Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩১ হাদিসসমূহ
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১২৬) এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন ও যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি হিশাম হতে বর্ণিত হিসেবে জেনেছি। আবূল মুসান্নার নাম সুলাইমান, পিতা ইয়াযীদ। ইবনু আবূ ফুদাইক তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কুরবানীকারীর জন্য প্রতিটি লোমের বিনিময়ে সাওয়াব আছে। অপর এক বর্ণনায় আছে 'প্রতিটি শিং-এর বিনিময়ে। খুবই দুর্বল, মিশকাত
حدثنا ابو عمرو، مسلم بن عمرو بن مسلم الحذاء المدني حدثنا عبد الله بن نافع الصايغ ابو محمد، عن ابي المثنى، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما عمل ادمي من عمل يوم النحر احب الى الله من اهراق الدم انها لتاتي يوم القيامة بقرونها واشعارها واظلافها وان الدم ليقع من الله بمكان قبل ان يقع من الارض فطيبوا بها نفسا " . قال وفي الباب عن عمران بن حصين وزيد بن ارقم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه من حديث هشام بن عروة الا من هذا الوجه . وابو المثنى اسمه سليمان بن يزيد . روى عنه ابن ابي فديك . - قال ابو عيسى ويروى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال " في الاضحية لصاحبها بكل شعرة حسنة " . ويروى " بقرونها
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং যুক্ত ধুসর রং-এর দুটি মেষ কুরবানী করেছেন। তিনি এ দু'টিকে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে যবেহ করেছেন- এর পাজরে নিজের পা রেখে চেপে ধরে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২০), নাসা-ঈ আলী, আইশা, আবু হুরাইরা, আবু আইয়ুব, জাবির, আবুদ দারাদা আবূ রাফি, ইবনু উমার ও আবূ বাকরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكبشين املحين اقرنين ذبحهما بيده وسمى وكبر ووضع رجله على صفاحهما . قال وفي الباب عن علي وعايشة وابي هريرة وابي ايوب وجابر وابي الدرداء وابي رافع وابن عمر وابي بكرة ايضا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি দুটি মেষ কুরবানী করতেন, একটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে এবং অপরটি নিজের পক্ষ হতে। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই হুকুম করেছেন। অতএব আমি কখনও তা বাদ দেব না। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু শারীকের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। একদল আলিম মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার অনুমতি দিয়েছেন এবং অপর একদল তা জায়িয মনে করেন না। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) বলেন, মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার পরিবর্তে দান-খাইরাত করাই আমি পছন্দ করি। তবে মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করা হলে তার সম্পূর্ণ গোশত দান করে দিতে হবে, নিজেরা খেতে পারবে না। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেনঃ আলী ইবনু আল মাদীনী বলেছেনঃ এ হাদীটি শারীক ছাড়া অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আমি (তিরমিয়ী) বললাম আবূল হাসনার নাম কি? তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। মুসলিম বলেছেন তার নাম হাসান।
حدثنا محمد بن عبيد المحاربي الكوفي، حدثنا شريك، عن ابي الحسناء، عن الحكم، عن حنش، عن علي، انه كان يضحي بكبشين احدهما عن النبي صلى الله عليه وسلم والاخر عن نفسه، فقيل له فقال امرني به يعني النبي صلى الله عليه وسلم - فلا ادعه ابدا . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث شريك . وقد رخص بعض اهل العلم ان يضحى عن الميت ولم ير بعضهم ان يضحى عنه . وقال عبد الله بن المبارك احب الى ان يتصدق عنه ولا يضحى عنه وان ضحى فلا ياكل منها شييا ويتصدق بها كلها . قال محمد قال علي بن المديني وقد رواه غير شريك . قلت له ابو الحسناء ما اسمه فلم يعرفه . قال مسلم اسمه الحسن
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং বিশিষ্ট ও মোটাতাজা (শক্তিশালী) একটি মেষ কুরবানী করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন। আমরা শুধু হাফস ইবনু গিয়াসের সূত্রেই তা জেনেছি।
