Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৮১ হাদিসসমূহ
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ কে এমন আছ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে এমন আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব। কে মন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব, ফজরের আলো ছড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ 'আলা এরূপ বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا يعقوب، - وهو ابن عبد الرحمن القاري - عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ينزل الله الى السماء الدنيا كل ليلة حين يمضي ثلث الليل الاول فيقول انا الملك انا الملك من ذا الذي يدعوني فاستجيب له من ذا الذي يسالني فاعطيه من ذا الذي يستغفرني فاغفر له فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر
ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অর্ধেক অথবা দু' তৃতীয়াংশ অতিক্রম হলে মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেনঃ কোন প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে দেয়া হবে? কোন আহবানকারী আছে কি যার আহবানে সাড়া দেয়া হবে? কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে ক্ষমা করা হবে? আল্লাহ তা'আলা ভোর প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এরূপ বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا ابو المغيرة، حدثنا الاوزاعي، حدثنا يحيى، حدثنا ابو سلمة بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا مضى شطر الليل او ثلثاه ينزل الله تبارك وتعالى الى السماء الدنيا فيقول هل من سايل يعطى هل من داع يستجاب له هل من مستغفر يغفر له حتى ينفجر الصبح
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ নিজের দু' হাত প্রসারিত করে বলেনঃ যিনি কখনো দরিদ্র হবেন না, কিংবা যুলম করেন না এমন সত্তাকে ঋণ দেয়ার জন্য কে আছ? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
حدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا محاضر ابو المورع، حدثنا سعد بن سعيد، قال اخبرني ابن مرجانة، قال سمعت ابا هريرة، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ينزل الله في السماء الدنيا لشطر الليل او لثلث الليل الاخر فيقول من يدعوني فاستجيب له او يسالني فاعطيه . ثم يقول من يقرض غير عديم ولا ظلوم " . قال مسلم ابن مرجانة هو سعيد بن عبد الله ومرجانة امه . حدثنا هارون بن سعيد الايلي، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني سليمان بن بلال، عن سعد بن سعيد، بهذا الاسناد وزاد " ثم يبسط يديه تبارك وتعالى يقول من يقرض غير عدوم ولا ظلوم
আবূ শায়বাহ-এর দু' পুত্র উসমান ও আবূ বাকর এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবকাশ দেন বা দেরী করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে বলতে থাকেনঃ কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি (যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব)? কোন তওবাকারী আছে কি (যে তওবা করবে আর আমি তার তওবা কবুল করব)? কোন প্রার্থনাকারী আছে কি (যে প্রার্থনা করবে আর আমি তার প্রার্থনা কুবুল করব)? কোন আহবানকারী আছে কি (আমি যার আহবানে দিব)? এভাবে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا عثمان، وابو بكر ابنا ابي شيبة واسحاق بن ابراهيم الحنظلي - واللفظ لابنى ابي شيبة - قال اسحاق اخبرنا وقال الاخران، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي اسحاق، عن الاغر ابي مسلم، يرويه عن ابي سعيد، وابي، هريرة قالا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله يمهل حتى اذا ذهب ثلث الليل الاول نزل الى السماء الدنيا فيقول هل من مستغفر هل من تايب هل من سايل هل من داع حتى ينفجر الفجر
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... শু'বাহ-এর মাধ্যমে আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ ও বেশী স্পষ্ট। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثناه محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، بهذا الاسناد . غير ان حديث، منصور اتم واكثر
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তারাবীহ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমযান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমযান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (অর্থাৎ মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত)। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে এবং উমর (রাযিঃ) এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫০, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرغب في قيام رمضان من غير ان يامرهم فيه بعزيمة فيقول " من قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه " . فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والامر على ذلك ثم كان الامر على ذلك في خلافة ابي بكر وصدرا من خلافة عمر على ذلك
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমান ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সালাত আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫১, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني زهير بن حرب، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني ابي، عن يحيى بن ابي كثير، قال حدثنا ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة، حدثهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من صام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه ومن قام ليلة القدر ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাতে জাগরণ করতে গিয়ে তা পেয়ে গেল, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি ঈমান ও সাওয়াবের আশায়' কথাটি বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫২, ইসলামীক সেন্টার)
