Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৪১ হাদিসসমূহ
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ও রমাযানের সিয়াম পালন করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا عبيد الله بن معاذ، حدثنا ابي، حدثنا عاصم، - وهو ابن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر - عن ابيه، قال قال عبد الله قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بني الاسلام على خمس شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলো, আপনি জিহাদে অংশগ্রহণ করছেন না কেন?[1] তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রমাযানের সওম পালন করা ও বাইতুল্লাহর হজ্জ করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني ابن نمير، حدثنا ابي، حدثنا حنظلة، قال سمعت عكرمة بن خالد، يحدث طاوسا ان رجلا، قال لعبد الله بن عمر الا تغزو فقال اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان الاسلام بني على خمس شهادة ان لا اله الا الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصيام رمضان وحج البيت
খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল কায়স-এর (গোত্রের) একটি ওয়াফদ [1] (প্রতিনিধি দল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রাবী'আহ গোত্রের লোক। আমাদের এবং আপনার মধ্যে কাফির মুযার গোত্র বিদ্যমান। আমরা শাহরুল হারাম ব্যতীত আপনার নিকট নিরাপদে পৌছাতে পারি না। কাজে আপনি আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিন আমরা যে সবের উপর আমল করতে পারি এবং আমাদের অন্যান্যদের তৎপ্রতি আহবান জানাতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের আমি চারটি বিষয় পালনের আদেশ করছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। তারপর তাদের এ সম্বন্ধে বর্ণনা দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং তোমাদের গনীমাতলদ্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি দুব্বা, হানতাম, নাকীর, মুকাইয়্যার থেকে [2]। খালাফ তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেছেন, "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অঙ্গুলি (সংকেতসূচক) বন্ধ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا خلف بن هشام، حدثنا حماد بن زيد، عن ابي جمرة، قال سمعت ابن عباس، ح وحدثنا يحيى بن يحيى، - واللفظ له - اخبرنا عباد بن عباد، عن ابي جمرة، عن ابن عباس، قال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله انا هذا الحى من ربيعة وقد حالت بيننا وبينك كفار مضر فلا نخلص اليك الا في شهر الحرام فمرنا بامر نعمل به وندعو اليه من وراءنا . قال " امركم باربع وانهاكم عن اربع الايمان بالله - ثم فسرها لهم فقال - شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وان تودوا خمس ما غنمتم وانهاكم عن الدباء والحنتم والنقير والمقير " . زاد خلف في روايته " شهادة ان لا اله الا الله " . وعقد واحدة
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জামরাহ্ (নাসর ইবনু ইমরান) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সম্মুখে তার ও ভিনদেশী লোকেদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদা জনৈক মহিলা এসে তাকে মাটির কলসীর মধ্যে নবীয [1] প্রস্তুত করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেন, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কাদের এ প্রতিনিধি দল? অথবা তিনি বললেন, কোন গোত্রের লোক? তারা বললো, রাবী'আহ গোত্রের। তিনি বললেন, ঐ গোত্রের অথবা বললেন, প্রতিনিধি দলের আগমন শুভ হোক। তাদের লজ্জিত হওয়ার ও অপমানিত হওয়ারও কোন কারণ নেই (তারা ইতোপূর্বে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এরপর তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আপনার কাছে এসেছি। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুযারা গোত্র বাস করে। তাই আমরা মাহে হারাম (সম্মানিত মাস) ছাড়া অন্য সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। আপনি আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে কোন কাজের কথা বলে দিন যেন আমরা তা আমাদের পশ্চাতের অন্যান্য লোকদের জানিয়ে দিতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের চারটি বিষয় পালনের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন। এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা জান এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তারা আরয করলো, আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিষয়ে ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল আর তোমরা সালাত করিম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং গনীমাতলদ্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ দান করবে। তিনি তাদের চারটি বিষয়ে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তা হচ্ছে দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত। চতুর্থটি সম্বন্ধে শু'বাহ বলেন, এরপর রাবী কখনো নাকীর কখনো বা মুকাইয়্যার শব্দ উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এসব বিধান হিফাযাত করবে এবং যারা আসেনি তাদের তা জানিয়ে দিবে। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াতে مَنْ وَرَاءَكُمْ (যারা আসেনি) কথাটি রয়েছে কিন্তু الْمُقَيَّرِ শব্দটি নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، ومحمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، والفاظهم، متقاربة - قال ابو بكر حدثنا غندر، عن شعبة، وقال الاخران، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، - عن ابي جمرة، قال كنت اترجم بين يدى ابن عباس وبين الناس فاتته امراة تساله عن نبيذ الجر، فقال ان وفد عبد القيس اتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من الوفد او من القوم " . قالوا ربيعة . قال " مرحبا بالقوم او بالوفد غير خزايا ولا الندامى " . قال فقالوا يا رسول الله انا ناتيك من شقة بعيدة وان بيننا وبينك هذا الحى من كفار مضر وانا لا نستطيع ان ناتيك الا في شهر الحرام فمرنا بامر فصل نخبر به من وراءنا ندخل به الجنة . قال فامرهم باربع ونهاهم عن اربع . قال امرهم بالايمان بالله وحده . وقال " هل تدرون ما الايمان بالله " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصوم رمضان وان تودوا خمسا من المغنم " . ونهاهم عن الدباء والحنتم والمزفت . قال شعبة وربما قال النقير . قال شعبة وربما قال المقير . وقال " احفظوه واخبروا به من ورايكم " . وقال ابو بكر في روايته " من وراءكم " وليس في روايته المقير
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে শু'বাহর বর্ণনার অনুরূপ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের দুব্বা, নাকীর, হানতাম ও মুযাফফাত নামক নবীয তৈরির পাত্রের ব্যবহার নিষেধ করছি। ইবনু মুআয (রাযিঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেন যে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়স গোত্রের আশাজ (ক্ষত বিশিষ্ট দলপতিকে) বললেন, তোমাদের দু'টো বিশেষ গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন – ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني عبيد الله بن معاذ، حدثنا ابي ح، وحدثنا نصر بن علي الجهضمي، قال اخبرني ابي قالا، جميعا حدثنا قرة بن خالد، عن ابي جمرة، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الحديث نحو حديث شعبة . وقال " انهاكم عما ينبذ في الدباء والنقير والحنتم والمزفت " . وزاد ابن معاذ في حديثه عن ابيه قال وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للاشج اشج عبد القيس " ان فيك خصلتين يحبهما الله الحلم والاناة
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব(রহঃ) ... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আগত আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎকারী এক ব্যক্তি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেছেন, কাতাদাহ আবূ নাযরার নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল কায়স গোত্রের ক'জন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর নবী! আমরা রাবী'আহ গোত্রের লোক। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুযার গোত্রের অবস্থান। তাই আমরা মাহে হারাম ব্যতীত অন্য কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদেরকে এমন কিছু কাজের নির্দেশ দিন, যা করার জন্য আমরা আমাদের পশ্চাতের অন্যান্য লোকদেরকে হুকুম করবো এবং আমরা নিজেরাও তা বাস্তবায়ন করবো যাতে এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের হুকুম করবো, আর চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করবো। তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করো না, সালাত কায়িম করো, যাকাত দাও এবং রমযানের সওম পালন কর। আর গনীমাতের সম্পদ থেকে এক পঞ্চমাংশ দান কর এবং তোমাদেরকে চারটি জিনিস (ব্যবহারে) নিষেধ করবোঃ কদুর শুকনো খোল, সবুজ রং লাগানো কলসী, আলকাতরা লাগানো হাড়ি-পাতিল ও কাষ্ঠ পাত্র ব্যবহার করতে। তারা বললো, হে আল্লাহর নবী! নাকীর (কাষ্ঠ পাত্র) সম্বন্ধে আপনি কতটুকু অবগত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। খেজুর গাছের কাণ্ড যা তোমরা খোদাই করে নাও, পরে এর মধ্যে খেজুরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করো, (অর্থাৎ খেজুরের মধ্যে পানি ঢেলে তা দ্বারা নবীয' অথবা "মদ প্রস্তুত করে থাকে)। সাঈদ বলেন, অথবা তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, খেজুরের টুকরা নিক্ষেপ করো, পরে তন্মধ্যে