Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
بَاب قَوْلِهِ : (يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ جفَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللهَ لَا يَرْضٰى عَنِ الْقَوْمِ الْفٰسِقِيْنَ) ৬৫/৯/১৫. অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬) (وَاٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّاٰخَرَ سَيِّئًا طعَسَى اللهُ أَنْ يَّتُوْبَ عَلَيْهِمْ طإِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ). আরও কিছু লোক আছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা এক নেক কাজের সঙ্গে অন্য বদ-কাজ মিশ্রিত করেছে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ১০২) ৪৬৭৪. সামূরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন, রাতে দু’জন মালাক এসে আমাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন। এরপর আমরা এমন এক শহরে পৌঁছলাম, যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা নির্মিত। সেখানে এমন কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুশ্রী যা তোমরা কখনও দেখনি এবং আর এক অর্ধেক এত কুৎসিত যা তোমরা কখনও দেখনি। মালাক দু’জন তাদেরকে বললেন, তোমরা ঐ নহরে গিয়ে ডুব দাও। তারা সেখানে গিয়ে ডুব দিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসল। তখন তাদের বিশ্রী চেহারা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল এবং তারা সুশ্রী চেহারা লাভ করল। মালাকদ্বয় আমাকে বললেন, এটা হল ‘জান্নাতে আদন’ এটাই হল আপনার আসল ঠিকানা। মালাকদ্বয় বললেন, (আপনি) যেসব লোকের দেহের অর্ধেক সুশ্রী এবং অর্ধেক বিশ্রী (দেখেছেন), তারা ঐ সকল লোক যারা দুনিয়াতে সৎকর্মের সঙ্গে অসৎকর্ম মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। [৮৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مومل هو ابن هشام حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، وحدثنا عوف، حدثنا ابو رجاء، حدثنا سمرة بن جندب رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لنا " اتاني الليلة اتيان فابتعثاني، فانتهينا الى مدينة مبنية بلبن ذهب ولبن فضة، فتلقانا رجال شطر من خلقهم كاحسن ما انت راء، وشطر كاقبح ما انت راء قالا لهم اذهبوا فقعوا في ذلك النهر. فوقعوا فيه ثم رجعوا الينا قد ذهب ذلك السوء عنهم، فصاروا في احسن صورة قالا لي هذه جنة عدن، وهذاك منزلك قالا اما القوم الذين كانوا شطر منهم حسن وشطر منهم قبيح فانهم خلطوا عملا صالحا واخر سييا تجاوز الله عنهم
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) তাঁর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন। এ সময় আবূ জাহল এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ্ও সেখানে বসা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি পড়ুন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এটা দলীল হিসেবে পেশ করব। এ কথা শুনে আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়াহ বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করে দিবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- ‘‘নবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/১১৩) [১৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابيه، قال لما حضرت ابا طالب الوفاة دخل عليه النبي صلى الله عليه وسلم وعنده ابو جهل وعبد الله بن ابي امية، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اى عم قل لا اله الا الله. احاج لك بها عند الله ". فقال ابو جهل وعبد الله بن ابي امية يا ابا طالب، اترغب عن ملة عبد المطلب. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لاستغفرن لك ما لم انه عنك ". فنزلت {ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين ولو كانوا اولي قربى من بعد ما تبين لهم انهم اصحاب الجحيم}
‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। কা‘ব (রাঃ) যখন অন্ধ হয়ে পড়লেন, তখন তার ছেলেদের মধ্যে যার সাহায্যে তিনি চলাফেরা করতেন, সেই ‘আবদুল্লাহ বিন কা‘ব বলেন, আমি (আমার পিতা) কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে وَعَلَى الثَلَاثَةِ এ আয়াত- সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার ঘটনা বর্ণনার সর্বশেষে বলতেন, আমি আমার তওবা কবূল হওয়ার খুশীতে আমার সকল মাল আল্লাহ ও তার রাসূলের পথে দান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও। এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। [২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن صالح، قال حدثني ابن وهب، قال اخبرني يونس، قال احمد حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن ابن شهاب، قال اخبرني عبد الرحمن بن كعب، قال اخبرني عبد الله بن كعب وكان قايد كعب من بنيه حين عمي قال سمعت كعب بن مالك، في حديثه {وعلى الثلاثة الذين خلفوا} قال في اخر حديثه ان من توبتي ان انخلع من مالي صدقة الى الله ورسوله. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امسك بعض مالك، فهو خير لك
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছি, যে তিনজনের তওবা কবূল হয়েছিল, তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি বদরের যুদ্ধ ও তাবূকের যুদ্ধ এ দু’টি ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে পশ্চাতে থাকেননি। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ হতে সূর্যোদয়ের সময় মদিনা্য় ফিরে আসলে আমি (মিথ্যার পরিবর্তে) সত্য প্রকাশের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম। তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যে কোন সফর হতে সাধারণত সূর্যোদয়ের সময় ফিরে আসতেন এবং সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দু’রাক‘আত নফল সালাত আদায় করতেন। (তাবূকের যুদ্ধ থেকে এসে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে এবং আমার সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, অথচ আমাদের ব্যতীত অন্য যারা যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলায় কোন প্রকার বাধা প্রদান করলেন না। সুতরাং লোকেরা আমাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে লাগলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল যে, যদি এ অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায়, আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জানাযাহর সালাত আদায় না করেন, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলে আমি মানুষের কাছে এই অবস্থায় থেকে যাব তারা কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলবে না, আর আমার জানাযার সালাতও আদায় করবে না। এরপর (পঞ্চাশ দিন পর) আল্লাহ তা‘আলা আমার তওবা কবূল করে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন রাতের শেষ-তৃতীয়াংশ বাকী ছিল। সে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, উম্মু সালামাহ (রাঃ) আমার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু সালামাহ! কা‘বের তওবা কবূল করা হয়েছে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য কাউকে তার কাছে পাঠাব? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, এখন খবর পেলে সব লোক এসে জমা হয়ে যাবে। তারা তোমাদের ঘুম নষ্ট করে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তওবা কবূল হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা খুশীতে এমন চমকাচ্ছিল যেন চাঁদের টুকরা। যেসব মুনাফিক মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি থেকে] রেহাই পেয়েছিল, তাদের চেয়ে তওবা কবূলের ব্যাপারে আমরা তিনজন পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম, এরপর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তওবা কবূল করে আয়াত অবতীর্ণ করেন। (তাবূকের যুদ্ধে) অনুপস্থিতদের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে এবং যারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়েছে তাদের জঘন্যভাবে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘‘তারা তোমাদের কাছে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। আপনি বলে দিনঃ তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা কখনও তোমাদের বিশ্বাস করব না; আল্লাহ তো আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন তোমাদের খবর; আর ভবিষ্যতেও আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য রাখবেন এবং তাঁর রাসূলও’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৯৪)।[২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত। যিনি কা‘ব ইবনু মালিক (দৃষ্টিহীন হওয়ার পরে)-এর পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন। তিনি (‘আবদুল্লাহ) বলেন, আমি কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে, তাবূক যুদ্ধে যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিলেন তাদের ঘটনা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম! হয়ত আল্লাহ (রাসূলুল্লাহর কাছে) সত্য কথা প্রকাশের কারণে, অন্য কাউকে এত বড় সুন্দর পরীক্ষা করেননি যতটুকু আমাকে পরীক্ষা করেছেন। যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার সঠিক কারণ বর্ণনা করেছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যা বলার ইচ্ছাও করিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এ আয়াতটি নাযিল করেন لَقَدْ تَابَ اللهُ.... وَكُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ ‘‘আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি ........ এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/১১৭-১১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك، ان عبد الله بن كعب بن مالك وكان قايد كعب بن مالك قال سمعت كعب بن مالك، يحدث حين تخلف عن قصة، تبوك. فوالله ما اعلم احدا ابلاه الله في صدق الحديث احسن مما ابلاني، ما تعمدت منذ ذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم الى يومي هذا كذبا، وانزل الله عز وجل على رسوله صلى الله عليه وسلم {لقد تاب الله على النبي والمهاجرين} الى قوله {وكونوا مع الصادقين}
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। যিনি ওয়াহী লেখকদের মধ্যে একজন ছিলেন, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) (তার খিলাফাতের সময়) এক ব্যক্তিকে আমার কাছে ইয়ামামার যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণ করলেন। (আমি তার কাছে চলে আসলাম) তখন তার কাছে ‘উমার (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি [আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে] বললেন, ‘উমার (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন যে, ইয়ামামার যুদ্ধ তীব্র গতিতে চলছে, আমার ভয় হচ্ছে, কুরআনের অভিজ্ঞগণ (হাফিযগণ) ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান নাকি! যদি আপনারা তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করেন তবে কুরআনের অনেক অংশ চলে যেতে পারে এবং কুরআনকে একত্রিত সংরক্ষণ করা ভাল মনে করি। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, আমি এ কাজ কীভাবে করতে পারি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি। কিন্তু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা কল্যাণকর। ‘উমার (রাঃ) তাঁর এ কথার পুনরুক্তি করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা এ কাজ করার জন্য আমার অন্তর খুলে দিলেন এবং আমিও ‘উমার (রাঃ)-এর মতোই মতামত পেশ করলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) সেখানে নীরবে বসা ছিলেন, কোন কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে বললেন, দেখ, তুমি যুবক এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। আমরা তোমার প্রতি কোনরূপ খারাপ ধারণা রাখি না। কেননা, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে ওয়াহী লিপিবদ্ধ করতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে একত্রিত কর। আল্লাহর কসম! তিনি কুরআন একত্রিত করার যে নির্দেশ আমাকে দিলেন সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হল যে, তিনি যদি কোন একটি পর্বত স্থানান্তর করার আদেশ দিতেন তাও আমার কাছে এমন ভারী মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি, সে কাজটি আপনারা কীভাবে করবেন? তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটাই কল্যাণকর। এরপর আমিও আমার কথার উপর বারবার জোর দিতে লাগলাম। শেষে আল্লাহ যেটা বুঝার জন্য আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও তা বুঝার জন্য খুলে দিলেন। এরপর আমি কুরআন সংগ্রহে লেগে গেলাম এবং হাড়, চামড়া, খেজুর ডাল ও বাকল এবং মানুষের স্মৃতি থেকে তা সংগ্রহ করলাম। অবশেষে খুযাইমাহ আনসারীর কাছে সূরায়ে তাওবার দু’টি আয়াত পেয়ে গেলাম, যা অন্য কারও নিকট হতে সংগ্রহ করতে পারিনি। لَقَدْ جَاءَكُمْ থেকে শেষ পর্যন্ত। এরপর এ একত্রিত কুরআন আবূ বাকর (রাঃ)-এর ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছেই জমা ছিল। তারপর ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে। তার ওফাত পর্যন্ত এটি তার কাছেই ছিল। তারপর ছিল হাফসাহ বিনত ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে। ‘উসমান এবং লাইস (রহ.) خُزَيْمَةَ শব্দের বর্ণনায় শু‘আয়ব-এর অনুসরণ করেছেন। অন্য এক সনদেও ইবনু শিহাব থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে খুযাইমার স্থলে আবূ খুযাইমাহ আনসারী বলা হয়েছে। মূসা-এর সনদে عَنْ ابْنِ شِهَابٍ এর স্থলে حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ এবং আবূ খুযাইমাহ বলা হয়েছে। ইয়াকূব ইবনু ইব্রাহীম এর অনুসরণ করেছেন। অন্য এক সনদে সাবিত (রহ.)-এর عَنْ إِبْرَاهِيْمَ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ বলেছেন এবং খুযাইমা অথবা আবূ খুযাইমা নিয়ে সন্দেহ আছে। আয়াতটির অর্থ হলঃ ‘‘এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন- আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি’’- (সূরাহ বারাআত ৯/১২৯)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ يُوْنُسَ সূরাহ (১০) : ইউনুস 65/10/1. بَاب : ৬৫/১০/১. অধ্যায়: وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فَاخْتَلَطَ) بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَنَبَتَ بِالْمَاءِ مِنْ كُلِّ لَوْنٍ (وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ)وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ (أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ) مُحَمَّدٌ e وَقَالَ مُجَاهِدٌ خَيْرٌ يُقَالُ (تِلْكَاٰيٰتُ) يَعْنِيْ هَذِهِ أَعْلَامُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتّٰىٓإِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) الْمَعْنَى بِكُمْ يُقَالُ (دَعْوَاهُمْ) دُعَاؤُهُمْ(أُحِيْطَ بِهِمْ) دَنَوْا مِنْ الْهَلَكَةِ (أَحَاطَتْ بِهٰخَطِيئَتُه” فَاتَّبَعَهُمْ) وَأَتْبَعَهُمْ وَاحِدٌ (عَدْوًا) مِنْ الْعُدْوَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَلَوْ يُعَجِّلُ اللهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ) قَوْلُ الإِنْسَانِ لِوَلَدِهِ وَمَالِهِ إِذَا غَضِبَ اللهُمَّ لَا تُبَارِكْ فِيْهِ وَالْعَنْهُ(لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ) لَأُهْلِكُ مَنْ دُعِيَ عَلَيْهِ وَلَأَمَاتَهُ (لِلَّذِيْنَ أَحْسَنُوا الْحُسْنٰى) مِثْلُهَا حُسْنَى (وَزِيَادَةٌ) مَغْفِرَةٌ وَرِضْوَانٌ وَقَالَ غَيْرُهُ النَّظَرُ إِلَى وَجْهِهِ (الْكِبْرِيَآءُ) الْمُلْكُ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَاخْتَلَطَ অর্থাৎ বৃষ্টির দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উদগত হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَه هُوَ الْغَنِيُّ -‘‘তারা বলেঃ ‘‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান, পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৬৮) যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) বলেন, قَدَمَ صِدْقٍ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ কল্যাণ। تِلْكَ آيَاتُ এগুলো কুরআনের নিদর্শন ও অনুরূপ, حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْএখানে بِهِمْ দ্বারা بِكُمْ (তোমাদের নিয়ে) অর্থে دَعْوَاهُمْ তাদের দু‘আ। أُحِيْطَبِهِمْ-তারা ধ্বংসোন্মুখ হল। أَحَاطَتْ بِهٰ خَطِيئَتُه গুনাহ তাদের ঘিরে ফেলছে। فَاتَّبَعَهُمْ وَأَتْبَعَهُمْ সমপর্যায়ের (তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।) عَدْوًا এখানে সীমা অতিক্রম অর্থে, মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ -এর দ্বারা মানুষের সেই কথা বুঝাচ্ছে, যখন সে রাগান্বিত হয়ে নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলে, হে আল্লাহ! এতে বারাকাত দিও না, এর ওপর লা‘নাত কর। لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ-যার প্রতি বদদু‘আ করা হয়েছে, তাকে ধ্বংস করে দিতেন এবং তাকে মেরে ফেলতেন। أَحْسَنُواالْحُسْنَى-কল্যাণকর কাজের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। وَزِيَادَةٌ এবং অতিরিক্ত অর্থাৎ ক্ষমা। অন্যরা বলেন, আল্লাহর সাক্ষাৎ, الْكِبْرِيَاءُ-সার্বভৌমত্ব। (وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓإِسْرَآئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه بَغْيًا وَّعَدْوًا طحَتّٰىٓإِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓاٰمَنَتْ بِهٰبَنُوْآإِسْرَآئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ) ‘‘আর আমি বনী ইসরাঈলকে নদী পার করিয়ে দিলাম। তারপর তাদের পশ্চাদানুসরণ করল ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী নিপীড়ন ও নির্যাতনের উদ্দেশে। এমনকি যখন সে নিমজ্জিত হতে লাগল তখন বললঃ আমি ঈমান আনলাম যে, কোন সত্য মা’বুদ নেই তিনি ব্যতীত যার প্রতি ঈমান এনেছে বনী ইসরাঈল এবং আমি একজন মুসলিম।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৯০) (نُنَجِّيْكَ) نُلْقِيْكَ عَلَى نَجْوَةٍ مِنْ الْأَرْضِ وَهُوَ النَّشَزُ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ نُنَجِّيْكَ আমি তোমাকে যমীনের উঁচু স্থানে ফেলে রাখব। نَجْوَةٍ উচ্চ স্থান। [1] ৪৬৮০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে এলেন, তখন ইয়াহূদীগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মূসা (আঃ) ফিরাউন-এর উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা সওম পালন কর।