حدثني محمد بن رافع، حدثنا شبابة، حدثني ورقاء، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من يقم ليلة القدر فيوافقها - اراه قال - ايمانا واحتسابا غفر له
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তার সাথে কিছু সংখ্যক লোকও সালাত আদায় করল। পরের রাতেও তিনি মসজিদে সালাত আদায় করলেন। লোকজন সংখ্যায় অনেক বেশী হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও অনেক লোক এসে একত্ৰ হ’ল। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তাদের সাথে যোগ দিলেন না। সকাল বেলা তিনি সবাইকে বললেনঃ (গত রাতে) তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তবে শুধু এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের সাথে যোগদান করিনি যে, তোমাদের ওপর তা ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। তিনি (আয়িশাহ) বলেছেনঃ ঘটনাটি রমযান মাসে সংঘটিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى في المسجد ذات ليلة فصلى بصلاته ناس ثم صلى من القابلة فكثر الناس ثم اجتمعوا من الليلة الثالثة او الرابعة فلم يخرج اليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما اصبح قال " قد رايت الذي صنعتم فلم يمنعني من الخروج اليكم الا اني خشيت ان تفرض عليكم " . قال وذلك في رمضان
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ী থেকে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, অনেক লোকও তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরো বেশী লোক (মসজিদে) একত্রিত হ’ল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। রাতেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তার সাথে সালাত আদায় করল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশী হ'ল যে, মসজিদে জায়গা সংকুলান হ’ল না। কিন্তু রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক সালাত বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফজরের ওয়াক্তে বের হলেন। ফজরের সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর "আম্মাবাদ" বলে শুরু করলেন। তিনি বললেনঃ গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ সালাতটি তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني حرملة بن يحيى، اخبرنا عبد الله بن وهب، اخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان عايشة، اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج من جوف الليل فصلى في المسجد فصلى رجال بصلاته فاصبح الناس يتحدثون بذلك فاجتمع اكثر منهم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليلة الثانية فصلوا بصلاته فاصبح الناس يذكرون ذلك فكثر اهل المسجد من الليلة الثالثة فخرج فصلوا بصلاته فلما كانت الليلة الرابعة عجز المسجد عن اهله فلم يخرج اليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فطفق رجال منهم يقولون الصلاة . فلم يخرج اليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى خرج لصلاة الفجر فلما قضى الفجر اقبل على الناس ثم تشهد فقال " اما بعد فانه لم يخف على شانكم الليلة ولكني خشيت ان تفرض عليكم صلاة الليل فتعجزوا عنها
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা'ব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর রমযান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইনশা-আল্ল-হ বললেন না (অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই 'লায়লাতুল কদর' আছে)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হ’ল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটি সেই রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষণ হ'ল- সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا محمد بن مهران الرازي، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا الاوزاعي، حدثني عبدة، عن زر، قال سمعت ابى بن كعب، يقول - وقيل له ان عبد الله بن مسعود يقول من قام السنة اصاب ليلة القدر - فقال ابى والله الذي لا اله الا هو انها لفي رمضان - يحلف ما يستثني - ووالله اني لاعلم اى ليلة هي . هي الليلة التي امرنا بها رسول الله صلى الله عليه وسلم بقيامها هي ليلة صبيحة سبع وعشرين وامارتها ان تطلع الشمس في صبيحة يومها بيضاء لا شعاع لها
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে 'যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন' শুবাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু (আবদাল্লাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال سمعت عبدة بن ابي لبابة، يحدث عن زر بن حبيش، عن ابى بن كعب، قال ابى في ليلة القدر والله اني لاعلمها واكثر علمي هي الليلة التي امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بقيامها هي ليلة سبع وعشرين - وانما شك شعبة في هذا الحرف - هي الليلة التي امرنا بها رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال وحدثني بها صاحب لي عنه
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني عبيد الله بن معاذ، حدثنا ابي، حدثنا شعبة، بهذا الاسناد . نحوه ولم يذكر انما شك شعبة . وما بعده
