Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩১ হাদিসসমূহ
। ইউসুফ ইবনু মাহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা কয়েকজন একত্রিত হয়ে আবদুর রাহমানের মেয়ে হাফসার নিকট গেলেন। তারা তাকে আকীকার ব্যপারে প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে জানান যে, তাকে আইশা (রাঃ) জানিয়েছেন, ছেলে সন্তানের পক্ষে একই বয়সের দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি বকরী আকীকা দেওয়ার জন্যে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩৬) আলী, উম্মু কুরজ, বুরাইদা, সামুরা, আবূ হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস, সালমান ইবনু আমির ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাফসা হচ্ছেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর ছেলে আবদুর রাহমানের মেয়ে।
حدثنا ابو سلمة، يحيى بن خلف البصري حدثنا بشر بن المفضل، اخبرنا عبد الله بن عثمان بن خثيم، عن يوسف بن ماهك، انهم دخلوا على حفصة بنت عبد الرحمن فسالوها عن العقيقة، فاخبرتهم ان عايشة اخبرتها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امرهم عن الغلام شاتان مكافيتان وعن الجارية شاة . قال وفي الباب عن علي وام كرز وبريدة وسمرة وابي هريرة وعبد الله بن عمرو وانس وسلمان بن عامر وابن عباس . قال ابو عيسى حديث عايشة حديث حسن صحيح . وحفصة هي بنت عبد الرحمن بن ابي بكر الصديق
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ রাফি) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) হাসান ইবনু আলী (রাঃ)-কে প্রসব করলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসানের কানে নামাযের আযানের মতই আযান দিতে দেখেছি। যঈফ, যঈফা নতুন সংস্করণ (১/৪৯৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আকীকা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদীস "ছেলে সন্তানের পক্ষ হতে সমবয়সী দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করতে হবে" অনুযায়ী আমল করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি একটি বকরী দিয়ে হাসান ইবনু আলীর আকীকা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، قالا اخبرنا سفيان، عن عاصم بن عبيد الله، عن عبيد الله بن ابي رافع، عن ابيه، قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذن في اذن الحسن بن علي حين ولدته فاطمة بالصلاة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل عند اهل العلم في العقيقة على ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه عن الغلام شاتان مكافيتان وعن الجارية شاة . - وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم ايضا انه عق عن الحسن بشاة وقد ذهب بعض اهل العلم الى هذا الحديث
। উম্মু কুরয (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি আকীকার ব্যপারে প্রশ্ন করেন। তিনি বললেনঃ ছেলে সন্তানের পক্ষে দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি বকরী (আকীকা দিতে হবে)। আকীকার পশু নর বা মাদী যাই হোক না কেন তাতে তোমাদের কোন অসুবিধা নেই। সহীহ, ইরওয়া (৪/৩৯১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عبد الرزاق، عن ابن جريج، اخبرنا عبيد الله بن ابي يزيد، عن سباع بن ثابت، ان محمد بن ثابت بن سباع، اخبره ان ام كرز اخبرته انها، سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة فقال " عن الغلام شاتان وعن الجارية واحدة ولا يضركم ذكرانا كن ام اناثا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরবানীর জন্য উত্তম পশু হল মেষ এবং উত্তম কাফন হল হুল্লা (হুল্লা অর্থ– নতুন কাপড় অথবা সমস্ত শরীর আবূত করে এমন কাপড়)। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১৬৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উফাইর ইবনু মাদানকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে।
حدثنا سلمة بن شبيب، حدثنا ابو المغيرة، عن عفير بن معدان، عن سليم بن عامر، عن ابي امامة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خير الاضحية الكبش وخير الكفن الحلة " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . وعفير بن معدان يضعف في الحديث
। মিখনাফ ইবনু সুলাইম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা আরাফাতের মাঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ হে জনসমষ্টি! প্রতি বছর প্রতিটি পরিবারের পক্ষ হতে কুরবানী ও আতীরা রয়েছে। তোমরা কি জান, আতীরা কী? তোমরা যাকে রাজাবিয়া বল এটা তাই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই ইবনু আওনের রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا ابن عون، حدثنا ابو رملة، عن مخنف بن سليم، قال كنا وقوفا مع النبي صلى الله عليه وسلم بعرفات فسمعته يقول " يا ايها الناس على كل اهل بيت في كل عام اضحية وعتيرة هل تدرون ما العتيرة هي التي تسمونها الرجبية " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ولا نعرف هذا الحديث الا من هذا الوجه من حديث ابن عون
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি বকরী দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসানের আকীকা করেন এবং বলেনঃ হে ফাতিমা! তার মাথা নেড়া করে দাও এবং তার চুলের ওজনের অনুরূপ রূপা দান কর। তদানুযায়ী আমি তার চুল ওজন করলাম এবং তার ওজন এক দিরহাম বা তার কাছাকাছি হয়। হাসান, ইরওয়া (১১৭৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। বর্ণনাকারী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আলী হুসাইন (রাহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি।
