Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বদরের দিন সৈনিক সারিতে দাঁড়িয়ে আমি এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম, আমার ডানে ও বামে কম বয়সের দু’জন যুবক তাদের মত অল্প বয়স্ক দু’জন যুবকের পাশে আমি নিজেকে নিরাপদ বোধ করছিলাম না। এমতাবস্থায় তাদের একজন তার সঙ্গী থেকে লুকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল চাচাজী, আবূ জাহ্ল কোনটি আমাকে দেখিয়ে দিন? আমি বললাম, ভাতিজা, তা দিয়ে তুমি কী করবে? সে বলল, আমি আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছি, তাকে দেখলে তাকে হত্যা করব অন্যথায় নিজেই শহীদ হয়ে যাব। এরপর দ্বিতীয় যুবকটিও তাঁর সঙ্গী থেকে লুকিয়ে আমাকে এভাবেই জিজ্ঞেস করল। আমি এত সন্তুষ্ট হলাম যে, দু’জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাঝে আমি ততটুকু সন্তুষ্ট হতাম না। অতঃপর আমি তাদের দু’জনকে ইশারায় আবূ জাহ্লকে দেখিয়ে দিলাম। তখন তারা বাজ পাখির তীব্রতায় তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে আঘাত করল। এরা হল ‘আফরার দু‘ পুত্র। [৩১৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني يعقوب، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن جده، قال قال عبد الرحمن بن عوف اني لفي الصف يوم بدر اذ التفت، فاذا عن يميني وعن يساري فتيان حديثا السن، فكاني لم امن بمكانهما، اذ قال لي احدهما سرا من صاحبه يا عم ارني ابا جهل. فقلت يا ابن اخي، وما تصنع به قال عاهدت الله ان رايته ان اقتله او اموت دونه. فقال لي الاخر سرا من صاحبه مثله قال فما سرني اني بين رجلين مكانهما، فاشرت لهما اليه، فشدا عليه مثل الصقرين حتى ضرباه، وهما ابنا عفراء
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু ‘উমার ইবনু খাত্তাবের নাতি আসিম ইবনু সাবিত আনসারীর পরিচালনায় দশজন সাহাবীর একটি দল গোয়েন্দা কাজের জন্য পাঠালেন। তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থান হান্দায় পৌঁছলে হুযাইল গোত্রের একটি শাখা বানু লিহয়ানকে তাদের আগমনের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়। (এ সংবাদ শুনে) তারা প্রায় একশ’ জন তীরন্দাজ প্রস্তুত হয়ে মুসলিমদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য রওয়ানা হয়ে তাদের পদচিহ্ন ধরে পথ চলতে আরম্ভ করে। যেতে যেতে তারা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে অবস্থান করে সাহাবীগণ খেজুর খেয়েছিলেন। তা দেখে বানু লিহ্য়ানের লোকেরা ইয়াসরিবের খেজুর বলে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদেরকে খুঁজতে লাগল। আসিম ও তাঁর সঙ্গীগণ তাদের আগমন সম্পর্কে বুঝতে পেরে একটি স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। লিহয়ান কাওমের লোকেরা তাদেরকে ঘিরে ফেলে। তারপর তারা মুসলিমদেরকে নিচে নেমে আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে বলল, তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করব না। তখন আসিম ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আমার সাথী ভ্রাতৃবৃন্দ! কাফিরের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়ে আমি কখনো নিচে নামব না। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমাদের খবর আপনার নবীকে জানিয়ে দিন। এরপর তারা মুসলিমদের প্রতি তীর ছুঁড়তে শুরু করল এবং ‘আসিমকে (ছয়জন সহ) শহীদ করে ফেলল। বাকী তিনজন, খুবায়ব, যায়দ ইবনু দাসিনা এবং অপর একজন তাদের ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে তাদের নিকট নেমে আসলেন। শত্রুগণ তাঁদেরকে পরাস্ত করে নিজেদের ধনুকের রশি খুলে তা দিয়ে তাদেরকে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তৃতীয়জন বললেন, এটাই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না, আমার জন্য শহীদ সঙ্গীদের আদর্শই অনুসরণীয়। অর্থাৎ আমিও শহীদ হয়ে যাব। তারা তাকে বহু টানা হেচড়া করল। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলেন। (তারা তাঁকে শহীদ করে দিল) এরপর খুবায়ব এবং যায়িদ ইবনু দাসিনাকে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে বিক্রি করে দিল। এটা ছিল বাদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। বাদর যুদ্ধে খুবায়ব যেহেতু হারিস ইবনু আমিরকে হত্যা করেছিলেন। তাই (বদলা নেয়ার জন্য) হারিস ইবনু আমির ইবনু নাওফিলের পুত্রগণ তাঁকে ক্রয় করে নিল। খুবায়ব তাদের নিকট বন্দী অবস্থায় কাটাতে লাগলেন। এরপর তারা সবাই তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করল। তিনি হারিসের কোন এক কন্যার নিকট থেকে ক্ষৌরকর্মের জন্য একটি ক্ষুর চেয়ে নিলেন। হারিসের কন্যার অসতর্ক অবস্থায় তার একটি ছোট বাচ্চা খুবাইবের কাছে গিয়ে পৌঁছল। হারিসের কন্যা দেখতে পেল খুবায়ব তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রানের উপর বসিয়ে ক্ষুরখানা হাতে ধরে আছেন। হারিসের কন্যা বর্ণনা করেছে, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, খুবায়ব তা বুঝতে পারলেন, তিনি বললেন, আমি শিশুটিকে মেরে ফেলব বলে তুমি কি ভয় পেয়েছ? আমি কখনো এমন কাজ করব না। সে আরো বলেছে, আল্লাহর কসম! আমি খুবায়বের মত উত্তম বন্দী আর কখনো দেখিনি। আল্লাহর কসম একদিন আমি তাকে আঙ্গুরের গুচ্ছ হাতে নিয়ে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ সে লোহার শিকলে বাঁধা ছিল এবং সে সময় মক্কা্য় কোন ফলই ছিল না। হারিসের কন্যা বলত, ঐ আঙ্গুরগুলো আল্লাহ্ তা‘আলা খুবায়বকে রিয্কস্বরূপ দান করেছিলেন। অবশেষে একদিন তারা খুবায়বকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের সীমানার বাইরে নিয়ে গেল তখন খুবায়ব (রাঃ) তাদেরকে বললেন, আমাকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করার সুযোগ দাও, তারা সুযোগ দিলে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি, তোমরা এ কথা না ভাবলে আমি সালাত আরো দীর্ঘায়িত করতাম। এরপর তিনি এ বলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! তাদেরকে এক এক করে গুণে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে হত্যা কর এবং তাদের একজনকেও বাকী রেখ না। তারপর তিনি আবৃত্তি করলেনঃ ‘‘আমি যখন মুসলিম হয়ে মৃত্যুর সৌভাগ্য লাভ করছি, তাই আমার কোনই ভয় নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে যে কোন অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হোক। তা যেহেতু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই, তাই তিনি ইচ্ছে করলে আমার প্রতিটি কর্তিত অঙ্গে বারাকাত প্রদান করতে পারেন।’’ এরপর হারিসের পুত্র আবূ সারুআ ‘উকবাহ তাঁর দিকে দাঁড়াল এবং তাঁকে শহীদ করে দিল। এভাবেই খুবায়ব (রাঃ) সে সব মুসলিমের জন্য দু’ রাক‘আত সালাতের সুন্নাত চালু করে গেলেন যারা ধৈর্যের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐদিনই সাহাবীদেরকে জানিয়েছিলেন যে দিন তাঁরা শত্রু বেষ্টিত হয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। কুরাইশদের নিকট আসিম (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিমের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে আনার জন্য কতক কুরাইশ কাফিরকে প্রেরণ করল। যেহেতু (বদরের দিন) আসিম ইবনু সাবিত তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। এদিকে আল্লাহ্ ‘আসিমের লাশকে হিফাযাত করার জন্য মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন। মৌমাছিগুলো আসিম (রাঃ)-এর লাশকে শত্রু সেনাদের হাত থেকে রক্ষা করল। ফলে তারা তাঁর দেহের কোন অঙ্গ কেটে নিতে পারল না। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মুরারাহ ইবনু রাবী‘ আল ‘উমারী এবং হিলাল ইবনু ‘উমাইয়াহ আল ওয়াকিফী[1] সম্পর্কে লোকেরা বলেছেন যে, তাঁরা দু’জনই আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন এবং দু’জনই বাদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। [৩০৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, সা‘ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল (রাঃ) ছিলেন বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী একজন সাহাবী। তিনি জুমু‘আহর দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে ইবনু ‘উমারের নিকট জুমু‘আহর দিন এ খবর পৌঁছলে তিনি সাওয়ারীর পিঠে আরোহণ করে তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন বেলা হয়ে গেছে এবং জুমু‘আহর সালাতের সময়ও ঘনিয়ে আসছে দেখে তিনি জুমু‘আহর সালাত ছেড়ে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا ليث، عن يحيى، عن نافع، ان ابن عمر رضى الله عنهما ذكر له ان سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل وكان بدريا مرض في يوم جمعة فركب اليه بعد ان تعالى النهار واقتربت الجمعة، وترك الجمعة