‘আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হাইয়্যান আল আবদী (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনাহ এর (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীর) ঘরে কাটালাম। (আমি দেখলাম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে মুখমণ্ডল এবং দু' হাত ধুলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমালেন। পরে পুনরায় উঠে মশকের পাশে গেলেন এবং এর বন্ধন খুলে ওযু করলেন। ওযুতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন (অর্থাৎ ওযু করতে খুব যত্নও নিলেন না আবার একেবারে খুব হালকাভাবেও ওযু করলেন না)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেশী পানি ব্যবহার করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি সে সময় উঠলাম এবং তার কাজকর্ম দেখার জন্য জেগে ছিলাম বা সতর্কভাবে তা লক্ষ্য করছিলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা যেন না ভেবে বসেন তাই আড়মোড়া ভাঙ্গলাম। এবার আমি ওযু করলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন, অতঃপর আমিও তার বাঁ পাশে দিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে এনে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত তের রাকাআত শেষ হ’ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি (ঘুমের মধ্যে তাঁর) নাক ডাকতে শুরু করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বভাবতঃ যখনই ঘুমাতেন তখন নাক ডাকত। পরে বিলাল (রাযিঃ) তাকে সালাতের কথা বলে গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাও, ওয়া কী সামঈ নূরাও ওয়া আই ইয়ামীনী নুরাওঁ, ওয়া আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ, ওয়া ফাওকী নূরাওঁ, ওয়া তাহতী নূরাওঁ, ওয়া আমামী নূরাওঁ, ওয়া খালফী নূরাওঁ,ওয়া আয্যিমলী নূরাওঁ" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়ে আলো দান কর, আমার চোখে আলো দান কর, আমার কানে বা শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর। আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছনে আলো দান কর এবং আমার আলোকে বিশাল করে দাও।)। বর্ণনাকারী কুরায়ব বলেছেনঃ তিনি এরূপ আরো সাতটি কথা বলেছিলেন যা আমি ভুলে গিয়েছি। হাদীসের বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু কুহায়ল বলেন- এরপর আমি আব্বাস (রাযিঃ) এর এক পুত্রের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐগুলো (অবশিষ্ট সাতটি) আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করলেনঃ আমার স্নায়ুতন্ত্ৰীসমূহে, আমার শরীরের গোশতে, আমার রক্তে, আমার চুলে এবং আমার গাত্রচর্মে আলো দান কর। এছাড়াও তিনি আরো দুটি বিষয় উল্লেখ করে বললেনঃ এ দু'টিতে তিনি আলো চেয়েছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মুনাহ (রাযিঃ) ছিলেন তার খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। এরপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পরে তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমণ্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরাহ্ আ-লি ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন[1]। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু' রাকাআত, এরপর আরো দু' রাকাআত এবং পরে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিতর পড়লেন[2]।তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى ابن عباس ان ابن عباس، اخبره انه، بات ليلة عند ميمونة ام المومنين - وهي خالته - قال فاضطجعت في عرض الوسادة واضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم واهله في طولها فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انتصف الليل او قبله بقليل او بعده بقليل استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يمسح النوم عن وجهه بيده ثم قرا العشر الايات الخواتم من سورة ال عمران ثم قام الى شن معلقة فتوضا منها فاحسن وضوءه ثم قام فصلى . قال ابن عباس فقمت فصنعت مثل ما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ذهبت فقمت الى جنبه فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده اليمنى على راسي واخذ باذني اليمنى يفتلها فصلى ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم اوتر ثم اضطجع حتى جاء الموذن فقام فصلى ركعتين خفيفتين ثم خرج فصلى الصبح
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... মাখরামাহ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পুরনো মশকের কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করে ওযু করলেন। তিনি বেশী পানি খরচ না করেই উত্তমরূপে ওযু করলেন তারপর আমাকে ঝাকুনি দিলেন। তখন আমি উঠলাম। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশটুকু মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬০, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني محمد بن سلمة المرادي، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عياض بن عبد الله الفهري، عن مخرمة بن سليمان، بهذا الاسناد وزاد ثم عمد الى شجب من ماء فتسوك وتوضا واسبغ الوضوء ولم يهرق من الماء الا قليلا ثم حركني فقمت . وساير الحديث نحو حديث مالك
