Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানু ইসরাঈল গৰ্হিত কাজে জড়িত হলে তাদের বিজ্ঞ আলিমগণ তাদেরকে বাধা দেন। কিন্তু তারা (পাপাচার থেকে) ক্ষান্ত হয়নি। এতদসত্ত্বেও তাদের আলিমগণ তাদের সাথে তাদের সভা সমিতিতে উঠাবসা ঠিক রাখে এবং তাদের সাথে এক সংগে ভোজসভায় যোগদান করে। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের কারো হৃদয়সমূহ অন্য কারো (পাপীদের) হৃদয়ের সাথে একাকার করে দিলেন এবং দাউদ (আঃ) ও ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর যবানীতে তাদেরকে অভিসম্পাত করলেন। কেননা তারা বিরুদ্ধাচারী হয়ে গিয়েছিল এবং সীমালংঘন করেছিল। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার জান! ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মুক্তি পাবে না যতক্ষণ না তোমরা পথভ্রষ্ট লোকদের (শক্তভাবে) বাধা দিচ্ছ। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪০০৬) আবূ ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান বলেন, ইয়াযীদ বলেছেন, সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) উক্ত হাদীসের সনদে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু আবূল ওয়ায্যাহ-আলী ইবনু বাযীমা হতে তিনি আবূ উবাইদা হতে তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরকমই বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ এ হাদীস আবূ উবাইদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا يزيد بن هارون، اخبرنا شريك، عن علي بن بذيمة، عن ابي عبيدة، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لما وقعت بنو اسراييل في المعاصي نهتهم علماوهم فلم ينتهوا فجالسوهم في مجالسهم وواكلوهم وشاربوهم فضرب الله قلوب بعضهم ببعض ولعنهم على لسان داود وعيسى ابن مريم ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون " . قال فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان متكيا فقال " لا والذي نفسي بيده حتى تاطروهم على الحق اطرا " . قال عبد الله بن عبد الرحمن قال يزيد وكان سفيان الثوري لا يقول فيه عن عبد الله . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وقد روي هذا الحديث عن محمد بن مسلم بن ابي الوضاح عن علي بن بذيمة عن ابي عبيدة عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وبعضهم يقول عن ابي عبيدة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسل
। আবূ উবাইদা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে যখন দোষ পদস্খলন ছড়িয়ে পড়তে লাগলো তখন তাদের একজন অন্যজনকে পাপে নিমজ্জিত দেখলে তাকে তা থেকে নিষেধ করত। কিন্তু সে তাকে যা করতে দেখেছে তা পরদিন তাকে তার সাথে পানাহার ও এক সাথে মাজলিসে উঠাবসা হতে নিবৃত্ত রাখল না। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাদের হৃদয়সমূহকে পরস্পর একাকার করে দিলেন। তাদের প্রসঙ্গেই কুরআন অবতীর্ণ হয়। তিনি পাঠ করেনঃ “বনী ইসরাঈলের মধ্যে যেসব লোক কুফরী করেছিল তাদের প্রতি দাউদ ও মারইয়ামের পুত্র ঈসার যবানে অভিশাপ করা হয়েছে। কেননা তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী”। তিনি তিলাওয়াত করতে করতে “তারা আল্লাহ তা'আলাতে, নবীতে ও তার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান আনলে ওদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না, কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক" (সূরাঃ আল-মায়িদাহ– ৭৯-৮১) পর্যন্ত পৌছলেন। রাবী বলেন, আল্লাহ তা'আলার নবী হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসে বলেনঃ না, তোমরা যালিমের হাত ধরে তাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত রক্ষা পাবে না। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস বুন্দার আবু দাউদ আত তাইয়া লিসী হতে তিনি মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু আবূল ওয়ায্যাহ হতে তিনি আলী ইবনু বাযীমা হতে তিনি আবূ উবাইদা হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا بندار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن علي بن بذيمة، عن ابي عبيدة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان بني اسراييل لما وقع فيهم النقص كان الرجل فيهم يرى اخاه على الذنب فينهاه عنه فاذا كان الغد لم يمنعه ما راى منه ان يكون اكيله وشريبه وخليطه فضرب الله قلوب بعضهم ببعض ونزل