Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২২ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়াছি। আমার সম্পর্কে এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবন আব্বাস (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তিন তালাক দ্বারা তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়াছ। অবশিষ্ট সাতানব্বই তালাক দ্বারা তুমি আল্লাহর আয়াতকে বিদ্রুপ করিয়াছ।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان رجلا، قال لعبد الله بن عباس اني طلقت امراتي ماية تطليقة فماذا ترى على فقال له ابن عباس طلقت منك لثلاث وسبع وتسعون اتخذت بها ايات الله هزوا
রেওয়ায়ত ২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে দুইশত তালাক দিয়াছি। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে কি বলা হইয়াছে? সে বলিল, আমাকে জানান হইয়াছে যে, আমার স্ত্রী আমার নিকট হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিলেনঃ মুফতীগণ ঠিকই বলিয়াছেন। যে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তালাক প্রদান করে তাহার হুকুম আল্লাহ্ বর্ণনা করিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কোন প্রকার সন্দেহজনক আচরণ করে আমরা তাহার সন্দেহ তাহার উপরই আরোপ করিব। তোমরা নিজেদের প্রতি সন্দেহজনক আচরণ করিও না, যাহাতে তোমাদের জন্য আমাদের বিপদে পড়িতে হয়। মুফতীগণ যাহা বলিয়াছেন উহাই ফতওয়া (সিদ্ধান্ত)।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان رجلا، جاء الى عبد الله بن مسعود فقال اني طلقت امراتي ثماني تطليقات . فقال ابن مسعود فماذا قيل لك قال قيل لي انها قد بانت مني . فقال ابن مسعود صدقوا من طلق كما امره الله فقد بين الله له ومن لبس على نفسه لبسا جعلنا لبسه ملصقا به لا تلبسوا على انفسكم ونتحمله عنكم هو كما يقولون
রেওয়ায়ত ৩. আবু বকর ইবন হাযম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তালাক-ই আল-বাত্তা সম্পর্কে লোকে কি বলে অর্থাৎ সাহাবা ও তাঁহাদের পরবর্তী উলামাগণের এ বিষয়ে কি অভিমতঃ ইহা আবু বকর ইবন হাযমের নিকট জানিতে চাহিলে আবু বকর বলিলেনঃ আবান ইবন উসমান উহাকে এক তালাক গণ্য করিতেন। উমর ইবন আবদুল আযীয বলিলেনঃ তিনের পরিবর্তে তালাক এক হাজার হইলেও তালাক-ই আল-বাত্তা উহার একটিও অবশিষ্ট রাখিবে না। যে ব্যক্তি আল-বাত্তা বলিল, সে শেষ সীমানায় তীর নিক্ষেপ করিল।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن ابي بكر بن حزم، ان عمر بن عبد العزيز، قال له البتة ما يقول الناس فيها قال ابو بكر فقلت له كان ابان بن عثمان يجعلها واحدة . فقال عمر بن عبد العزيز لو كان الطلاق الفا ما ابقت البتة منها شييا من قال البتة فقد رمى الغاية القصوى
রেওয়ায়ত ৪. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ) উহাতে তিন তালাক হইয়াছে বলিয়া ফতওয়া দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট পছন্দীয়।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، ان مروان بن الحكم، كان يقضي في الذي يطلق امراته البتة انها ثلاث تطليقات . قال مالك وهذا احب ما سمعت الى في ذلك
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, ইরাক হইতে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট লেখা হইল যে, এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিয়াছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ [তোমার রজ্জ্ব তোমার ঘাড়ে]। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখিলেন-হজ্জ মওসুমে সেই ব্যক্তিকে আমার সহিত মিলিত হইতে নির্দেশ দাও। উমর যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করিয়াছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাহার সম্মুখে আসিয়া সালাম করিল। উমর বলিলেনঃ তুমি কে? সেই ব্যক্তি বলিল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট (হজ্জ মওসুমে) উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করিয়াছিলেন। তারপর উমর (রাঃ) বলিলেনঃ এই (পবিত্র কাবা) গৃহের মালিকের কসম দিয়া তোমাকে আমি প্রশ্ন করিতেছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করিয়াছ? সেই ব্যক্তি বলিল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করাইলে আমি সত্য কথা বলিতাম না। আমি (এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে) বিদায় (দেওয়া)-এর নিয়্যত করিয়াছি। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, তুমি যাহা নিয়্যত করিয়াছ তাহাই।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه انه كتب الى عمر بن الخطاب من العراق ان رجلا قال لامراته حبلك على غاربك فكتب عمر بن الخطاب الى عامله ان مره يوافيني بمكة في الموسم فبينما عمر يطوف بالبيت اذ لقيه الرجل فسلم عليه فقال عمر من انت فقال انا الذي امرت ان اجلب عليك . فقال له عمر اسالك برب هذه البنية ما اردت بقولك حبلك على غاربك فقال له الرجل لو استحلفتني في غير هذا المكان ما صدقتك اردت بذلك الفراق . فقال عمر بن الخطاب هو ما اردت
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলিয়াছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان علي بن ابي طالب، كان يقول في الرجل يقول لامراته انت على حرام انها ثلاث تطليقات . قال مالك وذلك احسن ما سمعت في ذلك
রেওয়ায়ত ৭. নাফি হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, ‘বারিয়্যা’ এবং ‘খালিয়্যা’ উভয় শব্দের প্রত্যেকটির দ্বারা তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول في الخلية والبرية انها ثلاث تطليقات كل واحدة منهما
রেওয়ায়ত ৮. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-কোন এক গোত্রের দাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত দাসীর অভিভাবকদের বলিল, আপনারা তাহার দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। ইহা দ্বারা লোকেরা এক তালাক প্রদান করিয়াছে বলিয়া অনুমান করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن القاسم بن محمد، . ان رجلا، كانت تحته وليدة لقوم فقال لاهلها شانكم بها . فراى الناس انها تطليقة واحدة
রেওয়ায়ত ৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিলঃ “আমার তোমা হইতে দায়িত্বমুক্ত হইয়াছি। তুমিও আমা হইতে দায়িত্বমুক্ত।” ইহা দ্বারা তালাকাই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে। যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিলঃ (أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ) “তুমি দায়মুক্ত” (أَنْتِ بَائِنَةٌ) “তুমি আমা হইতে পৃথক।” মালিক (রহঃ) বলেনঃ সে স্ত্রী যাহার সঙ্গে সহবাস করা হইয়াছে এইরূপ হইলে তবে তাহার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলির দ্বারা তাহার উপর তিন তালাক বর্তাইবে। আর যদি সেই স্ত্রী এমন হয় যাহার সহিত সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হইবে এবং তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করা হইবে-সে উপরিউক্ত বাক্যগুলি দ্বারা এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে বলিয়া প্রকাশ করে তাহা হইলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেওয়া হইবে। (যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হইয়াছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করিতে পারবে না) তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসাবে অন্য লোকদের মতো একজন বলিয়া পণ্য হইবে। ইহার কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সহিত সঙ্গম করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হইতে পৃথক হইবে না। আর যাহার সহিত সঙ্গম হয় নাই সেই স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হইয়া যায়। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট উত্তম।
وحدثني عن مالك، انه سمع ابن شهاب، يقول في الرجل يقول لامراته بريت مني وبريت منك انها ثلاث تطليقات بمنزلة البتة . قال مالك في الرجل يقول لامراته انت خلية او برية او باينة انها ثلاث تطليقات للمراة التي قد دخل بها ويدين في التي لم يدخل بها اواحدة اراد ام ثلاثا فان قال واحدة احلف على ذلك وكان خاطبا من الخطاب لانه لا يخلي المراة التي قد دخل بها زوجها ولا يبينها ولا يبريها الا ثلاث تطليقات والتي لم يدخل بها تخليها وتبريها وتبينها الواحدة . قال مالك وهذا احسن ما سمعت في ذلك
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আবু আবদুর রহমান। আমি আমার স্ত্রীর হস্তে তাহার অধিকার ন্যস্ত করিয়াছি। সে নিজকে তালাক প্রদান করিয়াছে; এই বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ আমার মতে যেমন বলিয়াছে তেমন হইবে। সে ব্যক্তি বলিল, হে আবু আবদুর রহমান! এইরূপ করবেন না। ইবন উমর বলিলেনঃ আমি করিতেছি, না তুমি করিয়াছ (অর্থাৎ স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা প্রদান করিলে কেন?)
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان رجلا، جاء الى عبد الله بن عمر فقال يا ابا عبد الرحمن اني جعلت امر امراتي في يدها فطلقت نفسها فماذا ترى فقال عبد الله بن عمر اراه كما قالت . فقال الرجل لا تفعل يا ابا عبد الرحمن . فقال ابن عمر انا افعل انت فعلته
রেওয়ায়ত ১১. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যদি কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করে তবে (এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে) স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করি নাই এবং সেই মতে সে হলফ করিয়াও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিক হকদার বিবেচিত হইবে স্বামী (অর্থাৎ ইচ্ছা করিলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরাইয়া লইতে পারিবে)।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول اذا ملك الرجل امراته امرها فالقضاء ما قضت به الا ان ينكر عليها ويقول لم ارد الا واحدة فيحلف على ذلك ويكون املك بها ما كانت في عدتها
রেওয়ায়ত ১২. খারিজা ইবন যায়দ ইবন সাবিত (রহঃ) বলেনঃ তিনি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। এই সময় তাহার নিকট মুহাম্মদ ইবন আবী আতীক আসিলেন। তাহার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত ছিল, যায়দ তাহার উদ্দেশ্যে বলিলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? তিনি বলিলেনঃ আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করিয়াছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছে। যায়দ বলিলেনঃ এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করিলে? তিনি বলিলেনঃ তকদীর। যায়দ বলিলেনঃ তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার।
حدثني يحيى، عن مالك، عن سعيد بن سليمان بن زيد بن ثابت، عن خارجة بن زيد بن ثابت، انه اخبره انه، كان جالسا عند زيد بن ثابت فاتاه محمد بن ابي عتيق وعيناه تدمعان فقال له زيد ما شانك فقال ملكت امراتي امرها ففارقتني . فقال له زيد ما حملك على ذلك قال القدر . فقال زيد ارتجعها ان شيت فانما هي واحدة وانت املك بها
রেওয়ায়ত ১৩. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করিল। সেই স্ত্রী বলিল, তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রহিল। স্ত্রী পুনরায় বলিল, তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলিলঃ তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হউক)। স্ত্রী পুনরায় বলিলঃ তোমাকে তালাক। সে বলিলঃ তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হইয়া মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হইল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হইতে এই বিষয়ে হলফ তলব করিল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে নাই। অতঃপর স্ত্রীকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কাসেম (রহঃ) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করিতেন এবং এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছেন তন্মধ্যে ইহাকে উত্তম বলিয়া গণ্য করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، ان رجلا، من ثقيف ملك امراته امرها فقالت انت الطلاق فسكت ثم قالت انت الطلاق فقال بفيك الحجر . ثم قالت انت الطلاق فقال بفيك الحجر . فاختصما الى مروان بن الحكم فاستحلفه ما ملكها الا واحدة وردها اليه . قال مالك قال عبد الرحمن فكان القاسم يعجبه هذا القضاء ويراه احسن ما سمع في ذلك . قال مالك وهذا احسن ما سمعت في ذلك واحبه الى
রেওয়ায়েত ১৪. কাসেম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবী বকর (রাঃ)-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করিলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাহার নিকট বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তাহারা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন এবং তাহারা বলিলেন, আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হইয়াছি। আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এবং তাঁহাদের বক্তব্য অবহিত করিলেন। আবদুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করিলেন। কুরায়যা (রাঃ) তাহার স্বামীকে গ্রহণ করিলেন ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইল না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، انها خطبت على عبد الرحمن بن ابي بكر قريبة بنت ابي امية فزوجوه ثم انهم عتبوا على عبد الرحمن وقالوا ما زوجنا الا عايشة فارسلت عايشة الى عبد الرحمن فذكرت ذلك له فجعل امر قريبة بيدها فاختارت زوجها فلم يكن ذلك طلاقا
রেওয়ায়ত ১৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবন যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আবদুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে (তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন)। আবদুর রহমান যখন সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন (এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হইলেন) তিনি বলিলেন, আমার মতো লোকের সহিত ইহা করা হইল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইল। অতঃপর আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) মুনযির ইবন যুবায়র-এর সহিত আলোচনা করিলেন। মুনযির বলিলেনঃ আবদুর রহমানের হাতেই ইহার (এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার) ক্ষমতা রহিয়াছে। আবদুর রহমান বলিলেনঃ যেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন আমি উহাকে রদ করিব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রহিলেন এবং ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হয় নাই।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم زوجت حفصة بنت عبد الرحمن المنذر بن الزبير - وعبد الرحمن غايب بالشام - فلما قدم عبد الرحمن قال ومثلي يصنع هذا به ومثلي يفتات عليه فكلمت عايشة المنذر بن الزبير فقال المنذر فان ذلك بيد عبد الرحمن . فقال عبد الرحمن ما كنت لارد امرا قضيتيه فقرت حفصة عند المنذر ولم يكن ذلك طلاقا
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عمر، وابا، هريرة سيلا عن الرجل، يملك امراته امرها فترد ذلك اليه ولا تقضي فيه شييا فقالا ليس ذلك بطلاق
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عمر، وابا، هريرة سيلا عن الرجل، يملك امراته امرها فترد ذلك اليه ولا تقضي فيه شييا فقالا ليس ذلك بطلاق
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তাহার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়াছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরাইয়া দিয়াছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করে নাই। (ইহার কি হুকুম) তাহারা উভয়ে বলিলেন, ইহা তালাক নহে। সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তাহার (বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে) ক্ষমতা প্রদান করিলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তাহার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে উহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তাহার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করিল, অতঃপর তাহারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করিয়া পৃথক হইয়া গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করে নাই। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তাহার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকিবে যতক্ষণ তাহারা সেই মজলিস ত্যাগ না করে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه قال اذا ملك الرجل امراته امرها فلم تفارقه وقرت عنده فليس ذلك بطلاق . قال مالك في المملكة اذا ملكها زوجها امرها ثم افترقا ولم تقبل من ذلك شييا فليس بيدها من ذلك شىء وهو لها ما داما في مجلسهما
রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর ব্যাপারে ঈলা করিলে উহাতে তালাক হইবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় (সে কিছু না করে), তবে তাহাকে বন্দী করা হইবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হইতে ফিরিয়া আসিবে (অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করিয়া কসমের কাফফারা দিবে)। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن علي بن ابي طالب، انه كان يقول اذا الى الرجل من امراته لم يقع عليه طلاق وان مضت الاربعة الاشهر حتى يوقف فاما ان يطلق واما ان يفيء . قال مالك وذلك الامر عندنا
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول ايما رجل الى من امراته فانه اذا مضت الاربعة الاشهر وقف حتى يطلق او يفيء ولا يقع عليه طلاق اذا مضت الاربعة الاشهر حتى يوقف
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول ايما رجل الى من امراته فانه اذا مضت الاربعة الاشهر وقف حتى يطلق او يفيء ولا يقع عليه طلاق اذا مضت الاربعة الاشهر حتى يوقف
রেওয়ায়ত ১৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ কেউ স্ত্রীর সহিত ঈলা করিলে তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী করা হইবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করিয়া কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করিবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হইবে না। ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব এবং আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজু’ (উহাকে গ্রহণ) করিতে পারবে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، ان سعيد بن المسيب، وابا، بكر بن عبد الرحمن كانا يقولان في الرجل يولي من امراته انها اذا مضت الاربعة الاشهر فهي تطليقة ولزوجها عليها الرجعة ما كانت في العدة