Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২২ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৩৮. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে আসিল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে। আতা বলিলেন, কুমারীর জন্য হইতেছে এক তালাক। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর আমাকে বলিলঃ তুমি তো হইলে একজন বক্তা (ফতোয়া দেওয়া তোমার কাজ নহে)। এক তালাক তাহাকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن بكير بن عبد الله بن الاشج، عن النعمان بن ابي عياش الانصاري، عن عطاء بن يسار، انه قال جاء رجل يسال عبد الله بن عمرو بن العاص عن رجل طلق امراته ثلاثا قبل ان يمسها قال عطاء فقلت انما طلاق البكر واحدة . فقال لي عبد الله بن عمرو بن العاص انما انت قاص الواحدة تبينها والثلاثة تحرمها حتى تنكح زوجا غيره
রেওয়ায়ত ৩৯. মু'আবিয়া ইবন আবি আইয়াশ আনসারী (রাঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) ও আসিম ইবন উমর (রাঃ)-এর সহিত বসা ছিলেন। এমন সময় তাহদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াস ইবন বুকাইর উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেনঃ এক বেদুঈন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে সেই ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র বলিলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌছে নাই, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-র নিকট গমন কর এবং তাঁহাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাহদের উভয়কে আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-র নিকট দেখিয়া আসিয়াছি। তাহাদের নিকট হইতে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার পর আমার কাছে আসিয়া বলিয়া যাইবে। মুহাম্মদ ইবন ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করিলেন। ইবন আব্বাস আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিলেন, হে আবূ হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাসআলা উপস্থিত হইয়াছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে (বিচ্ছেদ ঘটাইবে), তিন তালাক তাহাকে হারাম করিয়া দিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবন আব্বাসও অনুরূপ বলিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অকুমারী (ثيبة) নারীর কেহ মালিক হইলে এবং উহার সহিত সংগত না হইলে তবে তালাকের ব্যাপারে তাহারও কুমারীর মতো মাসআলা হইবে। এক তালাক তাহাকে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن بكير بن عبد الله بن الاشج، انه اخبره عن معاوية بن ابي عياش الانصاري، انه كان جالسا مع عبد الله بن الزبير وعاصم بن عمر بن الخطاب قال فجاءهما محمد بن اياس بن البكير فقال ان رجلا من اهل البادية طلق امراته ثلاثا قبل ان يدخل بها فماذا تريان فقال عبد الله بن الزبير ان هذا الامر ما لنا فيه قول فاذهب الى عبد الله بن عباس وابي هريرة فاني تركتهما عند عايشة فسلهما ثم ايتنا فاخبرنا . فذهب فسالهما فقال ابن عباس لابي هريرة افته يا ابا هريرة فقد جاءتك معضلة . فقال ابو هريرة الواحدة تبينها والثلاثة تحرمها حتى تنكح زوجا غيره . وقال ابن عباس مثل ذلك . قال مالك وعلى ذلك الامر عندنا والثيب اذا ملكها الرجل فلم يدخل بها انها تجري مجرى البكر الواحدة تبينها والثلاث تحرمها حتى تنكح زوجا غيره
রেওয়ায়ত ৪০. আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাঁহার স্ত্রীকে আল-বাত্তা (পূর্ণ) তালাক প্রদান করিলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن طلحة بن عبد الله بن عوف، - قال وكان اعلمهم بذلك - وعن ابي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، ان عبد الرحمن بن عوف، طلق امراته البتة وهو مريض فورثها عثمان بن عفان منه بعد انقضاء عدتها
রেওয়ায়ত ৪১. আরজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন মুকমিলের পত্নীগণকে তাহার সম্পত্তি হইতে উসমান ইবন আফফান (রাঃ) মীরাস দিয়াছেন ইবন- মুকমিল? উহাদিগকে তালাক দিয়াছিলেন পীড়িত অবস্থায়।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن الفضل، عن الاعرج، ان عثمان بن عفان، ورث نساء ابن مكمل منه وكان طلقهن وهو مريض
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রবী"আ ইবন আবী আবদির রহমানকে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর এক স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিলেন। তিনি বলেনঃ তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তাহার ঋতু আসার পূর্বে আবদুর রহমান ইবন আওফ অসুস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যখন ঋতু হইতে পবিত্র হইল তখন আবদুর রহমান ইবন আওফকে খবর দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যেই তালাক দেওয়ার পরে আর কোন তালাক দেওয়ার অবকাশ থাকে না। ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন।
وحدثني عن مالك، انه سمع ربيعة بن ابي عبد الرحمن، يقول بلغني ان امراة، عبد الرحمن بن عوف سالته ان يطلقها فقال اذا حضت ثم طهرت فاذنيني فلم تحض حتى مرض عبد الرحمن بن عوف فلما طهرت اذنته فطلقها البتة او تطليقة لم يكن بقي له عليها من الطلاق غيرها وعبد الرحمن بن عوف يوميذ مريض فورثها عثمان بن عفان منه بعد انقضاء عدتها
রেওয়ায়ত ৪৩. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাবান (রহঃ) বলেনঃ আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের, অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাইতেছিল। এইরূপে এক বৎসর অতিবাহিত হইলে পর হাব্বান ইন্তিকাল করেন। তাহার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয় নাই। স্ত্রী দাবি করিল যে, আমি তাহার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাইব। আমার মাসিক ঋতু আসে নাই। বিবাদ লইয়া উভয় পত্নী উসমান ইবন আফফান (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হইল। উসমান (রাঃ) আনসারী পত্নীর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। ইহাতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রাঃ)-কে দোষারোপ[1] করিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইহা তোমার চাচাতো ভাই-এর ফয়সালা। তিনি আমাদিগকে ইহার ইঙ্গিত দিয়াছেন। চাচাতো ভাই হইলেন ‘আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، قال كانت عند جدي حبان امراتان هاشمية وانصارية فطلق الانصارية وهي ترضع فمرت بها سنة ثم هلك عنها ولم تحض فقالت انا ارثه لم احض فاختصمتا الى عثمان بن عفان فقضى لها بالميراث فلامت الهاشمية عثمان فقال هذا عمل ابن عمك هو اشار علينا بهذا يعني علي بن ابي طالب
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাবকে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তাহার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহার সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মহরের অর্ধেক পাইবে এবং সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে, তাহার ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সহিত সংগত হইয়া থাকে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মহর-এর হকদার হইবে এবং মীরাসও পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।
وحدثني عن مالك، انه سمع ابن شهاب، يقول اذا طلق الرجل امراته ثلاثا وهو مريض فانها ترثه . قال مالك وان طلقها وهو مريض قبل ان يدخل بها فلها نصف الصداق ولها الميراث ولا عدة عليها وان دخل بها ثم طلقها فلها المهر كله والميراث البكر والثيب في هذا عندنا سواء
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عبد الرحمن بن عوف، طلق امراة له فمتع بوليدة
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عبد الرحمن بن عوف، طلق امراة له فمتع بوليدة
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ তাহার এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাহাকে মুত’আ স্বরূপ দান করিলেন। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত’আ পাইবে। তবে যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হইয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক মাত্র পাইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول لكل مطلقة متعة الا التي تطلق وقد فرض لها صداق ولم تمس فحسبها نصف ما فرض لها
রেওয়ায়ত ৪৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিতেন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর জন্য মুত’আ রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাশিম মুহাম্মদ (রহঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত আমার নিকট পৌছিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মুত'আর ব্যাপারে কম-বেশি কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নাই।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، انه قال لكل مطلقة متعة . قال مالك وبلغني عن القاسم بن محمد، مثل ذلك . قال مالك ليس للمتعة عندنا حد معروف في قليلها ولا كثيرها
