Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৫২ হাদিসসমূহ
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকে সাতজন করে প্রতিনিধি দান করা হয়েছে এবং আমাকে দান করা হয়েছে চৌদ্দজন। আমরা বললাম, তারা কারা? তিনি বললেনঃ আমি (আলী), আমার দুই পুত্র (হাসান ও হুসাইন), জাফর, হামযা, আবূ বাকর, উমার, মুসআব ইবনু ইবনু মাসউদ (রাঃ)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীস আলী (রাঃ) হতে মাওকৃফরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا ابن ابي عمر، قال حدثنا سفيان، عن كثير النواء، عن ابي ادريس، عن المسيب بن نجبة، قال قال علي بن ابي طالب قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان كل نبي اعطي سبعة نجباء او نقباء واعطيت انا اربعة عشر " . قلنا من هم قال انا وابناى وجعفر وحمزة وابو بكر وعمر ومصعب بن عمير وبلال وسلمان وعمار والمقداد و حذيفة وعبد الله بن مسعود . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وقد روي هذا الحديث عن علي موقوفا
। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার বিদায় হজ্জে আরাফার দিন তার কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বক্তৃতা দিতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছিঃ হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা ধারণ বা অনুসরণ করলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে নাঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব (আল-কুরআন) এবং আমার ইতরাত অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৪৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ যার, আবূ সাঈদ, যাইদ ইবনু আরকাম ও হুযইফাহ ইবনু উসাইদ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। যাইদ ইবনুল হাসান হতে সাঈদ ইবনু সুলাইমান ও একাধিক বিশেষজ্ঞ আলিম হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
حدثنا نصر بن عبد الرحمن الكوفي، قال حدثنا زيد بن الحسن، هو الانماطي عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن جابر بن عبد الله، قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول " يا ايها الناس اني قد تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتي اهل بيتي " .وفي الباب عن ابي ذر وابي سعيد وزيد بن ارقم وحذيفة بن اسيد . وهذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وزيد بن الحسن قد روى عنه سعيد بن سليمان وغير واحد من اهل العلم
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোষ্য উমার ইবনু আবী সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর ঘরে এ আয়াত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে নবীর পরিবার। আল্লাহ তা'আলা তো চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাব ৩৩)। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকেন এবং তাদেরকে একখানা চাদরে আবূত করেন। তার পেছনে আলী (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি তাকেও চাদরে ঢেকে নেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। অতএব তুমি তাদের হতে অপবিত্রতা অপসারণ করে দাও এবং তাদেরকে উত্তমভাবে পবিত্র কর”। সে সময় উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত কি? তিনি বললেনঃ তুমি স্বস্থানে আছ এবং তুমি কল্যাণের মাঝেই আছ। সহীহঃ ৩২০৫ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ, মাকিল ইবনু ইয়াসার, আবূল হামরা ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে হাসান গারীব।
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا محمد بن سليمان الاصبهاني، عن يحيى بن عبيد، عن عطاء بن ابي رباح، عن عمر بن ابي سلمة، ربيب النبي صلى الله عليه وسلم قال نزلت هذه الاية على النبي صلى الله عليه وسلم : ( انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا ) في بيت ام سلمة فدعا النبي صلى الله عليه وسلم فاطمة وحسنا وحسينا فجللهم بكساء وعلي خلف ظهره فجلله بكساء ثم قال " اللهم هولاء اهل بيتي فاذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا " . قالت ام سلمة وانا معهم يا نبي الله قال " انت على مكانك وانت الي خير " . وفي الباب عن ام سلمة ومعقل بن يسار وابي الحمراء وانس بن مالك . وهذا حديث غريب من هذا الوجه
