Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
‘আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমরা তিন গজ বা তার চেয়ে অধিক লম্বা কাষ্ঠ জড়ো করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ।جِمَالَاتٌ صُفْرٌ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মাঝারি গড়নের মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত। [৪৯৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن علي، حدثنا يحيى، اخبرنا سفيان، حدثني عبد الرحمن بن عابس، سمعت ابن عباس رضى الله عنهما {ترمي بشرر} كنا نعمد الى الخشبة ثلاثة اذرع وفوق ذلك، فنرفعه للشتاء فنسميه القصر. {كانه جمالات صفر} حبال السفن تجمع حتى تكون كاوساط الرجال
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গুহায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল ‘সূরাহ ওয়াল মুরসালাত’। তিনি তা তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমি তাঁর মুখ থেকে তা শিখছিলাম। তিলাওয়াতে তখনো তাঁর মুখ সিক্ত ছিল। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি সাপ বেরিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটাকে মেরে ফেল। আমরা ওদিকে দৌড়িয়ে গেলাম। কিন্তু সাপটি চলে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে গেল তোমরা যেমন তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলে। ‘উমার ইবনু হাফস্ বলেন, এ হাদীসটি আমি আমার পিতার নিকট হতে শুনে মুখস্থ করেছি। গুহাটি মিনায় অবস্থিত বলে উল্লেখ আছে। [১৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثني ابراهيم، عن الاسود، عن عبد الله، قال بينما نحن مع النبي صلى الله عليه وسلم في غار اذ نزلت عليه والمرسلات، فانه ليتلوها واني لاتلقاها من فيه وان فاه لرطب بها، اذ وثبت علينا حية فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اقتلوها ". فابتدرناها فذهبت فقال النبي صلى الله عليه وسلم " وقيت شركم، كما وقيتم شرها ". قال عمر حفظته من ابي في غار بمنى
سُوْرَةُ النبأ (عَمَّ يَتَسَاءَلُوْنَ) সূরাহ (৭৮) : আননাবা قَالَ مُجَاهِدٌ (لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا) لَا يَخَافُوْنَهُ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) لَا يُكَلِّمُوْنَهُ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ (صَوَابًا) حَقًّا فِي الدُّنْيَا وَعَمِلَ بِهِ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (ثَجاجًا) مُنْصَبًّا. (ألْفافًا) : مُلْتَفَّةً. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (وَهَّاجًا) مُضِيئًا وَقَالَ غَيْرُهُ (غَسَّاقًا)غَسَقَتْ عَيْنُهُ وَيَغْسِقُ الْجُرْحُ يَسِيْلُ كَأَنَّ الْغَسَاقَ وَالْغَسِيْقَ وَاحِدٌ (عَطَاءًحِسَابًا) جَزَاءً كَافِيًا أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ أَيْ كَفَانِي. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا তারা কখনও হিসাবের ভয় করত না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثَجاجًا অবিরাম বর্ষণ। ألْفافًا ঘন সন্নিবিষ্ট। لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا যাদেরকে আল্লাহ্ অনুমতি দিবেন, তাদের ছাড়া তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদনের ক্ষমতা কারো থাকবে না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَهَّاجًا উজ্জ্বল, ইবনু ‘আব্বাস ব্যতীত অন্যরা বলেন, غَسَّاقًا যেমন আরবরা বলে, চোখে পিষ্টি হয়েছে এবং ক্ষত হতে পূঁজ চুয়ে চুয়ে পড়ছে। الْغَسَاقَ এবং الْغَسِيْقَ একই অর্থ বহন করে। عَطَاءً حِسَابًا যথোচিত দান। যেমন বলা হয়, أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ অর্থাৎ সে আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে। ৪৯৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকারের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]-এর জনৈক ছাত্র বললেন, চল্লিশ বলে-চল্লিশ দিন বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারপর পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ মাস বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও অস্বীকার করলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বছর বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম। এরপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমন বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তখন শিরদাঁড়ার হাড় ছাড়া মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন ঐ হাড়খন্ড থেকেই আবার মানুষকে সৃষ্টি করা হবে। [৪৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد، اخبرنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما بين النفختين اربعون ". قال اربعون يوما قال ابيت. قال اربعون شهرا قال ابيت. قال اربعون سنة قال ابيت. قال " ثم ينزل الله من السماء ماء. فينبتون كما ينبت البقل ليس من الانسان شىء الا يبلى الا عظما واحدا وهو عجب الذنب، ومنه يركب الخلق يوم القيامة
