Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৮১ হাদিসসমূহ
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আমার খালা মায়মুনাহ এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সালাত আদায় করেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখলাম। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বলেছেনঃ (রাতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে প্রস্রাব করলেন এবং মুখমণ্ডল ও দু' হাতের কজি পর্যন্ত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে আবার উঠে মশকের পাশে গেলেন, এর বাঁধন খুললেন এবং বড় থালা বা কাষ্ঠ নির্মিত প্লেটে পানি ঢাললেন। পরে হাত দিয়ে তা নীচু করলেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি উত্তম ওযু করলেন (অর্থাৎ অত্যধিক যত্নের সাথে ওযু করলেন না, আবার খুব হালকাভাবেও করলেন না)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও উঠে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মোট তের রাকাআত সালাত দ্বারা তার সালাত শেষ হ’ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নাক ডাকতে শুরু করল। আমরা নাক ডাকানোর আওয়াজ শুনে তার ঘুমানো বুঝতে পারতাম। তারপর সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে অথবা সাজদায় গিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বলে দু'আ করতে থাকলেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাওঁ ওয়া আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া আন শিমালী নূরাও ওয়া আমা-মী নূরাও ওয়া খলফী নুরাও ওয়া ফাওকী নুরাওঁ ওয়া তাহতী নুরাও ওয়াজ আল্লী নূরান আও কু-লা ওয়াজ'আলনী নুরা-" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়-মনে আলো দান কর, আমার শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাম দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর এবং আমার জন্য আলো সৃষ্টি কর। অথবা তিনি বললেনঃ আমাকে আলোতে পরিণত করে দাও।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد، - وهو ابن جعفر - حدثنا شعبة، عن سلمة، عن كريب، عن ابن عباس، قال بت في بيت خالتي ميمونة فبقيت كيف يصلي رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فقام فبال ثم غسل وجهه وكفيه ثم نام ثم قام الى القربة فاطلق شناقها ثم صب في الجفنة او القصعة فاكبه بيده عليها ثم توضا وضوءا حسنا بين الوضوءين ثم قام يصلي فجيت فقمت الى جنبه فقمت عن يساره - قال - فاخذني فاقامني عن يمينه فتكاملت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث عشرة ركعة ثم نام حتى نفخ وكنا نعرفه اذا نام بنفخه ثم خرج الى الصلاة فصلى فجعل يقول في صلاته او في سجوده " اللهم اجعل في قلبي نورا وفي سمعي نورا وفي بصري نورا وعن يميني نورا وعن شمالي نورا وامامي نورا وخلفي نورا وفوقي نورا وتحتي نورا واجعل لي نورا او قال واجعلني نورا
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর কাছে ছিলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি গুনদার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু উল্লেখ করলেন। এতে তিনি "ওয়াজ'আলনী নূরান" অর্থাৎ আমাকে আলো বানিয়ে দাও কথাটি বলতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করলেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني اسحاق بن منصور، حدثنا النضر بن شميل، اخبرنا شعبة، حدثنا سلمة بن كهيل، عن بكير، عن كريب، عن ابن عباس، . قال سلمة فلقيت كريبا فقال قال ابن عباس كنت عند خالتي ميمونة فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم . ثم ذكر بمثل حديث غندر . وقال " واجعلني نورا " . ولم يشك
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও হান্নাদ ইবনুস সারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন কিন্তু হাতের কজিদ্বয় ও মুখমণ্ডল ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। বর্ণনাতে তিনি বলেছেনঃ পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মশকের পাশে গেলেন, এটির বাঁধন খুললেন এবং দু' ওযুর মাঝামাঝি ওযু করলেন। এরপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে মশকের পাশে গিয়ে ওটির বন্ধন খুললেন এবং ওযু যেমনটি হওয়া দরকার তেমনি করলেন। আর তিনি আমাকে এতে বলেছেন, "আযিম্ লী নূরান" অর্থাৎ- (হে আল্লাহ) আমার আলোকে বড় করে দাও। তবে এতে তিনি "ওয়াজ'আলনী নূরান" অর্থাৎ- "আমাকে নূর বা আলো বানিয়ে দাও কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وهناد بن السري، قالا حدثنا ابو الاحوص، عن سعيد بن مسروق، عن سلمة بن كهيل، عن ابي رشدين، مولى ابن عباس عن ابن عباس، قال بت عند خالتي ميمونة . واقتص الحديث ولم يذكر غسل الوجه والكفين غير انه قال ثم اتى القربة فحل شناقها فتوضا وضوءا بين الوضوءين ثم اتى فراشه فنام ثم قام قومة اخرى فاتى القربة فحل شناقها ثم توضا وضوءا هو الوضوء وقال " اعظم لي نورا " . ولم يذكر " واجعلني نورا
আবূত তহির (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলেন। তিনি বলেছেনঃ রাতের বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে একটি মশকের পাশে গেলেন এবং তা থেকে পানি ঢেলে ওযু করলেন। এতে তিনি অধিক পানি ব্যবহার করলেন না বা ওযু সংক্ষিপ্তও করলেন না। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ রাতে উনিশটি কথা বলে দু'আ করলেন। সালামাহ ইবনু কুহায়ল বলেছেন- কুরায়ব ঐ কথাগুলো সব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তার বারোটি মাত্র মনে রাখতে পেরেছি আর অবশিষ্টগুলো ভুলে গিয়েছি। তিনি তার দু'আয় বলেছিলেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার হৃদয় মনে আলো দান কর, আমার জিহবা বা বাকশক্তিতে আলো দান কর। আমার শ্রবণশক্তিতে আলো দান কর, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছন দিকে আলো দান কর, আমার নিজের মধ্যে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার আলোকে বিশালতা দান কর।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني ابو الطاهر، حدثنا ابن وهب، عن عبد الرحمن بن سلمان الحجري، عن عقيل بن خالد، ان سلمة بن كهيل، حدثه ان كريبا حدثه ان ابن عباس بات ليلة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم الى القربة فسكب منها فتوضا ولم يكثر من الماء ولم يقصر في الوضوء . وساق الحديث وفيه قال ودعا رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلتيذ تسع عشرة كلمة . قال سلمة حدثنيها كريب فحفظت منها ثنتى عشرة ونسيت ما بقي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم اجعل لي في قلبي نورا وفي لساني نورا وفي سمعي نورا وفي بصري نورا ومن فوقي نورا ومن تحتي نورا وعن يميني نورا وعن شمالي نورا ومن بين يدى نورا ومن خلفي نورا واجعل في نفسي نورا واعظم لي نورا
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাতে আমার খালা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মুনাহ এর ঘরে ঘুমালেন। উক্ত রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কিভাবে সালাত আদায় করেন তা দেখা ছিল আমার উদ্দেশ্য। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেনঃ তিনি তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। ..... এতটুকু বলার পর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক আছে যে, তিনি উঠে ওযু ও মিসওয়াক করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني ابو بكر بن اسحاق، اخبرنا ابن ابي مريم، اخبرنا محمد بن جعفر، اخبرني شريك بن ابي نمر، عن كريب، عن ابن عباس، انه قال رقدت في بيت ميمونة ليلة كان النبي صلى الله عليه وسلم عندها لانظر كيف صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل - قال - فتحدث النبي صلى الله عليه وسلم مع اهله ساعة ثم رقد . وساق الحديث وفيه ثم قام فتوضا واستن
ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন রাতে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে ঘুমালেন। রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক ও ওযু করলেন। এ সময় তিনি (কুরআন মজীদের এ আয়াতগুলো) পড়ছিলেনঃ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ পালাক্রমে আগমন নির্গমনে সুধী ও জ্ঞানীজনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে"- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৯০)। এভাবে তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। এরপর উঠে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়াম, রুকূ’ ও সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন এবং শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডেকে ঘুমালেন। তিনবার তিনি এরূপ করলেন এবং এভাবে তিনি ছয় রাকাআত সালাত আদায় করলেন প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করলেন, ওযু করলেন এবং এ আয়াতগুলো পড়লেন। সর্বশেষে তিন রাকাআত বিতর পড়লেন। অতঃপর মুয়াৰ্যযিন আযান দিলে তিনি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন। তখন তিনি এ বলে দুআ করেছিলেনঃ “আল্ল-হুম্মাজ আল ফী ক্বলবী নুরাওঁ ওয়াফী লিসা-নী নুরাওঁ ওয়াজ'আল ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়াজ'আল ফী বাসারী নুরাও ওয়াজ'আল মিন খলফী নূরাওঁ ওয়ামিন আমা-মী নূরাওঁ ওয়াজ'আল মিন ফাওকী নুরাও ওয়ামিন তাহতী নুরান, আল্ল-হুম্মা আত্বিনী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ আমার হৃদয়-মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ আমাকে নূর বা আলো দান কর।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا واصل بن عبد الاعلى، حدثنا محمد بن فضيل، عن حصين بن عبد الرحمن، عن حبيب بن ابي ثابت، عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن ابيه، عن عبد الله بن عباس، انه رقد عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستيقظ فتسوك وتوضا وهو يقول { ان في خلق السموات والارض واختلاف الليل والنهار لايات لاولي الالباب} فقرا هولاء الايات حتى ختم السورة ثم قام فصلى ركعتين فاطال فيهما القيام والركوع والسجود ثم انصرف فنام حتى نفخ ثم فعل ذلك ثلاث مرات ست ركعات كل ذلك يستاك ويتوضا ويقرا هولاء الايات ثم اوتر بثلاث فاذن الموذن فخرج الى الصلاة وهو يقول " اللهم اجعل في قلبي نورا وفي لساني نورا واجعل في سمعي نورا واجعل في بصري نورا واجعل من خلفي نورا ومن امامي نورا واجعل من فوقي نورا ومن تحتي نورا . اللهم اعطني نورا