কিছু পানি ঢেলে দাও। অবশেষে যখন তার ফেনা থেমে যায় (অর্থাৎ তা মদে পরিণত হয়) তখন তোমরা পান করো। ফলে তোমাদের কেউ অথবা তাদের কেউ মদের নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আপন চাচাত ভাইকে তরবারি দিয়ে হত্যা করে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, উক্ত প্রতিনিধি দলের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার শরীরের মধ্যে ছিল ক্ষতের চিহ্ন। সে বলল, লজ্জাবশতঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমার ক্ষত চিহ্নটি লুকিয়ে রাখলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তা হলে আমরা পানীয় বস্তু কিসে পান করবো? তিনি বললেন, চামড়ার থলি বা মশকের মধ্যে যার মুখ রশি দ্বারা বেঁধে দেয়া হয়। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এলাকায় ইদুরের উপদ্রব খুব বেশি, ফলে চামড়ার থলি একটিও নিরাপদে থাকে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে, যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে, যদিও তা ইদুর খেয়ে ফেলে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল কায়স গোত্রের ক্ষত চিহ্নওয়ালা লোকটির উদ্দেশে বললেন, অবশ্য তোমার মধ্যে এমন দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়- সহিষ্ণুতা ও ধীরতা-নম্রতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আবদুল কায়স এর) প্রতিনিধি দলের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের একাধিক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন। আবূ নাযরাহ আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিগণ যখন রাসূলুল্লাহ -এর কাছে আসলো। হাদীসটির বাকী অংশ ইবনু উলাইয়্যার বর্ণনার অনুরূপ। তবে তাতে উল্লেখ আছে যে, তোমরা এক (কাষ্ঠ পাত্রের) মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খেজুর, খুরমা এবং পানি ঢেলে দিয়ে থাকো।تقذفون এর পরিবর্তে تَذِيفُونَ রয়েছে এবং সাঈদের 'খেজুর থেকে' কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا ابن ابي عدي، عن سعيد، عن قتادة، قال حدثني غير، واحد، لقي ذاك الوفد . وذكر ابا نضرة عن ابي سعيد الخدري، ان وفد عبد القيس، لما قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم بمثل حديث ابن علية غير ان فيه " وتذيفون فيه من القطيعاء او التمر والماء " . ولم يقل قال سعيد او قال من التمر
মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার আল বাসরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল, তখন বললো, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, অথবা আল্লাহ আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। পানপাত্রের মধ্যে আমাদের জন্য কোন ধরনের পাত্র উপযোগী? তিনি বললেন, 'নাকীরের' পানীয় দ্রব্য পান করো না। এবার তারা বললো, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার জন্য আমাদের কুরবান করুন। 'নাকীর' কী, তা আপনি কি জানেন? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। নাকীর এক প্রকার পাত্র যা খেজুর গাছ খোদাই করে তৈরি করা হয়। তিনি আরো বললেন, 'দুববা বা হানতাম’ এর মধ্যেও পানীয় পান করতে পারবে না, তবে তোমাদের উচিত যে পাত্রের মুখ রশি দ্বারা বাধা যায় (অর্থাৎ চামড়ার মশক বা থলি) তা ব্যবহার করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني محمد بن بكار البصري، حدثنا ابو عاصم، عن ابن جريج، ح وحدثني محمد بن رافع، - واللفظ له - حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني ابو قزعة، ان ابا نضرة، اخبره وحسنا، اخبرهما ان ابا سعيد الخدري اخبره ان وفد عبد القيس لما اتوا نبي الله صلى الله عليه وسلم قالوا يا نبي الله جعلنا الله فداءك ماذا يصلح لنا من الاشربة فقال " لا تشربوا في النقير " . قالوا يا نبي الله جعلنا الله فداءك اوتدري ما النقير قال " نعم الجذع ينقر وسطه ولا في الدباء ولا في الحنتمة وعليكم بالموكى
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (ইয়ামানের প্রশাসক নিযুক্ত করে) পাঠালেন। তিনি বললেন, তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছে যারা কিতাবধারী। সুতরাং তাদেরকে আহবান জানাবে এ সাক্ষ্য দেয়ার জন্য, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, প্রত্যহ দিন ও রাতে আল্লাহ তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা তোমার এ কথাও মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন- যা তাদের ধনীদের থেকে আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এ কথাও মেনে নেয়, তবে তাদের ভালো ভালো সম্পদগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো। আর মাযলুমের অভিশাপকে ভয় কর, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন আড়াল নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وابو كريب واسحاق بن ابراهيم جميعا عن وكيع، - قال ابو بكر حدثنا وكيع، - عن زكرياء بن اسحاق، قال حدثني يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، عن معاذ بن جبل، - قال ابو بكر ربما قال وكيع عن ابن عباس، ان معاذا، - قال بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انك تاتي قوما من اهل الكتاب . فادعهم الى شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم صدقة توخذ من اغنيايهم فترد في فقرايهم فان هم اطاعوا لذلك فاياك وكرايم اموالهم واتق دعوة المظلوم فانه ليس بينها وبين الله حجاب
