Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৩৫ হাদিসসমূহ
। আমর ইবনু মুররাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ ওয়ায়িল (রাহঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি। আমর বলেন, আবূ ওয়ায়িলকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কি সত্যিই এ হাদীস আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর কাছে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি তা মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও লুকায়িত সর্বপ্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন। আল্লাহ তা'আলার চাইতে বেশি প্রশংসাপ্রিয় আর কেউ নেই। এজন্যই নিজের প্রশংসা তিনি নিজেই করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ এই সনদ সূত্রে গারীব।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن عمرو بن مرة، قال سمعت ابا وايل، قال سمعت عبد الله بن مسعود، يقول قلت له اانت سمعته من عبد الله، قال نعم . ورفعه انه قال " لا احد اغير من الله ولذلك حرم الفواحش ما ظهر منها وما بطن ولا احد احب اليه المدح من الله ولذلك مدح نفسه " . قال هذا حديث حسن صحيح من هذا الوجه
। আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি দুআ আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযের মাঝে পাঠ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে প্ৰভু! আমার সত্তার উপর আমি অনেক যুলম করেছি। তুমি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। অতএব আমাকে তুমি নিজগুণে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি করুণা কর। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী, অতীব দয়ালু"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এটি লাইস ইবনু সা'দ হতে বর্ণিত হাদীস। আবূল খাইর-এর নাম মারসাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানী।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن ابي الخير، عن عبد الله بن عمرو، عن ابي بكر الصديق، انه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم علمني دعاء ادعو به في صلاتي قال " قل اللهم اني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب الا انت فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني انك انت الغفور الرحيم " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب وهو حديث ليث بن سعد وابو الخير اسمه مرثد بن عبد الله اليزني
। মুত্তালিব ইবনু আবী ওয়াদাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আব্বাস (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলেন, মনে হয় তিনি যেন কিছু শুনতে পেয়ে মিম্বারে আরোহন করলেন। অতঃপর বললেনঃ কোন ব্যক্তি প্রত্যাবর্তন (তাওবা) করেছে? সাহাবাগণ বললেনঃ আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক। তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু আদিল্লাহ ইবনি আবদিল মুত্তালিব। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি কুলকে সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম দলকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম গোত্রকে বিভিন্ন ঘরে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ঘর ও উত্তম বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। যঈফ, যঈফা
حدثنا محمود بن غيلان حدثنا ابو احمد حدثنا سفيان عن يزيد بن ابي زياد عن عبد الله بن الحارث عن المطلب بن ابي وداعة قال جاء العباس الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانه سمع شييا فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر فقال من انا فقالوا انت رسول الله عليك السلام قال انا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ان الله خلق الخلق فجعلني في خيرهم فرقة ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خيرهم فرقة ثم جعلهم قبايل فجعلني في خيرهم قبيلة ثم جعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا وخيرهم نسبا قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে হঠাৎ পাতাগুলো ঝরে পরে। অতঃপর তিনি বললেনঃ কোন বান্দা “আলহামদুলিল্লাহ", "সুবহানাল্লাহ" এবং “লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, আল্লাহ তা'আলা অতি পবিত্র এবং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই, তিনি অতি মহান) বললে তা তার গুনাহগুসমূহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়েছে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
حدثنا محمد بن حميد الرازي، حدثنا الفضل بن موسى، عن الاعمش، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بشجرة يابسة الورق فضربها بعصاه فتناثر الورق فقال " ان الحمد لله وسبحان الله ولا اله الا الله والله اكبر لتساقط من ذنوب العبد كما تساقط ورق هذه الشجرة " . قال هذا حديث غريب . ولا نعرف للاعمش سماعا من انس الا انه قد راه ونظر اليه
। উমারাহ ইবনু শাবীব আস-সাবায়ী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাগরিবের নামাযের পর যে লোক দশবার বলেঃ “আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সমস্ত কিছুই তার এবং তিনিই সকল প্রশংসার অধিকারী, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন এবং প্রতিটি জিনিসের উপর তিনিই মহা ক্ষমতাশালী”, আল্লাহ তা'আলা তার নিরাপত্তার জন্য ফেরেশতা পাঠান যারা তাকে শায়তানের ক্ষতি হতে ভোর পর্যন্ত নিরাপত্তা দান করেন, তার জন্য (আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ) অবশ্যম্ভাবী করার ন্যায় দশটি পুণ্য লিখে দেন, তার দশটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ বিলুপ্ত করে দেন এবং তার জন্য দশটি ঈমানদার দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। হাসানঃ সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/১৬০/৪৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু সা'দের সনদেই জানতে পেরেছি। উমারাহ ইবনু শাবীব প্রত্যক্ষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن الجلاح ابي كثير، عن ابي عبد الرحمن الحبلي، عن عمارة بن شبيب السبيي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من قال لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير . عشر مرات على اثر المغرب بعث الله له مسلحة يحفظونه من الشيطان حتى يصبح وكتب الله له بها عشر حسنات موجبات ومحا عنه عشر سييات موبقات وكانت له بعدل عشر رقاب مومنات " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث ليث بن سعد . ولا نعرف لعمارة بن شبيب سماعا عن النبي صلى الله عليه وسلم
। যির ইবনু হুবাইশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মোজাদ্বয়ের উপর মসিহ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার উদ্দেশে আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাযিঃ)-এর কাছে আগমন করলাম। তিনি বললেন, হে যির! তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, জ্ঞানের অন্বেষা! তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার ফেরেশতাগণ জ্ঞানের অন্বেষায় খুশি হয়ে জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। আমি বললাম, আমার মনে একটা দ্বিধাদ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছে মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে। আর আপনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তাই আপনাকে আমি প্রশ্ন করতে এসেছি যে, এ প্রসঙ্গে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি নির্দেশ দিতেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় থাকলে এবং নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত যেন আমাদের মোজাদ্বয় না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ এবং ঘুমানোর কারণে তা খোলার দরকার নেই, বরং শুধু তার উপর মাসেহ করলেই চলবে। যির (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, মহব্বত (ভালবাসা) প্রসঙ্গে আপনি কি তাকে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন আমরা তার নিকটেই ছিলাম, এমন সময় এক বেদুঈন উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিয়ে বলে, হে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার ন্যায় একই রকম উচ্চ শব্দে তার ডাকে জবাব দিলেনঃ আস। সেই বেদুঈনকে আমরা বললাম, তোমার অমঙ্গল হোক, তোমার কণ্ঠস্বর নীচু কর। কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আছ। নবীর সম্মুখে তোমাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে (কুরআনে)। লোকটি বলল, আল্লাহর শপথ! আমি নীচু স্বরে কথা বলতে পারি না। এবার সে বলল, এক লোক এক গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন লোক যাকে ভালবাসে কিয়ামতের দিন সে তার সঙ্গেই থাকবে। তারপর তিনি আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে তিনি পাশ্চাত্যে অবস্থিত একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যা এত দীর্ঘ যে, একটি সওয়ারীর সেই দরজার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পার করতে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছর সময় লাগবে। সুফইয়ান (রাহঃ) বলেন, পাশ্চাত্যের সেই দরজা সিরিয়ার দিকে অবস্থিত। যে দিন আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও যামীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন ঐ দরজাও সৃষ্টি করেছেন। তা তাওবার জন্য খোলা রয়েছে। পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তা রুদ্ধ করা হবে না। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (৪/৭৩), ৯৬ নং হাদীসে এর অংশ বিশেষ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عاصم بن ابي النجود، عن زر بن حبيش، قال اتيت صفوان بن عسال المرادي اساله عن المسح، على الخفين فقال ما جاء بك يا زر فقلت ابتغاء العلم فقال ان الملايكة تضع اجنحتها لطالب العلم رضا بما يطلب . قلت انه حك في صدري المسح على الخفين بعد الغايط والبول وكنت امرا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فجيت اسالك هل سمعته يذكر في ذلك شييا قال نعم كان يامرنا اذا كنا سفرا او مسافرين ان لا ننزع خفافنا ثلاثة ايام ولياليهن الا من جنابة لكن من غايط وبول ونوم . فقلت هل سمعته يذكر في الهوى شييا قال نعم كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فبينا نحن عنده اذ ناداه اعرابي بصوت له جهوري يا محمد . فاجابه رسول الله صلى الله عليه وسلم على نحو من صوته هاوم وقلنا له ويحك اغضض من صوتك فانك عند النبي صلى الله عليه وسلم وقد نهيت عن هذا . فقال والله لا اغضض . قال الاعرابي المرء يحب القوم ولما يلحق بهم . قال النبي صلى الله عليه وسلم " المرء مع من احب يوم القيامة " . فمازال يحدثنا حتى ذكر بابا من قبل المغرب مسيرة عرضه او يسير الراكب في عرضه اربعين او سبعين عاما قال سفيان قبل الشام خلقه الله يوم خلق السموات والارض مفتوحا يعني للتوبة لا يغلق حتى تطلع الشمس منه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। যির ইবনু হুবাইশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাযিঃ)-এর কাছে আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, জ্ঞানের সন্ধানে। তিনি বললেন, আমি অবগত হয়েছি যে, জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ তার জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। যির (রাহঃ) বলেন, মলমূত্র ত্যাগের পর মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করা প্রসঙ্গে আমার মনে একটা দ্বিধার সঞ্চার হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আপনি এ প্রসঙ্গে কিছু জানেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি হুকুম দিয়েছেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে যেন তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত আমাদের মোজা না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ ও ঘুমানোর কারণেও তা খোলার প্রয়োজন নেই। যির (রাহঃ) বলেন, আমি পুনরায় বললাম, আপনি ভালবাসা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু জানেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। লোকদের একেবারে পেছন হতে এক লোক খুব উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিল। লোকটি নির্বোধ বেদুঈন ও রুক্ষ ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! লোকেরা তাকে বলল, থাম! এভাবে আল্লাহ তা'আলার নবীকে সম্বোধন করতে তোমাকে (কুরআনে) বারণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাকে তার ন্যায় উচ্চস্বরে উত্তর দিলেনঃ আস। লোকটি বলল, এক লোক কোন গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন লোক যাকে ভালবাসে সে তার সাথী হবে। যির (রাহঃ) বলেন, আমার সঙ্গে সাফওয়ান (রাযিঃ) অবিরত কথা বলে যাচ্ছিলেন। পরিশেষে তিনি আমাকে বললেন, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা তাওবার জন্য পাশ্চাত্যে একটি দরজা রেখেছেন, যার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তের ব্যবধান সত্তর বছরের। সূর্য সেদিক হতে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সেই দরজা বন্ধ হবে না। আর সে কথার প্রমাণ প্রাচুর্যময় মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী (অনুবাদ) “এমন একদিন সংঘটিত হবে যে দিন তোমার প্রভুর কিছু নিদর্শন আসবে, সেই দিন কোন লোকের ঈমান তার কাজে আসবে না যে আগে কখনো ঈমান আনেনি”। সানাদ সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا حماد بن زيد، عن عاصم، عن زر بن حبيش، قال اتيت صفوان بن عسال المرادي فقال لي ما جاء بك قلت ابتغاء العلم . قال بلغني ان الملايكة تضع اجنحتها لطالب العلم رضا بما يفعل . قال قلت انه حاك او قال حك في نفسي شيء من المسح على الخفين فهل حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه شييا قال نعم كنا اذا كنا سفرا او مسافرين امرنا ان لا نخلع خفافنا ثلاثا الا من جنابة ولكن من غايط وبول ونوم . قال فقلت فهل حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم في الهوى شييا قال نعم كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره فناداه رجل كان في اخر القوم بصوت جهوري اعرابي جلف جاف فقال يا محمد يا محمد . فقال له القوم مه انك قد نهيت عن هذا . فاجابه رسول الله صلى الله عليه وسلم نحوا من صوته هاوم فقال الرجل يحب القوم ولما يلحق بهم . قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " المرء مع من احب " . قال زر فما برح يحدثني حتى حدثني ان الله جعل بالمغرب بابا عرضه مسيرة سبعين عاما للتوبة لا يغلق حتى تطلع الشمس من قبله وذلك قول الله عز وجل : ( يوم ياتي بعض ايات ربك لا ينفع نفسا ايمانها ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া (মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত) পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবা কবুল করেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু সনদে উক্ত মর্মের একই রকম বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا ابراهيم بن يعقوب، حدثنا علي بن عياش، حدثنا عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان، عن ابيه، عن مكحول، عن جبير بن نفير، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان الله يقبل توبة العبد ما لم يغرغر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، عن عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان، عن ابيه، عن مكحول، عن جبير بن نفير، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بمعناه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার হারানো মাল ফিরে পেলে যতটা আনন্দিত হয়, তোমাদের কারো তাওবায় (ক্ষমা প্রার্থনায়) আল্লাহ তা'আলা তার চাইতে বেশি আনন্দিত হন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৪৭), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ, নুমান ইবনু বাশীর ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদে আবূয যিনাদ হতে বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উক্ত হাদীসটি মাকহুল হতে স্বীয় সনদে আবূ যার (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত
حدثنا قتيبة، حدثنا المغيرة بن عبد الرحمن، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لله افرح بتوبة احدكم من احدكم بضالته اذا وجدها " . قال وفي الباب عن ابن مسعود والنعمان بن بشير وانس . قال وهذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه من حديث ابي الزناد . وقد روي هذا الحديث�� عن مكحول باسناد له عن ابي ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا
। আবূ আইউব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় বলেন, তোমাদের হতে আমি একটি বিষয় লুকিয়ে রেখেছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমি শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা যদি গুনাহ না করতে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা এমন এক দলের আবির্ভাব করতেন যারা গুনাহ করত, তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মাফ করতেন। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ৯৬৭-৯৭০, ১৯৬৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। কুতাইবাহ আবদুর রহমান ইবনু আবূয যিনাদ হতে, তিনি গুফরার মুক্ত দাস উমার হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরায়ী হতে, তিনি আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن محمد بن قيس، قاص عمر بن عبد العزيز عن ابي صرمة، عن ابي ايوب، انه قال حين حضرته الوفاة قد كتمت عنكم شييا سمعته من رسول الله سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لولا انكم تذنبون لخلق الله خلقا يذنبون ويغفر لهم " . قال هذا حديث حسن غريب . وقد روي هذا، عن محمد بن كعب، عن ابي ايوب، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . حدثنا بذلك، قتيبة حدثنا عبد الرحمن بن ابي الرجال، عن عمر، مولى غفرة عن محمد بن كعب، عن ابي ايوب، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১২৭, ১২৮), রাওযুন নাযীর (হাঃ ৪৩২), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৩৩৬), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
حدثنا عبد الله بن اسحاق الجوهري البصري، حدثنا ابو عاصم، حدثنا كثير بن فايد، حدثنا سعيد بن عبيد، قال سمعت بكر بن عبد الله المزني، يقول حدثنا انس بن مالك، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " قال الله يا ابن ادم انك ما دعوتني ورجوتني غفرت لك على ما كان فيك ولا ابالي يا ابن ادم لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتني غفرت لك ولا ابالي يا ابن ادم انك لو اتيتني بقراب الارض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شييا لاتيتك بقرابها مغفرة " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন, তা হতে কেবল একটি রহমত তার সৃষ্টিকুলের মাঝে রেখেছেন, তার মাধ্যমে তারা একে অপরের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। আর বাকি নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৯৩, ৪২৯৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সালমান ও জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সুফিয়ান আল-বাজালী (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " خلق الله ماية رحمة فوضع رحمة واحدة بين خلقه يتراحمون بها وعند الله تسعة وتسعون رحمة " . قال ابو عيسى وفي الباب عن سلمان وجندب بن عبد الله بن سفيان البجلي وهذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুমিন বান্দা অবগত থাকত যে, কি ভীষণ শাস্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে তৈরী রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশের, কামনা করত না। আর যদি কাফির লোক অবগত থাকত যে, আল্লাহর কাছে কি অপরিসীম দয়া রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশে আশাহত হত না। সহীহঃ সহীহাহ (১৬৩৪), বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উক্ত হাদীস আমরা শুধুমাত্র 'আলা ইবনু আবদুর রহমান হতে তাঁর বাবার বরাতে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে অবগত হয়েছি।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لو يعلم المومن ما عند الله من العقوبة ما طمع في الجنة احد ولو يعلم الكافر ما عند الله من الرحمة ما قنط من الجنة احد " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن لا نعرفه الا من حديث العلاء بن عبد الرحمن عن ابيه عن ابي هريرة
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন, সে সময় নিজের হাতে নিজের উপর অনিবার্য করে লিখে নিয়েছেনঃ আমরা রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৮৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن عجلان، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان الله حين خلق الخلق كتب بيده على نفسه ان رحمتي تغلب غضبي " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, সে সময় এক লোক নামায আদায় করে দু'আ করছিল এবং সে তার দু'আয় বলছিলঃ “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই, তুমি পরম অনুগ্রহকারী, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অসীম ক্ষমতাবান ও মহাসম্মানিত।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো আল্লাহ তা'আলার নিকট সে কিসের মাধ্যমে দুআ করেছে? সে আল্লাহ তা'আলার নিকটে তার মহান নাম এর মাধ্যমে দু'আ করেছে। যে নামে দুআ করা হলে তিনি তা কবুল করেন এবং ঐ নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব। আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا محمد بن عبد الله بن ابي الثلج، - رجل من اهل بغداد ابو عبد الله صاحب احمد بن حنبل حدثنا يونس بن محمد، حدثنا سعيد بن زربي، عن عاصم الاحول، وثابت، عن انس، قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد ورجل قد صلى وهو يدعو ويقول في دعايه اللهم لا اله الا انت المنان بديع السموات والارض ذا الجلال والاكرام . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " تدرون بم دعا الله دعا الله باسمه الاعظم الذي اذا دعي به اجاب واذا سيل به اعطى " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من حديث ثابت عن انس . وقد روي من غير هذا الوجه عن انس
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ভূলুষ্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্তু সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে “কিংবা যে কোন একজন” কথাটুকুও আছে। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৯২৭), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৩), নবীর উপর দরূদ পাঠের ফাযীলাত (১৬), মুসলিম হাদীসের শেষ অংশ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। রিবঈ ইবনু ইবরাহীম হলেন ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমের ভাই। তিনি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী এবং ইনি হলেন ইবনু উলাইয়্যাহ (তার মাতার নাম)। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, কোন লোক মাজলিসে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করলে, তারপর যতক্ষণ সে উক্ত মাজলিসে অবস্থান করবে, তা যথেষ্ট হবে।
حدثنا احمد بن ابراهيم الدورقي، حدثنا ربعي بن ابراهيم، عن عبد الرحمن بن اسحاق، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رغم انف رجل ذكرت عنده فلم يصل على ورغم انف رجل دخل عليه رمضان ثم انسلخ قبل ان يغفر له ورغم انف رجل ادرك عنده ابواه الكبر فلم يدخلاه الجنة " . قال عبد الرحمن واظنه قال او احدهما . قال وفي الباب عن جابر وانس وهذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وربعي بن ابراهيم هو اخو اسماعيل بن ابراهيم وهو ثقة وهو ابن علية . ويروى عن بعض اهل العلم قال اذا صلى الرجل على النبي صلى الله عليه وسلم مرة في المجلس اجزا عنه ما كان في ذلك المجلس
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৃপণ সেই লোক যার কাছে আমার আলোচনা করা হয় অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ে না। সহীহঃ মিশকাত (৯৩৩), সালাতের ফাযীলাত (১৪/৩১-৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا يحيى بن موسى، وزياد بن ايوب، قالا حدثنا ابو عامر العقدي، عن سليمان بن بلال، عن عمارة بن غزية، عن عبد الله بن علي بن حسين بن علي بن ابي طالب، عن ابيه، عن حسين بن علي بن ابي طالب، عن علي بن ابي طالب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البخيل الذي من ذكرت عنده فلم يصل على " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে বরফ, শিশির ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা শীতল করে দাও। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে গুনাহ হতে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করেছে।" সহীহঃ মুসলিম (২/৭৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا احمد بن ابراهيم الدورقي، حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، عن الحسن بن عبيد الله، عن عطاء بن السايب، عن عبد الله بن ابي اوفى، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " اللهم برد قلبي بالثلج والبرد والماء البارد اللهم نق قلبي من الخطايا كما نقيت الثوب الابيض من الدنس " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দু'আর দরজা খুলে দেয়া হল, মূলত তার জন্য রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হল। আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু কামনা করা হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়। যঈফ, মিশকাত (২২৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ যে বিপদ-আপদ এসেছে আর যা (এখনও) আসেনি তাতে দু'আয় কল্যাণ হয়। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দু’আকে আবশ্যিক করে নাও। হাসান, মিশকাত (২৫৩৯) তা’লীকুর রাগীব, (২/২৭২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি আমরা শুধু আবদুর রহমান ইবনু আবু বাকর আল কুরাইশীর সুত্রেই জেনেছি। তিনি আল মাক্কী ও আল-মুলাইকী হিসেবেও পরিচিত। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। কতক হাদীসবিদ তার স্মরণশক্তির কারণে তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইসরাঈল এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর হতে তিনি মূসা ইবনু উকবা হতে তিনি নাফি হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ .... "আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু চাওয়া হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়”। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনু দীনার আল-কুকী হতে তিনি ইসহাক ইবনু মানসূর আল-কূফী হতে তিনি ইসরাঈল (রহঃ) সুত্রে।
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا يزيد بن هارون، عن عبد الرحمن بن ابي بكر القرشي المليكي، عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من فتح له منكم باب الدعاء فتحت له ابواب الرحمة وما سيل الله شييا يعني احب اليه من ان يسال العافية " . وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الدعاء ينفع مما نزل ومما لم ينزل فعليكم عباد الله بالدعاء " . قال هذا حديث غريب . لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن ابي بكر القرشي وهو المكي المليكي وهو ضعيف في الحديث ضعفه بعض اهل العلم من قبل حفظه . وقد روى اسراييل، هذا الحديث عن عبد الرحمن بن ابي بكر، عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما سيل الله شييا احب اليه من العافية
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের নিত্য আচরণ ও প্রথা। রাতের ইবাদাত আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং দেহের রোগ দূরকারী। যঈফ, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত (১২২৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু বিলাল (রাঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে জেনেছি। সনদসূত্রের দিক হতে এটি সহীহ নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ আল-কুরাশী হলেন মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আশ-শামী। ইবনু আবূ কাইস হলেন মুহাম্মাদ ইবনু হাসসান এবং তার হাদীস বাদ দেয়া হয়েছে। মুআবিয়া ইবনু সালিহ (রাহঃ) এ হাদীস রবীআ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি আবূ ইদরীস আল-খাওলানী হতে তিনি আবূ উমামা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা উহা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়নগণের অভ্যাস, আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপ কর্মের প্রতিবন্ধক" আবূ ঈসা বলেন, এই বর্ণনাটি ইদরীসের সূত্রে বিলালের বর্ণনা হতে অধিকতর সহীহ। হাসান, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত
حدثنا بذلك القاسم بن دينار الكوفي حدثنا اسحاق بن منصور الكوفي عن اسراييل بهذا . حدثنا احمد بن منيع، حدثنا ابو النضر، حدثنا بكر بن خنيس، عن محمد القرشي، عن ربيعة بن يزيد، عن ابي ادريس الخولاني، عن بلال، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " عليكم بقيام الليل فانه داب الصالحين قبلكم وان قيام الليل قربة الى الله ومنهاة عن الاثم وتكفير للسييات ومطردة للداء عن الجسد " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه من حديث بلال الا من هذا الوجه ولا يصح من قبل اسناده . قال سمعت محمد بن اسماعيل يقول محمد القرشي هو محمد بن سعيد الشامي وهو ابن ابي قيس وهو محمد بن حسان وقد ترك حديثه . وقد روى هذا الحديث معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد عن ابي ادريس الخولاني عن ابي امامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال " عليكم بقيام الليل فانه داب الصالحين قبلكم وهو قربة الى ربكم ومكفرة للسييات ومنهاة للاثم " . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث ابي ادريس عن بلال