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমি আমার খালা (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর কাছে (তার ঘরে) রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাত আদায় করতে উঠলেন। তিনি মশকের পাশে গিয়ে ওযু করলেন এবং তারপর সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তাকে এরূপ করতে দেখে আমিও উঠে মশকের পানি দিয়ে ওযু করলাম। তারপর তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পিঠের দিক থেকে আমার হাত ধরে সোজা তার পিঠের দিক দিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আত্বা বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নফল সালাত আদায়কালে এরূপ করেছিলেন। জবাবে তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বললেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭০, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا محمد بن بكر، اخبرنا ابن جريج، اخبرني عطاء، عن ابن عباس، قال بت ذات ليلة عند خالتي ميمونة فقام النبي صلى الله عليه وسلم يصلي متطوعا من الليل فقام النبي صلى الله عليه وسلم الى القربة فتوضا فقام فصلى فقمت لما رايته صنع ذلك فتوضات من القربة ثم قمت الى شقه الايسر فاخذ بيدي من وراء ظهره يعدلني كذلك من وراء ظهره الى الشق الايمن . قلت افي التطوع كان ذلك قال نعم
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমার পিতা আব্বাস আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। সেদিন আমার খালা মায়মূনাহ-এর ঘরে ছিলেন। উক্ত রাতে আমি তার সাথে কাটালাম। রাতে তিনি সালাত আদায় করতে উঠলে আমিও উঠলাম এবং গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭১, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني هارون بن عبد الله، ومحمد بن رافع، قالا حدثنا وهب بن جرير، اخبرني ابي قال، سمعت قيس بن سعد، يحدث عن عطاء، عن ابن عباس، قال بعثني العباس الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو في بيت خالتي ميمونة فبت معه تلك الليلة فقام يصلي من الليل فقمت عن يساره فتناولني من خلف ظهره فجعلني على يمينه
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন আমার খালা মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ ও কায়স ইবনু সা'দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭২, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا ابن نمير، حدثنا ابي، حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن ابن عباس، قال بت عند خالتي ميمونة . نحو حديث ابن جريج وقيس بن سعد
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا غندر، عن شعبة، ح وحدثنا ابن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن ابي جمرة، قال سمعت ابن عباس، يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত দেখব। রাতের বেলা প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর অনেক অনেক দীর্ঘায়িত করে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা এর পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর দু' রাকাআত আদায় করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। পরে আরো দু' রাকাআত আদায করলেন যা পূর্বের দু' রাকাআত থেকেও কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর বিতর অর্থাৎ এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং এভাবে মোট তের রাকাআত সালাত হ'ল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك بن انس، عن عبد الله بن ابي بكر، عن ابيه، ان عبد الله بن قيس بن مخرمة، اخبره عن زيد بن خالد الجهني، انه قال لارمقن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم الليلة فصلى . ركعتين خفيفتين ثم صلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم اوتر فذلك ثلاث عشرة ركعة
হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এক সময়ে আমরা এক (পানির কিনারে) ঘাটে গিয়ে পৌছলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির তুমি কি ঘাট পার হবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপর পাড়ে গিয়ে অবতরণ করলে আমিও পার হলাম। (জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে,) এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলে আর আমি তার ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। (তিনি বর্ণনা করেছেন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ওযু করলেন এবং একখানা মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। কাপড়খানার আঁচল বিপরীত দিকের দু কাঁধে দিলেন। তখন আমি গিয়ে তার পিছনে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমার কান ধরে নিয়ে তার ডান পাশে খাড়া করে দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثني محمد بن جعفر المدايني ابو جعفر، حدثنا ورقاء، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فانتهينا الى مشرعة فقال " الا تشرع يا جابر " . قلت بلى - قال - فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم واشرعت - قال - ثم ذهب لحاجته ووضعت له وضوءا - قال - فجاء فتوضا ثم قام فصلى في ثوب واحد خالف بين طرفيه فقمت خلفه فاخذ باذني فجعلني عن يمينه
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবৃ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতে উঠলে সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত (প্রথম দু' রাকাআত) সালাত শুরু করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، وابو بكر بن ابي شيبة جميعا عن هشيم، - قال ابو بكر حدثنا هشيم، - اخبرنا ابو حرة، عن الحسن، عن سعد بن هشام، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতে সালাত আদায় করতে শুরু করলে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দু' রাকাআত সালাত দিয়ে শুরু করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن محمد، عن ابي، هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا قام احدكم من الليل فليفتتح صلاته بركعتين خفيفتين
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাতের বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ বলে দু'আ করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা নুরুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা ক্বইয়্যামুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আৱযি ওয়ালাকাল হামদু আনতা রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না আনতাল হাক্কু ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু ওয়াক্বাওলুকাল হাক্কু ওয়ালিকা-উকা হাক্কুন ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন ওয়ান্না-রু হাক্কুন ওয়াস সা-আতু হাক্কুন, আল্লহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলায়কা আনাব্তু ওয়াবিকা খাসামতু ওয়া ইলায়কা হা-কামতু ফাগফিরলী মা- ক্বদ্দাম্তু ওয়া আখখারতু ওয়া আস্রারতু ওয়া আলানতু আনতা ইলা-হী লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। তুমি আসমান ও জমিনের নূর বা আলো। তোমার জন্যই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও জমিনের ব্যবস্থাপক। তোমার জন্যই সব প্রশংসা তুমিই আসমান ও জমিনের এবং এ সবের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক। তুমিই হাক্ব বা সত্য। তোমার ওয়া’দা সত্য, তোমার সব বাণী সত্য তোমার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য। জান্নাত সত্য, জাহান্নামও সত্য এবং কিয়ামতও সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার ওপরই তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করেছি, তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমারই জন্যে অন্যদের সাথে বিবাদ করেছি এবং তোমার কাছেই ফায়সালা চেয়েছি। তাই তুমি আমার আগের ও পরের এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত সব পাপ ক্ষমা করে দাও। একমাত্র তুমিই আমার ইলাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك بن انس، عن ابي الزبير، عن طاوس، عن ابن، عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول اذا قام الى الصلاة من جوف الليل " اللهم لك الحمد انت نور السموات والارض ولك الحمد انت قيام السموات والارض ولك الحمد انت رب السموات والارض ومن فيهن انت الحق ووعدك الحق وقولك الحق ولقاوك حق والجنة حق والنار حق والساعة حق اللهم لك اسلمت وبك امنت وعليك توكلت واليك انبت وبك خاصمت واليك حاكمت فاغفر لي ما قدمت واخرت واسررت واعلنت انت الهي لا اله الا انت
আমর আন নাকিদ, ইবনু নুমায়র ও ইবনু আবূ উমার, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুধু দুটি শব্দ ছাড়া ইবনু জুরায়জ বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহ মালিক বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহের অনুরূপ। দুটি স্থানের একটি ইবনু জুরায়জ قَيَّامُ শব্দের পরিবর্তে قَيِّمُ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আর অপর স্থানটিতে শুধু وَمَا أَسْرَرْتُ এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু উয়াইনাহ বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ হাদীসটিতে কিছু অতিরিক্ত শব্দ আছে এবং অনেকগুলো শব্দের ব্যাপারে তিনি মালিকের এবং ইবনু জুরায়জ-এর সাথে পার্থক্য করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا عمرو الناقد، وابن، نمير وابن ابي عمر قالوا حدثنا سفيان، ح وحدثنا محمد بن رافع، قال حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، كلاهما عن سليمان الاحول، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم . اما حديث ابن جريج فاتفق لفظه مع حديث مالك لم يختلفا الا في حرفين قال ابن جريج مكان قيام قيم وقال وما اسررت واما حديث ابن عيينة ففيه بعض زيادة ويخالف مالكا وابن جريج في احرف
শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এই একই সানাদে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের শব্দ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮০, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا مهدي، - وهو ابن ميمون - حدثنا عمران، القصير عن قيس بن سعد، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الحديث واللفظ قريب من الفاظهم
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, আবদ ইবনু হুমায়দ ও আবূ মা'ন আররাক্বাশী (রহঃ) .... 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উন্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন সালাত আদায় করতেন তখন কীভাবে তার সালাত শুরু করতেন? জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ রাতে যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ দু'আটি পড়ে সালাত শুরু করতেনঃ "আল্ল-হুম্মা রব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইসরা-ফীলা ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্ব শাহা-দাতি আনতা তাহকুমু বায়না ইবা-দিকা ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফ নাহদিনী লিমাখ তুলিফা ফীহি মিনাক হাক্কি বি ইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশা-উ ইলা সিরা-ত্বিম মুসতাকীম" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে তুমিই সেগুলোর ফায়সালা করবে। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে পথ দেখাও। তুমিই তো যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকো।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮১, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، ومحمد بن حاتم، وعبد بن حميد، وابو معن الرقاشي قالوا حدثنا عمر بن يونس، حدثنا عكرمة بن عمار، حدثنا يحيى بن ابي كثير، حدثني ابو سلمة، بن عبد الرحمن بن عوف قال سالت عايشة ام المومنين باى شىء كان نبي الله صلى الله عليه وسلم يفتتح صلاته اذا قام من الليل قالت كان اذا قام من الليل افتتح صلاته " اللهم رب جبراييل وميكاييل واسرافيل فاطر السموات والارض عالم الغيب والشهادة انت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني لما اختلف فيه من الحق باذنك انك تهدي من تشاء الى صراط مستقيم
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকাদ্দামী (রহঃ) ..... ‘আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন এ বলে শুরু করতেনঃ "ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযা হানীফাওঁ ওয়ামা- আনা মিনাল মুশরিকীনা ইন্না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীনা লা শারীকা লাহু ওয়াবি যা-লিকা উমিরতু ওয়া আনা- মিনাল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আনতা রব্বী ওয়া আনা- আবদুকা যলামতু নাফসী ওয়া'তারাফতু বিযাম্বি ফাগফিরলী যুনুবী জামী'আন ইন্নাহু লা- ইয়াগকরুত্ব যুনুবা ইল্লা- আনতা ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহদী লিআহসানিহা- ইল্লা- আনতা ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়্যিআহা- লা- ইয়াসরিফু 'আন্নী সাইয়্যিআহা- ইল্লা- আনতা লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা ওয়াল খয়রু কুল্লুহু কী ইয়াদায়কা ওয়াশ শুররু লায়সা ইলায়কা আনা- বিকা ওয়া ইলায়কা তাবা-রাকত ওয়াতা আ-লায়তা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুব ইলায়ক" (অর্থাৎ- আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি সারা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তার কোন শারীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী। হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম বাদশাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আর আমি তোমার বান্দা। আমি নিজে আমার প্রতি যুলুম করেছি। আমি আমার পাপ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমার সব পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম আখলাক বা নৈতিকতার পথ দেখাও। তুমি ছাড়া এ পথ আর কেউ দেখাতে সক্ষম নয়। আর আখলাক বা নৈতিকতার মন্দ দিকগুলো আমার থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ মন্দগুলোকে দূরে রাখতে সক্ষম নয়। আমি তোমার সামনে হাজির আছি- তোমার আনুগত্য করতে প্রস্তুত আছি। সব রকম কল্যাণের মালিক তুমিই। অকল্যাণের দায়-দায়িত্ব তোমার নয়। আমার সব কামনা-বাসনা তোমার কাছেই কাম্য। আমার শক্তিসামর্থ্যও তোমারই দেয়া। তুমি কল্যাণময়, তুমি মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছেই তওবা করছি।)। আর রুকূ করার সময় বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা লাকা রাকা'তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামতু খশা'আ লাকা সামঈ ওয়া বাসার ওয়া মুখখী ওয়া আযমী ওয়া আসাবী"- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশেই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং সব স্নায়ুতন্ত্রী তোমার কাছে নত ও বশীভূত হ’ল)। আর রুকূ’ থেকে উঠে বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়াতি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- বায়নাহুমা- ওয়ামিলআ মা- শি'তা মিন শাইয়িন বাদু”— (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক, সব প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। আসমান ভর্তি প্রশংসা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য)। আর যখন সাজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামৃত্যু সাজাদা ওয়াজহী লিল্লায়ী খলাকাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়াশাক্বকা সাম'আহু ওয়া বাসারাহ্ তাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খ-লিকীন”— (অর্থা- হে আল্লাহ! তোমারই উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম। তোমারই প্রতি আমি ঈমান পোষণ করেছি। তোমারই উদ্দেশে আমি আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল সে মহান সত্তার উদ্দেশে সিজদা করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দান করেছেন আর কান ও চোখ ফুটিয়ে শোনা ও দেখার উপযোগী করে তৈরি করেছেন। মহা কল্যাণময় আল্লাহ, তিনি কতই না উত্তম সৃষ্টিকার)। অতঃপর সবশেষে তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মাগফিরলী মা- ক্বদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা আসসারতু ওয়ামা আ'লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ'লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে এবং প্রকাশ্যে কৃত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আর যে সব ব্যাপারে আমি বাড়াবাড়ি করেছি তাও ক্ষমা করে দাও। আমার কৃত যেসব পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চাইতে বেশী জান তাও ক্ষমা করে দাও। তুমিই আদি এবং তুমিই অন্ত, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।) (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮২, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'রাজ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ সালাত শুরু করার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বলতেন তারপরে “ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী” বলতেন। এরপর শেষের দিকে “ওয়া আনা- আওওয়ালুল মুসলিমীন” বলতেন। এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেনঃ যখন তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ” এবং তিনি “ওয়া সাওওয়ারাহ ফা আহসানা সুওয়ারাহু”-ও বলতেন (অর্থাৎ- তিনি আকৃতি দান করেছেন এবং উত্তম আকৃতি দান করেছেন।)। এ বর্ণনাতে আরো আছে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন “আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী মা- কুদ্দামতু” কথাটি থেকে শুরু করে পূর্বোক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত বলতেন। আর তিনি তাশাহহুদ ও সালামের কথা বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثناه زهير بن حرب، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، ح وحدثنا اسحاق بن، ابراهيم اخبرنا ابو النضر، قال حدثنا عبد العزيز بن عبد الله بن ابي سلمة، عن عمه، الماجشون بن ابي سلمة عن الاعرج، بهذا الاسناد وقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا استفتح الصلاة كبر ثم قال " وجهت وجهي " . وقال " وانا اول المسلمين " . وقال واذا رفع راسه من الركوع قال " سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد " . وقال " وصوره فاحسن صوره " . وقال واذا سلم قال " اللهم اغفر لي ما قدمت " . الى اخر الحديث ولم يقل بين التشهد والتسليم
حدثنا محمد بن ابي بكر المقدمي، حدثنا يوسف الماجشون، حدثني ابي، عن عبد، الرحمن الاعرج عن عبيد الله بن ابي رافع، عن علي بن ابي طالب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه كان اذا قام الى الصلاة قال " وجهت وجهي للذي فطر السموات والارض حنيفا وما انا من المشركين ان صلاتي ونسكي ومحياى ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك امرت وانا من المسلمين اللهم انت الملك لا اله الا انت . انت ربي وانا عبدك ظلمت نفسي واعترفت بذنبي فاغفر لي ذنوبي جميعا انه لا يغفر الذنوب الا انت واهدني لاحسن الاخلاق لا يهدي لاحسنها الا انت واصرف عني سييها لا يصرف عني سييها الا انت لبيك وسعديك والخير كله في يديك والشر ليس اليك انا بك واليك تباركت وتعاليت استغفرك واتوب اليك " . واذا ركع قال " اللهم لك ركعت وبك امنت ولك اسلمت خشع لك سمعي وبصري ومخي وعظمي وعصبي " . واذا رفع قال " اللهم ربنا لك الحمد ملء السموات وملء الارض وملء ما بينهما وملء ما شيت من شىء بعد " . واذا سجد قال " اللهم لك سجدت وبك امنت ولك اسلمت سجد وجهي للذي خلقه وصوره وشق سمعه وبصره تبارك الله احسن الخالقين " . ثم يكون من اخر ما يقول بين التشهد والتسليم " اللهم اغفر لي ما قدمت وما اخرت وما اسررت وما اعلنت وما اسرفت وما انت اعلم به مني انت المقدم وانت الموخر لا اله الا انت