حدثنا محمد بن يحيى القطعي، حدثنا عبد الاعلى بن عبد الاعلى، عن محمد بن اسحاق، عن عبد الله بن ابي بكر، عن محمد بن علي بن الحسين، عن علي بن ابي طالب، قال عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن بشاة وقال " يا فاطمة احلقي راسه وتصدقي بزنة شعره فضة " . قال فوزنته فكان وزنه درهما او بعض درهم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب واسناده ليس بمتصل . وابو جعفر محمد بن علي بن الحسين لم يدرك علي بن ابي طالب
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরা (রহঃ) হতে তার বাবার সুত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযের (পর) খুৎবা প্রদান করলেন। তারপর মিম্বার হতে নেমে দুটি মেষ আনতে বললেন। তারপর এ দু'টোকে তিনি যবেহ করলেন। সহীহ, মুসলিম (৫/১০৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا ازهر بن سعد السمان، عن ابن عون، عن محمد بن سيرين، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم خطب ثم نزل فدعا بكبشين فذبحهما . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ৰলেন, আমি মাঠে হাযির হলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদুল আযহার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে। তিনি খুৎবা সমাপ্তির পর তার মিম্বার হতে নামলেন। তারপর একটি ভেড়া আনা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলার নামে, আল্লাহ মহান, এই কুরবানী আমার পক্ষ হতে এবং আমার উম্মাতের যে সকল ব্যক্তিরা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ হতে। সহীহ, ইরওয়া (১১৩৮), সহীহ আবূ দাউদ (২৫০১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন যবাহের সময় “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" বলতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাকও। মুত্তালিবের পুত্র আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, জাবির (রাঃ)-এর নিকট হতে তিনি কিছু শুনার সুযোগ লাভ করেননি।
حدثنا قتيبة، حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن، عن عمرو بن ابي عمرو، عن المطلب، عن جابر بن عبد الله، قال شهدت مع النبي صلى الله عليه وسلم الاضحى بالمصلى فلما قضى خطبته نزل عن منبره فاتي بكبش فذبحه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده وقال " بسم الله والله اكبر هذا عني وعمن لم يضح من امتي " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان يقول الرجل اذا ذبح بسم الله والله اكبر وهو قول ابن المبارك . والمطلب بن عبد الله بن حنطب يقال انه لم يسمع من جابر
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল শিশুই তার আকীকার সাথে বন্ধক (দায়বদ্ধ) অবস্থায় থাকে। জনুগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে যবেহ করতে হবে, তার নাম রাখতে হবে এবং তার মাথা নেড়া করতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৬৫) আল-হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াজীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবূ আরুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আল-হাসান হতে, তিনি সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও উপরে বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন শিশু জন্মগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে আকীকা করাটা মুস্তাহাব, সপ্তম দিনে অক্ষম হলে চৌদতম দিনে এবং সেই তারিখেও অক্ষম হলে একুশতম দিনে। তারা আরো বলেন, যে ধরনের বকরী কুরবানীর জন্য বৈধ সেই ধরনের বকরী আকীকার জন্যও বৈধ।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক যিলহাজের নতুন চাঁদ দেখেছে এবং কুরবানীর নিয়াত করেছে সে যেন নিজের চুল ও নখ (কুরবানী পূর্ব পর্যন্ত) না কাটে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৪৯), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সহীহ বর্ণনামতে নামটি হবে আমর ইবনু মুসলিম (উমার ইবনু মুসলিম নয়)। তার নিকট হতে মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আলকামা ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি একাধিকভাবে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। একদল আলিমের এই অভিমত (তারা কুরবানী করার আগে নখ-চুল না কাটার কথা বলেছেন)। এ কথা বলেছেন সাঈদ ইবনুল মুসইয়্যিবও। এ হাদীস মোতাবিক আহমাদ ও ইসহাকও আমল করেছেন। নখ-চুল কাটার পক্ষে অন্য একদল আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। তারা বলেছেন, (কুরবানী করার পূর্বে) নখ-চুল কাটায় সমস্যা নেই। একথা বলেছেন শাফিঈ। তিনি দলীল হিসাবে আইশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস দেখিয়েছেন। "মাদীনা হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) কুরবানীর পশু পাঠাতেন। কিন্তু যেসব কাজ হতে মুহরিম বিরত থাকে তিনি তা হতে বিরত থাকতেন না।”
حدثنا احمد بن الحكم البصري، حدثنا محمد بن جعفر، عن شعبة، عن مالك بن انس، عن عمرو، او عمر بن مسلم عن سعيد بن المسيب، عن ام سلمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من راى هلال ذي الحجة واراد ان يضحي فلا ياخذن من شعره ولا من اظفاره " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والصحيح هو عمرو بن مسلم قد روى عنه محمد بن عمرو بن علقمة وغير واحد . وقد روي هذا الحديث عن سعيد بن المسيب عن ام سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير هذا الوجه نحو هذا . وهو قول بعض اهل العلم وبه كان يقول سعيد بن المسيب والى هذا الحديث ذهب احمد واسحاق . ورخص بعض اهل العلم في ذلك فقالوا لا باس ان ياخذ من شعره واظفاره . وهو قول الشافعي واحتج بحديث عايشة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يبعث بالهدى من المدينة فلا يجتنب شييا مما يجتنب منه المحرم