Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ২২৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা কামান বা ছাটান এবং কুরবানী ওয়াজিব থাকিলে উহা আদায় করিয়াছেন, তাহার জন্য সুগন্ধি দ্রব্য এবং স্ত্রীসম্ভোগ ব্যতীত আর সকল কিছুই হালাল হইয়া গিয়াছে। বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর তাহার জন্য এ দুইটিও হালাল হইয়া যাইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، وعبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، قال من رمى الجمرة ثم حلق او قصر ونحر هديا - ان كان معه - فقد حل له ما حرم عليه الا النساء والطيب حتى يطوف بالبيت
রেওয়ায়ত ২২৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত যাত্রা করি। আমরা উমরার ইহরাম বাধিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কুরবানীর পশু যাহার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়টিরই ইহরাম বাঁধিয়া নেয় এবং কাজ সমাধা না করা পর্যন্ত যেন ইহরাম না খোলে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মক্কায় যখন প্রবেশ করি তখন আমি ঋতুমতী হইয়া পড়ি। ফলে আমি তাওয়াফ এবং সায়ী করিতে পারলাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরয করলে তিনি বলিলেন, বিনুনি খুলিয়া আঁচড়াইয়া নাও আর উমরা পরিত্যাগ করিয়া হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নাও। আমি তাহাই করিলাম। আমার হজ্জ আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সহিত আমাকে তানয়ীম প্রেরণ করেন। তখন সেই স্থান হইতে আমি উমরা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ পূর্বে পরিত্যক্ত উমরার বদল হইল তোমার এই উমরা। যাহারা কেবল উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা তাওয়াফ ও সায়ী করার পর হালাল হইয়া যায় এবং মিনা হইতে ফিরিয়া আসিয়া তাহারা হজ্জের জন্য দ্বিতীয় তাওয়াফ আদায় করবে। আর যাহারা কেবল হজ্জের বা হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা শুধু একবারই তাওয়াফ আদায় করিবে। উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فاهللنا بعمرة ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من كان معه هدى فليهلل بالحج مع العمرة ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا " . قالت فقدمت مكة وانا حايض فلم اطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة فشكوت ذلك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انقضي راسك وامتشطي واهلي بالحج ودعي العمرة " . قالت ففعلت فلما قضينا الحج ارسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم مع عبد الرحمن بن ابي بكر الصديق الى التنعيم فاعتمرت فقال " هذا مكان عمرتك " . فطاف الذين اهلوا بالعمرة بالبيت وبين الصفا والمروة ثم حلوا منها ثم طافوا طوافا اخر بعد ان رجعوا من منى لحجهم واما الذين كانوا اهلوا بالحج او جمعوا الحج والعمرة فانما طافوا طوافا واحدا . وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة، بمثل ذلك
রেওয়ায়ত ২২৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ঋতুমতী অবস্থায় আমি মক্কায় আসিয়াছিলাম। ফলে আমি তাওয়াফ ও সায়ী করি নাই। এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করিলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ একজন হাজী যে সমস্ত কাজ করে তুমি তাহাই করিয়া যাও। তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ ও সায়ী স্থগিত রাখ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাঁধিয়া কোন মহিলা মক্কায় আসিলে আর হজ্জের সময় তাহার ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার দরুন সে যদি তাওয়াফ করিতে না পারে, পাক হইতে হইতে হজ্জের সময় শেষ হইয়া যাওয়ার আশঙ্কা হইলে, সে হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নিবে এবং একটা কুরবানী করিবে। কিরান হজ্জকারীর মত তাহাকেও একবার তাওয়াফ করিলেই হইবে। তাওয়াফ করিয়া দুই রাকাআত তাওয়াফের নামায আদায় করার পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে হজ্জের অন্যান্য আহকাম, যথা সায়ী, আরাফাতে মুযদালিফায় অবস্থান এবং প্রস্তর নিক্ষেপ এই অবস্থায়ই চালাইয়া যাইতে পারিবে। তবে হায়য হইতে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারত করিতে পারিবে না।
حدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة، انها قالت قدمت مكة وانا حايض، فلم اطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة فشكوت ذلك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " افعلي ما يفعل الحاج غير ان لا تطوفي بالبيت ولا بين الصفا والمروة حتى تطهري
রেওয়ায়ত ২২৮. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, (হজ্জের সময়) সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতুস্রাব আরম্ভ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ইহা ব্যক্ত করিলে তিনি বলিলেনঃ সফিয়া যেন আমাদেরকে এইখানেই আটকাইয়া রাখিবে। তখন তাহাকে বলা হইল, ইনি তাওয়াফে যিয়ারত (ইফাযা) আদায় করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، ان صفية بنت حيى، حاضت فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال " احابستنا هي " . فقيل انها قد افاضت . فقال " فلا اذا
রেওয়ায়ত ২২৯. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সফিয়্যারতো ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। তিনি বলিলেনঃ মনে হয় সে আমাদের আটকাইয়া রাখিবে। সে কি তোমাদের সহিত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে নাই? মহিলাগণ বলিলেনঃ হ্যাঁ, করিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর কি, তাহা হইলে এখন চল।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن حزم، عن ابيه، عن عمرة بنت عبد الرحمن، عن عايشة ام المومنين، انها قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله ان صفية بنت حيى قد حاضت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لعلها تحبسنا الم تكن طافت معكن بالبيت " . قلن بلى . قال " فاخرجن
রেওয়ায়ত ২৩০. আমরাহ বিনত আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেন, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) অন্য মহিলাদেরকে নিয়া হজ্জ করিতেন এবং যদি তাহদের কাহারও ঋতুস্রাবের আশঙ্কা দেখা দিত তবে দশ তারিখেই তাহাকে তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করিয়া আসার জন্য পাঠাইয়া দিতেন। তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া নেওয়ার পর কাহারও ঋতুস্রাব হইলে তাহার পাক হওয়ার আর অপেক্ষা করিতেন না, গন্তব্যস্থলে রওয়ানা হইয়া পড়িতেন।
وحدثني عن مالك، عن ابي الرجال، محمد بن عبد الرحمن عن عمرة بنت عبد الرحمن، . ان عايشة ام المومنين، كانت اذا حجت ومعها نساء تخاف ان يحضن قدمتهن يوم النحر فافضن فان حضن بعد ذلك لم تنتظرهن فتنفر بهن - وهن حيض - اذا كن قد افضن
রেওয়ায়ত ২৩১. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মু'মিনীন সফিয়া (রাঃ)-এর কথা জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিলেনঃ তাহার ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হয়তো সে আমাদেরকে আটকাইয়া রাখিবে। অন্যরা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তাওয়াফ করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না। হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা উপরিউক্ত বিষয় আলোচনা করিয়াছিলাম। তখন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মহিলাগণকে যদি পূর্বে তাওয়াফের জন্য পাঠাইয়া দেওয়া উপকারী না হয়, তবে মানুষ কেন পাঠায়? মানুষের এই ধারণা যদি ঠিক হইত, তবে ছয় হাজারেরও অধিক মহিলাকে ঋতুমতী অবস্থায় তাওয়াফে রুখসতের অপেক্ষায় মিনায় পড়িয়া থাকিতে হইত।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر صفية بنت حيى فقيل له قد حاضت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لعلها حابستنا " . فقالوا يا رسول الله انها قد طافت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فلا اذا " . قال مالك قال هشام قال عروة قالت عايشة . ونحن نذكر ذلك فلم يقدم الناس نساءهم ان كان ذلك لا ينفعهن ولو كان الذي يقولون لاصبح بمنى اكثر من ستة الاف امراة حايض كلهن قد افاضت
রেওয়ায়ত ২৩২. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তাহাকে আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) খবর দিয়াছেনঃ উম্মে সুলায়ম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর তাওয়াফে যিয়ারতে ঋতুস্রাব শুরু হইলে অথবা তাহার সন্তান ভূমিষ্ঠ হইলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চলিয়া যাওয়ার অনুমতি চাহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে চলিয়া যাইতে অনুমতি দিলেন। পরে তিনি চলিয়া গেলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মিনায় অবস্থানকালে কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হইলে তাওয়াফে যিয়ারত না করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করিবে। তাওয়াফে যিয়ারত করার পর যদি কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে তাহার দেশে ফিরিয়া যাইতে পারে। কারণ এমন ঋতুমতী মহিলা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ হইতে অনুমতি প্রদানের রেওয়ায়ত আমাদের নিকট পৌছিয়াছে। তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বেই যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং উহা বন্ধ না হয় তবে ঋতুস্রাবের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত সে অবস্থান করিবে।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن ابيه، ان ابا سلمة بن عبد الرحمن، اخبره ان ام سليم بنت ملحان استفتت رسول الله صلى الله عليه وسلم وحاضت - او ولدت - بعد ما افاضت يوم النحر فاذن لها رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجت
রেওয়ায়ত ২৩৩. আবূয যুবায়র মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হায়েনা হত্যার বেলায় একটি মেষ, হরিণের বেলায় একটি ছাগল এবং খরগোশ হত্যার বেলায় এক বৎসর বয়সের ছাগলছানা, বন্য ইদুর হত্যার বেলায় চার মাস বয়সের ছাগলছানা প্রদানের বিধান দিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزبير، ان عمر بن الخطاب، قضى في الضبع بكبش وفي الغزال بعنز وفي الارنب بعناق وفي اليربوع بجفرة
রেওয়ায়ত ২৩৩. মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমি ও আমার সঙ্গী একটি গিরিবর্তে আমাদের ঘোড়া দৌড়াইয়া ইহরাম অবস্থায় একটি হরিণ শিকার করিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে বলিলেনঃ চলুন, আমরা দুইজনে ইহার একটি ফয়সালা করিয়া দেই। শেষে তাহারা উভয়ে ঐ ব্যক্তির উপর একটা বকরী ফিদয়া প্রদানের বিধান দেন। ঐ ব্যক্তি ফিরিয়া যাইতে যাইতে বলিতেছিলঃ ইনি আমিরুল মু'মিনীন, যিনি অন্যের সহযোগিতা ভিন্ন একটি হরিণের ফয়সালা দিতে পারিলেন না। উমর (রাঃ) তাহার উক্তি শুনিয়া ফেলিলেন। তাহাকে ডাকিয়া বলিলেনঃ তুমি কুরআনুল কারীমের সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ কি? সে বলিলঃ জি, না। তিনি বলিলেনঃ যিনি আমার সঙ্গে ফয়সালা দিয়াছেন তাহাকে চিন? সে বলিলঃ জি, না। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ যদি সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ বলিতে তবে তোমাকে আমি আজ শাস্তি দিতাম। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কিতাবে (সূরা-ই-মায়িদায়) ইরশাদ করিয়াছেনঃ “তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সত্যবাদী ব্যক্তি ফিদয়া সম্পর্কে ফয়সালা করিয়া দিবে। উহা কুরবানীর জন্য হইবে যাহা মক্কায় পৌছিবে।” আর যিনি আমার সহিত ফয়সালা প্রদানে সহযোগিতা করিয়াছেন ইনি হইতেছেন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ)।
وحدثني عن مالك، عن عبد الملك بن قرير، عن محمد بن سيرين، ان رجلا، جاء الى عمر بن الخطاب فقال اني اجريت انا وصاحب، لي فرسين نستبق الى ثغرة ثنية فاصبنا ظبيا ونحن محرمان فماذا ترى فقال عمر لرجل الى جنبه تعال حتى احكم انا وانت . قال فحكما عليه بعنز فولى الرجل وهو يقول هذا امير المومنين لا يستطيع ان يحكم في ظبى حتى دعا رجلا يحكم معه . فسمع عمر قول الرجل فدعاه فساله هل تقرا سورة المايدة قال لا . قال فهل تعرف هذا الرجل الذي حكم معي فقال لا . فقال لو اخبرتني انك تقرا سورة المايدة لاوجعتك ضربا ثم قال ان الله تبارك وتعالى يقول في كتابه {يحكم به ذوا عدل منكم هديا بالغ الكعبة} وهذا عبد الرحمن بن عوف
রেওয়ায়ত ২৩৫. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা উরওয়াহ বলিতেনঃ একটি বন্য গাভী হত্যা করিলে একটি গরু এবং হরিণ হত্যা করিলে একটি বকরী ফিদয়া দিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، ان اباه، كان يقول في البقرة من الوحش بقرة وفي الشاة من الظباء شاة
রেওয়ায়ত ২৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরামরত ব্যক্তি যদি একটি উটপাখি মারিয়া ফেলে, তবে উহার বদলে একটি উট ফিদয়া দিতে হইবে। ইহাই আমি হামেশা শুনিয়া আসিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উটপাখির ডিম নষ্ট করিলে প্রতিটি ডিমের পরিবর্তে একটি উটের মূল্যের এক-দশমাংশ হিসাবে ফিদয়া দিতে হইবে। যেমন, আযাদ কোন মহিলার গর্ভস্থ সন্তান যদি কেউ মারিয়া ফেলে তবে ইহার কাফফারায় (মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন) একটি দাসী বা দাস আযাদ করিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ পঞ্চাশ দীনার হইতেছে একটি মানুষের পূর্ণাঙ্গ দিয়্যতের (রক্তপণ) এক-দশমাংশ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শকুন, বাজ, ঈগল, রখম (এক প্রকার শকুন জাতীয় প্রাণী) শিকার বলিয়া গণ্য। মুহরিম ব্যক্তি এইগুলি হত্যা করিলেও বদলা আদায় করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রাণী ছোট হউক আর বড় হউক যাহার যে ফিদয়ার বিধান করা হইয়াছে তাহাই আদায় করিতে হইবে। দিয়্যতের মধ্যে যেমন বড়-ছোটর তারতম্য হয় না, এইখানেও কোন তারতম্য করা হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول في حمام مكة اذا قتل شاة . وقال مالك في الرجل من اهل مكة يحرم بالحج او العمرة وفي بيته فراخ من حمام مكة فيغلق عليها فتموت فقال ارى بان يفدي ذلك عن كل فرخ بشاة . قال مالك لم ازل اسمع ان في النعامة اذا قتلها المحرم بدنة . قال مالك ارى ان في بيضة النعامة عشر ثمن البدنة كما يكون في جنين الحرة غرة عبد او وليدة وقيمة الغرة خمسون دينارا وذلك عشر دية امه وكل شىء من النسور او العقبان او البزاة او الرخم فانه صيد يودى كما يودى الصيد اذا قتله المحرم وكل شىء فدي ففي صغاره مثل ما يكون في كباره وانما مثل ذلك مثل دية الحر الصغير والكبير فهما بمنزلة واحدة سواء
রেওয়ায়ত ২৩৮. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমীরুল মু'মিনীন আমি ইহরাম অবস্থায় লাঠি দ্বারা কয়েকটি পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ মুষ্টি পরিমাণ খাদ্য কাহাকেও দিয়া দাও।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، ان رجلا، جاء الى عمر بن الخطاب فقال يا امير المومنين اني اصبت جرادات بسوطي وانا محرم . فقال له عمر اطعم قبضة من طعام
রেওয়ায়ত ২৩৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কিছু পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়ছিল। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট সে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কা'ব (রাঃ)-কে ডাকিয়া বললেনঃ চলুন, আমরা উভয়ে মিলিয়া ইহার একটা ফয়সালা করি। কাব (রাঃ) বললেনঃ ইহাতে এক দিরহাম কাফফারা দিতে হইবে উমর (রাঃ) কা’ব (রাঃ)-কে বলিলেনঃ আপনার নিকট অনেক দিরহাম রহিয়াছে (তাই এই ধরনের বিধান দিতে পারিয়াছেন), আমার নিকট একটি পঙ্গপাল হইতে একটা খেজুর অনেক শ্রেয়।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان رجلا، جاء الى عمر بن الخطاب فساله عن جرادات، قتلها وهو محرم فقال عمر لكعب تعال حتى نحكم . فقال كعب درهم . فقال عمر لكعب انك لتجد الدراهم لتمرة خير من جرادة
রেওয়ায়ত ২৪০. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন- তিনি ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত ছিলেন। তাহার মাথায় উকূন তাহাকে কষ্ট দিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাহাকে মাথার চুল কামাইয়া ফেলিতে হুকুম করিয়া বলিলেনঃ ইহার পরিবর্তে তিনদিন রোযা বা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে দুই মুদ পরিমাণ খাদ্য কিংবা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দাও। উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের যেকোন একটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الكريم بن مالك الجزري، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن كعب بن عجرة، انه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم محرما فاذاه القمل في راسه فامره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يحلق راسه وقال " صم ثلاثة ايام او اطعم ستة مساكين مدين مدين لكل انسان او انسك بشاة اى ذلك فعلت اجزا عنك
রেওয়ায়ত ২৪১. কা’ব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মনে হয় উকুন তাহাকে খুবই কষ্ট দিতেছে? আমি বলিলামঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি তখন বলিলেনঃ চুল কামাইয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও বা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দিও।
حدثني عن مالك، عن حميد بن قيس، عن مجاهد ابي الحجاج، عن ابن ابي ليلى، عن كعب بن عجرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له " لعلك اذاك هوامك " . فقلت نعم يا رسول الله . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احلق راسك وصم ثلاثة ايام او اطعم ستة مساكين او انسك بشاة
রেওয়ায়ত ২৪২. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসিলেন। আমি চুলায় আগুন ধরাইয়া সঙ্গীদের জন্য রান্না-বান্নায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার মাথা ও দাড়ি উকুনে ভরা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পেরেশানী অনুভব করিয়া আমার ললাটে হাত রাখিলেন এবং বলিলেনঃ চুল কাটিয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয় জন মিসকীনকে খাদ্য দিয়া দাও। আর আমার নিকট কুরবানী করার মত কিছু ছিল না, এই কথা তিনি জানিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, অপরাধ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কিছু ফিদয়া দিবে না। কারণ অপরাধ করার পরই শুধু কাফফারা ওয়াজিব হইয়া থাকে। কাফফারার বেলায় কুরবানী বা রোযা বা মিসকীনকে খাদ্য প্রদান, এই তিনটির যেকোন একটি এবং মক্কা বা মক্কার বাহিরে যেকোন শহরে উহা আদায় করার ইখতিয়ার রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম না খোলা পর্যন্ত মুহরিমের জন্য চুল উপড়ান বা কামানো বা ছাটা কিছুই জায়েয নহে। চুলে উকুন ইত্যাদি হইয়া গেলে উহা জায়েয। কিন্তু উহার পরিবর্তে আল্লাহর নির্দেশমত ফিদয়া দিতে হইবে। মুহরিমের জন্য নখ কাটা, উকুন মারা বা মাথার চুল হইতে উকুন বাহির করিয়া মাটিতে ফেলিয়া দেওয়া বা শরীর ও কাপড়ের উকুন বাহির করা জায়েয নহে। এইরূপ করিলে এক মুষ্টি খাদ্য খয়রাত করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি নাকের চুল বা বগলতলা বা নাভীর নিচের লোম চিমটি দ্বারা উপড়ায় অথবা মাথায় যখম হওয়ার দরুন প্রয়োজনের খাতিরে চুল কামায় বা সিঙ্গা লাগাইবার উদ্দেশ্যে গর্দানের চুল কাটে, এইসব জানিয়া করুক বা ভুলবশত করুক, সকল অবস্থায়ই তাহার জন্য ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব। সিঙ্গা লাগানো স্থানের চুল কামানো মুহরিমের জন্য জায়েয নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অজ্ঞতার দরুন যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই মাথার চুল কামাইয়া ফেলে তবে তাহাকে ফিদয়া দিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن عطاء بن عبد الله الخراساني، انه قال حدثني شيخ، بسوق البرم بالكوفة عن كعب بن عجرة، انه قال جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا انفخ تحت قدر لاصحابي وقد امتلا راسي ولحيتي قملا فاخذ بجبهتي ثم قال " احلق هذا الشعر وصم ثلاثة ايام او اطعم ستة مساكين " . وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم علم انه ليس عندي ما انسك به
রেওয়ায়ত ২৪৩. সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি কেউ হজ্জে কোন রুকন আদায় করিতে ভুলিয়া যায় বা উহা ছাড়িয়া দেয় তবে তাহাকে কুরবানী দিতে হইবে। আইয়ুব (আইয়ুব ইবন আবি তমীমা সখতিয়ানী) (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে নাই সাঈদ (রহঃ) ভুলিয়া গেলে বলিয়াছেন, না ছাড়িয়া দিলে বলিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত কুরবানী মক্কায় পৌছাইতে হইবে। অন্য কোন ইবাদত হইলে যেকোন স্থানেই তাহা আদায় করা যায়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ايوب بن ابي تميمة السختياني، عن سعيد بن جبير، عن عبد الله بن عباس، قال من نسي من نسكه شييا او تركه فليهرق دما . قال ايوب لا ادري قال ترك او نسي . قال مالك ما كان من ذلك هديا فلا يكون الا بمكة وما كان من ذلك نسكا فهو يكون حيث احب صاحب النسك
রেওয়ায়ত ২৪৫. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের (হাজ্জাতুল বিদা) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের খাতিরে মিনায় দাঁড়ান। বিভিন্ন লোক আসিয়া তাঁহার নিকট বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি জানিতাম না, তাই কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামাইয়া ফেলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন কুরবানী করিয়া নাও। কোন অসুবিধা নাই। অন্য এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কঙ্কর নিক্ষেপ করার পূর্বেই কুরবানী দিয়া ফেলিয়ছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন কঙ্কর নিক্ষেপ করিয়া নাও; কোন অসুবিধা হইবে না। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ আগে বা পরে ফেলা সম্পর্কে সেই দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যত প্রশ্ন করা হইয়াছে সকলের বেলায়ই তিনি বলিয়াছেনঃ এখন করিয়া নাও। কোন অসুবিধা হইবে না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عيسى بن طلحة، عن عبد الله بن عمرو بن العاص، انه قال وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم للناس بمنى والناس يسالونه فجاءه رجل فقال له يا رسول الله لم اشعر فحلقت قبل ان انحر . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انحر ولا حرج " . ثم جاءه اخر فقال يا رسول الله لم اشعر فنحرت قبل ان ارمي قال " ارم ولا حرج " . قال فما سيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شىء قدم ولا اخر الا قال " افعل ولا حرج
রেওয়ায়ত ২৪৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিহাদ বা হজ্জ বা উমরা হইতে প্রত্যাবর্তন করিতেন, তখন প্রতিটি চড়াই অতিক্রম করার সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলিয়া নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করিতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ বা মাবূদ নাই, তিনি এক, তাহার কোন শরীক নাই। তাহার সকল সাম্রাজ্য এবং তাঁহারই সকল প্রশংসা এবং তিনি সকল জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদত-গুজার, সিজদা আদায়কারী এবং প্রভুর প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তাহার ওয়াদা পূরণ করিয়াছেন, তাহার বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন এবং একাই তিনি পরাজিত করিয়াছেন সকল শত্রু বাহিনী।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا قفل من غزو او حج او عمرة يكبر على كل شرف من الارض ثلاث تكبيرات ثم يقول " لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شىء قدير ايبون تايبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده