Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৪৩ হাদিসসমূহ
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঈয ইবনু মালিককে পাথর মারার আদেশ করলে আমরা তাকে নিয়ে আল-বাকী’ নামক স্থানে যাই। আল্লাহর কসম! আমরা তাকে বাঁধিওনি এবং তার জন্য গর্তও খনন করিনি; কিন্তু তবু সে দাঁড়িয়ে থাকে। আবূ কামিল বললেন, আবূ সাঈদ বলেছেন, অতঃপর আমরা তার শরীরে হাড়, মাটির ঢিলা ও কংকর নিক্ষেপ করতে লাগলাম। সে দৌড়াতে লাগলো, আমরাও তার পিছনে দৌড়াতে লাগলাম। অবশেষে সে সেই প্রস্তরময় প্রান্তরের এক প্রান্তে গিয়ে আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে গেলো। আমরা তাকে পাথর নিক্ষেপ করলাম। অবশেষে সে চুপ হয়ে গেলো (মৃত্যুবরণ করলো)। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেননি, তাকে গালিও দেননি।[1] সহীহ।
حدثنا ابو كامل، حدثنا يزيد، - يعني ابن زريع - ح وحدثنا احمد بن منيع، عن يحيى بن زكريا، - وهذا لفظه - عن داود، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال لما امر النبي صلى الله عليه وسلم برجم ماعز بن مالك خرجنا به الى البقيع فوالله ما اوثقناه ولا حفرنا له ولكنه قام لنا . - قال ابو كامل قال - فرميناه بالعظام والمدر والخزف فاشتد واشتددنا خلفه حتى اتى عرض الحرة فانتصب لنا فرميناه بجلاميد الحرة حتى سكت - قال - فما استغفر له ولا سبه
। আবূ নাদরাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলো। অতঃপর অনুরূপ সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন, তবে অপূর্ণাঙ্গভাবে। তিনি বলেন, উপস্থিত জনতা লোকটিকে গালি দিতে শুরু করলে তিনি তাদের নিষেধ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলে তিনি তাদের নিষেধ করে বললেনঃ লোকটি গুনাহ করেছে, আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণের জন্য যথেষ্ট।[1] যঈফ মুরসালঃ ইরওয়া (৭/২৫৫-২৫৬)।
حدثنا مومل بن هشام، حدثنا اسماعيل، عن الجريري، عن ابي نضرة، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وليس بتمامه قال ذهبوا يسبونه فنهاهم قال ذهبوا يستغفرون له فنهاهم قال " هو رجل اصاب ذنبا حسيبه الله
। ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঈযের মুখের গন্ধ শুঁকলেন, (নেশাগ্রস্ত কিনা জানার জন্য)।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن ابي بكر بن ابي شيبة، حدثنا يحيى بن يعلى بن الحارث، حدثنا ابي، عن غيلان، عن علقمة بن مرثد، عن ابن بريدة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم استنكه ماعزا
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ পরস্পর আলোচনা করতাম যে, ‘গামিদ’ গোত্রের ঐ নারী এবং মাঈয ইবনু মালিক যদি তাদের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতো অথবা তিনি বলেন, তারা স্বীকারোক্তির পর যদি তার পুনরাবৃত্তি না করতো, তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের তলব করতেন না। তিনি তাদেরকে পাথর মেরেছেন চারবার স্বীকারোক্তির পর।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া হা/ ২৩৫৯।
حدثنا احمد بن اسحاق الاهوازي، حدثنا ابو احمد، حدثنا بشير بن المهاجر، حدثني عبد الله بن بريدة، عن ابيه، قال كنا اصحاب رسول الله نتحدث ان الغامدية وماعز بن مالك لو رجعا بعد اعترافهما او قال لو لم يرجعا بعد اعترافهما لم يطلبهما وانما رجمهما عند الرابعة
। খালিদ ইবনু লাজলাজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বাজারে বসে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা একটি শিশুসহ এ পথ দিয়ে যাচ্ছিল। কিছু লোকেরা তার সঙ্গে ভীড় করছিল এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার সঙ্গের এ শিশুর পিতা কে? সে চুপ থাকলো। তার পাশে দাঁড়ানো এক যুবক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমিই এ শিশুটির পিতা। তিনি মহিলার দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমার সঙ্গের এ শিশুটির পিতা কে? যুবকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর পিতা। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চারপাশের লোকজনের নিকট তার সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বললো, তাকে আমরা ভালো লোক বলেই জানি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বললো, হ্যাঁ। অতঃপর তাঁর হুকুমে লোকটিকে পাথর মারা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম, তার জন্য গর্ত খনন করে তাকে তাতে রাখলাম এবং তাকে রজম করলাম। ফলে সে মারা গেলো। একজন লোক এসে পাথর নিক্ষেপে নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগলো। আমরা তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, এ লোকটি এসে অপবিত্র ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো মহান আল্লাহর নিকট মৃগনাভীর চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত। পরে দেখা গেলো যে, আগন্তুক লোকটি নিহত ব্যক্তির পিতা। অতঃপর আমরা তাকে এর গোসল, কাফন ও দাফন করতে সাহায্য করি। খালিদ বলেন, তার জানাযার সালাত পড়া হয়েছিল কিনা এ সম্পর্কে আমি জানি না।[1] সনদ হাসান।
حدثنا عبدة بن عبد الله، ومحمد بن داود بن صبيح، قال عبدة اخبرنا حرمي بن حفص، قال حدثنا محمد بن عبد الله بن علاثة، حدثنا عبد العزيز بن عمر بن عبد العزيز، ان خالد بن اللجلاج، حدثه ان اللجلاج اباه اخبره انه، كان قاعدا يعتمل في السوق فمرت امراة تحمل صبيا فثار الناس معها وثرت فيمن ثار فانتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول " من ابو هذا معك " . فسكتت فقال شاب حذوها انا ابوه يا رسول الله . فاقبل عليها فقال " من ابو هذا معك " . قال الفتى انا ابوه يا رسول الله . فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى بعض من حوله يسالهم عنه فقالوا ما علمنا الا خيرا . فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " احصنت " . قال نعم . فامر به فرجم . قال فخرجنا به فحفرنا له حتى امكنا ثم رميناه بالحجارة حتى هدا فجاء رجل يسال عن المرجوم فانطلقنا به الى النبي صلى الله عليه وسلم فقلنا هذا جاء يسال عن الخبيث . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لهو اطيب عند الله من ريح المسك " . فاذا هو ابوه فاعناه على غسله وتكفينه ودفنه وما ادري قال والصلاة عليه ام لا . وهذا حديث عبدة وهو اتم
। খালিদ ইবনুল লাজলাজ (রাঃ) থেকে তার পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরোক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণিত।[1] সনদ হাসান।
حدثنا هشام بن عمار، حدثنا صدقة بن خالد، ح وحدثنا نصر بن عاصم الانطاكي، حدثنا الوليد، جميعا قالا حدثنا محمد، - قال هشام محمد بن عبد الله الشعيثي - عن مسلمة بن عبد الله الجهني، عن خالد بن اللجلاج، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم ببعض هذا الحديث
। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে স্বীকারোক্তি করলো যে, সে এক নারীর সঙ্গে যেনা করেছে। সে তাঁর নিকট সেই নারীর নামও বলেছে। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই নারীর নিকট লোক পাঠিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে তা অস্বীকার কলে। অতএব তিনি পুরুষ লোকটির উপর বেত্রাঘাতের হাদ্দ কার্যকর করেন এবং নারীকে রেহাই দেন।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا طلق بن غنام، حدثنا عبد السلام بن حفص، حدثنا ابو حازم، عن سهل بن سعد، عن النبي صلى الله عليه وسلم ان رجلا اتاه فاقر عنده انه زنى بامراة سماها له فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى المراة فسالها عن ذلك فانكرت ان تكون زنت فجلده الحد وتركها
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি এক মহিলার সঙ্গে যেনা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। অতঃপর তাঁকে অবহিত করা হয় যে, সে বিবাহিত; কাজেই তিনি নির্দেশ দিলে তাকে পাথর মারা হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু বাকর আল-বুরসানী এ হাদীস ইবনু জুরাইজ থেকে জাবির (রাঃ) সূত্রে মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘আসিম এ হাদীস ইবনু জুরাইজ সূত্রে ইবনু ওয়াহবের মতই বর্ণনা করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি যেনা করলো, কিন্তু সে বিবাহিত কিনা তা জানা গেলো না। অতএব তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। পরে তার বৈবাহিক অবস্থা জানা গেলে তাকে রজম করা হয়।[1] সনদ দুর্বল।