(আর এক সানাদে) লায়স (রহ.) ..... ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম আয যুহরী সুবাই‘আহ বিনত হারিস আসলামিয়্যা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তার ঘটনা ও (গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত সম্পর্কে) তার প্রশ্নের উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে পত্র মারফত জিজ্ঞেস করে জানতে আদেশ করলেন। এরপর ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্কে লিখে জানালেন যে, সুবাই‘আহ বিনতুল হাসির তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের সাদ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন, সা‘দ (রাঃ) বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি বিদায় হাজ্জের বছর মারা যান। তখন তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। তার ইন্তিকালের কিছুদিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর নিফাস থেকে পবিত্র হয়েই তিনি বিবাহের পয়গাম দাতাদের উদ্দেশে সাজসজ্জা আরম্ভ করলেন। এ সময় আবদুদ্দার গোত্রের আবুস সানাবিল ইবনু বা’কাক নামক এক ব্যক্তি তাকে গিয়ে বললেন, কী ব্যাপার, আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি বিবাহের আশায় পয়গাম দাতাদের উদ্দেশে সাজসজ্জা আরম্ভ করে দিয়েছ? আল্লাহর কসম! চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তুমি বিবাহ করতে পারবে না। সুবাই‘আহ (রাঃ) বলেন, (আবুস সানাবিল আমাকে) এ কথা বলার পর আমি ঠিকঠাক মত কাপড় চোপড় পরিধান করে বিকেল বেলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞস করলাম। তখন তিনি বললেন, যখন আমি সন্তান প্রসব করেছি তখন থেকেই আমি হালাল হয়ে গেছি। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করার নির্দেশ দিলেন যদি আমার ইচ্ছে হয়। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আসবাগ....ইউনুসের সূত্রে লায়সের মতই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহ.) বলেছেন, ইউনুস আমার নিকট ইবনু শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের আযাদকৃত গোলাম মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাওবান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস ইবনু বুকায়র-এর পিতা তাকে জানিয়েছেন। [৫৩১৯; মুসলিম ১৮/৮, হাঃ ১৪৮৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب، قال حدثني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، ان اباه، كتب الى عمر بن عبد الله بن الارقم الزهري، يامره ان يدخل، على سبيعة بنت الحارث الاسلمية، فيسالها عن حديثها وعن ما قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم حين استفتته، فكتب عمر بن عبد الله بن الارقم الى عبد الله بن عتبة يخبره ان سبيعة بنت الحارث اخبرته انها كانت تحت سعد ابن خولة، وهو من بني عامر بن لوى، وكان ممن شهد بدرا، فتوفي عنها في حجة الوداع وهى حامل، فلم تنشب ان وضعت حملها بعد وفاته، فلما تعلت من نفاسها تجملت للخطاب، فدخل عليها ابو السنابل بن بعكك رجل من بني عبد الدار فقال لها ما لي اراك تجملت للخطاب ترجين النكاح فانك والله ما انت بناكح حتى تمر عليك اربعة اشهر وعشر. قالت سبيعة فلما قال لي ذلك جمعت على ثيابي حين امسيت، واتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالته عن ذلك، فافتاني باني قد حللت حين وضعت حملي، وامرني بالتزوج ان بدا لي. تابعه اصبغ عن ابن وهب عن يونس. وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب، وسالناه، فقال اخبرني محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان، مولى بني عامر بن لوى ان محمد بن اياس بن البكير، وكان، ابوه شهد بدرا اخبره
মু‘আয বিন রিফাআ‘ ইবনু রাফি ‘যুরাকী (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বাদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের একজন। তিনি বলেন, একদা জিব্রীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আপনারা বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী মুসলিমদেরকে কিরূপ গণ্য করেন? তিনি বললেন, তারা সর্বোত্তম মুসলিম অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) এরূপ কোন শব্দ তিনি বলেছিলেন। জিব্রীল (আ) বললেন, মালায়িকাদের মধ্যে বাদর যুদ্ধে যোগদানকারীগণও তেমনি মর্যাদার অধিকারী। [৩৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا جرير، عن يحيى بن سعيد، عن معاذ بن رفاعة بن رافع الزرقي، عن ابيه وكان ابوه من اهل بدر قال جاء جبريل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما تعدون اهل بدر فيكم قال من افضل المسلمين او كلمة نحوها قال وكذلك من شهد بدرا من الملايكة
