Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩২৫ হাদিসসমূহ
। বকর ইবনু আব্দুল্লাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললো, এই ঘরের লোকদের কি হলো, এরা হাজীদেরকে শুধু ‘নবীয’ পান করান কেন? অথচ তাদের চাচাতো ভাইয়ের সন্তানরা তো দুধ, মধু ও ছাতুও পান করান। এটা কি তাদের কৃপণতা না দারিদ্রতা? ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বললেন, এটা আমাদের কৃপণতা বা দারিদ্রতা কোনোটিই নয়। বরং ব্যাপার এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীতে চড়ে এবং উসামাহ ইবনু যায়িদকে তাঁর পিছনে বসিয়ে আমাদের কাছে এসে কিছু পানীয় পান করতে চাইলেন। তখন ‘নবীয’ আনা হলে তিনি তা থেকে পান করলেন এবং বাকীটুকু উসামাহ ইবনু যায়িদকে দিলেন। তিনি তা পান করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা খুব উত্তম কাজ করেছো। ভবিষ্যতেও এরূপ করতে থাকবে। তাই আমরা আমরা এরূপ পান করাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রশংসা করেছেন আমরা তা পরিবর্তন করতে চাই না।[1] সহীহ।
حدثنا عمرو بن عون، حدثنا خالد، عن حميد، عن بكر بن عبد الله، قال قال رجل لابن عباس ما بال اهل هذا البيت يسقون النبيذ وبنو عمهم يسقون اللبن والعسل والسويق ابخل بهم ام حاجة فقال ابن عباس ما بنا من بخل ولا بنا من حاجة ولكن دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وخلفه اسامة بن زيد فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بشراب فاتي بنبيذ فشرب منه ودفع فضله الى اسامة بن زيد فشرب منه ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احسنتم واجملتم كذلك فافعلوا " . فنحن هكذا لا نريد ان نغير ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
। ‘উমার ইবনু ‘আব্দুল ‘আযীয (রহ.) সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হজে (হজ্জে) আগত মুহাজিরদের মক্কায় অবস্থান সম্পর্কে আপনি কিছু শুনেছেন কি? তিনি বললেন, আমাকে ইবনুল হাদরামী (রাযি.) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুহাজিরদের লক্ষ্য করে বলতে শুনেছেনঃ ফরয তাওয়াফ আদায়ের পর মক্কায় তিন দিন অবস্থান করতে পারবে।[1] সহীহ।
حدثنا القعنبي، حدثنا عبد العزيز، - يعني الدراوردي - عن عبد الرحمن بن حميد، انه سمع عمر بن عبد العزيز، يسال السايب بن يزيد هل سمعت في الاقامة، بمكة شييا قال اخبرني ابن الحضرمي، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " للمهاجرين اقامة بعد الصدر ثلاثا
। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করলেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উসামাহ ইবনু যায়িদ, ‘উসমান ইবনু তালহা আল-হাজাবী ও বিলাল (রাযি.)। তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, দরজা খুলে বাইরে এলে আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে কি করেছেন? তিনি বললেন, তিনি একটি স্তম্ভ তাঁর বামদিকে, দুটি স্তম্ভ ডানদিকে এবং তিনটি স্তম্বকে পিছনে রেখে সালাত আদায় করেছেন। এ সময় বায়তুল্লাহ মোট ছটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত ছিলো।[1] সহীহ।
حدثنا القعنبي، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل الكعبة هو واسامة بن زيد وعثمان بن طلحة الحجبي وبلال فاغلقها عليه فمكث فيها قال عبد الله بن عمر فسالت بلالا حين خرج ماذا صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال جعل عمودا عن يساره وعمودين عن يمينه وثلاثة اعمدة وراءه - وكان البيت يوميذ على ستة اعمدة - ثم صلى
। ইমাম মালিক (রহ.) সূত্রেও উক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি সওয়ারীর (স্তম্ভ) কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন, এ সময় তাঁর ও সামনের দেয়ালের মধ্যে তিন গজের দূরত্ব ছিলো।[1] সহীহ।
حدثنا عبد الله بن محمد بن اسحاق الاذرمي، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن مالك، بهذا الحديث لم يذكر السواري قال ثم صلى وبينه وبين القبلة ثلاثة اذرع
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে আল-কা‘নবীর বর্ণিত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি এও বলেন যে, আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا ابو اسامة، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعنى حديث القعنبي . قال ونسيت ان اساله كم صلى
। আব্দুর রহমান ইবনু সাফওয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করে কি করেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا جرير، عن يزيد بن ابي زياد، عن مجاهد، عن عبد الرحمن بن صفوان، قال قلت لعمر بن الخطاب كيف صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم حين دخل الكعبة قال صلى ركعتين
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করে কা‘বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন। কেননা এ ঘরে তখন বহু দেব-দেবী রাখা ছিলো। অতঃপর তাঁর নির্দেশ মোতাবেক সেগুলো অপসারণ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) এর মূর্তিও অপসারণ করা হলো; তাদের মূর্তির হাতে ছিলো ভাগ্য পরিক্ষার তীর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। আল্লাহর শপথ! তারা নিশ্চিত জানতো যে, তাঁরা কখনো এ তীরের সাহায্যে ভাগ্য পরিক্ষা করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং এর কোণে তাকবীর ধ্বনি দিলেন, অতঃপর বাইরে আসলেন। কিন্তু তিনি সেখানে সালাত আদায় করেননি।[1] সহীহ।
حدثنا ابو معمر عبد الله بن عمرو بن ابي الحجاج، حدثنا عبد الوارث، عن ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة ابى ان يدخل البيت وفيه الالهة فامر بها فاخرجت قال فاخرج صورة ابراهيم واسماعيل وفي ايديهما الازلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قاتلهم الله والله لقد علموا ما استقسما بها قط " . قال ثم دخل البيت فكبر في نواحيه وفي زواياه ثم خرج ولم يصل فيه
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহর ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে সালাত আদায় করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে হাতীমের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বললেন, তুমি যেহেতু বায়তুল্লাহর ভেতর সালাত পড়তে চেয়েছো তখন এখানেই সালাত পড়ে নাও। কেননা এটাও বায়তুল্লাহর অংশ। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন বায়তুল্লাহ পুনঃনির্মাণ করছিলো, তখন তাদের অর্থের অনটন থাকায় তারা এ অংশটুকু মূল ঘর থেকে বাইরে রেখেছো।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا القعنبي، حدثنا عبد العزيز، عن علقمة، عن امه، عن عايشة، انها قالت كنت احب ان ادخل البيت فاصلي فيه فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدي فادخلني في الحجر فقال " صلي في الحجر اذا اردت دخول البيت فانما هو قطعة من البيت فان قومك اقتصروا حين بنوا الكعبة فاخرجوه من البيت
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছ থেকে বাইরে গেলেন প্রফুল্ল চিত্তে, কিন্তু ফিরে আসলেন বিষন্ন মনে। তিনি বললেনঃ আমি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেছিলাম। আমি যা পরে জেনেছি তা যদি পূর্বেই জানতাম তাহলে আমি তাতে প্রবেশ করতাম না। আমার আশংকা হচ্ছে যে, আমি আমার উম্মতকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিলাম কিনা।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (২০৮৫), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫২/৮৮০)।
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الله بن داود، عن اسماعيل بن عبد الملك، عن عبد الله بن ابي مليكة، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج من عندها وهو مسرور ثم رجع الى وهو كييب فقال " اني دخلت الكعبة ولو استقبلت من امري ما استدبرت ما دخلتها اني اخاف ان اكون قد شققت على امتي
। মানসূর আল হাজাবী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আমার আম্মা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আম্মা) বলেছেন, আমি আসলাম গোত্রীয় জনৈক মহিলাকে বলতে শুনেছি আমি ‘উসমান ইবনু তালহা আল-হাজাবী (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে ডেকে নিয়ে কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, আমি আপনাকে জানাতে ভুলে গেছি যে, (ইসমাঈলের যাবাহকৃত দুম্বার) শিং দুইটি ঢেকে রাখুন (যা বায়তুল্লাহর দেয়ালে টাঙ্গানো ছিলো) কারণ বায়তুল্লায় এমন জিনিস থাকা সমীচীন নয় যা মুসল্লীদের অন্যমনস্ক করে দেয়। ইবনুস সারহ বলেছেন, তার মামার নাম হলো মুসাফি‘ ইবনু শাইবাহ।[1] সহীহ।
حدثنا ابن السرح، وسعيد بن منصور، ومسدد، قالوا حدثنا سفيان، عن منصور الحجبي، حدثني خالي، عن امي، صفية بنت شيبة قالت سمعت الاسلمية، تقول قلت لعثمان ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم حين دعاك قال " اني نسيت ان امرك ان تخمر القرنين فانه ليس ينبغي ان يكون في البيت شىء يشغل المصلي " . قال ابن السرح خالي مسافع بن شيبة
। শাইবাহ ইবনু ‘উসমান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আপনি যে স্থানে বসা আছেন, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব উক্ত স্থানে বসা অবস্থায় বললেন, কা‘বার ভেতরে রক্ষিত সম্পদ বন্টন না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে বের হবো না। শাইবাহ বলেন, আমি বললাম, আপনি এরূপ করতে পারেন না। উমার বলেন, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই এরূপ করবো। শাইবাহ বলেন, আমি আবার বললাম, আপনি এরূপ করতে পারেন না। উমার (রাযি.) বললেন, কেন? আমি বললাম, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযি.) সম্পদ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। আপনার চেয়ে তাঁদের এ সম্পদের বেশি প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তারা এ সম্পদে হস্তক্ষেপ করেননি। একথা শুনে তিনি উঠে বেরিয়ে যান।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن حنبل، حدثنا عبد الرحمن بن محمد المحاربي، عن الشيباني، عن واصل الاحدب، عن شقيق، عن شيبة، - يعني ابن عثمان - قال قعد عمر بن الخطاب - رضى الله عنه - في مقعدك الذي انت فيه فقال لا اخرج حتى اقسم مال الكعبة . قال قلت ما انت بفاعل . قال بلى لافعلن . قال قلت ما انت بفاعل . قال لم قلت لان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد راى مكانه وابو بكر - رضى الله عنه - وهما احوج منك الى المال فلم يخرجاه . فقام فخرج
। যুবায়র (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘লিয়্যা’ নামক স্থান থেকে আস-সিদরাহ নামক জায়গাতে পৌঁছলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালো পাথরের পাহাড়ের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তায়েফের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। বর্ণনাকারী বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপত্যকায় থামলেন এবং সকল লোকেরাও থামলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ ‘সাইদু ওয়াজ্জ’ ও ‘ইযাহা’ কাঁটাবিশিষ্ট বৃক্ষের এলাকাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হারাম। এ ঘটনা তাঁর তায়েফ অভিযান ও বনু সাক্বীফকে অবরোধ করার পূর্বেকার।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (১৮৭৫), মিশকাত (২৭৪৯)।
حدثنا حامد بن يحيى، حدثنا عبد الله بن الحارث، عن محمد بن عبد الله بن انسان الطايفي، عن ابيه، عن عروة بن الزبير، عن الزبير، قال لما اقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم من لية حتى اذا كنا عند السدرة وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم في طرف القرن الاسود حذوها فاستقبل نخبا ببصره وقال مرة واديه ووقف حتى اتقف الناس كلهم ثم قال " ان صيد وج وعضاهه حرام محرم لله " . وذلك قبل نزوله الطايف وحصاره لثقيف
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফরের প্রস্তুতি নেয়া যাবে না। মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا تشد الرحال الا الى ثلاثة مساجد مسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى
। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর কুরআন এবং তাঁর এ সহীফার মধ্যে যা লিখিত আছে তা ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনা ‘আয়ের’ থেকে ‘সাওর’ পর্যন্ত হারাম এলাকা। এখানে যদি কেউ বিদ‘আত করে কিংবা বিদ‘আতীকে আশ্রয় দেয়, তবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। তিনি আরো বলেছেনঃ সকল মুসলিমের নিরাপত্তা বিধান সমান গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি একজন সাধারণ ব্যক্তির নিরাপত্তাও। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো কাওমের লোকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের নেতা হয় তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن علي، - رضى الله عنه - قال ما كتبنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الا القران وما في هذه الصحيفة . قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " المدينة حرام ما بين عاير الى ثور فمن احدث حدثا او اوى محدثا فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين لا يقبل منه عدل ولا صرف وذمة المسلمين واحدة يسعى بها ادناهم فمن اخفر مسلما فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين لا يقبل منه عدل ولا صرف ومن والى قوما بغير اذن مواليه فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين لا يقبل منه عدل ولا صرف
। ‘আলী (রাযি.) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের ঘটনা প্রসংগে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মদীনার) সবুজ ঘাস কাটা যাবে না, শিকার তাড়ানো যাবে না এবং পড়ে থাকা বস্তু উঠানো যাবে না। তবে ঘোষক ঘোষণার উদ্দেশ্যে তা তুলতে পারবে। কেউ সেখানে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কোনো হাতিয়ার নিয়ে যেতে পারবে না এবং সেখানকার কোনো বৃক্ষও কাটা যাবে না, তবে কেউ তার উটের খাদ্য সংগ্রহ করলে তা ভিন্ন কথা।[1] সহীহ।
حدثنا ابن المثنى، حدثنا عبد الصمد، حدثنا همام، حدثنا قتادة، عن ابي حسان، عن علي، - رضى الله عنه - في هذه القصة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يختلى خلاها ولا ينفر صيدها ولا تلتقط لقطتها الا لمن اشاد بها ولا يصلح لرجل ان يحمل فيها السلاح لقتال ولا يصلح ان يقطع منها شجرة الا ان يعلف رجل بعيره
। ‘আদী ইবনু যায়িদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার চতুর্দিকে এক এক ‘বারীদ’ সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। এখানকার গাছের পাতা পাড়া যাবে না, এবং কাটাও যাবে না। তবে উট যেটুকু খাদ্য হিসেবে বহন করে, তা কাটা যাবে।[1] দুর্বল।
حدثنا محمد بن العلاء، ان زيد بن الحباب، حدثهم حدثنا سليمان بن كنانة، مولى عثمان بن عفان اخبرنا عبد الله بن ابي سفيان، عن عدي بن زيد، قال حمى رسول الله صلى الله عليه وسلم كل ناحية من المدينة بريدا بريدا لا يخبط شجره ولا يعضد الا ما يساق به الجمل
। সুলাইম ইবনু আবূ ‘আব্দুল্লাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযি.)-কে এক ব্যক্তিকে আটক করতে দেখেছি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মদীনার হেরেম এলাকার মধ্যে শিকার করছিলো। তিনি তার সাথের মালপত্র কেড়ে নিলেন। অতঃপর তার মনিব এসে এ বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ এলাকাটি হারাম ঘোষনা করে বলেছেনঃ এ এলাকায় যদি কাউকে শিকার করতে দেখো তাহলে তার সাথের মালপত্র কেড়ে নিবে। সুতরাং আমি এমন দান ফেরত দেবো না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েছেন। অবশ্য তুমি চাইলে তার মূল্য তোমাদেরকে দিবো।[1] সহীহ, কিন্তু তার ‘‘শিকার করছিলো’’ কথাটি মুনকার। মাহফূয হলোঃ গাছ কাটছিলো’’ যা পরবর্তী ২০৩৮) হাদীসে আসছে। মিশকাত (২৭৪৭)।
حدثنا ابو سلمة، حدثنا جرير، - يعني ابن حازم - حدثني يعلى بن حكيم، عن سليمان بن ابي عبد الله، قال رايت سعد بن ابي وقاص اخذ رجلا يصيد في حرم المدينة الذي حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلبه ثيابه فجاء مواليه فكلموه فيه فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حرم هذا الحرم وقال " من وجد احدا يصيد فيه فليسلبه ثيابه " . فلا ارد عليكم طعمة اطعمنيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن ان شيتم دفعت اليكم ثمنه
। সা‘দ (রাযি.) এর মুক্তদাস সূত্রে বর্ণিত। সা‘দ (রাযি.) মদীনার কতিপয় গোলামকে মদীনার গাছপালা কাটতে দেকে তাদের মালপত্র কেড়ে নিলেন এবং তাদের মনিবদের বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মদীনার গাছপালা কাটতে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেনঃ কেউ এখানকার কিছু কাটলে তার মালপত্র সেই পাবে যে তা কেড়ে নিবে।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا ابن ابي ذيب، عن صالح، مولى التوامة عن مولى، لسعد ان سعدا، وجد عبيدا من عبيد المدينة يقطعون من شجر المدينة فاخذ متاعهم وقال - يعني لمواليهم - سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى ان يقطع من شجر المدينة شىء وقال " من قطع منه شييا فلمن اخذه سلبه
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংরক্ষিত এলাকায় গাছের পাতা না পাড়ে এবং কর্তন না করে, তবে কোমলভাবে পাতায় আঘাত করা যাবে।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن حفص ابو عبد الرحمن القطان، حدثنا محمد بن خالد، اخبرني خارجة بن الحارث الجهني، اخبرني ابي، عن جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يخبط ولا يعضد حمى رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن يهش هشا رفيقا
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বাহনে চড়ে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে কুবা মসজিদে আসতেন। ইবনু নুমাইরের বর্ণনায় রয়েছেঃ এবং তিনি সেখানে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، ح وحدثنا عثمان بن ابي شيبة، عن ابن نمير، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ياتي قباء ماشيا وراكبا زاد ابن نمير ويصلي ركعتين