Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২৯ হাদিসসমূহ
। ইয়াস ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যুবাব (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে মারবে না। অতঃপর উমার (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, মহিলারা তাদের স্বামীদের অবাধ্য হচ্ছে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে মৃদু আঘাত করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর অনেক মহিলা এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুহাম্মাদের পরিবারে কাছে অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। সুতরাং যারা স্ত্রীদেরকে প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن ابي خلف، واحمد بن عمرو بن السرح، قالا حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عبد الله بن عبد الله، - قال ابن السرح عبيد الله بن عبد الله - عن اياس بن عبد الله بن ابي ذباب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تضربوا اماء الله " . فجاء عمر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ذيرن النساء على ازواجهن . فرخص في ضربهن فاطاف بال رسول الله صلى الله عليه وسلم نساء كثير يشكون ازواجهن فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لقد طاف بال محمد نساء كثير يشكون ازواجهن ليس اوليك بخياركم
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে (শালীন শিক্ষার উদ্দেশ্যে) আঘাত করলে এজন্য সে দোষী হবে না।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬২১৮), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৪৩১), মিশকাত (৩২৬৮)।
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا ابو عوانة، عن داود بن عبد الله الاودي، عن عبد الرحمن المسلي، عن الاشعث بن قيس، عن عمر بن الخطاب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يسال الرجل فيما ضرب امراته
। জারীর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হঠাৎ কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমার চোখ ফিরিয়ে নিবে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، حدثني يونس بن عبيد، عن عمرو بن سعيد، عن ابي زرعة، عن جرير، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظرة الفجاة فقال " اصرف بصرك
। ইবনু বুরাইদাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ হে আলী! কোনো নারীকে একবার দেখার পর দ্বিতীয়বার দেখবে না। কেননা তোমার জন্য প্রথমবার দেখার অনুমতি আছে, কিন্তু দ্বিতীয়বার জায়িয নয়।[1] হাসান।
حدثنا اسماعيل بن موسى الفزاري، اخبرنا شريك، عن ابي ربيعة الايادي، عن ابن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي " يا علي لا تتبع النظرة النظرة فان لك الاولى وليست لك الاخرة
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মহিলা যেন অপর মহিলার দেহ স্পর্শ করে এমনভাবে তার বর্ণনা নিজের নিজের স্বামীর কাছে না দেয়, যেন সে তাকে চাক্ষুস দেখছে।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا ابو عوانة، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن ابن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تباشر المراة المراة لتنعتها لزوجها كانما ينظر اليها
। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অপরিচিতা নারীকে দেখে ফেললে তিনি তৎক্ষণাৎ যাইনাব বিনুত জাহশ (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করেন। অতঃপর সাহাবীদের কাছে গিয়ে বললেনঃ নারী শয়তানের বেশে এসে যায়। সুতরাং তোমাদের কারো মনে এরূপ কিছু জাগ্রত হলে সে যেন তার স্ত্রীর কাছে গমন করে। কেননা এতে তার অন্তরের সুপ্ত জাগ্রত হয় সে যেন অবশ্যই তার স্ত্রীর কাছে আসে। কেননা এতে মনের বাসনা দুর্বল হবে।[1] সহীহ।
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا هشام، عن ابي الزبير، عن جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم راى امراة فدخل على زينب بنت جحش فقضى حاجته منها ثم خرج الى اصحابه فقال لهم " ان المراة تقبل في صورة شيطان فمن وجد من ذلك شييا فليات اهله فانه يضمر ما في نفسه
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত হাদীসের চাইতে সগীরাহ গুনাহ সম্পর্কিত কোনো হাদীস দেখিনি। তিনি বলেছেনঃ মহান আল্লাহ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যিনার একটি অংশ নির্ধারণ করে রেখেছেন, যা সে অবশ্যই করবে। সুতরাং দৃষ্টি হচ্ছে চোখের যিনা, প্রেমালাপ হচ্ছে জিহবার যিনা এবং অন্তরের যিনা হচ্ছে তা ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা, আর গুপ্তস্থান তা সত্য কিংবা মিথ্যায় পরিণত করে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن عبيد، حدثنا ابن ثور، عن معمر، اخبرنا ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس، قال ما رايت شييا اشبه باللمم مما قال ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم " ان الله كتب على ابن ادم حظه من الزنا ادرك ذلك لا محالة فزنا العينين النظر وزنا اللسان المنطق والنفس تمنى وتشتهي والفرج يصدق ذلك ويكذبه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যিনার একটি অংশ আছে। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেছেনঃ দুই হাত যিনা করে, হাতের যিনা হচ্ছে স্পর্শ করা। দুই পা যিনা করে, অগ্রসর হওয়াই হচ্ছে পায়ের যিনা। মুখও যিনা করে, মুখের যিনা হচ্ছে চুমু খাওয়া।[1] হাসান।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " لكل ابن ادم حظه من الزنا " . بهذه القصة قال " واليدان تزنيان فزناهما البطش والرجلان تزنيان فزناهما المشى والفم يزني فزناه القبل
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীসের ঘটনায় উল্লেখ করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কানের যিনা হচ্ছে আলাপ শোনা।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا الليث، عن ابن عجلان، عن القعقاع بن حكيم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذه القصة قال " والاذن زناها الاستماع
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাসের দিকে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়ে তাদের নারীদেরকে বন্দী করে আনেন। কিন্তু সেই বন্দী নারীদের মুশরিক স্বামীরা বর্তমান থাকায় রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী তাদের সাথে সঙ্গম করাকে গুনাহ মনে করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘যে মহিলাদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত’’ (সূরা আন-নিসাঃ ২৪) অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী দাসী যখন তাদের ইদ্দাতকাল সমাপ্ত করবে তখন তারা তোমাদের জন্য বৈধ।[1] সহীহ।
حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن صالح ابي الخليل، عن ابي علقمة الهاشمي، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث يوم حنين بعثا الى اوطاس فلقوا عدوهم فقاتلوهم فظهروا عليهم واصابوا لهم سبايا فكان اناسا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تحرجوا من غشيانهن من اجل ازواجهن من المشركين فانزل الله تعالى في ذلك { والمحصنات من النساء الا ما ملكت ايمانكم } اى فهن لهم حلال اذا انقضت عدتهن
। আবূ দারদা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক যুদ্ধে আসন্ন প্রসবা এক নারীকে দেখতে পেয়ে বললেনঃ সম্ভবতঃ এর মালিক এর সাথে সহবাস করেছে। লোকেরা বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছিলাম সহবাসকারীকে এমন অভিসম্পাত করি যেন সে অভিশপ্ত অবস্থায় কবরে প্রবেশ করে। সে কিভাবে ঐ সন্তানটিকে তার উত্তরাধিকারী বানাবে যেটি তার জন্য হালাল নয়? আর সে কিভাবে এ সন্তানকে গোলাম বানাবে? অথচ তা তার জন্য বৈধ নয়।[1] সহীহ।
حدثنا النفيلي، حدثنا مسكين، حدثنا شعبة، عن يزيد بن خمير، عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير، عن ابيه، عن ابي الدرداء، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان في غزوة فراى امراة مجحا فقال " لعل صاحبها الم بها " . قالوا نعم . فقال " لقد هممت ان العنه لعنة تدخل معه في قبره كيف يورثه وهو لا يحل له وكيف يستخدمه وهو لا يحل له
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাস যুদ্ধের বন্দী দাসীদের সম্বন্ধে বলেছেনঃ সন্তান প্রসবের আগে গর্ভবতীর সাথে সঙ্গম করা যাবে না। আর গর্ভবতী নয় এমন নারীর মাসিক ঋতু শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথেও সঙ্গম করা যাবে না।[1] সহীহ।
حدثنا عمرو بن عون، اخبرنا شريك، عن قيس بن وهب، عن ابي الوداك، عن ابي سعيد الخدري، ورفعه، انه قال في سبايا اوطاس " لا توطا حامل حتى تضع ولا غير ذات حمل حتى تحيض حيضة
। রুয়াইফি‘ ইবনু সাবিত আল-আনসারী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। হানাশ (রহ.) বলেন, একদা রুয়াইফি‘ আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে ভাষণ প্রদানের সময় বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনেছি তোমাদেরকে শুধু তাই বলবো। তিনি হুনাইনের দিন বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য বৈধ নয় অন্যের ফসলে নিজের পানি সেচন করা। অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলার সাথে সঙ্গম করা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে তার জন্য বৈধ নয় কোনো বন্দী নারীর সাথে সঙ্গম করা যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে পবিত্র হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্যও বৈধ নয় বন্টনের পূর্বে গনীমাত বিক্রয় করা।[1] হাসান।
حدثنا النفيلي، حدثنا محمد بن سلمة، عن محمد بن اسحاق، حدثني يزيد بن ابي حبيب، عن ابي مرزوق، عن حنش الصنعاني، عن رويفع بن ثابت الانصاري، قال قام فينا خطيبا قال اما اني لا اقول لكم الا ما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يوم حنين قال " لا يحل لامري يومن بالله واليوم الاخر ان يسقي ماءه زرع غيره " . يعني اتيان الحبالى " ولا يحل لامري يومن بالله واليوم الاخر ان يقع على امراة من السبى حتى يستبريها ولا يحل لامري يومن بالله واليوم الاخر ان يبيع مغنما حتى يقسم
। ইবনু ইসহাক (রহ.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে যতক্ষণ না হায়িয থেকে মুক্ত হয় কথাটি রয়েছে। এতে আরো রয়েছেঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন মুসলিমদের যুদ্ধলব্ধ পশুর পিঠে না চড়ে (বন্টনের পূর্বে), অবশেষে সে তা দুর্বল অবস্থায় ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন মুসলিমদের গনীমাতের কাপড় না পরে, অবশেষে তা পুরাতন করে ফেরত দেয়। আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসের মধ্যে ‘ঋতুবতী নারী’ শব্দটি সংরক্ষিত নয়।[1] হাসান।
حدثنا سعيد بن منصور، حدثنا ابو معاوية، عن ابن اسحاق، بهذا الحديث قال " حتى يستبريها بحيضة " . زاد فيه { بحيضة وهو وهم من ابي معاوية، وهو صحيح في حديث ابي سعيد زاد } " ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يركب دابة من فىء المسلمين حتى اذا اعجفها ردها فيه ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يلبس ثوبا من فىء المسلمين حتى اذا اخلقه رده فيه " . قال ابو داود الحيضة ليست بمحفوظة وهو وهم من ابي معاوية
। আমর ইবনু শুআইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ে করে অথবা কোনো দাসী ক্রয় করে তখন সে যেন বলেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর মধ্যকার কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ চাই এবং তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।’’ আর যখন কোনো উট কিনবে তখন যেন সেটির কুঁজের উপরিভাগ ধরে অনুরূপ দু‘আ করে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আবূ সাঈদের বর্ণনায় রয়েছেঃ অতঃপর তার কপালের চুল ধরে বলবে। স্ত্রী এবং দাসীর ব্যাপারেও বরকতের দু‘আ করবে।[1] হাসান।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، وعبد الله بن سعيد، قالا حدثنا ابو خالد، - يعني سليمان بن حيان - عن ابن عجلان، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا تزوج احدكم امراة او اشترى خادما فليقل اللهم اني اسالك خيرها وخير ما جبلتها عليه واعوذ بك من شرها ومن شر ما جبلتها عليه واذا اشترى بعيرا فلياخذ بذروة سنامه وليقل مثل ذلك " . قال ابو داود زاد ابو سعيد " ثم لياخذ بناصيتها وليدع بالبركة " . في المراة والخادم
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার সময় যেন বলেঃ ‘‘বিসমিল্লাহ! হে আল্লাহ! আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং যে সন্তান আমাদেরকে দান করবে তাদেরকেও শয়তান থেকে দূরে রাখো।’’ অতঃপর এ সঙ্গমের মাধ্যমে যে সন্তান আসবে, শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن عيسى، حدثنا جرير، عن منصور، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لو ان احدكم اذا اراد ان ياتي اهله قال بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا ثم قدر ان يكون بينهما ولد في ذلك لم يضره شيطان ابدا
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করে সে অভিশপ্ত।[1] হাসান।
حدثنا هناد، عن وكيع، عن سفيان، عن سهيل بن ابي صالح، عن الحارث بن مخلد، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ملعون من اتى امراته في دبرها
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, ইয়াহূদীরা বলতো, যদি কোনো ব্যক্তি স্ত্রীর গুহ্যদ্বারের দিক থেকে (পিছনের দিক থেকে) সঙ্গম করে তাহলে সন্তান টেরা হয়ে জন্মাবে। তখন এর প্রতিবাদে মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেতস্বরূপ। সুতরাং যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমন করো’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ২২৩)।[1] সহীহ।
حدثنا ابن بشار، حدثنا عبد الرحمن، حدثنا سفيان، عن محمد بن المنكدر، قال سمعت جابرا، يقول ان اليهود يقولون اذا جامع الرجل اهله في فرجها من ورايها كان ولده احول فانزل الله سبحانه وتعالى { نساوكم حرث لكم فاتوا حرثكم انى شيتم}
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)-কে ক্ষমা করুন, তিনি ভুল করেছেন। আসল কথা হচ্ছে, আনসারদের এই জনপদের লোকেরা মূর্তিপূজারী ছিলো। তারা আহলে কিতাব ইয়াহুদীদের সাথে বসবাস করতো এবং ইয়াহুদীরা জ্ঞানের দিক দিয়ে মূর্তিপূজারীদের উপর নিজেদের মর্যাদা দিতো। সুতরাং তারা নিজেদের কাজকর্মে ইয়াহুদীদের অনুসারী ছিলো। আহলে কিতাবদের নিয়ম ছিলো, তারা স্ত্রীদেরকে কেবল চিৎ করে শুইয়ে সঙ্গম করতো এবং বলতো, মহিলাদের সতর এ নিয়মে অধিক সংরক্ষিত। আনসার সম্প্রদায়ও তাদের এ কাজে আহলে কিতাবদের নিয়ম অনুসরণ করতো। কিন্তু কুরাইশরা নারীদেরকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে সঙ্গম করতো এবং তাদেরকে সামনাসামনি, পেছনের দিকে এবং চিৎ করে শুইয়ে বিভিন্নভাবে সঙ্গম করতো। অতঃপর যখন মুহাজিরগণ মদীনাহয় আসলেন তখন তাদের এক ব্যক্তি জনৈক আনাসারী নারীকে বিয়ে করে তার সাথে ঐভাবে সঙ্গম করতে চাইলো যেভাবে তারা মক্কার নারীদের সাথে করতো। কিন্তু মহিলাটি তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললো, আমরা শুধু এক অবস্থায়ই সঙ্গম করি। সুতরাং তোমাকেও সেভাবেই সঙ্গম করতে হবে অন্যথায় আমার থেকে দূরে থাকো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ক্ষেতস্বরূপ, সুতরাং যেভাবে ইচ্ছা করো তোমাদের ক্ষেতে গমন করো।’’ অর্থাৎ সামনের দিক থেকে, পিছনের দিক থেকে বা চিৎ করে শুইয়ে তার লজ্জাস্থানেই সঙ্গম করো।[1] হাসান।
حدثنا عبد العزيز بن يحيى ابو الاصبغ، حدثني محمد، - يعني ابن سلمة - عن محمد بن اسحاق، عن ابان بن صالح، عن مجاهد، عن ابن عباس، قال ان ابن عمر - والله يغفر له - اوهم انما كان هذا الحى من الانصار - وهم اهل وثن - مع هذا الحى من يهود - وهم اهل كتاب - وكانوا يرون لهم فضلا عليهم في العلم فكانوا يقتدون بكثير من فعلهم وكان من امر اهل الكتاب ان لا ياتوا النساء الا على حرف وذلك استر ما تكون المراة فكان هذا الحى من الانصار قد اخذوا بذلك من فعلهم وكان هذا الحى من قريش يشرحون النساء شرحا منكرا ويتلذذون منهن مقبلات ومدبرات ومستلقيات فلما قدم المهاجرون المدينة تزوج رجل منهم امراة من الانصار فذهب يصنع بها ذلك فانكرته عليه وقالت انما كنا نوتى على حرف فاصنع ذلك والا فاجتنبني حتى شري امرهما فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فانزل الله عز وجل { نساوكم حرث لكم فاتوا حرثكم انى شيتم } اى مقبلات ومدبرات ومستلقيات يعني بذلك موضع الولد
। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ইয়াহুদীদের কোনো নারী ঋতুবতী হলে তারা তাকে ঘর থেকে বের করে দিতো এবং তাদের সাথে খানপিনায়ও শরীক করতো না এবং তাদের সাথে একই ঘরে অবস্থান করতে দিতো না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলে মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘লোকজন আপনাকে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। আপনি বলুন, তা অপবিত্রতা। সুতরাং তোমরা হায়িয চলাকালে সঙ্গম বর্জন করো।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাদেরকে নিয়ে একই ঘরে থাকো এবং সঙ্গম ছাড়া সবই একত্রে করো। এ কথা শুনে ইয়াহুদীরা বললো, এ ব্যক্তি তো আমাদের কাজগুলোকে শুধুমাত্র বর্জনই করে না, বরং স্বেচ্ছায় এর বিরোধিতাও করে থাকে। তখন উসাইদ ইবনু হুদাইর ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশর (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (ইয়াহুদীরা) এরূপ বলেছে। সুতরাং আমরা কি হায়িয অবস্থায় সঙ্গম করবো? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। আমরা মনে করলাম, তিনি এদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। এমন সময় তারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। ঠিক তখন তাদের সামনে দিয়ে কিছু দুধ উপঢৌকন হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলে তিনি তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম, তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হননি।[1] সহীহ। এটি গত হয়েছে হা/২৫৮।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، اخبرنا ثابت البناني، عن انس بن مالك، ان اليهود، كانت اذا حاضت منهم امراة اخرجوها من البيت ولم يواكلوها ولم يشاربوها ولم يجامعوها في البيت فسيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فانزل الله تعالى { يسالونك عن المحيض قل هو اذى فاعتزلوا النساء في المحيض } الى اخر الاية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " جامعوهن في البيوت واصنعوا كل شىء غير النكاح " . فقالت اليهود ما يريد هذا الرجل ان يدع شييا من امرنا الا خالفنا فيه . فجاء اسيد بن حضير وعباد بن بشر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالا يا رسول الله ان اليهود تقول كذا وكذا افلا ننكحهن في المحيض فتمعر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا ��ن قد وجد عليهما فخرجا فاستقبلتهما هدية من لبن الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فبعث في اثارهما فسقاهما فظننا انه لم يجد عليهما