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا حفص بن غياث، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، قال ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكبش اقرن فحيل ياكل في سواد ويمشي في سواد وينظر في سواد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث حفص بن غياث
। আবূ কিবাশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ছয়মাস বয়সের কিছু সংখ্যক মেষ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদীনায় আনলাম। কিন্তু সেগুলো বাজারে বিক্রয় হল না (মূল্য কমে গেল)। আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ "ছয় মাস বয়সের মেষ কুরবানীর জন্য কতই না উত্তম!” রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) লোকেরা মেষগুলো সাথে সাথে ছিনিয়ে নিল (তাড়াহুড়া করে কিনে নিল)। যঈফ, যঈফা (৪), মিশকাত (১৪৬৮), ইরওয়া (১১৪৩) এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, উম্মু বিলাল বিনতি হিলাল তার পিতার সূত্রে, জাবির, উকবা ইবনু আমির (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো একজন সাহাবী হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। এটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। উসমান ইবনু ওয়াকিদ, তিনি হলেন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার ইবনুল খাত্তাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও তার পরবর্তী আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাদের মতে কুরবানীর জন্য ছয়মাস বয়সের ছাগল-ভেড়া যথেষ্ট।
حدثنا يوسف بن عيسى، حدثنا وكيع، حدثنا عثمان بن واقد، عن كدام بن عبد الرحمن، عن ابي كباش، قال جلبت غنما جذعانا الى المدينة فكسدت على فلقيت ابا هريرة فسالته فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " نعم - او نعمت - الاضحية الجذع من الضان " . قال فانتهبه الناس . قال وفي الباب عن ابن عباس وام بلال ابنة هلال عن ابيها وجابر وعقبة بن عامر ورجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن غريب . وقد روي هذا عن ابي هريرة موقوفا . وعثمان بن واقد هو ابن محمد بن زياد بن عبد الله بن عمر بن الخطاب . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الجذع من الضان يجزي في الاضحية
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হল। তখন আমরা একটি গরুতে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি উটে দশজন অংশীদার হয়ে কুরবানী আদায় করলাম। সহীহ, পূর্বে ৮৯৮ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূল আসাদ আস-সুলামী পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে এবং আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র ফাযল ইবনু মূসার সূত্রেই জেনেছি।
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، حدثنا الفضل بن موسى، عن الحسين بن واقد، عن علباء بن احمر، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فحضر الاضحى فاشتركنا في البقرة سبعة وفي البعير عشرة . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي الاسود السلمي عن ابيه عن جده وابي ايوب . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث الفضل بن موسى
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুদাইবিয়া নামক জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি উটে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি গরুতেও সাতজন অংশীদার হয়ে কুরবানী সম্পন্ন করেছি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩২), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। একই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের (সাতজন পর্যন্ত উট-গরুতে অংশীদার হওয়া যায়)। ইসহাক (রাহঃ) আরো বলেন, দশজন মানুষও একটি উটে অংশীদার হতে পারে। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসকে তার এ মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا مالك بن انس، عن ابي الزبير، عن جابر، قال نحرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحديبية البدنة عن سبعة والبقرة عن سبعة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق . وقال اسحاق يجزي ايضا البعير عن عشرة . واحتج بحديث ابن عباس