فيهم القران فقال : ( لعن الذين كفروا من بني اسراييل على لسان داود وعيسى ابن مريم ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون ) " . فقرا حتى بلغ : (ولو كانوا يومنون بالله والنبي وما انزل اليه ما اتخذوهم اولياء ولكن كثيرا منهم فاسقون ) قال وكان نبي الله صلى الله عليه وسلم متكيا فجلس فقال " لا حتى تاخذوا على يدى الظالم فتاطروه على الحق اطرا " . حدثنا بندار، حدثنا ابو داود الطيالسي، واملاه، على حدثنا محمد بن مسلم بن ابي الوضاح، عن علي بن بذيمة، عن ابي عبيدة، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহ! শরাবের ব্যাপারে আমাদের জন্য পরিপূর্ণ ও সুস্পষ্ট বর্ণনা দিন। এ প্রসঙ্গেই সূরা আল-বাকারার নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। বল, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও। কিন্তু এগুলোর পাপ এগুলোর উপকার অপেক্ষা বেশি” (সূরা আল-বাকারাহ ২১৯)। উমার (রাযিঃ)-কে ডেকে এনে তাকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করে শুনানো হল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! শরাবের ব্যাপারে আমাদের আরও সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিন। তখন সূরা আন-নিসার নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটেও যেও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার”— (সূরা আন-নিসা ৪৩)। উমার (রাযিঃ)-কে ডেকে এনে তাকে উক্ত আয়াত পাঠ করে শুনানো হল। উমার (রাযিঃ) আবারো বললেন, হে আল্লাহ! শরাবের ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট ও পূর্ণ বিবরণ দিন। তারপর সূরা আল-মাইদার এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) শাইতান তো শরাব ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শক্রতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার স্মরণে ও নামাযে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?”— (সূরা আল-মায়িদাহ ৯১) উমর (রাযিঃ)-কে ডেকে এনে তাকে এ আয়াত পাঠ করে শুনানো হল। তিনি বললেন, আমরা নিবৃত হলাম, আমরা নিবৃত হলাম। সহীহঃ সহীহাহ (২৩৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, ইসরাঈলের সূত্রে এটি মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা-ওয়াকী হতে, তিনি ইসরাঈল হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ মাইসারাহ (রহঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহ! শরাব ও মাদক দ্রব্য প্রসঙ্গে আমাদের জন্য সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিন ..... তারপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এটি মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফের হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا محمد بن يوسف، اخبرنا اسراييل، حدثنا ابو اسحاق، عن عمر بن شرحبيل ابي ميسرة، عن عمر بن الخطاب، انه قال اللهم بين لنا في الخمر بيان شفاء فنزلت التي في البقرة : ( يسالونك عن الخمر والميسر ) الاية فدعي عمر فقريت عليه فقال اللهم بين لنا في الخمر بيان شفاء فنزلت التي في النساءايها الذين امنوا لا تقربوا الصلاة وانتم سكارى ) فدعي عمر فقريت عليه فقال اللهم بين لنا في الخمر بيان شفاء فنزلت التي في المايدة : ( انما يريد الشيطان ان يوقع بينكم العداوة والبغضاء في الخمر والميسر ) الى قوله ( فهل انتم منتهون ) فدعي عمر فقريت عليه فقال انتهينا انتهينا . قال ابو عيسى وقد روي عن اسراييل هذا الحديث مرسل . حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا وكيع، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن ابي ميسرة، عمرو بن شرحبيل ان عمر بن الخطاب، قال اللهم بين لنا في الخمر بيان شفاء . فذكر نحوه وهذا اصح من حديث محمد بن يوسف
। আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শরাব হারাম হওয়ার পূর্বেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের বেশ কয়েকজন মারা যান। শরাব হারাম হওয়ার পর লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, আমাদের ঐ সকল সাখীদের কি হবে, যারা শরাব পানে অভ্যস্ত থাকা অবস্থায় মারা গেছেন! তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে সেজন্য তাদের কোনরূপ গুনাহ নেই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও উত্তম কাজ করে, সাবধান হয় ও ঈমান আনে, আবার সাবধান হয় ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন”— (সূরা আল-মায়িদাহ ৯৩)। পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। শু'বাহ (রাহঃ) আবূ ঈসহাক (রাহঃ) এর বরাতে এটি আল-বারাআ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। বুন্দার এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء، قال مات رجال من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قبل ان تحرم الخمر فلما حرمت الخمر قال رجال كيف باصحابنا وقد ماتوا يشربون الخمر فنزلت : ( ليس على الذين امنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا اذا ما اتقوا وامنوا وعملوا الصالحات ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশ কিছু সাহাবী শরাব নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে মদ্যপানে অভ্যস্ত অবস্থায় মারা যান। শরাব হারাম হওয়া সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীদের কেউ কেউ বলেন, আমাদের ঐসব সার্থীদের কি হবে, যারা শরাব পানে অভ্যস্ত থাকাকালে মারা গেছেন! তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে, সেজন্য তাদের কোন গুনাহ নেই.....”— (সূরা আল-মায়িদাহ ৯৩)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
وقد رواه شعبة عن ابي اسحاق، عن البراء، ايضا حدثنا بذلك، محمد بن بشار بندار حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، بهذا قال قال البراء بن عازب مات ناس من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وهم يشربون الخمر فلما نزل تحريمها قال ناس من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فكيف باصحابنا الذين ماتوا وهم يشربونها فنزلت : ( ليس على الذين امنوا وعملوا الصالحات ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ্যপান হারাম হওয়ার পর লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল" মদ্যপান হারাম হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যারা শরাবপানে অভ্যস্ত থাকাকালে মারা গেছে তাদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তখন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ (অনুবাদ) “যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে সেজন্য তাদের কোনরূপ গুনাহ নেই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে”— (সূরা মায়িদাহ ৯৩)। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد العزيز بن ابي رزمة، عن اسراييل، عن سماك، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قالوا يا رسول الله ارايت الذين ماتوا وهم يشربون الخمر لما نزل تحريم الخمر فنزلت : ( ليس على الذين امنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا اذا ما اتقوا وامنوا وعملوا الصالحات ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে সেজন্য তাদের কোন গুনাহ নেই...” (সূরা আল-মায়িদাহ ৯৩), এই আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। সহীহঃ মুসলিম (১/১৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا خالد بن مخلد، عن علي بن مسهر، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال لما نزلت : ( ليس على الذين امنوا وعملوا الصالحات جناح فيما طعموا اذا ما اتقوا وامنوا وعملوا الصالحات ) قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " انت منهم " . قال هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি গোশত খেলে স্ত্রীসহবাসের জন্য অস্থির হয়ে পড়ি এবং যৌনাবেগ আমাকে ব্যাকুল করে তোলে। তাই আমি নিজের জন্য গোশত খাওয়া হারাম করে নিয়েছি। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট ও পবিত্র যেসব বস্তু হালাল করেছেন, তোমরা সেগুলোকে হারাম করে নিও না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে যা কিছু হালাল ও উৎকৃষ্ট রিযিক দান করেছেন তোমরা তা হতে খাও এবং আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা ঈমান এনেছ"- (সূরা আল-মায়িদাহ ৮৭, ৮৮)। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উসমান ইবনু সা'দ হতে কেউ কেউ এটিকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। তাতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই। খালিদ এ হাদীসটি ইকরিমাহ (রাহঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عمرو بن علي ابو حفص الفلاس، حدثنا ابو عاصم، حدثنا عثمان بن سعد، حدثنا عكرمة، عن ابن عباس، ان رجلا، اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اني اذا اصبت اللحم انتشرت للنساء واخذتني شهوتي فحرمت على اللحم . فانزل الله : ( يا ايها الذين امنوا لا تحرموا طيبات ما احل الله لكم ولا تعتدوا ان الله لا يحب المعتدين وكلوا مما رزقكم الله حلالا طيبا ) قال هذا حديث حسن غريب . ورواه بعضهم عن عثمان بن سعد مرسلا ليس فيه عن ابن عباس ورواه خالد الحذاء عن عكرمة مرسلا
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “লোকদের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হাজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য" (সূরাঃ আলে-ইমরান- ৯৭), এই আয়াত অবতীর্ণ হলে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর (কি হাজ্জ করতে হবে) তিনি নিরব থাকলেন। তারা আবার বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! প্রতি বছর কি? তিনি বললেন, না। তবে আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তাই ওয়াজিব হত। তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা, এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের জন্য প্রকাশ করা হলে তোমাদের মন্দ লাগবে" (সূরাঃ আল-মায়িদাহ– ১০১) যঈফ, পূর্বেও (৮১১) নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে আবূ ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ)-এর হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا منصور بن وردان، عن علي بن عبد الاعلى، عن ابيه، عن ابي البختري، عن علي، قال لما نزلت : ( ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا ) قالوا يا رسول الله في كل عام فسكت قالوا يا رسول الله في كل عام قال " لا ولو قلت نعم لوجبت " . فانزل الله : ( يا ايها الذين امنوا لا تسالوا عن اشياء ان تبد لكم تسوكم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من حديث علي . وفي الباب عن ابي هريرة وابن عباس
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা কে? তিনি বললেনঃ তোমার বাবা অমুক। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশিত হলে তা তোমাদের কষ্ট দিবে”— (সূরা আল-মায়িদাহ ১০১)। সহীহঃ বুখারী (২৬২১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا محمد بن معمر ابو عبد الله البصري، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا شعبة، اخبرني موسى بن انس، قال سمعت انس بن مالك، يقول قال رجل يا رسول الله من ابي قال " ابوك فلان " . فنزلت : ( يا ايها الذين امنوا لا تسالوا عن اشياء ان تبد لكم تسوكم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح
। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে লোক সকল! তোমরা এ আয়াত পাঠ করে থাক (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না" (সূরা আল-মায়িদাহ ১০৫)। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ কোন যালিমকে যুলুম ও অত্যাচার করতে দেখেও তার হাত ধরে তাকে নিবৃত্ত না করলে অচিরেই আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ব্যাপকভাবে শাস্তি দিবেন। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইসমাঈল ইবনু আবী খালিদের সূত্রে অপরাপর বর্ণনাকারীও এটিকে মারফুরূপে একই রকম বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ ইসমাঈল হতে কাইস (রাহঃ)-এর সূত্রে এটিকে আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা এটিকে মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، حدثنا اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، عن ابي بكر الصديق، انه قال يا ايها الناس انكم تقرءون هذه الاية : ( يا ايها الذين امنوا عليكم انفسكم لا يضركم من ضل اذا اهتديتم ) واني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان الناس اذا راوا ظالما فلم ياخذوا على يديه اوشك ان يعمهم الله بعقاب منه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه غير واحد عن اسماعيل بن ابي خالد نحو هذا الحديث مرفوعا وروى بعضهم عن اسماعيل عن قيس عن ابي بكر قوله ولم يرفعوه
। আবূ উমাইয়্যা আশ-শাবানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে বললাম, এ আয়াত প্রসঙ্গে আপনি কি করণীয় বলে ঠিক করেছেন? তিনি বললেনঃ কোন আয়াত? আমি বললাম, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে বিপথগামী হয়েছে সে তোমাদের কোন লোকসান করতে পারবে না" (সূরাঃ আল-মায়িদাহ– ১০৫)। আবূ সালাবা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ জেনেছে এমন একজনকে প্রশ্ন করেছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেনঃ বরং তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিতে থাক এবং খারাপ কাজ হতে বিরত করতে থাক। অবশেষে যখন দেখবে কৃপণতার বশ্যতা করা হচ্ছে, নাফসের অনুসরণ করা হচ্ছে, দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেকে নিজের মতকে সর্বোত্তম মনে করছে, তখন তুমি শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষায় নিয়োজিত থেকে এবং সাধারণের ভাবনা ছেড়ে দিও। কারণ তোমাদের পর এমন যুগ আসবে, যখন (দীনের উপর) সবর করে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় ধারণ করে রাখার মত (যন্ত্রণাদায়ক) হবে। ঐ সময় দীনের উপর আমলকারীর প্রতিদান হবে তোমাদের মত পঞ্চাশজন আমলকারীর প্রতিদানের সমান। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) বলেনঃ উতবা ছাড়া অপরাপর রাবীর রিওয়ায়াত আরো আছে, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজন না তাদের মধ্যকার পঞ্চাশজন আমলকারীর সমান? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজনের সমান তার সাওয়াব হবে। যঈফ, নাকদুল কাত্তানী (২৭/২৭), মিশকাত (৫১৪৪) কিন্তু হাদীসের কিছু অংশ সহীহ, দেখুন হাদীস নং (২৩৬১)। সহীহা (৫৯৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا سعيد بن يعقوب الطالقاني، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا عتبة بن ابي حكيم، حدثنا عمرو بن جارية اللخمي، عن ابي امية الشعباني، قال اتيت ابا ثعلبة الخشني فقلت له كيف تصنع في هذه الاية قال اية اية قلت قوله : ( يا ايها الذين امنوا عليكم انفسكم لا يضركم من ضل اذا اهتديتم ) قال اما والله لقد سالت عنها خبيرا سالت عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " بل ايتمروا بالمعروف وتناهوا عن المنكر حتى اذا رايت شحا مطاعا وهوى متبعا ودنيا موثرة واعجاب كل ذي راى برايه فعليك بخاصة نفسك ودع العوام فان من ورايكم اياما الصبر فيهن مثل القبض على الجمر للعامل فيهن مثل اجر خمسين رجلا يعملون مثل عملكم " . قال عبد الله بن المبارك وزادني غير عتبة قيل يا رسول الله اجر خمسين رجلا منا او منهم قال " لا بل اجر خمسين منكم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তামীম আদ-দারী (রাঃ) নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি ও আদী ইবনু বাদ্দা ব্যতীত অপর কারো সাথে তা সম্পর্কিত নয়ঃ “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের মধ্যে.কারো মৃত্যু হাযির হয় তখন ওসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে ন্যায়নিষ্ঠ দু'জনকে সাক্ষী রাখবে” (সূরাঃ আল-মাইদা- ১০৬)। তারা দু’জনই ছিলেন নাসারা। ইসলাম কবুলের পূর্বে বাণিজ্যের উদ্দশ্যে তাদের সিরিয়ায় আসা যাওয়া ছিল। কোন এক সময় তারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া যান। বানু সাহমের গোলাম বুদাইল ইবনু আবূ মারইয়ামও ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে তাদের নিকট আসলো। তার নিকট একটি রূপার পানপাত্র ছিল। তিনি এটি বাদশার নিকট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে এনেছিলেন। তার ব্যবসায় পণ্যের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোৎকৃষ্ট। হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তাদের (তামীমুদ দারী ও আদী ইবনু বাদ্দা) উভয়কে ওসিয়াত করেন যে, (তার মারা যাবার পর) তার রেখে যাওয়া মালামাল যেন তারা তার পরিজনকে পৌছে দেয়। তামীম (রাঃ) বলেনঃ তিনি মারা গেলে আমরা পানপত্রটি নিয়ে গিয়ে এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করি এবং বিক্রয়লব্ধ টাকা আমি ও আদী ইবনু বাদা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেই। আমরা তার পরিবার-পরিজনের নিকট পৌছে, আমাদের নিকট যা কিছু সঞ্চিত ছিল তা তাদের ফিরিয়ে দিলাম। কিন্তু তারা পানপাত্রটি না পেয়ে আমাদেরকে সেটি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। আমরা বললাম, সে তো আমাদের নিকট ইহা ব্যতীত আর কিছু রেখে যায়নি। তামীম (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাদীনায় পদার্পণের পর যখন আমি ইসলাম কুবুল করি, তখন আমি আমার এ অপকর্মের জন্য নিজেকে দোষী মনে করলাম (এবং এ হতে মুক্ত হতে চাইলাম)। তাই আমি তার পরিজনের নিকট এসে তাদের আসল ঘটনা খুলে বললাম এবং তাদের পাঁচ শত দিরহাম দিয়ে দিলাম। আমি তাদের এও বললাম, আমার সংগীর (আদী ইবনু বাদা) নিকটও সমপরিমাণ (দিরহাম) রয়েছে। তারা তখন বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলো। তিনি তাদের নিকট প্রমাণ চাইলে তারা তা পেশ করতে অক্ষম হয়। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যে, তারা আদী ইবনু বাদ্দাকে এমনভাবে কসম করতে বলবে যেভাবে কসম করলে তার ধর্মের দৃষ্টিতে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়। তারপর আদী শপথ করল (নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য)। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে মু’মিনগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু হাযির হয় তখন ওসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু'জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে... আল্লাহ তা'আলা সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না” (সূরাঃ আল-মায়িদাহ১০৬-১০৮)। তারপর আমর ইবনুল আস (রাঃ) ও অপর এক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে উঠলেন এবং শপথ করলেন। অবশেষে আদী ইবনু বাদ্দার নিকট হতে পাঁচ শত দিরহাম আদায় করা হয়। সনদ অত্যন্ত দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এটির সনদ সহীহ নয়। আর যে আবূন নাযরের নিকট হতে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আমার মতে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবী। আবূন নাদর হল তার ডাকনাম। মুহাদ্দীসগণ তাকে বর্জন করেছেন। তিনি একজন তাফসীরকারও। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবীর ডাকনাম আবূন নাযর। উম্মু হানী (রাঃ)-এর মুক্তগোলাম আবূ সালিহ হতে সালিম আবূন নাযর আল-মাদীনীর কোন বর্ণনা আছে বলে আমাদের জানা নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ বিষয়ে সংক্ষেপিত আকারে ভিন্নরূপে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু সাহমের এক লোক তামীমুদ দারী (রা) ও ‘আদী ইবনু বাদ্দার সাথে (সফরে) বের হয়। বানু সাহমের লোকটি এমন এক এলাকায় মারা গেল, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। ঐ দুই ব্যক্তি তার পরিত্যক্ত সম্পদ নিয়ে তার পরিজনের নিকট ফিরে এলে তারা তার মধ্যে স্বর্ণখচিত রূপার পানপত্রটি খুজে পেল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে শপথ করালেন। তার ওয়ারিশরা পরে মক্কায় ঐ পানপত্রটি দেখতে পায়। তাদের বলা হয়, আমরা এটি তামীম ও আদীর নিকট হতে কিনেছি। সাহমীর ওয়ারিশদের মধ্য হতে দুইজন লোক দাবি নিয়ে উঠে এবং আল্লাহর শপথ করে বলে, আমাদের সাক্ষ্য উক্ত দুইজনের সাক্ষ্যের চাইতে অনেক বেশি সত্য ও গ্রহণযোগ্য। নিঃসন্দেহে এ পানপত্রটি তাদের সাথীরই। এদের সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “হে মু’মিনগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন ওয়াসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে..."— (সূরা আল-মায়িদাহ ১০৬)। সহীহঃ বুখারী (২৭৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি হল ইবনু আবী যায়িদার রিওয়ায়াত।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا يحيى بن ادم، عن ابن ابي زايدة، عن محمد بن ابي القاسم، عن عبد الملك بن سعيد، عن ابيه، عن ابن عباس، قال خرج رجل من بني سهم مع تميم الداري وعدي بن بداء فمات السهمي بارض ليس فيها مسلم فلما قدما بتركته فقدوا جاما من فضة مخوصا بالذهب فاحلفهما رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم وجد الجام بمكة فقيل اشتريناه من عدي وتميم فقام رجلان من اولياء السهمي فحلفا بالله لشهادتنا احق من شهادتهما وان الجام لصاحبهم . قال وفيهم نزلت : ( يا ايها الذين امنوا شهادة بينكم ) هذا حديث حسن غريب وهو حديث ابن ابي زايدة
। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আকাশ হতে (ঈসা (আঃ)-এর উম্মাতের জন্য) খাঞ্চাভর্তি রুটি ও গোশত পাঠানো হয়। তাদের প্রতি হুকুম ছিল তারা যেন খিয়ানাত না করে এবং আগামী কালের জন্য তা সঞ্চয় করে না রাখে। কিন্তু তারা এতে খিয়ানাত করল ও তা থেকে জমা করল এবং আগামী কালের জন্য তুলে রাখল। ফলে তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিনত করা হল। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আবূ আসিম প্রমুখ সাঈদ ইবনু আবূ আরুবা হতে তিনি কাতাদা হতে তিনি খিলাস হতে তিনি আম্মার (রাঃ) সূত্রে মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন। হাসান ইবনু কাযাআর রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটিকে আমরা মারফু বলে জানি না। হুমাইদ ইবনু মাসআদা-সুফিয়ান ইবনু হাবীব হতে তিনি সাঈদ ইবনু আবূ আরুবার সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে এবং এই সূত্রে তা মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। এটি হাসান ইবনু কাযাআর রিওয়ায়াতের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ। মারফুরূপে বর্ণিত রিওয়ায়াতটির কোন ভিত্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই।
حدثنا الحسن بن قزعة، حدثنا سفيان بن حبيب، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن خلاس بن عمرو، عن عمار بن ياسر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انزلت المايدة من السماء خبزا ولحما وامروا ان لا يخونوا ولا يدخروا لغد فخانوا وادخروا ورفعوا لغد فمسخوا قردة وخنازير " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . قد رواه ابو عاصم وغير واحد عن سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن خلاس عن عمار بن ياسر موقوفا ولا نعرفه مرفوعا الا من حديث الحسن بن قزعة . حدثنا حميد بن مسعدة، حدثنا سفيان بن حبيب، عن سعيد بن ابي عروبة، نحوه ولم يرفعه وهذا اصح من حديث الحسن بن قزعة ولا نعلم للحديث المرفوع اصلا
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঈসা (আঃ)-কে তার যুক্তি-প্রমাণ শিখিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলাই তাকে তা শিখিয়ে দেন। যেমন নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা যখন বললেনঃ হে ঈসা ইবনু মারিয়াম! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, তোমরা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আমাকে এবং আমার মাকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর”— (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৬)? আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ তখন আল্লাহ তা'আলাই ঈসা (আঃ)-কে উত্তর শিক্ষা দিলেনঃ “তিনি বললেন, তুমি মহিমান্বিত। যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়... তবে তুমি তো পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়"- (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৬-১১৮)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن طاوس، عن ابي هريرة، قال تلقى عيسى حجته ولقاه الله في قوله : ( واذ قال الله يا عيسى ابن مريم اانت قلت للناس اتخذوني وامي الهين من دون الله ) قال ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم فلقاه الله : ( سبحانك ما يكون لي ان اقول ما ليس لي بحق ) الاية كلها . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হল সূরা আল-মায়িদাহ। সনদ হাসান, হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর একটি শাহিদ বর্ণনা করেছেন। ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ ছাড়া ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও একটি বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সবশেষে অবতীর্ণ সূরা হচ্ছে “ইয জা-য়া নাসরুল্লা-হ"- (সূরা নাসর)।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الله بن وهب، عن حيى، عن ابي عبد الرحمن الحبلي، عن عبد الله بن عمرو، قال اخر سورة انزلت سورة المايدة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وروي عن ابن عباس انه قال اخر سورة انزلت : (اذا جاء نصر الله والفتح)
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমরা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলি না, বরং তুমি যে জিনিস নিয়ে এসেছ তাকেই আমরা মিথ্যা মনে করি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে না, বরং যালিমরা আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে..." (সূরাঃ আল-আনআম- ৩৩) সনদ দুর্বল ইসহাক ইবনু মানসূর-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে তিনি সুফিয়ান হতে তিনি আবূ ইসহাক-এর সূত্রে নাজিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল.... এরপর এরকমই বর্ণনা করেন। তবে এই সনদে আলী (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটাই বেশি সহীহ। পূর্বের হাদীসের ন্যায় এটিও দুর্বল
حدثنا ابو كريب، حدثنا معاوية بن هشام، عن سفيان، عن ابي اسحاق، عن ناجية بن كعب، عن علي، ان ابا جهل، قال للنبي صلى الله عليه وسلم انا لا نكذبك ولكن نكذب بما جيت به فانزل الله : ( انهم لا يكذبونك ولكن الظالمين بايات الله يجحدون ) . حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا عبد الرحمن بن مهدي، عن سفيان، عن ابي اسحاق، عن ناجية، ان ابا جهل، قال للنبي صلى الله عليه وسلم فذكر نحوه ولم يذكر فيه عن علي وهذا اصح
। 'আমর ইবনু দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “বল তিনি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করতে সক্ষম", তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “(হে আল্লাহ) আমি আপনার (মর্যাদাবান) মুখমণ্ডলের (সত্বার) নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি"। পরে আবার অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং এক দলকে অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ আস্বাদন করাতে সক্ষম”— (সূরা আল-আন’আম ৬৫)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দুটিই অপেক্ষাকৃত সহজতর। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২০৫৮, ২০৫৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، سمع جابر بن عبد الله، يقول لما نزلت هذه الاية : (قل هو القادر على ان يبعث عليكم عذابا من فوقكم او من تحت ارجلكم ) قال النبي صلى الله عليه وسلم " اعوذ بوجهك " . فلما نزلت ( او يلبسكم شيعا ويذيق بعضكم باس بعض ) قال النبي صلى الله عليه وسلم " هاتان اهون - او - هاتان ايسر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, “বল, তিনি তোমাদের উপর তোমাদের উপর হতে অথবা তোমাদের পদতল হতে শাস্তি প্রেরণে সক্ষম” (সূরাঃ আল-আনআম– ৬৫), এ আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেনঃ এরূপ সংঘটিত হবেই কিন্তু তার ব্যাখ্যা এখনো বাস্তব লাভ করেনি। সনদ দুর্বল আবু ঈসা বলেনঃ এ হাসিসটি হাসান গারীব।
حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن ابي بكر بن ابي مريم الغساني، عن راشد بن سعد، عن سعد بن ابي وقاص، عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذه الاية: (قل هو القادر على ان يبعث عليكم عذابا من فوقكم او من تحت ارجلكم ) فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اما انها كاينة ولم يات تاويلها بعد " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
حدثنا الحسن بن احمد بن ابي شعيب الحراني، حدثنا محمد بن سلمة الحراني، حدثنا محمد بن اسحاق، عن ابي النضر، عن باذان، مولى ام هاني عن ابن عباس، عن تميم الداري، في هذه الاية : ( يا ايها الذين امنوا شهادة بينكم اذا حضر احدكم الموت ) قال بري منها الناس غيري وغير عدي بن بداء وكانا نصرانيين يختلفان الى الشام قبل الاسلام فاتيا الشام لتجارتهما وقدم عليهما مولى لبني سهم يقال له بديل بن ابي مريم بتجارة ومعه جام من فضة يريد به الملك وهو عظم تجارته فمرض فاوصى اليهما وامرهما ان يبلغا ما ترك اهله قال تميم فلما مات اخذنا ذلك الجام فبعناه بالف درهم ثم اقتسمناه انا وعدي بن بداء فلما قدمنا الى اهله دفعنا اليهم ما كان معنا وفقدوا الجام فسالونا عنه فقلنا ما ترك غير هذا وما دفع الينا غيره قال تميم فلما اسلمت بعد قدوم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة تاثمت من ذلك فاتيت اهله فاخبرتهم الخبر واديت اليهم خمسماية درهم واخبرتهم ان عند صاحبي مثلها فاتوا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالهم البينة فلم يجدوا فامرهم ان يستحلفوه بما يعظم به على اهل دينه فحلف فانزل الله : ( يا ايها الذين امنوا شهادة بينكم اذا حضر احدكم الموت ) الى قوله : ( او يخافوا ان ترد ايمان بعد ايمانهم ) . فقام عمرو بن العاص ورجل اخر فحلفا فنزعت الخمسماية درهم من عدي بن بداء . قال ابو عيسى هذا حديث غريب وليس اسناده بصحيح . وابو النضر الذي روى عنه محمد بن اسحاق هذا الحديث هو عندي محمد بن السايب الكلبي يكنى ابا النضر وقد تركه اهل الحديث وهو صاحب التفسير سمعت محمد بن اسماعيل يقول محمد بن السايب الكلبي يكنى ابا النضر . قال ابو عيسى ولا نعرف لسالم ابي النضر المدني رواية عن ابي صالح مولى ام هاني وقد روي عن ابن عباس شيء من هذا على الاختصار من غير هذا الوجه