Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৪১ হাদিসসমূহ
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এ তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনেনি বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি, এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমানে কোন উপকার হবে না। (১) পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়, (২) দাজ্জাল (এর আবির্ভাব) ও (৩) দাব্বাতুল আরয (ভূখণ্ড হতে এক প্রকার প্রাণীর আবির্ভাব)*।(ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وزهير بن حرب، قالا حدثنا وكيع، ح وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا اسحاق بن يوسف الازرق، جميعا عن فضيل بن غزوان، ح وحدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء - واللفظ له - حدثنا ابن فضيل، عن ابيه، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثلاث اذا خرجن لا ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في ايمانها خيرا طلوع الشمس من مغربها والدجال ودابة الارض
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা'আলার) আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয় উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথারীতি আরশের নীচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি"- (সূরাহ আল আনআম ৬ঃ ১৫৮)*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا يحيى بن ايوب، واسحاق بن ابراهيم، جميعا عن ابن علية، - قال ابن ايوب حدثنا ابن علية، - حدثنا يونس، عن ابراهيم بن يزيد التيمي، - سمعه فيما، اعلم - عن ابيه، عن ابي ذر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوما " اتدرون اين تذهب هذه الشمس " . قالوا الله ورسوله اعلم . قال " ان هذه تجري حتى تنتهي الى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة ولا تزال كذلك حتى يقال لها ارتفعي ارجعي من حيث جيت فترجع فتصبح طالعة من مطلعها ثم تجري حتى تنتهي الى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة ولا تزال كذلك حتى يقال لها ارتفعي ارجعي من حيث جيت فترجع فتصبح طالعة من مطلعها ثم تجري لا يستنكر الناس منها شييا حتى تنتهي الى مستقرها ذاك تحت العرش فيقال لها ارتفعي اصبحي طالعة من مغربك فتصبح طالعة من مغربها " . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتدرون متى ذاكم ذاك حين لا ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في ايمانها خيرا
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জান এ সূর্য কোথায় গমন করে? ..... এরপর রাবী ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني عبد الحميد بن بيان الواسطي، اخبرنا خالد، - يعني ابن عبد الله - عن يونس، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن ابي ذر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوما " اتدرون اين تذهب هذه الشمس " بمثل معنى حديث ابن علية
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদা আমি মসজিদে নবাবীতে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। সূর্য ঢলে পড়লে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আবূ যার! জান এ সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তার গন্তব্যে যায় এবং আল্লাহর নিকট সাজদার অনুমতি চায়। তখন তাকে অনুমতি দেয়া হয়। পরে একদিন যখন তাকে বলা হবে যেদিক থেকে এসেছো সেদিকে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উঠবে। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরাআত অনুসারে তিলাওয়াত করেনঃ এ তার গন্তব্যস্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وابو كريب - واللفظ لابي كريب - قالا حدثنا ابو معاوية، حدثنا الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن ابي ذر، قال دخلت المسجد ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس فلما غابت الشمس قال " يا ابا ذر هل تدري اين تذهب هذه " . قال قلت الله ورسوله اعلم . قال " فانها تذهب فتستاذن في السجود فيوذن لها وكانها قد قيل لها ارجعي من حيث جيت فتطلع من مغربها " . قال ثم قرا في قراءة عبد الله وذلك مستقر لها
আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে "এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে"- (সূরাহ ইয়া-সীন ৩৬ঃ ৩৮)। এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেনঃ আরশের নীচে হল তার গন্তব্যস্থল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو سعيد الاشج، واسحاق بن ابراهيم، - قال اسحاق اخبرنا وقال الاشج، حدثنا - وكيع، حدثنا الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن ابي ذر، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قول الله تعالى { والشمس تجري لمستقر لها} قال " مستقرها تحت العرش
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু 'আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) .... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ওয়াহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। আর তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সকালের সূর্যের মতই সুস্পষ্টরূপে সত্যে পরিণত হত। অতঃপর তার কাছে একাকী থাকা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তারপর তিনি হেরা গুহায় নির্জনে কাটাতে থাকেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য কিছু খাদ্য সামগ্ৰী সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তারপর তিনি খাদীজার কাছে ফিরে যেতেন এবং আরো কয়েক দিনের জন্য অনুরূপভাবে খাদ্য সামগ্ৰী নিয়ে আসতেন। তিনি হিরা গুহায় য়খন ধ্যানে রত ছিলেন, তখন তার নিকট ফেরেশতা আসলেন, এরপর বললেন, পড়ুন! তিনি বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন ফেরেশতা আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হল। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এরং দ্বিতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে, আমার খুবই কষ্ট হল। পরে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন আমি বললাম, আমি তো পড়তে সক্ষম নই। এরপর আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তৃতীয়বারও এমন জোরে চাপ দিলেন যে আমার খুবই কষ্ট হল। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন। আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। পাঠ করুন। আর আপনার প্রতিপালক মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”— (সূরাহ ‘আলাক ৯৬ঃ ১-৫)। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ওয়াহী নিয়ে ফিরে এলেন। তার স্কন্ধের পেশীগুলো কাপছিল। খাদীজাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট এসে বললেন, তোমরা আমাকে চাঁদর দ্বারা ঢেকে দাও, তোমরা আমাকে চাঁদর দ্বারা ঢেকে দাও। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তার ভীতি দূর হল। এরপর খাদীজাহ্ (রাযিঃ) কে সকল ঘটনা উল্লেখ করে বললেন, খাদীজাহ আমার কি হল? আমি আমার নিজের উপর আশঙ্কা করছি। খাদীজাহ (রাযিঃ) বললেনঃ না, কখনো তা হবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি স্বজনদের খোজ-খবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথি সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। এরপর খাদীজাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু আসাদ ইবনু আবদুল উয্যা এর নিকট নিয়ে আসেন। ওয়ারাকাহ ছিলেন খাদীজাহ (রাযিঃ) এর চাচাত ভাই, ইনি জাহিলিয়াতের যুগে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী লিখতে জানতেন এবং ইন্জীল কিতাবের আরবী অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন বৃদ্ধ এবং তিনি দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। খাদীজাহ্ (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ চাচা, (সম্মানার্থে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে "হে চাচাত ভাই” এ কথার উল্লেখ রয়েছে) আপনার ভাতিজা কি বলছে শুনুন তো! ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল বললেন, হে ভাতিজা! কি দেখেছিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন সব কিছু বিবৃত করলেন। ওয়ারাকাহ বললেন, এ তো সে সংবাদবাহক যাকে আল্লাহ মূসা (আঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সে সময় যুবক থাকতাম, হায়! আমি যদি সে সময় জীবিত থাকতাম, যখন আপনার জাতিগোষ্ঠী আপনাকে দেশ থেকে বের করে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্যি কি আমাকে তারা বের করে দিবে? ওয়ারাকাহ্ বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তিই আপনার মত কিছু (নুবুওয়াত ও রিসালাত) নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছে, তার সঙ্গেই এরূপ দুশমনী করা হয়েছে। আর আমি যদি আপনার সে যুগ পাই তবে অবশ্যই আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা করব*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে ওয়াহীর সূচনা হয়...। অতঃপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ ইউনুসের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে কিছুটা শব্দগত পার্থক্য রয়েছে। যেমন- খাদীজাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনো দুশ্চিন্তায় নিক্ষেপ করবেন না। খাদীজাহ (রাযিঃ) ওয়ারাকাকে সম্বোধন করে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলে তা শুনেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني محمد بن رافع، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، قال قال الزهري واخبرني عروة، عن عايشة، انها قالت اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى . وساق الحديث بمثل حديث يونس . غير انه قال فوالله لا يحزنك الله ابدا . وقال قالت خديجة اى ابن عم اسمع من ابن اخيك
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহা থেকে এমন অবস্থায় খাদিজাহ (রাযিঃ) এর নিকট (বাড়ি) ফিরলেন যে, ভয়ে তার অন্তর কাপছিল। এরপর হাদীসের অবশিষ্ট ঘটনা ইউনুস ও মা'মারের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসের প্রথম অংশে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর বক্তব্য "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে ওয়াহী আসার প্রথম অবস্থা ছিল সত্য-স্বপ্ন" এ বাক্যটির উল্লেখ নেই। তবে মা'মার "আল্লাহর শপথ আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না" এ বাক্য বর্ণনায় ইউনুসের অনুসরণ করেছেন এবং এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, "খাদীজাহ ওয়ারাকাকে বললেন, হে আমার চাচাত ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলেন, তা শুনেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني عبد الملك بن شعيب بن الليث، قال حدثني ابي، عن جدي، قال حدثني عقيل بن خالد، قال ابن شهاب سمعت عروة بن الزبير، يقول قالت عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فرجع الى خديجة يرجف فواده واقتص الحديث بمثل حديث يونس ومعمر ولم يذكر اول حديثهما من قوله اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى الرويا الصادقة . وتابع يونس على قوله فوالله لا يخزيك الله ابدا . وذكر قول خديجة اى ابن عم اسمع من ابن اخيك
আবূ তাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাগণ ওয়াহীর বিরতি প্রসঙ্গে পরস্পর কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াহীর বিরতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমি পথ চলছিলাম সে মুহুর্তে আকাশ হতে একটি শব্দ শুনে মাথা তুলে তাকালাম, দেখি সে হিরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন সে ফেরেশতা জমিন ও আসমানের মধ্যস্থলে কুরসীর উপর বসে আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এ দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আর দ্রুত বাড়ী ফিরে এসে বলতে লাগলাম, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও, আমাকে কম্বল দ্বারা ঢেকে দাও। তারা আমায় কম্বল দ্বারা ঢেকে দিল। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "অর্থাৎ "হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন। আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন' (সূরাহ আল মুদাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। এখানে 'অপবিত্রতা' বলে 'প্রতিমাকে' বুঝানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী অবতরণ আরম্ভ হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني ابو الطاهر، اخبرنا ابن وهب، قال حدثني يونس، قال قال ابن شهاب اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان جابر بن عبد الله الانصاري، - وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحدث قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحدث عن فترة الوحى - قال في حديثه " فبينا انا امشي سمعت صوتا من السماء فرفعت راسي فاذا الملك الذي جاءني بحراء جالسا على كرسي بين السماء والارض " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فجيثت منه فرقا فرجعت فقلت زملوني زملوني . فدثروني فانزل الله تبارك وتعالى { يا ايها المدثر * قم فانذر * وربك فكبر * وثيابك فطهر * والرجز فاهجر} وهي الاوثان قال ثم تتابع الوحى
আবদুল মালিক ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, অতঃপর আমার কাছে ওয়াহী আসা বন্ধ থাকল, একদিন আমি পথ চলছিলাম। হাদীসের বাকী অংশ ইউনুসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো বলেছেনঃ “তাঁকে (জিবরীল) দেখে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জমিনে পড়ে গেলাম।" ইবনু শিহাব বলেন, আবূ সালামাহ বলেছেন, আর রুজয' অর্থ হচ্ছে মূর্তি, প্রতিমা'। তিনি আরো বলেছেন, তারপর ধারাবাহিকভাবে ওয়াহী আসতে লাগলো। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদীসে উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এরপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! ... এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন” (সূরাহ আল মুদাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। এ আয়াতটি সালাত ফরয হবার পূর্বেই নাযিল হয়।রুজয অর্থ প্রতিমা' এবং মা'মার এ হাদীসে উকায়লের ন্যায় বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৪, ৩০৫; ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني عبد الملك بن شعيب بن الليث، قال حدثني ابي، عن جدي، قال حدثني عقيل بن خالد، عن ابن شهاب، قال سمعت ابا سلمة بن عبد الرحمن، يقول اخبرني جابر بن عبد الله، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ثم فتر الوحى عني فترة فبينا انا امشي " ثم ذكر مثل حديث يونس غير انه قال " فجثثت منه فرقا حتى هويت الى الارض " . قال وقال ابو سلمة والرجز الاوثان قال ثم حمي الوحى بعد وتتابع
وحدثني محمد بن رافع حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري بهذا الاسناد نحو حديث يونس وقال فانزل الله تبارك وتعالى { يا ايها المدثر} الى قوله { والرجز فاهجر} قبل ان تفرض الصلاة - وهي الاوثان - وقال " فجثثت منه " . كما قال عقيل
যুহরর ইবনু হারব (রহঃ) ... ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহকে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (সূরাহ্ আল মুদ্দাসসির ৭৪ঃ ১-৫)। আমি বললাম اقْرَأْ (সূরাহ আল ‘আলাক ৯৬ঃ ১-৫)। তিনি বললেন, আমিও জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি বললাম, জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদেরই তা-ই বর্ণনা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি একমাস হিরা গুহায় অবস্থান করি। অবস্থান শেষে আমি নিচে নেমে এলাম। উপত্যকার মাঝখানে যখন পৌছলাম তখন আমাকে ডাকা হলো। আমি সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে তাকালাম, কাউকে দেখলাম না। তারপর আমাকে ডাকা হলো, তখনো কাউকে দেখতে পেলাম না। পুনঃ আমাকে ডাকা হলো। আমি তাকালাম, দেখি সে ফেরেশতা অর্থাৎ জিবরীল (আঃ) শূন্যে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। আমার প্রবল কম্পন শুরু হলো। অনন্তর খাদীজার নিকট আসলাম। বললাম, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও, তোমরা আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। তারা আমাকে চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিল। আমার উপর পানি ঢাললো। অনন্তর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "হে কম্বল জড়ানো ব্যক্তি! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, আপনার পরিচ্ছেদ পবিত্র রাখুন"- (সূরাহ আল মুদ্দাসসির ৭৪ঃ ১-৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا زهير بن حرب، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا الاوزاعي، قال سمعت يحيى، يقول سالت ابا سلمة اى القران انزل قبل قال يا ايها المدثر . فقلت او اقرا . فقال سالت جابر بن عبد الله اى القران انزل قبل قال يا ايها المدثر . فقلت او اقرا قال جابر احدثكم ما حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " جاورت بحراء شهرا فلما قضيت جواري نزلت فاستبطنت بطن الوادي فنوديت فنظرت امامي وخلفي وعن يميني وعن شمالي فلم ار احدا ثم نوديت فنظرت فلم ار احدا ثم نوديت فرفعت راسي فاذا هو على العرش في الهواء - يعني جبريل عليه السلام - فاخذتني رجفة شديدة فاتيت خديجة فقلت دثروني . فدثروني فصبوا على ماء فانزل الله عز وجل { يا ايها المدثر * قم فانذر * وربك فكبر * وثيابك فطهر}
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেনঃ সে ফেরেশতা আসমান জমিনের সাথে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عثمان بن عمر، اخبرنا علي بن المبارك، عن يحيى بن ابي كثير، بهذا الاسناد وقال " فاذا هو جالس على عرش بين السماء والارض
শাইবান ইবনু ফার্রূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার জন্য বুরাক পাঠানো হল[1]। বুরাক গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সাদা রঙের জন্তু। যতদূর দৃষ্টি যায় এক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদাস পর্যন্ত এসে পৌছলাম। তারপর অন্যান্য আম্বিবায়ে কিরাম তাদের বাহনগুলো যে খুঁটির সাথে বাঁধতেন, আমি সে খুঁটির সাথে আমার বাহনটিও বাঁধলাম। তারপর মসজিদে প্রবেশ করলাম ও দু' রাকাআত সালাত আদায় করে বের হলাম। জিবরীল (আঃ) একটি শরাবের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে আমার কাছে এলেন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম। জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি ফিতরাহকেই গ্রহণ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে গেলেন এবং আসমান পর্যন্ত পৌছে দ্বার খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞেস কলা হলো, আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হল। সেখানে আমি আদম (আঃ) এর দেখা পাই তিনি আমাকে মুবারাকবাদ জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে উর্ধ্বলোক নিয়ে চললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাকে কি আনতে পাঠানো হয়েছিল? বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে আমি ঈসা ইবনু মারইয়াম ও ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া (আঃ) দুই খালাত ভাইয়ের দেখা পেলাম। তারা আমাকে মারহাবা বললেন, আমার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে চললেন এবং তৃতীয় আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইউসুফ (আঃ) এর দেখা পেলাম। সমুদয় সৌন্দর্যের অর্ধেক দেয়া হয়েছিল তাকে। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে চতুর্থ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইদরীস (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। আল্লাহ তা'আল তার সম্পর্কে ইরশাদ করেছেনঃ “এবং আমি তাকে উন্নীত করেছি উচ্চ মর্যাদায়" (সূরাহ আল হাদীদ ৫৭ঃ ১৯)। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে পঞ্চম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে?”[2] তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে হারূন (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে মূসা (আঃ) এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বললেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু’আ করলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) সপ্তম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হল। সেখানে ইবরাহীম (আঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি বাইতুল মামুরে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছেন[3]। বাইতুল মামুরে প্রত্যেহ সত্তর হাজার ফেরেশতা তাওয়াফের উদ্দেশে প্রবেশ করেন যারা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পান না। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায়[4] নিয়ে গেলেন। সে বৃক্ষের পাতাগুলো হাতির কানের ন্যায় আর ফলগুলো বড় বড় মটকার মত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে বৃক্ষটিকে যখন আল্লাহর নির্দেশে যা আবূত করে তখন তা পরিবর্তিত হয়ে যায়। সে সৌন্দর্যের বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যে ওয়াহী করার তা ওয়াহী করলেন। আমার উপর দিনরাত মোট পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করলেন, এরপর আমি মূসা (আঃ) এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উপর কি ফরয করেছেন। আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন, আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং একে আরো সহজ করার আবেদন করুন। কেননা আপনার উম্মত এ নির্দেশ পালনে সক্ষম হবে না। আমি বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাদের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন আমি আবার প্রতিপালকের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, হে আমার রব! আমার উম্মতের জন্য এ হুকুম সহজ করে দিন। পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দেয়া হল। তারপর মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, আমার থেকে পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত এও পারবে না। আপনি ফিরে যান এবং আরো সহজ করার আবেদন করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবে আমি একবার মূসা (আঃ) ও একবার আল্লাহর মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম। শেষে আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! যাও দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করা হল। প্রতি ওয়াক্ত সালাতে দশ ওয়াক্ত সালাতের সমান সাওয়াব রয়েছে। এভাবে (পাঁচ ওয়াক্ত হল) পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান। যে ব্যক্তি কোন নেক কাজের নিয়্যাত করল এবং তা কাজে রূপায়িত করতে পারল না, আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখব; আর তা কাজে রূপায়িত করলে তার জন্য লিখব দশটি সাওয়াব। পক্ষান্তরে যে কোন মন্দ কাজের নিয়্যাত করল অথচ তা কাজে পরিণত করল না তার জন্য কোন গুনাহ লিখা হয় না। আর তা কাজে পরিণত করলে তার উপর লিখা হয় একটি মাত্র গুনাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর আমি মূসা (আঃ) এর নিকট নেমে এলাম এবং তাকে এ বিষয়ে অবহিত করলাম। তিনি তখন বললেন, প্রতিপালকের কাছে ফিরে যান এবং আরো সহজ করার প্রার্থনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ বিষয়টি নিয়ে বারবার আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আসা-যাওয়া করেছি, এখন আবার যেতে লজ্জা হচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আল আবদী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার নিকট ফেরেশতা আসলেন এবং তারা আমাকে নিয়ে যমযমে গেলেন। আমার বুক চিরে ফেলা হল। তারপর যমযমের পানি দিয়ে আমাকে গোসল করানো হল। এরপর নির্ধারিত স্থানে আমাকে ফিরিয়ে আনা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني عبد الله بن هاشم العبدي، حدثنا بهز بن اسد، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا ثابت، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتيت فانطلقوا بي الى زمزم فشرح عن صدري ثم غسل بماء زمزم ثم انزلت
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিবরীল (আঃ) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাকে ধরে শোয়ালেন এবং বুক চিরে ফেরে তার হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তার বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, এ অংশটি হল শয়তানের। এরপর হৃদপিণ্ডটিকে একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তার দুধ মায়ের (হালীম এর) কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বুকে সে সেলাই এর চিহ্ন দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا ثابت البناني، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتاه جبريل صلى الله عليه وسلم وهو يلعب مع الغلمان فاخذه فصرعه فشق عن قلبه فاستخرج القلب فاستخرج منه علقة فقال هذا حظ الشيطان منك . ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم ثم لامه ثم اعاده في مكانه وجاء الغلمان يسعون الى امه - يعني ظيره - فقالوا ان محمدا قد قتل . فاستقبلوه وهو منتقع اللون . قال انس وقد كنت ارى اثر ذلك المخيط في صدره
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... শারীক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ নামির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কা'বার মসজিদ থেকে মি'রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে রাত সম্পর্কে আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ওয়াহী প্রাপ্তির পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মাসজিদুল হারামে নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন। এরূপে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত সাবিতুল বুনানীর হাদীসেরই অনুরূপ বর্ণনা করে যান। তবে এ বর্ণনায় শব্দের কিছু আগপাছ ও কমবেশি রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا هارون بن سعيد الايلي، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني سليمان، - وهو ابن بلال - قال حدثني شريك بن عبد الله بن ابي نمر، قال سمعت انس بن مالك، يحدثنا عن ليلة، اسري برسول الله صلى الله عليه وسلم من مسجد الكعبة انه جاءه ثلاثة نفر قبل ان يوحى اليه وهو نايم في المسجد الحرام وساق الحديث بقصته نحو حديث ثابت البناني وقدم فيه شييا واخر وزاد ونقص
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজিবী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি মক্কাতে ছিলাম। আমার ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল। তখন জিবরীল (আঃ) অবতরণ করলেন। তিনি আমার বুক ছিড়ে ফেললেন। এরপর তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। তারপর হিকমাত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি পাত্র আনা হল এবং এতে তা রাখা হল, পুনঃ তা আমার বুকে ঢেলে বুক বন্ধ করে দিলেন। এরপর আমার হাত ধরলেন এবং ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা করলেন। আমরা যখন প্রথম আসমানে গিয়ে পৌছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) এ আসমানের দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন, তিনি বললেন কে? বললেন, জিবরীল। দারোয়ান বললেন, আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দারোয়ান বললেন, তার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দেয়া হল। আমরা প্রবেশ করে দেখি, এক ব্যক্তি তার ডানে একদল মানুষ এবং বায়ে একদল মানুষ। যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বা দিকে তাকান তখন কাঁদেন। তিনি আমাকে বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী! হে সুযোগ্য সন্তান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিবরীলকে বললাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি আদম (আঃ) আর ডান ও বায়ের এ লোকগুলো তার বংশধর। ডান দিকের লোকেরা হচ্ছে জান্নাতবাসী আর বাম দিকের লোকেরা হচ্ছে জাহান্নামবাসী। আর এ কারণেই তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন এবং বা দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌছলেন এবং এর দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি প্রথম আসমানের দারোয়ানের ন্যায় প্রশ্নোত্তর করে দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা এবং ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে দেখা করেছেন। আদম (আঃ) প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (আঃ) ৬ষ্ঠ আসমানে। এ ছাড়া অন্যান্য নবীর অবস্থান সম্পর্কে এ রিওয়ায়াতে কিছু উল্লেখ নেই। আনাস (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও জিবরীল (আঃ) ইদরীস (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য ভ্রাতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? জিবরীল (আঃ) উত্তর দিলেন ইনি ইদরীস (আঃ)। তারপর আমরা মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা (আঃ)। তারপর আমরা ঈসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, ইনি ঈসা (আঃ)। তারপর আমরা ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী। সুযোগ্য সন্তান। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি ইবরাহীম (আঃ)। ইবনু শিহাব, ইবনু হাযম, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বাহ আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে আরো উর্ধ্বে চললেন। আমরা এমন এক স্তরে পৌছলাম যে তথায় আমি কলম এর খশখশ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ইবনু হাযম ও আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেন। আমি এ নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি উত্তরে বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। মূসা (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান; কেননা, আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। তাই আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি আবার ফিরে এসে মূসা (আঃ)-কে জানালে তিনি বললেন, না। আপনি পুনরায় ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মত এতেও সক্ষম হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে তিনি বললেন, এ নির্দেশ পাঁচ, আর পাঁচই পঞ্চাশের সমান করে দিলাম, আমার কথার কোন রদবদল নেই। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে আসি। তিনি তখনো বললেন, আপনি ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। আমি বললামঃ আমার লজ্জা লাগছে। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা নিয়ে চললেন, আমরা পৌঁছলাম। তা এত বিচিত্র রঙে আবৃত যে, আমি বুঝতে পারছি না যে, আসলে তা কী? তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। তথায় ছিল মুক্তার গম্বুজ আর তার মাটি ছিল মিশকের। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) সম্ভবত তার সম্প্রদায়ের জনৈক মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদিন আমি কা'বা শরীফের নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। তখন তিন ব্যক্তির মধ্যবর্তী একজনকে কথা বলতে শুনতে পেলাম। যা হোক তিনি আমার নিকট এসে আমাকে নিয়ে গেলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল, তাতে যমযমের পানি ছিল। এরপর তিনি আমার বক্ষদেশ এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পার্শ্বস্থ একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত' বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, “বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এরপর আমার হৃদপিণ্ডটি বের করা হল এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করে দেয়া হল। ঈমান ও হিকমাতে আমার হৃদয় পূর্ণ করে দেয়া হল। এরপর আমার নিকট বুরাক নামের একটি সাদা জন্তু উপস্থিত করা হয়। এটি গাধা থেকে কিছু বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট। যতদূর দৃষ্টি যায় একেক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। এর উপর আমাকে আরোহণ করানো হল। আমরা চললাম এবং দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছলাম। জিবরীল (আঃ) দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দ্বাররক্ষী বললেন, তার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দিলেন এবং বললেন, মারহাবা! কত সম্মানিত আগন্তুকের আগমন হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তারপর আমরা আদম (আঃ -এর নিকট আসলাম....এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করে যান। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় আসমানে ঈসা ও ইয়াহইয়া, তৃতীয় আসমানে ইউসুফ, চতুর্থ আসমানে ইদরীস, পঞ্চম আসমানে হারূন (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে গিয়ে পৌছি এবং মূসা (আঃ)-এর নিকট গিয়ে তাকে সালাম দেই। তিনি বললেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা। এরপর আমরা তাকে অতিক্রম করে চলে গেলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। আওয়াজ এলে তুমি কেন কাঁদছে? তিনি জবাব দিলেন, প্ৰভু! এ বালককে আপনি আমার পরে পাঠিয়েছেন, অথচ আমার উম্মত অপেক্ষা তার উম্মত অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমরা আবার চললাম এবং সপ্তম আসমানে গিয়ে পৌছলাম ও ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসলাম। সাহাবা তা এ হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, সেখানে তিনি চারটি নহর দেখেছেন*। তন্মধ্যে দুটি প্রকাশ্য ও দুটি অপ্রকাশ্য। সবগুলোই সিদরাতুল মুনতাহার গোড়া হতে প্রবাহিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল! এ নহরগুলো কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহরদ্বয় তো জান্নাতের নহর আর প্রকাশ্যগুলো নীল ও ফুরাত। অর্থাৎ এ দুটি নহরের সাদৃশ্য রয়েছে জান্নাতের ঐ দুটি নহরের সাথে। এরপর আমাকে বাইতুল মা'মুর-এ উঠানো হল। বললাম, হে জিবরীল! এ কি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে বাইতুল মামুর। প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা (তাওয়াফের জন্য) প্রবেশ করে। তারা একবার তাওয়াফ সেরে বের হলে কখনো আর ফের তাওয়াফের সুযোগ হয় না তাদের। তারপর আমার সম্মুখে দুটি পাত্র পেশ করা হল- একটি শরাবের, অপরটি দুধের। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি ঠিক করেছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকেও আপনার ওয়াসীলায় ফিতরাহ-এর উপর কায়িম রাখুন। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়... এভাবে বর্ণনাকারী হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী এতে ... এরপর আমার নিকট ঈমান ও হিকমাত ভর্তি একটি রেকারী আনা হল এবং আমার বুকের উপরিভাগ হতে পেটের নিম্নাংশ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল ও যামযামের পানি দিয়ে ধৌত করে হিকমাত ও ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হল, এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا معاذ بن هشام، قال حدثني ابي، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك، عن مالك بن صعصعة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فذكر نحوه وزاد فيه " فاتيت بطست من ذهب ممتلي حكمة وايمانا فشق من النحر الى مراق البطن فغسل بماء زمزم ثم ملي حكمة وايمانا
حدثني ابو الطاهر، احمد بن عمرو بن عبد الله بن عمرو بن سرح اخبرنا ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال حدثني عروة بن الزبير، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته انها قالت كان اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى الرويا الصادقة في النوم فكان لا يرى رويا الا جاءت مثل فلق الصبح ثم حبب اليه الخلاء فكان يخلو بغار حراء يتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي اولات العدد قبل ان يرجع الى اهله ويتزود لذلك ثم يرجع الى خديجة فيتزود لمثلها حتى فجيه الحق وهو في غار حراء فجاءه الملك فقال اقرا . قال " ما انا بقاري - قال - فاخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني فقال اقرا . قال قلت م�� انا بقاري - قال - فاخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني فقال اقرا . فقلت ما انا بقاري فاخذني فغطني الثالثة حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني . فقال { اقرا باسم ربك الذي خلق * خلق الانسان من علق * اقرا وربك الاكرم * الذي علم بالقلم * علم الانسان ما لم يعلم} " . فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ترجف بوادره حتى دخل على خديجة فقال " زملوني زملوني " . فزملوه حتى ذهب عنه الروع ثم قال لخديجة " اى خديجة ما لي " . واخبرها الخبر قال " لقد خشيت على نفسي " . قالت له خديجة كلا ابشر فوالله لا يخزيك الله ابدا والله انك لتصل الرحم وتصدق الحديث وتحمل الكل وتكسب المعدوم وتقري الضيف وتعين على نوايب الحق . فانطلقت به خديجة حتى اتت به ورقة بن نوفل بن اسد بن عبد العزى وهو ابن عم خديجة اخي ابيها وكان امرا تنصر في الجاهلية وكان يكتب الكتاب العربي ويكتب من الانجيل بالعربية ما شاء الله ان يكتب وكان شيخا كبيرا قد عمي . فقالت له خديجة اى عم اسمع من ابن اخيك . قال ورقة بن نوفل يا ابن اخي ماذا ترى فاخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما راه فقال له ورقة هذا الناموس الذي انزل على موسى صلى الله عليه وسلم يا ليتني فيها جذعا يا ليتني اكون حيا حين يخرجك قومك . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اومخرجي هم " . قال ورقة نعم لم يات رجل قط بما جيت به الا عودي وان يدركني يومك انصرك نصرا موزرا
حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا ثابت البناني، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اتيت بالبراق - وهو دابة ابيض طويل فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه - قال فركبته حتى اتيت بيت المقدس - قال - فربطته بالحلقة التي يربط به الانبياء - قال - ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين ثم خرجت فجاءني جبريل - عليه السلام - باناء من خمر واناء من لبن فاخترت اللبن فقال جبريل صلى الله عليه وسلم اخترت الفطرة . ثم عرج بنا الى السماء فاستفتح جبريل فقيل من انت قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بادم فرحب بي ودعا لي بخير . ثم عرج بنا الى السماء الثانية فاستفتح جبريل عليه السلام . فقيل من انت قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بابنى الخالة عيسى ابن مريم ويحيى بن زكرياء صلوات الله عليهما فرحبا ودعوا لي بخير . ثم عرج بي الى السماء الثالثة فاستفتح جبريل . فقيل من انت قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد صلى الله عليه وسلم . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بيوسف صلى الله عليه وسلم اذا هو قد اعطي شطر الحسن فرحب ودعا لي بخير . ثم عرج بنا الى السماء الرابعة فاستفتح جبريل - عليه السلام - قيل من هذا قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد . قال وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بادريس فرحب ودعا لي بخير قال الله عز وجل { ورفعناه مكانا عليا} ثم عرج بنا الى السماء الخامسة فاستفتح جبريل . قيل من هذا قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بهارون صلى الله عليه وسلم فرحب ودعا لي بخير . ثم عرج بنا الى السماء السادسة فاستفتح جبريل عليه السلام . قيل من هذا قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بموسى صلى الله عليه وسلم فرحب ودعا لي بخير . ثم عرج بنا الى السماء السابعة فاستفتح جبريل فقيل من هذا قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد صلى الله عليه وسلم . قيل وقد بعث اليه قال قد بعث اليه . ففتح لنا فاذا انا بابراهيم صلى الله عليه وسلم مسندا ظهره الى البيت المعمور واذا هو يدخله كل يوم سبعون الف ملك لا يعودون اليه ثم ذهب بي الى السدرة المنتهى واذا ورقها كاذان الفيلة واذا ثمرها كالقلال - قال - فلما غشيها من امر الله ما غشي تغيرت فما احد من خلق الله يستطيع ان ينعتها من حسنها . فاوحى الله الى ما اوحى ففرض على خمسين صلاة في كل يوم وليلة فنزلت الى موسى صلى الله عليه وسلم فقال ما فرض ربك على امتك قلت خمسين صلاة . قال ارجع الى ربك فاساله التخفيف فان امتك لا يطيقون ذلك فاني قد بلوت بني اسراييل وخبرتهم . قال فرجعت الى ربي فقلت يا رب خفف على امتي . فحط عني خمسا فرجعت الى موسى فقلت حط عني خمسا . قال ان امتك لا يطيقون ذلك فارجع الى ربك فاساله التخفيف . - قال - فلم ازل ارجع بين ربي تبارك وتعالى وبين موسى - عليه السلام - حتى قال يا محمد انهن خمس صلوات كل يوم وليلة لكل صلاة عشر فذلك خمسون صلاة . ومن هم بحسنة فلم يعملها كتبت له حسنة فان عملها كتبت له عشرا ومن هم بسيية فلم يعملها لم تكتب شييا فان عملها كتبت سيية واحدة - قال - فنزلت حتى انتهيت الى موسى صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال ارجع الى ربك فاساله التخفيف . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت قد رجعت الى ربي حتى استحييت منه
وحدثني حرملة بن يحيى التجيبي، اخبرنا ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك، قال كان ابو ذر يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " فرج سقف بيتي وانا بمكة فنزل جبريل صلى الله عليه وسلم ففرج صدري ثم غسله من ماء زمزم ثم جاء بطست من ذهب ممتلي حكمة وايمانا فافرغها في صدري ثم اطبقه ثم اخذ بيدي فعرج بي الى السماء فلما جينا السماء الدنيا قال جبريل - عليه السلام - لخازن السماء الدنيا افتح . قال من هذا قال هذا جبريل . قال هل معك احد قال نعم معي محمد صلى الله عليه وسلم . قال فارسل اليه قال نعم ففتح - قال - فلما علونا السماء الدنيا فاذا رجل عن يمينه اسودة وعن يساره اسودة - قال - فاذا نظر قبل يمينه ضحك واذا نظر قبل شماله بكى - قال - فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح - قال - قلت يا جبريل من هذا قال هذا ادم صلى الله عليه وسلم وهذه الاسودة عن يمينه وعن شماله نسم بنيه فاهل اليمين اهل الجنة والاسودة التي عن شماله اهل النار فاذا نظر قبل يمينه ضحك واذا نظر قبل شماله بكى - قال - ثم عرج بي جبريل حتى اتى السماء الثانية . فقال لخازنها افتح - قال - فقال له خازنها مثل ما قال خازن السماء الدنيا ففتح " . فقال انس بن مالك فذكر انه وجد في السموات ادم وادريس وعيسى وموسى وابراهيم - صلوات الله عليهم اجمعين - ولم يثبت كيف منازلهم غير انه ذكر انه قد وجد ادم - عليه السلام - في السماء الدنيا وابراهيم في السماء السادسة . قال " فلما مر جبريل ورسول الله صلى الله عليه وسلم بادريس - صلوات الله عليه - قال مرحبا بالنبي الصالح والاخ الصالح - قال - ثم مر فقلت من هذا فقال هذا ادريس - قال - ثم مررت بموسى - عليه السلام - فقال مرحبا بالنبي الصالح والاخ الصالح - قال - قلت من هذا قال هذا موسى - قال - ثم مررت بعيسى فقال مرحبا بالنبي الصالح والاخ الصالح . قلت من هذا قال عيسى ابن مريم - قال - ثم مررت بابراهيم - عليه السلام - فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح - قال - قلت من هذا قال هذا ابراهيم " . قال ابن شهاب واخبرني ابن حزم ان ابن عباس وابا حبة الانصاري كانا يقولان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثم عرج بي حتى ظهرت لمستوى اسمع فيه صريف الاقلام " . قال ابن حزم و انس بن مالك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ففرض الله على امتي خمسين صلاة - قال - فرجعت بذلك حتى امر بموسى فقال موسى عليه السلام ماذا فرض ربك على امتك - قال - قلت فرض عليهم خمسين صلاة . قال لي موسى عليه السلام فراجع ربك فان امتك لا تطيق ذلك - قال - فراجعت ربي فوضع شطرها - قال - فرجعت الى موسى - عليه السلام - فاخبرته قال راجع ربك فان امتك لا تطيق ذلك - قال - فراجعت ربي فقال هي خمس وهى خمسون لا يبدل القول لدى - قال - فرجعت الى موسى فقال راجع ربك . فقلت قد استحييت من ربي - قال - ثم انطلق بي جبريل حتى ناتي سدرة المنتهى فغشيها الوان لا ادري ما هي - قال - ثم ادخلت الجنة فاذا فيها جنابذ اللولو واذا ترابها المسك
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن سعيد، عن قتادة، عن انس بن مالك، - لعله قال - عن مالك بن صعصعة، - رجل من قومه - قال قال نبي الله صلى الله عليه وسلم " بينا انا عند البيت بين النايم واليقظان اذ سمعت قايلا يقول احد الثلاثة بين الرجلين . فاتيت فانطلق بي فاتيت بطست من ذهب فيها من ماء زمزم فشرح صدري الى كذا وكذا " . قال قتادة فقلت للذي معي ما يعني قال الى اسفل بطنه " فاستخرج قلبي فغسل بماء زمزم ثم اعيد مكانه ثم حشي ايمانا وحكمة ثم اتيت بدابة ابيض يقال له البراق فوق الحمار ودون البغل يقع خطوه عند اقصى طرفه فحملت عليه ثم انطلقنا حتى اتينا السماء الدنيا فاستفتح جبريل صلى الله عليه وسلم فقيل من هذا قال جبريل . قيل ومن معك قال محمد صلى الله عليه وسلم . قيل وقد بعث اليه قال نعم - قال - ففتح لنا وقال مرحبا به ولنعم المجيء جاء - قال - فاتينا على ادم صلى الله عليه وسلم " . وساق الحديث بقصته . وذكر انه لقي في السماء الثانية عيسى ويحيى - عليهما السلام - وفي الثالثة يوسف وفي الرابعة ادريس وفي الخامسة هارون - صلى الله عليهم وسلم - قال " ثم انطلقنا حتى انتهينا الى السماء السادسة فاتيت على موسى عليه السلام فسلمت عليه فقال مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح . فلما جاوزته بكى فنودي ما يبكيك قال رب هذا غلام بعثته بعدي يدخل من امته الجنة اكثر مما يدخل من امتي . - قال - ثم انطلقنا حتى انتهينا الى السماء السابعة فاتيت على ابراهيم " . وقال في الحديث وحدث نبي الله صلى الله عليه وسلم انه راى اربعة انهار يخرج من اصلها نهران ظاهران ونهران باطنان " فقلت يا جبريل ما هذه الانهار قال اما النهران الباطنان فنهران في الجنة واما الظاهران فالنيل والفرات . ثم رفع لي البيت المعمور فقلت يا جبريل ما هذا قال هذا البيت المعمور يدخله كل يوم سبعون الف ملك اذا خرجوا منه لم يعودوا فيه اخر ما عليهم . ثم اتيت باناءين احدهما خمر والاخر لبن فعرضا على فاخترت اللبن فقيل اصبت اصاب الله بك امتك على الفطرة . ثم فرضت على كل يوم خمسون صلاة " . ثم ذكر قصتها الى اخر الحديث