Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক প্রয়োজনে সত্তরজন সাহাবীকে পাঠালেন, যাদের ক্বারী বলা হত। বানী সুলায়ম গোত্রের দু’টি শাখা- রিল ও যাকওয়ান বি’রে মাউনা নামক একটি কূপের নিকট তাদেরকে আক্রমণ করলে তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করার উদ্দেশে আসিনি। আমরা তো কেবল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশিত একটি কাজের জন্য এ পথ দিয়ে যাচ্ছি। তখন তারা তাদেরকে হত্যা করে ফেলল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ফজরের সালাতে তাদের জন্য বদদু‘আ করলেন। এভাবেই কুনূত পড়া শুরু হয়। এর পূর্বে আমরা কুনূত পড়িনি। ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেন, এক ব্যক্তি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কুনূত কি রুকূর পর পড়তে হবে, না কিরাআত শেষ করে পড়তে হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না বরং কিরাআত শেষ করে পড়তে হবে। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، حدثنا عبد العزيز، عن انس رضى الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سبعين رجلا لحاجة يقال لهم القراء، فعرض لهم حيان من بني سليم رعل وذكوان، عند بير يقال لها بير معونة، فقال القوم والله ما اياكم اردنا، انما نحن مجتازون في حاجة للنبي صلى الله عليه وسلم، فقتلوهم فدعا النبي صلى الله عليه وسلم عليهم شهرا في صلاة الغداة، وذلك بدء القنوت وما كنا نقنت. قال عبد العزيز وسال رجل انسا عن القنوت ابعد الركوع، او عند فراغ من القراءة قال لا بل عند فراغ من القراءة
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস ব্যাপী আরবের কতিপয় গোত্রের প্রতি বদদু‘আ করার জন্য সালাতে রুকূর পর কুনূত পাঠ করেছেন। [1] [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم، حدثنا هشام، حدثنا قتادة، عن انس، قال قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرا بعد الركوع يدعو على احياء من العرب
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রি‘ল, যাকওয়ান, উসায়্যা ও বনূ লিহ্ইয়ানের লোকেরা শত্রুর মুকাবালা করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাহায্য চাইলে সত্তরজন আনসার সাহাবী পাঠিয়ে তিনি তদেরকে সাহায্য করলেন। সেকালে আমরা তাদেরকে ক্বারী নামে অভিহিত করতাম। তারা দিনে লাকড়ি জুটাতেন এবং রাতে সালাতে কাটাতেন। যেতে যেতে তাঁরা বি‘রে মাউনার নিকট পৌঁছলে তারা (ঐ গোত্রগুলির লোকেরা) তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তাঁদেরকে শহীদ করে দেয়। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি এক মাস পর্যন্ত ফজরের সালাতে আরবের কতিপয় গোত্র যথা রিল, যাকওয়ান, উসায়্যাহ এবং বনূ লিহ্ইয়ানের প্রতি বদদু‘আ করে কুনূত পাঠ করেন। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পর্কিত কিছু আয়াত আমরা পাঠ করতাম। অবশ্য পরে এর তিলাওয়াত রহিত হয়ে যায়। (একটি আয়াত ছিল) بَلِّغُوْا عَنَّا قَوْمَنَا أَنَّا لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا অর্থাৎ আমাদের কাওমের লোকদেরকে জানিয়ে দাও। আমরা আমাদের প্রভুর সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলেছেন, আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ফজরের সালাতে আরবের কতিপয় গোত্র- তথা রি‘ল, যাকওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহ্ইয়ানের প্রতি বদদু‘আ করে কুনূত পাঠ করেছেন। [ইমাম বুখারী (রহ.)-এর উস্তাদ] খলীফা (রহ.) এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু যুরায় (রহ.) ও সা‘ঈদ ও ক্বাতাদাহ (রহ.)-এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা সত্তরজন সকলেই ছিলেন আনসার। তাঁদেরকে বি‘রে মাউনা নামক স্থানে শাহীদ করা হয়েছিল। [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, এখানে قُرْآنًا শব্দটি কিতাব বা অনুরূপ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الاعلى بن حماد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن انس بن مالك رضى الله عنه ان رعلا، وذكوان وعصية وبني لحيان استمدوا رسول الله صلى الله عليه وسلم على عدو، فامدهم بسبعين من الانصار، كنا نسميهم القراء في زمانهم، كانوا يحتطبون بالنهار ويصلون بالليل، حتى كانوا ببير معونة قتلوهم، وغدروا بهم، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم، فقنت شهرا يدعو في الصبح على احياء من احياء العرب، على رعل وذكوان وعصية وبني لحيان. قال انس فقرانا فيهم قرانا ثم ان ذلك رفع بلغوا عنا قومنا، انا لقينا ربنا، فرضي عنا وارضانا. وعن قتادة عن انس بن مالك حدثه ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قنت شهرا في صلاة الصبح يدعو على احياء من احياء العرب، على رعل وذكوان وعصية وبني لحيان. زاد خليفة حدثنا ابن زريع، حدثنا سعيد، عن قتادة، حدثنا انس، ان اوليك السبعين، من الانصار قتلوا ببير معونة، قرانا كتابا. نحوه
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মামা উম্মু সুলায়ম-এর ভাই [হারাম ইবনু মিলহান (রাঃ)]-কে সত্তরজন অশ্বারোহীসহ (আমির ইবনু তুফাইলের নিকট) পাঠালেন। মুশরিকদের দলপতি আমির ইবনু তুফায়ল (পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সে বলেছিল, পল্লী এলাকায় আপনার কর্তৃত্ব থাকবে এবং শহর এলাকায় আমার কর্তৃত্ব থাকবে। অথবা আমি আপনার খালীফাহ হব বা গাতফান গোত্রের দুই হাজার সৈন্য নিয়ে আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এরপর আমির উম্মু ফুলানোর গৃহে মহামারীতে আক্রান্ত হল। সে বলল, অমুক গোত্রের মহিলার বাড়িতে উটের যেমন ফোঁড়া হয় আমারও তেমন ফোঁড়া হয়েছে। তোমরা আমার ঘোড়া নিয়ে আস। তারপর ঘোড়ার পিঠেই সে মারা যায়। উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-এর ভাই হারাম [ইবনু মিলহান (রাঃ)] এক খোঁড়া ব্যক্তি ও কোন এক গোত্রের অপর ব্যক্তি সহ সে এলাকার দিকে রওয়ানা করলেন। [হারাম ইবনু মিলহান (রাঃ)] তার দুই সঙ্গীকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা নিকটেই অবস্থান কর। আমিই তাদের নিকট যাচ্ছি। তারা যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে তোমরা এখানেই থাকবে। আর যদি তারা আমাকে শাহীদ করে দেয় তাহলে তোমরা তোমাদের সঙ্গীদের কাছে চলে যাবে। এরপর তিনি (তাদের নিকট গিয়ে) বললেন, তোমরা (আমাকে) নিরাপত্তা দিবে কি? দিলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতাম। তিনি তাদের সঙ্গে এ ধরনের আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় তারা এক ব্যক্তিকে ইশারা করলে সে পেছন থেকে এসে তাঁকে বর্শা দ্বারা আঘাত করল। হাম্মাম (রহ.) বলেন, আমার মনে হয় আমার শায়খ [ইসহাক (রহ.)] বলেছিলেন যে, বর্শা দ্বারা আঘাত করে এপার ওপার করে দিয়েছিল। (আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে) হারাম ইবনু মিলহান (রাঃ) বললেন, আল্লাহু আকবার, কাবার প্রভুর শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর উক্ত (হারামের সঙ্গী) লোকটি ব্যতীত সকলেই নিহত হলেন। খোঁড়া লোকটি ছিলেন পর্বতের চূড়ায়। এরপর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের প্রতি (একখানা) আয়াত অবতীর্ণ করলেন যা পরে মানসূখ হয়ে যায়। আয়াতটি ছিল এইঃ إِنَّا قَدْ لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا ‘‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন।’’ তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশ দিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে রি‘ল, যাকওয়ান, বনূ লিহ্ইয়ান এবং উসায়্যা গোত্রের জন্য বদদু‘আ করেছেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا همام، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، قال حدثني انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث خاله اخ لام سليم في سبعين راكبا، وكان رييس المشركين عامر بن الطفيل خير بين ثلاث خصال فقال يكون لك اهل السهل، ولي اهل المدر، او اكون خليفتك، او اغزوك باهل غطفان بالف والف، فطعن عامر في بيت ام فلان فقال غدة كغدة البكر في بيت امراة من ال فلان ايتوني بفرسي. فمات على ظهر فرسه، فانطلق حرام اخو ام سليم هو {و} رجل اعرج ورجل من بني فلان قال كونا قريبا حتى اتيهم، فان امنوني كنتم، وان قتلوني اتيتم اصحابكم. فقال اتومنوني ابلغ رسالة رسول الله صلى الله عليه وسلم. فجعل يحدثهم واوميوا الى رجل، فاتاه من خلفه فطعنه قال همام احسبه حتى انفذه بالرمح، قال الله اكبر فزت ورب الكعبة. فلحق الرجل، فقتلوا كلهم غير الاعرج كان في راس جبل، فانزل الله علينا، ثم كان من المنسوخ انا قد لقينا ربنا فرضي عنا وارضانا. فدعا النبي صلى الله عليه وسلم عليهم ثلاثين صباحا، على رعل وذكوان وبني لحيان وعصية، الذين عصوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মামা হারাম ইবনু মিলহান (রাঃ)-কে বি‘রে মাউনার দিন বর্শা বিদ্ধ করা হলে তিনি এভাবে দু’হাতে রক্ত নিয়ে নিজের চেহারা ও মাথায় মেখে বললেন, কা’বার প্রভুর কসম, আমি সফলকাম হয়েছি। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني حبان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، قال حدثني ثمامة بن عبد الله بن انس، انه سمع انس بن مالك رضى الله عنه يقول لما طعن حرام بن ملحان وكان خاله يوم بير معونة قال بالدم هكذا، فنضحه على وجهه وراسه، ثم قال فزت ورب الكعبة
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কার কাফিরদের) অত্যাচার চরম আকার ধারণ করলে আবূ বাকর (রাঃ) (মক্কা ছেড়ে) বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে বললেন, অবস্থান কর। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি কামনা করেন যে, আপনাকে অনুমতি দেয়া হোক? তিনি বললেন, আমি তো তাই আশা করি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অপেক্ষা করলেন। একদিন যুহরের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাঁকে ডেকে বললেন, তোমার কাছে যারা আছে তাদেরকে সরিয়ে দাও। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, এরা তো আমার দু’ মেয়ে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান আমাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারব? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আমার সঙ্গে যেতে পারবে। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে দু’টি উটনী আছে। এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্যই এ দু’টিকে আমি প্রস্তুত করে রেখেছি। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’টি উটের একটি উট প্রদান করলেন। এ উটটি ছিল কান-নাক কাটা। তাঁরা উভয়ে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হলেন এবং সওর পর্বতের গুহায় পৌঁছে তাতে লুকিয়ে থাকলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বৈমাত্রের ভাই ‘আমির ইবনু ফুহাইরাহ ছিলেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু তুফাইল ইবনু সাখ্বারার গোলাম। আবূ বাকর (রাঃ)-এর একটি দুধের গাভী ছিল। তিনি (আমির ইবনু ফুহাইরা) সেটিকে সন্ধ্যাবেলা চরাতে নিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের দু’জনের কাছে নিয়ে যেতেন এবং ভোরবেলা তাঁদের (কাফিরের) কাছে নিয়ে যেতেন। কোন রাখালই এ বিষয়টি বুঝতে পারত না। তাঁরা দু’জন গারে সাওর থেকে বের হলে তিনিও তাদের সঙ্গে রওয়ানা হলেন। তাঁরা মদিনা পৌঁছে যান। ‘আমির ইবনু ফুহাইরাহ পরবর্তীকালে বি‘রে মাউনার দুর্ঘটনায় শাহাদাত লাভ করেন। (অন্য সানাদে) আবূ উসামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, বি‘রে মাউনা গমনকারীরা শাহীদ হলে ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ যামরী বন্দী হলেন। তাঁকে আমির ইবনু তুফায়ল এক নিহত ব্যক্তির লাশ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এ ব্যক্তি কে? ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ বললেন, ইনি হচ্ছেন ‘আমির ইবনু ফুহাইরাহ। তখন সে (আমির ইবনু তুফায়ল) বলল, আমি দেখলাম, নিহত হওয়ার পর তার লাশ আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি আমি তার লাশ আসমান যমীনের মাঝে দেখেছি। এরপর তা (যমীনের উপর) রেখে দেয়া হল। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি সাহাবীগণকে তাদের শাহাদাতের সংবাদ জানিয়ে বললেন, তোমাদের সাথীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট এবং আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট- এ সংবাদ আমাদের ভাইদের কাছে পৌঁছে দিন। তাই মহান আল্লাহ তাঁদের এ সংবাদ মুসলিমদের কাছে পৌঁছিয়ে দিলেন। ঐ দিনের নিহতদের মধ্যে ‘উরওয়াহ ইবনু আসমা ইবনু সাল্লাত (রাঃ)-ও ছিলেন। তাই এ নামেই ‘উরওয়াহ (ইবনু যুবায়রের)-এর নামকরণ করা হয়েছে। আর মুনযির ইবনু ‘আমর (রাঃ)-ও এ দিন শাহাদাত লাভ করেছিলেন। তাই এ নামেই মুনযির-এর নামকরণ করা হয়েছে। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস ব্যাপী সালাতে রুকূর পরে কুনূত পাঠ পড়েছেন। এতে তিনি রি‘ল, যাকওয়ান গোত্রের জন্য বদদু‘আ করেছেন। তিনি বলেন, উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করেছে। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا سليمان التيمي، عن ابي مجلز، عن انس رضى الله عنه قال قنت النبي صلى الله عليه وسلم بعد الركوع شهرا يدعو على رعل وذكوان ويقول " عصية عصت الله ورسوله
