Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
سُوْرَةُ أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ সূরাহ (৯৪) : আলাম নাশরাহ্ লাকা (আল-ইনশিরাহ্) وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وِزْرَكَ)فِي الْجَاهِلِيَّةِ (أَنْقَضَ)أَثْقَلَ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ أَيْ (مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا) آخَرَ كَقَوْلِهِ (هَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَآ إِلَّآ إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ) وَلَنْ يَغْلِبَ عُسْرٌ يُسْرَيْنِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (فَانْصَبْ) فِيْ حَاجَتِكَ إِلَى رَبِّكَ وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ) شَرَحَ اللهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وِزْرَكَ জাহিলী যুগের বোঝা। أَنْقَضَ মানে অতিশয় কষ্টদায়ক। مَعَالْعُسْرِيُسْرًا এর ব্যাখ্যায় ইবনু উয়াইয়াহ (রহ.) বলেন, এ কঠিন অবস্থার পরই আরেকটি সহজঅবস্থা আছে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, هَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَآ إِلَّآ إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ তোমরা আমাদের দু’টি কল্যাণের একটির অপেক্ষা করছ। একটি কঠিন অবস্থা দু’টি সহজ অবস্থাকে কখনো পরাভূত করতে পারবে না। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, فَانْصَبْ অর্থ-প্রয়োজন পূরণের জন্য তুমি তোমার রবের কাছে কাকুতি-মিনতি করে প্রার্থনা কর। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ রাববুল আলামীন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। (95) سُوْرَةُ وَالتِّيْنِ সূরাহ (৯৫) : ওয়াত্-তীন وَقَالَ مُجَاهِدٌ هُوَ (التِّيْنُ وَالزَّيْتُوْنُ) الَّذِيْ يَأْكُلُ النَّاسُ يُقَالُ (فَمَا يُكَذِّبُكَ) فَمَا الَّذِيْ يُكَذِّبُكَ بِأَنَّ النَّاسَ يُدَانُوْنَ بِأَعْمَالِهِمْ كَأَنَّهُ قَالَ وَمَنْ يَقْدِرُ عَلَى تَكْذِيْبِكَ بِالثَّوَابِ وَالْعِقَابِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, আয়াতের মধ্যে التِّيْنُ وَالزَّيْتُوْنُ বলে ঐ তীন ও যায়তূনকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষ খেয়ে থাকে। فَمَا يُكَذِّبُكَ মানুষকে তাদের ‘আমলের প্রতিদান দেয়া হবে এ ব্যাপারে কোন জিনিস তোমাকে অবিশ্বাসী করে। অর্থাৎ শাস্তি কিংবা পুরস্কার দানের ব্যাপারে তোমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার ক্ষমতা রাখে কে? ৪৯৫২. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকাকালীন ‘ইশার সালাতের দুই রাকআতের কোন এক রাকআতে ‘সূরাহ তীন’ পাঠ করেছেন। [৭৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حجاج بن منهال، حدثنا شعبة، قال اخبرني عدي، قال سمعت البراء رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم كان في سفر فقرا في العشاء في احدى الركعتين بالتين والزيتون. {تقويم} الخلق
سُوْرَةُ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ সূরাহ (৯৬) : ইক্বরা বিস্মি রব্বিকাল লাযী খলাক্ব (আলাক্) وقال قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَتِيْقٍ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ اكْتُبْ فِي الْمُصْحَفِ فِيْ أَوَّلِ الإِمَامِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ وَاجْعَلْ بَيْنَ السُّوْرَتَيْنِ خَطًّا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (نَادِيَهُ) عَشِيْرَتَهُ (الزَّبَانِيَةَ) الْمَلَائِكَةَ وَقَالَ مَعْمَرٌ (الرُّجْعٰى) الْمَرْجِعُ (لَنَسْفَعَنْ) قَالَ لَنَأْخُذَنْ وَلَنَسْفَعَنْ بِالنُّوْنِ وَهِيَ الْخَفِيْفَةُ سَفَعْتُ بِيَدِهِ أَخَذْتُ. কুতাইবাহ (রহ.).....হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, কুরআন মাজীদের শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ লিখ এবং দু’ সূরার মধ্যে একটি রেখা টেনে দাও। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, نَادِيَهُ গোত্র। الزَّبَانِيَةَ ফেরেশতা। মা‘মার (রা বলেন, الرُّجْعٰى ফিরে আসার জায়গা। لَنَسْفَعَنْ আমি অবশ্যই পাকড়াও করব। لَنَسْفَعَنْ শব্দটি نون خفيفة এর সঙ্গে। سَفَعْتُ بِيَدِهِ আমি তাকে হাত দ্বারা ধরলাম। ৪৯৫৩. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘুমের অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী শুরু করা হয়েছিল। ঐ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা সকালের আলোর মতই সুস্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তার কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার-পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত তাহানন্নুছ করতেন। তাহান্নুছ মানে বিশেষ পদ্ধতিতে ‘ইবাদাত করা। এ জন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে আবার ওরকম কিছু কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। শেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার কাছে সত্যবাণী এসে পৌঁছল। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন, পড়ুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি পড়তে পারি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি আমাকে ধরে খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এতে আমি প্রাণান্তকর কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এতেও আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি পড়তে পারি না। এরপর তিনি আমাকে ধরে তৃতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এবারও আমি খুব কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে যা সে জানত না। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ সময় তাঁর কাঁধের গোশত ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। খাদীজার কাছে পৌঁছেই তিনি বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তখন সকলেই তাঁকে বস্ত্রাবৃত করে দিল। অবশেষে তার ভীতিভাব দূর হলে তিনি খাদীজাকে বললেন, খাদীজা আমার কী হল? আমি আমার নিজের সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। এরপর তিনি তাঁকে সব কথা খুলে বললেন। এ কথা শুনে খাদীজাহ (রাঃ) বললেন, কখনো নয়। আপনি সুসংবাদ নিন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ্ কখনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেন, সত্য কথা বলেন, সহায়হীন লোকদের বোঝা লাঘব করে দেন, নিঃস্ব লোকদেরকে উপার্জন করে দেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে পতিত লোকদেরকে সাহায্য করে থাকে। তারপর খাদীজাহ তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাত ভাআরাকা ইবনু নাওফালের কাছে গেলেন। তিনি জাহিলী যুগে খৃস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় কিতাব লিখতেন। আর তিনি আল্লাহর ইচ্ছা মাফিক আরবী ভাষায় ইঞ্জিল কিতাব অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি খুব বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আমার চাচাত ভাই। আপনার ভাতিজা কী বলেন একটু শুনুন। তখন ওয়ারাকা বললেন, ভাতিজা, কী হয়েছে তোমার? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন, সব কিছুর ব্যাপারে তাকে জানালেন। সব কথা শুনে ওয়ারাকা বললেন, ইনিই সেই ফেরেশতা, যাকে মূসার কাছে পাঠানো হয়েছিল। আহ! সে সময় আমি যদি যুবক হতাম। আহ্! সে সময় আমি যদি জীবিত থাকতাম। তারপর তিনি একটি গুরুতর বিষয় উল্লেখ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যিই তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, তারা তোমাকে বের করে দেবে। তুমি যে দাওয়াত নিয়ে এসেছ, এ দাওয়াত যে-ই নিয়ে এসেছে তাকেই কষ্ট দেয়া হয়েছে। তোমার নবুয়তকালে আমি জীবিত থাকলে অবশ্যই আমি তোমাকে প্রবল ও সর্বতোভাবে সাহায্য করতাম। এরপর ওয়ারাকা অধিক দিন বাঁচেননি; বরং অল্পদিনের মধ্যেই তিনি মারা গেলেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য ওয়াহী বন্ধ হয়ে গেল। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লেন। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(অন্য এক সনদে) মুহাম্মাদ ইবনু শিহাব (রহ.) আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-এর মাধ্যমে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহী বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, এক সময় আমি পথ চলছিলাম। হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি মাথা তুলে তাকালাম। দেখলাম, যে ফেরেশতা আমার কাছে হেরা গুহায় আসতেন, তিনিই আসমান ও যমীনের মাঝে বিদ্যমান কুরসীতে বসে আছেন। এতে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তাই বাড়িতে ফিরে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। সুতরাং সকলেই আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, ‘‘হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! উঠুন, সতর্ক করুন, আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন’’- (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/১-৫)। আবূ সালামাহ (রাঃ) বলেন, আরবরা জাহিলী যুগে যে সব মূর্তির পূজা করত الرُّجْزَ বলে ঐ সব মূর্তিকেই বোঝানো হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে ওয়াহীর ধারা চলতে থাকে। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قال محمد بن شهاب فاخبرني ابو سلمة، ان جابر بن عبد الله الانصاري رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحدث عن فترة الوحى قال في حديثه " بينا انا امشي سمعت صوتا من السماء فرفعت بصري، فاذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي بين السماء والارض ففرقت منه فرجعت فقلت زملوني زملوني ". فدثروه فانزل الله تعالى {يا ايها المدثر * قم فانذر * وربك فكبر * وثيابك فطهر * والرجز فاهجر}. قال ابو سلمة وهى الاوثان التي كان اهل الجاهلية يعبدون. قال ثم تتابع الوحى
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী আরম্ভ হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু’’- (সূরাহ আলাক ৯৬/১-৫)। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، ان عايشة رضى الله عنها قالت اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم الرويا الصالحة فجاءه الملك فقال {اقرا باسم ربك الذي خلق * خلق الانسان من علق * اقرا وربك الاكرم}
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওয়াহীর শুরু হয়। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, ‘‘পাঠ কর, তোমার প্রতিপালকের নামে , যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালকমহা মহিমান্বিত’’- (সূরাহ আলাক ৯৬/১-৫)। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، ح وقال الليث حدثني عقيل، قال محمد اخبرني عروة، عن عايشة رضى الله عنها. اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم الرويا الصادقة جاءه الملك فقال {اقرا باسم ربك الذي خلق * خلق الانسان من علق * اقرا وربك الاكرم * الذي علم بالقلم}
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। এরপর রাবী সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। [৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال سمعت عروة، قالت عايشة رضى الله عنها فرجع النبي صلى الله عليه وسلم الى خديجة فقال " زملوني زملوني ". فذكر الحديث
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহ্ল বলেছিল, আমি যদি মুহাম্মাদকে কা‘বার পাশে সালাত আদায় করতে দেখি তাহলে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পদদলিত করব। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি বললেন, সে যদি তা করে তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা তাকে পাকড়াও করবে। ‘উবাইদুল্লাহর মাধ্যমে ‘আবদুল থেকে আমর ইবনু খালিদ এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن عبد الكريم الجزري، عن عكرمة، قال ابن عباس قال ابو جهل لين رايت محمدا يصلي عند الكعبة لاطان على عنقه. فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو فعله لاخذته الملايكة ". تابعه عمرو بن خالد عن عبيد الله عن عبد الكريم
سُوْرَةُ القدر সূরাহ (৯৭) : ক্বদর يُقَالُ الْمَطْلَعُ هُوَ الطُّلُوْعُ وَالْمَطْلِعُ الْمَوْضِعُ الَّذِيْ يُطْلَعُ مِنْهُ (أَنْزَلْنَاهُ) الْهَاءُ كِنَايَةٌ عَنِ الْقُرْآنِ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ خَرَجَ مَخْرَجَ الْجَمِيْعِ وَالْمُنْزِلُ هُوَ اللهُ وَالْعَرَبُ تُوَكِّدُ فِعْلَ الْوَاحِدِ فَتَجْعَلُهُ بِلَفْظِ الْجَمِيْعِ لِيَكُوْنَ أَثْبَتَ وَأَوْكَدَ. الْمَطْلَعُ বলা হয় উদয় হওয়াকে, পক্ষান্তরে, الْمَطْلِعُ মানে উদয়স্থল। أَنْزَلْنَاهُ এর ه দ্বারা আল-কুরআনের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এখানে বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও একবচনের গ্রহণ করা হয়েছে। কেননা, কুরআন অবতীর্ণকারী হলেন আল্লাহ্ তা‘আলা। বস্তুত কোন বস্তুর গুরুত্ব প্রকাশ বা জোরালো ভাব প্রকামের জন্য আরবরা একবচনের স্থলে বহুবচনে ব্যবহার করে থাকে। (98) سُوْرَةُ البينة [لَمْ يَكُنْ] সূরাহ (৯৮) : বাইয়্যিনাহ مُنْفَكِّيْنَ زَائِلِيْنَ قَيِّمَةٌ الْقَائِمَةُ دِيْنُ الْقَيِّمَةِ أَضَافَ الدِّيْنَ إِلَى الْمُؤَنَّثِ مُنْفَكِّيْنَবিচলিত ও পদস্খলিত। قَيِّمَةٌ সঠিক। دِيْنُالْقَيِّمَةِ এর মাঝে دِيْنُ শব্দটিকে স্ত্রী লিঙ্গের দিকে اضافت করা হয়েছে। ৪৯৫৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেছিলেন, তোমাকে لَمْ يَكُنِالَّذِيْنَ كَفَرُوْا (সূরা) পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। [৩৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، سمعت قتادة، عن انس بن مالك رضى الله عنه قال النبي صلى الله عليه وسلم لابى. " ان الله امرني ان اقرا عليك {لم يكن الذين كفروا} ". قال وسماني قال " نعم ". فبكى
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমাকে কুরআন পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে শুরু করলেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। [৩৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حسان بن حسان، حدثنا همام، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لابى " ان الله امرني ان اقرا عليك القران ". قال ابى الله سماني لك قال " الله سماك لي ". فجعل ابى يبكي. قال قتادة فانبيت انه قرا عليه {لم يكن الذين كفروا من اهل الكتاب}
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমাকে কুরআন পাঠ করে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন,হ্যাঁ। তখন উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বিস্মিত হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, বিশ্বজাহাজেন প্রতিপালকের কাছে কি আমার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। এ কথা শুনে তা দু’চোখ অশ্রুতে ভরে উঠল। [৩৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن ابي داود ابو جعفر المنادي، حدثنا روح، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن انس بن مالك، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال لابى بن كعب " ان الله امرني ان اقريك القران ". قال الله سماني لك قال " نعم ". قال وقد ذكرت عند رب العالمين قال " نعم ". فذرفت عيناه
سُوْرَةُ إِذَا زُلْزِلَتْ الْأَرْضُ (زِلْزَالَهَا) সূরাহ (৯৯) : ইযা যুলযিলাতিল আরযু (যিলযাল) يُقَالُ (أَوْحٰى لَهَا) أَوْحَى إِلَيْهَا وَوَحَى لَهَا وَوَحَى إِلَيْهَا وَاحِدٌ. বলা হয়, وَوَحَى لَهَا ও وَوَحَى إِلَيْهَا শব্দ দু’টির অর্থ একই। ৪৯৬২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের ঘোড়া থাকে। এক শ্রেণীর মানুষের জন্য তা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ হয়, এক শ্রেণীর মানুষের জন্য তা (গুনাহ্ থেকে) আবরণস্বরূপ এবং এক শ্রেণীর মানুষের প্রতি তা হয় গুনাহর কারণ। যার জন্য তা সওয়াবের কারণ হয়, তারা সেসব লোক, যারা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য তা প্রস্তুত করে রাখে এবং কোন চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে লম্বা দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখে। দড়ির আওতায় চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে সে যা কিছু খায় তা ঐ ব্যক্তির জন্য নেকী হিসাবে গণ্য হয়। যদি ঘোড়াটি দড়ি ছিঁড়ে ফেলে এবং নিজ স্থান পার হয়ে এক/দু’ উঁচু স্থানে চলে যায়, তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও ঐ ব্যক্তি সওয়াব লাভ করবে। আর ঘোড়াটি যদি কোন নহরের কিনারায় গিয়ে নিজে নিজেই পানি পান করে নেয়-মালিকের সেখান থেকে পানি পান করানোর ইচ্ছা না থাকলেও সে ব্যক্তি এর বিনিময়ে সওয়াবের অধিকারী হবে। এ ঘোড়া এ ব্যক্তির জন্য হল সওয়াবের কারণ; আরেক শ্রেণীর লোক যাদের জন্য এ ঘোড়া (গুনাহ্ হতে) আড়াল, তারা ঐ ব্যক্তি যারা মানুষের থেকে মুখাপেক্ষী না থাকার জন্য এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তা পালন করে থাকে। কিন্তু তাতে আল্লাহর যে হক রয়েছেতা দিয়ে ভুলে যায় না। এ শ্রেণীর মানুষের জন্য এ ঘোড়া হচ্ছে পর্দা। আরেক শ্রেণীর ঘোড়ার মালিক যারা গর্ব দেখানোর মনোভাব ও দুশমনির উদ্দেশে ঘোড়া রাখে। এ ঘোড়া হচ্ছে গুনাহর কারণ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, একক ও ব্যাপক অর্থবোধক এ একটি মাত্র আয়াত ব্যতীত এ বিষয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার প্রতি আর কোন আয়াত অবতীর্ণ করেননি। আয়াতটি এইঃ ‘‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে এবং অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখবে’’- (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله، حدثنا مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الخيل لثلاثة، لرجل اجر، ولرجل ستر، وعلى رجل وزر، فاما الذي له اجر فرجل ربطها في سبيل الله فاطال لها في مرج او روضة، فما اصابت في طيلها ذلك في المرج والروضة، كان له حسنات، ولو انها قطعت طيلها فاستنت شرفا او شرفين كانت اثارها وارواثها حسنات له، ولو انها مرت بنهر فشربت منه ولم يرد ان يسقي به كان ذلك حسنات له فهى لذلك الرجل اجر، ورجل ربطها تغنيا وتعففا ولم ينس حق الله في رقابها ولا ظهورها فهى له ستر، ورجل ربطها فخرا ورياء ونواء فهى على ذلك وزر. فسيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحمر. قال " ما انزل الله على فيها الا هذه الاية الفاذة الجامعة {فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره * ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره}
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ বিষয়ে একক ও ব্যাপক অর্থবোধক এই আয়াতটি ছাড়া আমার প্রতি আর কোন আয়াতই অবতীর্ণ করা হয়নি। আয়াতটি হচ্ছে এইঃ ‘‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখবে’’- (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال اخبرني مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، رضى الله عنه سيل النبي صلى الله عليه وسلم عن الحمر فقال " لم ينزل على فيها شىء الا هذه الاية الجامعة الفاذة {فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره * ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره}
سُوْرَةُ وَالْعَادِيَاتِ সূরাহ (১০০) : ওয়াল‘আদিয়াত وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْكَنُوْدُ) الْكَفُوْرُ يُقَالُ (فَأَثَرْنَ بِهٰنَقْعًا) رَفَعْنَا بِهِ غُبَارًا (لِحُبِّ الْخَيْرِ) مِنْ أَجْلِ حُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيْدٌ لَبَخِيْلٌ وَيُقَالُ لِلْبَخِيْلِ شَدِيْدٌ (حُصِّلَ) مُيِّزَ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْكَنُوْدُ অকৃতজ্ঞ। فَأَثَرْنَ بِهٰنَقْعًا -সে সময় ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে। لِحُبِّ الْخَيْرِধন-সম্পদের প্রতি ভালবাসার কারণে। لَشَدِيْدٌ মানে অবশ্যই কৃপণ। কৃপণকে আরবী ভাষায় شَدِيْدٌ বলা হয়। حُصِّلَ আলাদা করা হবে। (101) سُوْرَةُ الْقَارِعَةِ সূরাহ (১০১) : আল-ক্বারি‘আহ (كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوْثِ) كَغَوْغَاءِ الْجَرَادِ يَرْكَبُ بَعْضُهُ بَعْضًا كَذَلِكَ النَّاسُ يَجُوْلُ بَعْضُهُمْ فِيْ بَعْضٍ كَالْعِهْنِ كَأَلْوَانِ الْعِهْنِ وَقَرَأَ عَبْدُ اللهِ كَالصُّوْفِ. كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوْثِ মানে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত। পতঙ্গ যেমন একটি আরেকটির ওপর পড়ে, ঠিক তেমনিভাবে একজন মানুষ আরেকজনের ওপর পড়বে। كَالْعِهْنِ নানা রঙের তুলার ন্যায়। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) كَالصُّوْفِ পড়েছেন। (102) سُوْرَةُ أَلْهَاكُمْ সূরাহ (১০২) : আততাকাসুর وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (التَّكَاثُرُ) مِنَ الْأَمْوَالِ وَالأَوْلَادِ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, التَّكَاثُرُ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির আধিক্য। (103) سُوْرَةُ وَالْعَصْرِ সূরাহ (১০৩) : আল-‘আসর وَقَالَ يَحْيَى الْعَصْرُ الدَّهْرُ أَقْسَمَ بِهِ. বলা হয় الْعَصْرُ কাল বা সময়। আল্লাহ্ তা‘আলা এখানে কালের শপথ করেছেন। (104) سُوْرَةُ هُمَزَةٍ সূরাহ (১০৪) : আল-হুমাযাহ (الْحُطَمَةُ) اسْمُ النَّارِ مِثْلُ سَقَرَ وَ لَظَى. الْحُطَمَةُ ‘লাযা’ ও ‘সাকার’ যেমন জাহান্নামের নাম, তেমনি ‘হুতামা’ও একটি জাহান্নামের নাম। (105) سُوْرَةُ أَلَمْ تَرَ সূরাহ (১০৫) : আলামতারা (ফীল) قَالَ مُجَاهِدٌ (أَلَمْ تَرَ) أَلَمْ تَعْلَمْ قَالَ مُجَاهِدٌ (أَبَابِيْلَ) مُتَتَابِعَةً مُجْتَمِعَةً وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (مِنْ سِجِّيْلٍ) هِيَ سَنْكِ وَكِلْ. মুজাহিদ বলেন, أَلَمْ تَرَ অর্থাৎ তোমরা কি জাননা?, মুজাহিদ বলেন, أَبَابِيْلَ ঝাঁকে ঝাঁকে ও একত্রিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, مِنْ سِجِّيْلٍ শব্দটি سَنْكِ ও كِلْ থেকে আরবীকৃত আরবী শব্দ (এর অর্থ হল পাথর ও মাটির ঢিল)। (106) سُوْرَةُ لِإِيْلَافِ قُرَيْشٍ সূরাহ (১০৬) : লি ই-লাফি (কুরাইশ) وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لِإِيْلَافِ) أَلِفُوْا ذَلِكَ فَلَا يَشُقُّ عَلَيْهِمْ فِي الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ وَآمَنَهُمْ مِنْ كُلِّ عَدُوِّهِمْ فِيْ حَرَمِهِمْ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ (لِإِيْلَافِ) لِنِعْمَتِيْ عَلَى قُرَيْشٍ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِإِيْلَافِ মানে তারা এ বিষয়ে অভ্যস্ত ছিল। ফলে, শীত ও গ্রীষ্মে তা তাদের জন্য কষ্টকর হয় না। وَاٰمَنَهُمْ আল্লাহ্ তা‘আলা হারামের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় শত্রু থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। ইবনু উআয়না (রহ.) বলেন, لِإِيْلَافِ কুরাইশদের প্রতি আমার নি‘মাতের কারণে। (107) سُوْرَةُ الماعون সূরাহ (১০৭) : আল-মা‘উন وقال مُجَاهِدٌ (يَدُعٌ) يَدْفَعُ عنْ حقٍّه، ويُقالُ : هُوَ مِنْ دَعَعْتُ، يُدَعُّوْنَ يُدْفَعُوْنَ. (ساهُوْنَ) لاهُوْنَ. والماعُوْنُ : المَعْرُوْف كلهُ. وقال بَعْضُ العَرَابِ : الماعُوْنُ الماءُ، وقال عِكْرِمَةُ : أعْلَاها الزّّكاةُ المَفْرُوْضَةُ وأدْناها عارِيَّةُ المَتاعِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يَدُعٌ সে তাকে হাক না দিয়ে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। বলা হয় এ শব্দটি শব্দ থেকে উদ্ভূত। يُدَعُّوْنَ তাদেরকে বাধা দেয়া হয়। ساهُوْنَ উদাসীন। الماعُوْن সর্বপ্রকার কল্যাণকর কাজ। কোন কোন আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞ বলেন, الماعُوْنُ পানি। ‘ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, মাউনের অন্তর্ভুক্ত সর্বোচ্চ স্তরের বিষয় হচ্ছে যাকাত প্রদান করা এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ের বিষয় হচ্ছে গৃহস্তালির প্রয়োজনীয় ছোট খাট জিনিস ধার দেয়া। (108) سورَةُ الكوثر সূরাহ (১০৮) : আল-কাউসার وقال ابنُ عَبَّاسٍ (شانِئَكَ) : عَدّوَّكَ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, شانِئَكَ তোমার শত্রু। ৪৯৬৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকাশের দিকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মি‘রাজ হলে তিনি বলেন, আমি একটি নহরের ধারে পৌঁছলাম, যার উভয় তীরে ফাঁপা মোতির তৈরি গম্বুজসমূহ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিব্রীল! এটা কী? তিনি বললেন, এটাই (হাওযে) কাউছার। [৩৫৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ ‘উবাইদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী إِنَّآ أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ-এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, কাউছার একটি নহর যা তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রদান করা হয়েছে। এর দু’টো পাড় রয়েছে। উভয় পাড়ে বিছানো আছে ফাঁপা মোতি। এর পাত্রের সংখ্যা তারকারাজির মত। (অন্য সানাদে) যাকারিয়া (রহ.) .....আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا خالد بن يزيد الكاهلي، حدثنا اسراييل، عن ابي اسحاق، عن ابي عبيدة، عن عايشة رضى الله عنها قال سالتها عن قوله تعالى {انا اعطيناك الكوثر} قالت نهر اعطيه نبيكم صلى الله عليه وسلم شاطياه عليه در مجوف انيته كعدد النجوم. رواه زكرياء وابو الاحوص ومطرف عن ابي اسحاق
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কাউসার সম্পর্কে বলেছেন যে, এটা এমন একটি কল্যাণ যা আল্লাহ্ তাঁকে দান করেছেন। বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহ.) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে বললাম, লোকেরা ধারণা করে যে, কাউসার হল জান্নাতের একটি নহর। এ কথা শুনে সা‘ঈদ (রহ.) বললেন, জান্নাতের নহরটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেয়া কল্যাণের একটি। [৬৫৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا هشيم، حدثنا ابو بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما انه قال في الكوثر هو الخير الذي اعطاه الله اياه. قال ابو بشر قلت لسعيد بن جبير فان الناس يزعمون انه نهر في الجنة. فقال سعيد النهر الذي في الجنة من الخير الذي اعطاه الله اياه
سُوْرَةُ الْكَافِرُوْنَ সূরাহ (১০৯) : কাফিরূন يُقَالُ (لَكُمْ دِيْنُكُمْ) الْكُفْرُ (وَلِيَ دِيْنِ) الإِسْلَامُ وَلَمْ يَقُلْ دِيْنِيْ لِأَنَّ الْآيَاتِ بِالنُّوْنِ فَحُذِفَتْ الْيَاءُ كَمَا قَالَ يَهْدِيْنِ وَ يَشْفِيْنِ وَقَالَ غَيْرُهُ (لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ) الآنَ وَلَا أُجِيْبُكُمْ فِيْمَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِيْ (وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُوْنَ مَا أَعْبُدُ) وَهُمْ الَّذِيْنَ قَالَ (وَلَيَزِيْدَنَّ كَثِيْرًا مِّنْهُمْ مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَّكُفْرًا). বলা হয় لَكُمْ دِيْنُكُمْ তোমাদের দ্বীন তোমাদের, অর্থাৎ কুফর। আর وَلِيَ دِيْنِ আমাদের দ্বীন ইসলাম। এখানে دِيْنِيْ বলা হয়নি। পূর্বের আয়াতগুলো نঅক্ষরের উপর যেহেতু শেষ করা হয়েছে, তাই পূর্বের আয়াতগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য يا অক্ষরটিকে মুছে ফেলে এ আয়াতটিকেও ن অক্ষরের ওপর সমাপ্ত করা হয়েছে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ্ তা‘আলা يَهْدِيْنِ এবং يَشْفِيْنِ ব্যবহার করেছেন। (মুজাহিদ ব্যতীত) অপরাপর মুফাসসির বলেছেন, لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ -এর মর্মার্থ হচ্ছেঃ তোমরা বর্তমানে যার ‘ইবাদাত কর, আমি তার ‘ইবাদাত করি না এবং অবশিষ্ট জীবনেও আমি তোমাদের এ আহবানে সাড়া দেব না। وَلَآ أَنْتُمْ عَابِدُوْنَ مَآ أَعْبُدُ এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও- ‘যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি।’ তারা ঐ সমস্ত লোক, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করেছেনঃ وَلَيَزِيْدَنَّ كَثِيْرًا مِّنْهُمْ مَّآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَّكُفْرًا ‘‘তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বাড়িয়ে দিয়েছে।’’ (সূরাহ (৫) : আল-মায়িদাহঃ ৬৪) (110) سُوْرَةُ الفتح সূরাহ (১১০) : নাসর ৪৯৬৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ সূরাহ অবতীর্ণ হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকু‘ ও সিজদাতে) নিম্নোক্ত দু‘আটি পাঠ ব্যতীত (রুকু‘ ও সিজদাতে অন্য কোন দু‘আ দ্বারা) সালাত আদায় করেন নি। [১] (আর তা হচ্ছে): سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ‘‘হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্ধারিত। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’’ [৭৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن بن الربيع، حدثنا ابو الاحوص، عن الاعمش، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت ما صلى النبي صلى الله عليه وسلم صلاة بعد ان نزلت عليه {اذا جاء نصر الله والفتح} الا يقول فيها " سبحانك ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ নাস্র অবতীর্ণ হবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ (হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব, সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট। তুমি আমাকে করে দাও।) দু‘আটি রুকূ-সিজদার মধ্যে অধিক অধিক পাঠ করতেন। [৭৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكثر ان يقول في ركوعه وسجوده " سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي ". يتاول القران
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) লোকদেরকে আল্লাহর বাণী إِذَاجَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ -এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন, এ আয়াতে শহর এবং প্রাসাদসমূহের বিজয় গাঁথা বর্ণিত হয়েছে। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! তুমি কী বল? তিনি বললেন, এ আয়াতে ওফাত অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টান্ত এবং তাঁর শান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। [৩৬২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن ابي شيبة، حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن حبيب بن ابي ثابت، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، ان عمر رضى الله عنه سالهم عن قوله تعالى {اذا جاء نصر الله والفتح} قالوا فتح المداين والقصور قال ما تقول يا ابن عباس قال اجل او مثل ضرب لمحمد صلى الله عليه وسلم نعيت له نفسه
تَوَّابٌ عَلَى الْعِبَادِ وَالتَّوَّابُ مِنَ النَّاسِ التَّائِبُ مِنْ الذَّنْبِ. تَوَّابٌ বান্দাদের তওবা কবূলকারী। التَّوَّابُ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে গুনাহ থেকে তওবা করে। ৪৯৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী প্রবীণ সাহাবীদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। এ কারণে কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিল। একজন বললেন, আপনি তাকে আমাদের সঙ্গে কেন শামিল করছেন। আমাদের তো তার মত সন্তানই রয়েছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এর কারণ তো আপনারাও অবগত আছেন। সুতরাং একদিন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁদের সঙ্গে বসালেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম, আজকে তিনি আমাকে ডেকেছেন এজন্য যে, তিনি আমার প্রজ্ঞা তাঁদেরকে দেখাবেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ- আল্লাহর বাণীঃ إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আপনারা কী বলেন, তখন তাঁদের কেউ বললেন, আমরা সাহায্য প্রাপ্ত হলে এবং আমরা বিজয় লাভ করলে এ আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। আবার কেউ কিছু না বলে চুপ করে থাকলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! তুমিও কি তাই বল? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কী চলতে চাও? উত্তরে আমি বললাম, এ আয়াতে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইন্তিকালের সংবাদ জানিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসলে’ এটিই হবে তোমার মৃত্যুর নিদর্শন। فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّه كَانَ تَوَّابًا ‘‘তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো তওবা কবূলকারী।’’ এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলছ, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আমিও তা-ই জানি। [৩৬২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال كان عمر يدخلني مع اشياخ بدر، فكان بعضهم وجد في نفسه فقال لم تدخل هذا معنا ولنا ابناء مثله فقال عمر انه من حيث علمتم. فدعا ذات يوم فادخله معهم فما رييت انه دعاني يوميذ الا ليريهم. قال ما تقولون في قول الله تعالى {اذا جاء نصر الله والفتح} فقال بعضهم امرنا نحمد الله ونستغفره، اذا نصرنا وفتح علينا. وسكت بعضهم فلم يقل شييا فقال لي اكذاك تقول يا ابن عباس فقلت لا. قال فما تقول قلت هو اجل رسول الله صلى الله عليه وسلم اعلمه له، قال {اذا جاء نصر الله والفتح} وذلك علامة اجلك {فسبح بحمد ربك واستغفره انه كان توابا}. فقال عمر ما اعلم منها الا ما تقول
سُوْرَةُ المسد সূরাহ (১১১) : আল-মাসাদ (লাহাব) (وَتَبَّ)َّ خَسِرَ تَبَاتٌ خُسْرَانٌ تَتْبِيْبٌ تَدْمِيْرٌ. وَتَبَّ ক্ষতি, تَبَاتٌ ধ্বংস। تَتْبِيْبٌ বিধ্বস্ত করা। ৪৯৭১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ ‘‘তুমি তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও’’ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সাফা পর্বতে গিয়ে উঠলেন এবং يَا صَبَاحَاهْ (সকাল বেলার বিপদ সাবধান) বলে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? তারপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, একটি অশ্বারোহী সেনাবাহিনী এ পর্বতের পেছনে তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ ‘‘আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করছি।’’ (সূরাহ (৩৪) : সাবা ৪৬) এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ? অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তারপর অবতীর্ণ হলঃ تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ ‘ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু’ হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।’’ আমাশ (রহ.) আয়াতটি تَبَّ শব্দের পূর্বে وَقَدْ সংযোগ করে وَقَدْتَبَّ পড়েছেন। [১৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يوسف بن موسى، حدثنا ابو اسامة، حدثنا الاعمش، حدثنا عمرو بن مرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال لما نزلت {وانذر عشيرتك الاقربين} ورهطك منهم المخلصين، خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى صعد الصفا فهتف " يا صباحاه ". فقالوا من هذا، فاجتمعوا اليه. فقال " ارايتم ان اخبرتكم ان خيلا تخرج من سفح هذا الجبل اكنتم مصدقي ". قالوا ما جربنا عليك كذبا. قال " فاني نذير لكم بين يدى عذاب شديد ". قال ابو لهب تبا لك ما جمعتنا الا لهذا ثم قام فنزلت {تبت يدا ابي لهب وتب} وقد تب هكذا قراها الاعمش يوميذ
حدثنا يحيى، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، حدثني سعيد بن مروان، حدثنا محمد بن عبد العزيز بن ابي رزمة، اخبرنا ابو صالح، سلمويه قال حدثني عبد الله، عن يونس بن يزيد، قال اخبرني ابن شهاب، ان عروة بن الزبير، اخبره ان عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت كان اول ما بدي به رسول الله صلى الله عليه وسلم الرويا الصادقة في النوم، فكان لا يرى رويا الا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب اليه الخلاء فكان يلحق بغار حراء فيتحنث فيه قال والتحنث التعبد الليالي ذوات العدد قبل ان يرجع الى اهله، ويتزود لذلك، ثم يرجع الى خديجة فيتزود بمثلها، حتى فجيه الحق وهو في غار حراء فجاءه الملك فقال اقرا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما انا بقاري ". قال " فاخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني. فقال اقرا. قلت ما انا بقاري. فاخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد، ثم ارسلني. فقال اقرا. قلت ما انا بقاري. فاخذني فغطني الثالثة حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني. فقال {اقرا باسم ربك الذي خلق * خلق الانسان من علق * اقرا وربك الاكرم * الذي علم بالقلم} ". الايات الى قوله {علم الانسان ما لم يعلم} فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ترجف بوادره حتى دخل على خديجة فقال " زملوني زملوني ". فزملوه حتى ذهب عنه الروع قال لخديجة " اى خديجة ما لي، لقد خشيت على نفسي ". فاخبرها الخبر. قالت خديجة كلا ابشر، فوالله لا يخزيك الله ابدا، فوالله انك لتصل الرحم، وتصدق الحديث، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوايب الحق. فانطلقت به خديجة حتى اتت به ورقة بن نوفل وهو ابن عم خديجة اخي ابيها، وكان امرا تنصر في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العربي ويكتب من الانجيل بالعربية ما شاء الله ان يكتب، وكان شيخا كبيرا قد عمي فقالت خديجة يا ابن عم اسمع من ابن اخيك. قال ورقة يا ابن اخي ماذا ترى فاخبره النبي صلى الله عليه وسلم خبر ما راى. فقال ورقة هذا الناموس الذي انزل على موسى، ليتني فيها جذعا، ليتني اكون حيا. ذكر حرفا. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اومخرجي هم ". قال ورقة نعم لم يات رجل بما جيت به الا اوذي، وان يدركني يومك حيا انصرك نصرا موزرا. ثم لم ينشب ورقة ان توفي، وفتر الوحى، فترة حتى حزن رسول الله صلى الله عليه وسلم
حدثنا ادم، حدثنا شيبان، حدثنا قتادة، عن انس رضى الله عنه قال لما عرج بالنبي صلى الله عليه وسلم الى السماء قال " اتيت على نهر حافتاه قباب اللولو مجوفا فقلت ما هذا يا جبريل قال هذا الكوثر