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا ح، وحدثنا ابن السرح، - المعنى - قال اخبرنا عبد الله بن وهب، عن ابن جريج، عن ابي الزبير، عن جابر، ان رجلا، زنى بامراة فامر به النبي صلى الله عليه وسلم فجلد الحد ثم اخبر انه محصن فامر به فرجم . قال ابو داود روى هذا الحديث محمد بن بكر البرساني عن ابن جريج موقوفا على جابر . ورواه ابو عاصم عن ابن جريج بنحو ابن وهب لم يذكر النبي صلى الله عليه وسلم قال ان رجلا زنى فلم يعلم باحصانه فجلد ثم علم باحصانه فرجم
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক লোক জনৈকা স্ত্রীলোকের সঙ্গে ব্যভিচার করে। পুরুষটি বিবাহিত কি না তা জানা যায়নি। সুতরাং তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। অতঃপর তার বৈবাহিক অবস্থা জানা গেলে তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়।[1] দুর্বল মাওকুফ।
حدثنا محمد بن عبد الرحيم ابو يحيى البزاز، اخبرنا ابو عاصم، عن ابن جريج، عن ابي الزبير، عن جابر، ان رجلا، زنى بامراة فلم يعلم باحصانه فجلد ثم علم باحصانه فرجم
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা জুহাইনাহ গোত্রের জনৈকা মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, সে যেনা করেছে এবং অন্তঃসত্তা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে এনে বলেনঃ এর সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যখন সে সন্তান প্রসব করবে, তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো। অতঃপর সে সন্তান প্রসব করলে অভিবাবক তাকে নিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। অতঃপর তিনি সাহাবীদের আদেশ দিলেন তার জানাযার সালাত পড়তে। উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযার সালাত পড়বেন? সে তো যেনা করেছে। তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! সে এরূপ তওবা করেছে, যা মদীনাবাসীদের সত্তরজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেও তাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে। তুমি তার চাইতে উত্তম কোনো ব্যক্তিকে পাবে যে নিজের সত্তাকে উৎসর্গ করে দিলো। আবান সূত্রে বর্ণিত হাদীসে কাপড় দিয়ে বাঁধার কথাটুকু নেই।[1] সহীহ।
حدثنا مسلم بن ابراهيم، ان هشاما الدستوايي، وابان بن يزيد، حدثاهم - المعنى، - عن يحيى، عن ابي قلابة، عن ابي المهلب، عن عمران بن حصين، ان امراة، - قال في حديث ابان من جهينة - اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت انها زنت وهي حبلى . فدعا النبي صلى الله عليه وسلم وليا لها فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " احسن اليها فاذا وضعت فجي بها " . فلما ان وضعت جاء بها فامر بها النبي صلى الله عليه وسلم فشكت عليها ثيابها ثم امر بها فرجمت ثم امرهم فصلوا عليها فقال عمر يا رسول الله تصلي عليها وقد زنت قال " والذي نفسي بيده لقد تابت توبة لو قسمت بين سبعين من اهل المدينة لوسعتهم وهل وجدت افضل من ان جادت بنفسها " . لم يقل عن ابان فشكت عليها ثيابها
। আওযাঈ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে তার কাপড় শক্তভাবে পরানো হয়।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن الوزير الدمشقي، حدثنا الوليد، عن الاوزاعي، قال فشكت عليها ثيابها . يعني فشدت
