Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৩ হাদিসসমূহ
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لَيْسَ أَحَدٌ إِلاَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ وَعُمْرَةٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّهَا لَقَرِينَتُهَا فِي كِتَابِ اللهِ (وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ للهِ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, প্রত্যেকের জন্য হাজ্জ ও ‘উমরাহ অবশ্য পালনীয়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরআনুল কারীমে হাজ্জের সাথেই ‘উমরাহ’র উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ ও ‘উমরাহ পূর্ণভাবে আদায় কর’’। (আল-বাকারাঃ ১৯৬) ১৭৭৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ‘উমরাহ’র পর আর এক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হলো হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান। (মুসলিম ১৫/৭৯, হাঃ ১৩৪৯, আহমাদ ৯৯৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " العمرة الى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس له جزاء الا الجنة
‘ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে হাজ্জের আগে ‘উমরাহ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। ‘ইকরিমা (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের আগে ‘উমরাহ আদায় করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সা‘দ (রহ.) ইবনু ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহ.) বলেছেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। পরবর্তী অংশ। উক্ত হাদীসের অনুরূপ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا ابن جريج، ان عكرمة بن خالد، سال ابن عمر رضى الله عنهما عن العمرة، قبل الحج فقال لا باس. قال عكرمة قال ابن عمر اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم قبل ان يحج. وقال ابراهيم بن سعد عن ابن اسحاق حدثني عكرمة بن خالد سالت ابن عمر مثله. حدثنا عمرو بن علي، حدثنا ابو عاصم، اخبرنا ابن جريج، قال عكرمة بن خالد سالت ابن عمر رضى الله عنه مثله
আমরা উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার ভিতর হতে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হে আম্মাজান, হে উম্মুল মুমিনীন! আবূ ‘আবদুর রাহমান কী বলছেন, আপনি কি শুনেননি? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিনি কী বলছেন? ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, তিনি বলছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, আবূ ‘আবদুর রাহমানের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন ‘উমরাহ আদায় করেননি যে, তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি। (১৭৭৭, ৪২৫৪, মুসলিম ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن مجاهد، قال دخلت انا وعروة بن الزبير المسجد،، فاذا عبد الله بن عمر رضى الله عنهما جالس الى حجرة عايشة، واذا ناس يصلون في المسجد صلاة الضحى. قال فسالناه عن صلاتهم. فقال بدعة. ثم قال له كم اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اربع احداهن في رجب، فكرهنا ان نرد عليه. قال وسمعنا استنان، عايشة ام المومنين في الحجرة، فقال عروة يا اماه، يا ام المومنين. الا تسمعين ما يقول ابو عبد الرحمن. قالت ما يقول قال يقول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتمر اربع عمرات احداهن في رجب. قالت يرحم الله ابا عبد الرحمن، ما اعتمر عمرة الا وهو شاهده، وما اعتمر في رجب قط
আমরা উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার ভিতর হতে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হে আম্মাজান, হে উম্মুল মুমিনীন! আবূ ‘আবদুর রাহমান কী বলছেন, আপনি কি শুনেননি? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিনি কী বলছেন? ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, তিনি বলছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, আবূ ‘আবদুর রাহমানের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন ‘উমরাহ আদায় করেননি যে, তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি। (১৭৭৭, ৪২৫৪, মুসলিম ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن مجاهد، قال دخلت انا وعروة بن الزبير المسجد،، فاذا عبد الله بن عمر رضى الله عنهما جالس الى حجرة عايشة، واذا ناس يصلون في المسجد صلاة الضحى. قال فسالناه عن صلاتهم. فقال بدعة. ثم قال له كم اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اربع احداهن في رجب، فكرهنا ان نرد عليه. قال وسمعنا استنان، عايشة ام المومنين في الحجرة، فقال عروة يا اماه، يا ام المومنين. الا تسمعين ما يقول ابو عبد الرحمن. قالت ما يقول قال يقول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتمر اربع عمرات احداهن في رجب. قالت يرحم الله ابا عبد الرحمن، ما اعتمر عمرة الا وهو شاهده، وما اعتمر في رجب قط
‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি। (১৭৭৬, মুসলিম ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو عاصم، اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، عن عروة بن الزبير، قال سالت عايشة رضى الله عنها قالت ما اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رجب
কাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার ‘উমরাহ যুলকা‘দা মাসে যখন মুশরিকরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল। পরবর্তী বছরের যুল-কা‘দা মাসের ‘উমরা, যখন মুশরিকদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, জি‘রানার ‘উমরাহ, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল, সম্ভবতঃ হুনায়নের যুদ্ধে বণ্টন করেন। আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হাজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, একবার। (১৭৭৯, ১৭৮০, ৩০৬৬, ৪১৪৮, মুসলিম ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حسان بن حسان، حدثنا همام، عن قتادة، سالت انسا رضى الله عنه كم اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم قال اربع عمرة الحديبية في ذي القعدة، حيث صده المشركون، وعمرة من العام المقبل في ذي القعدة، حيث صالحهم، وعمرة الجعرانة اذ قسم غنيمة اراه حنين. قلت كم حج قال واحدة
কাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ‘উমরাহ করেছেন যখন তাঁকে মুশরিকরা ফিরিয়ে দিয়েছিল। তার পরবর্তী বছর ছিল হুদাইবিয়ার (চুক্তি অনুযায়ী) ‘উমরাহ, (তৃতীয়) ‘উমরাহ (জি’রানা) যুল-কা‘দা মাসে আর হাজ্জের মাসে অপর একটি ‘উমরাহ করেছেন। (১৭৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، هشام بن عبد الملك حدثنا همام، عن قتادة، قال سالت انسا رضى الله عنه فقال اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم حيث ردوه، ومن القابل عمرة الحديبية، وعمرة في ذي القعدة وعمرة مع حجته
হাম্মাম (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি ‘উমরাহ করেছেন। তন্মধ্যে হাজ্জের মাসে যে ‘উমরাহ করেছেন তা ছাড়া বাকী সব ‘উমরাহই যুল-কা‘দা মাসে করেছেন। অর্থাৎ হুদাইবিয়ার ‘উমরাহ, পরবর্তী বছরের ‘উমরাহ, জি‘রানার ‘উমরাহ, যেখানে তিনি হুনাইনের মালে গনীমত বণ্টন করেছিলেন এবং হাজ্জের মাসে আদায়কৃত ‘উমরাহ। (১৭৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا هدبة، حدثنا همام، وقال، اعتمر اربع عمر في ذي القعدة الا التي اعتمر مع حجته عمرته من الحديبية، ومن العام المقبل، ومن الجعرانة، حيث قسم غنايم حنين، وعمرة مع حجته
আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসরূক, ‘আত্বা এবং মুজাহিদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁরা বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কা‘দা মাসে হাজ্জের আগে ‘উমরাহ করেছেন। রাবী বলেন, আমি বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ করার আগে দু’বার যুল-কা‘দা মাসে ‘উমরাহ করেছেন। (১৮৪৪, ২৬৯৮, ২৬৯৯, ২৭০০, ৩১৮৪, ৪২৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن عثمان، حدثنا شريح بن مسلمة، حدثنا ابراهيم بن يوسف، عن ابيه، عن ابي اسحاق، قال سالت مسروقا وعطاء ومجاهدا. فقالوا اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة قبل ان يحج. وقال سمعت البراء بن عازب رضى الله عنهما يقول اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة، قبل ان يحج مرتين
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সঙ্গে হাজ্জ করতে তোমার বাধা কিসের? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতে অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আচ্ছা, রমাযান এলে তখন ‘উমরাহ করে নিও। কেননা, রমযানের একটি ‘উমরাহ একটি হাজ্জের সমতুল্য। অথবা এরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন। (১৮৬৩, মুসলিম ১৫/৩৬, হাঃ ১২৫৬, আহমাদ ২০২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن ابن جريج، عن عطاء، قال سمعت ابن عباس رضى الله عنهما يخبرنا يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لامراة من الانصار سماها ابن عباس، فنسيت اسمها " ما منعك ان تحجي معنا ". قالت كان لنا ناضح فركبه ابو فلان وابنه لزوجها وابنها وترك ناضحا ننضح عليه قال " فاذا كان رمضان اعتمري فيه فان عمرة في رمضان حجة ". او نحوا مما قال
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম যখন যুলহাজ্জ আগত প্রায়। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতাম। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন, আবার কেউ হাজ্জের। যারা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের একজন। ‘আরাফার দিন এল, তখন আমি ঋতুমতী ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা জানালাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ ছেড়ে দাও এবং মাথার বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। যখন মুহাসসাবের রাত হল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে (আমার ভাই) ‘আবদুর রাহমানকে তান‘ঈমে পাঠালেন এবং আমি ছেড়ে দেয়া ‘উমরাহ’র স্থলে নতুনভাবে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن سلام، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة فقال لنا " من احب منكم ان يهل بالحج فليهل ومن احب ان يهل بعمرة فليهل بعمرة، فلولا اني اهديت لاهللت بعمرة ". قالت فمنا من اهل بعمرة، ومنا من اهل بحج، وكنت ممن اهل بعمرة، فاظلني يوم عرفة، وانا حايض، فشكوت الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ارفضي عمرتك، وانقضي راسك وامتشطي، واهلي بالحج ". فلما كان ليلة الحصبة ارسل معي عبد الرحمن الى التنعيم، فاهللت بعمرة مكان عمرتي
‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর সওয়ারীর পিঠে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বসিয়ে তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফয়ান (রহ.) একদা বলেন, এ হাদীস আমি ‘আমরের কাছে বহুবার শুনেছি। (২৯৮৫, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو، سمع عمرو بن اوس، ان عبد الرحمن بن ابي بكر رضى الله عنهما اخبره ان النبي صلى الله عليه وسلم امره ان يردف عايشة، ويعمرها من التنعيم. قال سفيان مرة سمعت عمرا، كم سمعته من عمرو
