Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২৯ হাদিসসমূহ
। ‘আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)-এর সাথে মিনায় হাঁটছিলাম। এ সময় ‘উসমান (রাযি.)-এর সাথে দেখা হলে তিনি আব্দুল্লাহ (রাযি.)-এর সাথে নির্জনে আলাপ করেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ যখন দেখলেন, এ বিষয়ে তার কোনো প্রয়োজন নেই, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আলকামাহ! এদিকে এসো। আমি এলে ‘উসমান (রাযি.) তাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান! আমরা কি আপনার সাথে একটি কুমারী মেয়ে বিয়ে দিবো, যাতে আপনি অতীতের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পান? আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, আমি এরূপ এজন্যই বলেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বিয়ের সামর্থ্য রাখলে সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। আর যে ব্যক্তির বিয়ে করার সামর্থ্য নাই সে যেন অবশ্যই সওম পালন করে। কেননা সওম তার যৌনস্পৃহা দমনকারী।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، قال اني لامشي مع عبد الله بن مسعود بمنى اذ لقيه عثمان فاستخلاه فلما راى عبد الله ان ليست له حاجة قال لي تعال يا علقمة فجيت فقال له عثمان الا نزوجك يا ابا عبد الرحمن بجارية بكر لعله يرجع اليك من نفسك ما كنت تعهد فقال عبد الله لين قلت ذاك لقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من استطاع منكم الباءة فليتزوج فانه اغض للبصر واحصن للفرج ومن لم يستطع منكم فعليه بالصوم فانه له وجاء
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদেরকে (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, তার রূপসৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। তবে তুমি দ্বীনদার নারী বিয়ে করো। অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، - يعني ابن سعيد - حدثني عبيد الله، حدثني سعيد بن ابي سعيد، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " تنكح النساء لاربع لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ কুমারী না অকুমারী? আমি বললাম, অকুমারী। তিনি বললেনঃ তুমি কোনো কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তার সাথে তুমি খেলতে পারতে সেও তোমার সাথে খেলাধুলা করতে পারতো।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن حنبل، حدثنا ابو معاوية، اخبرنا الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن جابر بن عبد الله، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتزوجت " . قلت نعم . قال " بكرا ام ثيبا " . فقلت ثيبا . قال " افلا بكر تلاعبها وتلاعبك
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে অভিযোগ করলো, আমার স্ত্রী কোনো স্পর্শকারীর হাতকে নিষেধ করে না। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ত্যাগ করো। সে বললো, আমার আশংকা আমার মন তার পিছনে ছুটবে। তিনি বললেনঃ (যেহেতু ব্যভিচারের প্রমাণ নেই) তাহলে তুমি তার থেকে ফায়দা হাসিল করো।[1] সহীহ।
قال ابو داود كتب الى حسين بن حريث المروزي حدثنا الفضل بن موسى، عن الحسين بن واقد، عن عمارة بن ابي حفصة، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان امراتي لا تمنع يد لامس . قال " غربها " . قال اخاف ان تتبعها نفسي . قال " فاستمتع بها
। মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক সুন্দরী ও মর্যাদা সম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করবো? তিনি বললেনঃ না। অতঃপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। লোকটি তৃতীয়বার তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে বললেনঃ এমন নারীকে বিয়ে করে যে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাঘিধক্যের কারণে গর্ব করবো।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن ابراهيم، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا مستلم بن سعيد ابن اخت، منصور بن زاذان عن منصور، - يعني ابن زاذان - عن معاوية بن قرة، عن معقل بن يسار، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اني اصبت امراة ذات حسب وجمال وانها لا تلد افاتزوجها قال " لا " . ثم اتاه الثانية فنهاه ثم اتاه الثالثة فقال " تزوجوا الودود الولود فاني مكاثر بكم الامم
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। মারসাদ ইবনু আবূ মারসাদ আল-গানবী (রাযি.) মক্কা থেকে বন্দীদেরকে বহন করতেন। সে সময় মক্কাতে ‘আনাক’ নাস্মী নামক এক ব্যভিচারিনী ছিলো। সে ছিলো মারসাদের বান্ধবী। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি ‘আনাক’ কে বিয়ে করবো? মারসাদ (রাযি.) বলেন, তিনি চুপ থাকলেন। অতঃপর আয়াত অবতীর্ণ হলো।’ ব্যভিচারিনীকে ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে করবে না। (সূরা আন-নূরঃ ৩)। তিনি আমাকে ডেকে এনে আয়াতটি শুনান এবং বলেনঃ তুমি তাকে বিয়ে করো না।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا ابراهيم بن محمد التيمي، حدثنا يحيى، عن عبيد الله بن الاخنس، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان مرثد بن ابي مرثد الغنوي، كان يحمل الاسارى بمكة وكان بمكة بغي يقال لها عناق وكانت صديقته قال جيت الى النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله انكح عناق قال فسكت عني فنزلت { والزانية لا ينكحها الا زان او مشرك } فدعاني فقراها على وقال " لا تنكحها
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাজা প্রাপ্ত ব্যভিচারী তার অনুরূপ কাউকে বিয়ে করবে।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، وابو معمر قالا حدثنا عبد الوارث، عن حبيب، حدثني عمرو بن شعيب، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينكح الزاني المجلود الا مثله " . وقال ابو معمر حدثني حبيب المعلم عن عمرو بن شعيب
। আবূ মূসা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসীকে দাসত্ব মুক্ত করার পর বিয়ে করে সে দুটি পুরস্কারের অধিকারী।[1] সহীহ।
حدثنا هناد بن السري، حدثنا عبثر، عن مطرف، عن عامر، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من اعتق جاريته وتزوجها كان له اجران
। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে মুক্ত করেন এবং এ মুক্তিকে তার মোহর হিসেবে গণ্য করেন।[1] সহীহ।
حدثنا عمرو بن عون، اخبرنا ابو عوانة، عن قتادة، وعبد العزيز بن صهيب، عن انس بن مالك، ان النبي صلى الله عليه وسلم اعتق صفية وجعل عتقها صداقها
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদেরকে বিয়ে করা হারাম, অনুরূপভাবে দুধপান জনিত সম্পর্কের কারণেও তারা হারাম।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن سليمان بن يسار، عن عروة، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة
। উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের প্রতি কোনো প্রয়োজন আছে কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে দিয়ে আমার কি দরকার? তিনি বললেন, তাকে বিয়ে করবেন। তিনি বললেনঃ তোমার বোন? উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি এরূপ পছন্দ করো? তিনি বললেন, ‘‘আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী না। কাজেই আমার ইচ্ছা, আমার বোনও আমার সাথে কল্যাণে শরীক হোক।’’ তিনি বললেনঃ আমার জন্য এরূপ হালাল নয়। উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি জেনেছি, আপনি আবূ সালামাহর কন্যা ‘দোররাহ’-কে বিয়ে করতে আগ্রহী? তিনি বললেনঃ তুমি বলতে চাইছো আমি উম্মু সালামাহর কন্যাকে বিয়ে করতে চাই। উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সে আমার সপত্নী কন্যাও না হলেও তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ হতো না। যেহেতু সে দুধ সম্পর্কের কারণে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী। আমি এবং তার পিতা আবূ সালামাহ উভয়কে সুয়াইবিয়্যাহ দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের তোমাদের কন্যা ও ভগ্নিকে আমার জন্য পেশ করো না।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، حدثنا زهير، عن هشام بن عروة، عن عروة، عن زينب بنت ام سلمة، عن ام سلمة، ان ام حبيبة، قالت يا رسول الله هل لك في اختي قال " فافعل ماذا " . قالت فتنكحها . قال " اختك " . قالت نعم . قال " اوتحبين ذاك " . قالت لست بمخلية بك واحب من شركني في خير اختي . قال " فانها لا تحل لي " . قالت فوالله لقد اخبرت انك تخطب درة - او ذرة شك زهير - بنت ابي سلمة . قال " بنت ام سلمة " . قالت نعم . قال " اما والله لو لم تكن ربيبتي في حجري ما حلت لي انها ابنة اخي من الرضاعة ارضعتني واباها ثويبة فلا تعرضن على بناتكن ولا اخواتكن
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কুয়াইসের পুত্র আফলাহ (রাযি.) আমার কাছে এলে আমি তার থেকে পর্দা করলাম। তিনি বললেন, তুমি আমার থেকে পর্দা করছো? অথচ আমি তোমার চাচা। আমি বললাম, তা কেমন করে? তিনি বললেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী তোমাকে দুধ পান করিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আমাকে তো একজন মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোনো পুরুষ তো নয়। এমন সময় আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। আমি তাঁকে ঘটনাটি জানালে তিনি বললেনঃ সে তোমার চাচা। সুতরাং সে তোমার নিকট আসতে পারে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن كثير العبدي، اخبرنا سفيان، عن هشام بن عروة، عن عروة، عن عايشة، - رضى الله عنها - قالت دخل على افلح بن ابي القعيس فاستترت منه . قال تستترين مني وانا عمك قالت قلت من اين قال ارضعتك امراة اخي . قالت انما ارضعتني المراة ولم يرضعني الرجل . فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فحدثته فقال " انه عمك فليلج عليك
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এমন সময় আসলেন যখন তার নিকট একটি লোক উপস্থিত ছিলো। হাফস-এর বর্ণনায় রয়েছে, এ দৃশ্য দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হলো। অতঃপর উভয় বর্ণনাকারী একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি তো আমার দুধভাই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যাচাই করে দেখো, কারা তোমার দুধ ভাই। কেননা দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র ঐ সময় যখন শিশুর একমাত্র খাদ্য হবে দুধ।[1] সহীহ।
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن اشعث بن سليم، عن ابيه، عن مسروق، عن عايشة المعنى، واحد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها وعندها رجل قال حفص فشق ذلك عليه وتغير وجهه - ثم اتفقا - قالت يا رسول الله انه اخي من الرضاعة . فقال " انظرن من اخوانكن فانما الرضاعة من المجاعة
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, (দুধের দ্বারা) হাড় মজবুত করা এবং গোশত বৃদ্ধি করা ছাড়া দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। তখন আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাযি.) বললেন, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না, এ বিষয়ে তোমরা জ্ঞাত।[1] সহীহ।
حدثنا عبد السلام بن مطهر، ان سليمان بن المغيرة، حدثهم عن ابي موسى، عن ابيه، عن ابن لعبد الله بن مسعود، عن ابن مسعود، قال لا رضاع الا ما شد العظم وانبت اللحم . فقال ابو موسى لا تسالونا وهذا الحبر فيكم
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় রয়েছেঃ যখন হাড় বিস্তৃত হয়।[1] দুর্বলঃ মাওকুফ হওয়াটা সঠিক। যা এর পূর্বেরটিতে রয়েছে। ইরওয়া (২১৫৩), যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬২৯০)।
حدثنا محمد بن سليمان الانباري، حدثنا وكيع، عن سليمان بن المغيرة، عن ابي موسى الهلالي، عن ابيه، عن ابن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعناه وقال انشز العظم
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ ও উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আবূ হুযাইফাহ ইবনু ‘উতবাহ ইবনু রাবী‘আহ ইবনু ‘আবদি শাম্স সালিমকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করে তার সাথে স্বীয় ভাতিজী ওয়ালীদ ইবনু ‘উতবাহ ইবনু রাবী‘আহর মেয়ে হিন্দাকে বিয়ে দেন। সালিম এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস ছিলো। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়িদকে পালক পুত্র হিসাবে লালন করেছিলেন। জাহিলী যুগের নিয়ম ছিলো, কেউ কাউকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে ঐ ব্যক্তির পুত্র হিসেবে সম্বোধন করতো এবং ঐ লোক মারা গেলে পরিত্যক্ত সম্পদের উত্তরাধিকারীও তাকে করা হতো। কিন্তু যখন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের (প্রকৃত) পিতার নামে ডাকবে। তারা তোমাদের দীনি ভাই ও বন্ধু’’ (সূরা আহযাবঃ)। অতঃপর তাদের প্রকৃত পিতার নাম ধরেই ডাকা আরম্ভ হয়। আর পিতার সন্ধান না পাওয়া গেলে তাকে বন্ধু ও দীনি ভাই বলে ডাকা হতো। পরবর্তীতে আবূ হুযাইফাহ ইবনু ‘উত্ববাহর স্ত্রী সাহলা সুহাইল ইবনু ‘আমর আল-কুরাইশী আল-‘আমিরী (রাযি.) এসে বলেন, হে আল্লাহ রাসূল! সালিমকে আমরা আমাদের পুত্র গণ্য করি। সে আমার ও আবূ হুযাইফাহর সাথে একই ঘরে থাকে। আর সে আমাকে একই বস্ত্রের মধ্যে দেখেছে। আল্লাহ যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন আপনি তা ভালোভাবে অবহিত। এখন তার ব্যাপারে আপনি কি নির্দেশ দেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে তোমার দুধ পান করাও। সুতরাং তিনি তাকে পাঁচ ঢোক দুধ পান করান। তখন থেকে সে তার দুধ পানকারী সন্তান গণ্য হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তার ভাগ্নী ও ভাতিজীদেরকে নির্দেশ দিতেন যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নিজে যাদেরকে সাক্ষাৎ দান ও যাদের আগমন পছন্দ করতেন, তাদেরকে যেন পাঁচ ঢোক নিজেদের দুধ পান করানো হয়, তাদের বয়স দুধ পানের বয়সের (দু‘বছরের) বেশী হয়েও। অতঃপর তারা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে সরাসরি আসতো। কিন্তু উম্মু সালামাহ (রাযি.) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ যে কোনো ব্যক্তিকে এরূপ দুধসন্তান বানিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি বর্জন করলেন, যতক্ষণ না শিশু বয়সে দুধ পান করা হয়। তারা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের জানা নেই, সম্ভবত সালিমের বিষয়ে এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বিশেষ অনুমোদন ছিলো যা অন্য কারোর জন্য প্রযোজ্য নয়।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثني يونس، عن ابن شهاب، حدثني عروة بن الزبير، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم وام سلمة ان ابا حذيفة بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس كان تبنى سالما وانكحه ابنة اخيه هند بنت الوليد بن عتبة بن ربيعة وهو مولى لامراة من الانصار كما تبنى رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدا وكان من تبنى رجلا في الجاهلية دعاه الناس اليه وورث ميراثه حتى انزل الله سبحانه وتعالى في ذلك { ادعوهم لابايهم } الى قوله { فاخوانكم في الدين ومواليكم } فردوا الى ابايهم فمن لم يعلم له اب كان مولى واخا في الدين فجاءت سهلة بنت سهيل بن عمرو القرشي ثم العامري - وهي امراة ابي حذيفة - فقالت يا رسول الله انا كنا نرى سالما ولدا وكان ياوي معي ومع ابي حذيفة في بيت واحد ويراني فضلا وقد انزل الله عز وجل فيهم ما قد علمت فكيف ترى فيه فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم " ارضعيه " . فارضعته خمس رضعات فكان بمنزلة ولدها من الرضاعة فبذلك كانت عايشة - رضى الله عنها - تامر بنات اخواتها وبنات اخوتها ان يرضعن من احبت عايشة ان يراها ويدخل عليها وان كان كبيرا خمس رضعات ثم يدخل عليها وابت ام سلمة وساير ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ان يدخلن عليهن بتلك الرضاعة احدا من الناس حتى يرضع في المهد وقلن لعايشة والله ما ندري لعلها كانت رخصة من النبي صلى الله عليه وسلم لسالم دون الناس
। আয়িশাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ কুরআনে প্রথম অবতীর্ণ করেছিলেন যে, দশ ঢোক দুধ পান করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম। অতঃপর এ বিধান মানসূখ করে পাঁচ ঢোক পানে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারামের বিধান বহাল করা হয়। কুরআনের এই বিধান পাঠ বহাল রেখেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن عمرة بنت عبد الرحمن، عن عايشة، انها قالت كان فيما انزل الله عز وجل من القران عشر رضعات يحرمن ثم نسخن بخمس معلومات يحرمن فتوفي النبي صلى الله عليه وسلم وهن مما يقرا من القران
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার অথবা দুইবার চোষার কারণে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম হয় না।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد بن مسرهد، حدثنا اسماعيل، عن ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن عبد الله بن الزبير، عن عايشة، - رضى الله عنها - قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تحرم المصة ولا المصتان
। হাজ্জাজ ইবনু হাজ্জাজ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দুধের হক কিভাবে পূর্ণরূপে আদায় হতে পারে? তিনি বললেনঃ একটি দাস বা দাসী প্রদানের দ্বারা।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৩১৭৪), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৯৬/১১৬৯), যঈফ সুনান নাসায়ী (২১৩/৩৩২৯)।
حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، حدثنا ابو معاوية، ح وحدثنا ابن العلاء، حدثنا ابن ادريس، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن حجاج بن حجاج، عن ابيه، قال قلت يا رسول الله ما يذهب عني مذمة الرضاعة قال " الغرة العبد او الامة " . قال النفيلي حجاج بن حجاج الاسلمي وهذا لفظه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো নারীকে তার ফুফুর সাথে এবং কোনো ফুফুকে তার ভাতিজীর সাথে একত্রে বিয়ে করা যাবে না। অনুরূপভাবে কোনো নারী ও তার খালা এবং কোনো খালা ও তার ভাগ্নীকে একত্রে বিয়ে কারা যাবে না। অনুরূপ বড় (বোন)-কে ছোট (বোনের) সাথে এবং ছোটকে বড় (বোনোর) সাথেও একত্রে বিয়ে করা যাবে না।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، حدثنا زهير، حدثنا داود بن ابي هند، عن عامر، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تنكح المراة على عمتها ولا العمة على بنت اخيها ولا المراة على خالتها ولا الخالة على بنت اختها ولا تنكح الكبرى على الصغرى ولا الصغرى على الكبرى