হাদিসসমূহ
#415
সহীহ মুসলিম - Faith
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজিবী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি মক্কাতে ছিলাম। আমার ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল। তখন জিবরীল (আঃ) অবতরণ করলেন। তিনি আমার বুক ছিড়ে ফেললেন। এরপর তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। তারপর হিকমাত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি পাত্র আনা হল এবং এতে তা রাখা হল, পুনঃ তা আমার বুকে ঢেলে বুক বন্ধ করে দিলেন। এরপর আমার হাত ধরলেন এবং ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা করলেন। আমরা যখন প্রথম আসমানে গিয়ে পৌছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) এ আসমানের দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন, তিনি বললেন কে? বললেন, জিবরীল। দারোয়ান বললেন, আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দারোয়ান বললেন, তার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দেয়া হল। আমরা প্রবেশ করে দেখি, এক ব্যক্তি তার ডানে একদল মানুষ এবং বায়ে একদল মানুষ। যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বা দিকে তাকান তখন কাঁদেন। তিনি আমাকে বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী! হে সুযোগ্য সন্তান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিবরীলকে বললাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি আদম (আঃ) আর ডান ও বায়ের এ লোকগুলো তার বংশধর। ডান দিকের লোকেরা হচ্ছে জান্নাতবাসী আর বাম দিকের লোকেরা হচ্ছে জাহান্নামবাসী। আর এ কারণেই তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন এবং বা দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌছলেন এবং এর দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি প্রথম আসমানের দারোয়ানের ন্যায় প্রশ্নোত্তর করে দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা এবং ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে দেখা করেছেন। আদম (আঃ) প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (আঃ) ৬ষ্ঠ আসমানে। এ ছাড়া অন্যান্য নবীর অবস্থান সম্পর্কে এ রিওয়ায়াতে কিছু উল্লেখ নেই। আনাস (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও জিবরীল (আঃ) ইদরীস (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য ভ্রাতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? জিবরীল (আঃ) উত্তর দিলেন ইনি ইদরীস (আঃ)। তারপর আমরা মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা (আঃ)। তারপর আমরা ঈসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, ইনি ঈসা (আঃ)। তারপর আমরা ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী। সুযোগ্য সন্তান। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি ইবরাহীম (আঃ)। ইবনু শিহাব, ইবনু হাযম, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বাহ আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে আরো উর্ধ্বে চললেন। আমরা এমন এক স্তরে পৌছলাম যে তথায় আমি কলম এর খশখশ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ইবনু হাযম ও আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেন। আমি এ নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আঃ) এর সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি উত্তরে বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। মূসা (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান; কেননা, আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। তাই আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি আবার ফিরে এসে মূসা (আঃ)-কে জানালে তিনি বললেন, না। আপনি পুনরায় ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মত এতেও সক্ষম হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে তিনি বললেন, এ নির্দেশ পাঁচ, আর পাঁচই পঞ্চাশের সমান করে দিলাম, আমার কথার কোন রদবদল নেই। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে আসি। তিনি তখনো বললেন, আপনি ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। আমি বললামঃ আমার লজ্জা লাগছে। তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা নিয়ে চললেন, আমরা পৌঁছলাম। তা এত বিচিত্র রঙে আবৃত যে, আমি বুঝতে পারছি না যে, আসলে তা কী? তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। তথায় ছিল মুক্তার গম্বুজ আর তার মাটি ছিল মিশকের। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Metadata
- Edition
- সহীহ মুসলিম
- Book
- Faith
- Hadith Index
- #415
- Book Index
- 320
Grades
- -