মু‘আয ইবনু রিফাআ‘ ইবনু রাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত, রিফাঅ‘ (রাঃ) ছিলেন বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী একজন সাহাবী আর রাফি‘ (রাঃ) ছিলেন বায়‘আতে আকাবায় উপস্থিত একজন সাহাবী। রাফি‘ (রাঃ) তার পুত্র (রিফাআ‘)-কে বলতেন, বায়‘আতে ‘আকাবায় শরীক থাকার চেয়ে বাদর যুদ্ধে হাজির থাকা আমার কাছে অধিক আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না। কেননা জিবরীল (আঃ) এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن يحيى، عن معاذ بن رفاعة بن رافع،، وكان، رفاعة من اهل بدر، وكان رافع من اهل العقبة، فكان يقول لابنه ما يسرني اني شهدت بدرا بالعقبة قال سال جبريل النبي صلى الله عليه وسلم. بهذا
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا يزيد، اخبرنا يحيى، سمع معاذ بن رفاعة، ان ملكا، سال النبي صلى الله عليه وسلم. وعن يحيى، ان يزيد بن الهاد اخبره انه كان معه يوم حدثه معاذ هذا الحديث، فقال يزيد فقال معاذ ان السايل هو جبريل عليه السلام
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বদরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই তো জিবরীল (আঃ) সমর সাজে সজ্জিত হয়ে অশ্বের মস্তক হস্তে ধারণ করে আছেন। [৪০৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن موسى، اخبرنا عبد الوهاب، حدثنا خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم بدر " هذا جبريل اخذ براس فرسه عليه اداة الحرب
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আবূ যায়দ (রাঃ) মারা যান। তিনি কোন সন্তানাদি ছেড়ে যাননি। তিনি ছিলেন বাদ্রী সাহাবী। [৩৮১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ হাদীস নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني خليفة، حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه قال مات ابو زيد ولم يترك عقبا، وكان بدريا
ইবনু খববাব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ সা‘ঈদ ইবনু মালিক খুদরী (রাঃ) সফর থেকে গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর তার পরিবারের লোকেরা তাঁকে কুরবানীর গোশ্ত থেকে কিছু গোশ্ত খেতে দিলেন। তিনি বললেন, আমি জিজ্ঞেস না করে এ গোশ্ত খেতে পারি না। তারপর তিনি তার মায়ের গর্ভজাত ভ্রাতা কাতাদাহ ইবনু নু‘মানের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি ছিলেন একজন বাদ্রী সাহাবী। তখন তিনি তাকে বললেন, তিন দিন পর কুরবানীর গোশ্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা ছিল পরে তা পুরোপুরিভাবে রহিত করে দেয়া হয়েছে। [৫৫৬৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، قال حدثني يحيى بن سعيد، عن القاسم بن محمد، عن ابن خباب، ان ابا سعيد بن مالك الخدري رضى الله عنه قدم من سفر، فقدم اليه اهله لحما من لحوم الاضحى فقال ما انا باكله حتى اسال، فانطلق الى اخيه لامه وكان بدريا قتادة بن النعمان فساله، فقال انه حدث بعدك امر نقض لما كانوا ينهون عنه من اكل لحوم الاضحى بعد ثلاثة ايام
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, বদরের দিন আমি ‘উবাইদাহ ইবনু সা‘ঈদ ইবনু আস (রাঃ) কে এমনভাবে বস্ত্রাবৃত দেখলাম যে, তার দু’চোখ ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাকে আবূ যাতুল কারিশ বলে ডাকা হত। সে বলল, আমি আবূ যাতুল কারিশ। (তা শুনে) বর্শা দিয়ে আমি তার উপর হামলা চালালাম এবং তার চোখ ফুঁড়ে দিলাম। সে তক্ষুণি মারা গেল। হিশাম বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, ‘উবাইদাহ ইবনু সা‘ঈদ ইবনু আসের লাশের উপর পা রেখে বেশ শক্তি খাটিয়ে আমি বর্শাটি টেনে বের করলাম। এতে বর্শার দু’ প্রান্তভাগ বাঁকা হয়ে যায়। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়রের নিকট বর্শাটি চাইলে তিনি তা তাঁকে দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তিনি তা নিয়ে যান এবং পরে আবূ বাকর (রাঃ) তা চাইলে তিনি তাকে বর্শাটি দিয়ে দেন। আবূ বাকরের মৃত্যুর পর ‘উমার (রাঃ) তা চাইলেন। তিনি তাকে বর্শাটি দিয়ে দিলেন। কিন্তু ‘উমারের মৃত্যুর পর যুবায়র (রাঃ) পুনরায় বর্শাটি নিয়ে যান। এরপর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর নিকট বর্শাখানা চাইলে তিনি ‘উসমানকে তা দিয়ে দেন। তবে ‘উসমানের শাহাদতের পর তা ‘আলীর লোকজনের হাতে যাওয়ার পর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তা চেয়ে নিয়ে যান। অতঃপর শহীদ হওয়া পর্যন্ত বর্শাটি তাঁর নিকটই বিদ্যমান ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، قال قال الزبير لقيت يوم بدر عبيدة بن سعيد بن العاص وهو مدجج لا يرى منه الا عيناه، وهو يكنى ابو ذات الكرش، فقال انا ابو ذات الكرش. فحملت عليه بالعنزة، فطعنته في عينه فمات. قال هشام فاخبرت ان الزبير قال لقد وضعت رجلي عليه ثم تمطات، فكان الجهد ان نزعتها وقد انثنى طرفاها. قال عروة فساله اياها رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاه، فلما قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذها، ثم طلبها ابو بكر فاعطاه، فلما قبض ابو بكر سالها اياه عمر فاعطاه اياها، فلما قبض عمر اخذها، ثم طلبها عثمان منه فاعطاه اياها، فلما قتل عثمان وقعت عند ال علي، فطلبها عبد الله بن الزبير، فكانت عنده حتى قتل
আবূ ইদরীস ‘আয়িযুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)- যিনি বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন- বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার হাতে বায়‘আত গ্রহণ কর। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابو ادريس، عايذ الله بن عبد الله ان عبادة بن الصامت، وكان، شهد بدرا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " بايعوني
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বাদর যুদ্ধে যোগদানকারী সাহাবী আবূ হুযাইফাহ (রাঃ) এক আনসারী মহিলার আযাদকৃত গোলাম সালিমকে পালকপুত্র গ্রহণ করেন, যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে পালকপুত্র গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাকে তার ভ্রাতুস্পুত্রী হিন্দা বিন্তে ওয়ালীদ ইবনু উতবার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। জাহিলীয়্যাতের যুগে কেউ পালকপুত্র গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে পালনকারীর প্রতিই সম্বোধন করত এবং সে তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদের উত্তরাধিকারী হত। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, (ادْعُوْهُمْ لِآبَآئِهِمْ) অর্থাৎ ‘‘তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের পিতার পরিচয়ে।’’ এরপর (আবূ হুযাইফাহর স্ত্রী সাহলাহ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে হাদীসে বর্ণিত ঘটনা বর্ণনা করলেন। [৫০৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، اخبرني عروة بن الزبير، عن عايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان ابا حذيفة وكان ممن شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم تبنى سالما، وانكحه بنت اخيه هند بنت الوليد بن عتبة وهو مولى لامراة من الانصار كما تبنى رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدا، وكان من تبنى رجلا في الجاهلية دعاه الناس اليه، وورث من ميراثه حتى انزل الله تعالى {ادعوهم لابايهم} فجاءت سهلة النبي صلى الله عليه وسلم، فذكر الحديث
রুবায়ই বিনতু মু‘আওয়িয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার বাসর রাতের পরদিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং তুমি (খালিদ ইবনু যাকওয়ান) যেমন আমার কাছে বসে আছ ঠিক সেভাবে আমার পাশে আমার বিছানায় এসে বসলেন। তখন কয়েকজন ছোট বালিকা দুফ্[1] বাজিয়ে বদরে নিহত শহীদ পিতাদের প্রশংসা গীতি আবৃত্তি করছিল। শেষে একটি বালিকা বলে উঠল, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন, যিনি জানেন, আগামীকল্য কী হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কথা বলবে না, বরং আগে যা বলেছিলে তাই বল। [৫১৪৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي، حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا خالد بن ذكوان، عن الربيع بنت معوذ، قالت دخل على النبي صلى الله عليه وسلم غداة بني على، فجلس على فراشي كمجلسك مني، وجويريات يضربن بالدف، يندبن من قتل من ابايهن يوم بدر حتى قالت جارية وفينا نبي يعلم ما في غد. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تقولي هكذا، وقولي ما كنت تقولين
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদরে যোগদানকারী সাহাবী আবূ ত্বল্হা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি[1] থাকে সে ঘরে (রহমতের) মালাক প্রবেশ করেন না। ইবনু ‘আব্বাসের মতে ছবির অর্থ প্রাণীর ছবি। [৩২২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن معمر، عن الزهري،. حدثنا اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن محمد بن ابي عتيق، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، ان ابن عباس رضى الله عنهما قال اخبرني ابو طلحة رضى الله عنه صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان قد شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال " لا تدخل الملايكة بيتا فيه كلب ولا صورة ". يريد التماثيل التي فيها الارواح
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদর দিনের গানীমাতের মাল থেকে আমার ভাগে আমি একটি উট পেয়েছিলাম। ‘ফায়’ থেকে প্রাপ্ত এক পঞ্চমাংশ থেকেও সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি উট দান করেন। আমি যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমার সঙ্গে বাসর রাত যাপন করার ইচ্ছে করলাম এবং বানু কায়নুকা গোত্রের একজন ইয়াহূদী স্বর্ণকারকে ঠিক করলাম যেন সে আমার সঙ্গে যায়। আমরা ইয্খির ঘাস সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। অতঃপর সেই ঘাস স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তা আমি আমার বিয়ের ওয়ালিমায় খরচ করার ইচ্ছে করেছিলাম। আমি আমার উট দু’টোর জন্য গদি, বস্তা এবং দড়ির ব্যবস্থা করছিলাম আর উট দু’টো এক আনসারীর ঘরের পাশে বসানো ছিল। আমার যা কিছু জোগাড় করার তা জোগাড় করে এনে দেখলাম উট দু’টির চূড়া কেটে দেয়া হয়েছে এবং সে দু’টির বুক ফেড়ে কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কাজ কে করেছে? তারা বললেন, আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামযা এ কাজ করেছেন। এখন তিনি এ ঘরে আনসারদের কিছু মদ্যপায়ীদের সঙ্গে মদপান করছেন। সেখানে আছে একদল গায়িকা ও কতিপয় সঙ্গী সাথী। গায়িকা ও তার সঙ্গীগণ গানের মধ্যে বলেছিল, ‘‘হে হামযা! মোটা উট দু’টির প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়’’। এ কথা শুনে হামযাহ দৌড়িয়ে গিয়ে তলোয়ার হাতে নিল এবং উট দু’টির চূড়া দু’টো কেটে নিল আর তাদের পেট ফেড়ে কলিজা বের করে নিয়ে আসল। ‘আলী (রাঃ) বলেন, তখন আমি পথ চলতে চলতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজকের মত কষ্টদায়ক ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। হামযা আমার উট দু’টোর উপর খুব জুলুম করেছেন, তিনি উট দু’টোর চূড়া কেটে ফেলেছেন এবং বুক ফেড়ে দিয়েছেন। এখন তিনি একটি ঘরে একদল মদ পানকারীর সঙ্গে আছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানা চেয়ে নিলেন এবং তা গায়ে দিয়ে হেঁটে চললেন। (‘আলী বলেন) এরপর আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) তাঁর পেছনে চললাম। (হাঁটতে হাঁটতে) তিনি যে ঘরে হামযা অবস্থান করছিলেন সে ঘরের কাছে পৌঁছে তার নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কর্মের জন্য ভৎর্সনা করতে শুরু করলেন। হামযাহ তখন নেশাগ্রস্ত।[1] চোখ দু’টো তার লাল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকালেন এবং দৃষ্টি উপর দিকে উঠিয়ে তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর দিকে তাকালেন। এরপর দৃষ্টি আরো একটু উপর দিকে উঠিয়ে তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার প্রতি তাকালেন। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার পিতার দাস। (শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝলেন যে, তিনি এখন নেশাগ্রস্ত। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনের দিকে হটে বেরিয়ে পড়লেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু মা‘কিল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে (তিনি বলেছেন), ‘আলী (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফের (জানাযার সালাতে) তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং বললেন, তিনি (সাহল ইবনু হুনায়ফ) বাদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن عباد، اخبرنا ابن عيينة، قال انفذه لنا ابن الاصبهاني سمعه من ابن معقل، ان عليا رضى الله عنه كبر على سهل بن حنيف فقال انه شهد بدرا
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালিম বিন ‘আবদুল্লাহ (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাবের কন্যা হাফসাহর স্বামী খুনায়স ইবনু হুযাইফাহ সাহ্মী (রাঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং বাদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, মদিনা্য় ইন্তিকাল করলে হাফসাহ (রাঃ) বিধবা হয়ে পড়লেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি ‘উসমান ইবনু আফফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট হাফসাহর কথা উল্লেখ করে তাঁকে বললাম, আপনি ইচ্ছে করলে আমি আপনার সঙ্গে ‘উমারের মেয়ে হাফসাহর বিয়ে দিয়ে দেব। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। পরে ‘উসমান (রাঃ) বললেন, আমার স্পষ্ট মতামত যে, এ সময় আমি বিয়ে করব না। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি আবূ বাকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি ইচ্ছা করলে ‘উমারের কন্যা হাফসাকে আমি আপনার নিকট বিয়ে দিয়ে দেব। আবূ বাকর (রাঃ) চুপ রইলেন, কোন জবাব দিলেন না। এতে আমি ‘উসমানের চেয়েও অধিক দুঃখ পেলাম। এরপর আমি কয়েকদিন চুপ করে থাকলাম, এই অবস্থায় হাফসার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই প্রস্তাব দিলেন। আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলাম। এরপর আবূ বাকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার সঙ্গে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি আপনাকে কোন উত্তর না দেয়ার কারণে সম্ভবত আপনি মনোকষ্ট পেয়েছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি জিনিসই আমাকে বাধা দিয়েছে আর তা হ’ল এই যে, আমি জানতাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাফসাহ (রাঃ)-এর সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন, তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার আমার ইচ্ছে ছিল না। যদি তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গ্রহণ না করতেন, তাঁকে অবশ্যই আমি গ্রহণ করতাম। [৫১২২, ৫১২৯, ৫১৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سالم بن عبد الله، انه سمع عبد الله بن عمر رضى الله عنهما يحدث ان عمر بن الخطاب حين تايمت حفصة بنت عمر من خنيس بن حذافة السهمي وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قد شهد بدرا توفي بالمدينة قال عمر فلقيت عثمان بن عفان فعرضت عليه حفصة فقلت ان شيت انكحتك حفصة بنت عمر. قال سانظر في امري. فلبثت ليالي، فقال قد بدا لي ان لا اتزوج يومي هذا. قال عمر فلقيت ابا بكر فقلت ان شيت انكحتك حفصة بنت عمر. فصمت ابو بكر، فلم يرجع الى شييا، فكنت عليه اوجد مني على عثمان، فلبثت ليالي، ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فانكحتها اياه، فلقيني ابو بكر فقال لعلك وجدت على حين عرضت على حفصة فلم ارجع اليك قلت نعم. قال فانه لم يمنعني ان ارجع اليك فيما عرضت الا اني قد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد ذكرها، فلم اكن لافشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو تركها لقبلتها
‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ বাদরী সাহাবী আবূ মাস‘উদ (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন, স্বীয় আহলের (পরিবার পরিজনের) জন্য ব্যয় করাও সদাক্বাহ। [৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم، حدثنا شعبة، عن عدي، عن عبد الله بن يزيد، سمع ابا مسعود البدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " نفقة الرجل على اهله صدقة
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল আযীয (রহ.) তাঁর খিলাফাত কালের বর্ণনা করেছেন যে, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) কুফার আমীর থাকা কালে একদা আসরের সালাত আদায় করতে দেরি করে ফেললে যায়দ ইবনু হাসানের দাদা বাদ্রী সাহাবী আবূ মাস‘উদ ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, আপনি তো জানেন যে, জিবরীল (আঃ) এসে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, আমি এভাবেই সালাত আদায় করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। বাশীর ইব্ন আবূ মাস‘উদ তার পিতার নিকট হতে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করতেন। [৫২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، سمعت عروة بن الزبير، يحدث عمر بن عبد العزيز في امارته اخر المغيرة بن شعبة العصر وهو امير الكوفة، فدخل ابو مسعود عقبة بن عمرو الانصاري جد زيد بن حسن شهد بدرا فقال لقد علمت نزل جبريل فصلى فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس صلوات ثم قال هكذا امرت. كذلك كان بشير بن ابي مسعود يحدث عن ابيه
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابراهيم، اخبرنا ابن شهاب، قال اخبرني عمر بن اسيد بن جارية الثقفي، حليف بني زهرة وكان من اصحاب ابي هريرة عن ابي هريرة رضى الله عنه قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة عينا، وامر عليهم عاصم بن ثابت الانصاري، جد عاصم بن عمر بن الخطاب، حتى اذا كانوا بالهدة بين عسفان ومكة ذكروا لحى من هذيل يقال لهم بنو لحيان، فنفروا لهم بقريب من ماية رجل رام، فاقتصوا اثارهم حتى وجدوا ماكلهم التمر في منزل نزلوه فقالوا تمر يثرب. فاتبعوا اثارهم، فلما حس بهم عاصم واصحابه لجيوا الى موضع، فاحاط بهم القوم، فقالوا لهم انزلوا فاعطوا بايديكم ولكم العهد والميثاق ان لا نقتل منكم احدا. فقال عاصم بن ثابت ايها القوم، اما انا فلا انزل في ذمة كافر. ثم قال اللهم اخبر عنا نبيك صلى الله عليه وسلم. فرموهم بالنبل، فقتلوا عاصما، ونزل اليهم ثلاثة نفر على العهد والميثاق، منهم خبيب وزيد بن الدثنة، ورجل اخر، فلما استمكنوا منهم اطلقوا اوتار قسيهم فربطوهم بها. قال الرجل الثالث هذا اول الغدر، والله لا اصحبكم، ان لي بهولاء اسوة. يريد القتلى، فجرروه وعالجوه، فابى ان يصحبهم، فانطلق بخبيب وزيد بن الدثنة حتى باعوهما بعد وقعة بدر، فابتاع بنو الحارث بن عامر بن نوفل خبيبا، وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر يوم بدر، فلبث خبيب عندهم اسيرا حتى اجمعوا قتله، فاستعار من بعض بنات الحارث موسى يستحد بها فاعارته، فدرج بنى لها وهى غافلة حتى اتاه، فوجدته مجلسه على فخذه والموسى بيده قالت ففزعت فزعة عرفها خبيب فقال اتخشين ان اقتله ما كنت لافعل ذلك قالت والله ما رايت اسيرا قط خيرا من خبيب، والله لقد وجدته يوما ياكل قطفا من عنب في يده، وانه لموثق بالحديد، وما بمكة من ثمرة وكانت تقول انه لرزق رزقه الله خبيبا، فلما خرجوا به من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب دعوني اصلي ركعتين. فتركوه فركع ركعتين، فقال والله لولا ان تحسبوا ان ما بي جزع لزدت، ثم قال اللهم احصهم عددا، واقتلهم بددا، ولا تبق منهم احدا. ثم انشا يقول فلست ابالي حين اقتل مسلما على اى جنب كان لله مصرعي وذلك في ذات الاله وان يشا يبارك على اوصال شلو ممزع ثم قام اليه ابو سروعة عقبة بن الحارث، فقتله وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة، واخبر اصحابه يوم اصيبوا خبرهم، وبعث ناس من قريش الى عاصم بن ثابت حين حدثوا انه قتل ان يوتوا بشىء منه يعرف، وكان قتل رجلا عظيما من عظمايهم، فبعث الله لعاصم مثل الظلة من الدبر، فحمته من رسلهم، فلم يقدروا ان يقطعوا منه شييا. وقال كعب بن مالك ذكروا مرارة بن الربيع العمري وهلال بن امية الواقفي، رجلين صالحين قد شهدا بدرا
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس،. حدثنا احمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن الزهري، اخبرنا علي بن حسين، ان حسين بن علي عليهم السلام اخبره ان عليا قال كانت لي شارف من نصيبي من المغنم يوم بدر، وكان النبي صلى الله عليه وسلم اعطاني مما افاء الله عليه من الخمس يوميذ، فلما اردت ان ابتني بفاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم واعدت رجلا صواغا في بني قينقاع ان يرتحل معي فناتي باذخر، فاردت ان ابيعه من الصواغين فنستعين به في وليمة عرسي، فبينا انا اجمع لشارفى من الاقتاب والغراير والحبال، وشارفاى مناخان الى جنب حجرة رجل من الانصار، حتى جمعت ما جمعت فاذا انا بشارفى قد اجبت اسنمتها، وبقرت خواصرهما، واخذ من اكبادهما، فلم املك عينى حين رايت المنظر، قلت من فعل هذا قالوا فعله حمزة بن عبد المطلب، وهو في هذا البيت، في شرب من الانصار، عنده قينة واصحابه فقالت في غنايها الا يا حمز للشرف النواء، فوثب حمزة الى السيف، فاجب اسنمتهما، وبقر خواصرهما، واخذ من اكبادهما قال علي فانطلقت حتى ادخل على النبي صلى الله عليه وسلم وعنده زيد بن حارثة، وعرف النبي صلى الله عليه وسلم الذي لقيت فقال " ما لك ". قلت يا رسول الله، ما رايت كاليوم، عدا حمزة على ناقتى، فاجب اسنمتهما، وبقر خواصرهما وها هو ذا في بيت معه شرب، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم بردايه، فارتدى ثم انطلق يمشي، واتبعته انا وزيد بن حارثة، حتى جاء البيت الذي فيه حمزة، فاستاذن عليه فاذن له، فطفق النبي صلى الله عليه وسلم يلوم حمزة فيما فعل، فاذا حمزة ثمل محمرة عيناه، فنظر حمزة الى النبي صلى الله عليه وسلم ثم صعد النظر، فنظر الى ركبته، ثم صعد النظر، فنظر الى وجهه، ثم قال حمزة وهل انتم الا عبيد لابي فعرف النبي صلى الله عليه وسلم انه ثمل، فنكص رسول الله صلى الله عليه وسلم على عقبيه القهقرى، فخرج وخرجنا معه