Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৩৫ হাদিসসমূহ
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাউদ (আঃ)-এর দু'আসমূহের একটি হল এই যে, তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার ভালোবাসা এবং যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা প্রার্থনা করি এবং এমন আমল করার সামর্থ্য চাই যা তোমার ভালোবাসা লাভ করা পর্যন্ত পৌছে দিবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার নিজের জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও ঠান্ডা পানির চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।” রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই দাউদ (আঃ)-এর আলোচনা করতেন তখনই তার প্রসঙ্গে বলতেনঃ তিনি সকল লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন। হাদীসে বর্ণিত, “দাউদ (আঃ) সমস্ত লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন” এই অংশটুকু মুসলিমে ইবনু উমার হতে বর্ণিত আছে। বাকী অংশ যঈফ, সহীহা (৭০৭), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا ابو كريب، حدثنا محمد بن فضيل، عن محمد بن سعد الانصاري، عن عبد الله بن ربيعة الدمشقي، حدثنا عايذ الله ابو ادريس الخولاني، عن ابي الدرداء، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كان من دعاء داود يقول اللهم اني اسالك حبك وحب من يحبك والعمل الذي يبلغني حبك اللهم اجعل حبك احب الى من نفسي واهلي ومن الماء البارد " . قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ذكر داود يحدث عنه قال " كان اعبد البشر " . قال هذا حديث حسن غريب
। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-খাতমী আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু'আয় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে তোমার ভালোবাসা দান কর এবং ঐ ব্যক্তির ভালোবাসাও দান কর যার ভালোবাসা তোমার নিকটে আমার উপকারে আসবে। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আমাকে দান করেছ এটিকে আমার শক্তিতে পরিণত কর, তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আটকে রেখেছ সেটিকে তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য আমার অবকাশ বা সুযোগে পরিণত কর"। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ জাফর আল-খাতমীর নাম উমাইর, পিতা ইয়াযীদ এবং দাদা খুমাশা।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابن ابي عدي، عن حماد بن سلمة، عن ابي جعفر الخطمي، عن محمد بن كعب القرظي، عن عبد الله بن يزيد الخطمي الانصاري، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه كان يقول في دعايه " اللهم ارزقني حبك وحب من ينفعني حبه عندك اللهم ما رزقتني مما احب فاجعله قوة لي فيما تحب اللهم وما زويت عني مما احب فاجعله لي فراغا فيما تحب " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وابو جعفر الخطمي اسمه عمير بن يزيد بن خماشة
। শাকাল ইবনু হুমাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি বাক্য শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি (আল্লাহ তা'আলার নিকটে) আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার হাত ধরে তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার কানের অনিষ্ট, আমার চোখের (দৃষ্টির) অনিষ্ট, আমার জিহবার (কথার) অনিষ্ট, আমার মনের অনিষ্ট এবং আমার বীর্য অর্থাৎ লজ্জাস্থানের অনিষ্ট হতে”। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৪৭২), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র সাদ ইবনু আওস-এর বরাতে বিলাল ইবনু ইয়াহইয়া হতে অবগত হয়েছি।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا ابو احمد الزبيري، حدثنا سعد بن اوس، عن بلال بن يحيى العبسي، عن شتير بن شكل، عن ابيه، شكل بن حميد قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله علمني تعوذا اتعوذ به . قال فاخذ بكتفي فقال " قل اللهم اني اعوذ بك من شر سمعي ومن شر بصري ومن شر لساني ومن شر قلبي ومن شر منيي " . يعني فرجه . قال هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث سعد بن اوس عن بلال بن يحيى
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশেই আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। রাতে আমি তাকে (বিছানা হতে) হারিয়ে ফেললাম। তাই (অন্ধকারে) তাকে আমি খুঁজতে থাকলাম। আমার হস্ত তার দু'পায়ের উপরে পড়ল। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তিনি বলছিলেনঃ “(হে আল্লাহ), আমি তোমার অখুশি হতে তোমার খুশির আশ্রয় চাই, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করা আমার সাধ্যাতীত, তুমি তেমন গুণেই গুণান্বিত যেভাবে তুমি নিজের গুণ উল্লেখ করেছ”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কুতাইবাহ-লাইস হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আরো আছেঃ “আমি তোমার (শাস্তি) হতে তোমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করতে আমি অক্ষম।”
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن ابراهيم التيمي، ان عايشة، قالت كنت نايمة الى جنب رسول الله صلى الله عليه وسلم ففقدته من الليل فلمسته فوقعت يدي على قدميه وهو ساجد وهو يقول " اعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عقوبتك لا احصي ثناء عليك انت كما اثنيت على نفسك " . قال هذا حديث حسن قد روي من غير وجه عن عايشة . حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يحيى بن سعيد، بهذا الاسناد نحوه . وزاد فيه " واعوذ بك منك لا احصي ثناء عليك
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এ দু'আটি রাসূলুল্লাহঃ তাদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের কোন সূরা তাদেরকে শিক্ষা দিতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের শাস্তি হতে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা হতে। তোমার নিকট আমি আরো আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن ابي الزبير المكي، عن طاوس اليماني، عن عبد الله بن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعلمهم هذا الدعاء كما يعلمهم السورة من القران " اللهم اني اعوذ بك من عذاب جهنم ومن عذاب القبر واعوذ بك من فتنة المسيح الدجال واعوذ بك من فتنة المحيا والممات " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح [غريب]
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল বাক্য দিয়ে দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাইঃ জাহান্নামের বিপর্যয় ও জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি হতে, প্রাচুর্যের বিপর্যয়কর অনিষ্ট হতে, দরিদ্রতার বিপর্যয়কর অকল্যাণ হতে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফ-শিলা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেল, আমার মনকে সকল পাপ হতে পরিচ্ছন্ন কর যেমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেছ সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে এবং আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এতটা ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও যতটা ব্যবধান তুমি সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য, গুনাহে প্রলুব্ধকর বস্তু ও ঋণগ্রস্ততা হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة بن سليمان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعو بهولاء الكلمات " اللهم اني اعوذ بك من فتنة النار وعذاب النار وعذاب القبر وفتنة القبر ومن شر فتنة الغنى ومن شر فتنة الفقر ومن شر فتنة المسيح الدجال اللهم اغسل خطاياى بماء الثلج والبرد وانق قلبي من الخطايا كما انقيت الثوب الابيض من الدنس وباعد بيني وبين خطاياى كما باعدت بين المشرق والمغرب اللهم اني اعوذ بك من الكسل والهرم والماثم والمغرم " . قال هذا حديث حسن صحيح
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার মৃত্যুবরণ কালে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং সুমহান সঙ্গীর সঙ্গে আমাকে মিলিত করুন"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هارون بن اسحاق، حدثنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن عباد بن عبد الله بن الزبير، عن عايشة، قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عند وفاته " اللهم اغفر لي وارحمني والحقني بالرفيق الاعلى " . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলেঃ “হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে মাফ কর। হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমার প্রতি দয়া কর।” বরং সে যেন পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে কামনা করে। কেননা আল্লাহ তা'আলার উপর জবরদস্তকারী কেউ নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يقول احدكم اللهم اغفر لي ان شيت اللهم ارحمني ان شيت ليعزم المسالة فانه لا مكره له " . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে আমাদের প্রভু দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “আমার কাছে যে দুআ করবে তার দুআ আমি কবুল করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট (কিছু) প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দিব। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ৪৪৬ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহ আল-আগার-এর নাম সালমান। এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ, জুবাইর ইবনু মুত্ব'ইম, রিফা'আহ আল-জুহানী, আবূদ দারদা ও উসমান ইবনু আবীল ‘আস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن ابي عبد الله الاغر، وعن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ينزل ربنا كل ليلة الى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الاخر فيقول من يدعوني فاستجيب له ومن يسالني فاعطيه ومن يستغفرني فاغفر له " . قال هذا حديث حسن صحيح . وابو عبد الله الاغر اسمه سلمان . قال وفي الباب عن علي وعبد الله بن مسعود وابي سعيد وجبير بن مطعم ورفاعة الجهني وابي الدرداء وعثمان بن ابي العاصي
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দুআ বেশি (শোনা) গ্রহণযোগ্য হয়? তিনি বললেনঃ শেষ রাতের মাঝ ভাগের এবং ফরয নামাযগুলোর পরবর্তী দুআ। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৭৬), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১১৩/৭০), তাহকীক সানী। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আবূ যার ও ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ ... “শেষ রাতের দু'আ বেশি উত্তম এবং কবুল হওয়ার আশা করা যায় কিংবা এরূপ কিছু বলেছেন”।
حدثنا محمد بن يحيى الثقفي المروزي، حدثنا حفص بن غياث، عن ابن جريج، عن عبد الرحمن بن سابط، عن ابي امامة، قال قيل يا رسول الله اى الدعاء اسمع قال " جوف الليل الاخر ودبر الصلوات المكتوبات " . قال هذا حديث حسن . وقد روي عن ابي ذر وابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " جوف الليل الاخر الدعاء فيه افضل او ارجى " . او نحو هذا
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আজ রাতে আমি আপনার দু'আ শুনেছি। আমি তা হতে যা মনে রাখতে পেরেছি তা এই যে, আপনি বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার ঘর প্রশস্ত কর এবং তুমি আমাকে যে রিযিক দিয়েছ তাতে বারকাত দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, এ দু'আ কিছু বাদ দিয়েছে। যঈফ, দু'আট হাসান। রাওয়ূন নাযীর (১১৬৭), গায়াতুল মারাম (১১২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূ সালীলের নাম যুরাইব, পিতা নুকাইর অথবা নুফাইর।
حدثنا علي بن حجر، حدثنا عبد الحميد بن عمر الهلالي، عن سعيد بن اياس الجريري، عن ابي السليل، عن ابي هريرة، ان رجلا، قال يا رسول الله سمعت دعاءك الليلة فكان الذي وصل الى منه انك تقول " اللهم اغفر لي ذنبي ووسع لي في رزقي وبارك لي فيما رزقتني " . قال " فهل تراهن تركن شييا " . قال هذا حديث غريب . وابو السليل اسمه ضريب بن نفير ويقال ابن نقير
। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকাল বেলায় উপনীত হয়ে বলে হে আল্লাহ। আমরা ভোরে উপনীত হলাম, আমরা তোমাকে সাক্ষী বানালাম, আরও সাক্ষী বানালাম তোমার আরশ বহনকারীদেরকে এবং তোমার ফিরিশতাগণকে ও তোমার সকল সৃষ্টিকে এই বিষয়ে যে, তুমিই অংশীদার নেই এবং মুহাম্মাদ তোমার বান্দা ও রাসূল", আল্লাহ তা'আলা তার সে দিনে সম্পাদিত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। আর সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে ঐ কথা বলে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার সেই রাতের কৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। যঈফ, আলকালিমুত তায়্যিব (২৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (২৩৯৮), যঈফা (১০৪১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا حيوة بن شريح، وهو ابن يزيد الحمصي عن بقية بن الوليد، عن مسلم بن زياد، قال سمعت انسا، يقول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قال حين يصبح اللهم اصبحنا نشهدك ونشهد حملة عرشك وملايكتك وجميع خلقك بانك الله لا اله الا انت وحدك لا شريك لك وان محمدا عبدك ورسولك . الا غفر الله له ما اصاب في يومه ذلك وان قالها حين يمسي غفر الله له ما اصاب في تلك الليلة من ذنب " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب
। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে তার সাহাবীগণের জন্য দু'আ না করে হঠাৎ কোন মাজলিস হতে খুব কমই বিদায় হতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে তুমি এত পরিমাণ আল্লাহভীতি ভাগ কর যা আমাদের মাঝে ও তোমার প্রতি অবাধ্যাচারী হওয়ার মাঝে বাধা হতে পারে এবং আমাদের মাঝে তোমার প্রতি আনুগত্য এত পরিমাণ প্রদান কর যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌছে দিবে, এতটা দৃঢ় প্রত্যয় প্রদান কর যার মাধ্যমে তুমি পৃথিবীর যে কোন অনিষ্ট আমাদের জন্য সহজসাধ্য করবে, যতক্ষণ আমাদের তুমি জীবিত রাখ ততক্ষণ আমাদের কৰ্ণ, আমাদের চক্ষু ও আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে আমাদের জীবনোপকরণ দান কর (কিংবা আমাদের চোখ-কান মৃত্যু পর্যন্ত তাজা ও সুস্থ রাখ), আর তাকে আমাদের উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও। আমাদের উপর যে যুলুম করে তার প্রতি আমাদের প্রতিশোধ সুনির্ধারিত কর, আমাদের প্রতি যে দুশমনী করে তার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সহযোগিতা কর, আমাদের ধর্ম পালনে আমাদেরকে বিপদাক্রান্ত করো না, দুনিয়া অর্জনকে আমাদের ও আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশে রূপান্তর করো না এবং আমাদের প্রতি যে দয়া করবে না তাকে আমাদের উপর প্রভাবশালী (শাসক নিয়োগ) করো না”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২৫/১৬৯), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৪৯২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু আবী ইমরান হতে, তিনি নাফি' হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا ابن المبارك، اخبرنا يحيى بن ايوب، عن عبيد الله بن زحر، عن خالد بن ابي عمران، ان ابن عمر، قال قلما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم من مجلس حتى يدعو بهولاء الكلمات لاصحابه " اللهم اقسم لنا من خشيتك ما يحول بيننا وبين معاصيك ومن طاعتك ما تبلغنا به جنتك ومن اليقين ما تهون به علينا مصيبات الدنيا ومتعنا باسماعنا وابصارنا وقوتنا ما احييتنا واجعله الوارث منا واجعل ثارنا على من ظلمنا وانصرنا على من عادانا ولا تجعل مصيبتنا في ديننا ولا تجعل الدنيا اكبر همنا ولا مبلغ علمنا ولا تسلط علينا من لا يرحمنا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد روى بعضهم هذا الحديث عن خالد بن ابي عمران عن نافع عن ابن عمر
। মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমাকে বলতে শুনলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুশ্চিন্তা, অলসতা ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! এটা তুমি কার নিকট শুনেছ? আমি বললাম, আমি এ বাক্যগুলো আপনাকেই বলতে শুনেছি। তিনি বললেন, তোমার জন্য এগুলোকে আবশ্যকীয় করে নাও। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ শব্দগুলো বলতে শুনেছি। সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عاصم، حدثنا عثمان الشحام، حدثني مسلم بن ابي بكرة، قال سمعني ابي، وانا اقول اللهم، اني اعوذ بك من الهم والكسل وعذاب القبر . قال يا بنى ممن سمعت هذا قال قلت سمعتك تقولهن . قال الزمهن فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولهن . قال هذا حديث حسن [صحيح][غريب]
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না, যেগুলো তুমি বললে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করবেন, যদিও তুমি ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি বললেন, তুমি বলঃ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সম্মান সম্পন্ন, অতি মহান। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সহনশীল, অতি দয়ালু। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি পবিত্র, তিনি মহান আরশের মালিক"। আলী ইবনু খাশরাম (রাহঃ) বলেনঃ আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট একই রকম,হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হাদীসের শেষে বলেছেনঃ "আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক)। যঈফ, রাওযুন নায়ীর (৬৭৯-৭১৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ ইসহাক-আল-হারিস-আলী (রাঃ) সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا الفضل بن موسى، عن الحسين بن واقد، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، رضى الله عنه قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا اعلمك كلمات اذا قلتهن غفر الله لك وان كنت مغفورا لك " . قال " قل لا اله الا الله العلي العظيم لا اله الا الله الحليم الكريم لا اله الا الله سبحان الله رب العرش العظيم " . قال علي بن خشرم واخبرنا علي بن الحسين بن واقد، عن ابيه، بمثل ذلك الا انه قال في اخرها " الحمد لله رب العالمين " . قال هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه من حديث ابي اسحاق عن الحارث عن علي
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নবী যুন-নূন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু'আ করেছিলেন তা হলঃ “তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত"- (সূরা আম্বিয়া ৮৭)। যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দু'আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ কবুল করেন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১২২/৭৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭৫, ৩/৪৩), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৯২)। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ কখনো বলেন, ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে। এ হাদীস একাধিক বর্ণনাকারী ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে, তিনি ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে তিনি সা'দ হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে “আন আবীহি" (তার বাবা হতে) উল্লেখ করেননি। কতিপয় বর্ণনাকারী, যেমন আবূ আহমাদ আয-যুবাইরী-ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে তারপর তারা প্রত্যেকে-ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ হতে তার বাবা সা'দ (রাযিঃ)-এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফের বর্ণনার মতই উল্লেখ করেছেন। ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক কখনো কখনো এ হাদীসটির সনদে “আন আবীহি" উল্লেখ করতেন। আবার কখনো তা উল্লেখ করেননি।
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا يونس بن ابي اسحاق، عن ابراهيم بن محمد بن سعد، عن ابيه، عن سعد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعوة ذي النون اذ دعا وهو في بطن الحوت لا اله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين . فانه لم يدع بها رجل مسلم في شيء قط الا استجاب الله له " . قال محمد بن يحيى قال محمد بن يوسف مرة عن ابراهيم بن محمد بن سعد، عن سعد، . قال ابو عيسى وقد روى غير، واحد، هذا الحديث عن يونس بن ابي اسحاق، عن ابراهيم بن محمد بن سعد، عن سعد، ولم يذكروا فيه عن ابيه، . وروى بعضهم، عن يونس بن ابي اسحاق، فقالوا عن ابراهيم بن محمد بن سعد، عن ابيه، عن سعد، وكان، يونس بن ابي اسحاق ربما ذكر في هذا الحديث عن ابيه، وربما، لم يذكره
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি নাম আছে অর্থাৎ এক কম এক শত। যে লোক এই নামসমূহ মুখস্থ করবে বা পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮), বুখারী ও মুসলিম। ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ বলেন, আব্দুল আলা হিশাম ইবনু হাসসান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا يوسف بن حماد البصري، حدثنا عبد الاعلى، عن سعيد، عن قتادة، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان لله تسعة وتسعين اسما ماية غير واحد من احصاها دخل الجنة " . قال يوسف وحدثنا عبد الاعلى، عن هشام بن حسان، عن محمد، عن ابي هريرة، رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم . هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম আছে অর্থাৎ এক কম এক শত। যে ব্যক্তি তা গণনা (মুখস্ত) করবে সে জান্নাতে যাবে। তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি আর-রহমান (মহান দয়ালু), আর-রহীমু (অসীম করুণাময়), আল-মালিকু (স্বত্বাধিকারী), আল-কুদ্দুসু (মহাপবিত্র), আস-সালামু (অধিক শান্তিদাতা), আল-মু'মিনু (নিরাপত্তাদানকারী), আল-মুহাইমিনু (চিরসাক্ষী), আল-আযীযু (মহাপরাক্রমশালী), আল-জাব্বারু (মহাশক্তিধর), আল-মুতাকাব্বিরু (মহাগৌরবান্বিত), আল-খালিকু (স্রষ্টা), আল-বারিউ (সৃজনকর্তা), আল-মুসাব্বির (অবয়বদানকারী), আল-গাফফারু (ক্ষমাকারী), আল-কাহহারু (শাস্তিদাতা), আল-ওয়াহহাবু (মহান দাতা), আর-রাযযাকু (রিযিকদাতা), আল-ফাত্তাহ (মহাবিজয়ী), আল-আলীমু (মহাজ্ঞানী), আল-কাবিযু (হরণকারী), আল-বাসিতু (সম্প্রসারণকারী), আল-খাফিযু (অবনতকারী), আর-রাফিউ (উন্নতকারী), আল-মুইয্যু (ইজ্জতদাতা), আল-মুযিলু (অপমানকারী), আস-সামীউ (শ্রবণকারী), আল-বাহীরু (মহাদ্রষ্টা), আল-হাকামু (মহাবিচারক), আল-আদলু (মহান্যায়পরায়ণ), আল-লাতীফু (সূক্ষ্মদৰ্শী), আল-খাবীবু (মহা সংবাদরক্ষক), আল-হালীমু (মহাসহিষ্ণু), আল-আযামু (মহান), আল-গাফুরু (মহাক্ষমাশীল), আশ-শাকুরু (কৃতজ্ঞতাপ্রিয়), আল-আলীয়ু (মহা উন্নত), আল-কাবীর (অতীব মহান), আল-হাফীজু (মহারক্ষক), আল-মুকীতু (মহাশক্তিদাতা), আল-হাসীবু (হিসাব গ্রহণকারী), আল-জালীলু (মহামহিমান্বিত), আল-কারীমু (মহাঅনুগ্রহশীল), আর-রাকী বু (মহাপর্যবেক্ষক), আল-মুজীবু (কুবুলকারী), আল-ওয়াসিউ (মহাবিস্তারক), আল-হাকীমু (মহাবিজ্ঞ), আল-ওয়াদুদু (মহত্তম বন্ধু), আল-মাজীদু (মহাগৌরবান্বিত), আল-বাইছু (পুনরুত্থানকারী), আশ-শাহীদু (সর্বদশী), আল-হাক্ক (মহাসত্য), আল-ওয়াকীল (মহাপ্রতিনিধি), আল-কাবিয়ু (মহাশক্তিধর), আল-মাতীৰু (দৃঢ় শক্তির অধিকারী), আল-ওয়ালিয়ু (মহাঅভিভাবক), আল-হামীদু (মহাপ্রশংসিত), আল-মুহসিয়ু (পুখানুপুঙ্খ হিসাব সংরক্ষণকারী), আল-মুবদিও (সৃষ্টির সূচনাকারী), আল-মুঈদু (পুনরুত্থানকারী), আল-হাইয়ু (চিরঞ্জাব), আল-কাইয়ুম (চিরস্থায়ী), আল মুহয়ী (জীবনদাতা), আল-মুমীতু (মৃত্যুদাতা), আল-ওয়াজিদু (ইচ্ছামাত্র সম্পাদনকারী), আল-মাজিদু (মহাগৌরবান্বিত), আল-ওয়াহিদু (একক), আস-সামাদু (স্বয়ংসম্পূর্ণ), আল-কাদিরু (সর্বশক্তিমান), আল-মুকতাদিরু (মহাক্ষমতাবান), আল-মুকাদিমু (অগ্রসরকারী), আল-মুআখখির (বিলম্বকারী), আল-আওয়ালু (অনাদি), আল-আখিরু (অনন্ত), আয-যাহিরু (প্রকাশ্য), আল-বাতিনু (লুকায়িত), আল-ওয়ালিউ (অধিপতি), আল-মুতাআলী (চিরউন্নত), আল-বাররু (কল্যাণদাতা), আত-তাওওয়াবু (তাওবা কুবুলকারী), আল-মুনতাকিমু (প্রতিশোধ গ্রহণকারী), আল-আফুকবু (ক্ষমাকারী, উদারতা প্রদর্শনকারী), আর-রাউফু (অতিদয়ালু), মালিকুল মুলকি (সার্বভৌমত্বের মালিক), যুলজালালি ওয়াল ইকরাম (গৌরব ও মহত্বের অধিকারী), আল-মুকসিতু (ন্যায়বান), আল-জামিউ (সমবেতকারী), আল-গানিয়ু (ঐশ্বর্যশালী), আল-মুগনিয়ু (ঐশ্বৰ্যদাতা), আল-মানিউ (প্রতিরোধকারী), আয-যাররু (অনিষ্টকারী), আন-নাফিউ (উপকারকারী), আন-নূরু (আলো), আল-হাদিউ (পথপ্রদর্শক), আল-বাদীউ (সূচনাকারী), আল-বাকিউ (চিরবিরাজমান), আল-ওয়ারিস (স্বত্বাধিকারী), আর-রাশীদ (সৎপথে চালনাকারী), আস-সাবুরু (মহা ধৈর্যশীল)। নাম সমূহ উল্লেখে হাদীসটি দুর্বল। প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একাধিক রাবী এ হাদীস সাফওয়ান ইবনু সালিহ্-এর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আমরা শুধু সাফওয়ান ইবনু সালিহ্-এর সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। উক্ত হাদীস আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিন্নরূপেও বর্ণিত হয়েছে। আমরা ঐ একটি হাদীস ব্যতীত অধিক সংখ্যক হাদীসের মাধ্যমে যার সনদ সূত্র সহীহ। আল্লাহ্ তা'আলার নামসমূহ প্রসঙ্গে অবগত নই। অবশ্য আদম ইবনু আবূ ইয়াস এ হাদীস ভিন্ন সনদসূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আল্লাহ্ তা'আলার নামসমূহ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার সনদসূত্র সহীহ নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮)। এ হাদীসে সেই নামগুলোর উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان لله تسعة وتسعين اسما من احصاها دخل الجنة " . قال وليس في هذا الحديث ذكر الاسماء . قال وهذا حديث حسن صحيح . رواه ابو اليمان عن شعيب بن ابي حمزة عن ابي الزناد ولم يذكر فيه الاسماء
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখনই জান্নাতের বাগানসমূহ পার হতে যাবে তখনই ওখান হতে পাকা ফল সংগ্রহ করবে। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগানসমূহ কি? তিনি বললেনঃ মসজিদসমূহ। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পাকা ফল সংগ্রহ করার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ "সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ মহাপবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান) বলা। যঈফ, যঈফা (১১৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا ابراهيم بن يعقوب، حدثنا زيد بن حباب، ان حميدا المكي، مولى ابن علقمة حدثه ان عطاء بن ابي رباح حدثه عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا مررتم برياض الجنة فارتعوا " . قلت يا رسول الله وما رياض الجنة قال " المساجد " . قلت وما الرتع يا رسول الله قال " سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
حدثنا ابراهيم بن يعقوب الجوزجاني، حدثني صفوان بن صالح، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا شعيب بن ابي حمزة، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان لله تعالى تسعة وتسعين اسما ماية غير واحدة من احصاها دخل الجنة هو الله الذي لا اله الا هو الرحمن الرحيم الملك القدوس السلام المومن المهيمن العزيز الجبار المتكبر الخالق الباري المصور الغفار القهار الوهاب الرزاق الفتاح العليم القابض الباسط الخافض الرافع المعز المذل السميع البصير الحكم العدل اللطيف الخبير الحليم العظيم الغفور الشكور العلي الكبير الحفيظ المقيت الحسيب الجليل الكريم الرقيب المجيب الواسع الحكيم الودود المجيد الباعث الشهيد الحق الوكيل القوي المتين الولي الحميد المحصي المبدي المعيد المحيي المميت الحى القيوم الواجد الماجد الواحد الصمد القادر المقتدر المقدم الموخر الاول الاخر الظاهر الباطن الوالي المتعالي البر التواب المنتقم العفو الرءوف مالك الملك ذو الجلال والاكرام المقسط الجامع الغني المغني المانع الضار النافع النور الهادي البديع الباقي الوارث الرشيد الصبور " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب حدثنا به غير واحد عن صفوان بن صالح . ولا نعرفه الا من حديث صفوان بن صالح وهو ثقة عند اهل الحديث . وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا نعلم - في كبير شيء من الروايات له اسناد صحيح ذكر الاسماء الا في هذا الحديث . وقد روى ادم بن ابي اياس هذا الحديث باسناد غير هذا عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وذكر فيه الاسماء وليس له اسناد صحيح