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহর (খালা) ঘরে আমি ঘুমালাম আর সেই রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে তিনি ওযু করে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাঁড় করালেন। ঐ রাতে তিনি তের রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ঘুমালেন। ঘুমের মধ্যে তিনি নাক ডাকলেন। আর তিনি যখনই ঘুমাতেন নাক ডাকত। পরে মুয়াযযিন তার কাছে আসলেন তিনি (মসজিদে) চলে গেলেন এবং নতুন ওযু না করেই সালাত আদায় করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী 'আমর বলেছেন, আমি বুকায়র ইবনুল আশাজ্জ এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার কাছেও তিনি হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬১, ইসলামীক সেন্টার)
حدثني هارون بن سعيد الايلي، حدثنا ابن وهب، حدثنا عمرو، عن عبد ربه بن سعيد، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، انه قال نمت عند ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم عندها تلك الليلة فتوضا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قام فصلى فقمت عن يساره فاخذني فجعلني عن يمينه فصلى في تلك الليلة ثلاث عشرة ركعة ثم نام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نفخ وكان اذا نام نفخ ثم اتاه الموذن فخرج فصلى ولم يتوضا . قال عمرو فحدثت به بكير بن الاشج فقال حدثني كريب بذلك
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে আমি আমার খালা মায়মুনাহ বিনতু হারিস এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) যখন উঠবেন তখন আপনি আমাকে জাগিয়ে দিবেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলে আমিও উঠলাম এবং তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে তার ডান পাশে নিলেন। পরে যখনই আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম তখন তিনি আমার কানের নিম্নভাগ ধরে টান দিচ্ছিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন- তিনি এগার রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে থাকলেন। আমি তার নাক ডাকানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি সংক্ষিপ্তাকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬২, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن رافع، حدثنا ابن ابي فديك، اخبرنا الضحاك، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، قال بت ليلة عند خالتي ميمونة بنت الحارث فقلت لها اذا قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فايقظيني . فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقمت الى جنبه الايسر فاخذ بيدي فجعلني من شقه الايمن فجعلت اذا اغفيت ياخذ بشحمة اذني - قال - فصلى احدى عشرة ركعة ثم احتبى حتى اني لاسمع نفسه راقدا فلما تبين له الفجر صلى ركعتين خفيفتين
ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার খালা (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে ঝুলিয়ে রাখা একটি পুরনো মশক থেকে পানি নিয়ে হালকাভাবে ওযু করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসের আযাদকৃত ক্রীতদাস কুরায়ব বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, তখন আমিও উঠলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম এবং পরে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। এরপর সালাত আদায় করে তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাকও ডাকলেন। পরে বিলাল এসে তাকে সালাতের সময়ের কথা জানালে তিনি গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু নতুন ওযু করলেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী সুফইয়ান বলেছেন, এ ব্যবস্থা শুধু (ঘুমানোর পর নতুন ওযু না করে সালাত আদায় করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আমরা এ কথা জানি যে, তার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু হৃদয়-মন ঘুমায় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا ابن ابي عمر، ومحمد بن حاتم، عن ابن عيينة، - قال ابن ابي عمر حدثنا سفيان، - عن عمرو بن دينار، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، انه بات عند خالته ميمونة فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل فتوضا من شن معلق وضوءا خفيفا - قال وصف وضوءه وجعل يخففه ويقلله - قال ابن عباس فقمت فصنعت مثل ما صنع النبي صلى الله عليه وسلم ثم جيت فقمت عن يساره فاخلفني فجعلني عن يمينه فصلى ثم اضطجع فنام حتى نفخ ثم اتاه بلال فاذنه بالصلاة فخرج فصلى الصبح ولم يتوضا . قال سفيان وهذا للنبي صلى الله عليه وسلم خاصة لانه بلغنا ان النبي صلى الله عليه وسلم تنام عيناه ولا ينام قلبه
حدثني عبد الله بن هاشم بن حيان العبدي، حدثنا عبد الرحمن، - يعني ابن مهدي - حدثنا سفيان، عن سلمة بن كهيل، عن كريب، عن ابن عباس، قال بت ليلة عند خالتي ميمونة فقام النبي صلى الله عليه وسلم من الليل فاتى حاجته ثم غسل وجهه ويديه ثم نام ثم قام فاتى القربة فاطلق شناقها ثم توضا وضوءا بين الوضوءين ولم يكثر وقد ابلغ ثم قام فصلى فقمت فتمطيت كراهية ان يرى اني كنت انتبه له فتوضات فقام فصلى فقمت عن يساره فاخذ بيدي فادارني عن يمينه فتتامت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل ثلاث عشرة ركعة ثم اضطجع فنام حتى نفخ وكان اذا نام نفخ فاتاه بلال فاذنه بالصلاة فقام فصلى ولم يتوضا وكان في دعايه " اللهم اجعل في قلبي نورا وفي بصري نورا وفي سمعي نورا وعن يميني نورا وعن يساري نورا وفوقي نورا وتحتي نورا وامامي نورا وخلفي نورا وعظم لي نورا " . قال كريب وسبعا في التابوت فلقيت بعض ولد العباس فحدثني بهن فذكر عصبي ولحمي ودمي وشعري وبشري وذكر خصلتين