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাতজন ব্যক্তি পর্যন্ত একটি গরুতে অংশীদার হওয়া যায়। আমি (হুযাইয়্যা) বললাম, বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হলে (অর্থাৎ পেটে বাচ্চা পাওয়া গেলে) তিনি বললেন, বাচ্চাটিকেও এর সাথে যবেহ কর। আমি বললাম, গরুটি খোড়া হলে? তিনি বললেন, যদি তা কুরবানীর স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে (তবে তা কুরবানী করা যাবে)। আমি বললাম, তার শিং ভাঙ্গা হলে? তিনি বললেন, এতে কোন সমস্যা নেই। আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে অথবা আমরা যেন কুরবানীর পশুর (কেনার সময়) দুই চোখ ও দুই কান - ভালভাবে দেখে নেই। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩১৪৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে সুফিয়ান সাওরী ও সালামা ইবনু কুহাইলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا شريك، عن سلمة بن كهيل، عن حجية بن عدي، عن علي، قال البقرة عن سبعة، . قلت فان ولدت قال اذبح ولدها معها . قلت فالعرجاء قال اذا بلغت المنسك . قلت فمكسورة القرن قال لا باس امرنا او امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستشرف العينين والاذنين . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال ابو عيسى وقد رواه سفيان الثوري عن سلمة بن كهيل
। আলী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং ভাঙ্গা ও কান কাটা পশু কুরবানী করতে মানা করেছেন। কাতাদা (রাহঃ) বলেছেন, আমি এ প্রসঙ্গে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রাহঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, "আল-আযব’ দ্বারা শিং-এর অর্ধেক বা তার বেশী ভাঙ্গাকে বুঝায়। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১৪৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن سعيد، عن قتادة، عن جرى بن كليب النهدي، عن علي، قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يضحى باعضب القرن والاذن . قال قتادة فذكرت ذلك لسعيد بن المسيب فقال العضب ما بلغ النصف فما فوق ذلك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) বলেন, আবূ আইয়ুব (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় কুরবানীর বিধান কেমন ছিল। তিনি বললেন, কোন লোক তার ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষে একটি ছাগল দ্বারা কুরবানী আদায় করত এবং তা নিজেরাও খেত, অন্যান্য লোকদেরকেও খাওয়াত। অবশেষে মানুষেরা গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ফলে পরিস্থিতি যা দাড়িয়েছে তা তুমি নিজেই দেখতে পাচ্ছ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৪৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উমারা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) মাদীনার বাসিন্দা ছিলেন। তার সূত্রে মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবেক কিছু অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (পুরো পরিবারের জন্য একটি কুরবানীই যথেষ্ট)। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটিকে নিজেদের মতের সমর্থনে দলিল হিসেবে পেশ করেছেনঃ “তিনি একটি মেষ কুরবানী করলেন এবং বললেন, আমার উন্মাতের মধ্যে যারা কুরবানী করতে অক্ষম তাদের পক্ষে এই কুরবানী”। অপর একদল অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, একটি ছাগল শুধু একজনের পক্ষে যথেষ্ট। এই মতটি দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক এবং অন্যান্য আলিমগণ।
حدثني يحيى بن موسى، حدثنا ابو بكر الحنفي، حدثنا الضحاك بن عثمان، حدثني عمارة بن عبد الله، قال سمعت عطاء بن يسار، يقول سالت ابا ايوب الانصاري كيف كانت الضحايا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال كان الرجل يضحي بالشاة عنه وعن اهل بيته فياكلون ويطعمون حتى تباهى الناس فصارت كما ترى . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وعمارة بن عبد الله هو مدني وقد روى عنه مالك بن انس . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم وهو قول احمد واسحاق واحتجا بحديث النبي صلى الله عليه وسلم انه ضحى بكبش فقال " هذا عمن لم يضح من امتي " . وقال بعض اهل العلم لا تجزي الشاة الا عن نفس واحدة وهو قول عبد الله بن المبارك وغيره من اهل العلم
। জাবালা ইবনু সুহাইম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি ইবনু উমার (রাঃ)-কে কুরবানী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করল, এটা কি ওয়াজিব। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী করেছেন এবং মুসলিমগণও (কুরবানী করেছেন)। সে আবার (একই বিষয়ে) প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, তুমি কি বুঝেছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী করেছেন এবং মুসলিমগণও। যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (১৪৭৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী আমল করেছেন। তাদের মতে কুরবানী ওয়াজিব নয়, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি সুন্নাত। তিনি এ কাজটি করা পছন্দ করতেন। সুফিয়ান সাওরী ও ইবনুল মুবারাকের এই মত।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا حجاج بن ارطاة، عن جبلة بن سحيم، ان رجلا، سال ابن عمر عن الاضحية، اواجبة هي فقال ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسلمون . فاعادها عليه فقال اتعقل ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسلمون . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم ان الاضحية ليست بواجبة ولكنها سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم يستحب ان يعمل بها وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় দশ বছর থেকেছেন এবং বরাবর (প্রতি বছর) কুরবানী করেছেন। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا احمد بن منيع، وهناد، قالا حدثنا ابن ابي زايدة، عن حجاج بن ارطاة، عن نافع، عن ابن عمر، قال اقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة عشر سنين يضحي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুৎবা প্রদান করলেন। তিনি বললেনঃ (ঈদের) নামায আদায়ের আগে তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন কুরবানী না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মামা দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজকের দিন তো এমন যে, পরে গোশত অপছন্দ লাগে। তাই আমি আমার পরিবারের সদস্যদের এবং প্রতিবেশীদেরকে খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন, তুমি আবার একটি পশু যবেহ করে দাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুধ খায় এমন একটি বকরীর বাচ্চা এখনও আমার নিকট আছে, যা দু'টি হৃষ্টপুষ্ট বকরীর চাইতেও উত্তম। আমি কি এটাকে যবেহ করে দেব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্য এটা উত্তম কুরবানী। তবে বকরীর এরূপ বাচ্চা কুরবানী করা তোমার পর আর কারো জন্য বৈধ হবে না। সহীহ, ইরওয়া (২৪৯৫), সহীহ আবূ দাউদ (২৪৯৫-২৪৯৬), মুসলিম, বুখারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জাবির, জুনদাব, আনাস, উয়াইমির ইবনু আশকার, ইবনু উমার ও আবূ যাইদ আল-আনসারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক বেশির ভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মত অনুযায়ী শহরবাসী জনগণের জন্য ইমামের নামায সমাপ্তির পূর্বে কুরবানী করা বৈধ নয়। একদল আলিম গ্রামবাসীদের জন্য ফজরের নামাযের সময় হওয়ার পরই কুরবানীর সম্মতি দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাকও। এ বিষয়ে আলিমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে যে, ছয় মাসের বকরীর বাচ্চা কুরবানী করা হলে তা যথেষ্ট হবে না। কিন্তু ছয় মাসের মেষের বাচ্ছা কুরবানী করলে তা বৈধ হবে।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن ابراهيم، عن داود بن ابي هند، عن الشعبي، عن البراء بن عازب، قال خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم نحر فقال " لا يذبحن احدكم حتى يصلي " . قال فقام خالي فقال يا رسول الله هذا يوم اللحم فيه مكروه واني عجلت نسكي لاطعم اهلي واهل داري او جيراني . قال " فاعد ذبحا اخر " . فقال يا رسول الله عندي عناق لبن وهي خير من شاتى لحم افاذبحها قال " نعم وهي خير نسيكتيك ولا تجزي جذعة لاحد بعدك " . قال وفي الباب عن جابر وجندب وانس وعويمر بن اشقر وابن عمر وابي زيد الانصاري . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم ان لا يضحى بالمصر حتى يصلي الامام وقد رخص قوم من اهل العلم لاهل القرى في الذبح اذا طلع الفجر وهو قول ابن المبارك . قال ابو عيسى وقد اجمع اهل العلم ان لا يجزي الجذع من المعز وقالوا انما يجزي الجذع من الضان
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি তার কুরবানীর গোশত যেন তিন দিনের অধিক না খায়। সহীহ, ইরওয়া (১১৫৫), বুখারী, মুসলিম অনুরূপ এই বিধান পরবর্তী হাদীসের দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে। আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তিন দিনের পরে কুরবানীর গোশত খেতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় নিষেধ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা (বেশি দিন) খাওয়ার সম্মতি দেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا ياكل احدكم من لحم اضحيته فوق ثلاثة ايام " . قال وفي الباب عن عايشة وانس . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح . - وانما كان النهى من النبي صلى الله عليه وسلم متقدما ثم رخص بعد ذلك
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরবানীর গোশত তিন দিনের পরেও রাখতে (খেতে) আমি তোমাদেরকে বারণ করেছিলাম, যেন সম্পদশালীরা উদারহস্তে তাদের গোশত দরিদ্রদের মধ্যে দান করে। এখন তোমরা ইচ্ছামত তৃপ্তিসহকারে তা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং জমা করেও রাখতে পার। সহীহ, ইরওয়া (৪/৩৬৮-৩৬৯), মুসলিম ইবনু মাসউদ, আইশা, নুবাইশা, আবূ সাঈদ, কাদাতা ইবনু নুমান, আনাস ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، ومحمود بن غيلان، والحسن بن علي الخلال، وغير، واحد، قالوا اخبرنا ابو عاصم النبيل، حدثنا سفيان الثوري، عن علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كنت نهيتكم عن لحوم الاضاحي فوق ثلاث ليتسع ذو الطول على من لا طول له فكلوا ما بدا لكم واطعموا وادخروا " . قال وفي الباب عن ابن مسعود وعايشة ونبيشة وابي سعيد وقتادة بن النعمان وانس وام سلمة . قال ابو عيسى حديث بريدة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم
। আবিস ইবনু রবীআহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন (আইশা)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশত (তিন দিনের বেশী) খেতে মানা করেছিলেন? তিনি বললেনঃ না, তবে কুরবানী করার মত সামর্থ্যবান লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তাই তিনি চাচ্ছিলেন, যারা কুরবানী করতে সমর্থ হয়নি তারাও যেন গোশত খেতে পারে। আমরা কুরবানীর পশুর পায়া রেখে দিতাম এবং দশ দিন পরও তা খেতাম। এই বর্ণনাটি দুর্বল, এর মূল বক্তব্য সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে। ইরওয়া (৪/৩৭০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এখানে উম্মুল মু'মিনীন বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আইশা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। উল্লেখিত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে তার নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو الاحوص، عن ابي اسحاق، عن عابس بن ربيعة، قال قلت لام المومنين اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن لحوم الاضاحي قالت لا ولكن قل من كان يضحي من الناس فاحب ان يطعم من لم يكن يضحي ولقد كنا نرفع الكراع فناكله بعد عشرة ايام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وام المومنين هي عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وقد روي عنها هذا الحديث من غير وجه
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (এখন আর কোন) ফারাআ নেই, আতীরাহও নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৬৮), নাসা-ঈ উট বা ছাগল-ভেড়ার প্রথম বাচ্চাকে ফারাআ বলে। আরব মুশরিকরা এটাকে তাদের দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে যবেহ করত। নুবাইশা, মিখনাফ ইবনু সুলাইম ও আবিল উশারার পিতা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রজাব মাস হারাম মাসগুলোর মধ্যে প্রথম মাস হওয়ার কারণে এর সম্মানার্থে আরব মুশরিকরা পশু যবেহ করত। এ উদ্দেশ্যে যবেহকৃত পশুকে আতীরাহ বলে। হারাম মাসগুলো হচ্ছেঃ রজব, যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুহাররাম। হাজ্জের মাসগুলো হচ্ছেঃ শাওয়াল, যিলকাদ ও যিলহজ্জের প্রথম দশদিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবী ও তৎপরবতীদের হতে হাজের মাসগুলি প্রসঙ্গে এমতই বর্ণিত আছে।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا فرع ولا عتيرة " . والفرع اول النتاج كان ينتج لهم فيذبحونه . قال وفي الباب عن نبيشة ومخنف بن سليم وابي العشراء عن ابيه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعتيرة ذبيحة كانوا يذبحونها في رجب يعظمون شهر رجب لانه اول شهر من اشهر الحرم واشهر الحرم رجب وذو القعدة وذو الحجة والمحرم واشهر الحج شوال وذو القعدة وعشر من ذي الحجة كذلك روي عن بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في اشهر الحج