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। গামিদ গোত্রের এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি ব্যভিচার করেছি, তিনি বললেনঃ ফিরে যাও। সে ফিরে চলে গেলো। পরদিনে সকালে সে আবার তাঁর নিকট এসে বললো, আপনি যেরূপ মাঈয ইবনু মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সম্ভবত আমাকেও সেরূপ ফিরিয়ে দিতে চান। আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই গর্ভবতী। তিনি এবারো তাকে ফিরিয়ে যেতে বললে সে চলে গেলো। পরদিন সে পুনরায় আসতেই তিনি বললেনঃ তুমি ফির যাও, যতক্ষণ না সন্তান প্রসব করো। সে ফিরে গেলো। যখন সে পুত্র সন্তান প্রসব করলো, তখন সেই শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে এসে বললো, এই শিশুটিকে আমি প্রসব করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তাকে দুধ পান করাতে থাকো। অবশেষে দুধ ছাড়ানো হলে শিশুটিকে নিয়ে সে হাযির হলো। শিশুটি খাদ্য হাতে নিয়ে খাচ্ছিল। তিনি একজন মুসলিমে তার ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর তার জন্য গর্ত খনন করতে আদেশ দিলেন তা খনন করা হলো এবং পাথর মেরে হত্যার আদেশ দিলে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। তাকে পাথর মারার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে খালিদ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাকে পাথর মারলে এক ফোঁটা রক্ত ছিটে এসে তাঁর গাড়ে পড়তেই তিনি তাকে গালি দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে খালিদ! অনুগ্রহ করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! সে এরূপ তওবা করেছে যে, কোনো যালিম কর আদায়কারীও যদি সেরূপ তওবা করতো, তাহলে অবশ্যই তাকে মাফ করা হতো। অতঃপর তাঁর আদেশে তার জানাযার সালাত পড়া হয় এবং তাকে দাফন করা হয়।[1] সহীহ।
حدثنا ابراهيم بن موسى الرازي، اخبرنا عيسى بن يونس، عن بشير بن المهاجر، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن ابيه، ان امراة، - يعني من غامد - اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت اني قد فجرت . فقال " ارجعي " . فرجعت فلما كان الغد اتته فقالت لعلك ان تردني كما رددت ماعز بن مالك فوالله اني لحبلى . فقال لها " ارجعي " . فرجعت فلما كان الغد اتته فقال لها " ارجعي حتى تلدي " . فرجعت فلما ولدت اتته بالصبي فقالت هذا قد ولدته . فقال لها " ارجعي فارضعيه حتى تفطميه " . فجاءت به وقد فطمته وفي يده شىء ياكله فامر بالصبي فدفع الى رجل من المسلمين وامر بها فحفر لها وامر بها فرجمت وكان خالد فيمن يرجمها فرجمها بحجر فوقعت قطرة من دمها على وجنته فسبها فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " مهلا يا خالد فوالذي نفسي بيده لقد تابت توبة لو تابها صاحب مكس لغفر له " . وامر بها فصلي عليها فدفنت
। ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা মহিলাকে রজম করেন। তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খনন করা হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এক লোক উসমান সূত্রে বর্ণনা করে এ হাদীস আমাকে বুঝিয়ে দেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, গাসসানী বলেছেন, জুহাইনা গামিদ ও বারিক একই গোত্র।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا وكيع بن الجراح، عن زكريا ابي عمران، قال سمعت شيخا، يحدث عن ابن ابي بكرة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم رجم امراة فحفر لها الى الثندوة . قال ابو داود افهمني رجل عن عثمان . قال ابو داود قال الغساني جهينة وغامد وبارق واحد
। যাকারিয়া ইবনু সুলাইম সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো আছেঃ অতঃপর তাকে চানাবুটের ক্ষুদ্র কংকর নিক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেনঃ তার মুখমন্ডল বাদ দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করো। সে যখন মারা গেলো, তাকে গর্ত থেকে বের করলেন এবং তার জানাযা পড়লেন। তার তওবা সম্পর্কে বুরাইদাহ বর্ণিত হাদীসের মতই বলেছেন।[1] সনদ দুর্বল।
قال ابو داود حدثت عن عبد الصمد بن عبد الوارث، قال حدثنا زكريا بن سليم، باسناده نحوه زاد ثم رماها بحصاة مثل الحمصة ثم قال " ارموا واتقوا الوجه " . فلما طفيت اخرجها فصلى عليها وقال في التوبة نحو حديث بريدة
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসঊদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ এবং যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দু’ বিবাদমান ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তাদের একজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন অনুসারে আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দ্বিতীয়জন বললো, সে ছিলো তাদের দু’ জনের মধ্যে অধিক বুদ্ধিমান, হ্যাঁ ঠিক আছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিন, আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বলো। সে বললো, আমার ছেলে এই লোকটির শ্রমিক ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। কতক লোক আমাকে জানিয়েছে, আমার ছেলের দন্ড হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা। সুতরাং আমি তার পক্ষ থেকে একশী বকরী ও আমার একটি দাসী জরিমানা দেই। পুনরায় আমি এ ব্যাপারে জ্ঞানীদের প্রশ্ন করলে তারা আমাকে বলেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর এই লোকটির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা। এ ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জেনে রাখো, যে পবিত্র সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করবো। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফিরে পাবে। অতঃপর তিনি তার ছেলেকে একশো বেত্রাঘাত করেন এবং এক বছরের নির্বাসন দেন এবং উনাইস আল-আসলামীকে আদেশ দেন অপর লোকটির স্ত্রীর নিকট যেতে এবং সে যদি স্বীকারোক্তি করে তাহলে তাকে রজম করতে। অতএব সে স্বীকারোক্তি করলে তিনি তাকে রজম করলেন।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، انهما اخبراه ان رجلين اختصما الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال احدهما يا رسول الله اقض بيننا بكتاب الله . وقال الاخر وكان افقههما اجل يا رسول الله فاقض بيننا بكتاب الله وايذن لي ان اتكلم . قال " تكلم " . قال ان ابني كان عسيفا على هذا - والعسيف الاجير - فزنى بامراته فاخبروني انما على ابني الرجم فافتديت منه بماية شاة وبجارية لي ثم اني سالت اهل العلم فاخبروني انما على ابني جلد ماية وتغريب عام وانما الرجم على امراته . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله اما غنمك وجاريتك فرد اليك " . وجلد ابنه ماية وغربه عاما وامر انيسا الاسلمي ان ياتي امراة الاخر فان اعترفت رجمها فاعترفت فرجمها
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, তাদের একজোড়া নারী-পুরুষ যেনা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তাওরাতে তোমরা যেনা সম্বন্ধে কি হুকুম পেয়েছো? তারা বললো, আমরা তো অপমান করি এবং তাদেরকে বেত্রাঘাত করা হয়। একথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, তোমরা মিথ্যা বলেছো। নিশ্চয়ই তাতে রজম করার হুকুম বিদ্যমান। অতঃপর তারা তাওরাত কিতাব নিয়ে আসে এবং তা খোলে। তাদের একজন তার একটি হাত রজমের আয়াতের উপর রেখে দিয়ে এর পূর্বাপর পড়তে থাকে। আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে হাত উঠিয়ে নিতে আদেশ দেন। সে হাত উঠিয়ে নিতেই দেখা গেলো যে, তাতে রজমের আয়াত রয়েছে। তারা বললো, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যিই বলেছেন, নিশ্চয়ই তাতে রজমের আয়াত আছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে দু’ জনকেই রজম করা হলো। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن مسلمة، قال قرات على مالك بن انس عن نافع، عن ابن عمر، انه قال ان اليهود جاءوا الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكروا له ان رجلا منهم وامراة زنيا فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما تجدون في التوراة في شان الزنا " . فقالوا نفضحهم ويجلدون . فقال عبد الله بن سلام كذبتم ان فيها الرجم . فاتوا بالتوراة فنشروها فجعل احدهم يده على اية الرجم ثم جعل يقرا ما قبلها وما بعدها فقال له عبد الله بن سلام ارفع يدك . فرفعها فاذا فيها اية الرجم فقالوا صدق يا محمد فيها اية الرجم . فامر بهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجما . قال عبد الله بن عمر فرايت الرجل يحني على المراة يقيها الحجارة