[২০০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ هُوْدٍ সূরাহ (১১) : হূদ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : عَصِيْبٌ : شَدِيْدٌ. (لَاجَرَمَ) : بَلَى. وَقَالَ غَيْرُهُ (وَحَاقَ) نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ (يَئُوْسٌ) فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَبْتَئِسْ) تَحْزَنْ (يَثْنُوْنَصُدُوْرَهُمْ) شَكٌّ وَافْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا. وَقَالَ أَبُوْ مَيْسَرَةَ (الأَوَّاهُ) الرَّحِيْمُ بِالْحَبَشِيَّةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (بَادِئَالرَّأْيِ) مَا ظَهَرَ لَنَا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْجُوْدِيُّ) جَبَلٌ بِالْجَزِيْرَةِ وَقَالَ الْحَسَنُ (إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ)يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَقْلِعِي) أَمْسِكِيْ عَصِيْبٌ شَدِيْدٌ لَا جَرَمَ بَلَى (وَفَارَالتَّنُّوْرُ) نَبَعَ الْمَاءُ وَقَالَ عِكْرِمَةُ وَجْهُ الْأَرْض. আবূ মাইসারা (রহ.) বলেন, الْأَوَّاهُ হাবশী ভাষায় দয়ালু। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَادِئَالرَّأْيِ-যা আমাদের সামনে স্পষ্ট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْجُوْدِيُّ-জাযিয়ার একটি পর্বত। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ-আপনি অতি সহনশীল। এর দ্বারা তারা ঠাট্টা করত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَقْلِعِي-থেমে যাও। عَصِيْبٌ-কঠিন। لَا جَرَمَ-অবশ্যই। فَارَ التَّنُّوْرُ-পানি উথলে উঠল। ইকরামাহ (রহ.) বলেন, تَّنُّوْرُ ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝানো হয়েছে। (أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ أَلا حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّوْنَ وَمَا يُعْلِنُوْنَ إِنَّهُ عَلِيْمٌ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ) ‘‘জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বক্ষকে কুঞ্চিত করে যাতে আল্লাহর কাছে গোপন রাখতে পারে। স্মরণ রাখ, তারা যখন নিজেদেরকে কাপড়ে আচ্ছাদিত করে, তখন তারা যা গোপন করে ও প্রকাশ করে আল্লাহ তা জানেন। অন্তরে যা কিছু আছে তিনি তা সবিশেষ অবহিত।’’ (সূরাহ হূদ ১১/৫) وَقَالَ غَيْرُهُ وَحَاقَ نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ يَئُوْسٌ فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ تَبْتَئِسْ تَحْزَنْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ شَكٌّ وَامْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا অন্যজন বলেন, حَاقَ-অবতীর্ণ হল। يَحِيْقُ-অবতীর্ণ হয়। فَعُوْلٌ-يَئُوْسٌ -এর ওযন يَئِسْتُ থেকে (নিরাশ হওয়ার অর্থে)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَبْتَئِسْ-দুঃখ করা।يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ-হকের মধ্যে সন্দেহ করা। لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ-আল্লাহ থেকে, গোপন রাখে যদি তারা সক্ষম হয়। ৪৬৮১. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা‘ফর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, أَلَا إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ বলেন, আমি তাঁকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক উন্মুক্ত আকাশের দিকে নগ্ন হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জা করতে লাগল। তখন তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮২, ৪৬৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ ইবনু জা‘ফর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) أَلَٓا إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ পাঠ করলেন। আমি বললাম, যে আবুল ‘আব্বাস تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, কতক লোক স্বীয় স্ত্রী সহবাসের সময় অথবা পেশাব-পায়খানার সময় (নগ্ন হতে) লজ্জাবোধ করত, তখন أَلَآ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن ابن جريج، واخبرني محمد بن عباد بن جعفر، ان ابن عباس، قرا {الا انهم تثنوني صدورهم} قلت يا ابا العباس ما تثنوني صدورهم قال كان الرجل يجامع امراته فيستحي او يتخلى فيستحي فنزلت {الا انهم يثنون صدورهم}
‘আমর (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে পাঠ করলেন, إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ ..... حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ আমর ব্যতীত অন্যরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন يَسْتَغْشُوْنَ -তারা তাদের মস্তক আবৃত করত। -তাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখত এবং وَضَاقَ অর্থাৎ নিজ অতিথিকে দেখে শঙ্কিত হলেন। بِقِطْعٍ مِنْ اللَّيْلِ- রাতের আঁধারে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أُنِيْبُ-আমি তাঁরই অভিমুখী। [৪৬৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، قال قرا ابن عباس {الا انهم يثنون صدورهم ليستخفوا منه الا حين يستغشون ثيابهم} وقال غيره عن ابن عباس {يستغشون} يغطون رءوسهم {سيء بهم} ساء ظنه بقومه. {وضاق بهم} باضيافه {بقطع من الليل} بسواد. وقال مجاهد {انيب} ارجع
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন। اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُه-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوْهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِيْ (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়।اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيْدٌ-عَنُوْدٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ- স্বেচ্ছাচারী। ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ-তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى-আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيْدٌ-مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ-অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ‘‘বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।’’ [৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قال الله عز وجل انفق انفق عليك وقال يد الله ملاى لا تغيضها نفقة، سحاء الليل والنهار وقال ارايتم ما انفق منذ خلق السماء والارض فانه لم يغض ما في يده، وكان عرشه على الماء، وبيده الميزان يخفض ويرفع ". {اعتراك} افتعلت من عروته اى اصبته، ومنه يعروه واعتراني {اخذ بناصيتها} اى في ملكه وسلطانه. عنيد وعنود وعاند واحد، هو تاكيد التجبر، {استعمركم} جعلكم عمارا، اعمرته الدار فهى عمرى جعلتها له. {نكرهم} وانكرهم واستنكرهم واحد {حميد مجيد} كانه فعيل من ماجد. محمود من حمد. سجيل الشديد الكبير. سجيل وسجين واللام والنون اختان، وقال تميم بن مقبل ورجلة يضربون البيض ضاحية ضربا تواصى به الابطال سجينا
بَاب قَوْلِهِ :(وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا) ৬৫/১১/৩. অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভ্রাতা শু‘আয়ব (আঃ)-কে পাঠালাম। (সূরা হূদ ১১/৮৪) أَيْ إِلَى أَهْلِ مَدْيَنَ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ وَمِثْلُهُ (وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلِ الْعِيْرَ) يَعْنِيْ أَهْلَ الْقَرْيَةِ وَأَصْحَابَ الْعِيْرِ (وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا) يَقُوْلُ لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ وَيُقَالُ إِذَا لَمْ يَقْضِ الرَّجُلُ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا وَالظِّهْرِيُّ هَا هُنَا أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ (أَرَاذِلُنَا) سُقَّاطُنَا إِجْرَامِيْ هُوَ مَصْدَرٌ مِنْ أَجْرَمْتُ وَبَعْضُهُمْ يَقُوْلُ جَرَمْتُ الْفُلْكُ وَالْفَلَكُ وَاحِدٌ وَهْيَ السَّفِيْنَةُ وَالسُّفُنُ مُجْرَاهَا مَدْفَعُهَا وَهُوَ مَصْدَرُ أَجْرَيْتُ وَأَرْسَيْتُ حَبَسْتُ وَيُقْرَأُ مَرْسَاهَا مِنْ رَسَتْ هِيَ وَمَجْرَاهَا مِنْ جَرَتْ هِيَ وَمُجْرِيْهَا وَمُرْسِيْهَا مِنْ فُعِلَ بِهَا رَاسِيَاتٌ ثَابِتَاتٌ. মাদইয়ান-এর নিকট অর্থাৎ মাদইয়ানবাসীর নিকট, কেননা মাদইয়ান তো একটি শহর। এর অনুরূপ وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلْ الْعِيْرَ অর্থাৎ গ্রামবাসীদের কাছে এবং কাফেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞেস কর। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তারা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। যখন কেউ কারও উদ্দেশ্য পূর্ণ না করে, তখন বলা হয় ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ এবং وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا এখানে ظِهْرِيُّ দ্বারা এ ধরনের জানোয়ার বা পাত্র বোঝায় যা কাজের প্রয়োজনে তুমি তার দ্বারা নিজেকে আড়াল করবে। أَرَاذِلُنَا-আমাদের মধ্যে অধম, إِجْرَامِيْ এটা أَجْرَمْتُ -এর মাসদার। কেউ বলেন, جَرَمْتُ হতে উদগত الْفَلَكَ، والْفُلْكُ একবচন, বহুবচন উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নৌকা এবং নৌকাগুলো। مُجْرَاهَا (নৌকার গতি) এটা أَجْرَيْتُ -এর মাসদার এবং أَرْسَيْتُ-নৌকা আমি থামিয়েছি। কেউ কেউ পড়েনঃ مَرْسَاَهَا অর্থাৎ তার স্থিতি এবং مَجْرَاهَا অর্থাৎ তার গতি। مُجْرِيْهَا এবং مُرْسِيْهَا অর্থাৎ যার সঙ্গে এরূপ (চালিত, স্থগিত) করা হয়েছে لرَّاسِيَاتُ অর্থাৎ স্থিত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪) (وَيَقُوْلُ الْأَشْهَادُ هٰٓؤُلَآءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلٰى رَبِّهِمْ جأَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظّٰلِمِيْنَ) সাক্ষীরা বলবেঃ এরাই ঐসব লোক যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। জেনে রাখ, যালিমদের উপর আল্লাহর লা‘নাত। (সূরাহ হূদ ১১/১৮) وَاحِدُهُ شَاهِدٌ مِثْلُ صَاحِبٍ وَأَصْحَابٍ أَشْهَادُ-এর একবচন হল, شَاهِدٌ যেমন, أَصْحَابٌ -এর এক বচন صَاحِبٌ। ৪৬৮৫. সফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু ‘উমার (রাঃ)! আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নৈকট্য দান করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বীয় পর্দায় ঢেকে নেবেন এবং তার নিকট হতে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ তোমার সে পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক ‘আমলনামা গুটিয়ে নেয়া হবে। আর অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ-এর পরিবর্তে عَنْ قَتَادَةُ এবং عَنْ صَفْوَانُ -এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ) الْعَوْنُ الْمُعِيْنُ رَفَدْتُهُ أَعَنْتُهُ (تَرْكَنُوْا) تَمِيْلُوْا (فَلَوْلَاكَانَ) فَهَلَّا كَانَ (أُتْرِفُوْا) أُهْلِكُوْا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (زَفِيْرٌوَشَهِيْقٌ) شَدِيْدٌ وَصَوْتٌ ضَعِيْفٌ. الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ অর্থাৎ সাহায্য, যে সাহায্য করা হয় (বলা হয়) رَفَدْتُهُ আমি তাকে সাহায্য করলাম। تَرْكَنُوْا ঝুঁকে পড়। فَلَوْلَا كَانَ কেন হয়নি। أُتْرِفُوْا তাদের ধ্বংস করে দেয়া হল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, زَفِيْرٌ وَشَهِيْقٌ বিকট শব্দ এবং ক্ষীণ শব্দ। ৪৬৮৬. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের ঢিল দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ আয়াত পাঠ করেন- ‘‘আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের জুলুমের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন’’- (সূরাহ হূদ ১১/১০২)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا صدقة بن الفضل، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا بريد بن ابي بردة، عن ابي بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله ليملي للظالم حتى اذا اخذه لم يفلته ". قال ثم قرا {وكذلك اخذ ربك اذا اخذ القرى وهى ظالمة ان اخذه اليم شديد}
(وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِيْنَ) সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে। নেক কাজ অবশ্যই মিটিয়ে দেয় বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত। (সূরাহ হূদ ১১/১১৪) (وَزُلَفًا) سَاعَاتٍ بَعْدَ سَاعَاتٍ وَمِنْهُ سُمِّيَتْ الْمُزْدَلِفَةُ الزُّلَفُ مَنْزِلَةٌ بَعْدَ مَنْزِلَةٍ وَأَمَّا زُلْفَى فَمَصْدَرٌ مِنَ الْقُرْبَى ازْدَلَفُوا اجْتَمَعُوْا أَزْلَفْنَا جَمَعْنَا. زُلَفًا সময়ের পর সময় এবং এসব থেকেই مُزْدَلِفَةُ এর নামকরণ করা হয়েছে। মনযিলের পর মনযিল এবং زُلْفَى মাসদার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। ازْدَلَفُوْا একত্রিত হয়েছে। أَزْلَفْنَا আমরা একত্রিত হয়েছি। ৪৬৮৭. ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনা উপলক্ষে) এ আয়াত নাযিল হয়। وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ طإِنَّ الْحَسَنٰتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاٰتِ طذٰلِكَ ذِكْرٰى لِلذّٰكِرِيْنَ -‘‘সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে [1]। পুণ্য অবশ্যই মুছে ফেলে বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত’’- (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)। তখন সে লোকটি বলল, এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের যেই এর ‘আমল করবে তার জন্য। [৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد هو ابن زريع حدثنا سليمان التيمي، عن ابي عثمان، عن ابن مسعود رضى الله عنه ان رجلا، اصاب من امراة قبلة، فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فانزلت عليه {واقم الصلاة طرفى النهار وزلفا من الليل ان الحسنات يذهبن السييات ذلك ذكرى للذاكرين}. قال الرجل الي هذه قال " لمن عمل بها من امتي
سُوْرَةُ يُوْسُفَ সূরাহ (১২) : ইউসুফ (আঃ) وَقَالَ فُضَيْلٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتَّكًَا الْأُتْرُجُّ قَالَ فُضَيْلٌ الْأُتْرُجُّ بِالْحَبَشِيَّةِ مُتْكًا وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتْكًا قَالَ كُلُّ شَيْءٍ قُطِعَ بِالسِّكِّيْنِ وَقَالَ قَتَادَةُ (لَذُوْ عِلْمٍ) لِمَا عَلَّمْنَاهُ عَامِلٌ بِمَا عَلِمَ وَقَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ (صُوَاعَ) الْمَلِكِ مَكُّوْكُ الْفَارِسِيِّ الَّذِيْ يَلْتَقِيْ طَرَفَاهُ كَانَتْ تَشْرَبُ بِهِ الْأَعَاجِمُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تُفَنِّدُوْنِ) تُجَهِّلُوْنِ وَقَالَ غَيْرُهُ (غَيَابَةٌالْجُبِّ) كُلُّ شَيْءٍ غَيَّبَ عَنْكَ شَيْئًا فَهُوَ غَيَابَةٌ (وَالْجُبُّ) الرَّكِيَّةُ الَّتِيْ لَمْ تُطْوَ (بِمُؤْمِنٍلَّنَا) بِمُصَدِّقٍ أَشُدَّهُ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَ فِي النُّقْصَانِ يُقَالُ (بَلَغَأَشُدَّهُ) وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاحِدُهَا شَدٌّ. وَالْمُتَّكَأُ مَا اتَّكَأْتَ عَلَيْهِ لِشَرَابٍ أَوْ لِحَدِيْثٍ أَوْ لِطَعَامٍ وَأَبْطَلَ الَّذِيْ قَالَ الْأُتْرُجُّ وَلَيْسَ فِيْ كَلَامِ الْعَرَبِ الْأُتْرُجُّ فَلَمَّا احْتُجَّ عَلَيْهِمْ بِأَنَّهُ الْمُتَّكَأُ مِنْ نَمَارِقَ فَرُّوْا إِلَى شَرٍّ مِنْهُ فَقَالُوْا إِنَّمَا هُوَ الْمُتْكُ سَاكِنَةَ التَّاءِ وَإِنَّمَا الْمُتْكُ طَرَفُ الْبَظْرِ وَمِنْ ذَلِكَ قِيْلَ لَهَا مَتْكَاءُ وَابْنُ الْمَتْكَاءِ فَإِنْ كَانَ ثَمَّ أُتْرُجٌّ فَإِنَّهُ بَعْدَ الْمُتَّكَإِ (شَغَفَهَا) يُقَالُ بَلَغَ شِغَافَهَا وَهُوَ غِلَافُ قَلْبِهَا وَأَمَّا شَعَفَهَا فَمِنَ الْمَشْعُوْفِ. (أَصْبُ) أَمِيْلُ صَبَا مَالَ (أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ) مَا لَا تَأْوِيْلَ لَهُ وَالضِّغْثُ مِلْءُ الْيَدِ مِنْ حَشِيْشٍ وَمَا أَشْبَهَهُ وَمِنْهُ (وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا) لَا مِنْ قَوْلِهِ أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ وَاحِدُهَا ضِغْثٌ(نَمِيْرُ) مِنَ الْمِيْرَةِ وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيْرٍ مَا يَحْمِلُ بَعِيْرٌ (أَوَىإِلَيْهِ) ضَمَّ إِلَيْهِ (السِّقَايَةُ) مِكْيَالٌ تَفْتَأُ لَا تَزَالُ حَرَضًا مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ تَحَسَّسُوْا تَخَبَّرُوْا مُزْجَاةٍ قَلِيْلَةٍ غَاشِيَةٌ مِنْ عَذَابِ اللهِ عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ (اسْتَيْأَسُوْا) يَئِسُوْا (وَلَا تَيْأَسُوْا مِنْ رَّوْحِ اللهِ) مَعْنَاهُ الرَّجَاءُ (خَلَصُوْا) نَجِيًّا اعْتَزَلُوْا نَجِيًّا وَالْجَمِيْعُ أَنْجِيَةٌ يَتَنَاجَوْنَ الْوَاحِدُ نَجِيٌّ وَالِاثْنَانِ وَالْجَمِيْعُ نَجِيٌّ وَأَنْجِيَةٌ. (تِفْتَأُ) : لا تَزَالُ. (حَرَضًا) مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ. (تَحَسَّسُوْا) : تَخَبَّرُوْا. (مُزْجاةٌ) : قَلِيْلَةٌ. (غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله) عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ. ফুযায়ল (রহ.) হুসায়ন (র.) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتْكَاءً (এক জাতীয়) লেবু এবং ফুযায়ল (রহ.) বলেন যে, مُتْكًا হাবশী ভাষায় (এক জাতীয়) লেবুকে বলা হয়। ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) ...... মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, مُتْكًا ঐ সব, যা চাকু দিয়ে কাটা হয়। ক্বাদাতাহ (রহ.) বলেন, لَذُوْ عِلْمٍ সে ‘আলিম, যে তার ‘ইল্মের উপর ‘আমল করে। ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, صُوَاعٌ ফারসী মাপ-পাত্র, যার উভয় পাশ মিলানো থাকে; আজমীগণ এটা দিয়ে পানি পান করে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, تُفَنِّدُوْنِ আমাকে মূর্খ মনে কর। অন্য হতে বর্ণিতঃ غَيَابَةٌ যেসব বস্তু তোমা হতে গোপন রয়েছে। وَالْجُبُّ ঐ কূপকে বলে যার মুখ বাঁধা হয়নি। بِمُؤْمِنٍلَنَا তুমি আমার কথায় বিশ্বাসী। بِمُؤْمِنٍلَنَا অধোগতি শুরু হওয়ার আগের বয়স। বলা হয় بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ অর্থাৎ সে বা তারা পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর একবচন شَدٌّ (কারো কারো মতে) الْمُتَّكَأُ যে জিনিসের উপর পানাহার করার বা কথাবার্তা বলার সময় হেলান দেয়া হয়। যাঁরা مَتَكًا অর্থ লেবু বলেছেন এতে তা রদ হল। আরবদের ভাষায় ‘উতরুঞ্জ’ শব্দের ব্যবহার নেই। যখন তাদের প্রতি এই অভিযোগ দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে, ‘মুত্তাকা’ অর্থ বিছানা, তখন তাঁরা আরো খারাপ অর্থ গ্রহণ করল এবং বলল যে, এখানে مُتْكٌ -এর ت সাকিন। এর অর্থ স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থানের পার্শ্ব। এ থেকে ব্যবহার হয় مَتْكَاءِ (যে নারীর সে অংশ কাটা হয়নি) এবং ابْنُ الْمَتْكَاءِ (মাত্কার পুত্র)। সে ঘটনায় লেবু হলেও তা তাকিয়া দেয়ার পরই হবে। شَعَفَهَا তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করল। مَشْعُوْفٌ যার অন্তর প্রেমে জ্বালিয়ে দিয়েছে। أَصْبُ আমি আসক্ত হয়ে যাব। أَحْلَامٍ অনর্থক স্বপ্ন যার কোন ব্যাখ্যা নেই। أَضْغَاثُ ঘাসের মুঠা এবং যা এ জাতীয়। যেমন পূর্বের আয়াতে আছে خُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا এক মুঠো ঘাস লও। একবচনে ضِغْثٌ থেকে গঠিত نَمِيْرُ আমরা খাদ্যদ্রব্য এনে দিব।وَنَزْدَادُ كَيْلَ আমরা আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব। أَوَىإِلَيْهِ নিজের কাছে রাখল। السِّقَايَةُ পান পাত্র, পরিমাপ-পাত্র। সারাক্ষণ থাকবে حَرَضًامُحْرَضًا খুব দুর্বল হওয়া) يُذِيْبُكَ الْهَمُّ দুশ্চিন্তা-তোমাকে শেষ করে দিবে, تَحَسَّسُوْا তোমরা খোঁজ লও। مُزْجاةٌ স্বল্প,غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله আল্লাহর শাস্তি সকলকে ঘিরে ফেলেছে। (وَيُتِمُّ نِعْمَتَه” عَلَيْكَ وَعَلٰٓى اٰلِ يَعْقُوْبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلٰٓى أَبَوَيْكَ مِنْ قَبْلُ إِبْرٰهِيْمَ وَإِسْحٰقَ) আর পূর্ণ করবেন তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবারের প্রতি; যেমন তিনি ইতোপূর্বে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৬) ৪৬৮৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ (আঃ) যাঁর পিতা ইয়াকুব (আঃ), যাঁর পিতা ইসহাক (আঃ) যাঁর পিতা ইব্রাহীম (আঃ)। [৩৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮ম)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত, যে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক আল্লাহ্ভীরু। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ)। তিনি নবীর পুত্র, (তাঁর পিতাও) নবীর পুত্র এবং (তাঁর পিতার পিতা) খালীলুল্লাহ্ (আঃ)-এর পুত্র। লোকেরা বলল, আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাঃ) ‘উবাইদুল্লাহর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد، اخبرنا عبدة، عن عبيد الله، عن سعيد بن ابي سعيد، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال سيل رسول الله صلى الله عليه وسلم اى الناس اكرم قال " اكرمهم عند الله اتقاهم ". قالوا ليس عن هذا نسالك. قال " فاكرم الناس يوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله ابن خليل الله ". قالوا ليس عن هذا نسالك. قال " فعن معادن العرب تسالوني ". قالوا نعم. قال " فخياركم في الجاهلية خياركم في الاسلام اذا فقهوا ". تابعه ابو اسامة عن عبيد الله
(سَوَّلَتْ) زَيَّنَتْ. سَوَّلَتْ সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান। ৪৬৯০. যুহরী (রহ.) ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) ‘‘ইফক[1] সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম [‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তওবা কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (আঃ)-এর পিতা [ইয়াকুব (আঃ)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) : সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِيْنَ جَآءُوْا بِالْإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن صالح، عن ابن شهاب،. قال وحدثنا الحجاج، حدثنا عبد الله بن عمر النميري، حدثنا يونس بن يزيد الايلي، قال سمعت الزهري، سمعت عروة بن الزبير، وسعيد بن المسيب، وعلقمة بن وقاص، وعبيد الله بن عبد الله، عن حديث، عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين قال لها اهل الافك ما قالوا فبراها الله، كل حدثني طايفة من الحديث قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان كنت بريية فسيبريك الله، وان كنت الممت بذنب فاستغفري الله وتوبي اليه ". قلت اني والله لا اجد مثلا الا ابا يوسف {فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون} وانزل الله {ان الذين جاءوا بالافك} العشر الايات
‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাতা উম্মু রূমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারণে জ্বর হয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হল ইয়াকুব (আঃ) এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ (আঃ)-এর ন্যায়। [ইয়াকুব (আঃ) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন] বরং তোমরা এক মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ কাজেই ‘‘ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল।’’ [৩৩৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا ابو عوانة، عن حصين، عن ابي وايل، قال حدثني مسروق بن الاجدع، قال حدثتني ام رومان، وهى ام عايشة قالت بينا انا وعايشة اخذتها الحمى، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لعل في حديث تحدث ". قالت نعم وقعدت عايشة قالت مثلي ومثلكم كيعقوب وبنيه والله المستعان على ما تصفون
الَّتِيْ هُوَ فِيْ بَيْتِهَا عَنْ نَّفْسِهٰوَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ যে মহিলার ঘরে ইউসুফ ছিল, সে তাকে ফুসালাতে লাগল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল। সে বললঃ তোমাকে বলছি এদিকে এসো! (সূরাহ ইউসুফ ১২/২৩) وَقَالَ عِكْرِمَةُ (هَيْتَ لَكَ) بِالْحَوْرَانِيَّةِ هَلُمَّ وَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ تَعَالَهْ. ইকরামাহ বলেন, هَيْتَ আইস হুরানের ভাষা, ইবনু যুবায়র বলেন تَعَالَهْ এসো। ৪৬৯২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম, যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ স্থান এবং أَلْفَيَا তারা দু’জনে পেল। এ থেকে أَلْفَوْاآبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُوْنَ এর মধ্যে ت-কে পেশযুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। (তিনি এভাবে পড়তেন)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني احمد بن سعيد، حدثنا بشر بن عمر، حدثنا شعبة، عن سليمان، عن ابي وايل، عن عبد الله بن مسعود، قال هيت لك قال وانما نقروها كما علمناها {مثواه} مقامه {الفيا} وجدا {الفوا اباءهم} {الفينا} وعن ابن مسعود {بل عجبت ويسخرون}
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসলামের দা’ওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহর নিকটে আরয করলেন, হে আল্লাহ্! যেমনিভাবে আপনি ইউসুফ (আঃ)-এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনিভাবে ওদের ওপর দুর্ভিক্ষ অবতীর্ণ করুন। তারপর কুরাইশগণ এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল; এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত। আল্লাহ্ বলেন, فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ ‘সেদিনের অপেক্ষায় থাক, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে।’ (সূরাহ দুখান ৪৪/১০) আল্লাহ্ আরও বলেনঃ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ ‘‘আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব, যেন তোমরা (পূর্বাবস্থায়) ফিরে আস’’- (সূরাহ দুখান ৪৪/১৫)। কিয়ামতের দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دُخَانُ ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن عبد الله رضى الله عنه ان قريشا لما ابطيوا عن النبي صلى الله عليه وسلم بالاسلام قال " اللهم اكفنيهم بسبع كسبع يوسف " فاصابتهم سنة حصت كل شىء حتى اكلوا العظام حتى جعل الرجل ينظر الى السماء فيرى بينه وبينها مثل الدخان قال الله {فارتقب يوم تاتي السماء بدخان مبين} قال الله {انا كاشفو العذاب قليلا انكم عايدون} افيكشف عنهم العذاب يوم القيامة، وقد مضى الدخان ومضت البطشة
حدثني محمد، حدثنا احمد بن ابي شعيب، حدثنا موسى بن اعين، حدثنا اسحاق بن راشد، ان الزهري، حدثه قال اخبرني عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك، عن ابيه، قال سمعت ابي كعب بن مالك،، وهو احد الثلاثة الذين تيب عليهم انه لم يتخلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة غزاها قط غير غزوتين غزوة العسرة وغزوة بدر. قال فاجمعت صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى، وكان قلما يقدم من سفر سافره الا ضحى وكان يبدا بالمسجد، فيركع ركعتين، ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن كلامي وكلام صاحبى، ولم ينه عن كلام احد من المتخلفين غيرنا، فاجتنب الناس كلامنا، فلبثت كذلك حتى طال على الامر، وما من شىء اهم الى من ان اموت فلا يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم او يموت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكون من الناس بتلك المنزلة، فلا يكلمني احد منهم، ولا يصلي على، فانزل الله توبتنا على نبيه صلى الله عليه وسلم حين بقي الثلث الاخر من الليل، ورسول الله صلى الله عليه وسلم عند ام سلمة، وكانت ام سلمة محسنة في شاني معنية في امري، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا ام سلمة تيب على كعب ". قالت افلا ارسل اليه فابشره قال " اذا يحطمكم الناس فيمنعونكم النوم ساير الليلة ". حتى اذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الفجر اذن بتوبة الله علينا، وكان اذا استبشر استنار وجهه حتى كانه قطعة من القمر، وكنا ايها الثلاثة الذين خلفوا عن الامر الذي قبل من هولاء الذين اعتذروا حين انزل الله لنا التوبة، فلما ذكر الذين كذبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم من المتخلفين، واعتذروا بالباطل، ذكروا بشر ما ذكر به احد قال الله سبحانه {يعتذرون اليكم اذا رجعتم اليهم قل لا تعتذروا لن نومن لكم قد نبانا الله من اخباركم وسيرى الله عملكم ورسوله} الاية
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابن السباق، ان زيد بن ثابت الانصاري رضى الله عنه وكان ممن يكتب الوحى قال ارسل الى ابو بكر مقتل اهل اليمامة وعنده عمر، فقال ابو بكر ان عمر اتاني فقال ان القتل قد استحر يوم اليمامة بالناس، واني اخشى ان يستحر القتل بالقراء في المواطن فيذهب كثير من القران، الا ان تجمعوه، واني لارى ان تجمع القران. قال ابو بكر قلت لعمر كيف افعل شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر هو والله خير. فلم يزل عمر يراجعني فيه حتى شرح الله لذلك صدري، ورايت الذي راى عمر. قال زيد بن ثابت وعمر عنده جالس لا يتكلم. فقال ابو بكر انك رجل شاب عاقل ولا نتهمك، كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القران فاجمعه. فوالله لو كلفني نقل جبل من الجبال ما كان اثقل على مما امرني به من جمع القران قلت كيف تفعلان شييا لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر هو والله خير، فلم ازل اراجعه حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر ابي بكر وعمر، فقمت فتتبعت القران اجمعه من الرقاع والاكتاف والعسب وصدور الرجال، حتى وجدت من سورة التوبة ايتين مع خزيمة الانصاري، لم اجدهما مع احد غيره {لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم} الى اخرهما، وكانت الصحف التي جمع فيها القران عند ابي بكر حتى توفاه الله، ثم عند عمر حتى توفاه الله، ثم عند حفصة بنت عمر. تابعه عثمان بن عمر والليث عن يونس عن ابن شهاب. وقال الليث حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب وقال مع ابي خزيمة الانصاري. وقال موسى عن ابراهيم حدثنا ابن شهاب مع ابي خزيمة. وتابعه يعقوب بن ابراهيم عن ابيه. وقال ابو ثابت حدثنا ابراهيم وقال مع خزيمة، او ابي خزيمة
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة واليهود تصوم عاشوراء فقالوا هذا يوم ظهر فيه موسى على فرعون. فقال النبي صلى الله عليه وسلم لاصحابه " انتم احق بموسى منهم، فصوموا
حدثنا الحسن بن محمد بن صباح، حدثنا حجاج، قال قال ابن جريج اخبرني محمد بن عباد بن جعفر، انه سمع ابن عباس، يقرا {الا انهم تثنوني صدورهم} قال سالته عنها فقال اناس كانوا يستحيون ان يتخلوا فيفضوا الى السماء، وان يجامعوا نساءهم فيفضوا الى السماء، فنزل ذلك فيهم
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سعيد، وهشام، قالا حدثنا قتادة، عن صفوان بن محرز، قال بينا ابن عمر يطوف اذ عرض رجل فقال يا ابا عبد الرحمن او قال يا ابن عمر سمعت النبي صلى الله عليه وسلم في النجوى فقال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " يدنى المومن من ربه وقال هشام يدنو المومن حتى يضع عليه كنفه، فيقرره بذنوبه تعرف ذنب كذا يقول اعرف، يقول رب اعرف مرتين، فيقول سترتها في الدنيا واغفرها لك اليوم ثم تطوى صحيفة حسناته، واما الاخرون او الكفار فينادى على رءوس الاشهاد هولاء الذين كذبوا على ربهم ". وقال شيبان عن قتادة حدثنا صفوان
وقال حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الصمد، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار، عن ابيه، عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الكريم بن الكريم بن الكريم بن الكريم يوسف بن يعقوب بن اسحاق بن ابراهيم