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহরাম বাঁধলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপার পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা তো হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হাজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈমে যেতে। অতঃপর যুলহাজ্জ মাসেই হাজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ‘উমরাহ আদায় করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু‘শুম (রাঃ)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হাজ্জের মাসে ‘উমরাহ আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য। (১৫৫৭, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬, আহমাদ ১৪২৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد، عن حبيب المعلم، عن عطاء، حدثني جابر بن عبد الله رضى الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم اهل واصحابه بالحج وليس مع احد منهم هدى، غير النبي صلى الله عليه وسلم وطلحة، وكان علي قدم من اليمن، ومعه الهدى فقال اهللت بما اهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم. وان النبي صلى الله عليه وسلم اذن لاصحابه ان يجعلوها عمرة، يطوفوا بالبيت، ثم يقصروا ويحلوا، الا من معه الهدى، فقالوا ننطلق الى منى وذكر احدنا يقطر فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو استقبلت من امري ما استدبرت ما اهديت، ولولا ان معي الهدى لاحللت ". وان عايشة حاضت فنسكت المناسك كلها، غير انها لم تطف بالبيت قال فلما طهرت وطافت، قالت يا رسول الله اتنطلقون بعمرة وحجة، وانطلق بالحج فامر عبد الرحمن بن ابي بكر ان يخرج معها الى التنعيم، فاعتمرت بعد الحج في ذي الحجة، وان سراقة بن مالك بن جعشم لقي النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالعقبة، وهو يرميها، فقال الكم هذه خاصة، يا رسول الله قال " لا، بل للابد
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুলহাজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন আর কেউ হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুমতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আগের ‘উমরাহ’র স্থলে নতুন ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال اخبرني ابي قال، اخبرتني عايشة رضى الله عنها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من احب ان يهل بعمرة فليهل، ومن احب ان يهل بحجة فليهل، ولولا اني اهديت لاهللت بعمرة ". فمنهم من اهل بعمرة، ومنهم من اهل بحجة، وكنت ممن اهل بعمرة، فحضت قبل ان ادخل مكة، فادركني يوم عرفة، وانا حايض، فشكوت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعي عمرتك، وانقضي راسك وامتشطي، واهلي بالحج ". ففعلت، فلما كانت ليلة الحصبة ارسل معي عبد الرحمن الى التنعيم، فاردفها، فاهلت بعمرة مكان عمرتها، فقضى الله حجها وعمرتها، ولم يكن في شىء من ذلك هدى، ولا صدقة، ولا صوم
আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রসুল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হাজ্জ এবং ‘উমরাহ) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হাজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহরাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরাহ (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا ابن عون، عن القاسم بن محمد، وعن ابن عون، عن ابراهيم، عن الاسود، قالا قالت عايشة رضى الله عنها يا رسول الله يصدر الناس بنسكين واصدر بنسك فقيل لها " انتظري، فاذا طهرت فاخرجي الى التنعيم، فاهلي ثم ايتينا بمكان كذا، ولكنها على قدر نفقتك، او نصبك
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বেঁধে বের হলাম, হাজ্জের মাসে এবং হাজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরাহ করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না। (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হাজ্জ ‘উমরাহ পরিণত হল না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরাহ হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুমতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হাজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ‘উমরাহও দান করবেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর সহোদর ভাই] (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১)(আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا افلح بن حميد، عن القاسم، عن عايشة رضى الله عنها قالت خرجنا مهلين بالحج في اشهر الحج، وحرم الحج، فنزلنا سرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لاصحابه " من لم يكن معه هدى، فاحب ان يجعلها عمرة، فليفعل ومن كان معه هدى فلا ". وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم ورجال من اصحابه ذوي قوة الهدى، فلم تكن لهم عمرة، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وانا ابكي فقال " ما يبكيك ". قلت سمعتك تقول لاصحابك ما قلت فمنعت العمرة. قال " وما شانك ". قلت لا اصلي. قال " فلا يضرك انت من بنات ادم، كتب عليك ما كتب عليهن، فكوني في حجتك عسى الله ان يرزقكها ". قالت فكنت حتى نفرنا من منى، فنزلنا المحصب فدعا عبد الرحمن، فقال " اخرج باختك الحرم، فلتهل بعمرة، ثم افرغا من طوافكما، انتظركما ها هنا ". فاتينا في جوف الليل. فقال " فرغتما ". قلت نعم. فنادى بالرحيل في اصحابه، فارتحل الناس، ومن طاف بالبيت، قبل صلاة الصبح، ثم خرج موجها الى المدينة
ই‘য়ালা ইবনু উমায়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি‘রানাতে ছিলেন। এ সময় জুববা পরিহিত এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনি ‘উমরাহতে আমাকে কী কাজ করার নির্দেশ দেন? লোকটির জুববাতে খালূক বা হল্দে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে চাই। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এসো, আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাঁকে দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম, হাঁ। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) কাপড়ের একটি কোণ উঁচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওয়াজ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ। এ অবস্থা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দূরীভূত হলে তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার হতে জুববাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রং পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হাজ্জে যা করেছ ‘উমরাহতে তুমি তা-ই করবে। (১৫৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا همام، حدثنا عطاء، قال حدثني صفوان بن يعلى بن امية يعني، عن ابيه، ان رجلا، اتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالجعرانة وعليه جبة وعليه اثر الخلوق او قال صفرة فقال كيف تامرني ان اصنع في عمرتي فانزل الله على النبي صلى الله عليه وسلم، فستر بثوب ووددت اني قد رايت النبي صلى الله عليه وسلم وقد انزل عليه الوحى. فقال عمر تعال ايسرك ان تنظر الى النبي صلى الله عليه وسلم وقد انزل الله الوحى قلت نعم. فرفع طرف الثوب، فنظرت اليه له غطيط واحسبه قال كغطيط البكر. فلما سري عنه قال " اين السايل عن العمرة اخلع عنك الجبة واغسل اثر الخلوق عنك، وانق الصفرة، واصنع في عمرتك كما تصنع في حجك
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বললাম, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করতে চায়, তার কোন গুনাহ্ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। তাই সাফা-মারওয়াহর সা‘য়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হতঃ ‘‘সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করে, তার কোন পাপ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। অর্থাৎ এ দু’টির মাঝে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ ‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ করতে চায় তার জন্য এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই।’ সুফয়ান ও আবূ মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হিশাম (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাফা-মারওয়াহর মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ কারো হাজ্জ এবং ‘উমরাকে পূর্ণ করেন না। (১৬৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال قلت لعايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم وانا يوميذ حديث السن ارايت قول الله تبارك وتعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما} فلا ارى على احد شييا ان لا يطوف بهما. فقالت عايشة كلا، لو كانت كما تقول كانت فلا جناح عليه ان لا يطوف بهما. انما انزلت هذه الاية في الانصار كانوا يهلون لمناة، وكانت مناة حذو قديد، وكانوا يتحرجون ان يطوفوا بين الصفا والمروة، فلما جاء الاسلام سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فانزل الله تعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما}. زاد سفيان وابو معاوية عن هشام ما اتم الله حج امري ولا عمرته لم يطف بين الصفا والمروة
প্রশ্নকারী তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাযি.) সম্বন্ধে কী বলেছেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদীজাকে বেহেশতের মাঝে মতি দিয়ে তৈরি এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দাও যেখানে কোন শোরগোল থাকবে না এবং কোন প্রকার কষ্ট ক্লেশও থাকবে না। (৩৮১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، عن جرير، عن اسماعيل، عن عبد الله بن ابي اوفى، قال اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم واعتمرنا معه فلما دخل مكة طاف وطفنا معه، واتى الصفا والمروة واتيناها معه، وكنا نستره من اهل مكة ان يرميه احد. فقال له صاحب لي اكان دخل الكعبة قال لا. قال فحدثنا ما، قال لخديجة. قال " بشروا خديجة ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب
প্রশ্নকারী তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাযি.) সম্বন্ধে কী বলেছেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদীজাকে বেহেশতের মাঝে মতি দিয়ে তৈরি এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দাও যেখানে কোন শোরগোল থাকবে না এবং কোন প্রকার কষ্ট ক্লেশও থাকবে না। (৩৮১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، عن جرير، عن اسماعيل، عن عبد الله بن ابي اوفى، قال اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم واعتمرنا معه فلما دخل مكة طاف وطفنا معه، واتى الصفا والمروة واتيناها معه، وكنا نستره من اهل مكة ان يرميه احد. فقال له صاحب لي اكان دخل الكعبة قال لا. قال فحدثنا ما، قال لخديجة. قال " بشروا خديجة ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب