Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বাবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও তার গুণগান বর্ণনা করলেন, ওয়াজ-নাসীহাত করলেন ও উপদেশ দিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি কোন দিনটির মর্যাদা বর্ণনা করছি, আমি কোন দিনটির মর্যাদা বর্ণনা করছি, আমি কোন দিনটির মর্যাদা ঘোষণা করছি? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! হজ্জের মহান দিনের। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-মাল ও তোমাদের ইজ্জত-সম্মানে হস্তক্ষেপ তোমাদের উপর হারাম, যেরূপ তোমাদের এ দিনে এ শহরে ও এ মাসে হারাম। জেনে রেখ! অপরাধীই অপরাধ কর্মের জন্য দায়ী ও দোষী। ছেলের অপরাধের জন্য বাবা এবং বাবার অপরাধের জন্য ছেলে অপরাধী নয়। জেনে রেখ! এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। কাজেই এক মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের ঐ জিনিসই হালাল যা সে স্বেচ্ছায় তার জন্য হালাল করে (দান করে)। জেনে রেখ! জাহিলী যুগের প্রাপ্য সকল প্রকার সূদ বাতিল ঘোষণা করা হল। তবে তোমাদের মূলধন ফেরত পাবে। তোমরা কারো প্রতি যুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও যুলুম করা হবে না। আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সূদের সকল পাওনা বাতিল করা হল। জেনে রেখ! জাহিলিয়াতের সকল প্রকার রক্তের দাবি বাতিল করা হল। জাহিলিয়াতের সর্বপ্রথম যার রক্ত আমি বাতিল ঘোষণা করছি সে হচ্ছে হারিস ইবনু আবদুল মুতালিবের রক্ত। সে শিশু অবস্থায় বনু লাইস গোত্রে দুধ পানরত অবস্থায় হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। শোন! আমি তোমাদেরকে নারীদের সাথে ভালো ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছি। তারা তোমাদের নিকট বন্দীর মত যুক্ত। তাদের উপর তোমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই, যদি না তারা কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে। যদি তারা তাই করে তাহলে তোমরা তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং একান্ত প্রয়োজন হলে হালকাভাবে আঘাত কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের প্রতি বাড়াবাড়ির পথ অন্বেষণ কর না। জেনে রেখ! তোমাদের যেরূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের উপর, তোমাদের স্ত্রীদেরও তদ্রুপ অধিকার রয়েছে তোমাদের উপর (কাজেই উভয়ের প্রতি উভয়ের অধিকার আদায় করা কর্তব্য)। তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা তোমাদের অপছন্দনীয় লোককে তোমাদের বিছানায় স্থান দিবে না এবং তোমাদের অপছন্দনীয় লোককে তোমাদের ঘরে যাতায়াতের অনুমতি দিবে না। আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তোমরা (যথাসম্ভব) তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও আহারের সুব্যবস্থা করবে। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৫১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি শাবীব ইবনু গারক্বাদাহ হতে আবূল আহওয়াস (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا حسين بن علي الجعفي، عن زايدة، عن شبيب بن غرقدة، عن سليمان بن عمرو بن الاحوص، حدثنا ابي انه، شهد حجة الوداع مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله واثنى عليه وذكر ووعظ ثم قال " اى يوم احرم اى يوم احرم اى يوم احرم " . قال فقال الناس يوم الحج الاكبر يا رسول الله . قال " فان دماءكم واموالكم واعراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في بلدكم هذا في شهركم هذا الا لا يجني جان الا على نفسه ولا يجني والد على ولده ولا ولد على والده الا ان المسلم اخو المسلم فليس يحل لمسلم من اخيه شيء الا ما احل من نفسه الا وان كل ربا في الجاهلية موضوع لكم رءوس اموالكم لا تظلمون ولا تظلمون غير ربا العباس بن عبد المطلب فانه موضوع كله الا وان كل دم كان في الجاهلية موضوع واول دم اضع من دماء الجاهلية دم الحارث بن عبد المطلب كان مسترضعا في بني ليث فقتلته هذيل الا واستوصوا بالنساء خيرا فانما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شييا غير ذلك الا ان ياتين بفاحشة مبينة فان فعلن فاهجروهن في المضاجع واضربوهن ضربا غير مبرح فان اطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا الا ان لكم على نسايكم حقا ولنسايكم عليكم حقا فاما حقكم على نسايكم فلا يوطين فرشكم من تكرهون ولا ياذن في بيوتكم من تكرهون الا وان حقهن عليكم ان تحسنوا اليهن في كسوتهن وطعامهن " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه ابو الاحوص عن شبيب بن غرقدة
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের মহান দিন প্রসঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ কুরবানীর দিন। সহীহঃ (৯৫৭) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث، حدثنا ابي، عن ابيه، عن محمد بن اسحاق، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن يوم الحج الاكبر فقال " يوم النحر
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের মহান দিন হচ্ছে কুরবানীর দিন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদিসের চাইতে এটি অনেক বেশি সহীহ। কেননা এ হাদীস বিভিন্ন সূত্রে আবূ ইসহাক-আল হারিস হতে, তিনি আলী (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে মাওকুফভাবে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্র ব্যতীত অন্য কেউ এটিকে মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। শু'বাহ এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মুররাহ হতে, তিনি আল-হারিস হতে তিনি আলী হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن الحارث، عن علي، قال يوم الحج الاكبر يوم النحر . قال هذا الحديث اصح من حديث محمد بن اسحاق لانه روي من غير وجه هذا الحديث عن ابي اسحاق عن الحارث عن علي موقوفا ولا نعلم احدا رفعه الا ما روي عن محمد بن اسحاق وقد روى شعبة هذا الحديث عن ابي اسحاق عن عبد الله بن مرة عن الحارث عن علي موقوفا
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযিঃ)-কে সূরা বারাআতের প্রাথমিক আয়াতগুলো সহকারে মক্কা মুআজ্জামায় পাঠান। তারপর তাকে ফেরত ডেকে এনে বললেন? আমার পরিবারের কোন সদস্য ব্যতীত অন্য কাউকে দিয়ে এটা পাঠানো উচিত নয়। এরপর তিনি আলী (রাযিঃ)-কে ডাকলেন এবং তাকেই এটি দিলেন। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান; আনাস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عفان بن مسلم، وعبد الصمد بن عبد الوارث، قالا حدثنا حماد بن سلمة، عن سماك بن حرب، عن انس بن مالك، قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم ببراءة مع ابي بكر ثم دعاه فقال " لا ينبغي لاحد ان يبلغ هذا الا رجل من اهلي " . فدعا عليا فاعطاه اياها . قال هذا حديث حسن غريب من حديث انس بن مالك
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযিঃ)-কে (আমীরুল হাজ্জ নিয়োগ করে) পাঠান এবং এই বাক্যগুলো ঘোষণার জন্যে তাকে নির্দেশ দেন। তারপর তিনি ‘আলী (রাযিঃ)-কে পাঠান। আবূ বকর (রাযিঃ) পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনী কাসওয়ার শব্দ শুনতে পান। আবূ বকর (রাযিঃ) সন্ত্রস্ত হয়ে বের হলেন। তিনি ভেবেছিলেন হয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। কিন্তু তিনি ছিলেন আলী (রাযিঃ)। আলী (রাযিঃ) আবূ বকর (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লেখা ফরমানটি দিলেন এবং তাতে তাকে এসব বিষয় ঘোষণা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তারা দু’জনেই গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং হজ্জ সম্পন্ন করলেন। আলী (রাযিঃ) আইয়্যামে তাশরীকে (কুরবানীর দিন) দাঁড়িয়ে বললেনঃ প্রত্যেক মুশরিকের সাথে আল্লাহ ও তার রাসূলের সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষনা দেয়া হল। অতএব তোমরা আর চার মাস দেশে চলাফেরা কর। এ বছরের পর আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। নগ্ন অবস্থায় কেউ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না। শুধু মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আলী (রাযিঃ) এভাবে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবূ বকর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে একই রকম ঘোষণা দিতে থাকেন। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এই সূত্রে হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا سعيد بن سليمان، حدثنا عباد بن العوام، حدثنا سفيان بن حسين، عن الحكم بن عتيبة، عن مقسم، عن ابن عباس، قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم ابا بكر وامره ان ينادي بهولاء الكلمات ثم اتبعه عليا فبينا ابو بكر في بعض الطريق اذ سمع رغاء ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم القصواء فخرج ابو بكر فزعا فظن انه رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو علي فدفع اليه كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وامر عليا ان ينادي بهولاء الكلمات فانطلقا فحجا فقام علي ايام التشريق فنادى ذمة الله ورسوله بريية من كل مشرك فسيحوا في الارض اربعة اشهر ولا يحجن بعد العام مشرك ولا يطوفن بالبيت عريان ولا يدخل الجنة الا مومن وكان علي ينادي فاذا عيي قام ابو بكر فنادى بها . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن غريب من هذا الوجه من حديث ابن عباس
। যাইদ ইবনু ইউসাই (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আলী (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনাকে হাজ্জ উপলক্ষে কোন জিনিস সহকারে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বললেন, আমাকে (হাজ্জে) চারটি বিষয় সহকারে পাঠানো হয়েছিলঃ (১) কোন উলঙ্গ ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না; (২) যাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুক্তি আছে তা তার নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে আর যাদের সাথে তার কোন চুক্তি নেই তারা চার মাসের অবকাশ পাবে (নিরাপত্তা সহকারে বিচরণ করার); (৩) মুমিন ব্যতীত কোন ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না এবং (৪) এ বছরের পর মুসলিমগণ ও মুশরিকরা (হাজ্জে) একত্র হতে পারবে না (এরপর হতে মুশরিকদের জন্য হজ্জে যোগদান চিরতরে নিষিদ্ধ)। সহীহঃ (৮৭১) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি আবূ ইসহাক হতে ইবনু উয়াইনার বর্ণিত হাদীস। সুফইয়ান সাওরীও এটি আবূ ইসহাক হতে, তিনি তার কোন সহযোগী হতে, তিনি আলী (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। নাসর ইবনু আলী প্রমুখ সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তিনি আবু ইসহাক হতে, তিনি যাইদ ইবনু ইউসাই হতে, তিনি আলী (রাযিঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনু খাশরাম-সুফইয়ান ইবনু তিনি আলী (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উয়াইনাহ উভয় রিওয়ায়াত ইবনু উসাই ও ইবনু ইউসাই উভয়ের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সঠিক হল যাইদ ইবনু উসাই। শু'বাহ (রাহঃ) উক্ত হাদীস ব্যতীত অন্য হাদীস আবূ ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে সন্দেহে পতিত হয়েছেন এবং যাইদ ইবনু উসাইল নাম বলেছেন; কিন্তু এ ক্ষেত্রে শু’বাহর অনুসরণ করা হয়নি।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن زيد بن يثيع، قال سالنا عليا باى شيء بعثت في الحجة قال بعثت باربع ان لا يطوف بالبيت عريان ومن كان بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم عهد فهو الى مدته ومن لم يكن له عهد فاجله اربعة اشهر ولا يدخل الجنة الا نفس مومنة ولا يجتمع المشركون والمسلمون بعد عامهم هذا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن وهو حديث سفيان بن عيينة عن ابي اسحاق ورواه الثوري عن ابي اسحاق عن بعض اصحابه عن علي . وفي الباب عن ابي هريرة . حدثنا نصر بن علي، وغير، واحد، قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابي اسحاق، عن زيد بن يثيع، عن علي، نحوه . حدثنا علي بن خشرم، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابي اسحاق، عن زيد بن اثيع، عن علي، نحوه . قال ابو عيسى وقد روي عن ابن عيينة، كلتا الروايتين يقال عنه عن ابن اثيع، وعن ابن يثيع، والصحيح، هو زيد بن اثيع وقد روى شعبة، عن ابي اسحاق، عن زيد، غير هذا الحديث فوهم فيه وقال زيد بن اثيل ولا يتابع عليه . وفي الباب عن ابي هريرة
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন ব্যক্তিকে মসজিদে যাতায়াতে অভ্যস্ত দেখলে তার ঈমানের সাক্ষী দিও। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলার মাসজিদসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ তো তারাই করে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে......" (সূরাঃ আত-তাওবা-১৮)। দুর্বল, ২৭৫০ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবূ উমার-আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব হতে তিনি আমর ইবনুল হারিস হতে তিনি দাররাজ হতে তিনি আবুল হাইসাম হতে তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) এর সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে “তোমরা যাকে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে দেখ” এরূপ বর্ণিত আছে। দুর্বল, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূল হাইসামের নাম সুলাইমান ইবনু আমর ইবনু আবদুল উতওয়ারী। তিনি ইয়াতীম ছিলেন এবং আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর পরিবারে লালিত-পালিত হন।
حدثنا ابو كريب، حدثنا رشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا رايتم الرجل يعتاد المسجد فاشهدوا له بالايمان . قال الله تعالى : ( انما يعمر مساجد الله من امن بالله واليوم الاخر ) . " . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه الا انه قال " يتعاهد المسجد " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وابو الهيثم اسمه سليمان بن عمرو بن عبد العتواري وكان يتيما في حجر ابي سعيد الخدري
। সাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যারা সোনা ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যায় করে না তাদেরকে পীড়াদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও”— (সূরা আত-তওবাঃ ৩৪), এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ভ্রমণে ছিলাম। কোন কোন সাহাবী বলেন, এ আয়াতটি সোনা ও রূপার সমালোচনায় অবতীর্ণ হয়েছে। কোন সম্পদ উৎকৃষ্ট আমরা তা জানতে পারলে তা জমা করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উৎকৃষ্ট সম্পদ হল (আল্লাহ তা'আলার) যিকরকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর ও ঈমানদার স্ত্রী, যে স্বামীকে দীনদারির ব্যাপারে সহযোগিতা করে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করে বললাম, সালিম ইবনু আবূল জা'দ (রহঃ) সাওবান (রাযিঃ) হতে (হাদীস) শুনেছেন কি? তিনি বলেন, না। আমি তাকে বললাম, তাহলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে কার নিকটে শুনেছেন? তিনি বললেন, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর নিকট শুনেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরো কয়েকজন সাহাবীর নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن منصور، عن سالم بن ابي الجعد، عن ثوبان، قال لما نزلت : ( والذين يكنزون الذهب والفضة ) قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره فقال بعض اصحابه انزل في الذهب والفضة ما انزل . لو علمنا اى المال خير فنتخذه فقال " افضله لسان ذاكر وقلب شاكر وزوجة مومنة تعينه على ايمانه " . قال هذا حديث حسن . سالت محمد بن اسماعيل فقلت له سالم بن ابي الجعد سمع من ثوبان فقال لا . فقلت له ممن سمع من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال سمع من جابر بن عبد الله وانس بن مالك وذكر غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم
। আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি গলায় স্বর্ণের ক্রুশ পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এলাম। তিনি বললেনঃ হে ‘আদী! তোমার গলা হতে এই প্রতিমা সরিয়ে ফেল। (এই বলে) আমি তাকে সূরা বারাআতের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করতে শুনলাম (অনুবাদ) “তারা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত তাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসারবিরাগীগণকে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে" (সূরা আত-তওবা ৩১)। তারপর তিনি বললেনঃ তারা অবশ্য তাদের পূজা করত না। তবে তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হালাল বলত তখন সেটাকে তারা হালাল বলে মেনে নিত। আবার তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হারাম বলত তখন নিজেদের জন্য উহাকে হারাম বলে মেনে নিত। হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু আবদুস সালাম ইবনু হারবের সূত্রে জেনেছি। হাদীস শাস্ত্রে গুতাইফ ইবনু আইয়ান খুবএকটা প্রসিদ্ধ নন।
حدثنا الحسين بن يزيد الكوفي، حدثنا عبد السلام بن حرب، عن غطيف بن اعين، عن مصعب بن سعد، عن عدي بن حاتم، قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب . فقال " يا عدي اطرح عنك هذا الوثن " . وسمعته يقرا في سورة براءة : ( اتخذوا احبارهم ورهبانهم اربابا من دون الله ) قال " اما انهم لم يكونوا يعبدونهم ولكنهم كانوا اذا احلوا لهم شييا استحلوه واذا حرموا عليهم شييا حرموه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث عبد السلام بن حرب . وغطيف بن اعين ليس بمعروف في الحديث
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবূ বাকর (রাযিঃ) তাকে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সাওর) গিরিগুহায় অবস্থানকালে বললাম, যদি কাফিরদের কেউ তার পদদ্বয়ের দিকে (নীচের দিকে) তাকায়, তাহলে সে নিশ্চত আমাদেরকে তার পায়ের নীচেই দেখবে। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! যে দু'জনের সাথে তৃতীয়জন হিসেবে আল্লাহ তা'আলা আছেন সেই দু'জনের ব্যাপারে আপনার কি ধারণা? সহীহঃ তাখরাজু ফিকুহিস সীরাহ (১৭৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীসটি হাম্মামের সূত্রেই বর্ণিত আছে। একমাত্র তিনিই এটি বর্ণনা করেছেন। হাব্বান ইবনু হিলাল প্রমুখও হাম্মামের সূত্রে এ হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا زياد بن ايوب البغدادي، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا همام، حدثنا ثابت، عن انس، ان ابا بكر، حدثه قال قلت للنبي صلى الله عليه وسلم ونحن في الغار لو ان احدهم ينظر الى قدميه لابصرنا تحت قدميه . فقال " يا ابا بكر! ما ظنك باثنين الله ثالثهما؟ " . قال هذا حديث حسن صحيح غريب انما يعرف من حديث همام تفرد به . وقد روى هذا الحديث حبان بن هلال وغير واحد عن همام نحو هذا
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে তার জানাযা আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করা হয়। তিনি সেখানে যেতে শুরু করলেন। তিনি জানাযার উদ্দেশে দাঁড়ালে আমি ঘুরে গিয়ে তার বুক বারবার সামনে দাড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আল্লাহ তা'আলার দুশমন ইবনু উবাইর জানাযা কি আপনি আদায় করবেন, যে অমুক দিন এই কথা বলেছে, অমুক দিন এই কথা বলেছে? এভাবে নির্দিষ্ট দিন তারিখ উল্লেখ করে “উমর (রাযিঃ) বলতে লাগলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিতে থাকলেন। এমনকি আমি যখন তাকে অনেক কিছু বললাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমার! আমার সামনে হতে সরে যাও। আমাকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। কাজেই আমি (জানাযা আদায়ের) এখতিয়ার গ্রহণ করেছি। আমাকে বলা হয়েছে (আয়াতের অর্থ) “তুমি এদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর, এমনকি তুমি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তা'আলা তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না”— (সূরা আত-তওবা ৮০)। আমি যদি জানতাম তাদের জন্য সত্তর বারের বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা'আলা তাদের ক্ষমা করে দিবেন, তাহলে আমি তাই করতাম। উমার (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায় করলেন এবং তার জানাযার সাথে গেলেন। তিনি তার কবরের সামনে দাঁড়ান এবং সকল কাজ শেষ করেন। উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আমার দুঃসাহসিকতায় আশ্চর্যবোধ হল। আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। আল্লাহর শপথ! কিছুক্ষণ পরেই এ দুটি আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ (অনুবাদ) "তাদের কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তুমি কখনো তার জানাযা আদায় করবে না এবং তার কবরের পাশে কখনো দাঁড়াবে না। কেননা তারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং পাপাচারী অবস্থায় এদের মৃত্যু হয়েছে" (সূরা আত-তওবা্ ৮৪)। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আর কোন মুনাফিকের জানায আদায় করেননি এবং এদের কবরের পাশেও দাঁড়াননি। সহীহঃ আহকা-মুল জানা-য়িয (৯৩, ৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يعقوب بن ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن محمد بن اسحاق، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، قال سمعت عمر بن الخطاب، يقول لما توفي عبد الله بن ابى دعي رسول الله صلى الله عليه وسلم للصلاة عليه فقام اليه فلما وقف عليه يريد الصلاة تحولت حتى قمت في صدره فقلت يا رسول الله اعلى عدو الله عبد الله بن ابى القايل يوم كذا كذا وكذا يعد ايامه . قال ورسول الله صلى الله عليه وسلم يتبسم حتى اذا اكثرت عليه قال " اخر عني يا عمر . اني خيرت فاخترت قد قيل لي : ( استغفر لهم او لا تستغفر لهم ان تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم ) لو اعلم اني لو زدت على السبعين غفر له لزدت " . قال ثم صلى عليه ومشى معه فقام على قبره حتى فرغ منه قال فعجب لي وجراتي على رسول الله صلى الله عليه وسلم والله ورسوله اعلم فوالله ما كان الا يسيرا حتى نزلت هاتان الايتان : (ولا تصل على احد منهم مات ابدا ولا تقم على قبره ) الى اخر الاية قال فما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعده على منافق ولا قام على قبره حتى قبضه الله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলে, ‘আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ)-এর বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে আবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে বলেন, আপনার জামাটি আমাকে দিন, তা দিয়ে তাকে (বাবাকে) কাফন দিব এবং আপনি তার জানাযা আদায় করুন, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার জামা দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা (গোসল, কাফন ইত্যাদি হতে) অবসর হলে আমাকে খবর দিও। তিনি নামায আদায়ের প্রস্তুতি নিলে উমর (রাযিঃ) তাকে টেনে ধরে বললেন, আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে মুনাফিকদের জানায আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন; আমাকে দুটাে ব্যাপারেই স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে- “তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর"। যাই হোক তিনি তার জানাযা আদায় করলেন। আল্লাহ তা'আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তাদের কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তুমি কখনো তার জানাযা আদায় করবে না এবং তার কবরের পাশেও কখনো দাড়াবে না....” (সূরা আত-তওবা ৮৪)। এরপর তিনি তাদের জানাযা আদায় করা ছেড়ে দেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৫২৩), বুখারী (৪৬৭০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا عبيد الله، اخبرنا نافع، عن ابن عمر، قال جاء عبد الله بن عبد الله بن ابى الى النبي صلى الله عليه وسلم حين مات ابوه فقال اعطني قميصك اكفنه فيه وصل عليه واستغفر له . فاعطاه قميصه وقال " اذا فرغتم فاذنوني " . فلما اراد ان يصلي جذبه عمر وقال اليس قد نهى الله ان تصلي على المنافقين فقال " انا بين خيرتين : (استغفر لهم او لا تستغفر لهم ) " . فصلى عليه فانزل الله: (ولا تصل على احد منهم مات ابدا ولا تقم على قبره ) فترك الصلاة عليهم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে মসজিদ প্রথম দিন হতেই তাকওয়ার ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে" (সূরা আত-তওবা ১০৮), সেই মাসজিদ প্রসঙ্গে দুই ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হয়। একজন বলল, তা হচ্ছে মসজিদে কুবা। অন্যজন বলল, তা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাসজিদ (মসজিদে নববী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা আমার এই মাসজিদ। সহীহঃ মুসলিম, এর চেয়ে পুর্ণাঙ্গভাবে (৩২৩) নং হাদীসে পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমরান ইবনু আবী আনাসের হাদীস হিসেবে গারীব। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি উনাইস ইবনু আবী ইয়াহইয়া তার পিতা হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عمران بن ابي انس، عن عبد الرحمن بن ابي سعيد، عن ابي سعيد الخدري، انه قال تمارى رجلان في المسجد الذي اسس على التقوى من اول يوم فقال رجل هو مسجد قباء وقال الاخر هو مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هو مسجدي هذا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث عمران بن ابي انس . وقد روي هذا عن ابي سعيد من غير هذا الوجه رواه انيس بن ابي يحيى عن ابيه عن ابي سعيد رضى الله عنه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুবাবাসীদের সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “তথায় এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসেন”- (সূরা আত-তওবা্ঃ ১০৮)। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এসব লোক পানি দিয়ে ইস্তিনজা করত। তাই তাদের ব্যাপারে উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৫৭) আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে হাদীসটি গারীব। আবূ আইয়ুব, আনাস ইবনু মালিক ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن العلاء ابو كريب، حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا يونس بن الحارث، عن ابراهيم بن ابي ميمون، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " نزلت هذه الاية في اهل قباء : (فيه رجال يحبون ان يتطهروا والله يحب المطهرين ) " . قال كانوا يستنجون بالماء فنزلت هذه الاية فيهم . قال هذا حديث غريب من هذا الوجه . قال وفي الباب عن ابي ايوب وانس بن مالك ومحمد بن عبد الله بن سلام
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে তার (মৃত) মুশরিক পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনলাম। আমি তাকে বললাম, তোমার মৃত পিতা-মাতার জন্য কি তুমি ক্ষমা প্রার্থনার দুআ করছ, অথচ তারা ছিল মুশরিক? সে বলল, ইবরাহীম (আঃ) কি তার বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি, অথচ তার বাবা ছিল মুশরিক? আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “নবী ও ঈমানদার লোকদের পক্ষে শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনই হােক না কেন....."— (সূরা আত-তওবা ১১৩)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৫২৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن ابي الخليل، كوفي عن علي، قال سمعت رجلا، يستغفر لابويه وهما مشركان فقلت له اتستغفر لابويك وهما مشركان . فقال اوليس استغفر ابراهيم لابيه وهو مشرك فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فنزلت : ( ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن قال وفي الباب عن سعيد بن المسيب عن ابيه
। কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতগুলো যুদ্ধ করেছেন, একমাত্র বদরের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধেই আমি অনুপস্থিত ছিলাম না। এভাবে তাবুকের যুদ্ধ সমুপস্থিত হয়। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাউকে কোনরূপ ভর্ৎসনা করেননি। কারণ তিনি বের হয়েছিলেন কাফিলা অবরোধের উদ্দেশেই। ওদিকে কুরাইশরাও তাদের কাফিলার সাহায্যার্থে বের হয়েছিল। প্রতিশ্রুত স্থান ব্যতীত উভয় পক্ষ পরস্পর মুকবিলায় অবতীর্ণ হয়, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। আমার জীবনের শপথ মানুষদের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতির সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বদরই কিন্তু আমি আক্বাবার রাতে আমার বাই’আতের উপর মর্যাদা দিয়ে তাতে (বদরে) অংশগ্রহণ করাকে পছন্দ করিনি। কারণ সেই লাইলাতুল আকাবাতেই আমি বাই’আত করেছি এবং আমরা এখানেই ইসলামের উপর সুদৃঢ় হয়ে গিয়েছি। তারপর আমি কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন অভিযান হতে পেছনে ছিলাম না। এভাবে তাবুকের যুদ্ধের পালা আসে। আর তাবুক যুদ্ধই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ। যোদ্ধাদের যাত্রা শুরুর জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন। তারপর বর্ণনাকারী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন মসজিদে বসা ছিলেন। তার আশেপাশে মুসলিমগণ সমবেত ছিল। তার মুখমণ্ডল চাঁদের ন্যায় চমকাচ্ছিল। তিনি কোন বিষয়ে আনন্দিত হলে তার চেহারা মুবারাক দীপ্তিমান হয়ে উঠত। আমি উপস্থিত হয়ে তার সামনে বসে পড়লাম। তিনি বললেনঃ “হে কাব ইবনু মালিক! তোমার মা তোমাকে প্রসব করার পর হতে যতগুলো দিন তোমার নিকট এসেছে তার মধ্যে একটি সর্বোৎকৃষ্ট দিনের সুসংবাদ তোমার জন্য। আমি বললাম, “হে আল্লাহর নবী। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে না আপনার পক্ষ হতে? তিনি বললেনঃ বরং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে। তারপর তিনি এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেনঃ (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা বড় দুঃসময়ে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের মধ্যকার এক দলের হৃদয়-বক্র হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদের মাফ করলেন। তিনি তো তাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দুৰ্বিসহ হয়ে উঠল, তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই, অতঃপর তিনি তাদের প্রতি সদয় হলেন যাতে তারা ফিরে আসে। অবশ্যই আল্লাহ তওবা কুবুলকারী দয়াময়।" (সূরা আত-তওবা ১১৭-১১৮)। বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতগুলোও আমাদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও”— (সূরা আত-তওবা ১১৯)। কাব (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার তাওবার মধ্যে এও অন্তর্ভুক্ত যে, আমি সর্বদা সত্য কথাই বলব এবং আমি আমার সমস্ত মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশে দান করে দিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কিছু মাল তোমার নিজের জন্য রাখ। এটাই তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, আমি আমার নিজের জন্য খাইবারের অংশটুকু রেখে দিচ্ছি। কাব (রাযিঃ) বলেন, ইসলাম কুবুল করার পর হতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে যত নি’আমাতে ধন্য করেছেন আমার মতে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নি’আমাত হচ্ছে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আমার ও আমার সঙ্গীদ্বয়ের সত্য কথা বলা এবং আমাদের মিথ্যাবাদী না হওয়া। অন্যথায় তারা যেভাৰে ধ্বংস হয়েছে আমরাও তদ্রুপ ধ্বংস হতাম। আমি আশা করি সত্য বলার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা যেন আমার ন্যায় এতো বড় পরীক্ষায় আর কাউকে না ফেলেন। আমি আর কখনো মিথ্যা বলিনি। আমি আরো আশা করি অবশিষ্ট দিনগুলোও যেন আল্লাহ তা'আলা আমাকে হিফাযাত করেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৯১২), বুখারী (৪৬৭৬), মুসলিম। এ হাদীস উপরোক্ত সনদের বিপরীত সনদে যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। কথিত আছে যে, সনদটি 'আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা'ব ইবনু মালিক-তার চাচা উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি কাব (রাযিঃ) হতে। আবার কেউ কেউ এ ব্যতীত অন্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। অনন্তর এ হাদীস যুহরী হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কাব ইবনু মালিক হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের শাহাদাতের যমানায় আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমাকে ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে দেখলাম, 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও তার নিকট উপস্থিত। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, "উমার আমার নিকট এসে বললেন, অসংখ্য কুরআনের কারী (হাফিয) ইয়ামামার যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন। আমার আশংকা হচ্ছে, সর্বত্র এভাবে কারীগণ শহীদ হয়ে গেলে কুরআনের অনেক অংশই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। আবূ বাকর (রাযিঃ) উমার (রাযিঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে কাজ করে যাননি আমি কিভাবে তা করতে পারি? উমর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। তিনি আমার নিকট বারবার তার কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে সেই কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন, যার জন্য তিনি (আগেই) উমারের বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমিও উক্ত কাজে সেই কল্যাণ লক্ষ্য করলাম যা তিনি (আমার আগেই) লক্ষ্য করেছিলেন। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বলেন, আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, তুমি একজন জ্ঞানবান যুবক। আমি তোমাকে কোন বিষয়ে দোষারোপ করিনি। আর তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআন লিপিবদ্ধ করতে। অতএব তুমি কুরআনের (বিভিন্ন অংশ) সন্ধানে লেগে যাও। যাইদ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ। তারা যদি আমাকে পর্বতমালার মধ্য হতে কোন পাহাড় স্থানান্তরের কষ্টে নিক্ষেপ করতেন তবে তাও আমার জন্য এ মহা দায়িত্বের তুলনায় এত বেশী ভারবহ হত না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে কাজ করেননি আপনারা তা কিভাবে করতে পারেন? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। আবূ বকর ও উমর (রাযিঃ) উভয়ে ঐ কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকর ও উমারের ন্যায় আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন। অতএব আমি চামড়ার টুকরাসমূহ, খেজুরপত্র, মসৃণ পাথর ও লোকদের অন্তকরণ হতে খুঁজে খুঁজে সম্পূর্ণ কুরআন একত্র করলাম। সূরা বারাআতের শেষ অংশটুকু আমি খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট পেলাম। তা হল (অনুবাদ) “অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও অত্যন্ত করুণাসক্ত। এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলঃ আল্লাহ তা'আলাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তার উপরই নির্ভর করি এবং তিনিই মহান আরশের মালিক”— (সূরা আত-তওবা ১২৮, ১২৯)। সহীহ, বুখারী (৪৬৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن الزهري، عن عبيد بن السباق، ان زيد بن ثابت، حدثه قال بعث الى ابو بكر الصديق مقتل اهل اليمامة فاذا عمر بن الخطاب عنده فقال ان عمر بن الخطاب قد اتاني فقال ان القتل قد استحر بقراء القران يوم اليمامة واني لاخشى ان يستحر القتل بالقراء في المواطن كلها فيذهب قران كثير واني ارى ان تامر بجمع القران . قال ابو بكر لعمر كيف افعل شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر هو والله خير فلم يزل يراجعني في ذلك حتى شرح الله صدري للذي شرح له صدر عمر ورايت فيه الذي راى قال زيد قال ابو بكر انك شاب عاقل لا نتهمك قد كنت تكتب لرسول الله صلى الله عليه وسلم الوحى فتتبع القران . قال فوالله لو كلفوني نقل جبل من الجبال ما كان اثقل على من ذلك قال قلت كيف تفعلون شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر هو والله خير . فلم يزل يراجعني في ذلك ابو بكر وعمر حتى شرح الله صدري للذي شرح صدرهما صدر ابي بكر وعمر فتتبعت القران اجمعه من الرقاع والعسب واللخاف يعني الحجارة الرقاق وصدور الرجال فوجدت اخر سورة براءة مع خزيمة بن ثابت : ( قد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمومنين رءوف رحيم * فان تولوا فقل حسبي الله لا اله الا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিতি হলেন। হুযইফা (রাযিঃ) আর্মেনিয়া ও আযারবাইজানের বিজয় অভিযানে ইরাকীদের সঙ্গী হয়ে সিরীয়দের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। তখন হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) তাদের মধ্যে কুরআন নিয়ে মতের অমিল লক্ষ্য করেন। তিনি (ফিরে এসে) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-কে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! যেভাবে ইয়াহুদী-নাসারাগণ তাদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, সেরূপ এই উম্মাতের লোকদের নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে তাদের খবর নিন। এরপর উসমান (রাযিঃ) এই কথা বলে হাফসাহ (রাযিঃ)-এর নিকট লোক পাঠান যে, আপনার নিকট রক্ষিত কুরআনের সহীফাখানি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা সেটি হতে কপি করার পর তা আপনাকে আবার ফেরত দিব। উন্মুল মুমিনীন হাফসা (রাযিঃ) তার কপি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। উসমান (রাযিঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ), সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ), 'আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম (রাযিঃ), 'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) প্রমুখের নিকট উক্ত সহীফাখানি পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, আপনারা এ সহীফাখানি হতে অনেকগুলো কপি করে নিন। তিনি উক্ত কমিটির তিন কুরাইশ সদস্যকে বললেন, কোন ক্ষেত্রে তোমাদের ও যাইদ ইবনু সাবিতের মধ্যে মতের অমিল হলে তা তোমরা কুরাইশের বাকরীতি মতো লিখবে। কেননা কুরআন তাদের বাকরীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। অবশেষে তারা পূর্ণ কুরআনের কয়েকটি কপি করেন। উসমান (রাযিঃ) সেগুলোর এক একটি কপি রাজ্যের এক এক এলাকায় পাঠিয়ে দিলেন। যুহরী (রাহঃ) বলেন, খারিজা ইবনু যাইদ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত পেলাম না, যেটি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিলাওয়াত করতে শুনাতাম। আয়াতটি এই (অনুবাদ) “মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি” (সূরা আল-আহযাব ২৩)। আমি আয়াতটির খোঁজ করছিলাম। অবশেষে তা খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বা আবূ খুযাইমাহ (রাযিঃ)-এর নিকট পেলাম। আমি সূরার যথাস্থানে আয়াতটি স্থাপন করলাম। যুহরী (রাহঃ) বলেন, তারা ঐ দিন তাবুত ও তাবূহ শব্দ নিয়ে মতের অমিল করেন। কুরাইশীরা বলেনঃ তাবত, আর যাইদ (রাযিঃ) বলেন, তাবহ। তাদের মতের অমিলের বিষয়টি উসমান (রাযিঃ)-এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, তোমরা তাবত লিখ। কেননা কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, আমাকে উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ খবর দিয়েছেন যে, যাইদ ইবনু সাবিতের কুরআন লিপিবদ্ধ করাকে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন, হে মুসলিমগণ! কুরআন লিপিবদ্ধ করা হতে আমি বরখাস্ত হবো আর তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে এমন ব্যক্তি, আল্লাহর শপথ! যে আমার ইসলাম গ্রহণের সময় এক কাফির ব্যক্তির পৃষ্ঠদেশে অন্তৰ্হিত ছিল। এ কথা দ্বারা তিনি যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের নিকট রক্ষিত কুরআনের লিপিবদ্ধ সংকলন লুকিয়ে রাখ এবং তালাবদ্ধ করে রাখ। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন, (অনুবাদ) “এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু আত্মসাৎ করলে, যা সে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে উপস্থিত হবে”— (সূরা আল-ইমরান ১৬১)। অতএব তোমরা তোমাদের সংকলনগুলোসহ আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হবে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, আমি জেনেছি যে, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু প্রবীণ সাহাবী অপছন্দ করেছেন। সহীহঃ বুখারী (৪৯৮৭, ৪৯৮৮) সহীহ মাকতু’। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি যুহরীর রিওয়ায়াত। আমরা এই হাদীস শুধু তার সূত্রেই জেনেছি।
। সুহাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “যারা উত্তম কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও বেশি”— (সূরা ইউনুস ২৬) প্রসঙ্গে বলেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর একজন আহবানকারী ডেকে বলবে, আল্লাহ তা'আলার কাছে তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তিনি সেটা পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলা কি আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেননি এবং আমাদেরকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে দাখিল করেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমন সময় পর্দা উন্মোচিত হবে (এবং তারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাবে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভের চাইতে বেশী প্রিয় ও কাঙ্খিত কোন বস্তুই তিনি তাদেরকে দান করেননি। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাম্মাদ ইবনু সালামার হাদীস। একাধিক বর্ণনাকারী এটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) হতে মারফু’ ভাবে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনুল মুগীরাহ এ হাদীস সাবিত আল-বুনানী-হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তার বক্তব্যরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে সুহাইব (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ রকম উল্লেখ নেই।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت البناني، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن صهيب، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله عز وجل : (للذين احسنوا الحسنى وزيادة ) قال " اذا دخل اهل الجنة الجنة نادى مناد ان لكم عند الله موعدا يريد ان ينجزكموه قالوا الم تبيض وجوهنا وتنجنا من النار وتدخلنا الجنة قال فيكشف الحجاب . قال فوالله ما اعطاهم الله شييا احب اليهم من النظر اليه " . قال ابو عيسى حديث حماد بن سلمة هكذا روى غير واحد عن حماد بن سلمة مرفوعا . وروى سليمان بن المغيرة هذا الحديث عن ثابت عن عبد الرحمن بن ابي ليلى قوله ولم يذكر فيه عن صهيب عن النبي صلى الله عليه وسلم
। আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে জনৈক মিসরবাসীর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা (রাযিঃ)-কে আল্লাহ তা'আলার বাণী “পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ”— (সূরা ইউনুস ৬৪) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার পর হতে আজ পর্যন্ত আর কেউ এ প্রসঙ্গে আমার নিকট জানতে চায়নি। আমিও এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেনঃ এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়া অবধি তুমি ব্যতীত আর কেউ আমাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেনি। এটা (বুশরা) হচ্ছে সত্য স্বপ্ন, যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে বা তাকে দেখানো হয়। সহীহঃ মুসলিম। ইবনু আবী উমার-সুফিয়ান হতে, তিনি আব্দুল আযিয ইবনু রুফাই হতে তিনি আবু সালিহ আস সাম্মান হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি মিসরীয় ব্যক্তি হতে, তিনি আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তাতে আতা ইবনু ইয়াসার-এর উল্লেখ নেই। উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن المنكدر، عن عطاء بن يسار، عن رجل، من اهل مصر قال سالت ابا الدرداء عن هذه الاية : ( لهم البشرى، في الحياة الدنيا ) قال ما سالني عنها احد منذ سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عنها فقال " ما سالني عنها احد غيرك منذ انزلت فهي الرويا الصالحة يراها المسلم او ترى له " . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عبد العزيز بن رفيع، عن ابي صالح السمان، عن عطاء بن يسار، عن رجل، من اهل مصر عن ابي الدرداء، فذكر نحوه . حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا حماد بن زيد، عن عاصم بن بهدلة، عن ابي صالح، عن ابي الدرداء، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وليس فيه عن عطاء بن يسار . قال وفي الباب عن عبادة بن الصامت
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبد الرحمن بن كعب بن مالك، عن ابيه، قال لم اتخلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة غزاها حتى كانت غزوة تبوك الا بدرا ولم يعاتب النبي صلى الله عليه وسلم احدا تخلف عن بدر انما خرج يريد العير فخرجت قريش مغوثين لعيرهم فالتقوا عن غير موعد كما قال الله عز وجل ولعمري ان اشرف مشاهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس لبدر وما احب اني كنت شهدتها مكان بيعتي ليلة العقبة حيث تواثقنا على الاسلام ثم لم اتخلف بعد عن النبي صلى الله عليه وسلم حتى كانت غزوة تبوك وهي اخر غزوة غزاها واذن النبي صلى الله عليه وسلم بالرحيل . فذكر الحديث بطوله قال فانطلقت الى النبي صلى الله عليه وسلم فاذا هو جالس في المسجد وحوله المسلمون وهو يستنير كاستنارة القمر وكان اذا سر بالامر استنار فجيت فجلست بين يديه فقال " ابشر يا كعب بن مالك بخير يوم اتى عليك منذ ولدتك امك " . فقلت يا نبي الله امن عند الله ام من عندك قال " بل من عند الله " . ثم تلا هولاء الايات : ( لقد تاب الله على النبي والمهاجرين والانصار الذين اتبعوه في ساعة العسرة ) حتى بلغ الله هو التواب الرحيم ) قال وفينا انزلت ايضا : ( اتقوا الله وكونوا مع الصادقين ) قال قلت يا نبي الله ان من توبتي ان لا احدث الا صدقا وان انخلع من مالي كله صدقة الى الله والى رسوله . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امسك عليك بعض مالك فهو خير لك " . فقلت فاني امسك سهمي الذي بخيبر قال فما انعم الله على نعمة بعد الاسلام اعظم في نفسي من صدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حين صدقته انا وصاحباى لا نكون كذبنا فهلكنا كما هلكوا واني لارجو ان لا يكون الله ابلى احدا في الصدق مثل الذي ابلاني ما تعمدت لكذبة بعد واني لارجو ان يحفظني الله فيما بقي . قال وقد روي عن الزهري هذا الحديث بخلاف هذا الاسناد وقد قيل عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك عن عمه عبيد الله عن كعب وقد قيل غير هذا وروى يونس بن يزيد هذا الحديث عن الزهري عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك ان اباه حدثه عن كعب بن مالك
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن الزهري، عن انس، ان حذيفة، قدم على عثمان بن عفان وكان يغازي اهل الشام في فتح ارمينية واذربيجان مع اهل العراق فراى حذيفة اختلافهم في القران فقال لعثمان بن عفان يا امير المومنين ادرك هذه الامة قبل ان يختلفوا في الكتاب كما اختلفت اليهود والنصارى فارسل الى حفصة ان ارسلي الينا بالصحف ننسخها في المصاحف ثم نردها اليك فارسلت حفصة الى عثمان بالصحف فارسل عثمان الى زيد بن ثابت وسعيد بن العاصي وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام وعبد الله بن الزبير ان انسخوا الصحف في المصاحف وقال للرهط القرشيين الثلاثة ما اختلفتم فيه انتم وزيد بن ثابت فاكتبوه بلسان قريش فانما نزل بلسانهم . حتى نسخوا الصحف في المصاحف بعث عثمان الى كل افق بمصحف من تلك المصاحف التي نسخوا . قال الزهري وحدثني خارجة بن زيد بن ثابت ان زيد بن ثابت قال فقدت اية من سورة الاحزاب كنت اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقروها : ( من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ) فالتمستها فوجدتها مع خزيمة بن ثابت او ابي خزيمة فالحقتها في سورتها . قال الزهري فاختلفوا يوميذ في التابوت والتابوه فقال القرشيون التابوت . وقال زيد التابوه . فرفع اختلافهم الى عثمان فقال اكتبوه التابوت فانه نزل بلسان قريش . قال الزهري فاخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان عبد الله بن مسعود كره لزيد بن ثابت نسخ المصاحف وقال يا معشر المسلمين اعزل عن نسخ كتابة المصحف ويتولاها رجل والله لقد اسلمت وانه لفي صلب رجل كافر يريد زيد بن ثابت ولذلك قال عبد الله بن مسعود يا اهل العراق اكتموا المصاحف التي عندكم وغلوها فان الله يقول : ( ومن يغلل يات بما غل يوم القيامة ) فالقوا الله بالمصاحف . قال الزهري فبلغني ان ذلك كرهه من مقالة ابن مسعود رجال من افاضل اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم . قال هذا حديث حسن صحيح . وهو حديث الزهري لا نعرفه الا من حديثه