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা বি‘রে মাউনার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণকে শহীদ করেছিল সে হত্যাকারী রি‘ল, যাকওয়ান, বানী লিহ্ইয়ান এবং উসায়্যা গোত্রের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশদিন ব্যাপী ফজরের সালাতে বদদু‘আ করেছেন। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, বি‘রে মাউনা নামক স্থানে যারা শাহাদাত লাভ করেছেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেছিলেন। আমরা তা পাঠ করতাম। অবশ্য পরে এর তিলাওয়াত রহিত হয়ে গেছে। (আয়াতটি হল) بَلِّغُوْا قَوْمَنَا فَقَدْ لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِيْنَا عَنْهُ অর্থাৎ আমাদের কাওমের কাছে এ খবর পৌঁছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، عن انس بن مالك، قال دعا النبي صلى الله عليه وسلم على الذين قتلوا يعني اصحابه ببير معونة ثلاثين صباحا حين يدعو على رعل ولحيان وعصية عصت الله ورسوله صلى الله عليه وسلم. قال انس فانزل الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم في الذين قتلوا اصحاب بير معونة قرانا قراناه حتى نسخ بعد بلغوا قومنا فقد لقينا ربنا فرضي عنا ورضينا عنه
‘আসিমুল আহ্ওয়াল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সালাতে (দু‘আ) কুনূত পড়তে হবে কি না-এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, হ্যাঁ পড়তে হবে। আমি বললাম, রুকূর আগে পড়তে হবে, না পরে? তিনি বললেন, রুকূর আগে। আমি বললাম, অমুক ব্যক্তি আপনার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আপনি রুকূর পর কুনূত পাঠ করার কথা বলেছেন। তিনি বললেন, সে মিথ্যে বলেছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র একমাস ব্যাপী রুকূর পর কুনূত পাঠ করেছেন। এর কারণ ছিল এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তরজন কারীর একটি দলকে মুশরিকদের নিকট কোন এক কাজে পাঠিয়েছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদের মধ্যে চুক্তি ছিল। আক্রমণকারীরা বিজয়ী হল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি বদদু‘আ করে সালাতে রুকূর পর এক মাস ব্যাপী কুনূত পাঠ করেছেন। [১০০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد الواحد، حدثنا عاصم الاحول، قال سالت انس بن مالك رضى الله عنه عن القنوت، في الصلاة فقال نعم. فقلت كان قبل الركوع او بعده قال قبله. قلت فان فلانا اخبرني عنك انك قلت بعده، قال كذب انما قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الركوع شهرا، انه كان بعث ناسا يقال لهم القراء، وهم سبعون رجلا الى ناس من المشركين، وبينهم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم عهد قبلهم، فظهر هولاء الذين كان بينهم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم عهد، فقنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الركوع شهرا يدعو عليهم
قَالَ مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ كَانَتْ فِيْ شَوَّالٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ. মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, এ যুদ্ধ ৪র্থ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে হয়েছিল। ৪০৯৭. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উহূদ যুদ্ধের দিন তিনি (যুদ্ধের জন্য) নিজেকে পেশ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেননি। তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। তবে খন্দক যুদ্ধের দিন তিনি নিজেকে পেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন। তখন তাঁর বয়স পনের বছর। [২৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، قال اخبرني نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم عرضه يوم احد وهو ابن اربع عشرة فلم يجزه، وعرضه يوم الخندق وهو ابن خمس عشرة فاجازه
সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরিখা খননের কাজে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। তাঁরা পরিখা খুঁড়ছিলেন আর আমরা কাঁধে মাটি বহন করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করেছিলেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের শান্তি ব্যতীত প্রকৃত কোন শান্তি নেই। আপনি মুহাজির এবং আনসারদেরকে ক্ষমা করে দিন। [৩৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني قتيبة، حدثنا عبد العزيز، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في الخندق، وهم يحفرون، ونحن ننقل التراب على اكتادنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم لا عيش الا عيش الاخره، فاغفر للمهاجرين والانصار
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে পরিখা খননের স্থানে উপস্থিত হন। আনসার ও মুহাজিরগণ একদিন ভোরে তীব্র শীতের মধ্যে পরিখা খনন করছিলেন। তাদের কোন গোলাম বা ক্রীতদাস ছিল না যে, তারা তাদেরকে এ কাজে নিয়োগ করবেন। ঠিক এমনি সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। তাদের অনাহার ক্লিষ্টতা ও কষ্ট দেখে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের সুখ শান্তিই প্রকৃত সুখ শান্তি। তুমি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করে দাও। সাহাবীগণ এর উত্তরে বললেন- ‘‘আমরা সে সব লোক, যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি জিহাদের জন্য।’’ [২৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا معاوية بن عمرو، حدثنا ابو اسحاق، عن حميد، سمعت انسا رضى الله عنه يقول خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم الى الخندق، فاذا المهاجرون والانصار يحفرون في غداة باردة، فلم يكن لهم عبيد يعملون ذلك لهم، فلما راى ما بهم من النصب والجوع قال " اللهم ان العيش عيش الاخره فاغفر للانصار والمهاجره " فقالوا مجيبين له نحن الذين بايعوا محمدا على الجهاد ما بقينا ابدا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরগণ মদিনার চারপাশে খাল খনন করছিলেন আর পিঠে মাটি বহন করছিলেন। আর (খুশিতে) আবৃত্তি করছিলেন- ‘‘আমরা সে সব লোক, যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি জিহাদের জন্য।’’ বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ কথার উত্তরে বলতেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত আর কোন কল্যাণ নেই, তাই আনসার ও মুহাজিরদের কাজে বারাকাত দান করুন। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বর্ণনা করছেন যে, তাদেরকে এক মুষ্টি ভরে যব দেয়া হত। তা বাসি, স্বাদবিকৃত চর্বিতে মিশিয়ে খাবার রান্না করে ক্ষুধার্ত লোকগুলোর সামনে পরিবেশন করা হত। যদিও এ খাদ্য ছিল একেবারে স্বাদহীন ও ভীষণ দূর্গন্ধময়। [২৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، عن عبد العزيز، عن انس رضى الله عنه قال جعل المهاجرون والانصار يحفرون الخندق حول المدينة، وينقلون التراب على متونهم وهم يقولون نحن الذين بايعوا محمدا على الاسلام ما بقينا ابدا قال يقول النبي صلى الله عليه وسلم وهو يجيبهم " اللهم انه لا خير الا خير الاخره، فبارك في الانصار والمهاجره ". قال يوتون بملء كفى من الشعير فيصنع لهم باهالة سنخة توضع بين يدى القوم، والقوم جياع، وهى بشعة في الحلق ولها ريح منتن
আইমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, খন্দকের দিন আমরা পরিখা খনন করছিলাম। এ সময় একখন্ড কঠিন পাথর বেরিয়ে আসলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, খন্দকের ভিতর একটি শক্ত পাথর বেরিয়েছে। তখন তিনি বললেন, আমি নিজে খন্দকে নামব। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন। আর তাঁর পেটে একটি পাথর বাঁধা ছিল। আর আমরাও তিন দিন ধরে অনাহারী ছিলাম। কোন কিছুর স্বাদই চাখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একখানা কোদাল হাতে নিয়ে পাথরটিতে আঘাত করলেন। ফলে তৎক্ষণাৎ তা চূর্ণ হয়ে বালুকারাশিতে পরিণত হল। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন। (বাড়ি পৌঁছে) আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে আমি এমন কিছু দেখলাম যা আমি সহ্য করতে পারছি না। তোমার নিকট কোন খাবার আছে কি? সে বলল, আমার কাছে কিছু যব ও একটি বাকরীর বাচ্চা আছে। তখন বাকরীর বাচ্চাটি আমি যবহ করলাম এবং সে যব পিষে দিল। এরপর গোশত ডেকচিতে দিয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। এ সময় আটা খামির হচ্ছিল এবং ডেকচি চুলার উপর ছিল ও গোশত প্রায় রান্না হয়ে আসছিল। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার (বাড়ীতে) সামান্য কিছু খাবার আছে। আপনি একজন বা দু’জন সঙ্গে নিয়ে চলুন। তিনি বললেন, কী পরিমাণ খাবার আছে? আমি তাঁর কাছে সব খুলে বললাম। তিনি বললেন, এ-তো অনেক বেশ ভাল। তিনি বললেন, তোমার স্ত্রীকে গিয়ে বল, আমি না আসা পর্যন্ত উনান থেকে ডেকচি ও রুটি যেন না নামায়। এরপর তিনি বললেন, উঠ! মুহাজির ও আনসারগণ উঠলেন। জাবির (রাঃ) তার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার সর্বনাশ হোক! নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মুহাজির, আনসার আর তাঁদের সাথীদের নিয়ে চলে এসেছেন। তিনি (জাবিরের স্ত্রী বললেন, তিনি কি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত হয়ে) বললেন, তোমরা সকলেই প্রবেশ কর কিন্তু ভিড় করো না। এ ব’লে তিনি রুটি টুকরো করে এর উপর গোশত দিয়ে সাহাবীগণের মাঝে বিতরণ করতে শুরু করলেন। তিনি ডেকচি এবং উনান ঢেকে রেখেছিলেন। এমনি করে তিনি রুটি টুকরো করে হাত ভরে বিতরণ করতে লাগলেন। এতে সকলে পেট পুরে খাওয়ার পরেও কিছু বাকী রয়ে গেল। তিনি (জাবিরের স্ত্রীকে) বললেন, এ তুমি খাও এবং অন্যকে হাদিয়া দাও। কেননা লোকদেরও ক্ষুধা পেয়েছে। [৩০৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا خلاد بن يحيى، حدثنا عبد الواحد بن ايمن، عن ابيه، قال اتيت جابرا رضى الله عنه فقال انا يوم الخندق نحفر فعرضت كدية شديدة، فجاءوا النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا هذه كدية عرضت في الخندق، فقال " انا نازل ". ثم قام وبطنه معصوب بحجر، ولبثنا ثلاثة ايام لا نذوق ذواقا، فاخذ النبي صلى الله عليه وسلم المعول فضرب، فعاد كثيبا اهيل او اهيم، فقلت يا رسول الله ايذن لي الى البيت. فقلت لامراتي رايت بالنبي صلى الله عليه وسلم شييا، ما كان في ذلك صبر، فعندك شىء قالت عندي شعير وعناق. فذبحت العناق وطحنت الشعير، حتى جعلنا اللحم في البرمة، ثم جيت النبي صلى الله عليه وسلم والعجين قد انكسر، والبرمة بين الاثافي قد كادت ان تنضج فقلت طعيم لي، فقم انت يا رسول الله ورجل او رجلان. قال " كم هو ". فذكرت له، قال " كثير طيب ". قال " قل لها لا تنزع البرمة ولا الخبز من التنور حتى اتي ". فقال " قوموا ". فقام المهاجرون والانصار، فلما دخل على امراته قال ويحك جاء النبي صلى الله عليه وسلم بالمهاجرين والانصار ومن معهم. قالت هل سالك قلت نعم. فقال " ادخلوا ولا تضاغطوا ". فجعل يكسر الخبز ويجعل عليه اللحم، ويخمر البرمة والتنور اذا اخذ منه، ويقرب الى اصحابه ثم ينزع، فلم يزل يكسر الخبز ويغرف حتى شبعوا وبقي بقية قال " كلي هذا واهدي، فان الناس اصابتهم مجاعة
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন পরিখা খনন করা হচ্ছিল তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভীষণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম। তখন আমি আমার স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কাছে কোন কিছু আছে কি? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দারুন ক্ষুধার্ত দেখেছি। তিনি একটি চামড়ার পাত্র এনে তা থেকে এক সা‘ পরিমাণ যব বের করে দিলেন। আমার বাড়ীতে একটা বাকরীর বাচ্চা ছিল। আমি সেটি যবহ করলাম। আর সে (আমার স্ত্রী যব পিষে দিল। আমি আমার কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সেও তার কাজ শেষ করল এবং গোশত কেটে কেটে ডেকচিতে ভরলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে চললাম। তখন সে (স্ত্রী বলল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের নিকট লজ্জিত করবেন না। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে চুপে চুপে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের একটি বাকরীর বাচ্চা যবহ করেছি এবং আমাদের ঘরে এক সা যব ছিল। তা আমার স্ত্রী পিষে দিয়েছে। আপনি আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে সবাইকে বললেন, হে পরিখা খননকারীরা! জাবির খানার ব্যবস্থা করেছে। এসো, তোমরা সকলেই চল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার আসার পূর্বে তোমাদের ডেকচি নামাবে না এবং খামির থেকে রুটিও তৈরি করবে না। আমি (বাড়ীতে) আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবা-ই-কিরামসহ আসলেন। এরপর আমি আমার স্ত্রীর নিকট আসলে সে বলল, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আমি বললাম, তুমি যা বলেছ আমি তাই করেছি। এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আটার খামির বের করে দিলে তিনি তাতে মুখের লালা মিশিয়ে দিলেন এবং বারাকাতের জন্য দু‘আ করলেন। এরপর তিনি ডেকচির কাছে এগিয়ে গেলেন এবং তাতে মুখের লালা মিশিয়ে এর জন্য বারাকাতের দু‘আ করলেন। তারপর বললেন, রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডাক। সে আমার কাছে বসে রুটি প্রস্তুত করুক এবং ডেকচি থেকে পেয়ালা ভরে গোশত বেড়ে দিক। তবে (উনুন হতে) ডেকচি নামাবে না। তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় এক হাজার। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তাঁরা সকলেই তৃপ্তি সহকারে খেয়ে বাকী খাদ্য রেখে চলে গেলেন। অথচ আমাদের ডেকচি আগের মতই টগবগ করছিল আর আমাদের আটার খামির থেকেও আগের মতই রুটি তৈরি হচ্ছিল। [৩০৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عمرو بن علي، حدثنا ابو عاصم، اخبرنا حنظلة بن ابي سفيان، اخبرنا سعيد بن ميناء، قال سمعت جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال لما حفر الخندق رايت بالنبي صلى الله عليه وسلم خمصا شديدا، فانكفات الى امراتي فقلت هل عندك شىء فاني رايت برسول الله صلى الله عليه وسلم خمصا شديدا. فاخرجت الى جرابا فيه صاع من شعير، ولنا بهيمة داجن فذبحتها، وطحنت الشعير ففرغت الى فراغي، وقطعتها في برمتها، ثم وليت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت لا تفضحني برسول الله صلى الله عليه وسلم وبمن معه. فجيته فساررته فقلت يا رسول الله ذبحنا بهيمة لنا وطحنا صاعا من شعير كان عندنا، فتعال انت ونفر معك. فصاح النبي صلى الله عليه وسلم فقال " يا اهل الخندق، ان جابرا قد صنع سورا فحى هلا بكم ". فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تنزلن برمتكم، ولا تخبزن عجينكم حتى اجيء ". فجيت وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم يقدم الناس حتى جيت امراتي، فقالت بك وبك. فقلت قد فعلت الذي قلت. فاخرجت له عجينا، فبصق فيه وبارك، ثم عمد الى برمتنا فبصق وبارك ثم قال " ادع خابزة فلتخبز معي واقدحي من برمتكم ولا تنزلوها"، وهم الف، فاقسم بالله لقد اكلوا حتى تركوه وانحرفوا، وان برمتنا لتغط كما هي، وان عجيننا ليخبز كما هو
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘যখন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল উঁচু অঞ্চল ও নীচু অঞ্চল হতে এবং তোমাদের চক্ষু বিস্ফারিত হয়েছিল ........’’- (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩/১০)। তিনি বলেন, এ আয়াতখানা খন্দকের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عثمان بن ابي شيبة، حدثنا عبدة، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة، رضى الله عنها {اذ جاءوكم من فوقكم ومن اسفل منكم واذ زاغت الابصار} قالت كان ذاك يوم الخندق
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দক যুদ্ধের দিন মাটি বহন করেছিলেন। এমনকি মাটি তাঁর পেট ঢেকে ফেলেছিল অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তাঁর পেট ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি বলছিলেনঃ আল্লাহর কসম! আল্লাহ হিদায়াত না করলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, দান সদাকাহ করতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না। সুতরাং (হে আল্লাহ!) আমাদের প্রতি রহমত অবতীর্ণ করুন এবং আমাদেরকে শত্রুর সঙ্গে মুকাবালা করার সময় দৃঢ়পদ রাখুন। নিশ্চয়ই মক্কা্বাসীরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহ করেছে। যখনই তারা ফিতনার প্রয়াস পেয়েছে তখনই আমরা এড়িয়ে গেছি। শেষের কথাগুলো বলার সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে ‘‘এড়িয়ে গেছি’’, ‘‘এড়িয়ে গেছি’’ বলে উঠেছেন। [২৮৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، عن البراء رضى الله عنه قال كان النبي صلى الله عليه وسلم ينقل التراب يوم الخندق حتى اغمر بطنه او اغبر بطنه يقول والله لولا الله ما اهتدينا ولا تصدقنا ولا صلينا فانزلن سكينة علينا وثبت الاقدام ان لاقينا ان الالى قد بغوا علينا اذا ارادوا فتنة ابينا ورفع بها صوته ابينا ابينا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে পূবের বাতাস দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, আর আদ জাতিকে পশ্চিমা বাতাস দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।[1] [১০৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى بن سعيد، عن شعبة، قال حدثني الحكم، عن مجاهد، عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " نصرت بالصبا واهلكت عاد بالدبور
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব (খন্দক) যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিখা খনন করেছেন। আমি তাঁকে খন্দকের মাটি বহন করতে দেখেছি। এমনকি ধূলাবালি পড়ার কারণে তার পেটের চামড়া ঢেকে গিয়েছিল। তিনি অধিকতর পশম বিশিষ্ট ছিলেন। সে সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাটি বহন রত অবস্থায় ইবনু রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করে শুনেছি। তিনি বলছিলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি যদি হিদায়াত না করতেন তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকাহ করতাম না এবং আমরা সালাতও আদায় করতাম না। সুতরাং আমাদের প্রতি আপনার শান্তি অবতীর্ণ করুন, এবং দুশমনের সম্মুখীন হওয়ার সময় আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন। অবশ্য মক্কা্বাসীরাই আমাদের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছে, তারা ফিতনা বিস্তার করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। বর্ণনাকারী (বারাআ) বলেন, শেষের কথাগুলি তিনি টেনে আবৃত্তি করছিলেন। [২৮৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني احمد بن عثمان، حدثنا شريح بن مسلمة، قال حدثني ابراهيم بن يوسف، قال حدثني ابي، عن ابي اسحاق، قال سمعت البراء، يحدث قال لما كان يوم الاحزاب، وخندق رسول الله صلى الله عليه وسلم رايته ينقل من تراب الخندق حتى وارى عني الغبار جلدة بطنه، وكان كثير الشعر، فسمعته يرتجز بكلمات ابن رواحة، وهو ينقل من التراب يقول اللهم لولا انت ما اهتدينا ولا تصدقنا ولا صلينا فانزلن سكينة علينا وثبت الاقدام ان لاقينا ان الالى قد بغوا علينا وان ارادوا فتنة ابينا قال ثم يمد صوته باخرها
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমে যে যুদ্ধে আমি অংশ নিয়েছিলাম সেটা খন্দকের যুদ্ধ ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبدة بن عبد الله، حدثنا عبد الصمد، عن عبد الرحمن هو ابن عبد الله بن دينار عن ابيه، ان ابن عمر رضى الله عنهما قال اول يوم شهدته يوم الخندق
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها قالت استاذن النبي صلى الله عليه وسلم ابو بكر في الخروج حين اشتد عليه الاذى، فقال له " اقم ". فقال يا رسول الله اتطمع ان يوذن لك، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " اني لارجو ذلك " قالت فانتظره ابو بكر فاتاه رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم ظهرا فناداه فقال " اخرج من عندك ". فقال ابو بكر انما هما ابنتاى. فقال " اشعرت انه قد اذن لي في الخروج ". فقال يا رسول الله الصحبة. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الصحبة ". قال يا رسول الله عندي ناقتان قد كنت اعددتهما للخروج. فاعطى النبي صلى الله عليه وسلم احداهما وهى الجدعاء، فركبا فانطلقا حتى اتيا الغار، وهو بثور، فتواريا فيه، فكان عامر بن فهيرة غلاما لعبد الله بن الطفيل بن سخبرة اخو عايشة لامها، وكانت لابي بكر منحة، فكان يروح بها ويغدو عليهم، ويصبح فيدلج اليهما ثم يسرح، فلا يفطن به احد من الرعاء، فلما خرج خرج معهما يعقبانه حتى قدما المدينة، فقتل عامر بن فهيرة يوم بير معونة. وعن ابي اسامة قال قال هشام بن عروة فاخبرني ابي قال لما قتل الذين ببير معونة واسر عمرو بن امية الضمري قال له عامر بن الطفيل من هذا فاشار الى قتيل، فقال له عمرو بن امية هذا عامر بن فهيرة. فقال لقد رايته بعد ما قتل رفع الى السماء حتى اني لانظر الى السماء بينه وبين الارض، ثم وضع. فاتى النبي صلى الله عليه وسلم خبرهم فنعاهم فقال " ان اصحابكم قد اصيبوا، وانهم قد سالوا ربهم، فقالوا ربنا اخبر عنا اخواننا بما رضينا عنك ورضيت عنا. فاخبرهم عنهم ". واصيب يوميذ فيهم عروة بن اسماء بن الصلت، فسمي عروة به، ومنذر بن عمرو سمي به منذرا