Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৪১ হাদিসসমূহ
অত্র গ্রন্থের সংকলক ইমাম আবূল হুসায়ন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, আমরা এ কিতাব আল্লাহর সাহায্যে শুরু করছি এবং তাকেই যথেষ্ট মনে করছি। মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ ভিন্ন আমাদেরকে আর তাওফীকদাতা কেউ নেই। ১—(১/৮) আবূ খাইসামাহ যুহায়র বিন হারব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার থেকে বর্ণিত [1]। তিনি বলেন, বাসরার অধিবাসী মা'বাদ জুহাইনাহ প্রথম ব্যক্তি যে তাকদীর অস্বীকার করে। আমি ও হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান উভয়ে হজ্জ অথবা উমরাহ'র উদ্দেশে রওয়ানা করলাম। আমরা বললাম, যদি আমরা এ সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যে কোন সাহাবার সাক্ষাৎ পেয়ে যাই তাহলে ঐ সব লোক তাকদীর সম্বন্ধে যা কিছু বলে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করব। সৌভাগ্যক্রমে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর মসজিদে ঢুকার পথে পেয়ে গেলাম। আমি ও আমার সাখী তাকে এমনভাবে ঘিরে নিলাম যে, আমাদের একজন তার ডান এবং অপরজন তার বামে থাকলাম। আমি মনে করলাম আমার সাখী আমাকেই কথা বলার সুযোগ দেবে। (কারণ আমি ছিলাম বাকপটু)। আমি বললামঃ "হে আবূ আবদুর রহমান। আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে, তারা একদিকে কুরআন পাঠ করে অপরদিকে জ্ঞানের অন্বেষণও করে। ইয়াহইয়া তাদের কিছু গুণাবলীর কথাও উল্লেখ করলেন। তাদের ধারণা (বক্তব্য) হচ্ছে, তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রত্যেক কাজ অকস্মাৎ সংঘটিত হয়।" ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ “যখন তুমি এদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আর আমার সাথেও তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন, এদের কারো কাছে যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান-খয়রাত করে দেয় তবে আল্লাহ তার এ দান গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকদীরের উপর ঈমান না আনবে। অতঃপর তিনি বললেন, আমার পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাদের সামনে আবির্ভূত হলো। তার পরনের কাপড়-চোপড় ছিল ধবধবে সাদা এবং মাথার চুলগুলো ছিল মিশমিশে কালো। সফর করে আসার কোন চিহ্নও তার মধ্যে দেখা যায়নি। আমাদের কেউই তাকে চিনেও না। অবশেষে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে বসলো। সে তার হাটুদ্বয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে দিলো এবং দুই হাতের তালু তার (অথবা নিজের) উরুর উপর রাখলো এবং বলল, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে এই– তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ (মাবূদ) নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সওম পালন করবে এবং যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ্য হয় তখন বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। বর্ণনাকারী উমর (রাযিঃ) বলেন, আমরা তার কথা শুনে আশ্চর্যাম্বিত হলাম। কেননা সে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করছে আর (বিজ্ঞের ন্যায়) সমর্থন করছে। এরপর সে বললো, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার কিতাবসমূহ, তার প্রেরিত নবীগণ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখবে এবং তুমি তাকদীর ও এর ভালো ও মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে বললো, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ইহসান এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো, যদি তাকে না দেখো তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করবে। এবার সে জিজ্ঞেস করলো। আমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বেশি কিছু জানে না। অতঃপর সে বলল, তাহলে আমাকে এর কিছু নির্দশন বলুন। তিনি বললেন, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে [2] এবং (এককালের) নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র, বকরীর রাখালদের বড় দালান-কোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় গৰ্ব-অহংকারে মত্ত দেখতে পাবে [3]। বর্ণনাকারী উমার (রাযিঃ) বলেন, এরপর লোকটি চলে গেলো। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমার! তুমি জান, এ প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জ্ঞাত আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি জিবরীল। তোমাদের কাছে তিনি তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১ম খণ্ড, ১; বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১ম খণ্ড)
حدثني ابو خيثمة، زهير بن حرب حدثنا وكيع، عن كهمس، عن عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، ح وحدثنا عبيد الله بن معاذ العنبري، - وهذا حديثه - حدثنا ابي، حدثنا كهمس، عن ابن بريدة، عن يحيى بن يعمر، قال كان اول من قال في القدر بالبصرة معبد الجهني فانطلقت انا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حاجين او معتمرين فقلنا لو لقينا احدا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالناه عما يقول هولاء في القدر فوفق لنا عبد الله بن عمر بن الخطاب داخلا المسجد فاكتنفته انا وصاحبي احدنا عن يمينه والاخر عن شماله فظننت ان صاحبي سيكل الكلام الى فقلت ابا عبد الرحمن انه قد ظهر قبلنا ناس يقرءون القران ويتقفرون العلم - وذكر من شانهم - وانهم يزعمون ان لا قدر وان الامر انف . قال فاذا لقيت اوليك فاخبرهم اني بريء منهم وانهم براء مني والذي يحلف به عبد الله بن عمر لو ان لاحدهم مثل احد ذهبا فانفقه ما قبل الله منه حتى يومن بالقدر ثم قال حدثني ابي عمر بن الخطاب قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم اذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه اثر السفر ولا يعرفه منا احد حتى جلس الى النبي صلى الله عليه وسلم فاسند ركبتيه الى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد اخبرني عن الاسلام . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الاسلام ان تشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت ان استطعت اليه سبيلا . قال صدقت . قال فعجبنا له يساله ويصدقه . قال فاخبرني عن الايمان . قال " ان تومن بالله وملايكته وكتبه ورسله واليوم الاخر وتومن بالقدر خيره وشره " . قال صدقت . قال فاخبرني عن الاحسان . قال " ان تعبد الله كانك تراه فان لم تكن تراه فانه يراك " . قال فاخبرني عن الساعة . قال " ما المسيول عنها باعلم من السايل " . قال فاخبرني عن امارتها . قال " ان تلد الامة ربتها وان ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان " . قال ثم انطلق فلبثت مليا ثم قال لي " يا عمر اتدري من السايل " . قلت الله ورسوله اعلم . قال " فانه جبريل اتاكم يعلمكم دينكم
মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল গুবারী (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মা'বাদ (আল জুহানী) তাকদীর সম্পর্কে তার মত ব্যক্ত করলে আমরা তা অস্বীকার করি। তিনি (ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার) বলেন, আমি ও হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ্জ পালন করতে গিয়েছিলাম। এরপর কাহমাস এর হাদীসের অনুরূপ সনদসহ হাদীসটি বর্ণিত আছে। তবে এ বর্ণনায় কিছু বেশ কম রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني محمد بن عبيد الغبري، وابو كامل الجحدري واحمد بن عبدة قالوا حدثنا حماد بن زيد، عن مطر الوراق، عن عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، قال لما تكلم معبد بما تكلم به في شان القدر انكرنا ذلك . قال فحججت انا وحميد بن عبد الرحمن الحميري حجة . وساقوا الحديث بمعنى حديث كهمس واسناده . وفيه بعض زيادة ونقصان احرف
মুহাম্মাদ বিন হাতিম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার এবং হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তার কাছে তাকদীর বিষয়ে ঐ সকল লোকেরা (মাবাদ ও তার অনুসারীরা) যা মন্তব্য করে তা উল্লেখ করি। তঃপর এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উমর (রাযিঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনাকারীরা যেরূপ বর্ণনা করেছেন 'আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ ঠিক অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এতে শব্দের কম বেশি আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني محمد بن حاتم، حدثنا يحيى بن سعيد القطان، حدثنا عثمان بن غياث، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، وحميد بن عبد الرحمن، قالا لقينا عبد الله بن عمر فذكرنا القدر وما يقولون فيه . فاقتص الحديث كنحو حديثهم عن عمر - رضى الله عنه - عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه شىء من زيادة وقد نقص منه شييا
হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। হাদীসটি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا يونس بن محمد، حدثنا المعتمر، عن ابيه، عن يحيى بن يعمر، عن ابن عمر، عن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحو حديثهم
আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ ও জুহায়র ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকেদের নিয়ে বসেছিলেন। এমন সময় একজন লোক এসে তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কি? তিনি বললেন, ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার (নাযিলকৃত) কিতাব, (আখিরাত) তার সাথে সাক্ষাৎ ও তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান রাখবে এবং পুনরুত্থান দিবসের উপরও ঈমান আনবে। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কি? তিনি বললেন, ইসলাম এই যে, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করতে থাকবে, কিন্তু তার সাথে কাউকে শারীক করবে না, ফরযকৃত সালাত কায়িম করবে, নির্ধারিত ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমযানের সওম পালন করবে। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কি? তিনি বললেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে যেন তাকে দেখছো; যদি তাকে না দেখো তা হলে তিনি তোমাকে দেখছেন (বলে অনুভব করবে)। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশি কিছু জানেন না। তবে আমি তোমাকে তার (কিয়ামতের) কিছু নিদর্শন বলে দিচ্ছিঃ যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এটা তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি। আর যখন বস্ত্রহীন, জুতাহীন (ব্যক্তি) জনগণের নেতা হবে, এটাও তার একটি নিদর্শন। আর মেষ শাবক ও ছাগলের রাখালরা যখন সুউচ্চ দালানকোঠা নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে, এটাও তার একটি নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে যে পাঁচটি জিনিসের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ রাখেন, কিয়ামতের জ্ঞান তারই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নবর্ণিত আয়াত তিলাওয়াত করলেন, "আল্লাহর নিকটই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে কি আছে তা তিনিই জানেন। কোন প্রাণীই আগামীকাল কী উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে তাও জানে না। বস্তুতঃ আল্লাহই সব জানেন এবং তিনি সব বিষয়ই অবগত"- (সূরাহ লুকমান ৩১ঃ ৩৪)। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটিকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলেন। কিন্তু কাউকে পেলেন না। তারপর রাসূলুল্লাহ বললেন, ইনি জিবরীল (আঃ), লোকেদের দীন শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وزهير بن حرب، جميعا عن ابن علية، قال زهير حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، عن ابي حيان، عن ابي زرعة بن عمرو بن جرير، عن ابي هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما بارزا للناس فاتاه رجل فقال يا رسول الله ما الايمان قال " ان تومن بالله وملايكته وكتابه ولقايه ورسله وتومن بالبعث الاخر " . قال يا رسول الله ما الاسلام قال " الاسلام ان تعبد الله ولا تشرك به شييا وتقيم الصلاة المكتوبة وتودي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان " . قال يا رسول الله ما الاحسان قال " ان تعبد الله كانك تراه فانك ان لا تراه فانه يراك " . قال يا رسول الله متى الساعة قال " ما المسيول عنها باعلم من السايل ولكن ساحدثك عن اشراطها اذا ولدت الامة ربها فذاك من اشراطها واذا كانت العراة الحفاة رءوس الناس فذاك من اشراطها واذا تطاول رعاء البهم في البنيان فذاك من اشراطها في خمس لا يعلمهن الا الله " . ثم تلا صلى الله عليه وسلم { ان الله عنده علم الساعة وينزل الغيث ويعلم ما في الارحام وما تدري نفس ماذا تكسب غدا وما تدري نفس باى ارض تموت ان الله عليم خبير} " . قال ثم ادبر الرجل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ردوا على الرجل " . فاخذوا ليردوه فلم يروا شييا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا جبريل جاء ليعلم الناس دينهم
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হাইয়্যান আত তাইমী (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনায় "দাসী তার মনিব স্বামী জন্ম দিবে" কথাটির উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا ابو حيان التيمي، بهذا الاسناد مثله غير ان في روايته " اذا ولدت الامة بعلها " يعني السراري
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবাদের) বললেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর। কিন্তু লোকেরা তাকে প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করল। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাঁটুর কাছে বসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ “তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সওম পালন করবে।" সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কি? তিনি বললেন, ‘তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুল, তার কিতাব, আখিরাতে তার সাথে সাক্ষাৎ ও তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান রাখবে। মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রতি ঈমান রাখবে এবং তাকদীরের উপরও পূর্ণ ঈমান রাখবে। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কি? তিনি বললেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করো যেন তুমি তাকে দেখছো, আর যদি তুমি তাকে না দেখো, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করো"। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানে না। তবে আমি তার নিদর্শন ও লক্ষণসমূহ তোমাকে বলে দিচ্ছিঃ “যখন তুমি দেখবে কোন নারী তার মনিবকে প্রসব করবে এটা কিয়ামতের একটি নিদর্শন। যখন তুমি দেখবে, জুতাবিহীন, বস্ত্রহীন, বধির ও বোবা পৃথিবীতে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এটা একটি নিদর্শন। আর যখন তুমি দেখবে মেষ চালকরা সুউচ্চ দালান-কোঠা নিয়ে গর্ব করছে, এটাও কিয়ামতের নিদর্শন। যে পাঁচটি অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, কিয়ামতের জ্ঞান তারই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াত পাঠ করলেন, “অবশ্যই আল্লাহর নিকটই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। মাতৃগর্ভে কী আছে তা তিনিই জানেন। কোন জীবই আগামীকাল কী উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন স্থানে সে মরবে তাও জানেনা"- (সূরাহ লুকমান ৩১ঃ ৩৪) তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর লোকটি চলে গেলো। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের বললেন, তোমরা লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। অথচ অনেক খোজা-খুজি করা হলো কিন্তু তারা তাকে আর পেলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি জিবরীল (আঃ) তোমরা প্রশ্ন না করায় তিনি চাইলেন যেন তোমরা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني زهير بن حرب، حدثنا جرير، عن عمارة، - وهو ابن القعقاع - عن ابي زرعة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " سلوني " فهابوه ان يسالوه . فجاء رجل فجلس عند ركبتيه . فقال يا رسول الله ما الاسلام قال " لا تشرك بالله شييا وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصوم رمضان " . قال صدقت . قال يا رسول الله ما الايمان قال " ان تومن بالله وملايكته وكتابه ولقايه ورسله وتومن بالبعث وتومن بالقدر كله " . قال صدقت . قال يا رسول الله ما الاحسان قال " ان تخشى الله كانك تراه فانك ان لا تكن تراه فانه يراك " . قال صدقت . قال يا رسول الله متى تقوم الساعة قال " ما المسيول عنها باعلم من السايل وساحدثك عن اشراطها اذا رايت المراة تلد ربها فذاك من اشراطها واذا رايت الحفاة العراة الصم البكم ملوك الارض فذاك من اشراطها واذا رايت رعاء البهم يتطاولون في البنيان فذاك من اشراطها في خمس من الغيب لا يعلمهن الا الله " . ثم قرا { ان الله عنده علم الساعة وينزل الغيث ويعلم ما في الارحام وما تدري نفس ماذا تكسب غدا وما تدري نفس باى ارض تموت ان الله عليم خبير} قال ثم قام الرجل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ردوه على " فالتمس فلم يجدوه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هذا جبريل اراد ان تعلموا اذ لم تسالوا
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জামীল ইবনু তারীফ ইবনু আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী (রহঃ) ..... তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, নাজদের বাসিন্দা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে আসলো। তার মাথার চুলগুলো ছিল এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত। আমরা তার গুন গুন আওয়াজ শুনছিলাম, কিন্তু সে কী বলছিল তা বুঝা যাচ্ছিলো না। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতি নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বললো, এ ছাড়া আমার কোন কিছু (সালাত) আছে কি? তিনি বললেন, না তবে নফল আদায় করতে পারো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে যাকাত প্রদানের কথাও বললেন। সে জিজ্ঞেস করলো, এ ছাড়া আমার উপর আরো কোন কর্তব্য আছে কি? তিনি বললেন, না। তবে নফল দান-সদাকাহ করতে পারো[1]। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল, “আমি এর বেশিও করবো না, আর কমও করবো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটি যদি তার কথার সত্যতা প্রমাণ করতে পারে তাহলে সফলকাম হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد بن جميل بن طريف بن عبد الله الثقفي، عن مالك بن انس، - فيما قري عليه - عن ابي سهيل، عن ابيه، انه سمع طلحة بن عبيد الله، يقول جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من اهل نجد ثاير الراس نسمع دوي صوته ولا نفقه ما يقول حتى دنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو يسال عن الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خمس صلوات في اليوم والليلة " . فقال هل على غيرهن قال " لا . الا ان تطوع وصيام شهر رمضان " . فقال هل على غيره فقال " لا . الا ان تطوع " . وذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم الزكاة فقال هل على غيرها قال " لا . الا ان تطوع " قال فادبر الرجل وهو يقول والله لا ازيد على هذا ولا انقص منه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افلح ان صدق
তালহাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইমাম মালিকের বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ হাদীসের শেষাংশে বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে সফলকাম হয়েছে তার বাবার কসম! যদি সে সত্য কথা বলে থাকে"। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে, যদি সে সত্য কথা বলে থাকে[1]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني يحيى بن ايوب، وقتيبة بن سعيد، جميعا عن اسماعيل بن جعفر، عن ابي سهيل، عن ابيه، عن طلحة بن عبيد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الحديث نحو حديث مالك غير انه قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افلح وابيه ان صدق " . او " دخل الجنة وابيه ان صدق
আমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়ব আন নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আমরা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত হয়েছিলাম তাই আমরা চাইতাম যে, গ্রাম থেকে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসে তাকে প্রশ্ন করুক আর আমরা তা শুনি। তারপর একদিন গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দূত এসে বলেছে, আপনি দাবী করেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে সত্য বলেছে। আগন্তুক বলল, আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, এসব পর্বতমালা কে স্থাপন করেছেন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা কে সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ। আগন্তুক বলল, কসম সে সত্তার যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এসব পর্বতমালা স্থাপন করেছেন। আল্লাহই, আপনাকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের উপর আমাদের মালের যাকাত দেয়া ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ঠিকই বলেছে। আগন্তুক বলল, যিনি আপনাকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, তার কসম, আল্লাহই কি আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আগন্তুক বলল, আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের মধ্যে যে বাইতুল্লায় যেতে সক্ষম তার উপর হজ্জ ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সত্যি বলেছে। রাবী বলেন যে, তারপর আগন্তুক চলে যেতে যেতে বলল, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তার কসম, আমি এর অতিরিক্তও করবো না এবং এর কমও করবো না। এ কথা শুনেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে[1]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني عمرو بن محمد بن بكير الناقد، حدثنا هاشم بن القاسم ابو النضر، حدثنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، عن انس بن مالك، قال نهينا ان نسال، رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شىء فكان يعجبنا ان يجيء الرجل من اهل البادية العاقل فيساله ونحن نسمع فجاء رجل من اهل البادية فقال يا محمد اتانا رسولك فزعم لنا انك تزعم ان الله ارسلك قال " صدق " . قال فمن خلق السماء قال " الله " . قال فمن خلق الارض قال " الله " . قال فمن نصب هذه الجبال وجعل فيها ما جعل . قال " الله " . قال فبالذي خلق السماء وخلق الارض ونصب هذه الجبال الله ارسلك قال " نعم " . قال وزعم رسولك ان علينا خمس صلوات في يومنا وليلتنا . قال " صدق " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا قال " نعم " . قال وزعم رسولك ان علينا زكاة في اموالنا . قال " صدق " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا قال " نعم " . قال وزعم رسولك ان علينا صوم شهر رمضان في سنتنا . قال " صدق " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا قال " نعم " . قال وزعم رسولك ان علينا حج البيت من استطاع اليه سبيلا . قال " صدق " . قال ثم ولى . قال والذي بعثك بالحق لا ازيد عليهن ولا انقص منهن . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لين صدق ليدخلن الجنة
আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আল আব্দী ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন প্রশ্ন করতে কুরআন মজীদে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তারপর তিনি হাদীসটির বাকী অংশ (উল্লিখিত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني عبد الله بن هاشم العبدي، حدثنا بهز، حدثنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، قال قال انس كنا نهينا في القران ان نسال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شىء . وساق الحديث بمثله
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) বলেন যে, কোন এক সফরে এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মুখে এসে তার উটনীর লাগাম ধরে ফেললো। এ সময় তিনি সফরে ছিলেন। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! অথবা হে মুহাম্মাদ! আমাকে এমন কিছু কাজের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং আগুন (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখবে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেমে গেলেন। তিনি সাহাবাদের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয়ই তাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে, অথবা তিনি বললেনঃ তাকে হিদায়াত দান করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? রাবী বলেন, লোকটি তার কথার পুনরাবৃত্তি করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করো না, সালাত কায়িম কর, যাকাত আদায় কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, এবার উটনীটি ছেড়ে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، حدثنا ابي، حدثنا عمرو بن عثمان، حدثنا موسى بن طلحة، قال حدثني ابو ايوب، ان اعرابيا، عرض لرسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في سفر . فاخذ بخطام ناقته او بزمامها ثم قال يا رسول الله - او يا محمد - اخبرني بما يقربني من الجنة وما يباعدني من النار . قال فكف النبي صلى الله عليه وسلم ثم نظر في اصحابه ثم قال " لقد وفق - او لقد هدي - قال كيف قلت " . قال فاعاد . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " تعبد الله لا تشرك به شييا وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصل الرحم دع الناقة
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনু বিশ্বর (রহঃ) ..... আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني محمد بن حاتم، وعبد الرحمن بن بشر، قالا حدثنا بهز، حدثنا شعبة، حدثنا محمد بن عثمان بن عبد الله بن موهب، وابوه، عثمان انهما سمعا موسى بن طلحة، يحدث عن ابي ايوب، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثل هذا الحديث
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামিমী (রহঃ) ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাযিঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে হাযির হয়ে আরয করলো, আমাকে এমন একটি 'আমলের কথা বলে দিন, যে আমল আমাকে জান্নাতের কাছে পৌঁছে দিবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, তার সাথে কোন কিছু শারীক করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। সে ব্যক্তি চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে যে 'আমলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা দৃঢ়তার সাথে পালন করলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আবূ শইবার বর্ণনায় إِنْ تَمَسَّكَ بِمَا এর স্থলে إِنْ تَمَسَّكَ بِهِ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، اخبرنا ابو الاحوص، ح وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا ابو الاحوص، عن ابي اسحاق، عن موسى بن طلحة، عن ابي ايوب، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال دلني على عمل اعمله يدنيني من الجنة ويباعدني من النار . قال " تعبد الله لا تشرك به شييا وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة وتصل ذا رحمك " فلما ادبر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان تمسك بما امر به دخل الجنة " . وفي رواية ابن ابي شيبة " ان تمسك به
আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজের নির্দেশ দিন, যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কাউকে অংশীদার করো না, ফরয সালাত কায়িম করো, নির্ধারিত যাকাত আদায় করো এবং রমাযানের সওম পালন করো। সে লোক বললোঃ সে সত্তার শপথ। যার হাতে আমার প্রাণ, আমি কখনো এর মধ্যে বৃদ্ধিও করবো না, আর তা থেকে কমাবও না। লোকটি যখন চলে গেলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যদি কেউ কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে নেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني ابو بكر بن اسحاق، حدثنا عفان، حدثنا وهيب، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابي زرعة، عن ابي هريرة، ان اعرابيا، جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله دلني على عمل اذا عملته دخلت الجنة . قال " تعبد الله لا تشرك به شييا وتقيم الصلاة المكتوبة وتودي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان " . قال والذي نفسي بيده لا ازيد على هذا شييا ابدا ولا انقص منه . فلما ولى قال النبي صلى الله عليه وسلم " من سره ان ينظر الى رجل من اهل الجنة فلينظر الى هذا
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, নু'মান ইবনু কাওকাল (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন, যদি আমি হারামকে জেনে বর্জন করি এবং হালালকে হালাল বলে গ্রহণ করি তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وابو كريب - واللفظ لابي كريب - قالا حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي سفيان، عن جابر، قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم النعمان بن قوقل فقال يا رسول الله ارايت اذا صليت المكتوبة وحرمت الحرام واحللت الحلال اادخل الجنة فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم
হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও কাসিন ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নুমান ইবনু কাওকাল (রাযিঃ) বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! বাকী অংশ উপরোক্ত বর্ণনার অনুরূপ। তবে তিনি তার বর্ণনায় "তাতে কোন কিছু বর্ধিত করব না" কথাটি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني حجاج بن الشاعر، والقاسم بن زكرياء، قالا حدثنا عبيد الله بن موسى، عن شيبان، عن الاعمش، عن ابي صالح، وابي، سفيان عن جابر، قال قال النعمان بن قوقل يا رسول الله . بمثله . وزاد فيه ولم ازد على ذلك شييا
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমাতে আরয করলেন, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, রমযানের সিয়াম পালন করি, হালালকে হালাল জানি এবং হারামকে হারাম জানি এবং যদি এর অতিরিক্ত কিছু না করি, তাহলে আমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উপর কিছুমাত্র বাড়াবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن اعين، حدثنا معقل، - وهو ابن عبيد الله - عن ابي الزبير، عن جابر، ان رجلا، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ارايت اذا صليت الصلوات المكتوبات وصمت رمضان واحللت الحلال وحرمت الحرام ولم ازد على ذلك شييا اادخل الجنة قال " نعم " . قال والله لا ازيد على ذلك شييا
–(১৯/১৬) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র আল হামদানী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত- আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সিয়াম পালন করা এবং হজ্জ করা। এক ব্যক্তি (এ ক্রম পাঁচটিতে) বলল, হজ্জ করা ও রমাযানের সিয়াম পালন করা। রাবী বললেন, না রমাযানের সিয়াম পালন করা ও হজ্জ করা এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير الهمداني، حدثنا ابو خالد، - يعني سليمان بن حيان الاحمر - عن ابي مالك الاشجعي، عن سعد بن عبيدة، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " بني الاسلام على خمسة على ان يوحد الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصيام رمضان والحج " . فقال رجل الحج وصيام رمضان قال لا . صيام رمضان والحج . هكذا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم
সাহল ইবনু উসমান আল আসকারী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তাকে ছাড়া আর সব কিছু অস্বীকার করা (অর্থাৎ ইবাদাতের মালিক তিনি একাই), সালাত করিম করা, যাকাত আদায় করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ও রমাযানের সওম পালন করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا سهل بن عثمان العسكري، حدثنا يحيى بن زكرياء، حدثنا سعد بن طارق، قال حدثني سعد بن عبيدة السلمي، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " بني الاسلام على خمس على ان يعبد الله ويكفر بما دونه واقام الصلاة وايتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان