Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল ও দরদী। ঈমান হল ইয়ামানীদের, হিকমাত হল ইয়ামানীদের, গরিমা ও অহঙ্কার রয়েছে উট-ওয়ালাদের মধ্যে, বাকরী পালকদের মধ্যে আছে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য। গুনদার (রহ.) এ হাদীসটি শু’বাহ-সুলাইমান-যাকওয়ান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن شعبة، عن سليمان، عن ذكوان، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اتاكم اهل اليمن، هم ارق افيدة والين قلوبا، الايمان يمان والحكمة يمانية، والفخر والخيلاء في اصحاب الابل، والسكينة والوقار في اهل الغنم ". وقال غندر عن شعبة، عن سليمان، سمعت ذكوان، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান হল ইয়ামানীদের। আর ফিতনা হল ওখানে, যেখানে উদিত হল শয়তানের শিং। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن ثور بن زيد، عن ابي الغيث، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " الايمان يمان، والفتنة ها هنا، ها هنا يطلع قرن الشيطان
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল। আর মনের দিক থেকে অত্যন্ত দয়ার্দ্র। ফিকহ্ হল ইয়ামানীদের আর হিকমাত হল ইয়ামানীদের। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اتاكم اهل اليمن، اضعف قلوبا وارق افيدة، الفقه يمان، والحكمة يمانية
‘আলক্বামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন সেখানে ‘আব্বাস (রাঃ) এসে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান (‘আবদুর রহমানের পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ [1])! এসব তরুণ কি আপনার তিলাওয়াতের মতো তিলাওয়াত করতে পারে? তিনি বললেনঃ আপনি যদি চান তাহলে একজনকে হুকুম দেই যে, সে আপনাকে তিলাওয়াত করে শুনাবে। তিনি বললেন, অবশ্যই। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আলকামাহ, পড়। তখন যিয়াদ ইবনু হুদাইরের ভাই যায়দ ইবনু হুদাইর বলল, আপনি আলকামাহ্কে পড়তে হুকুম করেছেন, অথচ সে তো আমাদের মধ্যে ভাল তিলাওয়াতকারী নয়। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বললেন, যদি তুমি চাও তাহলে আমি তোমার গোত্র ও তার গোত্র সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন তা জানিয়ে দিতে পারি। (আলকামাহ বলেন) এরপর আমি সূরায়ে মারইয়াম থেকে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করলাম। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আপনার কেমন মনে হয়? তিনি বললেন, বেশ ভালই পড়েছে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমি যা কিছু পড়ি তার সবই সে পড়ে। এরপর তিনি খাববাবের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তার হাতে একটি সোনার আংটি। তিনি বললেন, এখনো কি এ আংটি খুলে ফেলার সময় হয়নি? খাববাব (রাঃ) বললেন, আজকের পর আর এটি আমার হাতে দেখতে পাবেন না। অতঃপর তিনি আংটিটি ফেলে দিলেন। হাদীসটি গুনদার (রহ.) শু’বাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، قال كنا جلوسا مع ابن مسعود، فجاء خباب فقال يا ابا عبد الرحمن، ايستطيع هولاء الشباب ان يقرءوا كما تقرا قال اما انك لو شيت امرت بعضهم يقرا عليك قال اجل. قال اقرا يا علقمة. فقال زيد بن حدير اخو زياد بن حدير اتامر علقمة ان يقرا وليس باقرينا قال اما انك ان شيت اخبرتك بما قال النبي صلى الله عليه وسلم في قومك وقومه. فقرات خمسين اية من سورة مريم، فقال عبد الله كيف ترى قال قد احسن. قال عبد الله ما اقرا شييا الا وهو يقروه، ثم التفت الى خباب وعليه خاتم من ذهب فقال الم يان لهذا الخاتم ان يلقى قال اما انك لن تراه على بعد اليوم، فالقاه. رواه غندر عن شعبة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুফায়ল ইবনু ‘আমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, দাওস গোত্র হালাক হয়ে গেছে। তারা নাফরমানী করেছে এবং (দ্বীনের দাওয়াত) গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সুতরাং আপনি তাদের প্রতি বদদু‘আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন এবং দ্বীনের পথে নিয়ে আসুন। [২৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن ابن ذكوان، عن عبد الرحمن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال جاء الطفيل بن عمرو الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان دوسا قد هلكت، عصت وابت، فادع الله عليهم. فقال " اللهم اهد دوسا وات بهم
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসার জন্য রওয়ানা হয়ে রাস্তার মধ্যে বলেছিলাম- হে সুদীর্ঘ ও চরম পরিশ্রমের রাত! এ রাত আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে। আমার একটি গোলাম ছিল। পথে সে পালিয়ে গেল। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বাই‘আত করলাম। অতঃপর একদিন আমি তাঁর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় গোলামটি এসে হাযির। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! এই যে তোমার গোলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সে আযাদ-এ কথা বলে আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। [২৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، حدثنا اسماعيل، عن قيس، عن ابي هريرة، قال لما قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم قلت في الطريق: يا ليلة من طولها وعنايها على انها من دارة الكفر نجت وابق غلام لي في الطريق، فلما قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم فبايعته، فبينا انا عنده اذ طلع الغلام، فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم " يا ابا هريرة هذا غلامك ". فقلت هو لوجه الله تعالى. فاعتقته
‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধি দলসহ ‘উমার (রাঃ)-এর নিকটে আসলাম। তিনি প্রত্যেকের নাম নিয়ে একজন একজন করে ডাকতে শুরু করলেন। তাই আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কি আমাকে চিনেন? তিনি বললেন, হাঁ চিনি। লোকজন যখন ইসলামকে অস্বীকার করেছিল তখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ। লোকজন যখন পিঠ ফিরিয়ে নিয়েছে তখন তুমি সম্মুখে অগ্রসর হয়েছ। লোকেরা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তুমি তখন ইসলাম পালনের ওয়াদা পূরণ করেছ। লোকেরা যখন দ্বীনকে অস্বীকার করেছে তুমি তখন দ্বীনকে চিনে নিয়ে গ্রহণ করেছ। এ সব কথা শুনে আদী (রাঃ) বললেন, তাহলে আমার আর কোন চিন্তা নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن عمرو بن حريث، عن عدي بن حاتم، قال اتينا عمر في وفد، فجعل يدعو رجلا رجلا ويسميهم فقلت اما تعرفني يا امير المومنين قال بلى، اسلمت اذ كفروا، واقبلت اذ ادبروا، ووفيت اذ غدروا، وعرفت اذ انكروا. فقال عدي فلا ابالي اذا
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হাজ্জে রওয়ানা হই। তখন আমরা ‘উমরাহর (নিয়তে) ইহরাম বাঁধি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন, যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু রয়েছে, তারা যেন হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের একসঙ্গে ইহরামের নিয়ত করে এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহর উভয়টি সমাধা করার পূর্বে হালাল না হয়। এভাবে তাঁর সঙ্গে আমি মক্কা্য় পৌঁছি এবং ঋতুমতী হয়ে পড়ি। এ কারণে আমি বাইতুল্লাহর তওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করতে পারলাম না। এ দুঃখ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার মাথার চুল ছেড়ে দাও এবং মাথা (চিরুনী দ্বারা) আঁচড়াও আর কেবল হাজ্জের ইহরাম বাঁধ ও ‘উমরাহ্ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম। এরপর আমরা যখন হাজ্জের কাজসমূহ সম্পন্ন করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর পুত্র ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈম-এ পাঠিয়ে দিলেন। (সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে) ‘উমরাহ্ আদায় করলাম। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, এই ‘উমরাহ্ তোমার পূর্বের কাযা ‘উমরাহ্ পূর্ণ করল। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যারা ‘উমরাহর ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা বাইতুল্লাহ্ তওয়াফ করে এবং সাফা ও মারওয়া সায়ী করার পর হালাল হয়ে যান এবং পরে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর আর এক তওয়াফ আদায় করেন। আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহর ইহরাম এক সঙ্গে বাঁধেন, তাঁরা কেবল এক তওয়াফ আদায় করেন। [২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله، حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة رضى الله عنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، فاهللنا بعمرة، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من كان معه هدى فليهلل بالحج مع العمرة، ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا ". فقدمت معه مكة وانا حايض، ولم اطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة، فشكوت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انقضي راسك، وامتشطي واهلي بالحج ودعي العمرة ". ففعلت فلما قضينا الحج ارسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم مع عبد الرحمن بن ابي بكر الصديق الى التنعيم فاعتمرت فقال " هذه مكان عمرتك ". قالت فطاف الذين اهلوا بالعمرة بالبيت وبين الصفا والمروة، ثم حلوا، ثم طافوا طوافا اخر بعد ان رجعوا من منى، واما الذين جمعوا الحج والعمرة فانما طافوا طوافا واحدا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। মুহরিম ব্যক্তি যখন বাইতুল্লাহ তওয়াফ করল তখন সে তাঁর ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল। আমি (ইবনু জুরায়জ) জিজ্ঞেস করলাম যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এ কথা কী করে বলতে পারেন? রাবী ‘আত্বা (রহ.) উত্তরে বলেন, আল্লাহ তা‘আলার এই কালামের দলীল থেকে যে, এরপর তার হালাল হওয়ার স্থল হচ্ছে বাইতুল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের বিদায় হাজ্জের (এ কাজের পরে) হালাল হয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়ার ঘটনা থেকে। আমি বললামঃ এ হুকুম তো ‘আরাফাহ-এ উকূফ করার পর প্রযোজ্য। তখন ‘আত্বা (রহ.) বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মতে উকূফে ‘আরাফাহর পূর্বাপর উভয় অবস্থার জন্য এ হুকুম। [মুসলিম ১৫/৩২, হাঃ ১২৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عمرو بن علي، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا ابن جريج، قال حدثني عطاء، عن ابن عباس، اذا طاف بالبيت فقد حل. فقلت من اين قال هذا ابن عباس قال من قول الله تعالى {ثم محلها الى البيت العتيق} ومن امر النبي صلى الله عليه وسلم اصحابه ان يحلوا في حجة الوداع. قلت انما كان ذلك بعد المعرف. قال كان ابن عباس يراه قبل وبعد
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (বিদায় হাজ্জে) মক্কার বাত্হা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি আমাকে (পুনরায়) জিজ্ঞেস করলেন। কোন্ প্রকারে হাজ্জের ইহরামের নিয়ত করেছ? আমি বললাম, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মতো ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়াহ পড়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাইতুল্লাহ তওয়াফ কর এবং সফা ও মারওয়াহ্ সায়ী কর। এরপর (ইহরাম খুলে) হালাল হয়ে যাও। তখন আমি বাইতুল্লাহ্ তওয়াফ করলাম ও সফা এবং মারওয়াহ্ সায়ী করলাম। এরপর আমি ক্বায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম, সে আমার চুল আঁচড়ে দিল (তাতে আমি ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে গেলাম)। [১৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني بيان، حدثنا النضر، اخبرنا شعبة، عن قيس، قال سمعت طارقا، عن ابي موسى الاشعري رضى الله عنه قال قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم بالبطحاء فقال " احججت ". قلت نعم. قال " كيف اهللت ". قلت لبيك باهلال كاهلال رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال " طف بالبيت وبالصفا والمروة ثم حل ". فطفت بالبيت وبالصفا والمروة، واتيت امراة من قيس ففلت راسي
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসাহ (রাঃ) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জানিয়েছেন যে, বিদায় হাজ্জের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। তখন হাফসাহ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী কারণে হালাল হচ্ছেন না? তদুত্তরে তিনি বললেন, আমি আঠা জাতীয় বস্তু দ্বারা আমার মাথার চুল জমাট করে ফেলেছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদাহ[1] বেঁধে দিয়েছি। কাজেই, আমি আমার কুরবানীর পশু যবহ করার পূর্বে হালাল হতে পারব না। [১৫৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن المنذر، اخبرنا انس بن عياض، حدثنا موسى بن عقبة، عن نافع، ان ابن عمر، اخبره ان حفصة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان النبي صلى الله عليه وسلم امر ازواجه ان يحللن عام حجة الوداع، فقالت حفصة فما يمنعك فقال " لبدت راسي وقلدت هديي، فلست احل حتى انحر هديي
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আশ‘আম গোত্রের এ মহিলা বিদায় হাজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করে। এ সময় ফদল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (সওয়ারীতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। মহিলাটি আবেদন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি হাজ্জ ফারয্ করেছেন। আমার পিতার উপর তা এমন অবস্থায় ফরয হল যে, তিনি অতীব বয়োবৃদ্ধ, যে কারণে সওয়ারীর উপর ঠিক হয়ে বসতেও সমর্থ নন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর পক্ষ থেকে হাজ্জ আদায় করলে তা আদায় হবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। [১৫১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، قال حدثني شعيب، عن الزهري، وقال، محمد بن يوسف حدثنا الاوزاعي، قال اخبرني ابن شهاب، عن سليمان بن يسار، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان امراة، من خثعم استفتت رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع والفضل بن عباس رديف رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان فريضة الله على عباده ادركت ابي شيخا كبيرا لا يستطيع ان يستوي على الراحلة، فهل يقضي ان احج عنه قال " نعم
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফতেহ মক্কার বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে চললেন। তিনি (তাঁর) কসওয়া নামক উটনীর উপর উসামাহ (রাঃ)-কে পিছনে বসালেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল ও ‘উসমান ইবনু ত্বলহা (রাঃ)। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর বাহনকে) বাইতুল্লাহর নিকট বসালেন। তারপর ‘উসমান (ইবনু ত্বলহা) (রাঃ)-কে বললেন, আমার কাছে চাবি নিয়ে এসো। তিনি তাঁকে চাবি এনে দিলেন। এরপর কা‘বা শরীফের দরজা তাঁর জন্য খোলা হল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উসামাহ, বিলাল এবং ‘উসমান (রাঃ) কা‘বা ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। এরপর তিনি দিবা ভাগের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন এবং পরে বের হয়ে আসেন। তখন লোকেরা কা‘বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করার জন্য তাড়াহুড়া করতে থাকে। আর আমি তাদের অগ্রণী হই এবং বিলাল (রাঃ)-কে কা‘বার দরজার পিছনে দাঁড়ানো অবস্থায় পাই। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ স্থানে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, ঐ সামনের দু’ স্তম্ভের মাঝখানে। এ সময় বাইতুল্লাহর দুই সারিতে ছয়টি স্তম্ভ ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের সারির দু’ খামের মাঝখানে সালাত আদায় করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর দরজা তার পিছনে রেখেছিলেন এবং তাঁর চেহারা ছিল বাইতুল্লাহ্য় প্রবেশকালে সামনে যে দেয়াল পড়ে সেদিকে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আর যে স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন সেখানে লাল বর্ণের মর্মর পাথর ছিল। [৩৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد، حدثنا سريج بن النعمان، حدثنا فليح، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال اقبل النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح وهو مردف اسامة على القصواء. ومعه بلال وعثمان بن طلحة حتى اناخ عند البيت، ثم قال لعثمان " ايتنا بالمفتاح "، فجاءه بالمفتاح ففتح له الباب، فدخل النبي صلى الله عليه وسلم واسامة وبلال وعثمان، ثم اغلقوا عليهم الباب، فمكث نهارا طويلا ثم خرج، وابتدر الناس الدخول، فسبقتهم فوجدت بلالا قايما من وراء الباب فقلت له اين صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال صلى بين ذينك العمودين المقدمين. وكان البيت على ستة اعمدة سطرين، صلى بين العمودين من السطر المقدم، وجعل باب البيت خلف ظهره، واستقبل بوجهه الذي يستقبلك حين تلج البيت بينه وبين الجدار، قال ونسيت ان اساله كم صلى وعند المكان الذي صلى فيه مرمرة حمراء
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হুয়াই-এর কন্যা সাফিয়া (রাঃ) বিদায় হাজ্জের সময় ঋতুমতী হয়ে পড়েন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি আমাদের (মদিনা প্রত্যাবর্তনে) বাধা হয়ে দাঁড়াল? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো তওয়াফে যিয়ারাহ্ করে নিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে সেও রওয়ানা করুক। [২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثني عروة بن الزبير، وابو سلمة بن عبد الرحمن ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرتهما ان صفية بنت حيى زوج النبي صلى الله عليه وسلم حاضت في حجة الوداع فقال النبي صلى الله عليه وسلم " احابستنا هي ". فقلت انها قد افاضت يا رسول الله وطافت بالبيت. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فلتنفر
তোমরা সতর্ক থাক। আজকের এ দিনের মত, এ শহরের মত এবং এ মাসের মতো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের রক্তকে ও তোমাদের সম্পদকে তোমাদের উপর হারাম করেছেন। বল তো, আমি কি আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি। সমবেত সকলে বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। এ কথা তিনবার বললেন, (তারপর বললেন), তোমাদের জন্য পরিতাপ অথবা তিনি বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস, সতর্ক থেকো, আমার পরে তোমরা কুফরের দিকে ফিরে যেয়ো না যে, একে অন্যের গর্দান মারবে। [১৭৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال اخبرني ابن وهب، قال حدثني عمر بن محمد، ان اباه، حدثه عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كنا نتحدث بحجة الوداع والنبي صلى الله عليه وسلم بين اظهرنا، ولا ندري ما حجة الوداع، فحمد الله واثنى عليه ثم ذكر المسيح الدجال فاطنب في ذكره وقال " ما بعث الله من نبي الا انذر امته، انذره نوح والنبيون من بعده، وانه يخرج فيكم، فما خفي عليكم من شانه فليس يخفى عليكم ان ربكم ليس على ما يخفى عليكم ثلاثا، ان ربكم ليس باعور، وانه اعور عين اليمنى، كان عينه عنبة طافية ". " الا ان الله حرم عليكم دماءكم واموالكم، كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، في شهركم هذا، الا هل بلغت ". قالوا نعم. قال " اللهم اشهد، ثلاثا، ويلكم، او ويحكم، انظروا لا ترجعوا بعدي كفارا، يضرب بعضكم رقاب بعض
তোমরা সতর্ক থাক। আজকের এ দিনের মত, এ শহরের মত এবং এ মাসের মতো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের রক্তকে ও তোমাদের সম্পদকে তোমাদের উপর হারাম করেছেন। বল তো, আমি কি আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি। সমবেত সকলে বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। এ কথা তিনবার বললেন, (তারপর বললেন), তোমাদের জন্য পরিতাপ অথবা তিনি বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস, সতর্ক থেকো, আমার পরে তোমরা কুফরের দিকে ফিরে যেয়ো না যে, একে অন্যের গর্দান মারবে। [১৭৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال اخبرني ابن وهب، قال حدثني عمر بن محمد، ان اباه، حدثه عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كنا نتحدث بحجة الوداع والنبي صلى الله عليه وسلم بين اظهرنا، ولا ندري ما حجة الوداع، فحمد الله واثنى عليه ثم ذكر المسيح الدجال فاطنب في ذكره وقال " ما بعث الله من نبي الا انذر امته، انذره نوح والنبيون من بعده، وانه يخرج فيكم، فما خفي عليكم من شانه فليس يخفى عليكم ان ربكم ليس على ما يخفى عليكم ثلاثا، ان ربكم ليس باعور، وانه اعور عين اليمنى، كان عينه عنبة طافية ". " الا ان الله حرم عليكم دماءكم واموالكم، كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، في شهركم هذا، الا هل بلغت ". قالوا نعم. قال " اللهم اشهد، ثلاثا، ويلكم، او ويحكم، انظروا لا ترجعوا بعدي كفارا، يضرب بعضكم رقاب بعض
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনিশটি যুদ্ধে স্বয়ং অংশগ্রহণ করেন। আর হিজরাতের পর তিনি হাজ্জ আদায় করেন মাত্র একটি হাজ্জে। এরপর তিনি আর কোন হাজ্জ আদায় করেননি এবং তা হল বিদায় হাজ্জ। আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, মক্কা্য় অবস্থানকালে তিনি আরেকটি হাজ্জ করেছিলেন। [৩৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن خالد، حدثنا زهير، حدثنا ابو اسحاق، قال حدثني زيد بن ارقم، ان النبي صلى الله عليه وسلم غزا تسع عشرة غزوة، وانه حج بعد ما هاجر حجة واحدة لم يحج بعدها حجة الوداع. قال ابو اسحاق وبمكة اخرى
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জারীর (রাঃ)-কে বিদায় হাজ্জে বললেন, লোকজনকে চুপ থাকতে বল। তারপর বললেন, আমার ইন্তিকালের পর তোমরা কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না যে, একে অন্যের গর্দান উড়াবে। [১২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، عن علي بن مدرك، عن ابي زرعة بن عمرو بن جرير، عن جرير، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال في حجة الوداع لجرير " استنصت الناس " فقال " لا ترجعوا بعدي كفارا، يضرب بعضكم رقاب بعض
আবূ বাকরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সময় ও কাল আবর্তিত হয় নিজ চক্রে। যেদিন থেকে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এক বছর হয় বার মাসে। এর মধ্যে চার মাস সম্মানিত। তিনমাস ক্রমান্বয়ে আসে-যেমন যিলকদ, যিলহাজ্জ ও মুহার্রম এবং রজব মুদার বা জমাদিউল আখির ও শাবান মাসের মাঝে হয়ে থাকে। (এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন) এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই অধিক জানেন। এরপর তিনি চুপ থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ মাসের অন্য কোন নাম রাখবেন। (তারপর) তিনি বললেন, এ কি যিলহাজ্জ মাস নয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই অধিক জানেন। তারপর তিনি চুপ থাকলেন। আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ শহরের অন্য কোন নাম রাখবেন। তারপর তিনি বললেন, এটি কি (মক্কা্) শহর নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই ভাল জানেন। তারপর তিনি চুপ থাকলেন। এতে আমরা মনে করলাম যে, তিনি এ দিনটির অন্য কোন নামকরণ করবেন। তারপর তিনি বললেন, এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের রক্ত তোমাদের সম্পদ। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি আরও বলেছিলেন, তোমাদের মান-ইজ্জত- তোমাদের উপর পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই শহর ও তোমাদের এই মাস। তোমরা শীঘ্রই তোমাদের রবের সঙ্গে মিলিত হবে। তখন তিনি তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। খবরদার! তোমরা আমার ইন্তিকালের পরে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ো না যে, একে অন্যের গর্দান উড়াবে। শোন, তোমাদের উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আমার পয়গাম পৌঁছে দেবে। অনেক সময় যে প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণ করেছে তার থেকেও তার মাধ্যমে খবর-পাওয়া ব্যক্তি অধিকতর সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। রাবী মুহাম্মাদ [ইবনু সীরীন (রহ.)] যখনই এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তিনি বলতেন-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা শোন, আমি কি (আল্লাহর পায়গাম) পৌঁছিয়ে দিয়েছি? এভাবে দু’বার বললেন। [মুসলিম ২৮/৯, হাঃ ১৬৭৯, আহমাদ ২০৪০৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا ايوب، عن محمد، عن ابن ابي بكرة، عن ابي بكرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الزمان قد استدار كهيية يوم خلق السموات والارض، السنة اثنا عشر شهرا منها اربعة حرم ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم، ورجب مضر الذي بين جمادى وشعبان، اى شهر هذا " قلنا الله ورسوله اعلم. فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه. قال " اليس ذو الحجة ". قلنا بلى. قال " فاى بلد هذا ". قلنا الله ورسوله اعلم، فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه. قال " اليس البلدة ". قلنا بلى. قال " فاى يوم هذا " قلنا الله ورسوله اعلم، فسكت حتى ظننا انه سيسميه بغير اسمه. قال " اليس يوم النحر ". قلنا بلى. قال " فان دماءكم واموالكم قال محمد واحسبه قال واعراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، في شهركم هذا وستلقون ربكم، فسيسالكم عن اعمالكم، الا فلا ترجعوا بعدي ضلالا، يضرب بعضكم رقاب بعض، الا ليبلغ الشاهد الغايب، فلعل بعض من يبلغه ان يكون اوعى له من بعض من سمعه فكان محمد اذا ذكره يقول صدق محمد صلى الله عليه وسلم ثم قال الا هل بلغت. مرتين
ত্বরিক ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, একদল ইয়াহূদী বলল, যদি এ আয়াত আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হত, তাহলে আমরা উক্ত অবতরণের দিনকে ‘ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করতাম। তখন ‘উমার (রাঃ) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ আয়াত? তারা বলল, এই আয়াতঃ فَقَالُوا الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمْ الإِسْلَامَ دِيْنًا ‘‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন (জীবন-বিধান)-কে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামাত পরিপূর্ণ করলাম’’- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩)। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, কোন্ স্থানে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমি জানি। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ্য় দন্ডায়মান অবস্থায় ছিলেন। [৪৫, ৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان الثوري، عن قيس بن مسلم، عن طارق بن شهاب، ان اناسا، من اليهود قالوا لو نزلت هذه الاية فينا لاتخذنا ذلك اليوم عيدا. فقال عمر اية اية فقالوا {اليوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتي}. فقال عمر اني لاعلم اى مكان انزلت، انزلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم واقف بعرفة