Loading...

Loading...
বইসমূহ
৮৪ হাদিসসমূহ
আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় দশ বছর অবস্থান করেন। এ সময় তাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং মদিনা্তেও দশ বছর (তাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে)। [৩৮৫১, ৪৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، قال اخبرتني عايشة، وابن، عباس رضى الله عنهم قالا لبث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة عشر سنين ينزل عليه القران وبالمدينة عشر سنين
আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় দশ বছর অবস্থান করেন। এ সময় তাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং মদিনা্তেও দশ বছর (তাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে)। [৩৮৫১, ৪৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، قال اخبرتني عايشة، وابن، عباس رضى الله عنهم قالا لبث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة عشر سنين ينزل عليه القران وبالمدينة عشر سنين
আবূ ‘উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে অবগত করা হয়েছে যে, একদা জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আগমন করলেন। তখন উম্মু সালামাহ (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? অথবা তিনি এ রকম কোন কথা জিজ্ঞেস করলেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, ইনি দাহইয়া (রাঃ)। তারপর জিব্রীল (আঃ) উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষণে জিব্রীল (আঃ)-এর খবর না শুনা পর্যন্ত আমি তাঁকে সে দাহইয়া (রাঃ)-ই মনে করেছি। অথবা তিনি (বর্ণনাকারী) সে রকম কোন কথা বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী মুতামির (রহ.) বলেন, আমার পিতা (সুলাইমান) বলেছেন, আমি ‘উসমান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কার নিকট থেকে এ ঘটনা শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইবনু যায়দের নিকট হতে। [৩৬৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا معتمر، قال سمعت ابي، عن ابي عثمان، قال انبيت ان جبريل، اتى النبي صلى الله عليه وسلم وعنده ام سلمة فجعل يتحدث فقال النبي صلى الله عليه وسلم لام سلمة " من هذا ". او كما قال قالت هذا دحية. فلما قام قالت والله ما حسبته الا اياه حتى سمعت خطبة النبي صلى الله عليه وسلم يخبر خبر جبريل او كما قال، قال ابي قلت لابي عثمان ممن سمعت هذا. قال من اسامة بن زيد
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের প্রয়োজন মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওয়াহী- যা আল্লাহ্ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। কাজেই আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাদের অনুসারীদের অনুপাতে আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক অধিক হবে। [৭২৭৪; মুসলিম ১/৭০, হাঃ ১৫২, আহমাদ ৮৪৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، حدثنا سعيد المقبري، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما من الانبياء نبي الا اعطي ما مثله امن عليه البشر، وانما كان الذي اوتيت وحيا اوحاه الله الى فارجو ان اكون اكثرهم تابعا يوم القيامة
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ক্রমাগত ওয়াহী অবতীর্ণ করতে থাকেন এবং তাঁর ইন্তিকালের নিকটবর্তী সময়ে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। এরপর তাঁর ওফাত হয়। [মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن محمد، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي، عن صالح بن كيسان، عن ابن شهاب، قال اخبرني انس بن مالك رضى الله عنه ان الله، تعالى تابع على رسوله صلى الله عليه وسلم قبل وفاته حتى توفاه اكثر ما كان الوحى، ثم توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد
জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলেন। ফলে এক কি দু’রাত তিনি উঠতে পারেননি। এক মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার মনে হয়, তোমার শায়ত্বন তোমাকে ত্যাগ করেছে। তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, ‘‘শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রাতের, যখন তা হয় নিঝুম। তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি।’’ [১১২৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن الاسود بن قيس، قال سمعت جندبا، يقول اشتكى النبي صلى الله عليه وسلم فلم يقم ليلة او ليلتين فاتته امراة فقالت يا محمد ما ارى شيطانك الا قد تركك، فانزل الله عز وجل {والضحى * والليل اذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى}
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ), সা‘ঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ), ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ)-কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার জন্য আদেশ দিলেন এবং তাদেরকে বললেন, আল কুরআনের কোন শব্দের আরাবী হওয়ার ব্যাপারে যায়দ ইবনু সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতভেদ দেখা দিলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব তাঁরা তা-ই করলেন। [৩৫০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، حدثنا شعيب، عن الزهري، واخبرني انس بن مالك، قال فامر عثمان زيد بن ثابت وسعيد بن العاص وعبد الله بن الزبير وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام ان ينسخوها، في المصاحف وقال لهم اذا اختلفتم انتم وزيد بن ثابت في عربية من عربية القران فاكتبوها بلسان قريش، فان القران انزل بلسانهم ففعلوا
ইয়ালা ইবনু ‘উমাইয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, হায়! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় যদি তাঁকে দেখতে পারতাম। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘জিয়িররানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং চাঁদোয়া দিয়ে তাঁর উপর ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন কতিপয় সাহাবী। এমন সময় সুগন্ধি মেখে এক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ সম্পর্কে আপনার মত কী, যে সুগন্ধি মেখে জুববা পরে ইহরাম বেঁধেছে? কিছু সময়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা করলেন, এমনি সময় ওয়াহী এলো। ‘উমার (রাঃ) ইয়ালা (রাঃ)-কে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। ইয়ালা (রাঃ) এলেন এবং তাঁর মাথা ঐ চাদরের ভেতর ঢোকালেন। দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমন্ডল লাল রক্তিম বর্ণ এবং কিছু সময়ের জন্য বেশ জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছেন। তারপর তাঁর থেকে এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে দূর হওয়ার পর তিনি বললেন, প্রশ্নকারী কোথায় যে কিছুক্ষণ পূর্বে আমাকে ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল? লোকটিকে খুঁজে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসা হল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে সুগন্ধি তুমি তোমার শরীরে মেখেছে, তা তিনবার ধুয়ে ফেলবে আর জুববাটি খুলে ফেলবে। তারপর তুমি তোমার ‘উমরাহতে ঐ সমস্ত কাজ করবে, যা তুমি হাজ্জের মধ্যে করে থাক। [১৫৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا همام، حدثنا عطاء،. وقال مسدد حدثنا يحيى، عن ابن جريج، قال اخبرني عطاء، قال اخبرني صفوان بن يعلى بن امية، ان يعلى، كان يقول ليتني ارى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين ينزل عليه الوحى، فلما كان النبي صلى الله عليه وسلم بالجعرانة وعليه ثوب قد اظل عليه ومعه ناس من اصحابه اذ جاءه رجل متضمخ بطيب فقال يا رسول الله كيف ترى في رجل احرم في جبة بعد ما تضمخ بطيب فنظر النبي صلى الله عليه وسلم ساعة فجاءه الوحى فاشار عمر الى يعلى ان تعال، فجاء يعلى فادخل راسه فاذا هو محمر الوجه يغط كذلك ساعة ثم سري عنه فقال " اين الذي يسالني عن العمرة انفا ". فالتمس الرجل فجيء به الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال " اما الطيب الذي بك فاغسله ثلاث مرات، واما الجبة فانزعها ثم اصنع في عمرتك كما تصنع في حجك
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামামাহর যুদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় ‘উমার (রাঃ)-ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ‘উমার (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে কারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি কারীগণ শাহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন মাজীদের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। উত্তরে আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, যে কাজ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি, সে কাজ তুমি কীভাবে করবে? ‘উমার (রাঃ) জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! এটা একটি উত্তম কাজ। ‘উমার (রাঃ) এ কথাটি আমার কাছে বার বার বলতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা এ কাজের জন্য আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন এবং এ ব্যাপারে ‘উমার যা ভাল মনে করলেন আমিও তাই করলাম। যায়দ (রাঃ) বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমার কোন সংশয় নেই। তদুপরি তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর লেখক ছিলে। সুতরাং তুমি কুরআন মাজীদের অংশগুলোকে তালাশ করে একত্রিত কর। আল্লাহর শপথ! তারা যদি আমাকে একটি পর্বত এক স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিত, তাহলেও তা আমার কাছে কুরআন সংকলনের নির্দেশের চেয়ে কঠিন বলে মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি, আপনারা সে কাজ কীভাবে করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহরকসম! এটা একটা কল্যাণকর কাজ। এ কথাটি আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) আমার কাছে বার বার বলতে থাকেন, অবশেষে আল্লাহ্ আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন সে কাজের জন্য, যে কাজের জন্য তিনি আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ)-এর বক্ষকে উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। এরপর আমি কুরআন অনুসন্ধানের কাজে লেগে গেলাম এবং খেজুর পাতা, প্রস্তরখন্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে আমি তা সংগ্রহ করতে থাকলাম। এমনকি আমি সূরাহ তওবার শেষাংশ আবূ খুযায়মাহ আনসারী (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি বাদে আর কারো কাছে আমি পাইনি। আয়াতগুলো হচ্ছে এইঃ তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছে। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তাঁর জন্য তা কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। (১২৮-১২৯) তারপর সংকলিত সহীফাসমূহ মৃত্যু পর্যন্ত আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে রক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। অতঃপর তা ‘উমার (রাঃ)-এর কন্যা হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، عن ابراهيم بن سعد، حدثنا ابن شهاب، عن عبيد بن السباق، ان زيد بن ثابت رضى الله عنه قال ارسل الى ابو بكر مقتل اهل اليمامة فاذا عمر بن الخطاب عنده قال ابو بكر رضى الله عنه ان عمر اتاني فقال ان القتل قد استحر يوم اليمامة بقراء القران واني اخشى ان يستحر القتل بالقراء بالمواطن، فيذهب كثير من القران واني ارى ان تامر بجمع القران. قلت لعمر كيف تفعل شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم قال عمر هذا والله خير. فلم يزل عمر يراجعني حتى شرح الله صدري لذلك، ورايت في ذلك الذي راى عمر. قال زيد قال ابو بكر انك رجل شاب عاقل لا نتهمك، وقد كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القران فاجمعه فوالله لو كلفوني نقل جبل من الجبال ما كان اثقل على مما امرني من جمع القران قلت كيف تفعلون شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هو والله خير فلم يزل ابو بكر يراجعني حتى شرح الله صدري للذي شرح له صدر ابي بكر وعمر رضى الله عنهما فتتبعت القران اجمعه من العسب واللخاف وصدور الرجال حتى وجدت اخر سورة التوبة مع ابي خزيمة الانصاري لم اجدها مع احد غيره {لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم} حتى خاتمة براءة، فكانت الصحف عند ابي بكر حتى توفاه الله ثم عند عمر حياته ثم عند حفصة بنت عمر رضى الله عنه
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) একবার ‘উসমান (রাঃ)-এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আরমিনিয়া ও আযারবাইজান বিজয়ের ব্যাপারে সিরীয় ও ইরাকী যোদ্ধাদের জন্য যুদ্ধ-প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কুরআন পাঠে তাঁদের মতবিরোধ হুযাইফাহ্কে ভীষণ চিন্তিত করল। সুতরাং তিনি ‘উসমান (রাঃ)-কে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! কিতাব সম্পর্কে ইয়াহূদী ও নাসারাদের মত মতপার্থক্যে লিপ্ত হবার পূর্বে এই উষ্মতকে রক্ষা করুন। তারপর ‘উসমান (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তিকে এ বলে পাঠালেন যে, আপনার কাছে সংরক্ষিত কুরআনের সহীফাসমূহ আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা সেগুলোকে পরিপূর্ণ মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করতে পারি। এরপর আমরা তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব। হাফসাহ (রাঃ) তখন সেগুলো ‘উসমান (রাঃ)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ), ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ), সা‘ঈদ ইবনু আস (রাঃ) এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন। তাঁরা মাসহাফে তা লিপিবদ্ধ করলেন। এ সময় ‘উসমান (রাঃ) তিনজন কুরাইশী ব্যক্তিকে বললেন, কুরআনের কোন ব্যাপারে যদি যায়দ ইবনু সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতভেদ দেখা দেয়, তাহলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তাই করলেন। যখন মূল লিপিগুলো থেকে কয়েকটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ লেখা হয়ে গেল, তখন ‘উসমান (রাঃ) মূল লিপিগুলো হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি কুরআনের লিখিত মাসহাফ-সমূহের এক একখানা মাসহাফ এক এক প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন এবং এছাড়া আলাদা আলাদা বা একত্রিত কুরআনের যে কপিসমূহ রয়েছে তা জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। [৩৫০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا ابراهيم، حدثنا ابن شهاب، ان انس بن مالك، حدثه ان حذيفة بن اليمان قدم على عثمان وكان يغازي اهل الشام في فتح ارمينية واذربيجان مع اهل العراق فافزع حذيفة اختلافهم في القراءة فقال حذيفة لعثمان يا امير المومنين ادرك هذه الامة قبل ان يختلفوا في الكتاب اختلاف اليهود والنصارى فارسل عثمان الى حفصة ان ارسلي الينا بالصحف ننسخها في المصاحف ثم نردها اليك فارسلت بها حفصة الى عثمان فامر زيد بن ثابت وعبد الله بن الزبير وسعيد بن العاص وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام فنسخوها في المصاحف وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة اذا اختلفتم انتم وزيد بن ثابت في شىء من القران فاكتبوه بلسان قريش فانما نزل بلسانهم ففعلوا حتى اذا نسخوا الصحف في المصاحف رد عثمان الصحف الى حفصة وارسل الى كل افق بمصحف مما نسخوا وامر بما سواه من القران في كل صحيفة او مصحف ان يحرق
ইবনু শিহাব (রহ.) খারিজাহ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিতের মাধ্যমে যায়দ ইবনু সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা যখন গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরাহ আহযাবের একটি আয়াত আমার থেকে হারিয়ে যায়; অথচ আমি তা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠ করতে শুনেছি। তাই আমরা খোঁজ করতে লাগলাম। শেষে আমরা তা খুযাইমাহ ইবনু সাবিত আনসারী (রাঃ)-এর কাছে পেলাম। আয়াতটি হচ্ছে এইঃ ‘‘মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি’’- (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩/২৩)। তারপর আমরা এ আয়াতটি সংশ্লিষ্ট সূরার সঙ্গে মাসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قال ابن شهاب واخبرني خارجة بن زيد بن ثابت، سمع زيد بن ثابت، قال فقدت اية من الاحزاب حين نسخنا المصحف قد كنت اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا بها فالتمسناها فوجدناها مع خزيمة بن ثابت الانصاري {من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه} فالحقناها في سورتها في المصحف
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহী লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াতগুলো খোঁজ কর। এরপর আমি খোঁজ করলাম। অবশেষে সূরাহ তওবার শেষ দু’টো আয়াত আমি আবূ খুযায়মা আনসারী (রাঃ)-এর কাছে পেলাম। তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আমি এর সন্ধান পায়নি। আয়াত দু’টো হচ্ছে এইঃ ‘‘তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল। তার পক্ষে অতি দুঃসহ-দুর্বহ সেসব বিষয় যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে, তিনি তোমাদের অতিশয় হিতকামী, মু‘মিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, খুবই দয়ালু। এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন- আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি’’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/১২৮-১২৯)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن يونس، عن ابن شهاب، ان ابن السباق، قال ان زيد بن ثابت قال ارسل الى ابو بكر رضى الله عنه قال انك كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فاتبع القران. فتتبعت حتى وجدت اخر سورة التوبة ايتين مع ابي خزيمة الانصاري لم اجدهما مع احد غيره {لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم} الى اخره
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَايَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ ....وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْسَبِيْلِ اللهِ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যায়দকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল সে যেন কাষ্ঠখন্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় (রাবী বলেন- অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত) নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখ। এ সময় অন্ধ সাহাবী আমর ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কী নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে অবতীর্ণ হলঃ ‘‘সমান নয় সেসব মু’মিন যারা বিনা ওজরে ঘরে বসে থাকে এবং ঐসব মু’মিন যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জানমাল দিয়ে জিহাদ করে’’- (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء، قال لما نزلت {لا يستوي القاعدون من المومنين والمجاهدون في سبيل الله} قال النبي صلى الله عليه وسلم " ادع لي زيدا وليجي باللوح والدواة والكتف او الكتف والدواة ثم قال " اكتب لا يستوي القاعدون " وخلف ظهر النبي صلى الله عليه وسلم عمرو بن ام مكتوم الاعمى قال يا رسول الله فما تامرني فاني رجل ضرير البصر فنزلت مكانها {لا يستوي القاعدون من المومنين} في سبيل الله {غير اولي الضرر}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিব্রীল (আঃ) আমাকে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাঁকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং বার বার অন্যভাবে পাঠ করার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য তিলাওয়াতের পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সাত আঞ্চলিক ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন। [৩২১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال حدثني عبيد الله بن عبد الله، ان ابن عباس رضى الله عنهما حدثه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اقراني جبريل على حرف فراجعته، فلم ازل استزيده ويزيدني حتى انتهى الى سبعة احرف
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাঃ)-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সূরাহ ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে আমি তাঁর কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরাআত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরাহ যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যেভাবে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে জোর করে টেনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরাহ ফুরকান যেভাবে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্নভাবে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। তারপর সে সেভাবেই পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ করা হয়েছে। এরপর বললেন, হে ‘উমার! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেও কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ কুরআন সাত আঞ্চলিক ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা বেশি সহজ, সেভাবেই তোমরা পাঠ কর। [২৪১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال حدثني عروة بن الزبير، ان المسور بن مخرمة، وعبد الرحمن بن عبد القاري، حدثاه انهما، سمعا عمر بن الخطاب، يقول سمعت هشام بن حكيم، يقرا سورة الفرقان في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستمعت لقراءته فاذا هو يقرا على حروف كثيرة لم يقرينيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فكدت اساوره في الصلاة فتصبرت حتى سلم فلببته بردايه فقلت من اقراك هذه السورة التي سمعتك تقرا. قال اقرانيها رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقلت كذبت فان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اقرانيها على غير ما قرات، فانطلقت به اقوده الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت اني سمعت هذا يقرا بسورة الفرقان على حروف لم تقرينيها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارسله اقرا يا هشام ". فقرا عليه القراءة التي سمعته يقرا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كذلك انزلت ". ثم قال " اقرا يا عمر ". فقرات القراءة التي اقراني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كذلك انزلت، ان هذا القران انزل على سبعة احرف فاقرءوا ما تيسر منه
ইউসুফ ইবনু মাহিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় এক ইরাকী ব্যক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলঃ কোন্ ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আফ্সোস তোমার প্রতি! এতে তোমার কী ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে আপনি আপনার কুরআনের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কুরআনকে বিন্যস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যস্তভাবে পাঠ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। (الْمُفَصَّلِ) মুফাস্সাল সূরাহ সমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিধান সম্বলিত সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যদি প্রথমেই এ আয়াত অবতীর্ণ হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতে অবতীর্ণ হতো তোমার ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার ত্যাগ করব না। আমি যখন খেলাধূলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কা্য় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়ঃ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ মানে, ‘‘অধিকন্তু ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) হবে কঠিনতর ও তিক্ততর।’’ (বিধান সম্বলিত) সূরাহ বাকারাহ ও সূরাহ নিসা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর কাছে সংরক্ষিত কুরআনের কপি বের করলেন এবং সূরাসমূহ লেখালেন। [৪৮৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال واخبرني يوسف بن ماهك، قال اني عند عايشة ام المومنين رضى الله عنها اذ جاءها عراقي فقال اى الكفن خير قالت ويحك وما يضرك قال يا ام المومنين اريني مصحفك. قالت لم قال لعلي اولف القران عليه فانه يقرا غير مولف. قالت وما يضرك ايه قرات قبل، انما نزل اول ما نزل منه سورة من المفصل فيها ذكر الجنة والنار حتى اذا ثاب الناس الى الاسلام نزل الحلال والحرام، ولو نزل اول شىء لا تشربوا الخمر. لقالوا لا ندع الخمر ابدا. ولو نزل. لا تزنوا. لقالوا لا ندع الزنا ابدا. لقد نزل بمكة على محمد صلى الله عليه وسلم واني لجارية العب {بل الساعة موعدهم والساعة ادهى وامر} وما نزلت سورة البقرة والنساء الا وانا عنده. قال فاخرجت له المصحف فاملت عليه اى السور
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি সূরাহ বনী ইসরাঈল, সূরাহ কাহ্ফ, সূরাহ মারিয়াম, সূরাহ ত্বাহা এবং সূরাহ আম্বিয়া সম্পর্কে বলতেন যে, এগুলো হচ্ছে আমার সর্বপ্রথম সম্পদ এবং এগুলো আমার পুরাতন সম্পত্তি। [৪৭০৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، قال سمعت عبد الرحمن بن يزيد، سمعت ابن مسعود، يقول في بني اسراييل والكهف ومريم وطه والانبياء انهن من العتاق الاول وهن من تلادي
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পূর্বে আমি سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ সূরাটি শিখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، انبانا ابو اسحاق، سمع البراء رضى الله عنه قال تعلمت {سبح اسم ربك} قبل ان يقدم النبي صلى الله عليه وسلم
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সমপর্যায়ের ঐ সূরাগুলো সম্পর্কে আমি খুব অবগত আছি, যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতে জোড়া জোড়া পাঠ করতেন। তারপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং ‘আলক্বামাহ (রহ.) তাকে অনুসরণ করলেন। যখন ‘আলক্বামাহ (রহ.) বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলেন তখন আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এগুলো হচ্ছে মোট বিশটি সূরা, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর সংকলন মুতাবিক মুফাস্সাল থেকে যার শুরু এবং যার শেষ হচ্ছে الْحَوَامِيْمُ অর্থাৎ ‘হামীম’ ‘আদ্দুখান’ এবং ‘আম্মা ইয়াতাসা আলুন’। [৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن شقيق، قال قال عبد الله قد علمت النظاير التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يقروهن اثنين اثنين في كل ركعة. فقام عبد الله ودخل معه علقمة وخرج علقمة فسالناه فقال عشرون سورة من اول المفصل على تاليف ابن مسعود اخرهن الحواميم حم الدخان وعم يتساءلون
وَقَالَ مَسْرُوْقٌ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَام أَسَرَّ إِلَيَّ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلم أَنَّ جِبْرِيْلَ كَانَ يُعَارِضُنِيْ بِالْقُرْآنِ كُلَّ سَنَةٍ وَإِنَّهُ عَارَضَنِي الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أُرَاهُ إِلَّا حَضَرَ أَجَلِي. মাসরূক্ব (রহ.) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে ফাতিমাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে গোপনে বলেছেন, প্রতি বছর জিব্রীল (আঃ) আমার সঙ্গে একবার কুরআন শুনান ও শুনেন; কিন্তু এ বছর তিনি আমার সঙ্গে দু’বার এ কাজ করেন। আমার মনে হচ্ছে আমার মৃত্যু আসন্ন। ৪৯৯৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের কাজে ছিলেন সর্বাধিক দানশীল, বিশেষভাবে রমাযান মাসে। (তাঁর দানশীলতার কোন সীমা ছিল না) কেননা, রমাযান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাত্রে জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। যখন জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি কল্যাণের জন্য প্রবহমান বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। [৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن قزعة، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اجود الناس بالخير، واجود ما يكون في شهر رمضان لان جبريل كان يلقاه في كل ليلة في شهر رمضان حتى ينسلخ يعرض عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم القران، فاذا لقيه جبريل كان اجود بالخير من الريح المرسلة