রেওয়ায়ত ৪৭. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত- নুফাঈ (نفيع) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ) এর মুকাতব অথবা ক্রীতদাস ছিল; তাহার স্ত্রী ছিল আযাদ। সে উহাকে দুই তালাক দিয়া পুনরায় রুজু করার ইচ্ছা করিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী (রাঃ) তাহাকে উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এই বিষয়ে তাঁহার নিকট প্রশ্ন করিতে বলিলেন। যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর হাত ধরাবস্থায় মসজিদের সিড়ির নিকটে তাঁহার সাক্ষাত পাইল। সে (এই মাস'আলার ব্যাপারে) উভয়ের নিকট প্রশ্ন করিলে তাহারা উভয়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন। তোমার উপর হারাম হইয়াছে, তোমার উপর হারাম হইয়াছে (তাহার স্ত্রী তাহার উপর হারাম)।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن سليمان بن يسار، ان نفيعا، مكاتبا كان لام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم او عبدا لها كانت تحته امراة حرة فطلقها اثنتين ثم اراد ان يراجعها فامره ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ان ياتي عثمان بن عفان فيساله عن ذلك فلقيه عند الدرج اخذا بيد زيد بن ثابت فسالهما فابتدراه جميعا فقالا حرمت عليك حرمت عليك
রেওয়ায়ত ৪৮. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর মুকাতব নুফাঈ তাহার আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিলেন, অতঃপর উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করিলেন। উসমান (রাঃ) উত্তরে বলিলেন, তোমার জন্য হারাম হইয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، ان نفيعا، مكاتبا كان لام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم طلق امراة حرة تطليقتين فاستفتى عثمان بن عفان فقال حرمت عليك
রেওয়ায়ত ৪৯. মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম ইবন হারিস তায়মী (রহঃ) হইতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) এর মুকাতব নুফাই যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট ফতোয়া চাহিলেন এই বলিয়া আমি আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়াছি। এখন ফতোয়া কি? যায়দ ইবন সাবিত বলিলেনঃ (তোমার জন্য) এই স্ত্রী হারাম হইয়া গিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن عبد ربه بن سعيد، عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي، ان نفيعا، مكاتبا كان لام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم استفتى زيد بن ثابت فقال اني طلقت امراة حرة تطليقتين . فقال زيد بن ثابت حرمت عليك
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, কোন ক্রীতদাস স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করিলে সে স্ত্রী তাহার জন্য হারাম হইবে যাবৎ দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ না করিবে; (স্ত্রী) আযাদ হউক বা ক্রীতদাসী হউক। আর আযাদ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইতেছে তিন হায়য (মাসিক ঋতু), ক্রীতদাসীর ইদ্দত হইতেছে দুই হায়য।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول اذا طلق العبد امراته تطليقتين فقد حرمت عليه حتى تنكح زوجا غيره حرة كانت او امة وعدة الحرة ثلاث حيض وعدة الامة حيضتان
রেওয়ায়ত ৫১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যে নিজের ক্রীতদাসকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়াছে তাহার ক্রীতদাসের তালাকের ক্ষমতা থাকিবে, অন্যের হাতে তালাকের কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তবে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর বাদীকে নিজের অধিকারে রাখাতে কোন দোষ নাই।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول من اذن لعبده ان ينكح فالطلاق بيد العبد ليس بيد غيره من طلاقه شىء فاما ان ياخذ الرجل امة غلامه او امة وليدته فلا جناح عليه
রেওয়ায়ত ৫২. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, যেই স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ-জানে না সে কোথায়, সে স্ত্রী চারি বৎসর অপেক্ষা করিবে। অতঃপর চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করিবে। তারপর অন্যত্র তাহার বিবাহ হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে তবে স্বামী তাহার সাথে সংগম করুক বা না করুক তাহার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য তাহাকে গ্রহণ করার কোন পথ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আর বিবাহের পূর্বে তাহার সহিত প্রথম স্বামীর সাক্ষাত হইলে তবে তিনিই অধিক হকদার হইবেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কিছু লোক বলিয়া থাকে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ প্রথম স্বামী আসিলে তাহাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে (দ্বিতীয় স্বামী হইতে) মহর ফেরত লওয়া অথবা (মহর ফেরত না লইয়া) স্ত্রী ফেরত লওয়া। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ধরনের ইখতিয়ার দিয়াছেন বলিয়া কিছু লোককে অস্বীকার করিতে পাইয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, স্বামী স্ত্রীর নিকট উপস্থিত নাই, এমন স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিয়াছে। অতঃপর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করিতে চাহিয়াছে। কিন্তু সে যে রুজু করিতে চাহিয়াছে এই খবর তাহার স্ত্রীর নিকট পৌছে নাই। শুধু তাহাকে তালাক দেওয়ার সংবাদই সে পাইয়াছে। তাই সে স্বামী গ্রহণ করিয়াছে। দ্বিতীয় স্বামী তাহার সহিত সংগত হউক না হউক প্রথম স্বামী যে তাহাকে তালাক দিয়াছিল তাহার পক্ষে স্ত্রীকে পাওয়ার আর কোন পথ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে এবং নিরুদ্দেশের বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার নিকট পছন্দনীয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، ان عمر بن الخطاب، قال ايما امراة فقدت زوجها فلم تدر اين هو فانها تنتظر اربع سنين ثم تعتد اربعة اشهر وعشرا ثم تحل . قال مالك وان تزوجت بعد انقضاء عدتها فدخل بها زوجها او لم يدخل بها فلا سبيل لزوجها الاول اليها . قال مالك وذلك الامر عندنا وان ادركها زوجها قبل ان تتزوج فهو احق بها . قال مالك وادركت الناس ينكرون الذي قال بعض الناس على عمر بن الخطاب انه قال يخير زوجها الاول اذا جاء في صداقها او في امراته
قال مالك وبلغني ان عمر بن الخطاب قال في المراة يطلقها زوجها وهو غايب عنها ثم يراجعها فلا يبلغها رجعته وقد بلغها طلاقه اياها فتزوجت انه ان دخل بها زوجها الاخر او لم يدخل بها فلا سبيل لزوجها الاول الذي كان طلقها اليها . قال مالك وهذا احب ما سمعت الى في هذا وفي المفقود
قال مالك وبلغني ان عمر بن الخطاب قال في المراة يطلقها زوجها وهو غايب عنها ثم يراجعها فلا يبلغها رجعته وقد بلغها طلاقه اياها فتزوجت انه ان دخل بها زوجها الاخر او لم يدخل بها فلا سبيل لزوجها الاول الذي كان طلقها اليها . قال مالك وهذا احب ما سمعت الى في هذا وفي المفقود
রেওয়ায়ত ৫৩. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে ‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তাহার স্ত্রী তখন ঋতুমতী, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তারপর পবিত্রতা লাভ করা পর্যন্ত পুনরায় ঋতু আসা এবং উহা হইতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে এমনই রাখিবে। অতঃপর ইচ্ছা করিলে স্ত্রী হিসাবে রাখিবে অথবা ইচ্ছা করিলে সহবাসের পূর্বে তালাক দিবে। ইহাই সেই ইদ্দত যাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া স্ত্রীদিগকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، طلق امراته وهي حايض على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فسال عمر بن الخطاب رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مره فليراجعها ثم يمسكها حتى تطهر ثم تحيض ثم تطهر ثم ان شاء امسك بعد وان شاء طلق قبل ان يمس فتلك العدة التي امر الله ان يطلق لها النساء
রেওয়ায়ত ৫৪. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত-হাফসা বিনত আবদির রহমান ইবন আবী বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে (তাহার স্বামী মুনজির ইবন যুবায়র কর্তৃক তাহাকে তালাক দেওয়ার পর) যখন তিনি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন তখন তাহার স্বামীর গৃহ হইতে লইয়া যাওয়া হয়। ইবন শিহাব বলেনঃ আমর বিনত আবদির রহমানের নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করা হইল। তিনি বলিলেনঃ উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) কি বলিয়াছেন অনেক লোক এই বিষয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর সহিত বিতর্কে লিপ্ত হইয়াছেন। তাহারা বলিলেনঃ আল্লাহ তা'আলা কুরআনে ইরশাদ করিয়াছেন (ثلاثة قروء) (তিন কুরু) অর্থাৎ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীগণ তিন কুরু (قروء) ঋতু (তুহর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করিবে)। (উত্তরে) আয়েশা (রাঃ) বলিলেন, আপনারা ঠিকই বলিয়াছেন। কিন্তু আকরা اقراء এর অর্থ কি তাহা আপনারা জানেন কি? আকরা হইতেছে তুহর (ঋতুর পরের পবিত্রতা)।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة ام المومنين، انها انتقلت حفصة بنت عبد الرحمن بن ابي بكر الصديق حين دخلت في الدم من الحيضة الثالثة . قال ابن شهاب فذكر ذلك لعمرة بنت عبد الرحمن فقالت صدق عروة وقد جادلها في ذلك ناس فقالوا ان الله تبارك وتعالى يقول في كتابه {ثلاثة قروء} فقالت عايشة صدقتم تدرون ما الاقراء انما الاقراء الاطهار
রেওয়ায়ত ৫৫. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আবু বকর ইবন আবদির রহমান (রহঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের ফকীহদের প্রত্যেককে আয়েশার উক্তির মতো এই ব্যাপারে কথা বলিতে শুনিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، انه قال سمعت ابا بكر بن عبد الرحمن، يقول ما ادركت احدا من فقهاينا الا وهو يقول هذا . يريد قول عايشة