ثم فارقها قبل ان يمسها انها لا تبني على ما مضى من عدتها وانها تستانف من يوم طلقها عدة مستقبلة وقد ظلم زوجها نفسه واخطا ان كان ارتجعها ولا حاجة له بها . قال مالك والامر عندنا ان المراة اذا اسلمت وزوجها كافر ثم اسلم فهو احق بها ما دامت في عدتها فان انقضت عدتها فلا سبيل له عليها وان تزوجها بعد انقضاء عدتها لم يعد ذلك طلاقا وانما فسخها منه الاسلام بغير طلاق
রেওয়ায়ত ৭২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবন আবি তালীব (রাঃ) হাকামাইন (حكمين সালিসের ব্যক্তিদ্বয়) সম্পর্কে বলিয়াছেন (যাহাদের বিষয়ে) আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেনঃ وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلاَحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে তোমরা যদি বিবাদের আশংকা কর তবে স্বামীর পরিজন হইতে একজন এবং স্ত্রীর পরিজন হইতে একজন হাকম (ফয়সালাকারী, বিবাদ মীমাংসাকারী) প্রেরণ কর যদি তাহারা উভয়ে মীমাংসার ইচ্ছা করেন। আল্লাহ তাহদের তওফীক দান করিবেন, আল্লাহ নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত । অর্থাৎ-তাহাদের হাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিচ্ছেদ ও মিলন-এই দুইয়ের সুযোগ রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সালিসের ব্যক্তিদ্বয়ের ফয়সালা স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও মিলনের ব্যাপারে প্রযোজ্য হইবে, ইহাই সর্বোত্তম যাহা আমি আলিম ব্যক্তিদের নিকট শুনিয়াছি।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان علي بن ابي طالب، قال في الحكمين اللذين قال الله تعالى {وان خفتم شقاق بينهما فابعثوا حكما من اهله وحكما من اهلها ان يريدا اصلاحا يوفق الله بينهما ان الله كان عليما خبيرا} ان اليهما الفرقة بينهما والاجتماع . قال مالك وذلك احسن ما سمعت من اهل العلم ان الحكمين يجوز قولهما بين الرجل وامراته في الفرقة والاجتماع
وحدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عمر، وعبد الله بن مسعود، وسالم بن عبد الله، والقاسم بن محمد، وابن، شهاب وسليمان بن يسار كانوا يقولون اذا حلف الرجل بطلاق المراة قبل ان ينكحها ثم اثم ان ذلك لازم له اذا نكحها
وحدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عمر، وعبد الله بن مسعود، وسالم بن عبد الله، والقاسم بن محمد، وابن، شهاب وسليمان بن يسار كانوا يقولون اذا حلف الرجل بطلاق المراة قبل ان ينكحها ثم اثم ان ذلك لازم له اذا نكحها
রেওয়ায়ত ৭৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ), সালিম ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ), কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ), ইবন শিহাব (রহঃ) এবং সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাঁহারা সকলেই বলিতেনঃ কোন লোক বিবাহের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কসম খাইলে তারপর কসম ভাঙ্গিলেও বিবাহ করার পর তালাক অবশ্যম্ভাবী হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি বলিয়াছে, যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি সে তালাকপ্রাপ্ত হইবে, যদি সে কোন গোত্রকে নির্দিষ্ট না করে অথবা কোন নারীকে নির্দিষ্ট না করে তবে তাহার উপর জরুরী হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিল, তোমাকে তালাক এবং যে কোন নারীকে বিবাহ করি তাহাকেও তালাক এবং আমার মাল সব (আল্লাহর রাস্তায়) সদকাস্বরূপ। যদি আমি অমুক অমুক কাজ না করি। পরে কসম ভাঙ্গিয়াছে (এবং সেই সেই কাজও করে নাই)। তিনি [মালিক (রহঃ)] বলেনঃ সে ব্যক্তির স্ত্রী তালাক হইয়া যাইবে যেমন সে বলিয়াছে, আর তাহার উক্তিঃ যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি উহার প্রতি তালাক, ইহার বিধান সে যদি কোন নারীকে অথবা গোত্রকে অথবা কোন স্থানকে অথবা এরূপ অন্য কিছুকে নির্দিষ্ট না করিয়া থাকে তবে এইরূপ কসমের দ্বারা তাহার উপর কিছুই বাধ্যতামূলক হইবে না, যত ইচ্ছা সে বিবাহ করিতে পারবে। আর তাহার মালের এক-তৃতীয়াংশ সদকা করিয়া দিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن مسعود، كان يقول فيمن قال كل امراة انكحها فهي طالق انه اذا لم يسم قبيلة او امراة بعينها فلا شىء عليه . قال مالك وهذا احسن ما سمعت . قال مالك في الرجل يقول لامراته انت الطلاق وكل امراة انكحها فهي طالق وماله صدقة ان لم يفعل كذا وكذا فحنث قال اما نساوه فطلاق كما قال واما قوله كل امراة انكحها فهي طالق فانه اذا لم يسم امراة بعينها او قبيلة او ارضا او نحو هذا فليس يلزمه ذلك وليتزوج ما شاء واما ماله فليتصدق بثلثه
রেওয়ায়ত ৭৪. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করিয়াছে এবং উহার সহিত সহবাস করার ক্ষমতা তাহার নাই, তবে তাহাকে এক বৎসর সময় দেওয়া হইবে। (এই সময়ের মধ্যে) যদি স্ত্রীর সহিত সহবাস করিতে পারে তবে মহিলাটি তাহার স্ত্রী থাকিবে, অন্যথায় উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول من تزوج امراة فلم يستطع ان يمسها فانه يضرب له اجل سنة فان مسها والا فرق بينهما