Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা- যিনি ছিলেন বৃক্ষ-তলের বাই‘আতকারীদের একজন বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জুমু‘আহর সালাত আদায় করে যখন বাড়ি ফিরতাম তখনও প্রাচীরের ছায়া পড়ত না, যে ছায়ায় আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। [মুসলিম ৭/৯, হাঃ ৮৬০; আহমাদ ১৬৫৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن يعلى المحاربي، قال حدثني ابي، حدثنا اياس بن سلمة بن الاكوع، قال حدثني ابي وكان، من اصحاب الشجرة قال كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم الجمعة ثم ننصرف، وليس للحيطان ظل نستظل فيه
ইয়াযীদ ইবনু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হুদাইবিয়াহর দিন আপনারা কোন্ জিনিসের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাই‘আত করেছিলেন। তিনি বললেন, মৃত্যুর উপর। [২৯৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حاتم، عن يزيد بن ابي عبيد، قال قلت لسلمة بن الاكوع على اى شىء بايعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية. قال على الموت
মুসাইয়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বললাম, আপনার খোশ খবর, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ পেয়েছেন এবং বৃক্ষ তলে তাঁর নিকট বাই‘আত করেছেন। তখন তিনি বললেন, ভাতিজা! তুমি তো জান না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আমরা কী কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছি (যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ফিতনাহ ইত্যাদি)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني احمد بن اشكاب، حدثنا محمد بن فضيل، عن العلاء بن المسيب، عن ابيه، قال لقيت البراء بن عازب رضى الله عنهما فقلت طوبى لك صحبت النبي صلى الله عليه وسلم وبايعته تحت الشجرة. فقال يا ابن اخي انك لا تدري ما احدثنا بعده
আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, সাবিত ইবনু দাহ্হাক (রাঃ) তাকে খবর দিয়েছেন, তিনি গাছের তলায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাই‘আত করেছেন। [১৩৬৩; মুসলিম ১/৪৭, হাঃ ১১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، حدثنا يحيى بن صالح، قال حدثنا معاوية هو ابن سلام عن يحيى، عن ابي قلابة، ان ثابت بن الضحاك، اخبره انه، بايع النبي صلى الله عليه وسلم تحت الشجرة
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِيْنًا-‘‘অবশ্যই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি’’- (সূরাহ ফাত্হ ৪৮/১)। তিনি বলেনঃ এ আয়াতে فَتْحًا مُبِيْنًا (সুস্পষ্ট বিজয়) দ্বারা হুদাইবিয়াহর সন্ধিকেই বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, এটা খুশী ও আনন্দের কথা। কিন্তু আমাদের জন্য কী আছে? তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, لِيُدْخِلَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ‘‘যাতে তিনি মু’মিন ও মু’মিনাগণকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন যার নীচ দিয়ে বহু নদী-নালা প্রবাহিত হচ্ছে’’। শু‘বাহ (রাঃ) বলেন, ‘‘এরপর আমি কুফায় গেলাম এবং ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনাকৃত হাদীসটির সবটুকু বর্ণনা করলাম, অতঃপর কুফা থেকে প্রত্যাবর্তন করে ক্বাতাদাহকে জানালাম। তিনি বললেন, إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ সম্পর্কিত কথা আনাস হতে বর্ণিত। আর هَنِيئًا مَرِيئًا সম্পর্কিত কথা ইকরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। [৪৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني احمد بن اسحاق، حدثنا عثمان بن عمر، اخبرنا شعبة، عن قتادة، عن انس بن مالك رضى الله عنه {انا فتحنا لك فتحا مبينا} قال الحديبية. قال اصحابه هنييا مرييا فما لنا فانزل الله {ليدخل المومنين والمومنات جنات} قال شعبة فقدمت الكوفة فحدثت بهذا كله عن قتادة ثم رجعت فذكرت له فقال اما {انا فتحنا لك} فعن انس، واما هنييا مرييا فعن عكرمة
মাজযা ইবনু যাহির আসলামী (রহ.)-এর পিতা (যিনি বৃক্ষ তলের বাইআতে অংশ নিয়েছিলেন) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ডেকচিতে গাধার গোশত রান্না করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক ঘোষণা দিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابو عامر، حدثنا اسراييل، عن مجزاة بن زاهر الاسلمي، عن ابيه وكان ممن شهد الشجرة قال اني لاوقد تحت القدر بلحوم الحمر اذ نادى منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهاكم عن لحوم الحمر
(অন্য এক সানাদে) মাজযাহ (রহ.) উহবান ইবনু আওস নামক বৃক্ষতলের বাইআতে অংশগ্রহণকারী এক সাহাবী থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাঁটুতে আঘাত লেগেছিল। তাই তিনি সালাত আদায় কালে হাঁটুর নীচে বালিশ রাখতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وعن مجزاة، عن رجل، منهم من اصحاب الشجرة اسمه اهبان بن اوس وكان اشتكى ركبته، وكان اذا سجد جعل تحت ركبته وسادة
বৃক্ষতলের বাই‘আতে অংশগ্রহণকারী সাহাবী সুওয়াইদ ইবনু নু’মান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জন্য ছাতু আনা হত। তাঁরা তা খেয়ে নিতেন। মুআয (রহ.) শুবা (রহ.) থেকে এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [২০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن شعبة، عن يحيى بن سعيد، عن بشير بن يسار، عن سويد بن النعمان وكان من اصحاب الشجرة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه اتوا بسويق فلاكوه. تابعه معاذ عن شعبة
আবূ জামরাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বৃক্ষতলের বাইআতে অংশগ্রহণকারী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ‘আয়িয ইবনু ‘আমর (রাঃ)-কে আমি জিজ্ঞেস করলাম, বিতর কি ভাঙ্গা যাবে? তিনি বললেন, রাতের প্রথম অংশে বিতর আদায় করলে রাতের শেষে আর আদায় করবে না।[1] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن حاتم بن بزيع، حدثنا شاذان، عن شعبة، عن ابي جمرة، قال سالت عايذ بن عمرو رضى الله عنه وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من اصحاب الشجرة هل ينقض الوتر قال اذا اوترت من اوله، فلا توتر من اخره
আসলামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সফরে রাত্রিকালে চলছিলেন। এ সফরে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও তাঁর সঙ্গে চলছিলেন। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর করলেন না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি এবারও জবাব দিলেন না। এরপর আবার তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এবারও উত্তর দিলেন না। তখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) মনে মনে বললেন, হে ‘উমার! তোমাকে তোমার মা হারিয়ে ফেলুক! তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনবার বিরক্ত করলে। কিন্তু কোনবারই তিনি তোমাকে জবাব দেননি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এরপর আমি আমার উটকে তাড়িয়ে মুসলিমদের সম্মুখে চলে যাই। কারণ আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, হয়তো আমার ব্যাপারে কুরআন মাজীদের কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে। অধিক দেরি হয়নি এমন সময় শুনতে পেলাম এক লোক চীৎকার করে আমাকে ডাকছে। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমার ব্যাপারে হয়তো কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ ভেবে আমি ভীত হয়ে পড়লাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে সালাম করলাম। তখন তিনি বললেন, আজ রাতে আমার প্রতি এমন একটি সূরাহ অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে যার উপর সূর্য উদিত হয় তার থেকেও অধিক প্রিয়। তারপর তিনি إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِيْنًا পাঠ করলেন। [৪৮৩৩, ৫০১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسير في بعض اسفاره، وعمر بن الخطاب يسير معه ليلا، فساله عمر بن الخطاب عن شىء فلم يجبه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ساله فلم يجبه، ثم ساله فلم يجبه وقال عمر بن الخطاب ثكلتك امك يا عمر، نزرت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات، كل ذلك لا يجيبك. قال عمر فحركت بعيري ثم تقدمت امام المسلمين، وخشيت ان ينزل في قران، فما نشبت ان سمعت صارخا يصرخ بي قال فقلت لقد خشيت ان يكون نزل في قران. وجيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقال " لقد انزلت على الليلة سورة لهي احب الى مما طلعت عليه الشمس، ثم قرا {انا فتحنا لك فتحا مبينا}
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও মারওয়ান ইবনু হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন, হুদাইবিয়াহর বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সহস্রাধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। যখন তাঁরা যুল হুলাইফাহ পৌঁছলেন কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশ‘আর করলেন। সেখান থেকে ‘উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন এবং খুযাআ গোত্রের এক লোককে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রওয়ানা হলেন। গাদীরুল আশ্তাত নামক স্থানে পৌঁছলে গোয়েন্দা এসে তাঁকে বলল, কুরাইশরা বিরাট দল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দিবে ও বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। তখন তিনি বললেন, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও, যারা আমাদেরকে বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্ততিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’’ তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি তো বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সঙ্গে লড়াই করার উদ্দেশে তো আসেননি। তাই বাইতুল্লাহর দিকে চলুন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাধা দিবে আমরা তার সঙ্গে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে চল আল্লাহর নামে। [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، قال سمعت الزهري، حين حدث هذا الحديث،، حفظت بعضه، وثبتني معمر عن عروة بن الزبير، عن المسور بن مخرمة، ومروان بن الحكم، يزيد احدهما على صاحبه قالا خرج النبي صلى الله عليه وسلم عام الحديبية في بضع عشرة ماية من اصحابه، فلما اتى ذا الحليفة قلد الهدى، واشعره، واحرم منها بعمرة، وبعث عينا له من خزاعة، وسار النبي صلى الله عليه وسلم حتى كان بغدير الاشطاط، اتاه عينه قال ان قريشا جمعوا لك جموعا، وقد جمعوا لك الاحابيش، وهم مقاتلوك وصادوك عن البيت ومانعوك. فقال " اشيروا ايها الناس على، اترون ان اميل الى عيالهم وذراري هولاء الذين يريدون ان يصدونا عن البيت، فان ياتونا كان الله عز وجل قد قطع عينا من المشركين، والا تركناهم محروبين ". قال ابو بكر يا رسول الله، خرجت عامدا لهذا البيت، لا تريد قتل احد ولا حرب احد، فتوجه له، فمن صدنا عنه قاتلناه. قال " امضوا على اسم الله
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও মারওয়ান ইবনু হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন, হুদাইবিয়াহর বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সহস্রাধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। যখন তাঁরা যুল হুলাইফাহ পৌঁছলেন কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশ‘আর করলেন। সেখান থেকে ‘উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন এবং খুযাআ গোত্রের এক লোককে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রওয়ানা হলেন। গাদীরুল আশ্তাত নামক স্থানে পৌঁছলে গোয়েন্দা এসে তাঁকে বলল, কুরাইশরা বিরাট দল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দিবে ও বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। তখন তিনি বললেন, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও, যারা আমাদেরকে বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্ততিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’’ তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি তো বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সঙ্গে লড়াই করার উদ্দেশে তো আসেননি। তাই বাইতুল্লাহর দিকে চলুন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাধা দিবে আমরা তার সঙ্গে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে চল আল্লাহর নামে। [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، قال سمعت الزهري، حين حدث هذا الحديث،، حفظت بعضه، وثبتني معمر عن عروة بن الزبير، عن المسور بن مخرمة، ومروان بن الحكم، يزيد احدهما على صاحبه قالا خرج النبي صلى الله عليه وسلم عام الحديبية في بضع عشرة ماية من اصحابه، فلما اتى ذا الحليفة قلد الهدى، واشعره، واحرم منها بعمرة، وبعث عينا له من خزاعة، وسار النبي صلى الله عليه وسلم حتى كان بغدير الاشطاط، اتاه عينه قال ان قريشا جمعوا لك جموعا، وقد جمعوا لك الاحابيش، وهم مقاتلوك وصادوك عن البيت ومانعوك. فقال " اشيروا ايها الناس على، اترون ان اميل الى عيالهم وذراري هولاء الذين يريدون ان يصدونا عن البيت، فان ياتونا كان الله عز وجل قد قطع عينا من المشركين، والا تركناهم محروبين ". قال ابو بكر يا رسول الله، خرجت عامدا لهذا البيت، لا تريد قتل احد ولا حرب احد، فتوجه له، فمن صدنا عنه قاتلناه. قال " امضوا على اسم الله
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি মারওয়ান ইবনু হাকাম এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) উভয়কে হুদাইবিয়াহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘উমরাহ্ আদায় করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁদের থেকে ‘উরওয়াহ (রহ.) আমার (মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু শিহাব) নিকট যা বর্ণনা করছেন তা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহায়ল ইবনু ‘আমরকে হুদাইবিয়াহর দিন সন্ধিনামায় যা লিখিয়েছিলেন তার মধ্যে সুহায়ল ইবনু ‘আমরের শর্তগুলোর একটি শর্ত ছিল এইঃ আমাদের থেকে যদি কেউ আপনার কাছে চলে যায় তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিতে হবে যদিও সে আপনার ধর্মের উপর থাকে এবং তার ও আমাদের মধ্যে আপনি কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না। এ শর্ত পূর্ণ করা ছাড়া সুহায়ল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সন্ধি করতেই অস্বীকৃতি জানায়। এ শর্তটিকে মু’মিনগণ অপছন্দ করলেন এবং এতে তারা ক্ষুব্ধ হলেন ও এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করলেন। কিন্তু যখন সুহায়ল এ শর্ত ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চুক্তি করতে অস্বীকার করল তখন এ শর্তের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধিপত্র লেখালেন এবং আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল (রাঃ)-কে ঐ মুহূর্তেই তার পিতা সুহায়ল ইবনু ‘আমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সন্ধির মেয়াদকালে পুরুষদের মধ্যে যারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে আসতেন, মুসলিম হলেও তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতেন। এ সময় কিছু সংখ্যক মুসলিম মহিলা হিজরাত করে চলে আসেন। উম্মু কুলসুম বিনত ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু‘আইত (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরাতকারিণী একজন যুবতী মহিলা। তিনি হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালো। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন মহিলাদের সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার তা অবতীর্ণ করলেন। [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، اخبرنا يعقوب، حدثني ابن اخي ابن شهاب، عن عمه، اخبرني عروة بن الزبير، انه سمع مروان بن الحكم، والمسور بن مخرمة، يخبران خبرا من خبر رسول الله صلى الله عليه وسلم في عمرة الحديبية فكان فيما اخبرني عروة عنهما انه لما كاتب رسول الله صلى الله عليه وسلم سهيل بن عمرو، يوم الحديبية على قضية المدة، وكان فيما اشترط سهيل بن عمرو انه قال لا ياتيك منا احد وان كان على دينك الا رددته الينا، وخليت بيننا وبينه. وابى سهيل ان يقاضي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا على ذلك، فكره المومنون ذلك وامعضوا، فتكلموا فيه، فلما ابى سهيل ان يقاضي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا على ذلك، كاتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا جندل بن سهيل يوميذ الى ابيه سهيل بن عمرو، ولم يات رسول الله صلى الله عليه وسلم احد من الرجال الا رده في تلك المدة، وان كان مسلما، وجاءت المومنات مهاجرات، فكانت ام كلثوم بنت عقبة بن معيط ممن خرج الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهى عاتق، فجاء اهلها يسالون رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يرجعها اليهم، حتى انزل الله تعالى في المومنات ما انزل
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি মারওয়ান ইবনু হাকাম এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) উভয়কে হুদাইবিয়াহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘উমরাহ্ আদায় করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁদের থেকে ‘উরওয়াহ (রহ.) আমার (মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু শিহাব) নিকট যা বর্ণনা করছেন তা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহায়ল ইবনু ‘আমরকে হুদাইবিয়াহর দিন সন্ধিনামায় যা লিখিয়েছিলেন তার মধ্যে সুহায়ল ইবনু ‘আমরের শর্তগুলোর একটি শর্ত ছিল এইঃ আমাদের থেকে যদি কেউ আপনার কাছে চলে যায় তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিতে হবে যদিও সে আপনার ধর্মের উপর থাকে এবং তার ও আমাদের মধ্যে আপনি কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না। এ শর্ত পূর্ণ করা ছাড়া সুহায়ল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সন্ধি করতেই অস্বীকৃতি জানায়। এ শর্তটিকে মু’মিনগণ অপছন্দ করলেন এবং এতে তারা ক্ষুব্ধ হলেন ও এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করলেন। কিন্তু যখন সুহায়ল এ শর্ত ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চুক্তি করতে অস্বীকার করল তখন এ শর্তের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধিপত্র লেখালেন এবং আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল (রাঃ)-কে ঐ মুহূর্তেই তার পিতা সুহায়ল ইবনু ‘আমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সন্ধির মেয়াদকালে পুরুষদের মধ্যে যারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে আসতেন, মুসলিম হলেও তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতেন। এ সময় কিছু সংখ্যক মুসলিম মহিলা হিজরাত করে চলে আসেন। উম্মু কুলসুম বিনত ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু‘আইত (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরাতকারিণী একজন যুবতী মহিলা। তিনি হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালো। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন মহিলাদের সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার তা অবতীর্ণ করলেন। [১৬৯৪, ১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، اخبرنا يعقوب، حدثني ابن اخي ابن شهاب، عن عمه، اخبرني عروة بن الزبير، انه سمع مروان بن الحكم، والمسور بن مخرمة، يخبران خبرا من خبر رسول الله صلى الله عليه وسلم في عمرة الحديبية فكان فيما اخبرني عروة عنهما انه لما كاتب رسول الله صلى الله عليه وسلم سهيل بن عمرو، يوم الحديبية على قضية المدة، وكان فيما اشترط سهيل بن عمرو انه قال لا ياتيك منا احد وان كان على دينك الا رددته الينا، وخليت بيننا وبينه. وابى سهيل ان يقاضي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا على ذلك، فكره المومنون ذلك وامعضوا، فتكلموا فيه، فلما ابى سهيل ان يقاضي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا على ذلك، كاتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا جندل بن سهيل يوميذ الى ابيه سهيل بن عمرو، ولم يات رسول الله صلى الله عليه وسلم احد من الرجال الا رده في تلك المدة، وان كان مسلما، وجاءت المومنات مهاجرات، فكانت ام كلثوم بنت عقبة بن معيط ممن خرج الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهى عاتق، فجاء اهلها يسالون رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يرجعها اليهم، حتى انزل الله تعالى في المومنات ما انزل
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আমাকে ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত আয়াতের নির্দেশ মোতাবেক হিজরাতকারিণী মু’মিন মহিলাদেরকে পরীক্ষা করতেন। আয়াতটি হল এইঃ হে নবী! মু’মিন মহিলাগণ যখন আপনার কাছে বাই‘আত করে .....শেষ পর্যন্ত- (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১২)। (অন্য সানাদে) ইবনু শিহাব (রহ.) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিবরণও পৌঁছেছে যে, যখন আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিক স্বামীর তরফ থেকে হিজরাতকারিণী মু’মিনা স্ত্রীকে দেয়া মুহারানা মুশরিক স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর আবূ বাসীর (রাঃ)-এর ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসও আমাদের কাছে পৌঁছেছে। অতঃপর তিনি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন। [২৭১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قال ابن شهاب واخبرني عروة بن الزبير، ان عايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمتحن من هاجر من المومنات بهذه الاية {يا ايها النبي اذا جاءك المومنات}. وعن عمه قال بلغنا حين امر الله رسوله صلى الله عليه وسلم ان يرد الى المشركين ما انفقوا على من هاجر من ازواجهم، وبلغنا ان ابا بصير. فذكره بطوله
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ফিতনার সময় (হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের মক্কা আক্রমণের সময়) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘উমরাহর ইহরাম বেঁধে রওয়ানা হয়ে বললেন, যদি আমাকে বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দেয়া হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা যা করেছিলাম তাই করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু হুদাইবিয়াহর বছর ‘উমরাহর ইহরাম বেঁধে রওয়ানা করেছিলেন তাই তিনিও ‘উমরাহর ইহরাম বেঁধে রওয়ানা করলেন। [১৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر رضى الله عنهما خرج معتمرا في الفتنة فقال ان صددت عن البيت، صنعنا كما صنعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. فاهل بعمرة من اجل ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اهل بعمرة عام الحديبية
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (ফিতনার বছর) তিনি ‘উমরাহর ইহরাম বেঁধে বললেন, যদি আমার আর তার (বাইতুল্লাহর) মধ্যে কোন বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে কুরাইশ কাফিররা বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা সৃষ্টি করলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব, আর তিনি তিলাওয়াত করলেন, لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ‘‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে আছে উত্তম আদর্শ’’- (সূরাহ আহযাব ৩৩/২১)। [১৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، انه اهل وقال ان حيل بيني وبينه لفعلت كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم حين حالت كفار قريش بينه. وتلا {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة}
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কোন ছেলে তাঁকে [‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে] বললেন, এ বছর আপনি মক্কা্য় যাওয়া স্থগিত রাখলে ভাল হত। কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে, আপনি বাইতুল্লাহ্য় যেতে পারবেন না। তখন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম। পথে কুরাইশ কাফিররা বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দিলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কুরবানীর পশুগুলো যবহ করে মাথা কামিয়ে ফেলেন। সাহাবীগণ চুল ছাঁটেন। এরপর তিনি বললেন আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার জন্য ‘উমরাহ করা আমি ওয়াজিব করে নিয়েছি। যদি আমার ও বাইতুল্লাহর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করা না হয় তাহলে আমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করব। আর যদি আমার ও বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমি তাই করব। এরপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চলে বললেন, আমি হাজ্জ এবং ‘উমরাহ্ একই মনে করি। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার হাজ্জকেও ‘উমরাহর সঙ্গে আমার জন্য ওয়াজিব করে নিয়েছি। এরপর তিনি উভয়ের জন্য একই তওয়াফ এবং একই সা‘য়ী করলেন এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহর ইহরাম খুলে ফেললেন। [১৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد بن اسماء، حدثنا جويرية، عن نافع، ان عبيد الله بن عبد الله، وسالم بن عبد الله، اخبراه انهما، كلما عبد الله بن عمر. وحدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا جويرية، عن نافع، ان بعض بني عبد الله، قال له لو اقمت العام، فاني اخاف ان لا تصل الى البيت. قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فحال كفار قريش دون البيت، فنحر النبي صلى الله عليه وسلم هداياه، وحلق وقصر اصحابه، وقال " اشهدكم اني اوجبت عمرة ". فان خلي بيني وبين البيت طفت، وان حيل بيني وبين البيت صنعت كما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسار ساعة ثم قال ما ارى شانهما الا واحدا، اشهدكم اني قد اوجبت حجة مع عمرتي. فطاف طوافا واحدا وسعيا واحدا، حتى حل منهما جميعا
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বলাবলি করে যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ব্যাপার এমন নয়। তবে (মূল ঘটনা ছিল যে,) হুদাইবিয়াহর দিন ‘উমার (রাঃ) (তাঁর পুত্র) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে এক আনসারী সহাবার কাছে রাখা তাঁর ঘোড়াটি আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি এতে চড়ে লড়াই করতে পারেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিকট বাই‘আত গ্রহণ করছিলেন। তা ‘উমার (রাঃ) জানতেন না। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তখন বাই‘আত গ্রহণ করে ঘোড়াটি আনার জন্য গেলেন এবং ঘোড়াটি নিয়ে ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে আসলেন। এ সময় ‘উমার (রাঃ) যুদ্ধের পোশাক পরিধান করছিলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃক্ষতলে বাই‘আত গ্রহণ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁর [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] সঙ্গে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাই‘আত গ্রহণ করলেন। এ হল ব্যাপার যার জন্য লোকেরা এ কথা বলাবলি করছে যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।[1] [৩৯১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني شجاع بن الوليد، سمع النضر بن محمد، حدثنا صخر، عن نافع، قال ان الناس يتحدثون ان ابن عمر، اسلم قبل عمر، وليس كذلك، ولكن عمر يوم الحديبية ارسل عبد الله الى فرس له عند رجل من الانصار ياتي به ليقاتل عليه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبايع عند الشجرة، وعمر لا يدري بذلك، فبايعه عبد الله، ثم ذهب الى الفرس، فجاء به الى عمر، وعمر يستليم للقتال، فاخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبايع تحت الشجرة قال فانطلق فذهب معه حتى بايع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهي التي يتحدث الناس ان ابن عمر اسلم قبل عمر
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হুদাইবিয়াহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে লোকজন বিভিন্ন গাছের ছায়ায় ছড়িয়ে গিয়েছিলেন। এক সময় তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ভিড় করেছিলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আবদুল্লাহ! দেখতো মানুষের কী হয়েছে? তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ভিড় করেছে কেন? ইবনু ‘উমার (রাঃ) দেখলেন যে, তাঁরা বাই‘আত গ্রহণ করছেন। তাই তিনিও বাই‘আত গ্রহণ করলেন। এরপর ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) রওয়ানা করলেন এবং বাই‘আত নিলেন। [৩৯১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وقال هشام بن عمار حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا عمر بن محمد العمري، اخبرني نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان الناس، كانوا مع النبي صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية، تفرقوا في ظلال الشجر، فاذا الناس محدقون بالنبي صلى الله عليه وسلم فقال يا عبد الله، انظر ما شان الناس قد احدقوا برسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدهم يبايعون، فبايع ثم رجع الى عمر فخرج فبايع