Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হলঃ “যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি..."— (সূরা আল-আনআম ৮২), তখন মুসলিমদের নিকট তা খুবই কঠিন মনে হল। তাই তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর যুলুম করেনি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিষয়টি আসলে তা নয়। এখানে যুলুম অর্থ হল শিরক। তোমরা কি শুনোনি যা লোকমান তার ছেলেকে বলেছিলেনঃ “হে পুত্র! আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না। নিশ্চয়ই শিরক অতি বড় যুলুম”— (সূরা লোকমান ১৩)। সহীহঃ বুখারী (৪৬২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال : لما نزلت: ( الذين امنوا ولم يلبسوا ايمانهم بظلم ) شق ذلك على المسلمين فقالوا يا رسول الله واينا لا يظلم نفسه . قال " ليس ذلك انما هو الشرك الم تسمعوا ما قال لقمان لابنه : ( يا بني لا تشرك بالله ان الشرك لظلم عظيم ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর নিকটে হেলান দিয়ে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ আয়িশাহ! তিনটি বিষয় এমন যে, কোন ব্যক্তি এগুলোর কোনটি বললে সে আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ (মিথ্যা) অপবাদ চাপালো। যে ব্যক্তি এ ধারণা পোষণ করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দেখেছেন, সে আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “দৃষ্টিসমূহ তাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, কিন্তু তিনি দৃষ্টিসমূহকে অনুধাবণ করেন। তিনি অতিশয় সূক্ষ্মদশী, সম্যক ওয়াকিফহাল"- (সূরা আল-আন’আম ১০৩); “কোন মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত”– (সূরা আশ-শূরা ৫১)। আমি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম। আমি উঠে সোজা হয়ে বসে বললাম, হে উন্মুল মু'মিনীন থামুন, আমাকে বলার সুযোগ দিন, তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহ তা'আলা কি বলেননি? “নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল"- (সূরা আন-নাজমঃ ১৩)। সে তো তাকে উজ্জ্বল দিগন্তে দেখেছে"- (সূরা আত-তাকবীর ২৩)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেনঃ সে তো জিবরীল। আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে এ দু'বারই দেখেছি। আমি তাকে আসমান হতে অবতরণ করতে দেখেছি। তার দেহাবয়ব এতো প্রকাণ্ড যে, তা আসমান ও যামীনের মাঝখানের সবটুকু স্থান ঢেকে ফেলেছিল। (দুই) যে ব্যক্তি এ ধারণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তার কিছুটা গোপন করেছেন, সেও আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা (লোকদের নিকট) পৌছে দাও..." (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৬৭)। (তিন) যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আগামী কাল কি ঘটবে তিনি (মুহাম্মাদ) তা জানেন, সেও আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ মিথ্যারোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “বল, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আসমান-যামীনে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না”— (সূরা আন-নামল ৬৫)। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাসরুক ইবনুল আজদার ডাকনাম আবূ আয়িশাহ। তিনি হলেন মাসরুক ইবনু আবদুর রহমান।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسحاق بن يوسف الازرق، حدثنا داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن مسروق، قال كنت متكيا عند عايشة فقالت يا ابا عايشة ثلاث من تكلم بواحدة منهن فقد اعظم على الله الفرية من زعم ان محمدا راى ربه فقد اعظم الفرية على الله والله يقول : ( لا تدركه الابصار وهو يدرك الابصار وهو اللطيف الخبير ) ، ( ما كان لبشر ان يكلمه الله الا وحيا او من وراء حجاب ) وكنت متكيا فجلست فقلت يا ام المومنين انظريني ولا تعجليني اليس يقول الله : ( ولقد راه نزلة اخرى )، ( ولقد راه بالافق المبين ) قالت انا والله اول من سال عن هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انما ذاك جبريل ما رايته في الصورة التي خلق فيها غير هاتين المرتين رايته منهبطا من السماء سادا عظم خلقه ما بين السماء والارض " . ومن زعم ان محمدا كتم شييا مما انزل الله عليه فقد اعظم الفرية على الله يقول الله : ( يا ايها الرسول بلغ ما انزل اليك من ربك ) ومن زعم انه يعلم ما في غد فقد اعظم الفرية على الله والله يقول : (قل لا يعلم من في السموات والارض الغيب الا الله ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح ومسروق بن الاجدع يكنى ابا عايشة وهو مسروق بن عبد الرحمن وهكذا كان اسمه في الديوان
। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কয়েকজন লোক এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা হত্যা করি তা খাবো আর আল্লাহ তা'আলা যা হত্যা করেন তা খাবো না? তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ‘তোমরা তার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাসী হলে যার উপর আল্লাহ তা'আলার নাম নেয়া হয়েছে তা হতে খাও... তোমরা যদি তাদের কথামত চল তবে অবশ্যই তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে" (সূরা আল-আনআম ১১৮-১২১)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২০৫৮, ২০৫৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে আতা ইবনু সায়িব হতে, তিনি সা’ঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن موسى البصري الحرشي، حدثنا زياد بن عبد الله البكايي، حدثنا عطاء بن السايب، عن سعيد بن جبير، عن عبد الله بن عباس، قال اتى اناس النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله اناكل ما نقتل ولا ناكل ما يقتل الله فانزل الله ( فكلوا مما ذكر اسم الله عليه ان كنتم باياته مومنين ) الى قوله : (وان اطعتموهم انكم لمشركون ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه عن ابن عباس ايضا ورواه بعضهم عن عطاء بن السايب عن سعيد بن جبير عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যে সহীফার (ক্ষুদ্র পুস্তিকা) উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহরাংকিত রয়েছে তার দেখা যাকে আনন্দ দেয় সে যেন এ আয়াতগুলো পাঠ করেঃ “বল! এসো, পড়ে শুনাই তোমাদের জন্য রব যা হারাম করেছেন তা। এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সর্তক হও" (সূরা আল-আনআম- ১৫১-১৫৩)। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا الفضل بن الصباح البغدادي، حدثنا محمد بن فضيل، عن داود الاودي، عن الشعبي، عن علقمة، عن عبد الله، قال من سره ان ينظر الى الصحيفة التي عليها خاتم محمد صلى الله عليه وسلم فليقرا هذه الايات : ( قل تعالوا اتل ما حرم ربكم عليكم ) الاية الى قوله : ( لعلكم تتقون ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “অথবা তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসবে” (সূরা আন’আম ১৫৮) প্রসঙ্গে বলেন, তা হচ্ছে পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়। সহীহঃ মুসলিম (১/৯৫), আবূ হুরাইরাহ হতে আরো পূর্ণাঙ্গ রূপে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেউ কেউ এটিকে বর্ণনা করেছেন তবে তা মারফু' হিসেবে নয়।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابي، عن ابن ابي ليلى، عن عطية، عن ابي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله عز وجل : (او ياتي بعض ايات ربك ) قال "طلوع الشمس من مغربها" . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ورواه بعضهم ولم يرفعه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি নিদর্শন যখন প্রকাশিত হবে “তখন কারো ঈমান আনয়ন তার কোন উপকারে আসবে না-যারা ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি বা যারা নিজেদের ঈমান মতো নেক আমল করেনি” (সূরা আন’আম ১৫৮)। সেই তিনটি নিদর্শন হল দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরয ও পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়। সহীহঃ মুসলিম (১/৯৫-৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাযিম, তিনি হলেন আল-আশযাঈ আল-কুফী তার নাম সালমান, তিনি আযযাহ আল-আশ জাঈয়্যার মুক্তদাস।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يعلى بن عبيد، عن فضيل بن غزوان، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ثلاث اذا خرجن : لم ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل الاية الدجال والدابة وطلوع الشمس من المغرب او من مغربها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو حازم هو الاشجعي الكوفي واسمه سلمان مولى عزة الاشجعية
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বলেন, আর তার বাণী সম্পূর্ণ সত্যঃ আমার কোন বান্দা যখন কোন ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করে তখনই (বলেন) হে ফেরেশতাগণ! তোমরা তার জন্য একটি নেকি লিখো এবং সে যখন কাজটি করে তখন তার দশ গুণ নেকি তার জন্য লিখো। পক্ষান্তরে সে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা পোষণ করলে তবে তোমরা তার কোন গুনাহ লিখো না, যদি সে তা করে তবে একটি মাত্র গুনাহই লিখো এবং যদি সে তা বর্জন করে বা কার্যকর না করে তার জন্য একটি নেকি লিখো। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “কেউ কোন সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে এবং কেউ কোন অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু এর প্রতিফল দেয়া হবে”— (সূরা আন’আমঃ ১৬০)। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (২/৭৪২), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قال الله عز وجل وقوله الحق اذا هم عبدي بحسنة فاكتبوها له حسنة فان عملها فاكتبوها له بعشر امثالها واذا هم بسيية فلا تكتبوها فان عملها فاكتبوها بمثلها فان تركها وربما قال لم يعمل بها فاكتبوها له حسنة ثم قرا : ( من جاء بالحسنة فله عشر امثالها ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ) “যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ের উপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল”— (সূরা আল-আরাফঃ ১৪৩)। হাম্মাদ (রাহঃ) তাজাল্লীর ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন এবং সুলাইমান বৃদ্ধাঙ্গুলির কিনারা দিয়ে ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর মাথা স্পর্শ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই জ্যোতিতে পাহাড় ধ্বসে গেল এবং মূসা (আঃ) চেতনা হারিয়ে ফেললেন। সহীহঃ যিলা-লুল জান্নাত (৪৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। হাম্মাদ ইবনু সালামার রিওয়ায়াত ব্যতীত অন্য কোনভাবে আমরা এটিকে জানতে পারিনি। আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাক আল-বাগদাদী-মুআয ইবনু মুআয হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এই সনদে বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قرا هذه الاية : ( فلما تجلى ربه للجبل جعله دكا ) قال حماد هكذا وامسك سليمان بطرف ابهامه على انملة اصبعه اليمنى قال فساخ الجبل ( وخر موسى صعقا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح لا نعرفه الا من حديث حماد بن سلمة . حدثنا عبد الوهاب الوراق البغدادي، حدثنا معاذ بن معاذ، عن حماد بن سلمة، عن ثابت، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . هذا حديث حسن
। মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল-জুহানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ “যখন তোমার রব আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করে প্রশ্ন করেনঃ “আমি কি তোমাদের রব নই। তারা বললঃ হ্যাঁ নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষী রইলাম। তা এজন্য যে, তোমরা কিয়ামতের দিন যেন না বল, আমরা তো এ ব্যাপারে বেখবর ছিলাম" (সূরাঃ আল-আরাফ- ১৭২)। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটও আমি এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তারপর আপন ডান হাত তাঁর পিঠে বুলালেন এবং তা থেকে তার একদল (ভাবী) সন্তান বের করলেন। তিনি বললেন, এদের আমি জান্নাতের জন্য এবং জান্নাতীদের কাজ করতে সৃষ্টি করেছি। সুতরাং এরা জান্নাতীদের আমলই করবে। তিনি পুনরায় আদমের পিঠে হাত বুলালেন এবং সেখান থেকে তার (অপর) একদল সন্তান বের করলেন। তিনি বললেন, এদের আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। জাহান্নামীদের মত কাজই তারা করবে। একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তদবির আর কিসের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। সে জান্নাতীদের যোগ্য কাজ করে ইন্তেকাল করে এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে পেশ করেন। অপরদিকে যখন আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে জাহান্নামের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। সে জাহান্নামীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে। শেষে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামে পেশ করেন। দুর্বল, আয যিলাল (১৯৬), যঈফা (৩০৭১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। মুসলিম ইবনু ইয়াসার (রাহঃ) উমর (রাঃ) হতে (হাদীস) শুনেননি। কেউ কেউ এ হাদীসের সনদে মুসলিম ইবনু ইয়াসার ও উমার (রাঃ)-এর মাঝখানে আরেকজন অপরিচিত রাবীর উল্লেখ করেছেন।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك بن انس، عن زيد بن ابي انيسة، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، عن مسلم بن يسار الجهني، ان عمر بن الخطاب، سيل عن هذه الاية ( واذ اخذ ربك من بني ادم من ظهورهم ذريتهم واشهدهم على انفسهم الست بربكم قالوا بلى شهدنا ان تقولوا يوم القيامة انا كنا عن هذا غافلين ) قال عمر بن الخطاب سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سيل عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله خلق ادم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للجنة وبعمل اهل الجنة يعملون ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للنار وبعمل اهل النار يعملون " . فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله اذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل اهل الجنة حتى يموت على عمل من اعمال اهل الجنة فيدخله الله الجنة واذا خلق العبد للنار استعمله بعمل اهل النار حتى يموت على عمل من اعمال اهل النار فيدخله الله النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . ومسلم بن يسار لم يسمع من عمر وقد ذكر بعضهم في هذا الاسناد بين مسلم بن يسار وبين عمر رجلا مجهولا
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তার পিঠ মাসেহ করলেন। এতে তার পিঠ থেকে তার সমস্ত সন্তান বের হলো, যাদের তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাদেরকে আদম (আঃ)-এর সামনে পেশ করলেন। আদম (আঃ) বললেন হে প্ৰভু! এরা কারা? আল্লাহ বললেন, এরা তোমার সন্তান। আদমের দৃষ্টি তার সন্তানদের একজনের উপর পড়লো যার দুই চোখের মাঝখানের ঔজ্জল্যে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, হে আমার প্রভু! ইনি কে? আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ শেষ যামানার উম্মাতের অন্তর্গত তোমার সন্তানদের একজন। তার নাম দাউদ (আঃ)। আদম (আঃ) বললেন, হে আমার রব! আপনি তার বয়স কত নির্ধারণ করেছেন? আল্লাহ বললেন, ৬০ বছর। আদম (আঃ) বললেনঃ পরোয়ারদিগার! আমার বয়স থেকে ৪০ বছর (কেটে) তাকে দিন। আদম (আঃ)-এর বয়স শেষ হয়ে গেলে তার নিকট মালাকুল মাওত এসে হাযির হন। আদম (আঃ) বললেনঃ আমার বয়সের কি আরো ৪০ বছর অবশিষ্ট নেই? তিনি বললেন, আপনি কি তা আপনার সন্তান দাউদকে দান করেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদম (আঃ) অস্বীকার করলেন, তাই তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আদম (আঃ) ভুলে গিয়েছিলেন, ফলে তার সন্তানরাও ভুলে যায়। আদমের ক্রটি-বিচূতি হয়েছিল, তাই তার সন্তানদেরও ক্রটি-বিচূতি হয়ে থাকে। সহীহঃ আয যিলাল (২০৬), তাখরীজুত তাহাবীয়াহ (২২০, ২২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অন্যভাবেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا ابو نعيم، حدثنا هشام بن سعد، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لما خلق الله ادم مسح ظهره فسقط من ظهره كل نسمة هو خالقها من ذريته الى يوم القيامة وجعل بين عينى كل انسان منهم وبيصا من نور ثم عرضهم على ادم فقال اى رب من هولاء قال هولاء ذريتك فراى رجلا منهم فاعجبه وبيص ما بين عينيه فقال اى رب من هذا فقال هذا رجل من اخر الامم من ذريتك يقال له داود . فقال رب كم جعلت عمره قال ستين سنة قال اى رب زده من عمري اربعين سنة . فلما انقضى عمر ادم جاءه ملك الموت فقال اولم يبق من عمري اربعون سنة قال اولم تعطها ابنك داود قال فجحد ادم فجحدت ذريته ونسي ادم فنسيت ذريته وخطي ادم فخطيت ذريته " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাওয়া আলাইহিস সালাম গর্ভবতী হলে তার নিকট শাইতান এলো। তার সন্তান জীবিত থাকত না। শাইতান বলল, এর নাম আবদুল হারিস রাখুন। তিনি তার নাম আবদুল হারিস রাখলেন। এ সন্তান জীবিত রইল। আর এটা ছিল শাইতানের কুমন্ত্রণা। যঈফ, যঈফা (৩৪২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। কাতাদার মাধ্যমে উমার ইবনু ইবরাহীমের বর্ণনা ছাড়া আমরা এটিকে জানি না। কেউ কেউ আবদুস সামাদ হতে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে মারফু হিসেবে নয়। উমার ইবনু ইবরাহীম (রাহঃ) বসরার শাইখ।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثنا عمر بن ابراهيم، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة بن جندب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لما حملت حواء طاف بها ابليس وكان لا يعيش لها ولد فقال سميه عبد الحارث . فسمته عبد الحارث فعاش وكان ذلك من وحى الشيطان وامره " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث عمر بن ابراهيم عن قتادة . ورواه بعضهم عن عبد الصمد ولم يرفعه عمر بن ابراهيم شيخ بصري
। আবদ ইবনু হুমাইদ আবূ নু'আইম হতে, তিনি হিশাম ইবনু সাদ হতে, তিনি যাইদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হল... পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا ابو نعيم، حدثنا هشام بن سعد، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لما خلق ادم " . الحديث
। মুসআব ইবনু সা'দ (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিন আমি একটি তলোয়ার নিয়ে আসলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা আমার হৃদয়কে মুশরিকদের পরাজিত করে প্রশান্তি দান করবেন, অথবা অনুরূপ বলেছেন। আপনি আমাকে এ তলোয়ারটি দিন। তিনি বললেনঃ এটা তো আমরও নয়, তোমারও নয়। আমি (মনে মনে) বললাম, তলোয়ারটি হয় তো এমন কাউকে দেয়া হবে যে আমার মত পরীক্ষার মুখোমুখী হতে পারবে না। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ তুমি আমার নিকট এ তলোয়ারটি চেয়েছিলে। তখন এটি আমার ছিল না, কিন্তু এখন তা আমার হয়েছে। অতএব এটি তোমাকে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “লোকেরা তোমার নিকট যুদ্ধলব্ধ মাল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। বল, যুদ্ধলব্ধমাল আল্লাহ ও তার রাসূলের..."— (সূরা আল-আনফাল ১)। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২৭৪৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) এ হাদীস মুসআব ইবনু সা'দ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو كريب، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن عاصم بن بهدلة، عن مصعب بن سعد، عن ابيه، قال لما كان يوم بدر جيت بسيف فقلت يا رسول الله ان الله قد شفى صدري من المشركين او نحو هذا هب لي هذا السيف . فقال " هذا ليس لي ولا لك " . فقلت عسى ان يعطى هذا من لا يبلي بلايي فجاءني الرسول فقال " انك سالتني وليس لي وقد صار لي وهو لك " . قال فنزلت : ( يسالونك عن الانفال ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه سماك بن حرب عن مصعب بن سعد ايضا . وفي الباب عن عبادة بن الصامت
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধ হতে ফুরসত হলে তাকে বলা হল, আপনি কাফিলার উপর হামলা করুন। কারণ তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ নেই। রাবী বলেন, আব্বাস (রাঃ) তখন কাফির কয়েদীদের সাথে আটক থাকা অবস্থায় বলেন, এটা উচিত নয়। কারণ আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে দুই দলের মধ্যে যে কোন একটির উপর বিজয়দানের প্রতিশ্রুতি করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা আপনার সাথে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তা তো তিনি আপনাকে দান করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আপনি সঠিক বলেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرزاق، عن اسراييل، عن سماك، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال لما فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم من بدر قيل له عليك العير ليس دونها شيء قال فناداه العباس وهو في وثاقه لا يصلح وقال لان الله وعدك احدى الطايفتين وقد اعطاك ما وعدك قال " صدقت " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) মুশরিকদের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃষ্টিপাত করলেন। তারা (সংখ্যায়) ছিল এক হাজার। আর তার সাথীরা ছিলেন তিন শত দশজনের কিছু বেশি। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে তার প্রভুর নিকট দু'আ করতে লাগলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার সাথে যে ওয়াদাহ করেছিলে তা পূর্ণ কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তা দান কর যার ওয়াদাহ্ তুমি করেছ। হে আল্লাহ! যদি কতিপয় মুসলিমের এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস করে দাও তাহলে যমিনে তোমার ইবাদাত অনুষ্ঠিত হবে না”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে এমনভাবে তার প্রভুর নিকট ফারিয়াদ করেন, তার উভয় কাঁধ হতে তার চাদর গড়িয়ে পড়ে গেল। তখন আবূ বকর (রাযিঃ) তার কাছে এসে চাদরটি উঠিয়ে তার কাধে তুলে দিলেন এবং তার পেছন দিক হতে তাকে চেপে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী। আপনার প্রভুর সমীপে আপনার যথেষ্ট পরিমাণ ফরিয়াদ করা হয়েছে। আপনার সাথে আল্লাহ তা'আলা যে ওয়াদাহ করেছেন তা অবশ্যই তিনি পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “স্মরণ কর যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন, আমি তোমাদেরকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব" (সূরা আল-আনফাল ৯)। অতএব আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের পাঠিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেন। হাসানঃ মুসলিম (৫/১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উমার (রাযিঃ)-এর এ হাদীস বিষয়ে ইকরিমা ইবনু আম্মার-আবূ যুমাইল (রাহঃ) সূত্র ব্যতীত আমাদের কিছু জানা নেই। আবূ যুমাইলের নাম সিমাক আল-হানাফী। বর্ণনাকারী (তিরমিয়ী) বলেন, এটা বদর যুদ্ধের সময়কার ঘটনা।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عمر بن يونس اليمامي، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثنا ابو زميل، حدثنا عبد الله بن عباس، حدثنا عمر بن الخطاب، قال نظر نبي الله صلى الله عليه وسلم الى المشركين وهم الف واصحابه ثلاثماية وبضعة عشر رجلا فاستقبل نبي الله صلى الله عليه وسلم القبلة ثم مد يديه وجعل يهتف بربه " اللهم انجز لي ما وعدتني اللهم اتني ما وعدتني اللهم ان تهلك هذه العصابة من اهل الاسلام لا تعبد في الارض " . فما زال يهتف بربه مادا يديه مستقبل القبلة حتى سقط رداوه من منكبيه فاتاه ابو بكر فاخذ رداءه فالقاه على منكبيه ثم التزمه من ورايه فقال يا نبي الله كفاك مناشدتك ربك فانه سينجز لك ما وعدك فانزل الله : (اذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم اني ممدكم بالف من الملايكة مردفين ) فامدهم الله بالملايكة . قال هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه من حديث عمر الا من حديث عكرمة بن عمار عن ابي زميل وابو زميل اسمه سماك الحنفي وانما كان هذا يوم بدر
। আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মাতের জন্য আমার উপর দু'টি আমান বা সুরক্ষার উপায় অবতীর্ণ করেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে হাযির থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ তা'আলা এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনারত অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দিবেন” (সূরাঃ আল-আনফাল- ৩৩)। আমি যখন চলে যাব তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার উপায়টি রেখে যাব। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমকে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ’ বলা হয়।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابن نمير، عن اسماعيل بن ابراهيم بن مهاجر، عن عباد بن يوسف، عن ابي بردة بن ابي موسى، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انزل الله على امانين لامتي : ( وما كان الله ليعذبهم وانت فيهم ) ( وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون ) اذا مضيت تركت فيهم الاستغفار الى يوم القيامة " . هذا حديث غريب . واسماعيل بن ابراهيم بن مهاجر يضعف في الحديث
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “তোমরা যথাসাধ্য তাদের মুকাবিলার জন্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে.....”(সূরা আল-আনফাল ৬০)। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখ, শক্তি হল তীর নিক্ষেপ। তিনি তিন তিনবার এ কথা বললেন। তিনি আরো বললেনঃ জেনে রেখ, আল্লাহ তা'আলা খুব শীঘ্রই দুনিয়াতে তোমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং তোমাদেরকে নিজেদের ব্যয়ভার সংকুলানের চিন্তা হতে মুক্ত করে দেয়া হবে। সুতরাং তীরন্দাজির অনুশীলন হতে তোমাদের কেউ যেন কাতর হয়ে না পড়ে। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৮১৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উসামা ইবনু যাইদ আল-লাইসী হতে সালিহ ইবনু কাইসান সূত্রে কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। উকবাহ ইবনু আমির হতে আবূ উসামা এবং আরো অনেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী’র রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ। সালিহ ইবনু কাইসান (রহঃ) উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ)-এর সাক্ষাৎ পাননি। তবে তিনি ইবনু উমর (রহঃ)-এর সাক্ষাত পেয়েছেন।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا وكيع، عن اسامة بن زيد، عن صالح بن كيسان، عن رجل، لم يسمه عن عقبة بن عامر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قرا هذه الاية على المنبر : ( واعدوا لهم ما استطعتم من قوة ) قال " الا ان القوة الرمى ثلاث مرات الا ان الله سيفتح لكم الارض وستكفون المونة فلا يعجزن احدكم ان يلهو باسهمه " . قال ابو عيسى وقد روى بعضهم هذا الحديث عن اسامة بن زيد عن صالح بن كيسان عن عقبة بن عامر رواه ابو اسامة وغير واحد وحديث وكيع اصح . وصالح بن كيسان لم يدرك عقبة بن عامر وقد ادرك ابن عمر
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন। বদরের যুদ্ধের দিন যুদ্ধবন্দীদের আনা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে তোমাদের কি মত? তারপর রাবী এ হাদীসে একটি বিরাট ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুক্তিপণ আদায় বা শিরচ্ছেদ করা ছাড়া এদের মুক্তির বিকল্প কোন পথ নেই। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তবে সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। যেহেতু আমি তাকে ইসলাম প্রসঙ্গে আলোচনা করতে শুনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় নীরব থাকলেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, ঐ দিনের মত এরকম মারত্মক অবস্থা আমার আর কোন দিন ছিল না। ঐ দিন প্রতি মুহুর্তে আমার মনে হচ্ছিল, আমার মাথার উপর বুঝি আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হবে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, এদিকে উমার (রাঃ)-এর উক্তি মুতাবেক কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “কোন নবীর জন্য উচিত নয় দেশে ব্যাপক হারে প্রতিপক্ষকে পরাজিত না করা পর্যন্ত আটক রাখা....... " (সূরাঃ আল-আনফাল- ৬৭)। যঈফ, ১৭৬৭ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উবাইদা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা হতে হাদীস শুনেননি।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عمرو بن مرة، عن ابي عبيدة بن عبد الله، عن عبد الله بن مسعود، قال لما كان يوم بدر وجيء بالاسارى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما تقولون في هولاء الاسارى " . فذكر في الحديث قصة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينفلتن منهم احد الا بفداء او ضرب عنق " . قال عبد الله بن مسعود فقلت يا رسول الله الا سهيل بن بيضاء فاني قد سمعته يذكر الاسلام . قال فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فما رايتني في يوم اخوف ان تقع على حجارة من السماء مني في ذلك اليوم قال حتى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا سهيل ابن بيضاء " . قال ونزل القران بقول عمر : ( ما كان لنبي ان يكون له اسرى حتى يثخن في الارض ) الى اخر الايات . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وابو عبيدة بن عبد الله لم يسمع من ابيه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী কোন উম্মাতের লোকদের জন্য গানীমাতের সম্পদ বৈধ ছিল না। আকাশ হতে আগুন অবতীর্ণ হত এবং তা পুড়িয়ে ফেলত। বর্ণনাকারী সুলাইমান আল-আমাশ বলেন, আজকের দিনে এ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ব্যতীত আর কে বলতে পারে? বাদর যুদ্ধ সংঘটিত হলে লোকেরা গানীমাতের মাল ব্যবহারে লিপ্ত হন, অথচ গানীমাতের মাল তখন পর্যন্ত তাদের জন্য বৈধ ঘোষিত হয়নি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলার পূর্ব-বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হত"- (সূরা আনফাল ৬৮)। সহীহঃ সহীহাহ (২১৫৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আ'মাশের হাদীস হিসেবে গারীব।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرني معاوية بن عمرو، عن زايدة، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لم تحل الغنايم لاحد سود الرءوس من قبلكم كانت تنزل نار من السماء فتاكلها " . قال سليمان الاعمش فمن يقول هذا الا ابو هريرة الان فلما كان يوم بدر وقعوا في الغنايم قبل ان تحل لهم فانزل الله تعالى : (لولا كتاب من الله سبق لمسكم فيما اخذتم عذاب عظيم ) قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث الاعمش
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-কে বললাম, শত আয়াতের চাইতে ক্ষুদ্রতম সূরা আল-আনফালকে শত আয়াত সম্বলিত সূরা বারাআতের পূর্বে স্থাপন করতে কিসে আপনাদেরকে উদ্বুদ্ধ করল? যার ফলে আপনারা এই দুটি সূরাকে একত্রে মিলিয়ে দিলেন, অথচ উভয়ের মাঝখানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বাক্যটি লিখেননি এবং এটিকে সপ্ত দীর্ঘ সূরার মধ্যে রেখে দিয়েছেন। আপনাদের এরূপ করার কারণ কি? উসমান (রাযিঃ) বললেন, একই সময়কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অনেকগুলো সূরা অবতীর্ণ হত। অতএব তার উপর কোন আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি লেখকদের কাউকে ডেকে বলতেন, এ আয়াতগুলো অমুক সূরায় যোগ কর যাতে এই এই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। অতএব তার উপর আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি বলতেন, ঐ সূরাতে এ আয়াতটি শামিল কর যাতে এই এই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। সূরা আল-আনফাল ছিল মাদীনায় অবতীর্ণ প্রাথমিক সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর বারাআত ছিল (নাযিলের দিক হতে) কুরআনের শেষ দিকের সূরা। সূরা বারাআতের আলোচ্য বিষয় সূরা আল-আনফালের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তাই আমার ধারণা হল, এটি (বারাআত) তার অন্তর্ভুক্ত। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলে যাননি যে, এ সূরা (বারাআত) আনফালের অন্তর্ভুক্ত কি না। তাই আমি উভয় সূরাকে একত্রে মিলিয়ে দিয়েছি এবং সূরাদুটাের মাঝখানে বিসমিল্লাহির রাহমাননির রাহীম বাক্যও লিখিনি, আর এটিকে সপ্ত দীর্ঘ সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীস শুধু ‘আওফ হতে, তিনি ইয়াযীদ আল-ফারিসী হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেই জেনেছি। ইয়াযীদ আল-ফারেসী বসরাবাসী তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত। আর ইয়াযীদ ইবনু আবান আর-রাকাশীও বাসরাবাসী তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি পূর্বোক্ত জনের চাইতে কনিষ্ঠ। ইয়াযীদ আর-রাকাশী (রাহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، ومحمد بن جعفر، وابن ابي عدي، وسهل بن يوسف، قالوا حدثنا عوف بن ابي جميلة، حدثنا يزيد الفارسي، حدثنا ابن عباس، قال قلت لعثمان بن عفان ما حملكم ان عمدتم، الى الانفال وهي من المثاني والى براءة وهي من الميين فقرنتم بينهما ولم تكتبوا بينهما سطر بسم الله الرحمن الرحيم ووضعتموهما في السبع الطول ما حملكم على ذلك فقال عثمان كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مما ياتي عليه الزمان وهو تنزل عليه السور ذوات العدد فكان اذا نزل عليه الشىء دعا بعض من كان يكتب فيقول ضعوا هولاء الايات في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا واذا نزلت عليه الاية فيقول ضعوا هذه الاية في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا وكانت الانفال من اوايل ما انزلت بالمدينة وكانت براءة من اخر القران وكانت قصتها شبيهة بقصتها فظننت انها منها فقبض رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يبين لنا انها منها فمن اجل ذلك قرنت بينهما ولم اكتب بينهما سطر بسم الله الرحمن الرحيم فوضعتها في السبع الطول . قال ابو عيسى هذا حديث حسن لا نعرفه الا من حديث عوف عن يزيد الفارسي عن ابن عباس . ويزيد الفارسي قد روى عن ابن عباس غير حديث ويقال هو يزيد بن هرمز ويزيد الرقاشي هو يزيد بن ابان الرقاشي ولم يدرك ابن عباس انما روى عن انس بن مالك وكلاهما من التابعين من اهل البصرة ويزيد الفارسي اقدم من يزيد الرقاشي