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কালিমা মাখা মুখ বিশিষ্ট এক ইয়াহুদীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাকে জনসমক্ষে ঘুরানো হচ্ছিল। তিনি তাদের কসম দিয়ে বলেন, তাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ কি? বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাঁকে তাদের মধ্যকার একজনকে দেখিয়ে দিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ ঘটলে তাদের শাস্তি থেকে রেহাই দেয়া এবং অন্যদের শাস্তি দেয়া আমরা পছন্দ করলাম না। অতএব আমরা উপরোক্ত শাস্তি বাতিল করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! তারা তোমার কিতাবের যে অংশের মৃত্যু ঘটিয়েছিল আমিই প্রথম তা পুনর্জীবিত করলাম।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد بن زياد، عن الاعمش، عن عبد الله بن مرة، عن البراء بن عازب، قال مروا على رسول الله صلى الله عليه وسلم بيهودي قد حمم وجهه وهو يطاف به فناشدهم ما حد الزاني في كتابهم قال فاحالوه على رجل منهم فنشده النبي صلى الله عليه وسلم " ما حد الزاني في كتابكم " . فقال الرجم ولكن ظهر الزنا في اشرافنا فكرهنا ان يترك الشريف ويقام على من دونه فوضعنا هذا عنا . فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجم ثم قال " اللهم اني اول من احيا ما اماتوا من كتابك
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেত্রাঘাতকৃত জনৈক ইয়াহুদীর মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তাদের ডেকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমরা কি যেনাকারীর এরূপ শাস্তির হুকুম পেয়েছ? তারা বললো, হ্যাঁ। অতএব তিনি তাদের একজন আলিমকে ডেকে বললেনঃ তোমাকে সেই আল্লাহর কসম করে বলছি যিনি মূসা (আঃ)-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! তোমাদের কিতাবে যেনাকারীদের এরূপ শাস্তির কথা উল্লেখ পেয়েছে কি? সে বললো, হে আল্লাহ! না। আপনি যদি এ বিষয়ে আমাকে আল্লাহর কসম না দিতেন, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে বলতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যেনাকারীর শাস্তি রজমের উল্লেখ পেয়েছি। কিন্তু আমাদের অভিজাত সমাজে যেনার বিস্তার ঘটলে আমরা কোনো মর্যাদাসম্পন্ন লোককে এ অপরাধে ধরতে পারলেও ছেড়ে দিতাম; তবে দুর্বলদের কাউকে পেলে তার উপর শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। অতঃপর আমরা সকলকে আহবান করে বললাম, চলুন, আমরা যেনার শাস্তির ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছে এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই, যাতে সকল শ্রেণীর লোকদের উপর তা বাস্তবায়িত করা যায়। অতঃপর আমরা এর শাস্তিস্বরূপ মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে অপমান করা এবং বেত্রাঘাত করাতে একমত হই এবং ‘রজম’ পরিত্যাগ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তোমার নির্দেশকে পুনর্জীবন দান করেছি, তারা একে প্রাণহীন করার পর। অতঃপর তাঁর নির্দেশে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে এ আয়াতগুলো নাযিল করেনঃ ‘‘হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয় ... তারা বলে, তোমাদেরকে এরূপ বিধান দেয়া হলে তোমরা তা গ্রহণ করো অন্যথায় তোমরা বর্জন করো ... আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির (ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে) ... আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই যালিম (ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে) ... আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারা পাপাচারী’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪১-৪৭)। তিনি বলেন, এ আয়াতগুলো কাফির অবাধ্যদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عبد الله بن مرة، عن البراء بن عازب، قال مر على رسول الله صلى الله عليه وسلم بيهودي محمم مجلود فدعاهم فقال " هكذا تجدون حد الزاني " . فقالوا نعم . فدعا رجلا من علمايهم قال له " نشدتك بالله الذي انزل التوراة على موسى هكذا تجدون حد الزاني في كتابكم " . فقال اللهم لا ولولا انك نشدتني بهذا لم اخبرك نجد حد الزاني في كتابنا الرجم ولكنه كثر في اشرافنا فكنا اذا اخذنا الرجل الشريف تركناه واذا اخذنا الرجل الضعيف اقمنا عليه الحد فقلنا تعالوا فنجتمع على شىء نقيمه على الشريف والوضيع فاجتمعنا على التحميم والجلد وتركنا الرجم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم اني اول من احيا امرك اذ اماتوه " . فامر به فرجم فانزل الله عز وجل { يا ايها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر } الى قوله { يقولون ان اوتيتم هذا فخذوه وان لم توتوه فاحذروا } الى قوله { ومن لم يحكم بما انزل الله فاوليك هم الكافرون } في اليهود الى قوله { ومن لم يحكم بما انزل الله فاوليك هم الظالمون } في اليهود الى قوله { ومن لم يحكم بما انزل الله فاوليك هم الفاسقون } قال هي في الكفار كلها يعني هذه الاية
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একদল ইয়াহুদী এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কুফ’ নামক উপত্যকায় ততে আবেদন জানালো। তিনি তাদের এক পাঠাগারে উপস্থিত হলেন। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আমাদের এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সঙ্গে যেনা করেছে। সুতরাং আপনি এদের সম্পর্কে ফায়সালা দিন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলো। তিনি তাতে বসে তাদের বললেনঃ তোমরা একখানি তাওরাত নিয়ে এসো। তাওরাত নিয়ে আসা হলে তিনি তাঁর নীচে বিছানো বালিশ টেনে নিয়ে তার উপর তাওরাত রাখলেন এবং বললেনঃ আমি তোমার প্রতি এবং তোমায় যিনি নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে নিয়ে এসো। অতএব এক যুবককে আনা হলো। অতঃপর তিনি (ইবনু উমার) নাফি থেকে মালিক সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ ‘রজম’ সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করেন।[1] হাসান।
حدثنا احمد بن سعيد الهمداني، حدثنا ابن وهب، حدثني هشام بن سعد، ان زيد بن اسلم، حدثه عن ابن عمر، قال اتى نفر من يهود فدعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم الى القف فاتاهم في بيت المدراس فقالوا يا ابا القاسم ان رجلا منا زنى بامراة فاحكم بينهم فوضعوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وسادة فجلس عليها ثم قال " ايتوني بالتوراة " . فاتي بها فنزع الوسادة من تحته فوضع التوراة عليها ثم قال " امنت بك وبمن انزلك " . ثم قال " ايتوني باعلمكم " . فاتي بفتى شاب ثم ذكر قصة الرجم نحو حديث مالك عن نافع
। মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমি মুযাইনাহ গোত্রের এমন এক ব্যক্তিকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যিনি ছিলেন জ্ঞানপিপাসু ও সংরক্ষণকারী। একদা আমরা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে। এটা মা‘মার বর্ণিত হাদীস এবং এটি সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ। তিনি বলেন, ইয়াহুদীদের মধ্যকার একজোড়া নারী-পুরুষ যেনা করেলো। তারা পরস্পরকে বললো, চলো আমরা এই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাই। তাঁকে তো সহজতর বিধানসহ পাঠানো হয়েছে। তিনি যদি আমাদের এ ব্যাপারে রজম করার পরিবর্তে লঘু শাস্তির বিধান দেন, তাহলে আমরা তা গ্রহণ করবো এবং আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে বাহানা দাঁড় করাবো এবং বললো, হে আল্লাহ! এটা তো আপনার এক নবী প্রদত্ত ফায়সালা। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে। এ সময় তিনি সাহাবীদের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলেন। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! যেনাকারী নারী ও পুরুষের সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? তিনি তাদের পাঠাগারে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথাও বলেননি। অতঃপর পাঠাগারে দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি বললেনঃ তোমাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যিনি মূসা (আঃ)-এর প্রতি তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! বিবাহিত লোক যেনা করলে তার কি হুকুম তোমরা তাওরাতে পাচ্ছো? তারা বললো, চুল-কালিতে মুখমন্ডল রাঙিয়ে তাজ্বীহ করা হয় এবং বেত্রাঘাত করা হয়। তাজ্বীহ অর্থ হলো, যেনার অপরাধীদ্বয়কে গাধার পিঠে উঠিয়ে উভয়ে পিঠ পরস্পর মিশিয়ে এলাকা জুড়ে চক্কর দেয়া। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় এক যুবককে চুপ করে থাকতে দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কসম দিয়ে অনুরোধ করলে সে বললো, আল্লাহর কসম! আপনি যেহেতু আমাদের কসম দিলেন, আমরা তো তাওরাতে রজমের বিধান পাচ্ছি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে তোমরা আল্লাহর বিধানকে এতো হালকা ভাবলে কেন? সে বললো, আমাদের কোনো এক রাজার জনৈক নিকটাত্মীয় যেনার অপরাধী সাব্যস্ত হয়; তিনি তাকে রজমের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিলেন। অতঃপর সাধারণ পরিবারের জনৈক ব্যক্তি যেনা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়াতে তিনি তাকে রজম করার ইচ্ছা করেন; কিন্তু দোষী লোকটির পক্ষের লোকেরা তাতে বাধা দিলো। তারা বললো, আপনার আত্মীয়টিকে এনে রজম না করা পর্যন্ত আমাদের এ ব্যক্তিকে রজম করা যাবে না। অতঃপর তারা এ শাস্তির উপর ফায়সালা করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি নিশ্চয়ই তাওরাতে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করবো। অতঃপর তাঁর নির্দেশে তাদেরকে রজম করা হলো। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, নিম্নোক্ত আয়াত ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ‘‘নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে হিদায়াত ও আলো বিদ্যমান ছিলো। আল্লাহর অনুগত নবীগণ এর মাধ্যমে ইয়াহুদীদেরকে বিধান দিতো’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও অনুগত নবীদের অন্তর্ভুক্ত।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া হা/ ১২৫৩।
حدثنا محمد بن يحيى، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، قال حدثنا رجل، من مزينة ح وحدثنا احمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، قال قال محمد بن مسلم سمعت رجلا، من مزينة ممن يتبع العلم ويعيه - ثم اتفقا - ونحن عند سعيد بن المسيب فحدثنا عن ابي هريرة - وهذا حديث معمر وهو اتم - قال زنى رجل من اليهود وامراة فقال بعضهم لبعض اذهبوا بنا الى هذا النبي فانه نبي بعث بالتخفيف فان افتانا بفتيا دون الرجم قبلناها واحتججنا بها عند الله قلنا فتيا نبي من انبيايك - قال - فاتوا النبي صلى الله عليه وسلم وهو جالس في المسجد في اصحابه فقالوا يا ابا القاسم ما ترى في رجل وامراة زنيا فلم يكلمهم كلمة حتى اتى بيت مدراسهم فقام على الباب فقال " انشدكم بالله الذي انزل التوراة على موسى ما تجدون في التوراة على من زنى اذا احصن " . قالوا يحمم ويجبه ويجلد - والتجبية ان يحمل الزانيان على حمار وتقابل اقفيتهما ويطاف بهما - قال وسكت شاب منهم فلما راه النبي صلى الله عليه وسلم سكت الظ به النشدة فقال اللهم اذ نشدتنا فانا نجد في التوراة الرجم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فما اول ما ارتخصتم امر الله " . قال زنى ذو قرابة مع ملك من ملوكنا فاخر عنه الرجم ثم زنى رجل في اسرة من الناس فاراد رجمه فحال قومه دونه وقالوا لا يرجم صاحبنا حتى تجيء بصاحبك فترجمه فاصطلحوا على هذه العقوبة بينهم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فاني احكم بما في التوراة " . فامر بهما فرجما . قال الزهري فبلغنا ان هذه الاية نزلت فيهم { انا انزلنا التوراة فيها هدى ونور يحكم بها النبيون الذين اسلموا } كان النبي صلى الله عليه وسلم منهم