Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ২৪৭. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব বর্ণনা করেন- হাওদাতে আরোহিণী এক মহিলার নিকট দিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ অতিক্রম করিয়া যাইতেছিলেন। মহিলাটিকে কেউ তখন বলিলঃ ইনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটি তখন স্বীয় শিশু সন্তানটির হাত ধারণ করিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই শিশুটিও হজ্জ আমার সহিত আদায় হইবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, আদায় হইবে। আর ইহার সওয়াব তুমি পাইবে।
وحدثني عن مالك، عن ابراهيم بن عقبة، عن كريب، مولى عبد الله بن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بامراة وهي في محفتها فقيل لها هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخذت بضبعى صبي كان معها فقالت الهذا حج يا رسول الله قال " نعم ولك اجر
রেওয়ায়ত ২৪৮. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন কারীয (রহঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আরাফাতের দিন হইতে বেশি আর কোনদিন শয়তানকে লাঞ্ছিত, অপমানিত এবং রাগান্বিত হইতে দেখা যায় নাই। কারণ এই দিন সে আল্লাহ তা'আলার অপার রহমত নাযিল হইতে এবং বড় বড় গুনাহসমূহ মাফ হইয়া যাইতে দেখিতে পায়। বদর যুদ্ধের দিনও তাহার ঐ অবস্থা হইতে দেখা গিয়াছিল? কেউ জিজ্ঞাসা করিলঃ বদরের দিন সে কি দেখিয়াছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ঐ দিন সে জিবরীল (আঃ)-কে ফেরেশতা বাহিনীকে কাতারবন্দী করিতে দেখিয়াছিল।
وحدثني عن مالك، عن ابراهيم بن ابي عبلة، عن طلحة بن عبيد الله بن كريز، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما ريي الشيطان يوما هو فيه اصغر ولا ادحر ولا احقر ولا اغيظ منه في يوم عرفة وما ذاك الا لما راى من تنزل الرحمة وتجاوز الله عن الذنوب العظام الا ما اري يوم بدر " . قيل وما راى يوم بدر يا رسول الله قال " اما انه قد راى جبريل يزع الملايكة
রেওয়ায়ত ২৪৯. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন কারীয (রহঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বোত্তম দুআ হইল আরাফাতের দু'আ। আর আরাফাতের সর্বোত্তম দুআ হইল ঐ দুআ যাহা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণ করিয়াছিলেন। দুআটি এইঃ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ) আল্লাহ ব্যতীত কেউ ইলাহ নাই, তিনি এক, তাহার কোন শরীক নাই।
وحدثني عن مالك، عن زياد بن ابي زياد، مولى عبد الله بن عياش بن ابي ربيعة عن طلحة بن عبيد الله بن كريز، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " افضل الدعاء دعاء يوم عرفة وافضل ما قلت انا والنبيون من قبلي لا اله الا الله وحده لا شريك له
রেওয়ায়ত ২৫০. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন- মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন তিনি মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত ছিলেন। মাথা হইতে উহা যখন খুলিয়া রাখিলেন, তখন এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইবন খতল কা'বার গিলাফ ধরিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহাকে হত্যা কর। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেন, ঐদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাধা অবস্থায় ছিলেন না। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل مكة عام الفتح وعلى راسه المغفر فلما نزعه جاءه رجل فقال له يا رسول الله ابن خطل متعلق باستار الكعبة . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اقتلوه
রেওয়ায়ত ২৫১. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মক্কা হইতে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন। কুদায়দ নামক স্থানে পৌছিয়া তিনি মদীনার বিশৃংখলা সম্পর্কে সংবাদ জ্ঞাত হন। শেষে তিনি পুনরায় মক্কা ফিরিয়া যান এবং ইহরাম না করিয়াই মক্কায় প্রবেশ করেন। মালিক (রহঃ) এইরূপ রেওয়ায়ত ইবন শিহাব হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، اقبل من مكة حتى اذا كان بقديد جاءه خبر من المدينة فرجع فدخل مكة بغير احرام . وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، بمثل ذلك
রেওয়ায়ত ২৫২. মুহাম্মদ ইমরান আনসারী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- মক্কার পথে একটি বড় গাছের নিচে আমি বিশ্রাম নিতেছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তখন আমার নিকট আসিয়া বলিলেনঃ এই গাছটির নিচে আসিয়া কেন নামিয়া পড়িলে? আমি বলিলামঃ একটু ছায়া লাভের জন্য। তিনি বলিলেনঃ আর কোন উদ্দেশ্য নয়তো আমি বললাম না, শুধু ছায়ার জন্যই। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রহঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তুমি মিনায় বড় বড় দুইটি পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে হইবে, এই বলিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বদিকে হস্ত দ্বারা ইশারা করিলেন, তখন (জানিও যে,) ঐ উপত্যকায় যাহাকে সিরার বলা হয়, উহার একটি বড় গাছের নিচে সত্তর জন নবীর (জনের পর) নাড়ী কর্তন করা হইয়াছিল।
وحدثني عن مالك، عن محمد بن عمرو بن حلحلة الديلي، عن محمد بن عمران الانصاري، عن ابيه، انه قال عدل الى عبد الله بن عمر وانا نازل، تحت سرحة بطريق مكة فقال ما انزلك تحت هذه السرحة فقلت اردت ظلها . فقال هل غير ذلك فقلت لا ما انزلني الا ذلك . فقال عبد الله بن عمر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا كنت بين الاخشبين من منى - ونفخ بيده نحو المشرق - فان هناك واديا يقال له السرر به شجرة سر تحتها سبعون نبيا
রেওয়ায়ত ২৫৩. ইবন আবি মুলায়কা (রহঃ) বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফরত কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত এক মহিলার নিকট দিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যাইতেছিলেন। তখন তিনি তাহাকে বলিলেনঃ হে আল্লাহর দাসী, অন্য মানুষকে কষ্ট দিও না। হায়, তুমি যদি তোমার বাড়িতেই বসিয়া থাকিতে। পরে উক্ত মেয়েলোকটি নিজের বাড়িতেই বসিয়া থাকিত। একদিন একটি লোক তাহাকে বলিলঃ যিনি তোমাকে বাড়ির বাহিরে যাইতে নিষেধ করিয়াছিলেন, তিনি ইনতিকাল করিয়াছেন। এখন তুমি বাহির হইয়া আসিতে পার। মেয়েটি বলিলঃ জীবদ্দশায় তাঁহাকে মানিব, আর মৃত্যুর পর অবাধ্য হইব, আমি এমন স্ত্রীলোক নহি।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن حزم، عن ابن ابي مليكة، ان عمر بن الخطاب، مر بامراة مجذومة وهي تطوف بالبيت فقال لها يا امة الله لا توذي الناس لو جلست في بيتك . فجلست فمر بها رجل بعد ذلك فقال لها ان الذي كان قد نهاك قد مات فاخرجي . فقالت ما كنت لاطيعه حيا واعصيه ميتا
রেওয়ায়ত ২৫৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি জ্ঞাত হইয়াছি, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলতেনঃ হাজরে আসওয়াদ এবং কা'বার দরজার মধ্যবর্তী স্থানটি হইল মুলতাযাম।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عباس، كان يقول ما بين الركن والباب الملتزم
রেওয়ায়ত ২৫৫. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বান (রহঃ) বর্ণনা করেন, রবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ)-এর নিকট দিয়া এক ব্যক্তি পথ অতিক্রম করিয়া যাইতেছিলেন। তাহাকে দেখিয়া তিনি বলিলেনঃ কোথায় যাইতেছ? তিনি বলিলেনঃ হজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিয়াছি। তিনি বলিলেনঃ অন্য কোন উদ্দেশ্য তো নাই? তিনি বলিলেনঃ না। আবূ যর (রাঃ) বললেনঃ আচ্ছা যাও, তোমার কাজ তুমি কর। ঐ ব্যক্তি বলেনঃ আমি মক্কায় চলিয়া গেলাম। আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা হইল আমি সেখানে রহিয়া গেলাম। একদিন দেখি এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করিয়া মানুষ খুবই ভিড় করিয়া আছে। ভিড়ের ভিতরে যাইয়া দেখি, রবাযায় যাহার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হইয়াছিল [আবূ যর (রাঃ)] তিনি বসিয়া আছেন। তিনি আমাকে দেখিয়া চিনিয়া ফেলিলেন এবং বলিলেনঃ তুমি সেই ব্যক্তি না, যাহাকে আমি হাদীস বর্ণনা করিয়া শুনাইয়াছিলাম।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، انه سمعه يذكر، ان رجلا، مر على ابي ذر بالربذة وان ابا ذر ساله اين تريد فقال اردت الحج . فقال هل نزعك غيره فقال لا . قال فاتنف العمل . قال الرجل فخرجت حتى قدمت مكة فمكثت ما شاء الله ثم اذا انا بالناس منقصفين على رجل فضاغطت عليه الناس فاذا انا بالشيخ الذي وجدت بالربذة يعني ابا ذر قال فلما راني عرفني فقال هو الذي حدثتك
রেওয়ায়ত ২৫৬. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, হজ্জের মধ্যে কোন কিছুর শর্ত আরোপ করা কিরূপ? তিনি বলিলেন, এমনও কেউ করে নাকি? এবং তিনি উক্ত বিষয়টির বিপক্ষে মতপ্রকাশ করিলেন। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- স্বীয় পশুর (খাদ্যের) নিমিত্ত হারম শরীফের ঘাস কাটা যাইতে পারে কি? তিনি বলিলেনঃ না।
وحدثني عن مالك، انه سال ابن شهاب عن الاستثناء، في الحج فقال اويصنع ذلك احد وانكر ذلك . سيل مالك هل يحتش الرجل لدابته من الحرم فقال لا
রেওয়ায়ত ২৫৮. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জে তামাত্তু করিবে আর তাহার সহিত যদি কুরবানীর পশু জোগাড় না থাকে তবে সে হজ্জের ইহরামের সময় হইতে আরাফাতের দিন পর্যন্ত রোযা রাখিবে। আর এই দিনগুলিতে যদি সে রোযা রাখিতে না পারে তবে মিনা-র দিনগুলিতে সে উহা আদায় করিয়া নিবে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর মতও উল্লিখিত বিষয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর মতের অনুরূপ।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة ام المومنين، انها كانت تقول الصيام لمن تمتع بالعمرة الى الحج لمن لم يجد هديا ما بين ان يهل بالحج الى يوم عرفة فان لم يصم صام ايام منى . وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول في ذلك مثل قول عايشة رضى الله تعالى عنها