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ ..... বাকী অংশ ওয়াকীর বর্ণনার অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا بشر بن السري، حدثنا زكرياء بن اسحاق، ح وحدثنا عبد بن حميد، حدثنا ابو عاصم، عن زكرياء بن اسحاق، عن يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فقال " انك ستاتي قوما " بمثل حديث وكيع
উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসতাম আল আইশী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) কে ইয়ামানের প্রশাসক করে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। তাদের প্রথম যে দা'ওয়াত দিবে তা হলো, মহান মহিমাময় আল্লাহর ইবাদাতের দিকে আহবান করা। যখন তারা আল্লাহকে চিনে নিবে তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তারা তা করলে তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন। তাদের সম্পদ ধনীদের থেকে আদায় করা হবে এবং তা তাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলে তুমি তাদের থেকে তা আদায় করবে কিন্তু তাদের উত্তম মালগুলো গ্রহণ করা থেকে সাবধান থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا امية بن بسطام العيشي، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا روح، - وهو ابن القاسم - عن اسماعيل بن امية، عن يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا الى اليمن قال " انك تقدم على قوم اهل كتاب فليكن اول ما تدعوهم اليه عبادة الله عز وجل فاذا عرفوا الله فاخبرهم ان الله فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم فاذا فعلوا فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم زكاة توخذ من اغنيايهم فترد على فقرايهم فاذا اطاعوا بها فخذ منهم وتوق كرايم اموالهم
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাযিঃ) খলীফা নিযুক্ত হলেন। এ সময় আরবের একদল লোক (যাকাত অস্বীকার করে) মুরতাদ হয়ে গেল। [আবূ বাকর (রাযিঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন] 'উমার (রাযিঃ) বললেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন?[1] অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ "আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) আর যে ব্যক্তি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' বললো, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করলো। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে)। তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো [2] কেননা যাকাত হচ্ছে মালের (উপর বঞ্চিতের) অধিকার। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একখানা রশি প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা (যাকাত বাবদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রদান করতো, তবে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। এবার উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই (আবূ বকরের সিদ্ধান্তই) সঠিক এবং যথার্থ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث بن سعد، عن عقيل، عن الزهري، قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، قال لما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف ابو بكر بعده وكفر من كفر من العرب قال عمر بن الخطاب لابي بكر كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فمن قال لا اله الا الله فقد عصم مني ماله ونفسه الا بحقه وحسابه على الله " . فقال ابو بكر والله لاقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فان الزكاة حق المال والله لو منعوني عقالا كانوا يودونه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه . فقال عمر بن الخطاب فوالله ما هو الا ان رايت الله عز وجل قد شرح صدر ابي بكر للقتال فعرفت انه الحق
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই- এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। সুতরাং যে কেউ "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই স্বীকার করবে সে আমা হতে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو الطاهر، وحرملة بن يحيى، واحمد بن عيسى، قال احمد حدثنا وقال الاخران، اخبرنا ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال حدثني سعيد بن المسيب، ان ابا هريرة، اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فمن قال لا اله الا الله عصم مني ماله ونفسه الا بحقه وحسابه على الله
আহমাদ ইবনু আবদ আয যাববী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথার সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে- তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، اخبرنا عبد العزيز، - يعني الدراوردي - عن العلاء، ح وحدثنا امية بن بسطام، - واللفظ له - حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا روح، عن العلاء بن عبد الرحمن بن يعقوب، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " امرت ان اقاتل الناس حتى يشهدوا ان لا اله الا الله ويومنوا بي وبما جيت به فاذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ), আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। বাকী অংশ আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে ইবনুল মুসাইয়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই" এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী’আত সম্মত কারণ ছাড়া। তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ "আপনি তো একজন উপদেশদাতা। আপনি এদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন"- (সূরাহ আল গা-শিয়াহ্ ৮৮ঃ ২১-২২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا حفص بن غياث، عن الاعمش، عن ابي سفيان، عن جابر، وعن ابي صالح، عن ابي هريرة، قالا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس " . بمثل حديث ابن المسيب عن ابي هريرة ح وحدثني ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا وكيع، ح وحدثني محمد بن المثنى، حدثنا عبد الرحمن، - يعني ابن مهدي - قالا جميعا حدثنا سفيان، عن ابي الزبير، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فاذا قالوا لا اله الا الله عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله " . ثم قرا { انما انت مذكر * لست عليهم بمسيطر}
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ মালিক ইবনু আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو غسان المسمعي، مالك بن عبد الواحد حدثنا عبد الملك بن الصباح، عن شعبة، عن واقد بن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر، عن ابيه، عن عبد الله بن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويوتوا الزكاة فاذا فعلوا عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ মালিক তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ কথা স্বীকার করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ? আর তার হিসাব নিকাশ আল্লাহর নিকট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا سويد بن سعيد، وابن ابي عمر، قالا حدثنا مروان، - يعنيان الفزاري - عن ابي مالك، عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من قال لا اله الا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه وحسابه على الله
–(৩৮/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ মালিক (রহঃ) এর সূত্রে তার পিতা তারিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে এক বলে স্বীকার করে ..... অতঃপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا ابو خالد الاحمر، ح وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا يزيد بن هارون، كلاهما عن ابي مالك، عن ابيه، انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول " من وحد الله " ثم ذكر بمثله
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন এবং সেখানে তিনি আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়্যাহ্ ইবনু মুগীরাহকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে আমার চাচা! আপনি 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' কথাটি বলুন। এর দ্বারাই আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব। তখন আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যাহ বলে ওঠলো, হে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাত (দীন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? (অর্থাৎ সে দীন পরিত্যাগ করবে?) এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার তার কথাটি পেশ করতে থাকলেন। আবূ তালিব শেষ পর্যন্ত যে কথা বললেন তা হলো, তিনি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরই অবিচল থাকবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ" বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হয় আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবো। এ প্রসঙ্গে সুমহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, “নবী এবং ঈমানদারদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা শোভা পায় না, যদিও তারা (মুশরিকরা) নিকটাত্মীয় হয়। কেননা তারা যে জাহান্নামী হবে এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে* (সূরাহ আত তওবা ৯ঃ ১১৩)। আবূ তালিবের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, "হে নবী নিশ্চয়ই হিদায়াত আপনার হাতে নয় যে, যাকে আপনি চাইবেন হিদায়াত করতে পারবেন। বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন, আর কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে তিনিই বেশি জানেন** (সূরাহ আল কাসাস ২৮ঃ ৫৬)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني حرملة بن يحيى التجيبي، اخبرنا عبد الله بن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال اخبرني سعيد بن المسيب، عن ابيه، قال لما حضرت ابا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده ابا جهل وعبد الله بن ابي امية بن المغيرة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا عم قل لا اله الا الله . كلمة اشهد لك بها عند الله " . فقال ابو جهل وعبد الله بن ابي امية يا ابا طالب اترغب عن ملة عبد المطلب . فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرضها عليه ويعيد له تلك المقالة حتى قال ابو طالب اخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب . وابى ان يقول لا اله الا الله . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما والله لاستغفرن لك ما لم انه عنك " . فانزل الله عز وجل { ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين ولو كانوا اولي قربى من بعد ما تبين لهم انهم اصحاب الجحيم} . وانزل الله تعالى في ابي طالب فقال لرسول الله صلى الله عليه وسلم { انك لا تهدي من احببت ولكن الله يهدي من يشاء وهو اعلم بالمهتدين}
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরীর সূত্রে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সালিহ্-এর হাদীসটিفَأَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ এ বাক্যেই সমাপ্ত হয়েছে এবং তিনি আয়াত দুটির উল্লেখ করেননি। তিনি তার সূত্রে আরও উল্লেখ করেন يَعُودَانِ تِلْكَ الْمَقَالَةِ “তারা উভয়ই এ বক্তব্যটি পুনরাবৃত্তি করেন।" মামার বর্ণিত হাদীসে هَذِهِ الْمَقَالَةِ এর স্থলে الْكَلِمَةِ فَلَمْ يَزَالاَ بِهِ "তারা উভয়েই তার নিকট এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকে" কথার বর্ণনা রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا اسحاق بن ابراهيم، وعبد بن حميد، قالا اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، ح وحدثنا حسن الحلواني، وعبد بن حميد، قالا حدثنا يعقوب، - وهو ابن ابراهيم بن سعد - قال حدثني ابي، عن صالح، كلاهما عن الزهري، بهذا الاسناد مثله غير ان حديث صالح انتهى عند قوله فانزل الله عز وجل فيه . ولم يذكر الايتين . وقال في حديثه ويعودان في تلك المقالة . وفي حديث معمر مكان هذه الكلمة فلم يزالا به
حدثنا يحيى بن ايوب، حدثنا ابن علية، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، قال حدثنا من، لقي الوفد الذين قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من عبد القيس . قال سعيد وذكر قتادة ابا نضرة عن ابي سعيد الخدري في حديثه هذا . ان اناسا من عبد القيس قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا نبي الله انا حى من ربيعة وبيننا وبينك كفار مضر ولا نقدر عليك الا في اشهر الحرم فمرنا بامر نامر به من وراءنا وندخل به الجنة اذا نحن اخذنا به . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امركم باربع وانهاكم عن اربع اعبدوا الله ولا تشركوا به شييا واقيموا الصلاة واتوا الزكاة وصوموا رمضان واعطوا الخمس من الغنايم وانهاكم عن اربع عن الدباء والحنتم والمزفت والنقير " . قالوا يا نبي الله ما علمك بالنقير قال " بلى جذع تنقرونه فتقذفون فيه من القطيعاء - قال سعيد او قال من التمر - ثم تصبون فيه من الماء حتى اذا سكن غليانه شربتموه حتى ان احدكم - او ان احدهم - ليضرب ابن عمه بالسيف " . قال وفي القوم رجل اصابته جراحة كذلك . قال وكنت اخباها حياء من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت ففيم نشرب يا رسول الله قال " في اسقية الادم التي يلاث على افواهها " . قالوا يا رسول الله ان ارضنا كثيرة الجرذان ولا تبقى بها اسقية الادم . فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم " وان اكلتها الجرذان وان اكلتها الجرذان وان اكلتها الجرذان " . قال وقال نبي الله صلى الله عليه وسلم لاشج عبد القيس " ان فيك لخصلتين يحبهما الله الحلم والاناة