Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৩৫ হাদিসসমূহ
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পার্শ্ব দিয়ে যাবে সে সময় সেখান হতে পাকা ফল তুলে নিবে। লোকজন প্রশ্ন করল, জান্নাতের বাগানগুলো কি? তিনি বললেন, যিকরের মাজলিস। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ২৫৬২), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/৩৩৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং সাবিত-আনাস (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث، قال حدثني ابي قال، حدثنا محمد بن ثابت البناني، قال حدثني ابي، عن انس بن مالك، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا مررتم برياض الجنة فارتعوا " . قال وما رياض الجنة قال " حلق الذكر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث ثابت عن انس
। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে অবশ্যই সে যেন বলেঃ ”নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তা'আলার এবং আমাদেরকে অবশ্যই তার দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আমার বিপদের প্রতিদান চাই। অতএব তুমি আমাকে এর প্রতিদান দাও এবং এর বিনিময়ে ভালো কিছু দান কর।” তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর মৃত্যু হাযির হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের জন্য আমার চাইতে উত্তম স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করে দাও”। তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করলে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, “আমরা আল্লাহ তা'আলার জন্য এবং আমাদেরকে তার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমার এই বিপদের প্রতিদান আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট পাওয়ার আশা করি। অতএব হে আল্লাহ! তুমি আমাকে প্রতিদান দাও”। সানাদ সহীহ। উম্মু সালামাহ হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর নাম আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল আসাদ।
حدثنا ابراهيم بن يعقوب، حدثنا عمرو بن عاصم، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن عمرو بن ابي سلمة، عن امه ام سلمة، عن ابي سلمة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا اصاب احدكم مصيبة فليقل : ( انا لله وانا اليه راجعون ) اللهم عندك احتسبت مصيبتي فاجرني فيها وابدلني منها خيرا " . فلما احتضر ابو سلمة قال اللهم اخلف في اهلي خيرا مني فلما قبض قالت ام سلمة : ( انا لله وانا اليه راجعون ) عند الله احتسبت مصيبتي فاجرني فيها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وروي هذا الحديث من غير هذا الوجه عن ام سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم وابو سلمة اسمه عبد الله بن عبد الاسد
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন দুআ সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার রবের নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা কর। তারপর সে দ্বিতীয় দিন তার নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন দুআ সর্বোত্তম তিনি তাকে আগের মতই উত্তর দেন। তারপর সে তার নিকট তৃতীয় দিন এলে তিনি আগের মতই উত্তর দেন এবং বলেনঃ যদি তুমি দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতের নিরাপত্তা লাভ করতে পার তাহলে মনে রেখো তুমি সফলতা লাভ করলে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৮৪৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। আমরা শুধু সালামা ইবনু ওয়ারদানের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا يوسف بن عيسى، حدثنا الفضل بن موسى، حدثنا سلمة بن وردان، عن انس بن مالك، ان رجلا، جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اى الدعاء افضل قال " سل ربك العافية والمعافاة في الدنيا والاخرة " . ثم اتاه في اليوم الثاني فقال يا رسول الله اى الدعاء افضل فقال له مثل ذلك ثم اتاه في اليوم الثالث فقال له مثل ذلك . قال " فاذا اعطيت العافية في الدنيا واعطيتها في الاخرة فقد افلحت " . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه انما نعرفه من حديث سلمة بن وردان
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি “লাইলাতুল কদর" জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেনঃ “তুমি বল, হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও" সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن كهمس بن الحسن، عن عبد الله بن بريدة، عن عايشة، قالت قلت يا رسول الله ارايت ان علمت اى ليلة ليلة القدر ما اقول فيها قال " قولي اللهم انك عفو كريم تحب العفو فاعف عني " . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল মুত্তালিব ইবনু রবীআ ইবনুল হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) রাগান্বিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে যান। তখন আমি তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কিসে আপনাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথে কুরাইশদের কি হল? তারা নিজেরা যখন পরস্পর মিলিত হয় তখন উজ্জ্বল চেহারায় মিলিত হয়। কিন্তু তারা আমাদের (হাশিমীদের) সাথে এর বিপরীত অবস্থায় মিলিত হয়। রাবী বলেন, (এ বক্তব্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতই রাগান্বিত হন যে, তার মুখমণ্ডল রক্তিম রর্ণ ধারণ করে। তারপর তিনি বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান ঢুকতে পারে না, যাবত না সে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য আপনাদেরকে ভালোবাসে। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! যে কেউ আমার চাচাকে দুঃখ দিল সে যেন আমাকেই দুঃখ দিল। কেননা কোন লোকের চাচা তার পিতার সমান। “চাচা পিতৃস্থানীয়" অংশ ব্যতীত হাদীসটি যঈফ, আর ঐ অংশটুকু সহীহ, মিশকাত (৬১৪৭), সহীহা ৮০৬ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا عبيدة بن حميد، عن يزيد بن ابي زياد، عن عبد الله بن الحارث، عن العباس بن عبد المطلب، قال قلت يا رسول الله علمني شييا اساله الله عز وجل . قال " سل الله العافية " . فمكثت اياما ثم جيت فقلت يا رسول الله علمني شييا اساله الله . فقال لي " يا عباس يا عم رسول الله سل الله العافية في الدنيا والاخرة " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح . وعبد الله بن الحارث بن نوفل قد سمع من العباس بن عبد المطلب
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। যঈফ, মিশকাত (৬১৪৮), যঈফা (২৩১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু ইসরাঈলের সূত্রে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।
حدثنا القاسم بن دينار الكوفي، حدثنا اسحاق بن منصور الكوفي، عن اسراييل، عن عبد الرحمن بن ابي بكر، وهو المليكي عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما سيل الله شييا احب اليه من ان يسال العافية " . هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن ابي بكر المليكي
। আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজের ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার কাজে কল্যাণ দান করুন"। যঈফ, যঈফা (১৫১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু যানফালের রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। তিনি হাদীসবিদদের মতে যঈফ। তাকে যানফাল ইবনু আবদুল্লাহ আল-আরাফীও বলা হয়। কেননা তিনি ‘আরাফাত এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি এককভাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন পক্ষাবলম্বনকারী নেই।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابراهيم بن عمر بن ابي الوزير، حدثنا زنفل بن عبد الله ابو عبد الله، عن ابن ابي مليكة، عن عايشة، عن ابي بكر الصديق، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد امرا قال " اللهم خر لي واختر لي " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث زنفل . وهو ضعيف عند اهل الحديث ويقال له زنفل العرفي وكان سكن عرفات وتفرد بهذا الحديث ولا يتابع عليه
। আবূ মালিক আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অযু ঈমানের অর্ধেক। আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ একসাথে আকাশমণ্ডলী ও যামীনের মধ্যবর্তী জায়গা ভর্তি করে দেয়। নামায হল নূর (জ্যোতি), সদাকাহ (দান-খাইরাত) হল (মুক্তির) দলীল এবং ধৈর্য ও সহনশীলতা হল আলোকবর্তিকা। কুরআন তোমার সপক্ষে অথবা বিপক্ষে সনদ বা সাক্ষ্যস্বরূপ। ভোরে উপনীত হয়ে প্রতিটি মানুষ নিজেকে বিক্রয় করে। (এর মাধ্যমে) সে নিজেকে হয় আযাদ করে অথবা ধ্বংস করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
حدثنا اسحاق بن منصور، حدثنا حبان بن هلال، حدثنا ابان، هو ابن يزيد العطار حدثنا يحيى، ان زيد بن سلام، حدثه ان ابا سلام حدثه عن ابي مالك الاشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الوضوء شطر الايمان والحمد لله تملا الميزان وسبحان الله والحمد لله تملان او تملا ما بين السموات والارض والصلاة نور والصدقة برهان والصبر ضياء والقران حجة لك او عليك كل الناس يغدو فبايع نفسه فمعتقها او موبقها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) মীযানের (দাড়িপাল্লার) অর্ধেক, "আলহামদুলিল্লাহ” মীযানকে পুরো করে দেয় এবং “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" ও আল্লাহ্ তা'আলার মাঝখানে কোন প্রকারের অন্তরায় বা বাধা নেই, এমনকি তা আল্লাহ তা'আলার নিকট পৌছে যায়। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৩১৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এর সনদসূত্র তেমন শক্তিশালী নয়।
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن عبد الرحمن بن زياد بن انعم، عن عبد الله بن يزيد، عن عبد الله بن عمرو، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " التسبيح نصف الميزان والحمد لله يملوه ولا اله الا الله ليس لها دون الله حجاب حتى تخلص اليه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه وليس اسناده بالقوي . وعبد الرحمن بن زياد بن انعم هو الافريقي وقد ضعفه احمد بن حنبل ويحيى بن معين وعبد الله بن يزيد هو ابو عبد الرحمن الحبلي
। সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হতে অথবা তার হতে এসব বাক্য গুনে গুনে বলেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) হল মীযানের অর্ধেক, "আলহামদু লিল্লাহ" তাকে পূর্ণ করে দেয় এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আকাশ ও যমিনের মধ্যবর্তী জায়গা পরিপূর্ণ করে দেয়। রোযা সবর ও সহিষ্ণুতার অর্ধেক এবং পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। যঈফ, মিশকাত (২৯৬), তা’লীকুর রাগীব (২/২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী এ হাদীস আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن ابي اسحاق، عن جرى النهدي، عن رجل، من بني سليم قال عدهن رسول الله صلى الله عليه وسلم في يدي او في يده " التسبيح نصف الميزان والحمد يملوه والتكبير يملا ما بين السماء والارض والصوم نصف الصبر والطهور نصف الايمان " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن وقد رواه شعبة وسفيان الثوري عن ابي اسحاق
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাত দিবসে আরাফাতে অবস্থানকালে দুপুরের পর বেশিরভাগ সময় যে দু’আ পাঠ করতেন তা এই যে, “হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার যেভাবে তুমি বলেছ এবং আমরা যা বর্ণনা করি তার চেয়েও বেশি উত্তম। হে আল্লাহ! আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার জীবন ও আমার মরণ তোমার জন্য। পরিশেষে তোমার দিকেই আমার ফিরে আসা এবং আমার মালিকানা তোমার মালিকানাভুক্ত। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সহায়তা চাই কবরের শাস্তি, অন্তরের কুচিন্তা ও কাজ কর্মের অনিশ্চয়তা হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই বায়ু বাহিত ক্ষতি হতেও”। যঈফ, যঈফা (২৯১৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উক্ত সনদসূত্রে গারীব। এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
حدثنا محمد بن حاتم المودب، حدثنا علي بن ثابت، حدثني قيس بن الربيع، وكان، من بني اسد عن الاغر بن الصباح، عن خليفة بن حصين، عن علي بن ابي طالب، قال اكثر ما دعا به رسول الله صلى الله عليه وسلم عشية عرفة في الموقف " اللهم لك الحمد كالذي تقول وخيرا مما نقول اللهم لك صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي واليك مابي ولك رب تراثي اللهم اني اعوذ بك من عذاب القبر ووسوسة الصدر وشتات الامر اللهم اني اعوذ بك من شر ما تجيء به الريح " . قال هذا حديث غريب من هذا الوجه وليس اسناده بالقوي
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দু'আই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অনেক দু'আই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিব না, যা সেই সকল দু'আর সমষ্টি হবে? তোমরা বলঃ “হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সেই কল্যাণ আশা করি যা তোমার নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার নিকট আশা করেছেন এবং আমরা তোমার নিকট সেই অনিষ্ট হতে রক্ষা চাই যে অনিষ্ট হতে তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই (কল্যাণ) পৌছিয়ে দাও। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার এবং কল্যাণ পৌছানোর আর কোন ক্ষমতাবান নেই"। যঈফ, যঈফা (৩৩৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن حاتم المودب، حدثنا عمار بن محمد ابن اخت، سفيان الثوري حدثنا الليث بن ابي سليم، عن عبد الرحمن بن سابط، عن ابي امامة، قال دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بدعاء كثير لم نحفظ منه شييا قلنا يا رسول الله دعوت بدعاء كثير لم نحفظ منه شييا . فقال " الا ادلكم على ما يجمع ذلك كله تقول اللهم انا نسالك من خير ما سالك منه نبيك محمد ونعوذ بك من شر ما استعاذ بك منه نبيك محمد وانت المستعان وعليك البلاغ ولا حول ولا قوة الا بالله " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। শাহর ইবনু হাওশাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-কে আমি বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছে অবস্থানকালে অধিকাংশ সময় কোন দু'আটি পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দু'আ পাঠ করতেনঃ “হে মনের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখ"। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অধিকাংশ সময় “হে মনের পরিবর্তনকারী! আমার মনকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখ” দু'আটি কেন পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামাহ! এরূপ কোন মানুষ নেই যার মন আল্লাহ তা'আলার দুই আঙ্গুলের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত নয়। যাকে ইচ্ছা তিনি (দ্বীনের উপর) স্থির রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা (দ্বীন হতে) বিপথগামী করে দেন। তারপর অধঃস্তন বর্ণনাকারী মুআয (রহঃ) কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) “হে আমাদের রব! আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার পর তুমি আমাদের অন্তরসমূহকে বাকা করে দিও না”। সহীহঃ যিলালুল জান্নাহ (হাঃ ২২৩)। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, নাওয়াস ইবনু সাম্'আন, আনাস, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও নু'আইম ইবনু হাম্মার (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا ابو موسى الانصاري، حدثنا معاذ بن معاذ، عن ابي كعب، صاحب الحرير حدثني شهر بن حوشب، قال قلت لام سلمة يا ام المومنين ما كان اكثر دعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان عندك قالت كان اكثر دعايه " يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك " . قالت قلت يا رسول الله ما لاكثر دعايك يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك قال " يا ام سلمة انه ليس ادمي الا وقلبه بين اصبعين من اصابع الله فمن شاء اقام ومن شاء ازاغ " . فتلا معاذ : ( ربنا لا تزغ قلوبنا بعد اذ هديتنا ) قال وفي الباب عن عايشة والنواس بن سمعان وانس وجابر وعبد الله بن عمرو ونعيم بن همار . قال وهذا حديث حسن