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তরূপে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার একটি অন্যটির তুলনায় বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব যা আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত দীর্ঘ এক রশি এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও আলাদা হবে না কাওসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা লক্ষ্য কর আমার পরে দু'জনের সঙ্গে তোমরা কিভাবে আচরণ কর। সহীহঃ মিশকাত (৬১৪৪), রাওযুন নায়ীর (৯৭৭, ৯৭৮), সহীহাহ (৪/৩৫৬-৩৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا علي بن المنذر، - الكوفي - قال حدثنا محمد بن فضيل، قال حدثنا الاعمش، عن عطية، عن ابي سعيد، والاعمش، عن حبيب بن ابي ثابت، عن زيد بن ارقم، رضي الله عنهما قالا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني تارك فيكم ما ان تمسكتم به لن تضلوا بعدي احدهما اعظم من الاخر كتاب الله حبل ممدود من السماء الى الارض وعترتي اهل بيتي ولن يتفرقا حتى يردا على الحوض فانظروا كيف تخلفوني فيهما " . هذا حديث حسن غريب
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত কর। কেননা তিনি তোমাদেরকে তার নিয়ামাতরাজি খাবার খাওয়াচ্ছেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার মহব্বতে তোমরা আমাকেও মহব্বত এবং আমার মহব্বতে আমার আহলে বাইতকেও মহব্বত কর। যঈফ, তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (২৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا ابو داود، سليمان بن الاشعث قال اخبرنا يحيى بن معين، قال حدثنا هشام بن يوسف، عن عبد الله بن سليمان النوفلي، عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن ابيه، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احبوا الله لما يغذوكم من نعمه واحبوني بحب الله واحبوا اهل بيتي لحبي " . قال ابو عيسى هذا ��ديث حسن غريب انما نعرفه من هذا الوجه
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উন্মাতের মাঝে আবূ বাকর আমার প্রতি সবচাইতে বেশী দয়ালু। আল্লাহ তা'আলার বিধান প্রয়োগে উমার তাদের মাঝে সবচাইতে বেশী কঠোর। তাদের মাঝে উসমান ইবনু আফফান সবচাইতে বেশী লাজুক। তাদের মাঝে হালাল ও হারাম প্রসঙ্গে মুআয ইবনু জাবাল সবচাইতে বেশী ওয়াকিফহাল। তাদের মাঝে ফারায়িয (উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিধান) সম্বন্ধে যাইদ ইবনু সাবিত সবচাইতে বেশী অভিজ্ঞ। তাদের মধ্যে অধিক উত্তমরূপে কুরআন মাজীদ পাঠকারী উবাই ইবনু কাব। আর প্রত্যেক উম্মাতের একজন সবচাইতে বেশী বিশ্বস্ত লোক থাকে। এ উম্মাতের সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই কাতাদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে জেনেছি। এ হাদীস আবূ কিলাবাহ আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ কিলাবার হাদীসই বেশী প্রসিদ্ধ।
حدثنا سفيان بن وكيع، قال حدثنا حميد بن عبد الرحمن، عن داود العطار، عن معمر، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارحم امتي بامتي ابو بكر واشدهم في امر الله عمر واصدقهم حياء عثمان واعلمهم بالحلال والحرام معاذ بن جبل وافرضهم زيد بن ثابت واقروهم ابى بن كعب ولكل امة امين وامين هذه الامة ابو عبيدة بن الجراح " . هذا حديث حسن غريب لا نعرفه من حديث قتادة الا من هذا الوجه . وقد رواه ابو قلابة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه والمشهور حديث ابي قلابة
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আবূ বাকর (রাযিঃ) হলেন আমার উম্মাতের প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান প্রয়োগে সর্বাধিক কঠোর হলেন উমার, তাদের মাঝে সর্বাধিক লজ্জাশীল হলেন উসমান, তাদের মাঝে সর্বাধিক উত্তম কুরআন পাঠকারী হলেন উবাই ইবনু কাব, তাদের মাঝে ফারাইয সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন যাইদ ইবনু সাবিত এবং তাদের মাঝে হালাল-হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন মুআয ইবনু জাবাল, সাবধান প্রত্যেক উন্মাতের মাঝেই একজন সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আছে। আমার উম্মাতের মাঝে সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক হলেন আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد الثقفي، قال حدثنا خالد الحذاء، عن ابي قلابة، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارحم امتي بامتي ابو بكر واشدهم في امر الله عمر واصدقهم حياء عثمان واقروهم لكتاب الله ابى بن كعب وافرضهم زيد بن ثابت واعلمهم بالحلال والحرام معاذ بن جبل الا وان لكل امة امينا وان امين هذه الامة ابو عبيدة بن الجراح " . هذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম দিয়েছেন আমি তোমাকে যেন “লাম ইয়াকুনিল্লায়ীনা কাফারূ" সূরাটি পাঠ করে শুনাই। উবাই (রাযিঃ) প্রশ্ন করলেন, তিনি কি আমার নামোল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এতে উবাই (রাযিঃ) কেঁদে ফেলেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৯০৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী : আমাকে বললেনঃ ..... অতঃপর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثنا شعبة، قال سمعت قتادة، يحدث عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابى بن كعب " ان الله امرني ان اقرا عليك : ( لم يكن الذين كفروا ) " . قال وسماني قال " نعم " . فبكى . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي عن ابى بن كعب قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم فذكر نحوه
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন, অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, “আহলে কিতাবদের মাঝে কাফির নয়" আর তাতে পাঠ করলেন "আল্লাহর নিকট দ্বীনদার লোক হলেন একনিষ্ঠ মুসলিম ব্যক্তি। ইয়াহুদীরাও নয় নাসূরানীরাও নয়। যে ব্যক্তি ভাল আমল করবেন তিনি তা অস্বীকার করবেন না। তিনি আরও পাঠ করলেন, ইবনু আদমের নিকট যদি এক উপত্যকা সম্পদ থাকে তাহলে সে দ্বিতীয় উপত্যকা কামনা করবে, আর যদি দ্বিতীয় উপত্যকা থাকে, তাহলে সে তৃতীয় উপত্যকা কামনা করে। মাটি ব্যতীত আর কিছুতেই ইবনু আদমের পেট ভরবে না। যে তওবা করবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে। তিনি উবাই ইবনু কা'ব হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা'বকে বললেন, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যেন আপনার নিকট কুরআন পাঠ করি। কাতাদাহ্ আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، اخبرنا شعبة، عن عاصم، قال سمعت زر بن حبيش، يحدث عن ابى بن كعب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له " ان الله امرني ان اقرا عليك " . فقرا عليه: ( لم يكن الذين كفروا من اهل الكتاب ) فقرا فيها " ان ذات الدين عند الله الحنيفية المسلمة لا اليهودية ولا النصرانية من يعمل خيرا فلن يكفره " . وقرا عليه " ولو ان لابن ادم واديا من مال لابتغى اليه ثانيا ولو كان له ثانيا لابتغى اليه ثالثا ولا يملا جوف ابن ادم الا التراب ويتوب الله على من تاب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن وقد روي من غير هذا الوجه . رواه عبد الله بن عبد الرحمن بن ابزى عن ابيه عن ابى بن كعب ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لابى بن كعب " ان الله امرني ان اقرا عليك القران " . وقد روى قتادة عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لابى " ان الله امرني ان اقرا عليك القران
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যমানায় চারজন ব্যক্তি কুরআন সংকলন করেন, তারা সকলেই আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেনঃ উবাই ইবনু কাব, মুআয ইবনু জাবাল, যাইদ ইবনু সাবিত ও আবূ যাইদ (রাযিঃ)। আমি (কাতাদাহ্) আনাস (রাযিঃ)-কে বললাম, আবূ যাইদ কে? তিনি বললেন, আমার একজন চাচা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا يحيى بن سعيد، قال حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال جمع القران على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم اربعة كلهم من الانصار ابى بن كعب ومعاذ بن جبل وزيد بن ثابت وابو زيد . قلت لانس من ابو زيد قال احد عمومتي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর কতই না ভাল, উমার কতই না ভাল, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ কতই না ভাল, উসাইদ ইবনু হুযাইর কতই না ভাল, সাবিত ইবনু কাইস ইবনু শামমাস কতই না ভাল, মু'আয ইবনু জাবাল কতই না ভাল এবং মুআয ইবনু আমর ইবনুল জামূহ কতই না ভাল। সহীহঃ হাদীসের প্রথমাংশ (৩৫১২) নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধুমাত্র সুহাইলের হাদীস হিসেবে এটি অবগত হয়েছি।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم الرجل ابو بكر نعم الرجل عمر نعم الرجل ابو عبيدة بن الجراح نعم الرجل اسيد بن حضير نعم الرجل ثابت بن قيس بن شماس نعم الرجل معاذ بن جبل نعم الرجل معاذ بن عمرو بن الجموح " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن انما نعرفه من حديث سهيل
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাজরানবাসীদের নেতা ও তার নায়েব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলে, আমাদের সঙ্গে আপনার বিশ্বস্ত লোককে প্রেরণ করেন। তিনি বললেনঃ আমি শীঘ্রই তোমাদের সঙ্গে একজন বিশ্বস্ত লোককেই প্রেরণ করব যিনি প্রকৃতই বিশ্বস্ত। লোকেরা এই সেবা আঞ্জাম দেয়ার আশা করতে থাকে। তিনি আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ)-কে প্রেরণ করেন। অধঃস্তন বর্ণনাকারী আবূ ইসহাক যখনই সিলাহ হতে উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করতেন সে সময় বলতেন, আমি এ হাদীস সিলাহ হতে প্রায় ষাট বছর আগে শুনেছি। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১২৩), বুখারী ও মুসলিম, দেখুন সহীহাহ (১৯৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস ইবনু উমার ও আনাস (রাযিঃ) হতে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ “প্রত্যেক উম্মাতেরই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে। এ উন্মাতের বিশ্বস্ত লোক হল আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।” মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার সালম ইবনু কুতাইবাইহ ও আবূ দাউদ হতে, তারা শুবাহ হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, হুযইফাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, সিলাহ্ ইবনু যুফারের হৃদয় স্বর্ণের মত। সনদ সহীহ, মাওকুফ।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا وكيع، قال حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن صلة بن زفر، عن حذيفة بن اليمان، قال جاء العاقب والسيد الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالا ابعث معنا امينا . فقال " فاني سابعث معكم امينا حق امين " . فاشرف لها الناس فبعث ابا عبيدة بن الجراح رضى الله عنه . قال وكان ابو اسحاق اذا حدث بهذا الحديث عن صلة قال سمعته منذ ستين سنة . هذا حديث حسن صحيح . حدثنا محمد بن بشار اخبرنا سلم بن قتيبة وابو داود عن شعبة عن ابي اسحاق قال قال حذيفة قلب صلة بن زفر من ذهب وقد روي عن عمر وانس عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " لكل امة امين وامين هذه الامة ابو عبيدة بن الجراح
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত তিনজন লোকের জন্য খুবই আগ্রহীঃ আলী, আম্মার ও সালমান (রাঃ)। যঈফ, যঈফা (২৩২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু হাসান ইবনু সালিহ্-এর সূত্রেই জেনেছি।
حدثنا سفيان بن وكيع، قال حدثنا ابي، عن الحسن بن صالح، عن ابي ربيعة الايادي، عن الحسن، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الجنة تشتاق الى ثلاثة علي وعمار وسلمان " . هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث الحسن بن صالح
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাযিঃ) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দেখার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে আসার অনুমতি দাও। স্বাগতম পবিত্র সত্তা ও পবিত্র স্বভাবের ব্যক্তিকে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، قال حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن هانىء بن هانىء، عن علي، قال جاء عمار يستاذن على النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ايذنوا له مرحبا بالطيب المطيب " . هذا حديث حسن صحيح
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখনই আম্মারকে দু’টি বিষয়ের মাঝে একটি গ্রহণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে সে সময় সে প্রত্যেকটির মাঝে সর্বোত্তমটিকে (অপেক্ষাকৃত মজবুতটিকে) এখতিয়ার করেছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেননা আবদুল আযীয ইবনু সিয়াহ-এর রিওয়ায়াত ছাড়া আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে অবহিত নই। তিনি হলেন কুফার শাইখ। লোকেরা তার নিকট হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছে। তার এক পুত্র ছিল, যিনি ইয়াযীদ ইবনু আবদুল আযীয নামে পরিচিত এবং যিনি সিকাহ বর্ণনাকারী ছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু আদম তার সনদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। হুযইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমরা বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ আমার জানা নেই, আর কত দিন আমি তোমাদের মাঝে জীবিত থাকব। সুতরাং তোমরা আমার পরের দু'জন লোকের অনুসরণ কর এবং তিনি আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ)-এর দিকে ইশারা করেন। আর তোমরা আম্মারের অনুসৃত পন্থা অনুসরণ কর এবং যে হাদীস ইবনু মাসউদ তোমাদের কাছে রিওয়ায়াত করে তা বিশ্বাস কর। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস ইবরাহীম ইবনু সা'দ সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিবঈর মুক্তদাস হিলাল হতে, তিনি রিবাঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। রিবঈ ইবনু হিরাশ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আম্মার! সুখবর গ্রহণ কর, বিদ্রোহী দলটি তোমাকে হত্যা করবে। সহীহঃ সহীহাহু (৭১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূল ইয়াসার ও হুযইফাহ্ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান, সহীহ এবং আ'লা ইবনু আবদুর রহমানের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
حدثنا ابو مصعب المدني، قال حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابشر عمار تقتلك الفية الباغية " . وفي الباب عن ام سلمة وعبد الله بن عمرو وابي اليسر وحذيفة . وهذا حديث حسن صحيح غريب من حديث العلاء بن عبد الرحمن
। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আবূ যার হতে বেশি সত্যবাদী কাউকে আকাশ ছায়া দান করেনি এবং মাটি ও তার বুকে বহন করেনি। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা ও আবূ যার (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا ابن نمير، عن الاعمش، عن عثمان بن عمير، هو ابو اليقظان عن ابي حرب بن ابي الاسود الديلي، عن عبد الله بن عمرو، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ما اظلت الخضراء ولا اقلت الغبراء اصدق من ابي ذر " . وفي الباب عن ابي الدرداء وابي ذر . وهذا حديث حسن
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ বাচনিক সত্যবাদিতায় ও সত্য প্রকাশে আবূ যারের তুলনায় উত্তম কাউকে আকাশ ছায়াদান করেনি এবং দুনিয়া তার বুকে আরোহন করেনি। সে ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম অনুরূপ। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হিংসুটে লোকের মত বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এটা তাকে জানাবোনা? (তাকে জানানো হবে)? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তোমরা তাকে জানিয়ে দাও। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬২৩০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। কিছু রাবী এ হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ .... “বৈরাগ্য সাধনায় পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী আবূ যার হলেন ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম অনুরূপ”।
حدثنا العباس العنبري، قال حدثنا النضر بن محمد، قال حدثنا عكرمة بن عمار، قال حدثني ابو زميل، هو سماك بن الوليد الحنفي عن مالك بن مرثد، عن ابيه، عن ابي ذر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما اظلت الخضراء ولا اقلت الغبراء من ذي لهجة اصدق ولا اوفى من ابي ذر شبه عيسى ابن مريم عليه السلام " . فقال عمر بن الخطاب كالحاسد يا رسول الله افنعرف ذلك له قال " نعم فاعرفوه له " . هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وقد روى بعضهم هذا الحديث فقال " ابو ذر يمشي في الارض بزهد عيسى ابن مريم عليه السلام
। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর ভাতিজা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উসমান (রাঃ)-কে যখন মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয় তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার নিকট তার নিরাপত্তার জন্য আসেন। উসমান (রাঃ) তাকে বলেন, আপনি কেন এসেছেন? তিনি বললেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি। উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে আপনি বাইরে বিদ্রোহীদের নিকট যান এবং তাদেরকে আমার নিকট হতে সরিয়ে দিন। আপনার বাড়ির ভেতরে থাকার চাইতে বাইরে থাকাই আমার জন্য উপকারী। অতএব আবদুল্লাহ (রাঃ) বাইরে লোকদের নিকট গিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে লোকেরা! জাহিলী যুগে আমার অমুক নাম ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। আমার সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে কয়েকটি আয়াতও অবতীর্ণ হয়। আমার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়ঃ “এবং বনী ইসরাঈলের একজন এর মতই কিতাব প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এতে ঈমান এনেছে, অথচ তোমরা অহংকার করছ। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না" (সূরাঃ আল-আহকাফ- ১০)। আরো অবতীর্ণ হয়ঃ “আপনি বলুন, আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহ্ তা'আলার সাক্ষ্য এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে তার সাক্ষ্যই যথেষ্ট" (সূরাঃ রাদ- ৪৩)। তোমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার একখানা কোষবদ্ধ তলোয়ার আছে। আর তোমাদের এই যে শহরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরাত করে) আসেন, এখানের ফিরিশতারা তোমাদের প্রতিবেশী। অতএব তোমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আল্লাহর কসম! যদি ফিরিশতারা তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার যে তলোয়ার তোমাদের হতে কোষবদ্ধ আছে তা কোষমুক্ত হলে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোষবদ্ধ হবে না। বিদ্রোহীরা বলল, তোমরা এই ইয়াহুদীকেও হত্যা কর এবং উসমানকেও হত্যা কর। সনদ দুর্বল। ৩০৯৮ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা আমরা শুধু আবদুল মালিক ইবনু উমাইরের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। শুআইব ইবনু সাফওয়ান এ হাদীস আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ উমার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম-তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে।
حدثنا علي بن سعيد الكندي، قال حدثنا ابو محياة يحيى بن يعلى بن عطاء عن عبد الملك بن عمير، عن ابن اخي عبد الله بن سلام، قال لما اريد قتل عثمان جاء عبد الله بن سلام فقال له عثمان ما جاء بك قال جيت في نصرك . قال اخرج الى الناس فاطردهم عني فانك خارجا خير لي منك داخلا . فخرج عبد الله الى الناس فقال ايها الناس انه كان اسمي في الجاهلية فلان فسماني رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الله ونزلت في ايات من كتاب الله فنزلت في : ( وشهد شاهد من بني اسراييل على مثله فامن واستكبرتم ان الله لا يهدي القوم الظالمين ) ونزلت في : ( قل كفى بالله شهيدا بيني وبينكم ومن عنده علم الكتاب ) ان لله سيفا مغمودا عنكم وان الملايكة قد جاورتكم في بلدكم هذا الذي نزل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم فالله الله في هذا الرجل ان تقتلوه فوالله لين قتلتموه لتطردن جيرانكم الملايكة ولتسلن سيف الله المغمود عنكم فلا يغمد عنكم الى يوم القيامة . قالوا اقتلوا اليهودي واقتلوا عثمان . قال ابو عيسى هذا حديث غريب انما نعرفه من حديث عبد الملك بن عمير . وقد روى شعيب بن صفوان هذا الحديث عن عبد الملك بن عمير فقال عن عمر بن محمد بن عبد الله بن سلام عن جده عبد الله بن سلام
। ইয়াযীদ ইবনু উমাইরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ)-এর মৃত্যু উপস্থিত হলে তাকে বলা হল, হে আবদুর রহমানের বাবা! আমাদেরকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে বসাও। তিনি বললেন, ইলম ও ঈমান নিজস্ব জায়গায়ই বিদ্যমান আছে, যে তা অন্বেষণ করবে সে তা লাভ করবে। তিনি তিনবার এ কথা বললেন। তোমরা চার লোকের নিকট ইলম অনুসন্ধান করঃ উয়াইমির আবূদ দারদা (রাযিঃ)-এর নিকট, সালমান ফারসী (রাযিঃ)-এর নিকট, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর নিকট এবং আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ)-এর নিকট। শেষোক্তজন প্রথমে ইয়াহুদী ধর্মাবলম্বী ছিলেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ ইবনু সালাম জান্নাতের দশজনের মাঝে দশম লোক। সহীহঃ মিশকাত (৬২৩১)। এ অনুচ্ছেদে সা'দ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن معاوية بن صالح، عن ربيعة بن يزيد، عن ابي ادريس الخولاني، عن يزيد بن عميرة، قال لما حضر معاذ بن جبل الموت قيل له يا ابا عبد الرحمن اوصنا . قال اجلسوني . فقال ان العلم والايمان مكانهما من ابتغاهما وجدهما يقول ذلك ثلاث مرات والتمسوا العلم عند اربعة رهط عند عويمر ابي الدرداء وعند سلمان الفارسي وعند عبد الله بن مسعود وعند عبد الله بن سلام الذي كان يهوديا فاسلم فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انه عاشر عشرة في الجنة " . وفي الباب عن سعد . وهذا حديث حسن صحيح غريب