سُوْرَةُ وَالنَّازِعَاتِ সূরাহ (৭৯) : আন্-নাযি‘আত (زَجْرَةٌ) : صَيْحَةٌ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ) : هِيَ الزَّلْزَلَةُ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْاٰيَةَ الْكُبْرٰى) عَصَاهُ وَيَدُهُ. (سَمكَهَا) : بَنَاها بِغَيْرِ عَمَدٍ. (طَغٰى) عَصَى. يُقَالُ النَّاخِرَةُ وَالنَّخِرَةُ سَوَاءٌ مِثْلُ الطَّامِعِ وَالطَّمِعِ وَالْبَاخِلِ وَالْبَخِيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ النَّخِرَةُ الْبَالِيَةُ وَالنَّاخِرَةُ الْعَظْمُ الْمُجَوَّفُ الَّذِيْ تَمُرُّ فِيْهِ الرِّيْحُ فَيَنْخَرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْحَافِرَةِ) الَّتِيْ أَمْرُنَا الْأَوَّلُ إِلَى الْحَيَاةِ وَقَالَ غَيْرُهُ (أَيَّانَ مُرْسٰهَا) مَتَى مُنْتَهَاهَا وَمُرْسَى السَّفِيْنَةِ حَيْثُ تَنْتَهِي الطَّامَّةُ تَطِمُّ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ. زَجْرَةٌ আওয়াজ বা শব্দ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ দ্বারা ভূমিকম্প বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْاٰيَةَ الْكُبْرَى তার [মূসা (আঃ)] লাঠি এবং তার হাত। سَمكَها আকাশকে স্তম্ভ ব্যতীত নির্মাণ করেছেন। طَغَى লাঠি। النَّاخِرَةُ ও النَّخِرَةُ সমার্থবোধক শব্দ। যেমন الطَّامِعِ ও الطَّمِعِ এবং الْبَاخِلِ ও الْبَخِيْلِএক অর্থবোধক শব্দ। কোন কোন মুফাস্সির বলেছেন, النَّخِرَةُ গলিত (হাড্ডি) এবং النَّاخِرَةُ খোল হাড্ডি, যার মধ্যে বাতাস ঢোকার পর আওয়াজ সৃষ্টি হয়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحَافِرَةِ পূর্ব জীবন। ইবনু ‘আব্বাস ছাড়া অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন,أَيَّانَ مُرْسٰهَا কিয়ামতের শেষ কোথায়? যেমন (আরবী ভাষায়) জাহাজ নোঙ্গর করার স্থানকে مُرْسَى السَّفِيْنَةِ বলে। ৪৯৩৬. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যমা ও বুড়ো আঙ্গুলের নিকটবর্তী অঙ্গুলিদ্বয় এভাবে একত্র করে বললেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ও আমাকে এমনিভাবে পাঠানো হয়েছে। [৫৩০১, ৬৫০৩; মুসলিম ৫২/২৬, হাঃ ২৯৫০, আহমাদ ২২৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن المقدام، حدثنا الفضيل بن سليمان، حدثنا ابو حازم، حدثنا سهل بن سعد رضى الله عنه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال باصبعيه هكذا بالوسطى والتي تلي الابهام " بعثت والساعة كهاتين
سُوْرَةُ عَبَسَ সূরাহ (৮০) : ‘আবাসা (عَبَسَ) وَتَوَلَّى كَلَحَ وَأَعْرَضَ وَقَالَ غَيْرُهُ مُطَهَّرَةٍ لَا يَمَسُّهَا إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ وَهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَهَذَا مِثْلُ قَوْلِهِ (فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا) جَعَلَ الْمَلَائِكَةَ وَالصُّحُفَ مُطَهَّرَةً لِأَنَّ الصُّحُفَ يَقَعُ عَلَيْهَا التَّطْهِيْرُ فَجُعِلَ التَّطْهِيْرُ لِمَنْ حَمَلَهَا أَيْضًا (سَفَرَةٍ) الْمَلَائِكَةُ وَاحِدُهُمْ سَافِرٌ سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ وَجُعِلَتْ الْمَلَائِكَةُ إِذَا نَزَلَتْ بِوَحْيِ اللهِ وَتَأْدِيَتِهِ كَالسَّفِيْرِ الَّذِيْ يُصْلِحُ بَيْنَ الْقَوْمِ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَصَدَّى) تَغَافَلَ عَنْهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ لَمَّا يَقْضِ (لمَاَّ يَقْضِي) أَحَدٌ مَا أُمِرَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تَرْهَقُهَا) تَغْشَاهَا شِدَّةٌ (مُسْفِرَةٌ) مُشْرِقَةٌ (بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبَةٍ (أَسْفَارًا) كُتُبًا (تَلَهَّى) تَشَاغَلَ يُقَالُ وَاحِدُ الْأَسْفَارِ سِفْرٌ. عَبَسَ সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। مُطَهَّرَة অর্থ যারা পূত-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। এখানে পূত-পবিত্র বলে মালাইকাকে বোঝানো হয়েছে। উল্লিখিত আয়াতটি আল্লাহর বাণীঃ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا এর অনুরূপ। পূর্বের আয়াতে মালাক এবং সহীফা উভয়কেই مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। অথচ التَّطْهِيْرُ এর সম্পর্ক মূলতঃ সহীফার সঙ্গে, মালায়িকার সঙ্গে নয়। তবে মালাক যেহেতু উক্ত সহীফার হামিল ও বাহক, এই হিসাবে মালাককেও مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। سَفَرَةٍ অর্থ মালাক (ফেরেশতা)। এর এক বচন হচ্ছে سَافِرٌ।سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ আমি তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছি। ওয়াহী অবতীর্ণ করত তা নবীদের (নবীদের) পর্যন্ত পৌঁছানোর দায়িত্ব অর্পণ করে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন মালাকগণকে السَّفِيْرِ (দূত) সদৃশ ঘোষণা করেছেন যিনি কওমের পরস্পর বিবাদ মীমাংসা করেন। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, تَصَدَّى সে এর থেকে অমনোযোগিতা প্রকাশ করেছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لمَاَّ يَقْضِيْ তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে এখনও তা পুরাপুরি করেনি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, تَرْهَقُهَا মানে সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে এক মহাবিপদ। مُسْفِرَةٌ উজ্জ্বল। بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, أَسْفَارًا কিতাবসমূহ। تَلَهَّى তুমি ব্যস্ত হলে। বলা হয়أَسْفَارِ এর একবচন سِفْرٌ। ৪৯৩৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কুরআনের হাফিয পাঠক লিপিকর সম্মানিত মালাকের মত। খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে বারবার কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে। [মুসলিম ৬/৩৮, হাঃ ৭৯৮, আহমাদ ২৪৭২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا قتادة، قال سمعت زرارة بن اوفى، يحدث عن سعد بن هشام، عن عايشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مثل الذي يقرا القران وهو حافظ له مع السفرة الكرام البررة، ومثل الذي يقرا القران وهو يتعاهده وهو عليه شديد، فله اجران