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-মাখযুমী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুশ্চিন্তা বা স্নায়ুবিক চাপের কারণে রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ কর তখন বল, “হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রতিপালক এবং যা কিছুর উপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত যমিনের প্রতিপালক এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শাইতানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদেরকে বিপথগামী করেছে। তুমি আমাকে তোমার সকল সৃষ্টিকুলের খারাবী হতে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনটি আমার উপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই"। যঈফ, আল-কালিমুত তায়্যিব (৪৭/৩৩), মিশকাত (২৪১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। হাকাম ইবনু জুহাইর পরিত্যক্ত রাবী। কিছু হাদীস বিশারদ তার হতে হাদীস গ্রহণ বাদ দিয়েছেন। এ হাদীসটি ভিন্নসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا محمد بن حاتم المودب، حدثنا الحكم بن ظهير، حدثنا علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابيه، قال شكا خالد بن الوليد المخزومي الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ما انام الليل من الارق . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اذا اويت الى فراشك فقل اللهم رب السموات السبع وما اظلت ورب الارضين وما اقلت ورب الشياطين وما اضلت كن لي جارا من شر خلقك كلهم جميعا ان يفرط على احد منهم او ان يبغي على عز جارك وجل ثناوك ولا اله غيرك ولا اله الا انت " . قال هذا حديث ليس اسناده بالقوي . والحكم بن ظهير قد ترك حديثه بعض اهل الحديث ويروى هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا من غير هذا الوجه
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে কঠিন কাজ হাযির হলে তিনি বলতেনঃ “হে চিরজীবি, হে চিরস্থায়ী! আমি তোমার রহমতের ওয়াসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করি”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১১৮/৭৬)। একই সনদসূত্রে আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সবসময় “ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম" পাঠ করাকে অপরিহার্য করে নাও। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৫৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا محمد بن حاتم المكتب، حدثنا ابو بدر، شجاع بن الوليد عن الرحيل بن معاوية، اخي زهير بن معاوية عن الرقاشي، عن انس بن مالك، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا كربه امر قال " يا حى يا قيوم برحمتك استغيث " . وباسناده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الظوا بيا ذا الجلال والاكرام " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . وقد روي هذا الحديث عن انس من غير هذا الوجه
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সবসময় “ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম" (হে গৌরব ও মহত্ত্বের অধিকারী) পাঠ করাকে অপরিহার্য করে নাও। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এটা নির্ভরযোগ্য নয়। এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ। মুয়াম্মাল এ হাদীসের সনদে ক্রটি করেছেন এবং বলেছেন, হুমাইদ হতে, আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। এতে তার অনুসরণ করা হয়নি।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا المومل، عن حماد بن سلمة، عن حميد، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " الظوا بيا ذا الجلال والاكرام " . قال هذا حديث غريب وليس بمحفوظ . وانما يروى هذا عن حماد بن سلمة عن حميد عن الحسن عن النبي صلى الله عليه وسلم وهذا اصح ومومل غلط فيه فقال عن حماد عن حميد عن انس ولا يتابع فيه
। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে থাকে, সে পার্শ্ব পরিবর্তন করার আগেই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ হতে যা কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে নিসন্দেহে তা দান করবেন। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/২০৭), মিশকাত (১২৫০), আল-কালিমুত তায়্যিব তাহকীক ছানী (৪৩/২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শাহর ইবনু হাওশাব হতে, তিনি আবূ যাবিয়্যা হতে, তিনি আমর ইবনু আবাসার সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي حسين، عن شهر بن حوشب، عن ابي امامة الباهلي، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من اوى الى فراشه طاهرا يذكر الله حتى يدركه النعاس لم ينقلب ساعة من الليل يسال الله شييا من خير الدنيا والاخرة الا اعطاه الله اياه " . قال هذا حديث حسن غريب . وقد روي هذا ايضا عن شهر بن حوشب عن ابي ظبية عن عمرو بن عبسة عن النبي صلى الله عليه وسلم
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি তার দু'আয় বলছেঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার সকল নিআমাত কামনা করি"। তিনি বলেনঃ সকল নিআমাত কি? সে বলল, আমি একটি দুআ করেছি যার উসীলায় কল্যাণ লাভের কামনা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্ণ নিয়ামাত হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশলাভ এবং জাহান্নাম হতে রেহাই। তিনি আরেক ব্যক্তিকে বলতে শুনেনঃ “হে মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী”। তিনি বললেনঃ তোমার দু’আ কবুল করা হবে, অতএব প্রার্থনা কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক ব্যক্তিকে বলতে শুনেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সবরের প্রার্থনা করি”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে দুরবস্থা প্রার্থনা করেছ, অতএব তার নিকটে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা কর। যঈফ, যঈফা (৪৫২০) আহমাদ ইবনু মানী ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম হতে তিনি আল-জুরাইরী (রহঃ)-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن الجريري، عن ابي الورد، عن اللجلاج، عن معاذ بن جبل، قال سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا يدعو يقول اللهم اني اسالك تمام النعمة . فقال " اى شيء تمام النعمة " . قال دعوة دعوت بها ارجو بها الخير . قال " فان من تمام النعمة دخول الجنة والفوز من النار " . وسمع رجلا وهو يقول يا ذا الجلال والاكرام فقال " قد استجيب لك فسل " . وسمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا وهو يقول اللهم اني اسالك الصبر . فقال " سالت الله البلاء فسله العافية " . حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، عن الجريري، بهذا الاسناد نحوه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। 'আমর ইবনু শু'আইব (রাযিঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে সে যেন বলেঃ “আমি আল্লাহ্ তা'আলার পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা আশ্রয় চাই তার ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তার বান্দাদের খারাবী হতে, শাইতানদের কুমন্ত্রণা হতে এবং আমার নিকট যারা হাযির হয় সেগুলো হতে।” তাহলে সেগুলো তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) তার সন্তানদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্কদের উক্ত দুআ শিখিয়ে দিতেন এবং উক্ত দুআ কাগজের টুকরায় লিখে তার নাবালেগ সন্তানদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু “উমার...... ঝুলিয়ে দিতেন" অংশটুকু বাদে হাদীসটি হাসান। আল-কালিমুত তাইয়্যিব (৪৮/৩৫)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا علي بن حجر، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن محمد بن اسحاق، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا فزع احدكم في النوم فليقل اعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وان يحضرون . فانها لن تضره " . قال وكان عبد الله بن عمرو يلقنها من بلغ من ولده ومن لم يبلغ منهم كتبها في صك ثم علقها في عنقه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। আবূ রাশিদ আল-হুবরানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ)-এর কাছে এসে আমি তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা কিছু শুনেছেন, তা হতে আমাদের কাছে কিছু বর্ণনা করুন। একখানা পাণ্ডুলিপি তিনি আমাকে দিলেন এবং বললেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখিয়ে দিয়েছেন। আবূ রাশিদ বলেন, তাতে আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলাম, তাতে লিখা আছে আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু (দু'আ) আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি সকালে ও বিকালে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! বলুন, “হে আল্লাহ, আকাশসমূহ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা! তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই, তুমি প্রতিটি বস্তুর পালনকর্তা ও মালিক। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিজের অন্তরের অনিষ্ট হতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও তার শিরকী হতে এবং আমি আমার নিজের জন্য ক্ষতিকর কিছু লাভ করা হতে কিংবা উক্ত অনিষ্টকর জিনিস কোন মুসলিমের কাছে টেনে নিয়ে যাওয়া হতে"। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২/৯), সহীহাহ (হাঃ ২৭৬৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن محمد بن زياد، عن ابي راشد الحبراني، قال اتيت عبد الله بن عمرو بن العاصي فقلت له حدثنا مما، سمعت من، رسول الله صلى الله عليه وسلم . فالقى الى صحيفة فقال هذا ما كتب لي رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فنظرت فيها فاذا فيها ان ابا بكر الصديق رضى الله عنه قال يا رسول الله علمني ما اقول اذا اصبحت واذا امسيت . فقال " يا ابا بكر قل اللهم فاطر السموات والارض عالم الغيب والشهادة لا اله الا انت رب كل شيء ومليكه اعوذ بك من شر نفسي ومن شر الشيطان وشركه وان اقترف على نفسي سوءا او اجره الى مسلم " . قال هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه