Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৪৩ হাদিসসমূহ
। ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আলী (রাঃ) কিছু সংখ্যক মুরতাদকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তা জানতে পেরে বলেন, আমি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুসরণ করে এদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাউকে আল্লাহর শাস্তির উপকরণ দ্বারা শাস্তি দিও না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য মোতাবেক এদের মৃত্যুদন্ড দিতাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ধর্ম (ইসলাম) পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা করো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীস শুনে আলী (রাঃ) বলেন, আহ! ইবনু আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেছেন।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن محمد بن حنبل، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، اخبرنا ايوب، عن عكرمة، ان عليا، عليه السلام احرق ناسا ارتدوا عن الاسلام فبلغ ذلك ابن عباس فقال لم اكن لاحرقهم بالنار ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تعذبوا بعذاب الله " . وكنت قاتلهم بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من بدل دينه فاقتلوه " . فبلغ ذلك عليا عليه السلام فقال ويح ابن عباس
। আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোনো মুসলিম সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল, তাকে হত্যা করা বৈধ নয় যদি না সে তিনটি অপরাধের কোনো একটি করে থাকে; (১) বিবাহিত ব্যক্তি যেনা করলে; (২) কেউ কাউকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে হত্যা এবং (৩) সমাজের ঐক্য বিনষ্টকারী মুরতাদ।[1] সহীহ।
حدثنا عمرو بن عون، اخبرنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن عبد الله بن مرة، عن مسروق، عن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يحل دم رجل مسلم يشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله الا باحدى ثلاث الثيب الزاني والنفس بالنفس والتارك لدينه المفارق للجماعة
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, তাকে হত্যা করা বৈধ নয় তিনটি অপরাধের যে কোনো একটিতে লিপ্ত না হলেঃ (১) বিবাহিত লোক ব্যভিচার করলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে, (২) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে অথবা ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলানো হবে অথবা তাকে দেশ থেকে নির্বাসন দেয়া হবে, (৩) আর কাউকে হত্যা করলৈ তার বিনিময়ে কিসাসস্বরূপ তাকেও হত্যা করা যাবে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن سنان الباهلي، حدثنا ابراهيم بن طهمان، عن عبد العزيز بن رفيع، عن عبيد بن عمير، عن عايشة، رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يحل دم امري مسلم يشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله الا باحدى ثلاث رجل زنى بعد احصان فانه يرجم ورجل خرج محاربا لله ورسوله فانه يقتل او يصلب او ينفى من الارض او يقتل نفسا فيقتل بها
। আবূ বুরদাহ (রহঃ) বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) বলেছেন, একদা আমি আশ্আরী গোত্রের দু’ জন লোককে সঙ্গে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাই। তাদের একজন আমার ডানপাশে এবং অপরজন বামপাশে ছিলো। তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চাকুরী (সরকারী পদ) চাইলো। তিনি নীরব রইলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা অথবা হে আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস! তুমি কি বলো? আমি বললাম, সেই পবিত্র সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! এরা এদের মনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেনি এবং আমি জানতাম না যে, তারা চাকুরী চাইবে। আবূ মূসা বলেন, আমি তাঁর ঠোঁটের নীচে মেসওয়াকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তা যেন ফুলে আছে। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সরকারী পদে নিয়োগের প্রার্থনা করে আমরা তাকে কখনো তাতে নিয়োগ করি না। তুমি বরং চলে যাও হে আবূ মূসা! অথবা হে আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস! অতঃপর তিনি তাকে ইয়ামেনে পাঠিয়ে দেন এবং তার পরে মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, মু‘আয (রাঃ) তার নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, নেমে আসুন এবং তার জন্য একটা বালিশ পেতে দিলেন। তার নিকট ছিলো একটা বাঁধা লোক। তিনি প্রশ্ন করলেন, লোকটি কে? তিনি বললেন, লোকটা ছিলো ইয়াহুদী, পরে ইসলাম গ্রহণ করে। পরে আবারো সে তার খারাপ ধর্মে ফিরে যায়। মু‘আয (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি বসবো না। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আপনি বসুন। মু‘আয (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমিও বসবো না। একথা তিনি তিনবার বলেন। অতঃপর তার হুকুমে তাকে হত্যা করা হলো। পরে তারা দু’ জন রাত জেগে ইবাদাত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের একজন মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, আমি তো রাতে ঘুমাই ও জেগে ইবাদাত করি, অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদাত করি, ঘুমাই এবং ইবাদাতের মধ্যে আমি যা কামনা করি, ঘুমের মধ্যেও তাই কামনা করি।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن حنبل، ومسدد، قالا حدثنا يحيى بن سعيد، - قال مسدد - حدثنا قرة بن خالد، قال حدثنا حميد بن هلال، حدثنا ابو بردة، قال قال ابو موسى اقبلت الى النبي صلى الله عليه وسلم ومعي رجلان من الاشعريين احدهما عن يميني والاخر عن يساري فكلاهما سال العمل والنبي صلى الله عليه وسلم ساكت فقال " ما تقول يا ابا موسى " . او " يا عبد الله بن قيس " . قلت والذي بعثك بالحق ما اطلعاني على ما في انفسهما وما شعرت انهما يطلبان العمل . قال وكاني انظر الى سواكه تحت شفته قلصت قال " لن نستعمل - او لا نستعمل - على عملنا من اراده ولكن اذهب انت يا ابا موسى او يا عبد الله بن قيس " . فبعثه على اليمن ثم اتبعه معاذ بن جبل قال فلما قدم عليه معاذ قال انزل . والقى له وسادة فاذا رجل عنده موثق قال ما هذا قال هذا كان يهوديا فاسلم ثم راجع دينه دين السوء . قال لا اجلس حتى يقتل قضاء الله ورسوله . قال اجلس نعم . قال لا اجلس حتى يقتل قضاء الله ورسوله . ثلاث مرات فامر به فقتل ثم تذاكرا قيام الليل فقال احدهما معاذ بن جبل اما انا فانام واقوم - او اقوم وانام - وارجو في نومتي ما ارجو في قومتي
। আূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইয়ামেনে অবস্থানকালে মু‘আয (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। একটি লোক ইয়াহুদী ছিলো, সে মুসলিম হয়ে আবার ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। মু‘আয (রাঃ) এসে বলেন, একে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি আমার জন্তুযান থেকে নামবো না। অতঃপর তাকে হত্যা করা হলো। তালহা ও বুরাইদাহ উভয়ের একজন বলেন, হত্যা করার পূর্বে তাকে ইসলামে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়েছিল।[1] সহীহ।
حدثنا الحسن بن علي، حدثنا الحماني، - يعني عبد الحميد بن عبد الرحمن - عن طلحة بن يحيى، وبريد بن عبد الله بن ابي بردة، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال قدم على معاذ وانا باليمن، ورجل، كان يهوديا فاسلم فارتد عن الاسلام، فلما قدم معاذ قال لا انزل عن دابتي حتى يقتل . فقتل . قال احدهما وكان قد استتيب قبل ذلك
। একই ঘটনা প্রসঙ্গে আবূ বুরদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেনঃ আবূ মূসার নিকট ইসলাম ত্যাগী একটি লোককে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে বিশ দিন অথবা এর কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ইসলামে ফিরে আসার আহবান জানান। অতঃপর মু‘আয (রাঃ) এসেও তাকে আহবান জানালেন; কিন্তু সে অস্বীকার করলো। সুতরাং তাকে হত্যা করা হলো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বরেন, আবূ বুরদাহ থেকে আব্দুল মালিক উমাইরের বর্ণিত হাদীসে ইসলামে ফিরে আসার কথা উল্লেখ নেই। আর ইবনু ফুদাইল শাইবানীর সূত্রে সাঈদ ইবনু আবূ বুরদাহ থেকে তার পিতা আবূ মূসা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতেও ইসলামে ‘ফিরে আসার’ জন্য আহবান করার কথা উল্লেখ নেই।[1] সনদ সহীহ।
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا حفص، حدثنا الشيباني، عن ابي بردة، بهذه القصة قال فاتي ابو موسى برجل قد ارتد عن الاسلام، فدعاه عشرين ليلة او قريبا منها فجاء معاذ فدعاه فابى فضرب عنقه . قال ابو داود ورواه عبد الملك بن عمير عن ابي بردة لم يذكر الاستتابة ورواه ابن فضيل عن الشيباني عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه عن ابي موسى ولم يذكر فيه الاستتابة
। কাসিম (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত তিনি (মু‘আয) অবতরণ করেননি। আর তাকে ইসলামে ফিরে আসার আহবানও করা হয়নি।[1] সনদ দুর্বল।
حدثنا ابن معاذ، حدثنا ابي، حدثنا المسعودي، عن القاسم، بهذه القصة قال فلم ينزل حتى ضرب عنقه وما استتابه
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু সা‘দ ইবনু আসুস সারহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (ওয়াহী) লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে এবং সে কাফিরদের সঙ্গে মিশে যায়। মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। কিন্তু উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) তার জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।[1] সনদ হাসান।
حدثنا احمد بن محمد المروزي، حدثنا علي بن الحسين بن واقد، عن ابيه، عن يزيد النحوي، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال كان عبد الله بن سعد بن ابي سرح يكتب لرسول الله صلى الله عليه وسلم فازله الشيطان فلحق بالكفار فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يقتل يوم الفتح فاستجار له عثمان بن عفان فاجاره رسول الله صلى الله عليه وسلم
। সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আব্দুল্লাহ ইবনু সা‘দ ইবনু আবূ সারহ উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর নিকট আত্মগোপন করে। তিনি তাকে নিয়ে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাঁড় করিয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আব্দুল্লাহকে বাই‘আত করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঠিয়ে তিনবার তার দিকে তাকান এবং প্রতিবারই বাই‘আত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনবারের পর তাকে বাই‘আত করেন। অতঃপর তিনি সাহাবীদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কি সঠিক নির্দেশ উপলদ্ধি করার মতো কেউ ছিলো না, যে এর সমানে গিয়ে দাঁড়াতো; আর যখন দেখতো আমি তার বাই‘আত গ্রহণ না করার জন্য হাত গুটিয়ে নিচ্ছি, তখন সে তাকে হত্যা করতো? সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার মনের ইচ্ছা উপলদ্ধি করতে পারিনি। আপনি কেন আমাদের চোখ দিয়ে ইশারা করলেন না? তিনি বললেনঃ কোনো নবীর পক্ষে চোখের খেয়ানতকারী হওয়া শোভা পায় না।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا احمد بن المفضل، حدثنا اسباط بن نصر، قال زعم السدي عن مصعب بن سعد، عن سعد، قال لما كان يوم فتح مكة اختبا عبد الله بن سعد بن ابي سرح عند عثمان بن عفان فجاء به حتى اوقفه على النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله بايع عبد الله . فرفع راسه فنظر اليه ثلاثا كل ذلك يابى فبايعه بعد ثلاث ثم اقبل على اصحابه فقال " اما كان فيكم رجل رشيد يقوم الى هذا حيث راني كففت يدي عن بيعته فيقتله " . فقالوا ما ندري يا رسول الله ما في نفسك الا اومات الينا بعينك قال " انه لا ينبغي لنبي ان تكون له خاينة الاعين
। জারীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ক্রীতদাস পলায়ন করে যদি মুশরিক হয়ে যায়, তবে তাকে হত্যা করা বৈধ।[1] দুর্বল।
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حميد بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي اسحاق، عن الشعبي، عن جرير، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " اذا ابق العبد الى الشرك فقد حل دمه
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক অন্ধ লোকের একটি উম্মু ওয়ালাদ’ ক্রীতদাসী ছিলো। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিতো এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। অন্ধ লোকটি তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে বিরত হতো না। সে তাকে ভৎর্সনা করতো; কিন্তু তাতেও সে বিরত হতো না। এক রাতে সে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিতে শুরু করলো এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে লাগলো, সে একটি একটি ধারালো ছোরা নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে তাতে চোপ দিয়ে তাহেত্যা করলো। তার দু’ পায়ের মাঝখানে একটি শিশু পতিত হয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো। ভোরবেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘটনাটি অবহিত হয়ে লোকজনকে সমবেত করে বলেনঃ আমি আল্লাহর কসম করে বলছিঃ যে ব্যক্তি একাজ করেছে, সে যদি না দাঁড়ায় তবে তার উপর আমার অধিকার আছে। একথা শুনে অন্ধ লোকটি মানুষের ভিড় ঠেলে কাঁপতে কাঁপতে সামনে অগ্রসর হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে বসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সেই নিহত দাসীর মনিব। সে আপনাকে গালাগালি করতো এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলতো। আমি নিষেধ করতাম; কিন্তু সে বিরত হতো না। আমি তাকে ধমক দিতাম; কিন্তু সে তাতেও বিরত হতো না। তার গর্ভজাত মুক্তার মতো আমার দু’টি ছেলে আছে, আর সে আমার খুব প্রিয়পাত্রী ছিলো। গত রাতে সে আপনাকে গালাগালি শুরু করে এবং আপনার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বললে, আমি তখন একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে স্থাপন করে তাতে চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সাক্ষী থাকো, তার রক্ত বৃথা গেলো।[1] সহীহ।
حدثنا عباد بن موسى الختلي، اخبرنا اسماعيل بن جعفر المدني، عن اسراييل، عن عثمان الشحام، عن عكرمة، قال حدثنا ابن عباس، ان اعمى، كانت له ام ولد تشتم النبي صلى الله عليه وسلم وتقع فيه فينهاها فلا تنتهي ويزجرها فلا تنزجر - قال - فلما كانت ذات ليلة جعلت تقع في النبي صلى الله عليه وسلم وتشتمه فاخذ المغول فوضعه في بطنها واتكا عليها فقتلها فوقع بين رجليها طفل فلطخت ما هناك بالدم فلما اصبح ذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فجمع الناس فقال " انشد الله رجلا فعل ما فعل لي عليه حق الا قام " . فقام الاعمى يتخطى الناس وهو يتزلزل حتى قعد بين يدى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله انا صاحبها كانت تشتمك وتقع فيك فانهاها فلا تنتهي وازجرها فلا تنزجر ولي منها ابنان مثل اللولوتين وكانت بي رفيقة فلما كانت البارحة جعلت تشتمك وتقع فيك فاخذت المغول فوضعته في بطنها واتكات عليها حتى قتلتها . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الا اشهدوا ان دمها هدر
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালাগালি করতো এবং তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। একদা জনৈক ব্যক্তি তাকে গলা টিপে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্ত বাতিল বলে ঘোষণা করেন।[1] সনদ দুর্বলঃ ইরওয়া হা/ ১২৫১।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، وعبد الله بن الجراح، عن جرير، عن مغيرة، عن الشعبي، عن علي، رضي الله عنه ان يهودية، كانت تشتم النبي صلى الله عليه وسلم وتقع فيه فخنقها رجل حتى ماتت فابطل رسول الله صلى الله عليه وسلم دمها
। আবূ বারযাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি একটি লোকের প্রতি খুবই ক্রোধান্বিত হলেন। আমি তাকে বললাম, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলীফাহ! আমাকে অনুমতি দিন, তাকে হত্যা করি। তিনি বলেন, আমার একথায় তার ক্রোধ দূর হলো। তিনি উঠে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন। অতঃপর তিনি লোক পাঠিয়ে আমাকে (ডেকে নিয়ে) র্প্রশ্ন করেন, তুমি এইমাত্র কি বলেছ? আমি বললাম, আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাকে হত্যা করি। তিনি প্রশ্ন করেন, আমি যদি তোমাকে আদেশ করতাম, তুমি কি তাই করতে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, না আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে অন্য কোনো মানবের এ অধিকার নেই। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এই মূল পাঠ বর্ণনাকারী ইয়াযীদের। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তিনটি অপরাধের কোনটিতে লিপ্ত ব্যক্তিকে হত্যা করার কথা বলেছেন, তাদের ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করা আবূ বাকরের জন্য বৈধ নয়ঃ কেউ ধর্ম ত্যাগ করলে, বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করলে এবং নিরপরাধ ব্যক্তির হত্যাকারী। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হত্যা করার কর্তৃত্ব ছিলো।[1] সহীহ।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، عن يونس، عن حميد بن هلال، عن النبي صلى الله عليه وسلم ح وحدثنا هارون بن عبد الله، ونصير بن الفرج، قالا حدثنا ابو اسامة، عن يزيد بن زريع، عن يونس بن عبيد، عن حميد بن هلال، عن عبد الله بن مطرف، عن ابي برزة، قال كنت عند ابي بكر رضي الله عنه فتغيظ على رجل فاشتد عليه فقلت تاذن لي يا خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم اضرب عنقه قال فاذهبت كلمتي غضبه فقام فدخل فارسل الى فقال ما الذي قلت انفا قلت ايذن لي اضرب عنقه . قال اكنت فاعلا لو امرتك قلت نعم . قال لا والله ما كانت لبشر بعد محمد صلى الله عليه وسلم . قال ابو داود هذا لفظ يزيد قال احمد بن حنبل اى لم يكن لابي بكر ان يقتل رجلا الا باحدى الثلاث التي قالها رسول الله صلى الله عليه وسلم كفر بعد ايمان او زنا بعد احصان او قتل نفس بغير نفس وكان للنبي صلى الله عليه وسلم ان يقتل
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উকল অথবা উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। মদীনায় বসবাস তাদের পক্ষে অনুপযোগী হওয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উটের পালের নিকট গিয়ে এগুলোর পেশাব ও দুধ পান করতে আদেশ দেন। অতএব তারা সেখানে চলে গেলো। পরে তারা সুস্থ হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে এবং উট পালকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়। দিনের প্রথমভাগে এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পিছনে লোক পাঠান। উঠন্ত বেলায় তাদের ধরে নিয়ে আসা হয়। তাঁর আদেশে তাদের হাত-পা কাটা হয় এবং লৌহ শলাকা তাদের চোখে বিদ্ধ করে উত্তপ্ত রোদে ফেলে রাখা হয়। তারা পানি চাইলেও তা দেয়া হয়নি। আবূ কিলাবাহ বলেন, এরা এমন একটি গোত্রের, যারা চুরি করেছে, হত্যা করেছে, ঈমান আনার পর কুফরী করেছে এবং সর্বোপরি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।[1] সহীহ।
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن انس بن مالك، ان قوما، من عكل - او قال من عرينة - قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجتووا المدينة فامر لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بلقاح وامرهم ان يشربوا من ابوالها والبانها فانطلقوا فلما صحوا قتلوا راعي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستاقوا النعم فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم خبرهم من اول النهار فارسل النبي صلى الله عليه وسلم في اثارهم فما ارتفع النهار حتى جيء بهم فامر بهم فقطعت ايديهم وارجلهم وسمر اعينهم والقوا في الحرة يستسقون فلا يسقون . قال ابو قلابة فهولاء قوم سرقوا وقتلوا وكفروا بعد ايمانهم وحاربوا الله ورسوله
। আইয়ূব (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশে লৌহ শলাকা উত্তপ্ত করা হয়, তাদের চোখে ফুঁড়ে দেয়া হয়, হাত-পা কেটে দেয়া হয় এবং তাদের রক্তপ্রবাহ বন্ধ করেননি।[1] সহীহ।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، عن ايوب، باسناده بهذا الحديث قال فيه فامر بمسامير فاحميت فكحلهم وقطع ايديهم وارجلهم وما حسمهم
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তিনি তাতে বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুসন্ধানে পদচিহ্ন বিশারদ একদল লোক পাঠালেন। পরে তাদেরকে ধরে নিয়ে আসা হলো। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আর পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের একদিকের হাত এবং অপরদিকের পা কেটে ফেলা হবে অথবা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে নির্বাসিত (কারাগারে আবদ্ধ) করা হবে। এটাই তাদের ইহকালের অপমান, আর পরকালে তাদের কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে’’ (সূরা আল-মায়িদাহ)।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن الصباح بن سفيان، قال اخبرنا ح، وحدثنا عمرو بن عثمان، حدثنا الوليد، عن الاوزاعي، عن يحيى، - يعني ابن ابي كثير - عن ابي قلابة، عن انس بن مالك، بهذا الحديث قال فيه فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم في طلبهم قافة فاتي بهم . قال فانزل الله تبارك وتعالى في ذلك { انما جزاء الذين يحاربون الله ورسوله ويسعون في الارض فسادا } الاية
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এ হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কর্তন করা হয়। হাদীসের প্রথমাংশে তিনি বলেন, তারা উট ছিনতাই করে এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তাদের একজনকে পিপাসার যন্ত্রণায় মুখ দিয়ে কামড়াতে দেখেছি। অবশেষে তারা মারা যায়।[1] সহীহ।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، اخبرنا ثابت، وقتادة، وحميد، عن انس بن مالك، ذكر هذا الحديث قال انس فلقد رايت احدهم يكدم الارض بفيه عطشا حتى ماتوا
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে আরো আছেঃ অতঃপর তিনি অঙ্গহানি নিষেধ করে। এ বর্ণনায় ‘বিপরীত দিক থেকে’ কথাটুকুর উল্লেখ নেই। আনাস (রাঃ) থেকে অন্যান্য বর্ণনাকারীও এ অংশটুকুও উল্লেখ করেননি। আমি হাম্মাদ ইবনু সালামাহর হাদীস ব্যতীত আর কারোর বর্ণনায় ‘বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কাটার কথা’ পাইনি।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن هشام، عن قتادة، عن انس بن مالك، بهذا الحديث نحوه زاد ثم نهى عن المثلة ولم يذكر من خلاف . ورواه شعبة عن قتادة وسلام بن مسكين عن ثابت جميعا عن انس لم يذكرا من خلاف . ولم اجد في حديث احد قطع ايديهم وارجلهم من خلاف . الا في حديث حماد بن سلمة
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উট লুট করে নিয়ে যায়, ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন ঈমানদার রাখালকে হত্যা করে। অতঃপর তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠান! তাদের ধরে নিয়ে আসা হলে তিনি তাদের হাত-পা কেটে দেন এবং চোখ উপড়ে ফেলেন। ইবনু উমার বলেন, এদের সম্পর্কে ‘মুহারাবার’ আয়াত (৫ঃ ৩৩) নাযিল হয়। হাজ্জাজ যখন আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে এদের সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি এদের সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেন।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن صالح، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرني عمرو، عن سعيد بن ابي هلال، عن ابي الزناد، عن عبد الله بن عبيد الله، - قال احمد هو يعني عبد الله بن عبيد الله بن عمر بن الخطاب - عن ابن عمر ان ناسا اغاروا على ابل النبي صلى الله عليه وسلم فاستاقوها وارتدوا عن الاسلام وقتلوا راعي رسول الله صلى الله عليه وسلم مومنا فبعث في اثارهم فاخذوا فقطع ايديهم وارجلهم وسمل اعينهم . قال ونزلت فيهم اية المحاربة وهم الذين اخبر عنهم انس بن مالك الحجاج حين ساله
। আবুয-যিনাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উট চুরি করেছিল তিনি তাদের হাত-পা কাটলে এবং আগুন দিয়ে তাদের চোখ উৎপাটন করলে আল্লাহ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলি বিদ্ধ করা হবে...’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৩৩)।[1] দুর্বল।
حدثنا احمد بن عمرو بن السرح، اخبرنا ابن وهب، اخبرني الليث بن سعد، عن محمد بن العجلان، عن ابي الزناد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قطع الذين سرقوا لقاحه وسمل اعينهم بالنار عاتبه الله تعالى في ذلك فانزل الله تعالى { انما جزاء الذين يحاربون الله ورسوله ويسعون في الارض فسادا ان يقتلوا او يصلبوا } الاية