سُوْرَةُ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ সূরাহ (৮১) : ইযাশশামসু কূউইরাত (আত্-তাকভীর) (انْكَدَرَتْ) انْتَثَرَتْ وَقَالَ الْحَسَنُ (سُجِّرَتْ) ذَهَبَ مَاؤُهَا فَلَا يَبْقَى قَطْرَةٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْمَسْجُوْرُ) الْمَمْلُوْءُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سُجِرَتْ) أَفْضَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ فَصَارَتْ بَحْرًا وَاحِدًا (وَالْخُنَّسُ) تَخْنِسُ فِيْ مُجْرَاهَا تَرْجِعُ وَتَكْنِسُ تَسْتَتِرُ كَمَا تَكْنِسُ الظِّبَاءُ (تَنَفَّسَ) ارْتَفَعَ النَّهَارُ (وَالظَّنِيْنُ) الْمُتَّهَمُ وَالضَّنِيْنُ يَضَنُّ بِهِ وَقَالَ عُمَرُ (وَإِذَا النُّفُوْسُ زُوِّجَتْ) يُزَوَّجُ نَظِيْرَهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ قَرَأَ (احْشُرُوا الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا وَأَزْوَاجَهُمْ عَسْعَسَ) أَدْبَرَ. انْكَدَرَتْ অর্থ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। হাসান (রহ.) বলেন, سُجِّرَتْ অর্থ পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে, এক বিন্দু পানিও বাকী থাকবে না। মুহাজিদ (রহ.) বলেন, الْمَسْجُوْرُ অর্থ কানায় কানায় ভর্তি। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, سُجِرَتْ অর্থ একটি সমুদ্র আরেকটির সঙ্গে মিলিত হয়ে এক সমুদ্রে পরিণত হবে। وَالْخُنَّسُ অর্থ নিজের গতিপথে পশ্চাদপসরণকারী।تَكْنِسُ মানে সূর্যের আলোতে অদৃশ্য হয়ে যায়, যেমন হরিণ গা ঢাকা দেয়। تَنَفَّسَ অর্থ যখন দিনের আলো উদ্ভাসিত হয়। الظَّنِيْنُ অপবাদ দানকারী। الضَّنِيْنُ অর্থ বখিল, কৃপণ। ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, وَإِذَا النُّفُوْسُ زُوِّجَتْ অর্থ প্রত্যেককে তার মত চরিত্রের লোকের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামে জুড়ে দেয়া হবে। পরে এ কথার সমর্থনে তিনি احْشُرُواالَّذِيْنَ ظَلَمُوْا وَأَزْوَاجَهُمْ عَسْعَسَ (একত্র করে যালিম ও তাদের সহচরগণকে) আয়াতংশটি পাঠ করলেন। عَسْعَسَ অর্থ অবসান হয়েছে, পশ্চাদপসরণ করেছে। (82) سُوْرَةُ إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ সূরাহ (৮২) : ইযাসসামাউ আনফাতারাত (আল-ইনফিতার) وَقَالَ الرَّبِيْعُ بْنُ خُثَيْمٍ (فُجِّرَتْ) فَاضَتْ وَقَرَأَ الْأَعْمَشُ وَعَاصِمٌ (فَعَدَلَكَ) بِالتَّخْفِيْفِ وَقَرَأَهُ أَهْلُ الْحِجَازِ بِالتَّشْدِيْدِ وَأَرَادَ مُعْتَدِلَ الْخَلْقِ وَمَنْ خَفَّفَ يَعْنِيْ فِيْ أَيِّ صُوْرَةٍ شَاءَ إِمَّا حَسَنٌ وَإِمَّا قَبِيْحٌ أَوْ طَوِيْلٌ أَوْ قَصِيْرٌ. রাবী ইবনু খুশাইম (রহ.) বলেন, فُجِّرَتْ অর্থ-প্রবাহিত হবে, আ‘মাশ এবং ওয়াসিম (রহ.) فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন এবং হিজাযের অধিবাসী فَعَدَّلَكَ তাশদীদ-এর সঙ্গে পড়তেন। অর্থ তিনি তোমাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সৃষ্টি করেছেন। যারা فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন, তারা বলেন, এর অর্থ হল, তিনি তোমাকে সুন্দর বা কুৎসিৎ; লম্বা খাটো যে আকারে ইচ্ছে, সৃষ্টি করেছেন। (83) سُوْرَةُ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِيْنَ সূরাহ (৮৩) : ওয়াইলুললিল মুত্বাফফিফীন (মুতাফফিফীন) وَقَالَ مُجَاهِدٌ (بَلْ رَانَ) ثَبْتُ الْخَطَايَا (ثُوِّبَ) جُوْزِيَ وَقَالَ غَيْرُهُ (الْمُطَفِّفُ) لَا يُوَفِّيْ غَيْرَهُ. الرَّحِيْقُ : الخَمْرُ،(خِتامُه” مِسْكٌ): طِيْنَهُ. (التَّسْنِيْمُ) : يَعْلو شَرَابَ أَهْلِ الجَنَّةِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بَلْرَانَ অর্থ গুনাহের জন্য। ثُوِّبَ অর্থ প্রতিদান দেয়া হল। মুজাহিদ ছাড়া অপরাপর মুসাসসির বলেছেন, الْمُطَفِّفُ ঐ লোক যে অন্যকে মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেয় না। الرَّحِيْقُমদ বা পানীয়, خِتامُه مِسْكٌ জান্নাতের মেশক এর সুগন্ধযুক্ত মাটি দ্বারা মোহর করা হয়েছে التَّسْنِيْمُ জান্নাতীদের জন্য উন্নতমানের পানীয়। ৪৯৩৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘যেদিন সব মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে’’ (সূরাহ মুতাফ্ফিফীন ৮৩/৬)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তির কানের লতা পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে। [৬৫৩১; মুসলিম ৫১/১৫, হাঃ ২৮৬২, আহমাদ ৬০৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহ (৮৪) : ইযাসসামাউন্ শাকক্বাত (আল-ইনশিকাক) قَالَ مُجَاهِدٌ (كِتَابَهُ بِشِمَالِهٰ) يَأْخُذُ كِتَابَهُ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ (وَسَقَ) جَمَعَ مِنْ دَابَّةٍ (ظَنَّ أَنْ لَّنْ يَّحُوْرَ) أنْ لَا يَرْجِعَ إِلَيْنَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يُوْعُوْنَ) يُسِرُّوْنَ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, كِتَابَهُ بِشِمَالِهٰ অর্থাৎ সে পেছন দিক হতে নিজের ‘আমলনামা গ্রহণ করবে। وَسَقَ অর্থ সে যেসব জীবজন্তুর সমাবেশ ঘটায়। ظَنَّ أَنْ لَّنْ يَّحُوْرَ অর্থ সে মনে করত যে, সে কখনই আমার কাছে ফিরে আসবে না। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, يُوْعُوْنَ যা তারা গোপন রাখে। ৪৯৩৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তিরই হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ্ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ্ কি বলেননি, فَأَمَّا مَنْ أُوْتِيَ كِتٰبَه” بِيَمِيْنِهٰلا - فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا ‘‘যার ‘আমলনামা তার ডান হস্তে দেয়া হবে, তার হিসাব নিকাশ সহজেই নেয়া হবে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আয়াতে ‘আমলনামা কীভাবে দেয়া হবে সে ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুবা যার খুঁটিনাটি হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। [১০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن علي، حدثنا يحيى، عن عثمان بن الاسود، قال سمعت ابن ابي مليكة، سمعت عايشة رضى الله عنها قالت سمعت النبي صلى الله عليه وسلم. حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن عايشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم. حدثنا مسدد، عن يحيى، عن ابي يونس، حاتم بن ابي صغيرة عن ابن ابي مليكة، عن القاسم، عن عايشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس احد يحاسب الا هلك ". قالت قلت يا رسول الله جعلني الله فداءك، اليس يقول الله عز وجل {فاما من اوتي كتابه بيمينه * فسوف يحاسب حسابا يسيرا}. قال " ذاك العرض يعرضون، ومن نوقش الحساب هلك
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ এর অর্থ হচ্ছে, এক অবস্থার পর আরেক অবস্থা। তোমাদের নবীই সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن النضر، اخبرنا هشيم، اخبرنا ابو بشر، جعفر بن اياس عن مجاهد، قال قال ابن عباس {لتركبن طبقا عن طبق} حالا بعد حال، قال هذا نبيكم صلى الله عليه وسلم
سُوْرَةُ الْبُرُوْجِ সূরাহ (৮৫) : আল-বুরূজ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الأُخْدُوْدِ) شَقٌّ فِي الْأَرْضِ (فَتَنُوْا) عَذَّبُوْا. وَقَالَ ابنُ عَبَّاسٍ : (الْوَدُوْدُ). الحَبِيْبُ المَجِيْدُ الكَرِيْمُ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْأُخْدُوْدِ যমীনে ফাটল। فَتَنُوْا তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। আর ইবনু ‘অববাস বলেন, الْوَدُوْدُ সম্মানিত দয়ালু বন্ধু (86) سُوْرَةُ الطَّارِقِ সূরাহ (৮৬) : আত্-তরিক্ব هٌوَ النَّجْمُ، وَمَا أَتَاكَ لَيْلًا فَهُوَ طَارِقٌ. (النَّجْمُ الثَّاقِبُ) المُضِيْءُ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (الثَّاقِبُ) الَّذِيْ يَتَوَهَّجُ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ (ذَاتِ الرَّجْعِ) سَحَابٌ يَرْجِعُ بِالْمَطَرِ (ذَاتِ الصَّدْعِ) الْأرْضُ تَتَصَدَّعُ بِالنَّبَاتِ. وَقَالَ ابنُ عَبَّاسٍ : (لَقَوْل فَضْلٌ) : لَحقٌّ. (لَّمَّاعَلَيْهَاحَافِظٌ) إلَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ. সেটি নক্ষত্র, আর যা তোমার নিকট রাতের বেলায় আসে তাই হচ্ছে তরিক। النَّجْمُ الثَّاقِبُ উজ্জ্বল নক্ষত্র। মুজাহিদ বলেন, الثَّاقِبُ যা চকমক করে। মুজাহিদ বলেন, ذَاتِ الرَّجْعِ অর্থ ঐ মেঘ যা বৃষ্টি নিয়ে আসে। ذَاتِ الصَّدْعِ অর্থ ঐ যমীন যা উদ্ভিদ বের হওয়ার সময় ফেটে যায়। আর ইবনু ‘আব্বাস বলেন, لَقَوْل فَضْلٌ অবশ্যই তা সত্য কথা। لَمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ প্রত্যেক আত্মার উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী আছে। (87) سُوْرَةُ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلٰى সূরাহ (৮৭) : সাবিবহিস্মা রাব্বিকাল আ‘লা (আল-আ‘লা) وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (قَدَّرَ فَهَدٰى) قَدَّرَ للإنْسَانِ الشقاءَ والسَّعادَةَ وَهَدَى الْأنْعَامَ لِمَرَاتِعها.وَقَالَ ابنُ عَبَّاسٍ (غُثَآءً أَحْوٰى)هَشِيْمًا مُتَغَيِّرًا মুজাহিদ বলেন, قَدَّرَ فَهَدٰى মানুষের জন্য ভাল-মন্দের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পশুপালকে চারণভূমিতে পথ দেখিয়েছেন। এবং ইবনু ‘আব্বাস বলেন, غُثَآءً أَحْوٰى চূর্ণ বিচূর্ণ তৃণাদি যা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ৪৯৪১. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে সর্ব প্রথম হিজরাত করে আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) ও ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ)। তাঁরা দু’জন এসেই আমাদেরকে কুরআন পড়াতে শুরু করেন। এরপর এলেন, আম্মার, বিলাল ও সা‘দ (রাঃ)। অতঃপর আসলেন বিশজন সাহাবীসহ ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)। অতঃপর এলেন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বারাআ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনে মদিনা্বাসীকে এত অধিক খুশী হতে দেখেছি যে, অন্য কোন বিষয়ে তাদেরকে ততটা খুশী হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত বলছিল যে, ইনিই তো আল্লাহর সেই রাসূল, যিনি আগমন করেছেন। বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসার আগেই আমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلٰى এবং ও রকম আরো কিছু সূরাহ শিখে নিয়েছিলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ هَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ সূরাহ (৮৮) : হাল ‘আত্বা-কা হাদীসুল গাশিয়াহ (আল-গাশিয়াহ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ) النَّصَارَى وَقَالَ مُجَاهِدٌ (عَيْنٍ اٰنِيَةٍ)بَلَغَ إِنَاهَا وَحَانَ شُرْبُهَا (حَمِيْمٍ اٰنٍ) بَلَغَ إِنَاهُ (لَا تَسْمَعُ فِيْهَا لَاغِيَةً) شَتْمًا وَيُقَالُ (الضَّرِيْعُ) نَبْتٌ يُقَالُ لَهُ الشِّبْرِقُ يُسَمِّيْهِ أَهْلُ الْحِجَازِ الضَّرِيْعَ إِذَا يَبِسَ وَهُوَ سُمٌّ (بِمُسَيْطِرٍ) بِمُسَلَّطٍ وَيُقْرَأُ بِالصَّادِ وَالسِّيْنِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (إِيَابَهُمْ) مَرْجِعَهُمْ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ (ক্লিষ্ট-ক্লান্ত) বলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, عَيْنٍاٰنِيَةٍ টগবগে গরম পানিতে কানায় কানায় ভর্তি ঝরণাধারা। حَمِيْمٍاٰنٍ চরম ফুটন্ত পানি। لَا تَسْمَعُ فِيْهَا لَاغِيَةً সেখানে তারা গালি-গালাজ শুনবে না। الشِّبْرِقُএক প্রকার কাঁটাওয়ালা গুল্ম। (তা যখন সবুজ থাকে তখন) তাকে الضَّرِيْعَবলা হয়, আর যখন শুকিয়ে যায়, তখন হিজাযবাসীরা একেই الضَّرِيْعُ বলে। এ এক প্রকার বিষাক্ত আগাছা। بِمُسَيْطِرٍ কর্মবিধায়ক। শব্দটি س ও ص উভয় বর্ণ দিয়েই পড়া হয়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, إِيَابَهُمْ তাদের ফিরে আসার জায়গা। (89) سُوْرَةُ وَالْفَجْرِ সূরাহ (৮৯) আল-ফাজর وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْوَتْرُ) اللهُ (إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ) يَعْنِي الْقَدِيْمَةَ وَالْعِمَادُ أَهْلُ عَمُوْدٍ لَا يُقِيْمُوْنَ (سَوْطَعَذَابٍ) الَّذِيْ عُذِّبُوْا بِهِ (أَكْلًا لَّمًّا) السَّفُّ وَ(جَمًّا) الْكَثِيْرُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ كُلُّ شَيْءٍ خَلَقَهُ فَهُوَ شَفْعٌ السَّمَاءُ شَفْعٌ (وَالْوَتْرُ) اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَقَالَ غَيْرُهُ (سَوْطَ عَذَابٍ) كَلِمَةٌ تَقُوْلُهَا الْعَرَبُ لِكُلِّ نَوْعٍ مِنَ الْعَذَابِ يَدْخُلُ فِيْهِ السَّوْطُ (لَبِالْمِرْصَادِ) إِلَيْهِ الْمَصِيْرُ (تَحَآضُّوْنَ) تُحَافِظُوْنَ وَتَحُضُّوْنَ تَأْمُرُوْنَ بِإِطْعَامِهِ (الْمُطْمَئِنَّةُ) الْمُصَدِّقَةُ بِالثَّوَابِ وَقَالَ الْحَسَنُ (يٰٓأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ) إِذَا أَرَادَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ قَبْضَهَا اطْمَأَنَّتْ إِلَى اللهِ وَاطْمَأَنَّ اللهُ إِلَيْهَا وَرَضِيَتْ عَنْ اللهِ وَرَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَأَمَرَ بِقَبْضِ رُوْحِهَا وَأَدْخَلَهَا اللهُ الْجَنَّةَ وَجَعَلَهُ مِنْ عِبَادِهِ الصَّالِحِيْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ (جَابُوْا) نَقَبُوْا مِنْ جِيْبَ الْقَمِيْصُ قُطِعَ لَهُ جَيْبٌ يَجُوْبُ الْفَلَاةَ يَقْطَعُهَا (لَمًّا) لَمَمْتُهُ أَجْمَعَ أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْوَتْرُ মানে বেজোড়। এর দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলাকে বোঝানো হয়েছে। إِرَمَذَاتِ الْعِمَادِ দ্বারা প্রাচীন এক জাতিকে বোঝানো হয়েছে। وَالْعِمَادُ খুঁটি ও স্তম্ভের মালিক, যারা স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করে না; তারা তাঁবু পেতে জীবন যাপন করে (যাযাবর)। سَوْطَ عَذَابٍ যাদেরকে তা দিয়ে শাস্তি প্রদান করা হবে। أَكْلًا لَّمًّا সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ করা। جَمًّا অতিশয়। মুহাজিদ (রহ.) বলেন, আল্লাহর সকল সৃষ্টিই হল জোড়ায় জোড়ায়। সুতরাং আসমানও জোড়া বাঁধা; وَالْوَتْرُ তবে একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলাই হলেন বেজোড়। মুজাহিদ (রহ.) ব্যতীত অন্য সকলেই বলেছেন, আরবরা যাবতীয় শাস্তির ব্যাপারে سَوْطَعَذَابٍ শব্দটি ব্যবাহর করে থাকে। যে কোন শাস্তি سَوْطَ عَذَابٍ এর অন্তর্ভুক্ত। لَبِالْمِرْصَادِ তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। تَحَاضُّوْنَ তোমরা হেফাজত করে থাক। تَحَآضُّوْنَ তোমরা খাদ্য দান করতে আদেশ করে থাক। الْمُطْمَئِنَّةُ সওয়াবকে সত্য বলে বিশ্বাসকারী। হাসান (রাঃ) বলেন, يٓٓأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ দ্বারা এমন আত্মাকে বোঝানো হয়েছে, যে আত্মাকে আল্লাহ্ মৃত্যুদানের ইচ্ছে করলে সে আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহ্ও তার প্রতি পুরোপুরি প্রশান্ত থাকেন। এরপর আল্লাহ্ তার রূহ কবয করার নির্দেশ দেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে তাকে তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। হাসান (রহ.) ব্যতীত অন্যরা বলেছেন جَابُوْا তারা ছিদ্র করেছে; যে শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে جِيْبَ الْقَمِيْص থেকে। যার অর্থ হচ্ছে, জামার পকেট কাটা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়ে থাকে يَجُوْبُ الْفَلَاةَ সে মাঠ অতিক্রম করছে। لَمَّا لَمَمْتُهُ أَجْمَعَ বলা হলে এর অর্থ হবে- আমি এর শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। (90) سُوْرَةُ لَا أُقْسِمُ সূরাহ (৯০) : লা- উক্বসিমু (আল-বালাদ) وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَأَنْتَ حِلٌّ (بِهٰذَا الْبَلَدِ) بِمَكَّةَ لَيْسَ عَلَيْكَ مَا عَلَى النَّاسِ فِيْهِ مِنْ الإِثْمِ (وَوَالِدٍ) آدَمَ (وَمَا وَلَدَ)(لِبَدًا) كَثِيْرًا (وَالنَّجْدَيْنِ) الْخَيْرُ وَالشَّرُّ (مَسْغَبَةٍ) مَجَاعَةٍ (مَتْرَبَةٍ) السَّاقِطُ فِي التُّرَابِ يُقَالُ (فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ) فَلَمْ يَقْتَحِمْ الْعَقَبَةَ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ فَسَّرَ الْعَقَبَةَ فَقَالَ (وَمَآ أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُّ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَامٌ فِيْ يَوْمٍ ذِيْ مَسْغَبَةٍ)(فيكَبَدٍ) شِدَّة. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بِهٰذَا الْبَلَدِ দ্বারা মক্কা্কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ একানে যুদ্ধ কররে অন্য মানুষের উপর যে গুনাহ হবে, তোমার তা হবে না। وَوَالِدٍ আদম (আঃ)। وَمَا وَلَدَ যাসে জন্ম দেয়, لِبَدًا প্রচুর। وَ النَّجْدَيْنِ ভাল-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ। مَسْغَبَةٍ ক্ষুধা। مَتْرَبَةٍ ধূলি লুন্ঠিত। বলা হয় فَلَااقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ সে দুনিয়ায় দুর্গম গিরিপথে চলাচল করেনি। এরপর আল্লাহর তা‘আলা এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, তুমি কি জান দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে দাস মুক্ত করা, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্য দান। (91) سُوْرَةُ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا সূরাহ (৯১) : ওয়াশশামসি ওয়াযুহা-হা (আশ্-শাম্স) وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (ضُحَاهَا) ضَوْءَها (إذَاتَلَاهَا) تَبِعَها. وَ(طَحَاهَا) دَحَاها (دَسَّاهَا) أغْوَاها. (فَألْهَمَهَا) : عَرَّفَها الشقَّاءَ وَالسَّعادَةَ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (بِطَغْوَاهَا)بِمعاصيها(وَلَايَخَافُعُقْبَاهَا) عُقْبَى أحَدٍ মুহাজিদ (রহ.) বলেন, ضُحَاهَا তার (সূর্যের) রশ্নি। إذَا تَلاَهَا যখন (চন্দ্র) তার অনুসরণ করে। طَحَاهَا যিনি তাকে (যমীনকে) বিস্তৃত করেছেন। دَسَّاهَا যে তাকে (আত্মাকে) ভ্রষ্টতায় নিক্ষেপ করেছে। فَألْهَمَهَا অতঃপর তার (আত্মার) সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের পরিচয় দান করেছেন। بِطَغْوَاهَا অবাধ্যতা বা নাফরমানীর কারণে। وَلَايَخَافُعُقْبَاهَا কারো পরিণামের জন্য আল্লাহ্ আশংকা করেন না। ৪৯৪২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুতবাহ দিতে শুনেছেন, খুতবায় তিনি কওমে সামূদের প্রতি প্রেরিত উষ্ট্রী ও তার পা কাটার কথা উল্লেখ করলেন। তারপর রাসূল إِذْ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا-এর ব্যাখ্যায় বললেন, ঐ উষ্ট্রীটিকে হত্যা করার জন্য এক হতভাগ্য শক্তিশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠ যে সে সমাজের মধ্যে আবূ যাম‘আর মত প্রভাবশালী ও অত্যন্ত শক্তিধর ছিল। এ খুতবায় তিনি মেয়েদের সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে তার স্ত্রককে ক্রীতদাসের মত মারপিট করে; কিন্তু ঐ দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়। তারপর তিনি বায়ু নিঃসরণের পর হাসি দেয়া সম্পর্কে বললেন, তোমাদের কেউ কেউ হাসে সে কাজটির জন্য যে কাজটি সে নিজেও করে। (অন্য সনদে) আবূ মু‘আবীয়াহ (রহ.)....‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ যাম‘আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যুবায়র ইবনু আওআমের চাচা আবূ যাম‘আর মত। [৩৩৭৭; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৫৫, আহমাদ ১৬২২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى সূরাহ (৯২) : ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা- (আল-লায়ল) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وَكَذَّبَ بِالْحُسْنٰى) بِالْخَلَفِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَرَدّٰى) مَاتَ وَ (تَلَظّٰى) تَوَهَّجُ وَقَرَأَ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ تَتَلَظَّى. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَكَذَّبَ بِالْحُسْنٰى অর্থ প্রতিদানে অস্বীকার করল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَرَدّٰى যখন যে মরে যাবে। تَلَظّٰى মানে লেলিহান অগ্নি্। ‘উবায়দ ইবনু উমায়র (রাঃ) শব্দটিকে تَتَلَظّٰى পড়তেন। ৪৯৪৩. ‘আলক্বামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর একদল সাথীর সঙ্গে সিরিয়া গেলাম। আবূদ্ দারদা আমাদের কাছে এসে বললেন, কুরআন পাঠ করতে পারেন, এমন কেউ আছেন কি? আমরা বললাম, হাঁ, আছে। এরপর তিনি বললেন, তাহলে আপনাদের মাঝে উত্তম কারী কে? লোকেরা ইশারা করে আমাকে দেখিয়ে দিলে তিনি আমাকে বললেন, পড়ুন, আমি পড়লাম وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشٰى لا - وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلّٰى لا - وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثٰٓى لا তিলাওয়াত শুনে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ সূরাহ আপনার উস্তাদ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদের মুখে শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আমি এ সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে শুনেছি। কিন্তু তারা (সিরিয়াবাসী) তা অস্বীকার করছে। [৩২৮৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قبيصة بن عقبة، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، قال دخلت في نفر من اصحاب عبد الله الشام فسمع بنا ابو الدرداء فاتانا فقال افيكم من يقرا فقلنا نعم. قال فايكم اقرا فاشاروا الى فقال اقرا. فقرات {والليل اذا يغشى * والنهار اذا تجلى * والذكر والانثى}. قال انت سمعتها من في صاحبك قلت نعم. قال وانا سمعتها من في النبي صلى الله عليه وسلم وهولاء يابون علينا
ইব্রাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কতক সঙ্গী আবুদ্ দারদা (রাঃ)-এর কাছে আসলেন। তিনিও তাদেরকে তালাশ করে পেয়ে গেলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কিরাআত অনুযায়ী কে কুরআন পাঠ করতে পারে। ‘আলক্বামাহ (রহ.) বললেন, আমরা সকলেই। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস কররেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হাফিয কে? সকলেই ‘আলক্বামাহর প্রতি ইশারা করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদকে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشٰى কীভাবে পড়তে শুনেছেন? ‘আলক্বামাহ (রহ.) বললেন, আমি তাকে وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثٰى পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাঃ) বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক, আমিও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবেই পড়তে শুনেছি। অথচ এসব (সিরিয়াবাসী) লোকেরা চাচ্ছে, আমি যেন আয়াতটি وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثٰى পড়ি। আল্লাহর কসম! আমি তাদের কথা মানবো না। [৩২৮৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن ابراهيم، قال قدم اصحاب عبد الله على ابي الدرداء فطلبهم فوجدهم فقال ايكم يقرا على قراءة عبد الله قال كلنا. قال فايكم يحفظ واشاروا الى علقمة. قال كيف سمعته يقرا {والليل اذا يغشى}. قال علقمة {والذكر والانثى}. قال اشهد اني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا هكذا، وهولاء يريدوني على ان اقرا {وما خلق الذكر والانثى} والله لا اتابعهم
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাযায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। এ কথা শুনে সকলেই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা ‘আমল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমল সহজ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ কররেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলেও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, যার যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সহজ করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي رضى الله عنه قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في بقيع الغرقد في جنازة فقال " ما منكم من احد الا وقد كتب مقعده من الجنة ومقعده من النار ". فقالوا يا رسول الله افلا نتكل فقال " اعملوا فكل ميسر ". ثم قرا {فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى} الى قوله {للعسرى}
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد، حدثنا الاعمش، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن، عن علي رضى الله عنه قال كنا قعودا عند النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث
بَابُ قَوْلِهِ :(وَصَدَّقَ بِالْحُسْنٰى) ৬৫/৯২/৪. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করলে। (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৬) حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا قُعُوْدًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيْثَ نَحْوَهُ. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৮২) ৪৯৪৬. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন একটি জানাযায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি একটি কাঠি হাতে নিয়ে এর দ্বারা মাটি খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে সকলেই বললেন, তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা ‘আমল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুতআকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজপথ। আর কেউ কার্পণ্য কররে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে ও যার যা উত্তম তা ত্যাগ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। শু‘বাহ (রহ.) বলেন, উপরোক্ত হাদীসটি আমার কাছে মানসূর বর্ণনা করেছেন। তাকে আমি সুলায়মানের হাদীসের উল্টো মনে করেনি। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا بشر بن خالد، اخبرنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن سليمان، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم. انه كان في جنازة فاخذ عودا ينكت في الارض فقال " ما منكم من احد الا وقد كتب مقعده من النار او من الجنة ". قالوا يا رسول الله افلا نتكل قال " اعملوا فكل ميسر {فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى} الاية. قال شعبة وحدثني به منصور فلم انكره من حديث سليمان
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? তিনি বললেন, না তোমরা ‘আমল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সে ‘আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, কাজেই কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى، حدثنا وكيع، عن الاعمش، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن، عن علي عليه السلام قال كنا جلوسا عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما منكم من احد الا وقد كتب مقعده من الجنة ومقعده من النار ". فقلنا يا رسول الله افلا نتكل قال " لا، اعملوا فكل ميسر ". ثم قرا {فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى * فسنيسره لليسرى} الى قوله {فسنيسره للعسرى}
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বসলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে গিয়ে বসলাম। এ সয় তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি তার মাতাখানা নামিয়ে, এর দ্বারা মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন। এরপর বললেন, তোমাদের কেউ এমন নেই অথবা বললেন, কোন সৃষ্টি এমন নেই) জান্নাতে বা জাহান্নামে যার স্থান নির্দিষ্ট হয়নি। কিংবা তাকে ভাগ্যবান বা হতভাগা লেখা হয়নি। এ কথা শুনে এক সাহাবী বললেন, আমরা তাহলে ‘আমল ত্যাগ করে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর কি নির্ভয় করে বসব? আমাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যবান, সে তো সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের মাঝেই শামিল হয়ে যাবে, আর আমাদের মাঝে যে হতভাগ্য, সে তো হতভাগা লোকদের আমলের দিকেই এগিয়ে যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত ‘আমল সহজ করে দেয়া হবে। আর দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার মত ‘আমল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, ‘‘সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে।’’ [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي رضى الله عنه قال كنا في جنازة في بقيع الغرقد، فاتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقعد وقعدنا حوله، ومعه مخصرة فنكس، فجعل ينكت بمخصرته ثم قال " ما منكم من احد وما من نفس منفوسة الا كتب مكانها من الجنة والنار، والا قد كتبت شقية او سعيدة ". قال رجل يا رسول الله افلا نتكل على كتابنا وندع العمل فمن كان منا من اهل السعادة فسيصير الى اهل السعادة، ومن كان منا من اهل الشقاء فسيصير الى عمل اهل الشقاوة. قال " اما اهل السعادة فييسرون لعمل اهل السعادة واما اهل الشقاوة فييسرون لعمل اهل الشقاء ". ثم قرا {فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى} الاية
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জানাযাহ্য় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি কিছু একটা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার স্থান হয় জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে রাখা হয়নি। এ কথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তাহলে ‘আমল বাদ দিয়ে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর কি ভরসা করব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘আমল করতে থাক, কারণ, যাকে যে ‘আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যের অধিকারী হবে, তার জন্য সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের ‘আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। আর যে দুর্ভাগ্যের অধিকারী হবে, তার জন্য দুর্ভাগা লোকদের ‘আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، عن الاعمش، قال سمعت سعد بن عبيدة، يحدث عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي رضى الله عنه قال كان النبي صلى الله عليه وسلم في جنازة فاخذ شييا فجعل ينكت به الارض فقال " ما منكم من احد الا وقد كتب مقعده من النار ومقعده من الجنة ". قالوا يا رسول الله افلا نتكل على كتابنا وندع العمل قال " اعملوا فكل ميسر لما خلق له، اما من كان من اهل السعادة فييسر لعمل اهل السعادة، واما من كان من اهل الشقاء فييسر لعمل اهل الشقاوة ". ثم قرا {فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى} الاية
سُوْرَةُ وَالضُّحَى সূরাহ (৯৩) : ওয়াদ্-দুহা وَقَالَ مُجَاهِدٌ (إِذَا سَجٰى) اسْتَوَى وَقَالَ غَيْرُهُ سَجَى أَظْلَمَ وَسَكَنَ عَائِلًا ذُوْ عِيَالٍ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِذَا سَجٰى ‘‘যখন তা সমান সমান হয়’’, মুজাহিদ (রহ.) ব্যতীত অন্যরা বলেন, سَجٰى মানে যখন তা নিঝুম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। عَآئِلًا নিঃস্ব। ৪৯৫০. জুনদুব ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই বা তিন রাত তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারেননি। এ সময় এক মহিলা এসে বলল, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মনে হয়, তোমার শায়ত্বন তোমাকে ত্যাগ করেছে। দুই কিংবা তিনদিন যাবৎ তাকে আমি তোমার কাছে আসতে দেখতে পাচ্ছি না। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, শপথ পূর্বাহ্নের, ‘‘শপথ রজনীর যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি’’- (সূরাহ ওয়াদ্ দুহা ৯৩/৩)। [১১২৪; মুসলিম ৩২/৩৯, হাঃ ১৭৯৭, আহমাদ ১৮৮২৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا زهير، حدثنا الاسود بن قيس، قال سمعت جندب بن سفيان رضى الله عنه قال اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يقم ليلتين او ثلاثا، فجاءت امراة فقالت يا محمد اني لارجو ان يكون شيطانك قد تركك، لم اره قربك منذ ليلتين او ثلاثا. فانزل الله عز وجل {والضحى * والليل اذا سجى * ما ودعك ربك وما قلى}
تُقْرَأُ بِالتَّشْدِيْدِ وَالتَّخْفِيْفِ بِمَعْنًى وَاحِدٍ مَا تَرَكَكَ رَبُّكَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا تَرَكَكَ وَمَا أَبْغَضَكَ. وَدَّعَكَ শব্দটির দাল অক্ষরটিতে তাশদীদ ও তাশদীদ ছাড়া উভয়ই পড়া যায়। উভয়টির একইঃ ‘‘তোমাকে রব পরিত্যাগ করেননি।’’ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, তোমাকে তোমার রব ত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি মনোক্ষুণ্ণও হননি। ৪৯৫১. জুনদুব বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা এসে বলল, আমি দেখছি, আপনার সঙ্গী আপনার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতে দেরী করে ফেলছে। তখনই অবতীর্ণ হলঃ তোমার প্রতিপালক তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি মনোক্ষুণ্ণও হননি। [১১২৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، غندر حدثنا شعبة، عن الاسود بن قيس، قال سمعت جندبا البجلي، قالت امراة يا رسول الله ما ارى صاحبك الا ابطاك. فنزلت {ما ودعك ربك وما قلى}
حدثنا ابراهيم بن المنذر، حدثنا معن، قال حدثني مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " {يوم يقوم الناس لرب العالمين} حتى يغيب احدهم في رشحه الى انصاف اذنيه
حدثنا عبدان، قال اخبرني ابي، عن شعبة، عن ابي اسحاق، عن البراء رضى الله عنه قال اول من قدم علينا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مصعب بن عمير وابن ام مكتوم فجعلا يقرياننا القران، ثم جاء عمار وبلال وسعد ثم جاء عمر بن الخطاب في عشرين ثم جاء النبي صلى الله عليه وسلم فما رايت اهل المدينة فرحوا بشىء فرحهم به، حتى رايت الولايد والصبيان يقولون هذا رسول الله قد جاء. فما جاء حتى قرات {سبح اسم ربك الاعلى} في سور مثلها
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا هشام، عن ابيه، انه اخبره عبد الله بن زمعة، انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يخطب وذكر الناقة والذي عقر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " {اذ انبعث اشقاها} انبعث لها رجل عزيز عارم، منيع في رهطه، مثل ابي زمعة ". وذكر النساء فقال " يعمد احدكم يجلد امراته جلد العبد، فلعله يضاجعها من اخر يومه ". ثم وعظهم في ضحكهم من الضرطة وقال " لم يضحك احدكم مما يفعل ". وقال ابو معاوية حدثنا هشام عن ابيه عن عبد الله بن زمعة قال النبي صلى الله عليه وسلم " مثل ابي زمعة عم الزبير بن العوام